content stringlengths 0 129k |
|---|
7.1.4 ৪. ভার উত্তোলন |
8 ডায়াবেটিসে ঝুঁকি কিসে ? |
9 প্রশ্ন- উত্তর |
9.1 ডায়াবেটিস এর বাংলা কি ? |
9.2 ডায়াবেটিস কি বংশগত রোগ ? |
9.3 কিভাবে ডায়াবেটিস মাপা হয় ? |
9.4 ডায়াবেটিস কিভাবে পরীক্ষা করা হয় ? |
9.5 ডায়াবেটিস কিভাবে কমানো যায় ? |
9.6 ডায়াবেটিস কিভাবে ছড়ায় ? |
9.7 ডায়াবেটিস চিরতরে নিরাময় হবে কিভাবে? |
ডায়াবেটিস কি ( ) |
আমরা যখন কার্বোহাইড্রেট বা সাধারণ শর্করা জাতীয় খাবার খাই, তখন তা ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয় |
এই গ্লুকোজ বা ক্ষুদ্রান্তের আবরণী দিয়ে শোষিত হয়ে আমাদের রক্তে আসে |
আমাদের শরীরে এক ধরনের হরমোন রয়েছে যার নাম ইনসুলিন, যার কাজ হল রক্তের গ্লুকোজকে আমাদের দেহের কোষগুলোয় পৌঁছে দেওয়া, কারন সেই গ্লুকোজ ব্যবহার করে আমাদের শরীরের কোষগুলো শক্তি উৎপাদন করে এবং সেই শক্তি দিয়েই আমরা রোজকারের কাজকর্ম করি |
সুতরাং যখন এই গ্লুকোজ আমাদের শরীরের কোষে পৌঁছাবে না, তখন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের কাজকর্ম ব্যাহত হবে |
ইনসুলিন হরমোনের রক্তের শর্করা বা সুগার নিয়ন্ত্রনের অভাব সাধারণত ডায়াবেটিসের কারন |
ডায়াবেটিস হল এক ধরনের রোগ, যেখানে আমাদের দেহে পরিমান মতো ইনসুলিন তৈরি না হলে বা ঠিকঠাক কাজ না করলে, শরীরের ব্লাড গ্লুকোজ বা লেভেল নিয়ন্ত্রণে না থেকে অনেক বেড়ে যায় |
ডায়াবেটিসের প্রকার |
ডায়াবেটিস বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে |
তবে আমাদের ডায়াবেটিসের প্রকার জানার আগে আমাদের দুটি জিনিসে ফোকাস করা প্রয়োজন - এক, ইনসুলিন পরিমান মতো তৈরি হওয়া না হওয়া এবং দুই, ইনসুলিন রক্ত থেকে কোষে গ্লুকোজ বয়ে নিয়ে আসা |
এখন জেনে নেওয়া যাক ডায়াবেটিসের প্রকারগুলো নিয়ে - |
টাইপ ১ ডায়াবেটিস ( 1 ) |
টাইপ ১ ডায়াবেটিসকে সাধারণত বা - ও বলা হয়ে থাকে কারন এটি আমাদের এর সাথে সম্পর্কিত |
এই ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরই অগ্ন্যাশয়ের কোষগুলিকে আক্রমণ করে এবং ধ্বংস করে, যেখানে ইনসুলিন তৈরি হয় |
ডায়াবেটিসযুক্ত 5-10% লোকের মধ্যে টাইপ ১ ডায়াবেটিস থেকে থাকে |
টাইপ 1 ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলি খুব তাড়াতাড়ি প্রকাশ পায় |
এটি সাধারণত শিশু, কিশোর এবং কম বয়স্কদের মধ্যে বেশি পাওয়া যায় |
টাইপ 1 ডায়াবেটিস থেকে বাঁচতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে প্রতিদিন বাইরে থেকে ইনসুলিন গ্রহণ করতে হবে |
এখানে ডায়াবেটিসের কোনও নির্দিষ্ট কারণ নেই, তবে নিম্নলিখিত জিনিসগুলো এটি ট্রিগার করতে পারে |
ভাইরাল বা ব্যাকটিরিয়া সংক্রমণ |
খাবারের মধ্যে রাসায়নিক বিষাক্ত পদার্থ |
অজানা উপাদান স্ব-ইমিউন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে |
টাইপ ২ ডায়াবেটিস ( 2 ) |
টাইপ ২ ডায়াবেটিস তখন হয় যখন আমাদের শরীর যে ইনসুলিন রয়েছে তাকে, রক্ত থেকে কোষে গ্লুকোজ আনতে খুব ভালোভাবে বা কার্যকরী ভাবে ব্যবহার করেনা, ফলে রক্তে থাকা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে থাকে যার ফলে ব্লাড সুগার থাকেনা |
