content
stringlengths
0
129k
আবার পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার ক্ষেত্রে লকডাউনের পাশাপাশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসায় তার একটা প্রভাব পড়েছে
এরপর আসা যাক দুধ, ডিম, পেঁয়ারা, পাকাকলা ও লেবুর দাম প্রসঙ্গে
দুধের দাম নিয়ে ৭৬ শতাংশ বলেছেন কমদামে এবং ২৪ শতাংশ বলেছেন আগের দামে
তাদের মধ্যে কয়েকজন বলেছে, একদিকে দেশের তরল দুধ নষ্ট হচ্ছে, অপরদিকে বিদেশ থেকে গুড়োদুধ আমদানী করছে
তরলদুধ মিল্কভিটাসহ অন্যান্য কোম্পনী ক্রয় করে গুড়োদুধ প্রস্তুত করতে পারতো
তাহলে, দেশের একটি বড় অংশ, দুধ নিয়ে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হতো না
ডিমের ক্ষেত্রে ৭৮ শতাংশ বলেছেন কমদামে এবং ২২ শতাংশ বলেছেন তারা আগের দামে ডিম বিক্রি করতে পারছেন
আমরা যখন পেঁয়ারা নিয়ে কথা বলেছি তখন ৯১ শতাংশ বলেছেন কমদামে এবং মাত্র ৯ শতাংশ বলেছেন তারা বেশি দামে পেঁয়ারা বিক্রি করতে পারছেন
পাকাকলার দাম যখন জিজ্ঞেস করা হয় তখন ১০০ শতাংশই বলেছেন তাদেরকে কমদামে বিক্রি করতে হচ্ছে
যখন লেবুর দাম নিয়ে কথা বলেছি তখন একটু ভিন্নচিত্র বেরিয়ে এসেছে
লেবুর দাম নিয়ে ৫০ শতাংশ বলেছেন তারা কমদামে বিক্রি করছেন
আবার একইভাবে বাকি ৫০ শতাংশ বলছেন তারা বেশি বেশিদামে বিক্রি করতে পারছেন
অথচ কৃষক, গৃহস্থ্য আর খামারীদের উৎপাদিত পণ্য উৎসে কমদাম হলেও রাজধানীসহ বড় বড় শহরে বেশিদামে বিক্রি হচ্ছে
তবে, করোনা প্রতিরোধে ভিটামিন-সি খাওয়ার বিষয়টি প্রচারিত হওয়ায় বাজারে লেবুর চাহিদা সবখানে বৃদ্ধি পেয়েছে
কৃষক খরিপ মৌসুমকে সামনে রেখে নতুন ফসল বপন করার তোড়জোড় করছে
কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে কৃষক স্বাভাবিকভাবে মাঠে কাজ করতে পারছেন না
তাদের অতিক্রম করতে হচ্ছে নানা ধরনের প্রতিকুলতা
কৃষক নতুন ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে সমস্যাসমূহের কথা বলেছেন তারমধ্যে অন্যতম বীজ, সার, কীটনাশক, জ্বালানি ও কৃষি উপকরণ সংগ্রহ ও জমিতে বীজ ছড়ানো বা চারা রোপনের সমস্যা
এসমস্যার কথা বলেছেন ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা
৩০ শতাংশ বলেছেন কাজের লোকের অভাবে ফসলের পরিচর্যা করতে পারছেন না
১২ শতাংশ বলেছেন নতুন ফসল বপন ও রোপনে দেরি হয়ে যাচ্ছে
ফসলের দাম না পাওয়া এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নতুন ফলল বপনে আগ্রহ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ৭শতাংশ কৃষক
মাত্র ৪ শতাংশ কৃষক বলেছেন তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না
সারাবিশ্ব যখন করোনা ভাইরাসে ঘরবন্দি তখনো ক্ষুদ্র কৃষক খাদ্য নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছেন
কিন্তু কিভাবে কাজ করছেন সেটাই বিবেচ্য বিষয়
এ প্রসঙ্গে জানতে গেলে ৫৩ শতাংশ কৃষক, দিনমজুর বলেছেন তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ফসল উৎপাদনে কাজ করছেন, ফসল সংগ্রহ ও ভোক্তার কাছে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন
এমনকি নিরাপত্তা উপকরণ ব্যবহার ছাড়াই তারা মাঠের ফসল সংগ্রহ ও নতুন ফসলের চাষ করছেন
২১ শতাংশ বলেছেন, নিজের পরিবার ও দেশের কথা চিন্ত্মা করে খাদ্য উৎপাদন করতে হয়
অন্যথায় খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে
ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করা আমাদের একমাত্র লক্ষ
কিন্তু আমরা নিজের সুবিধামত কাজ করতে পারছি না
প্রশাসনের বেধে দেয়া সময়ের মধ্য কাজ করতে হচ্ছে
১৪ শতাংশ কৃষক বলেছেন তারা শ্রমিকের অভাবে বর্তমানে কৃষি কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না
আবার ১০ শতাংশ কৃষক বলেছেন তারা বেকার বাড়ি বসে আছেন, তাদের কোনো কাজ নেই এবং তারা খাদ্য নিরাপত্তায়ও তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না
এবারে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা যেধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তা এখানে বিবৃত করছি
