content stringlengths 0 129k |
|---|
নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৫৩ |
চিনি (ফাইল ফটো) |
মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রথমবারের মতো চিনির দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছে |
সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী এখন থেকে প্রতি কেজি খোলা চিনি ৭৪ টাকা ও প্যাকেট চিনি ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হবে |
আগামীকাল (শুক্রবার) থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে |
এদিকে গত কয়েক মাস আগেও খোলা বাজারে চিনির দাম ছিল ৬৮টাকা |
এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে পৌঁছায় ৮০টাকায় |
এমন পরিস্থিতিতে ৫ টাকা কমিয়ে দাম বেঁধে দিয়েছে সরকার |
বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে মিল মালিকদের এক বৈঠকে এ দাম নির্ধারণ করা হয় |
এ বৈঠকে চিনি উৎপাদনকারী সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও দেশবন্ধু গ্রুপসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন |
বৈঠক শেষে অতিরিক্ত সচিব (আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, চিনির দাম বেড়ে প্রতি কেজি ৮০ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল |
আমরা কেজিতে ৫ টাকা দাম কমিয়েছি |
এখন থেকে প্রতিকেজি খোলা চিনি ৭৪ টাকা ও প্যাকেট চিনি ৭৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হবে |
শুক্রবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে |
তিনি বলেন, কয়েকটি পণ্যের আমদানি মূল্য বেড়ে যাওয়ার অজুহাত দিয়ে গত দুই-তিন মাসে ব্যবসায়ীরা চিনির দাম বাড়িয়েছে |
এর আগে দাম ছিল ৭০ টাকার কম |
সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চিনির নতুন দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয় |
বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশে চিনির চাহিদা গড়ে ১৫-১৭ লাখ টন |
এর মধ্যে সরকারি মিল ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় আমদানিকৃত চিনিসহ দেড় থেকে আড়াই লাখ টন চিনি সরবরাহ করে বিএসএফআইসি |
কিন্তু ৬টি সরকারি মিল বন্ধ থাকার পাশাপাশি আমদানি না হওয়ায় দেশে চিনির চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি বেসরকারি মিল মালিকদের নিয়ন্ত্রণে |
আরও পড়ুন: খালাস পেলেন সাংবাদিক প্রবীর সিকদার |
তাছাড়া বিএসএফআইসির নিজস্ব প্রায় চার হাজার ডিলারের কাছে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের পাইকারি এবং খোলা বাজারে দাম বাড়ছে |
অর্থনীতি | আরও খবর |
জেসিআই ঢাকা ওয়েষ্টের নতুন প্রেসিডেন্ট আলতামিশ নাবিল |
কাল টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু |
তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে ২৩ শতাংশ |
চাল ও মুরগির দাম বেড়েছে, কমেছে সবজির |
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাস্তবসম্মত নয় : ক্যাব |
এলপিজির দাম কমল |
কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করল আলেশা মার্ট |
মালয়েশিয়ার বাজারে 'সিরামিক পণ্য' পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ |
'); (!='') $().(' |
'); $().(' |
'); }); // $('#_').((){ // = ''; // .(,'_'); // }); // $('#_').((){ // = ''; // .(,'_'); // }); |
আজ থেকে ছেচল্লিশ বছর আগে এমন ঘোষিত জরুরি অবস্থা "ইন্দিরার ইন্ডিয়া"কে ২১ মাস ধরে কায়েম রেখেছিল |
এই অবস্থা শুধু গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধই করেনি, মানুষের জৈব-জীবনের ওপরেও নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছিল |
ছবি প্রতীকীসংগৃহীত |
ডঃ কৌশিক চট্টোপাধ্যায় |
: |
25 , 2021, 6:31 |
সামাজিক মাধ্যমে আজ একটা লেখা পড়ছিলাম |
