content
stringlengths
0
129k
ইশশ! বড্ড ভুল হয়ে গেলো
আমার স্মরণ শক্তি দিন দিন আমার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করছে- :-
আগে স্বরণ শক্তি নিয়ে কত গর্ব ছিল
আসলে দুই লেখার মাঝে আমি কিছুটা মিল পাচ্ছি বা স্মৃতিচারনের
মিল তাই মনে হয়েছিল
তবে দুটো লেখাই দারুণ
মইনুল রাজু জানুয়ারী 29, 2012 10:57 অপরাহ্ন -
@আফরোজা আলম,
আপনি যে বলেন নি, "বড্ড ভুল হয়ে গেলো, আপনার লেখাতো পড়াই যায় না
" এতেই আমি খুশী :))
জবাব বাতিল
অনুসন্ধান করুন
:
নতুন ব্লগ লিখুন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
নিউটনীয় মহাবিশ্ব ও জড়তার উৎস প্রকাশনায়
মাটি- মহাকাশের সঙ্গে জীবনের যোগ খুজতে প্রকাশনায়
শ্রীমদভগবাদগীতা, ভগবানের মুখনিঃসৃত বর্ণবৈষম্যের বিষবাষ্প প্রকাশনায় রতন কুমার শীল
মিসিং লিংক কি সত্যিই মিসিং? প্রকাশনায় মাহাথির আহমেদ তুষার
নারীই বন্ধ প্রকাশনায়
বিষয় অনুযায়ী লেখা
বিষয় অনুযায়ী লেখা একটি বিভাগ পছন্দ করুন অতিমারী (4) অনন্ত বিজয় (24) অনুবাদ (94) অভিজিৎ বিজ্ঞান (12) অভিজিৎ বিতর্ক (10) অভিজিৎ সাহিত্য (4) ই-বই (150) আমার চোখে একাত্তর (22) দ্য গ্রান্ড ডিজাইন (9) ভালবাসা কারে কয়? (67) ইতিহাস (356) উদযাপন (143) ডারউইন দিবস (78) ওয়াশিকুর বাবু (7) কবিতা (481) আবৃত্তি (79) ছড়া (25) খে...
যাযাবর|2012-11-2420:23:10+06:00নভেম্বর 24, 2012|: দর্শন, ধর্ম, বিতর্ক, ব্লগাড্ডা, মুক্তমনা, যুক্তিবাদ|55
ইদানিং একটা বিষয় তিক্ত বিতর্কের সৃষ্টি করছে মুক্তমনা ফোরামে
অনেক মুক্তমনা সদস্য ইসলামের সমালোচক সদস্যদের ইসলাম বিদ্বেষী, ইসলাম ব্যাশার, মুসলীম বিদ্বেষী ইত্যাদি বিশেষণে সম্বোধন করে ব্যক্তি আক্রমণাত্মক ভাষায় তিরস্কার করছেন
ব্যাশার কথাটি বহুল ব্যবহৃত
কি অর্থ এর
ইংরেজীতে ব্যাশিং শব্দের অর্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে জোরে আঘাত করা
ইসলামকে জোরে আঘাত করা মানে কি, অবশ্যই কড়া সমালোচনা করা
তাহলে ইসলাম ব্যশিং এর মানে দাঁড়ায় ইসলামের কড়া সমালোচনা
ইসলামের সমালোচনা কে মৃদু বা কড়া এই ভাবে শ্রেনীভুক্ত করাটাই অর্থহীন
ইসলামের সমালোচনা ব্যাপারটাই অনেকের কাছে কড়া জিনিষ
তথ্য যুক্তি দিয়ে ইসলামের যুক্তিনিষ্ঠ সমালোচনা করাটা নরম বা কড়া এভাবে বিভক্ত করা যায় না
যাহোক কেউ "ইসলামের কড়া সমালচনাকারী" হলেও একজন মুক্তমনাদর কাছে তা অতটা খারাপ লাগার কথা নয়
কারণ সমালোচনা কড়া হোক, নরম হোক, সমালোচনা মুক্তচিন্তা চর্চার অবিচ্ছেদ্য অংগ
কিন্তু ইসলাম ব্যশিং বলে একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া বা আবেগ সৃষ্টির চেষ্টা সুস্পষ্ট
আসলে "ইসলাম ব্যাশার" এই প্রকাশ ভঙ্গীতে মুসলীম ব্যাশার বা বিদ্বেষী বোঝানোর একটা প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত আছে
কিন্তু ইসলাম ব্যাশিং আর মুসলীম ব্যাশিং এক নয়
এর পার্থক্যটা সুস্পষ্ট, পরে আসছি এর আলোচনায়