এ ক্ষেত্রে একজন উত্তরদাতার একাধিক উত্তর প্রদানের সুযোগ ছিলো
উত্তরদাতা কৃষকদের ৩৩ শতাংশ বলেছেন তাদের খাদ্য বা ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন
৩০ শতাংশ বলেছেন খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে তাদেরকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে ভালো বীজ, সারসহ উৎপাদনের উপকরণ সরবরাহ এবং কৃষি প্রণোদনা বৃদ্ধি করা দরকার
২৩ শতাংশ উত্তরদাতা কৃষির জন্য বিশেষ ঋণ বা সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করার সুপারিশ করেছেন
২৩ শতাংশ কৃষক আর্থিক সহায়তা প্রদনের কথা বলেছেন
১৭ শতাংশ তার উৎপাদিত কৃষিপন্যের ন্যায্য দাম ও বাজারজাতকরণের সুব্যবস্থা করার কথা বলেছেন
এছাড়াও তারা সচেতনতা তৈরি, নিরাপত্তা উপকরণ- মাস্ক, স্যানিটাইজার, সাবান, বিতচিং পাউডার সরবরাহ করা এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ ও সাধারণ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন
তারা বলেছেন সরকার যেন বাজার ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে এবং পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেয়
কেউ কেউ সরকারকে কৃষকের পণ্য ক্রয় করে নেয়া এবং তা প্রয়োজনীয় স্থানে পৌঁছে দেয়ার কথা বলেছেন
তারা পরবর্তী ফসল না উঠা পর্যন্ত্ম সকলপ্রকার ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখা ও ঋণের সুদ মওকুপ করে দেয়ার কথা বলেছেন
তারা ধান কাটার শ্রমিক ও মেশিন, গ্রামে সরকারীভাবে পাইকারদের জন্য কেন্দ্র স্থাপন এবং একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করার কথা বলেছেন
বর্তমান সময়ের জন্য অনলাইন মার্কেটিং-এর ধারণাটি খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ
এ ব্যাপারে ৪০ শতাংশ কৃষক পাইকার বা ক্রেতার সাথে যোগাযোগ ও অনলাইন মার্কেটিং এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারলে ভালো দাম বেশি পাওয়া যাবে বলে মন্ত্মব্য করেছেন
১৩ শতাংশ অনলাইন মার্কেটিং ও তার ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং সেক্ষেত্রে সরকার বা কোনো বেসরকারি সংস্থা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভালো হয় বলে জানিয়েছেন
তবে ২৯ শতাংশ বলেছেন এ সম্পর্কে তাদের তেমন কোনো ধারণা বা আগ্রহ কোনোটাই নেই এবং ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা গ্রামে বা চরাঞ্চলে অনলাইন সুবিধা খুব বেশি কাজে লাগবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন
সুপারিশসমূহ
এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ফলাফল, কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য স্থায়ীত্বকাল এবং ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তাকে বিবেচনায় রেখে ক্ষুদ্র কৃষক এবং কৃষিকে চলমান রাখতে নিম্নলিখিত সুপারিশসমূহ প্রস্ত্মাব করা হলো-
কোভিড-১৯ এর চলমান এবং পরবর্তী অবস্থানকে বিবেচনা করে কৃষি পরিকল্পনা প্রণয়ন করা, যাতে করে মৌসুমী কৃষিপণ্য, গবাদি পশু-পাখি ও মৎস্য খামারে উৎপাদিত পণ্য যথাসময়ে বাজারজাতকরণ ও হিমাগারে সংরক্ষণের উদ্যোগসহ ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায়
একটি রাষ্ট্রিয় কাঠামো প্রস্তুত করা যাতে উৎপাদিত কোনো ফসল বা পণ্য কোনভাবেই নষ্ট হতে না পারে এবং কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন
এ ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং অন্যান্য দুর্যোগকে বিবেচনা করে এ পরিকল্পনা নিতে হবে;
কৃষক ও খামারীদের উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করতে কৃষিজাত ক্ষুদ্র শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া
যাতে শাক-সবজি, দুধ, ডিম, মাংস, মৌসুমী ফল ইত্যাদি অপচয় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়; বিশেষ করে, চর ও হাওর অঞ্চলসহ সকল দুর্গম এলাকার নারীকৃষকসহ সকল কৃষকের জন্য পন্য পরিবহনের সুব্যবস্থা করা এবং তাদের পণ্যের যথাযথ বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা;
