content
stringlengths
0
129k
অতএব, একদিনের জনতা কার্ফ্যুর সন্ধেবেলায় দশদিনের লকডাউন ঘোষিত হলে পরদিন সকালে বাড়ি ফিরে যাওয়ার পড়ি-কি-মরি তাড়নায় বাসে ভিড় হলে আমরা ভারী বিচলিত হই - একি, সোশ্যাল ডিস্টান্সিং-এর কী হবে তাহলে - আবার পরক্ষণেই জিভ কাটি, স্যরি, বালাই ষাট, সোশ্যাল ডিস্টান্সিং সে আবার কী অলক্ষুণে কথা - ফিজিকাল ডিস্ট্যান্সিং বলুন, প্লীজ
বাজারে ভিড়ের ছবি দেখে আপনি ভারী বিচলিত হন - সত্যি, এদেশের যে কী হবে - গা ঘেঁষাঘেঁষি করে পাব্লিক বাজার করছে - মুদির দোকানে লাইন লাগিয়েছে - ন্যূনতম দূরত্বটুকুও বজায় রাখছে না কেউ - সে ছবি দেখে টিভি স্টুডিওতে বসে থাকা ডাক্তারবাবু একরাশ বিরক্তি নিয়ে বলছেন, ইরেস্পন্সিবল বিহেভিয়ার - না, বিরক্তি প্রকাশের জন্যে অত শালীন শব...
আসলে, কুড়ি কেজি চাল, পাঁচ কেজি ডাল আর চারডজন ডিম - এটুকু আপনি বাড়িতে আগেভাগেই কিনে রেখেছেন কিনা জানি না - কিন্তু, কিনবেন কি কিনবেন না, সেটা আপনার চয়েস - মানে, কেবলমাত্র টাকায় কুলোচ্ছে না বলেই কিনে উঠতে পারেননি, ব্যাপারটা এরকম নয়
সেক্ষেত্রে, দিন-আনি-দিন-খাই মানুষগুলোর কেন পাঁচ টাকার জিরে আর আড়াইশো পটল কেনার জন্যে নিয়মিত দোকানে যাওয়ার অভ্যেস - মাসের শেষে অনেক নিম্ববিত্ত চাকুরিজীবির পক্ষেও কেন এক লফতে বেশি মাল কিনে ফেলা সম্ভব হয় না - এ আপনি বুঝবেন কোত্থেকে!!
দিনের রোজগার বন্ধ হলে খাওয়াও বন্ধ - দুচারদিন ধারদেনা উঞ্ছবৃত্তি করে চললেও চলতে পারে - বেশীদিন তো চলবে না, বিশেষত অনিশ্চয়তা যখন চারপাশেই - অতএব, চিন্তা করবেন না, এই তো সবে এক সপ্তাহ গেল - লকডাউনের দ্বিতীয় কি তৃতীয় সপ্তাহে বাজারে ভিড় আপনিই কমে যাবে - যদি না পেটের তাগিদে মানুষ লুটপাট করার কথা ভাবে
অবশ্য, শেষেরটি ঘটার সম্ভাবনা কম - মাণিকবাবুর "ছিনিয়ে খায়নি কেন" পড়েননি? - না পড়ে থাকলে, পড়ে নিন, প্লীজ - এই মুহূর্তে ওর চেয়ে প্রাসঙ্গিক গল্প কমই আছে
রাস্তার চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে চা খেয়েছেন নিশ্চয়ই কখনও না কখনও
আপনি যখন মাটির ভাঁড়ে আয়েশ করে চুমুক দিয়েছেন - খেয়াল করেছেন কি আপনার পাশেই প্রায়-অদৃশ্য কিছু মানুষ চা খান ছোট্ট প্লাস্টিকের কাপে - আপনার মাটির ভাঁড়ে চায়ের দাম পাঁচ টাকা, প্লাস্টিকের কাপে তিন টাকা - আরেকটুক্ষণ দাঁড়ালে দেখতে পেতেন, চায়ের সাথে একখানা দুটাকার নোনতা বিস্কুট খাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেও এঁদের অনেকেই কে...