এই ইসলাম ব্যাশিং আর মুসলীম ব্যাশিং কে প্রচ্ছন্ননভাবে সমার্থক করার চেষ্টা ইচ্ছাকৃত
কখনো তারা সরাসরিই মুসলীম বিদ্বেষী কথাটাই ব্যবহার করেন
মুসলীম ব্যাশিং কথার ব্যবহার দ্বারা মুসলীমদের ভিক্টিম হিসেবে দেখানোর ইচ্ছাটাও প্রচ্ছন্ন
একই কথা প্রযোজ্য ইসলাম বিদ্বেষ/বিদ্বেষী কথায়
সমালোচনাকে বিদ্বেষ বলে লেবেল দিলে ইসলাম সমালোচকদের ইসলাম বিদ্বেষী এবং প্রচ্ছন্নভাবে মুসলীম বিদ্বেষী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়
এতে মুসলীমদের ভিক্টিম হিসেবে গন্য করে তাদের সমর্থনে অবস্থান নেয়া হয়
আলোচনার সুবিধার্থে যে মুক্তমনারা ইসলাম ব্যাশিং বা মুসলীম ব্যাশিং এর ধুয়া তুলে ইসলাম ব্যশারদের ভর্ৎসনা করেন তাদের "এন্টি ইসলাম-ব্যাশার" (অর্থাৎ ইসলাম-ব্যাশারদের ব্যাশার) বলে উল্লেখ করছি
কেন এন্টি ইসলাম-ব্যাশার মুক্তমনাদের এরকম কল্পিত মুসলীম ভিক্টিমের সমর্থনে অবস্থান নেয়া, বিশেষ করে যারা নিজেদের নাস্তিক বলে দাবী করেন? যেসব এন্টি ইসলাম-ব্যাশার মুক্তমনারা মুসলীম বংশে জন্ম নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে একটা কারণ হতে পারে নাস্তিক হয়েও পরিচয় সঙ্কটের কারণে মুসলীম জাতীয়তাবোধের উপরে উঠতে পারছেন না তারা
ব্লগার সফিক তাঁর এক মন্তব্যে এরকম কথাই বলেছেন
তাই ইসলামের সমালোচনাকে, বিশেষ করে একই বাক্যে যখন অন্য ধর্মকে একই মাত্রায় ব্যাশিং করা না হয় তখন তারা এতে মুসলীম জাতির সদস্য হিসেবে (ইসলামে বিশ্বাসী হিসেবে নয়) একটা হীনমন্যতায় ভুগেন
এই হীনমন্যতাকে কাটিয়ে উঠার জন্য তারা ইসলামের সমালোচনাকেই ব্যাশিং আখ্যা দিয়ে এটাকে একটা হীন কাজ হিসেবে চিত্রিত করতে চান
আবার তারা সব ধর্মই সমান পুতিগন্ধময়, সমান বীষ্ঠাপূর্ণ এইসব বলেও এই হীনমন্যতা থেকে রেহাই পেতে চেষ্টা করেন
কারণ সব সমান খারাপ হলে তো কোন হীনমন্যতার প্রশ্ন উঠে না
এরা কিন্তু শুধু হিন্দু বা খ্রীষ্ঠান ধর্মকে টার্গেট করে সমালোচনা করায় বিচলিত হন না বা হীনমন্যতা বোধ করেন না
কিন্তু একজন প্রকৃত মুক্তমনা, নাস্তিকের জন্য ধর্মীয় জাতীয়তাবোধই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না
তার কাছে একটা বেশি খারাপ, অন্যটা কম খারাপ বলায় বিচলিত হবার কিছু নেই বা এতে হীনমন্যতায় ভোগার কারণও নেই
ধর্মনিরপেক্ষ মুক্ত বিশ্বে পেশা বা সামজিক জীবনে ধর্মীয় জাতীয়তাবোধ কোন বাড়তি সুবিধা দেয়না, বা ধর্মীয় জাতীয়তাবোধের অভাব কোন অসুবিধাও সৃষ্টি করে না
এই ধর্মীয় জাতীয়তাবোধ নিজের নাড়ী বা শিকড়কে ছিঁড়ে বের হতে না পারার মানসিক একটি সীমাবদ্ধতা
মুক্তমনাদের সবাই মনে করেন ধর্ম জাতীয়তার ভিত্তি হতে পারে না
ধর্মীয় ভিত্তিতে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাকেই তারা যেখানে কটাক্ষ করেন, সেখানে তাদের মুসলীম জাতীয়তাবোধ কে আলিঙ্গন করাটা কি একটা চরম স্ববিরোধিতামূলক ব্যাপার হয়ে যায় না ?