এর ফলে আমাদের কোষে গ্লুকোজ না পৌঁছালে শক্তির জন্য আমাদের দেহকে আমাদের টিস্যু, পেশী এবং অঙ্গগুলির অন্যান্য বিকল্প শক্তির উৎসগুলির উপর নির্ভর করতে হয় |
যা বিভিন্ন উপসর্গের কারণ হতে পারে |
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় 90-95% লোকের টাইপ ২ ডায়াবেটিস থাকে |
এটি বহু বছর ধরে আসতে আসতে তৈরি হয়ে থাকে এবং সাধারণত এটি প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নির্ণয় করা হয় ( তবে শিশু, কিশোর এবং কম বয়স্কদের মধ্যে আরও বেশি দেখা যায় ) |
তবে ভালো দিক হল, টাইপ ২ ডায়াবেটিসকে সময়ের সাথে সাথে ভালো অভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা করলে প্রতিরোধ করা যেতে পারে |
কিছু জিনিস যেমন ওজন কমানো , স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং হওয়া করলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস সারানো যেতে পারে |
গর্ভাবস্থার ডায়াবেটিস ( ) |
মহিলারা গর্ভবতী হলে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের বিকাশ ঘটে |
যদি কারোর গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকে তবে তার শিশু স্বাস্থ্যের সমস্যার জন্য বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে |
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণত আপনার সন্তানের জন্মের পরে চলে যায় তবে পরবর্তী জীবনে আপনার টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বা সম্ভাবনা বাড়ায় |
আপনার বাচ্চা শিশু বা কিশোর বয়সে স্থূল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি এবং পরবর্তী জীবনেও টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে |
অন্যান্য প্রকার - |
এছাড়া আরও অনেক ডায়াবেটিস রয়েছে যা একটু কম প্রচলিত ডায়াবেটিস, যেমন - এবং - |
ডায়াবেটিস কেন হয় বা কারন |
বিভিন্ন কারনে ডায়াবেটিস হতে পারে, যেমন - |
জিনগত রোগের কারণে কম ইনসুলিন তৈরী হলে |
ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে গেলে |
শারীরিক ক্রিয়াকলাপ বা ব্যায়াম না করলে |
বেশি অতিরিক্ত চাপে থাকার কারণে |
অতিরিক্ত পরিমাণে ধূমপান করলে |
চা, কোল্ড ড্রিঙ্কস এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার অতিরিক্ত পরিমানে গ্রহণ করলে |
ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ ( ) |
ডায়াবেটিসের লক্ষণ সুগারের মাত্রার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে |
টাইপ ১ ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো খুব দ্রুত প্রকাশ পায় |
টাইপ ১ ডায়াবেটিস এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগের প্রধান তিনটি লক্ষণ হল - |
(পলিইউরিয়া) - ঘন ঘন প্রস্রাব |
(পলিডিপসিয়া) - তৃষ্ণা বৃদ্ধি পাওয়া |
(পলিফাগিয়া ) - ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া |
এছাড়া আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হল - |
দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া - রক্তে শর্করার পরিমান মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে, চোখের লেন্সের ফ্লুইড বা তরল শুকিয়ে যাবে, যা দৃষ্টিশক্তির উপরে প্রভাব ফেলতে পারে |