খেয়াল করেছেন কি, মাঝেমধ্যে, রাস্তার মোড়ে ভিক্ষে করার ফাঁকে, ডাস্টবিন থেকে ময়লা বাছার ফাঁকে দশবছরের বাচ্চা দুবছরের বোনকে কোলে নিয়ে চায়ের দোকান থেকে কেক কিনে খাওয়ানোর বিলাসিতা দেখায় - মাথায় রাখুন, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ যে পিছিয়ে পড়া মানুষ, এরা তাঁদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত অবস্থাপন্ন
লকডাউনের দিনগুলোতে এরা কেমন আছেন? আর, যারা রয়েছেন এদের থেকেও নিচে??
জানতে চেয়েছেন কখনও?
জানবেনই বা কোত্থেকে!! লকডাউনের আগে এরা ঠিক কেমন করে বেঁচে ছিলেন, সে খবর নেননি কোনওদিন
আজ, বাড়তি টেনশন বা স্ট্রেসের মুহূর্তে সে খবর নেবেন কী করে!!
অথচ, অবস্থাটা এমনই বেয়াড়া, সে খবর না নিলেই নয়
কেননা, এ এমন অসুখ, একা বেঁচে যাওয়া যাবে না কোনোওভাবেই
"ওদের" মধ্যে অসুখ পাইকারি রেটে ছড়াতে থাকলে, সে অসুখ আপনার কাছেও ঠিক পৌঁছে যাবে
"ওরা" তো এমনিও মরে, অমনিও মরবে - এদেশে বছরে দুলাখ মরে টিবিতে, তার চাইতে কিছু বেশি পাতলা পায়খানায়, অপুষ্টিজনিত অসুখে কমবেশি পঁচিশ লাখ - জিজ্ঞেস করে দেখুন, এবছরে করোনায় বাড়তি একলাখ মরলে "ওদের" দিক থেকে তেমন একটা আপত্তি নেই - বিশেষত, যেখানে করোনায় মরার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের বিপরীত অপশন নিশ্চিত অনাহার - কিন্তু, আপনি জান...
অতএব, "ওদের" সুস্থসবল বাঁচিয়ে রাখা দরকার - কিন্তু, আপনার থেকে দূরে
ঠিক যেমনটি হল দমদমে - ফুটপাথ-রেলস্টেশনে গাদাগাদি করে থাকা মানুষগুলোর জন্যে সাময়িক ছাদের বন্দোবস্ত করতে গেলে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন এলাকার আপনারা - অর্থাৎ যাঁরা উচ্চশিক্ষিত, মধ্যবিত্ত কি উচ্চমধ্যবিত্ত, তথাকথিত সচেতন নাগরিক - আপনারা আপত্তি তুললেন - বললেন, "ওরা" এখানে বসে অসুখের ডিপো হয়ে থাকবে, আর বিপদ হবে আমাদের - "ওরা" ...
অবশ্য, এরকম দ্বিচারিতা আপনাদের জীবনের পরতে পরতে
রোববার বিকেলে কাঁসরঘণ্টা খোলকরতাল বাজিয়ে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি তথাকথিত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে বসলেন যাঁরা - সেই তাঁরাই আগের দিনটি পর্যন্ত ট্রেনে-বাসে-পাড়ার চায়ের দোকানে ডাক্তারদের আদ্যশ্রাদ্ধ করছিলেন - আবার রোববারের পরের সোমবারই ডাক্তার-নার্সদের সামাজিক বয়কটের পর্যায়ে ফেলে দিলেন, পাছে তাদের ছোঁয়াচ লেগে আ...