সরাসরি yুদ্র ও দরিদ্র কৃষকের জন্য পণ্য উৎপাদনে প্রণোদনা এবং ভর্তুকীসহ আর্থিক সুবিধা সম্প্রসারণ করা
কৃষি কাজে ক্ষতিপূরণসহ খাস কৃষিজমি ও কৃষি উপকরণ সহজ লভ্য করা, বিশেষকরে বীজ, সার, কীটনাশকসহ কৃষিউপকরণ কৃষকের আয়ত্বে রাখা, কৃষিতে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা: বিশেষত যে সকল উদ্যোক্তা কৃষক মূলধন হারিয়েছে তাদেরকে অফেরতযোগ্য অনুদান প্রদান করতে হবে যাতে তারা আবারো উৎপাদন কাজ শুরম্ন করতে পারে
বর্তমানে মাঠে থাকা ফসল ঘরে তোলাসহ যেকোন দূর্যোগ পরিস্থিতিতে কৃষক বা ক্ষেত মজুররা যাতে সরকারী ব্যবস্থাপনায় চলাচল করতে পারে তার ব্যবস্থা করা এবং কার্ডধারী কৃষকদের যানবাহন ভাড়া মওকুফ করা;
কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে অনলাইন মার্কেটিং-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করা এবং কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের আরও কার্যকরী ভুমিকার মাধ্যমে উৎপাদন এলাকায় পাইকার বা বড় ক্রেতাকে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা;
প্রকৃত কৃষক ও খামারীদের তালিকা হালনাগদ করা
সে অনুযায়ী প্রণোদনা, বিনাসুদে ও হয়রানী ব্যতিরেকে ঋণ এবং সরকারী সহায়তা প্রদান করা
কৃষকের পূর্বতন ঋণের সুদ মওকুফ করা;
করোনা মহামারীসহ যেকোনো দূর্যোগকালীণ সময়ে কৃষক, জেলে, খামারী ও ক্ষেতমজুরদের জন্য প্রয়োজনীয় সবধরণের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
তাদেরকে নিয়মিত কমিউনিটি রেডিও, টেলিভিশনসহ অন্যান্য গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে ভ্রান্ত্ম ধারণা দুর করা এবং তারজন্য সহায়ক বার্তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা;
যতদিন পর্যন্ত কৃষি শ্রমিক, জেলে, গৃহস্থ্য, ক্ষুদ্র খামারীদের কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না ততদিন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং সহায়তায় তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ব্যবস্থা নেয়া
এই উদ্যোগ সফল করতে, প্রতিবেদন বিশেতষণ, সম্পাদনা ও চূড়ান্ত্মকরণে যারা সর্বোতভাবে সহযোগিতা করেছেন তার হলেন একশনএইড বাংলাদেশের সহযোগী সংগঠনসমূহ, কেন্দ্রীয় কৃষক মৈত্রী ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের মাঠ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ রেজাউল করিম সিদ্দিক রানা-সহসভাপতি, খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক(খানি); নুরম্নল আলম মাসুদ-সাধারণ সম্...
তাদের সবার আন্ত্মরিক সহযোগীতার জন্য কৃতজ্ঞ
উপ-ব্যবস্থাপক, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ
বিষয় : কৃষিপণ্য
শেয়ার করুন
নেদারল্যান্ডসে কৃষিপণ্য রপ্তানিতে বাধা কাটছে: কৃষিমন্ত্রী
কৃষিপণ্যের সর্বোচ্চ মুনাফা বেঁধে দিচ্ছে সরকার
ভর্তুকি দিন, কৃষিপণ্যের দামও বাড়ান
কৃষিপণ্য রপ্তানিতে দুই বছরের রোডম্যাপ
|
মন্তব্য করুন
সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয়
সংক্রমণ রোধে চাই সর্বাত্মক প্রস্তুতি
এ অবাঞ্ছিত খুনোখুনি বন্ধ হবে না?
জেলখানার চিঠিতে পিতা-পুত্রের কথোপকথন
ব্যুইল্যে ব্যুইলবেন ব্যুলছে
সংক্রমণ রোধে চাই সর্বাত্মক প্রস্তুতি
এ অবাঞ্ছিত খুনোখুনি বন্ধ হবে না?
জেলখানার চিঠিতে পিতা-পুত্রের কথোপকথন
ব্যুইল্যে ব্যুইলবেন ব্যুলছে
© সমকাল ২০০৫ - ২০২১
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন
প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ
বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা | |
আন্তর্জাতিক
সাহিত্য ও সংস্কৃতি
সাক্ষাৎকার
© সমকাল ২০০৫ - ২০২১
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন
প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