আবার যেসব এন্টি ইসলাম-ব্যাশাররা মুসলীম বংশে জন্মাননি তারা স্রেফ রাজনৈতিক শুদ্ধির জন্যই ইসলাম ব্যাশিং এর বিরোধী, বা সব ধর্মই সমান খারাপ এটা বলতে খুবই আগ্রহী, নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণের চেষ্টায়
আগেই উল্লেখ করছি যে ইসলাম ব্যাশিং আর মুসলীম ব্যাশিং এক জিনিষ নয়
ইসলাম একটা ধর্ম, মতবাদ ও আদর্শ, কোন ব্যক্তি নয়
আর মুসলীম হল যারা যারা এইধর্মে বিশ্বাস করে, তারা ব্যক্তি
এই ব্যক্তিদের মধ্য সকল চরিত্রের লোকই আছেন, নীতিবান, অহিংস, সহিংস, অসৎ সবই
কাজেই ইসলামের কড়া সমালোচনা করা মানেই মুসলীমদের নির্বিচারে ঘৃণা করা সেটা কখনই আবশ্যিক হতে পারে না
বা ইসলামকে ধর্মকে হেয় করায় মুসলীমদের হেয় করা হয় সেটা ভাবাও ঠিক না
কারণ একজন মানুষের চরিত্র ধর্মের দ্বারা সৃষ্ট হয় না
মানুষ মাত্রই ভাল মন্দ উভয়েরই প্রবণতা নিয়ে জন্মায়
কোন কোন ধর্মের খারাপ দিক তাদের প্রচ্ছন্ন মন্দ প্রবৃত্তিকে উস্কিয়ে দেয়, কোনটা দেয় না বা কম দেয়
কোন ধর্মের সমালোচনা করা হয় সেই ধর্মের খারাপ প্রবৃত্তিকে উস্কিয়ে দেয়ার ক্ষমতার জন্যই, ধর্মের অনুসারীদের হেয় করার জন্য নয়
ইসলামের অনেক কিছুই এই মন্দ প্রবৃত্তিকে উস্কিয়ে দেয়, যেমন অন্য ধর্মের/ অবিশ্বাসীদের প্রতি সহিংসতা/অসহনশীলতা, নারীদের প্রতি অসহনশীলতা বা বৈষম্য ইত্যাদি
ইসলামের কড়া সমালোচককে মুসলীম বিদ্বেষী বলাটা একটা গুরুতর অভিযোগ
উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া কাউকে অমুখ বিদ্বেষী তমুখ বিদ্বেষী বলাটা আইনের চোখে চরিত্রহনন হিসেবে মানহানী মামলার যোগ্য
কোন রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এইরকম অভিযোগ তুললে লাইবেলের ল স্যুটের সম্মুখীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে
এখানে যেভাবে যথেচ্ছভাবে মুসলীম বিদ্বেষ/বিদ্বেষী শব্দের ব্যবহার হচ্ছে তাতে মুসিলীম বিদ্বেষকে পরিস্কার করে সংজ্ঞায়িত করাটা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে
আমার মতে মুসলীম বিদ্বেষী সেই, যে শুধু মুসলীম পরিচয়ের জন্য কোন ব্যক্তিকে নির্বিচারে ঘৃণা করে
ঘৃণার প্রমাণ হবে অনিষ্ট করার চেষ্টা, মানবাধিকার লঙ্ঘন করা, বৈষম্য করা, যেমন শুধু মুসলীম হবার জন্যই অধিকতর যোগ্যতা সত্ত্বেও সেই ব্যক্তিকে চাকরী না দিয়ে কম যোগ্যতা সম্পন্ন অন্য ধর্মালম্বীকে চাকরি দেয়া ইত্যাদির দ্বারা
ঘৃণার অপেক্ষাকৃত কম মাত্রার প্রকাশ হল বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করা, এড়িয়ে চলা , বিপদে সাহায্য না করা, নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা বা বিচার করা ইত্যাদি
ঘৃণাটা ব্যক্তির গুনাগুন বিচারের ফলে সৃষ্ট হয় না, গুণাগুণ বিচার ছাড়াই কেবল মুসলীম পরিচয়ের জন্যই নির্বিচারে সৃষ্ট হয়