নাঃ, লেখাটা বড্ড এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে
ঠিক কী লিখব বলে শুরু করেছিলাম, আর শেষমেশ কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছি!! না, ঠিক কোথাওই গিয়ে দাঁড়াচ্ছে না লেখাটা - প্রায় অবিন্যস্ত প্রলাপের মতো হাবিজাবি ভাবনার সমষ্টি হয়ে দাঁড়াচ্ছে
আসলে... কয়েকটা ছবি... কয়েকটা বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট দৃশ্য... আপনাদের কিছু কিছু প্রতিক্রিয়া... সব কিছু কেমন যেন ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে
ওই চায়ের প্রত্যাশায় থাকা উসকোখুসকো লোকগুলোর মুখ
আমার একান্ত পরিচিত সেই ডাক্তার ভাইটির মুখ
লকডাউনের মুহূর্তে যাঁকে বাড়িওয়ালা নোটিশ দিয়েছেন - আটচল্লিশ ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ছেড়ে দিতেই হবে
(কী আশ্চর্য শিক্ষা আপনাদের - ঢাল-তরোয়াল ছাড়া লড়তে পাঠানো হচ্ছে যে স্বাস্থ্যকর্মীদের - আপনারা তাঁদের থেকে নিজেদের সংক্রমণের ভয় পাচ্ছেন - কিন্তু, পাইকারি হারে ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীদের বড় অংশ অসুস্থ হয়ে পড়লে, আপনি চিকিৎসাটা পাবেন কোন চুলোয়, এই আশঙ্কার কথাটা আপনার মাথায়ই আসছে না!! নিখিল বিশ্বে করোনা-ই একমাত্র অস...
টিভির পর্দায় গভীর তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ - লকডাউন পঞ্চাশ কি ষাটদিন পর্যন্ত চালিয়ে যাওয়া ঠিক কেন জরুরি - না হয় প্রথম ওয়েভটিকে সামলে দেওয়া গেল এযাত্রা - কিন্তু, দ্বিতীয় ঢেউ - আর তারপরে তৃতীয় ঢেউ - পঁয়তাল্লিশ, পঞ্চাশ, নাকি ষাট - কদিন ধরে লকডাউন হলে ব্যাপারটা এক্কেবারে নিশ্চিত - কোন কোন দেশ ছমাস লকডাউন করে ফেলেছে, আম...
মনে হচ্ছিল, এগুলো জাস্ট সূক্ষ্ম হিসেবের ব্যাপার - এই অঙ্কে কোনও কোল্যাটারাল ড্যামেজ নেই - করোনা নিকেশ করা বাদ দিয়ে মানবজাতির সামনে বৃহত্তর কোনও লক্ষ্য নেই - আঁক কষার মুহূর্তে ভাবার প্রয়োজনই নেই, ঠিক কতো কোটি মানুষ মারা যেতে পারেন অনাহারে - এদিকে কতজনকে করোনা-য় মৃত্যু থেকে বাঁচাবো বনাম কতজনকে নিশ্চিত অনাহারের দিকে ঠ...
নাকি, সূক্ষ্ম হিসেবটা তৈরি হয়ে গিয়েছে নিজের মতো করে?
দাঁড়িপাল্লায় মেপে নিয়েছেন, করোনায় মৃতদের মধ্যে আমরা-ওরার বিভাজন কম - ওরা বেশি মরলেও, আমাদেরও কিছু কিছু মরতে হবে - কিন্তু, অনাহারে? সে অসুখের ভ্যাক্সিন তো আমাদের ব্যাঙ্কেই আছে - তাই না??
অতএব, দৃশ্য চার
সারি সারি মানুষ ভিড় করে আছেন বাসস্ট্যান্ডে
শহরে দিনমজুরি বা খুচরো কাজ করে তাঁদের দিনগুজরান হত - সে কাজ বন্ধ
দেশে ফিরলে গ্রামের ভাই-বেরাদররা নিজের থালা থেকে হলেও দুটো রুটি দিতে পারেন - দেশে ফেরার পথ বন্ধ
কে যেন বলেছে, আজ বাস পাওয়া যাবে, তাই...
