content
stringlengths
0
129k
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট
দৈনিক ভাস্করে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট
: জয়সলমেরে মুসলিম লোকেরা প্রকাশ্য দিবালোকে শক্তি সিংয়ের হাত কেটে দিয়েছে
:
:
বুমের হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন
ছবি কিংবা ভিডিও সঠিক কিনা তা যাচাই করতে চান? আমাদের পাঠান +৯১ ৭৭০০৯০৬৫৮৮
বুম এখন টেলিগ্রামেও পাওয়া যাবে
আমাদের সর্বশেষ তথ্য যাচাই প্রতিবেদন ও অন্যান্য আপডেট পড়ার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সবচেয়ে জনপ্রিয়
ফেক নিউজফ্যাক্ট ফাইলরাজনীতিবাণিজ্যশরীর স্বাস্থ্য हिंदी बूम लाइव
আমাদের পরিচিতিযোগাযোগ করুনলেখক
#
2021
2020
2020
@2021
অ্যাড ব্লকার পাওয়া গেছে
আমরা খেয়াল করেছি আপনি সম্প্রতি একটি অ্যাড ব্লকার চালু করেছেন
আমরা বিজ্ঞাপন ও সাবস্ক্রিপশনের উপর ভরসা রাখি আমাদের সাংবাদিকতার গুনমান বজায় রাখতে
দয়া করে অ্যাড ব্লকার বন্ধ রাখুন এবং আপনাকে উন্নত পরিসেবা দিতে আমাদের পাশে থাকুন
, . . , .
.
. .
, . , . . , . .
মইনুল রাজু|2013-01-2804:34:06+06:00জানুয়ারী 29, 2012|: আন্তর্জাতিক রাজনীতি, ডায়রি/দিনপঞ্জি, ভ্রমণকাহিনী, সমাজ, সংস্কৃতি|37
:: নিউ ইয়র্ক (প্রথমার্ধ) :: পোর্টল্যান্ড (ওরিগন) :: সিলিকন ভ্যালি (ক্যালিফোর্নিয়া) :: ওয়াশিংটন ডিসি :: ডেট্রয়েট (মিশিগান) ::
নিউ ইয়র্ক! মাসখানেক আগে হোটেল বুকিং না-দিলে, এখানকার হোটেলগুলোতে রুম খালি পাওয়া বেশ কঠিন
তার উপর, আমাদের আগমন উইক-এন্ডে হবার কারণে এক মাস আগেও রুম পাওয়া কঠিন হয়ে গেলো
এদিকে, আমার সহকর্মী দিল্লির ছেলে কুনাল একটা হোস্টেলের খোঁজ দিলো, যেটাতে রুমও খালি পাওয়া গেলো
অন্য আর কিছুই জানার দরকার নেই বলে কুনালকে শুধু জিজ্ঞেস করলাম, "ওখানে ড্রাঙ্ক লোকজনের উৎপাত কেমন?" কারণ, উইকএন্ড হবার কারণে তাদের উৎপাত, ক্ষেত্রবিশেষে অত্যাচারে পরিণত হয়
সাথে বউ থাকার কারণে এ-জিনিসটা আরও বেশি চিন্তা করতে হচ্ছে
কিন্তু কুনাল তার কোনো তথ্যই দিতে পারলো না
সে আমতা আমতা করে বললো, "আমি আসলে জানি না
" আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তুমিতো সেখানে ছিলে? না জানার কারণ কি?" তারপর সে আরো বেশি আমতা আমতা করে বললো, "আমি জানি না, কারণ, আমি আসলে ড্রাঙ্ক ছিলাম
" অর্থাৎ, সে ড্রাঙ্ক থাকার কারণে বলতে পারছে না, সেখানে ড্রাঙ্ক লোক থাকে কি-না
আমিও দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে নিলাম
অতএব, কোনো আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে থাকার সাথে সাথে তার অসংখ্য নীতিবাক্য হজম করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকলো না
শুধু নীতিবাক্য হলেও হতো, নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করার সৌভাগ্য নিয়ে পৃথিবীতে আসায়, এই বিদেশের মাটিতে এসেও আমার নিজ এলাকার অসংখ্য গুণগ্রাহীর কৌতুকাচারণে ধন্য হতে হয়
"জন্মই আমার আজন্ম কৌতুক
নির্দিষ্ট দিনে পৌঁছে, বাস থেকে নেমে ম্যানহাটনের রাস্তায় ঘণ্টাখানেক ধরে দাঁড়িয়ে আছি
কিন্তু, কোনো ট্যাক্সি আমাদের গন্তব্যে যাবে না
ইন্ডিয়ান দেখলে ট্যাক্সিচালকরা তাদের ট্যাক্সি থামান না
কারণটা খুব সোজাসাপ্টা
ইন্ডিয়ান, পাকিস্তানি, বাংলাদেশিরা ট্যাক্সিতে উঠলে টিপ(স্‌) দেয় না
একবার মনে হলো, রাস্তায় একটা কার্ড ধরে দাঁড়িয়ে থাকি, "ভাই, আমি টিপ(স্‌) দেব, তাও একটু দাঁড়াও ভাই
" এক পর্যায়ে একজনের দিলে দয়া হলে এসে দাঁড়ালো
তারপর শুরু করলো দর কষাকষি
আমেরিকার অন্য আর বড় শহরগুলোতে সাধারণত ট্যাক্সিতে উঠে তারপর বললেই হয় কোথায় যেতে হবে
দামাদামির প্রশ্নই আসে না
কিন্তু, নিউ ইয়র্ক শহর আলাদা