এর চেয়ে অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত সংজ্ঞা চিন্তা করতে পারছি না বিদ্বেষ বা ঘৃণার
মুসলীমদের প্রতি এরকম নির্বিচার ঘৃণা অন্যধর্মের ধর্মান্ধদের মধ্যে থাকতে পারে, যেমন কিছু উগ্র হিন্দু বা খ্রীষ্টানের মধ্যে
তারা মুসলীম নামধারী ইসলাম ব্যাশারদেরকেও তাদের ঘৃণা থেকে রেহাই দেবে না স্রেফ মুসলীম বংশে জন্মাবার কারণে
তাদেরক হয়ত তারা ব্যবহার করতে পারে নিজেদের সুবিধার্থে, যেমন ইসলাম ব্যাশারদের লেখা উদ্ধৃতি দিয়ে
কিন্তু ইসলাম ব্যাশারদের লেখা যদি তাদের সুবিধার্থে লেখা না হয় তাহলে তাদের লেখা মুসলীম বিদ্বেষীরা উদ্ধৃত করলে তার দায়িত্ব ইসলাম ব্যাশারদের উপর বর্তাতে পারে না
অনেক এন্টি ইসলাম-ব্যাশার ইসলাম ব্যাশারদেরকে মুসলীম বিদ্বেষী হিন্দু/খ্রীষ্টাহ্নকদের ভাড়া করা এজেন্ট বলতেও কুন্ঠিত হন না
প্রমাণ ছাড়া এধরনের অভিযোগ করা অন্যায় ও কুরুচিপূর্ণ
মুসলীম বংশে জন্মান ইসলাম ব্যাশাররা ইসলাম ধর্মে মোহভঙ্গের কারণেই ইসলামের সমালোচনা করেন বলা আ,মার বিশ্বাস, অমুস্লীম মুস্লীম বিদ্বেষীদের সুবিধার্থে নয়
মুস্লীম বিদ্বেষীদের সুবিধা টা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে
বলাই বাহুল্য উগ্র মুসলীমদের মধ্যেও হিন্দুদের প্রতি অনুরূপ নির্বিচার ঘৃণা আছে
কিন্তু ইসলামের সমালোচকের মধ্যে এরকম নির্বিচার মুসলীম ঘৃণা থাকার কোন প্রমাণ নেই
থাকতে পারে না তা বলছি না
প্রশ্ন হল ইসলামের সমালোচনা করলেই কি কাউকে আবশ্যিকভাবে নির্বিচারে মুসলীম বিদ্বেষী হতে হবে বা বলা উচিত হবে?
জোর দিয়ে বলব না, কখনই না
শুর করা যাক মুসলীম পরিবারে জন্ম নেয়া ইসলাম সমালোচকদের বাবা মা ভাই বোন দিয়ে
ইসলামের সমালোচকদের অনেকেই এটা পরিস্কার করে বলেন যে ইসলামে গভীর বিশ্বাস সত্বেও তারা তাদের বাবা মা ভাই বোন বন্ধু বান্ধবদের ঘৃণা করেন না
মুসলীম হলেই নির্বিচারে ঘৃণা করার কোন কারণই নেই, যুক্তি দিয়ে চিন্তা করলে
কারণ ইসলামের যে সব ক্ষতিকারক দিক নিয়ে ইসলাম ব্যাশাররা লেখালেখি করেন বেশির ভাগ মুসলীমদের জীবনে তার প্রভাব বা প্রয়োগ নেই
এটা বুঝতে হবে যে ইসলামে অনেক কিছু আছে যা ব্যক্তি পর্যায়ে সীমিত, যা অন্যের অধিকার বা ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করে না, যেমন নামাজ পড়া, রোজা রাখা, হিজাব পরা ইত্যাদি
এগুলি যুক্তিহীন হলেও অন্যের জন্য ক্ষতিকারক না হওয়াতে ইসলামের সমালোচকেরা এগুলি শুধু অনুসরণ করার জন্যই কারোর প্রতি ঘৃনা পোষণ করেন না, এমনকি এগুলি অনুসরণ করার পরেও ব্যক্তি জীবনে এদের অনেককেই ইসলাম ব্যাশাররা বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে
কিন্তু কাউকে ইসলামের এই আচার মেনে চলতে বাধ্য করা হলে সেটা আর নিরপরাধ বা শান্তিপ্রিয় থাকে না, সেটা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপার হয়ে যায়