সেখানে দেখলাম চিলির সঙ্গে ভারতের তুলনা করা হয়েছে |
সমাজ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিচার করতেই এই তুলনা |
গত শতাব্দীর সাতের দশককে সেই আলোচনায় সময়-সূচক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে |
এই কাল চিহ্ন, দিন চিহ্নেও সুনির্দিষ্ট |
চিলির ক্ষেত্রে সেটা ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ |
ভারতের হল ২৫-২৬ জুন ১৯৭৫ |
ক্ষণচিহ্নে এই দুই দেশ মিলে যায় |
উভয় ক্ষেত্রেই আঁধার কালো রাতে, অন্ধকার দিনের সূচনা ঘোষিত হয় |
চিলি ও ভারতের সেই সমরূপতার গল্পটা কেমন? |
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরেও লাতিন আমেরিকার দেশগুলো মূলত শিল্পোন্নত ইউরোপ-আমেরিকাকে কাঁচামাল জোগান দিয়েই দেশের অর্থনীতির হাল চালাত |
দেশের খনিজ সম্পদের রপ্তানি এবং সেখান থেকে উৎপাদিত দ্রব্যের আমদানি করাটাই ছিল এই সকল দেশের বাণিজ্যিক নীতি |
এতে শিল্পে স্বয়ম্ভর হওয়ার তুলনায় দেশগুলো একদিকে যেমন প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষয় নিশ্চিত করতো, অন্যদিকে তেমনই জীবনধারায় পরদেশ নির্ভরতাকে আরও জাঁকিয়ে বসতে সাহায্য করতো |
ছয়ের দশক থেকে তাই ব্রাজিল, বলিভিয়া, পেরু, চিলি, আর্জেন্টিনা, ভেনেজুয়েলা সহ লাতিন আমেরিকার প্রায় সকল দেশেই "লুম্পেন বুর্জোয়া"বিরোধী হাওয়া প্রবল হতে থাকে |
এই সময় অপর যে বিষয়টা লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক বয়ানে মুখ্য হয়ে ওঠে, তা হল, নয়া-উপনিবেশবাদী সম্পর্ক-সংযোগ |
এই রাজনৈতিক যোগে লাতিন আমেরিকা জুড়ে ব্রিটেন-জার্মান-ফ্রান্স-পর্তুগালের রাশ আলগা হতে থাকে, কিন্তু আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের দখলদারি চেপে বসতে থাকে |
মার্কিন শোষণের শিকারে পরিণত হওয়ার সকল সম্ভাবনায় পূর্ণতা পাওয়া এই লাতিন দেশগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তাই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ প্রত্যক্ষযোগ সংমিশ্রিত হতে থাকে |
সাম্রাজ্যবাদের কাছে সেটা আরও বেশি করে প্রয়োজন হয়ে ওঠে এখানকার প্রতিরোধী আন্দোলনের স্বরূপের অভ্যন্তরীণ কারণে |
এই প্রতিরোধী আন্দোলনের কারিগর হিসেবে বামপন্থীদের সক্রিয় ভূমিকা আমেরিকার মাথা ব্যাথার কারণ হয় |
সার্বিক সামাজিক অনাচার, আর্থিক বৈষম্য, বর্ণবাদ, দমন-পীড়ন, দুর্নীতি, এবং শোষণ ও বঞ্চনার কারণে যে জন-অসন্তোষ দানাবাঁধে, তাকে সামনে রেখেই বামপন্থীদের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী লড়াই গোটা লাতিন আমেরিকা জুড়ে বেশ স্পষ্ট রূপ নেয় |
সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারায় চিলিতে তার প্রথম প্রতিফলন ঘটে ১৯৭০ সালে |
লাতিন আমেরিকার প্রথম মার্কসবাদী রাষ্ট্রপতি হিসেবে চিলিতে নির্বাচিত হন সালভাদোর আয়েন্দে |
আজ ২৬ জুন, তাঁর জন্মদিন |
ক্ষমতায় এসেই আয়েন্দে চিলির সমস্ত আকরিক খনি এবং বিদেশীদের (বিশেষ করে মার্কিন) মালিকানাধীন অনেক ব্যবসা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই বাজেয়াপ্ত করেন এবং এগুলোর জাতীয়করণ করেন |
ক্ষমতায় এসেই আয়েন্দে চিলির সমস্ত আকরিক খনি এবং বিদেশীদের (বিশেষ করে মার্কিন) মালিকানাধীন অনেক ব্যবসা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই বাজেয়াপ্ত করেন এবং এগুলোর জাতীয়করণ করেন |
কিউবা, চীন, সোভিয়েতের সঙ্গে বাণিজ্যনীতি গ্রহণ করেন |
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেঁধে দেন এবং সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণের মন্ত্রক গঠন করে দেন |
ভূমি সংস্কারের মধ্যে দিয়ে গ্রামীণ দারিদ্রের অবসানে উদ্যোগী হন |
সর্বোপরি সকলের জন্য স্বাস্থ্যের দাবিটাকে মানব অধিকার, এবং সেটাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে জোরের সঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন |
এতে দেশের গরীব মানুষ, খেটে খাওয়া কৃষক-শ্রমিক কুল খুশী হলেও প্রচলিত পুঁজিবাদ সঙ্কটে পড়ে |
অগত্যা যা হয়! পুঁজিবাদ তার সহজ হাতিয়ারকেই ব্যবহার করে |
১৯৭৩র ১১ সেপ্টেম্বর সিআইএ-র সহায়তায় এবং তাদের ব্লু-প্রিন্ট অনুসারেই সালভাদোর আয়েন্দে খুন হন |
চিলিতে কায়েম হয় অন্ধকার দিন |
গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধী এই ফ্যাসিবাদী শাসন চিলির পুঁজিবাদের বিপদে রক্ষাকবজ হয় |
মৃত আয়েন্দের চিলি প্রমাণ করে যে পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার পরিচালকগণ যে ধরনের বাঁধার মুখোমুখি হন, সেই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করার রাজনৈতিক হাতিয়ারের নাম ফ্যাসিবাদ |
আয়েন্দের মতোই স্বাধীন ভারতে সংস্থা জাতীয়করণের পথে হেঁটেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি |
তাঁর এই জনমুখি উদ্যোগ নিয়ে যে বিতর্কই থাকুক না কেন, স্বাধীন ভারতে তিনিই প্রথম সরকারী-বেসরকারীকরণের দ্বন্দ্বে একটা ধাক্কা দিতে পেরেছিলেন |
কিন্তু ঐ যে মৌলিক সমস্যা! জনমুখি কর্মকাণ্ড বলে চালানো সরকারী পরিকল্পনা যখন আর জনগণের মন জয় করতে পারে না, সাম্যের নামে বৈষম্য বৃদ্ধি যখন অনিবার্য হয়, শাসক তখন ক্ষমতা হারনোর ভয় পান |
এমন পরিস্থিতিতে শাসক ক্ষমতায় টিকে থাকতে সহজেই ফ্যাসিবাদ নামক রাজনৈতিক হাতিয়ার ব্যবহার করেন, যেটা ইন্দিরা গান্ধিও করলেন |
এবং তিনি প্রমাণ করলেন যে প্রত্যেক শাসনের একটা সুনির্দিষ্ট ফ্যাসিবাদী রূপ থাকে |
জনমুখি কর্মকাণ্ড বলে চালানো সরকারী পরিকল্পনা যখন আর জনগণের মন জয় করতে পারে না, সাম্যের নামে বৈষম্য বৃদ্ধি যখন অনিবার্য হয়, শাসক তখন ক্ষমতা হারনোর ভয় পান |
১৯৭৫র ২৫-২৬ জুনের মধ্যরাতে তিনি অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা জারি করলেন |
সারা দেশে চলতে থাকা শ্রমিক-কর্মচারী-ছাত্র আন্দোলনকে এক ঝটকায় নিভিয়ে দিতে, এবং সর্বোপরি ১৯৭১ সালে দুর্নীতি করে রায়বেরেলি আসনে জয়লাভ সম্পর্কিত রাজনারায়ণের আনা মামলার রায়ে এলাহবাদ হাইকোর্ট শ্রীমতী গান্ধীকে যে ছয় বছর সংসদীয় রাজনীতি থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছে, তাকে ভুলুন্ঠিত করতেই অভ্যন্তরীণ জরুরি অবস্থা জারি ... |
সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় বিষয়টা জানলেও, শোনা যায়, মন্ত্রীসভার সকল সদস্য জানতেনই না যে রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদ ২৫ তারিখেই ভারতীয় সংবিধানের ৩৫২ নং ধারা অনুযায়ী এই জরুরি অবস্থা ঘোষণার কাগজে সই করে দিয়েছেন |
প্রতিরোধহীন শাসন তখন উন্মত্ত |
গরিব মানুষের বাসস্থান উচ্ছেদে ছেলে সঞ্জয় গান্ধির তাণ্ডব শুরু হল |
তুর্কমান গেটে বুলডোজার চালিয়ে দেওয়া হল |
বিক্ষোভকারীকে জোর করে নাসবন্দি করা হল |
রাজনৈতিক বন্দিতে কারাগারগুলোকে ভরিয়ে তোলা হল |
সাহিত্যে সেন্সরসিপ কার্যকরী হল |
খর্ব হল আদালতের ক্ষমতা |
সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ অনিবার্য হয়ে উঠলো |
এই ঘোষিত জরুরী অবস্থার সময় ভারতের সাধারণ মানুষের কোন গণতান্ত্রিক অধিকার থাকে না |
তাই ২৬ জুন, ১৯৭৫ থেকে ২১ মার্চ, ১৯৭৭ পর্যন্ত - এই ২১ মাসব্যাপী সময় কাল হল ভারতের জাতীয় ইতিহাসের ঘোষিত কলঙ্কিত অধ্যায় |
আর একভাবে লিপিবদ্ধ করা যায় এই অধ্যায়কে |
সেই আঙ্গিক জয়প্রকাশ নারায়ণ, অটল বিহারী বাজপেয়ী কথা নয়, বরং তৎকালীন কংগ্রেস সভাপতি দেবকান্ত বরুয়ার 'ইন্দিরাকেই ইন্ডিয়া'হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শে লুকিয়ে থাকে |
এই অভিপ্রায় আজও স্বৈরাচারী শাসনের দ্যোতক হিসেবে চিহ্নিত হয় |
এমন শাসনে লুঠ হয়ে যায় মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার |
এও হল ফ্যাসিবাদের এক রূপ, যেখানে অশুচি হয় দেশের সংবিধান |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.