অভিবাসীরা এখানে আমেরিকান কালচার পরিবর্তন করে নিজেদের কালচার ঢুকিয়ে দিয়েছে
যে ইন্ডিয়ান চালক তাঁর ট্যাক্সি নিয়ে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রতি বিশেষ দয়া প্রদর্শন করলেন, তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন একশো ডলার না-হলে ট্যাক্সি এক পা-ও এগোবে না
কিন্তু, এটা আমার পঞ্চম নিউ ইয়র্ক সফর
আমি ভালো করেই জানি যেখানে যাবো সেখানকার ভাড়া পঁচিশ ডলারের বেশি হবে না
তার উপর মোবাইলে গুগোল ম্যাপতো আছেই
আরেকটু দেখার পর, আরেকজন পাকিস্তানী এসে পঞ্চাশ ডলারে যেতে রাজী হলো
অগত্যা, তার ট্যাক্সিতে চড়েই রওয়ানা দিলাম
আমার আত্মীয় মশাই বাড়ীর সামনে দাঁড়িয়ে রইলেন
উনার নিজের পরিবার এখানে নাই
বয়স হবে সত্তর
কিন্তু, নিউ ইয়র্কে এসে উনার জিন্মায় না থেকে অন্য কোথাও থাকলে, উনার মান সন্মান যেহেতু মাটির সাথে মিশে যায়, সেহেতু উনার ব্যবস্থাপনায় থাকতে বাধ্য হলাম
উনার বয়সের ভার অন্যদের তুলনায় বেশি বলে, অন্যরাও উনার উপর কথা বলেন না
আমার এই আত্মীয় সাধারণত তার ব্যাংক ব্যালেন্স বলার মধ্য দিয়ে আলাপ শুরু করেন
এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না
ব্যাংক ব্যালেন্স বলে শেষ করে বললেন, "আমার ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাংলাদেশে গিয়ে কিছু একটা করা
" আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আপনার বয়স কত?" তিনি বললেন, "সত্তর-আশি তো হবেই
" আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তাহলে আপনার আবার ভবিষ্যত কোনটা! আপনিতো ভবিষ্যত-ই পার করছেন
" আমি জানি, এ-প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দেয়া সম্ভব নয়
আরো জানি, এই সেই শহর! এই সেই নিউ ইয়র্ক শহর!! ভবিষ্যতের মূলো ঝুলিয়ে যে শহর কেড়ে নেয় প্রাণবন্ত বর্তমান
ছবিঃ রাতের নিউ ইয়র্ক
আমাদের থাকার জায়গাতে প্রতিদিনই কিছু না কিছু মানুষের সাথে দেখা হচ্ছে
বিভিন্নভাবে বিভিন্নজন পরিচিত এবং বাইরে বের হলেও পরিচিতজনদের সাথে দেখা হয়ে যাচ্ছে
আলাপ-আলোচনার এক পর্যায়ে তারা নিজেদের সমালোচনা করে বলেন, "এখানে সবাই সবার পিছনে লেগে আছে
বাংলাদেশের থেকেও খারাপ অবস্থা
সারাদিন অযথাই রাজনৈতিক তর্কাতর্কি, বাক-বিতণ্ডায় লিপ্ত হয়ে আছেন
" যারা এ-কথাগুলো বলছেন, তারা বুঝানোর চেষ্টা করছেন, একমাত্র তারাই এ-ব্যাপারগুলো মধ্যে নেই এবং এই ধরণের কুৎসা জাতীয় জিনিস তাদের মধ্যে কখনো ছিলো না, থাকবেওনা
কিন্তু, মজার ব্যাপার হচ্ছে, তারা যে অযথা রাজনৈতিক আলাপ করেন না, নিজেরা তাদের সে গুণের কথা বলেই বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে দিলেন
তবে, মুখে যত অনীহাই প্রকাশ করুক না কেন, ঠিকই বুঝা যায়, বাংলাদেশের মানুষের রক্তের মধ্যেই রাজনীতি
সাথে সাথে আরেকটা জিনিসও অবশ্য আছে- ধর্ম
ভুল হোক শুদ্ধ হোক, যৌক্তিক হোক অযৌক্তি হোক, এই দুটো জিনিস সম্পর্কে সর্বস্তরের সব ধরণের মানুষই মতামত দিতে পারে, অংশগ্রহণ করতে পারে
তাই তারা বিশ্বের যে-প্রান্তেই যাকনা কেন, এই দুটি বিষয়ই হয়ে উঠেছে তাদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু, আবেগ অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম
কিন্তু, নিউ ইয়র্কের সমস্যা হলো অন্য জায়গায়
এখানে, "মুসল্লির থেকে মুয়াজ্জিন বেশি, কর্মীর চেয়ে কর্তা বেশি
" একজন বলে, "এই যে বলেন- তার কোনো আকার নাই, এই কথাটা কি ঠিক! আসলেতো আকার আছে, কিন্তু সেটা চিন্তা করতে হবে এই ভাবে
" এই বলে কোনো এক মাওলানার নাম উদ্ধৃতি দিয়ে ঘোষণা করেন, উনার ওয়াজের সিডি শুনলে সব ক্লিয়ার হয়ে যাবে
যারা সামনে বসা আছেন, তারাও মাথা নেড়ে মৌন সন্মতিটা জানিয়া দেন