আর সব দৃশ্য মিলিয়ে মিশিয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছে উপরিউক্ত দৃশ্যাবলি বিষয়ে আপনাদের প্রতিক্রিয়ায়
আপনাদের খিল্লি আর হাসিঠাট্টা
না, আপনারা ওই লোকগুলোর থেকে অন্য গ্রহের বাসিন্দা - একইরকম দেখতে হলেও ওরা ভিন্ন প্রজাতি - ওদের চাওয়া-পাওয়ার সাথে আপনাদের "সচেতন" জীবনযাত্রার ফারাক দুস্তর
আপনাদের সহানুভূতির অভাব - এমনকি, যখন লোকদেখানো আবেগ প্রকাশ করেন, সেটুকুও অসৎ
কর্মজীবনে আন্তরিকতার ভান করতে করতে, উপরে ওঠার মইয়ে প্রতিযোগিতায় অভ্যস্ত হতে হতে আপনাদের পুরোটাই কৃত্রিমতায় ভরে গিয়েছে - আর ভেতরটা প্রকাশিত হয়ে পড়লে, সে বড় পূতিগন্ধময়, যেমনটি বেরিয়ে এল দমদমে - আবাসনের সহবাসিন্দা স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি আচরণে
দেশের বাস্তব ভুলে শুধুই তত্ত্বের চোখ দিয়ে দেশটাকে দেখা - নাকি চূড়ান্ত আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতাকে তত্ত্বের পরতে চাপা দিয়ে রাখা
সোশ্যাল মিডিয়ার সুবাদে চাক্ষুষ করতে পারা গেল আপনাদের আশ্চর্য অবজারভেশন
এসময় এদের তো গ্রামে চলে যাওয়ার কথা - শহরে বসে ছিল কেন!! আচ্ছা, সিরিয়াসলি, কয়েক মাস কি কয়েক বছরের আশ্রয়, এমনকি সে আবাস অস্থায়ী ঝুপড়ি হলেও, একদিনের আচমকা ঘোষণায় সপরিবার ফাঁকা করে চলে যাওয়া যায়?? আপনি পারতেন?? এইসব মালেদের জন্যেই এদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়বে - লকডাউনটা এফেক্টিভ হবে না এদের জন্যে - আর করোনায় পিলপ...
মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পরে পরেই পড়েছিলাম একখানা আশ্চর্য ছোটগল্প - দ্য আল্টিমেট সাফারি - লেখিকা নাদিন গর্ডিমার
ট্যুরিস্টদের আকর্ষণ করার মতো একখানা খুব সাধারণ বিজ্ঞাপন - পত্রিকার পাতায় সেই বিজ্ঞাপনের সারার্থ দাঁড়ায়, আসুন, আফ্রিকান অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নিন - আফ্রিকাকে যাঁরা হাতের তালুর মতো করে চেনেন, তাঁদের সঙ্গে সাফারি উপভোগ করুন
গল্পের শুরুতেই এই ট্র‍্যাভেল অ্যাড উদ্ধৃত করেন লেখিকা
আর তারপর শোনাতে থাকেন এক আশ্চর্য গল্প
জন্তুজানোয়ারদের সিজনাল মাইগ্রেশনের মতো করেই মানুষের মাইগ্রেশন - হ্যাঁ, সাধারণ মানুষ - আফ্রিকাকে হাতের তালুর মতো করে চেনেন বলে যাঁদের কথা বলা হয়েছে, তাঁরা কি এই মানুষগুলোই?? বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনাদের কি আহবান করা হয় এই মানুষগুলোর সহযাত্রী হতেই - ভাগ্যিস, তা নয় সত্যিসত্যি!!
যুদ্ধবিধ্বস্ত মোজাম্বিক
একটি এগারো বছরের মেয়ে
বাবা যুদ্ধে গিয়ে আর ফেরে না
মা একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেন না
ঠাকুমা-দাদুর সঙ্গে তিন বছরের ভাইকে সঙ্গে নিয়ে আশ্চর্য মাইগ্রেশন
অনাহার সাথী করে জঙ্গল পার হয়ে ভিনদেশে পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশে, হয়ত, আল্টিমেট সাফারি
মানুষসমান উচ্চতার ঘাসের জঙ্গলের - ক্রুগার ন্যাশনাল পার্ক - তার মধ্যে দিয়ে পথ খুঁজে চলা... প্রতিপদে শ্বাপদের ভয়... এমনই ঘাসের আড়ালে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে একদিন ফেরেন না দাদু
অল্প অপেক্ষার পর যাত্রা আবার শুরু মেয়েটির, সঙ্গে অপুষ্টিতে ভোগা ভাই আর ঠাকুমা
একদিন লক্ষ্যে পৌঁছানো হয়ে যায় - স্বপ্নের উজ্জ্বল দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা - না, তেমন করে ঠাঁই মেলে না
ওই রিফিউজি ক্যাম্প, তাঁবু - এর বেশি আর আশা কতটুকুরই বা
এমনি করেই কেটে যায় দিন
ঠাকুমা ইট ভাঙার কাজ নিয়ে নাতি-নাতনিদের মুখের খাবারটুকু জোটান
একদিন, সাংবাদিকরা আসেন - দেশবিদেশ থেকে শাদা সাংবাদিকের দল
ঠাকুমাকে প্রশ্ন করতে আসেন তাঁরা
ঠাকুমা খুব একটা গুছিয়ে উত্তর দিতে পারেন না
-কতদিন ধরে এখানে আছেন?