খুব তাড়াতাড়ি ওজন কমে যাওয়া - অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের ফলে ওজন কমে যেতে পারে |
গ্লুকোজ পরিপাক না হলে শরীরের পেশী এবং চর্বি জমা রাখা বিকল্প শক্তি ব্যবহার করে এবং ক্যালরি হিসাবে বাড়তি গ্লুকোজ প্রস্রাবের মধ্যে বেরিয়ে যায় |
প্রস্রাবে কিটোনের উপস্থিতি ( (পেশী এবং ফ্যাট বিভাজনের ফলে তৈরি হওয়া একটি উপজাত দ্রব্য হল কিটোন, যার পাওয়ার অর্থ সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে ইনসুলিন না পাওয়া ) |
চামড়ার সংক্রমণ |
চামড়া লাল লাল ফুসকুড়ি |
শুষ্ক ত্বক, শুকনো মুখ এবং পা ব্যথাও হতে পারে |
যে কোনো কাটা বা ক্ষতের নিরাময় খুব ধীরে ধীরে হয়, বা ঘন ঘন সংক্রমণ হয় |
অপর্যাপ্ত পরিমানে ইনসুলিন আপনার কোষগুলিতে গ্লুকোজ পরিবহন করতে ব্যর্থ হয় যার ফলে পেশী এবং অন্যন্ন অঙ্গগুলি নিত্বেজ হয়ে পরে, যার ফলে খুব দ্রুত খিদে বৃদ্ধি পায়, যাকে পলিফাগিয়া বলে |
ডায়াবেটিস নির্ণয় পরীক্ষা () |
ডায়াবেটিস নির্ণয় করার ক্ষেত্রে সাধারণত কিছু পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হয়, তা হল |
1 পরীক্ষাটি গত দুই থেকে তিন মাস ধরে আপনার গড় ব্লাড সুগার পরিমাপ করে |
এইভাবে নির্ণয়ের সুবিধাগুলি হ'ল আপনাকে না খেয়ে থাকতে হবে না |
ফল - 1 পরীক্ষায় রেজাল্ট 6.5% এর চেয়ে সমান বা বেশি হলে ডায়াবেটিস ধরা হয় |
() |
এই পরীক্ষাটি আপনার খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করে |
এই পরীক্ষায় জল ছাড়া কমপক্ষে আট ঘন্টা খাওয়া বা অন্য পানীয় না খেয়ে থাকতে হয় |
এই পরীক্ষাটি সকালের নাস্তার আগে সাধারণত প্রথম জিনিস করা হয় |
ফল - পরীক্ষায় রেজাল্ট 126 / এর চেয়ে সমান বা বেশি হলে ডায়াবেটিস ধরা হয় |
() |
ওজিটিটি পরীক্ষায় শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ানর দুই ঘন্টার পরীক্ষা যা আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা হয়ে থাকে |
ফল - পরীক্ষায় রেজাল্ট 200 / এর চেয়ে সমান বা বেশি হলে ডায়াবেটিস ধরা হয় |
এই পরীক্ষায় রক্ত পরীক্ষা করে রক্তের সুগার দিনের যে কোনও সময় নির্ণয় করা যায় |
ফল - পরীক্ষায় রেজাল্ট 200 / এর চেয়ে সমান বা বেশি হলে ডায়াবেটিস ধরা হয় |
জেনে নিন - ডায়াবেটিস কত পয়েন্ট হলে নরমাল |
ডায়াবেটিস সারানোর উপায় বা চিকিৎসা |
ডায়াবেটিস রোগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ইনসুলিন হরমোন |
ডায়াবেটিস চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য কিছু পদ্ধতি হল - |
ডায়েট এবং এক্সসারসাইজ |
ইনসুলিন ট্রিটমেন্ট |
মেডিসিন বা ওষুধ |
ইনসুলিন দিয়ে চিকিৎসা |
ডায়াবেটিস রোগের অন্যতম একটি চিকিৎসা হল ইনসুলিন হরমোন |
সাধারণত যাদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয় না |
তাদের ক্ষেত্রে বড় একটি চিকিৎসা ইনসুলিন ইনজেকশন |
ইনসুলিন কতক্ষণ কাজ করবে এবং তার এফেক্ট কতক্ষণ থাকবে তার উপর নির্ভর করে ইনসুলিনকে আবার বিভিন্ন ভাবে ভাগ করা যায় |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.