-এখানে? মানে, এই তাঁবুতে? তা ধরুন, দুবছর এক মাস...
-ভবিষ্যতের জন্যে কী আশা করেন?
এখানে আছি... এটুকুই বুঝি
-দেশে ফিরতে চান না? আপনার দেশ? মোজাম্বিক? অন্তত, যুদ্ধটুদ্ধ থেমে গেলে??
আমার কোত্থাও কিচ্ছু নেই
দেশ বা ঘর - কোনওটাই নেই
মেয়েটা খুব অবাক হয়
কী বলছে ঠাকুমা এসব!! যুদ্ধ থামলেই তো সে তো আবার ঠাকুমাকে নিয়ে সেই জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে দেশে ফিরে যাবে
বাবা-মা হয়ত ততদিনে বাড়িতে ফিরে এসেছে
দাদু হয়ত জঙ্গলে পথ হারিয়ে ফেলেছিল - কাউকে দেখতে না পেয়ে একা একা বাড়ি ফিরে গেছে আর তাদের জন্যে অপেক্ষা করছে
বিশ্বাস করুন, আমি স্রেফ স্তম্ভিত হয়ে গেছিলাম এই গল্প পড়ে
কেঁদে ফেলেছিলাম, রাত্তিরে ঘুমোতে পারিনি
সে বয়সে আমি ওরকমই বোকা বোকা সেন্টিমেন্টাল টাইপের ছিলাম
আজ করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের মুহূর্তে, আমার দেশের মানুষ হেঁটে চলেছেন... ঠা ঠা রোদ্দুরে শুকনো-মুখ বাচ্চা কোলে... খড়্গপুর থেকে পুরুলিয়া... দিল্লি থেকে কানপুর
না, এই আল্টিমেট সাফারি চোখের সামনে দেখেও আমরা বিচলিত হচ্ছি না
আসলে, আমরা ট্যুরিস্টের চোখে দেশকে দেখতে শিখে নিয়েছি
আমরা যে দেশটিকে ভালোবাসি বলে বিশ্বাস করি, সে আদতে কোনো রক্তমাংসের দেশ নয় - ট্যুরিস্ট ব্রশিওরে দেশের বিজ্ঞাপনমাত্র - সেও তো একরকম বিদেশ ভিন্ন আর কিছু নয়
আর জানেনই তো -
এই বিদেশে সবই মানায়
পা-চাপা প্যান্ট, জংলা জামা
ধোপদুরস্ত গলার রুমাল, সঙ্গে থাকলে
অশ্বত্থামা
এই বিদেশে সবই মানায়
ব্রায়ার-পাইপ, তীক্ষ্ণ জুতো
নাকের গোড়ায় কামড়ে-বসা কালো
কাচে রোদের ছুতো
এই বিদেশে সবই মানায়
(শক্তি চট্টোপাধ্যায়, এই বিদেশে)
অতএব, আপনাদের শ্লেষ-খিল্লি, বিরক্তি-ঘৃণা, উপেক্ষা-প্যানিক, আচমকা সিদ্ধান্তের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি-অনাহারে মৃত্যু-কোল্যাটারাল ড্যামেজের হিসেব না কষে নির্মোহ গাণিতিক বিশ্লেষণ - বিশ্বাস করুন, আমি বুঝতে পেরে গিয়েছি - এই বিদেশে সবই মানায় - আর বিচলিত হই না - এর বেশি আর কিছু আশাও করি না - আই জাস্ট ডোন্ট মাইন্ড অ্যাট অল!!
লেখাটি ভালো লাগলে ছড়িয়ে দিন...
:
...
পড়ে দেখতে পারেন...