content stringlengths 0 129k |
|---|
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু বিদ্যমান, তাহাদের সকলের মালিক আল্লাহ্ তায়ালা- মানুষ নহে, তা সে ব্যক্তিই হউক আর ব্যক্তির সমষ্টি রাষ্ট্রই হউক |
মালিকানা স্বত্ত্বের অর্থ ইচ্ছামত বস্তুর ব্যবহার, অব্যবহার ও অপব্যবহারের অধিকার |
এই অধিকার মানুষের নাই |
ইসলামে বিশ্বাসী মানুষ জড় সম্পদ অধিকার করিবে মালিকরূপে নহে- আল্লাহর 'রব' গুণের প্রতিভূরূপে |
সুতরাং ইসলামী সংস্কৃতিতে, সম্পদের অধিকার ও ব্যবহার ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী হইতে হইবে |
অপরের কল্যাণে অন্তরায় ও উদাসীন না হইয়া সম্পদ ভোগের অধিকার প্রত্যেকেরই আছে |
কিন্তু এই ব্যবহারিক স্বত্ত্বাধিকার তাহাদিগকে অর্জন করিতে হয় আল্লাহ-প্রদত্ত শ্রম-শক্তির সদ্ব্যবহারের বিনিময়ে |
কারণ, কুরআনুল কারীম বলেন, 'মানুষ যাহার জন্য শ্রম করে, তাহা ব্যতিরেখে কিছুই তাহার প্রাপ্য নহে |
কোন সংগত কারণে যাহারা শ্রমে অসমর্থ সামাজিক জীবন-মানের পরিপ্রেক্ষিতে তাহাদের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও কর্মের সংস্থান- এই মৌল জীবিকোপকরণ সমূহের নিম্নতম প্রয়োজন মিটাইবার সম্পূর্ণ দায়িত্ব সমাজের অর্থশালী ব্যক্তিদের স্কন্ধে ন্যস্ত রহিয়াছে |
এই দায়িত্ব পালনেরই নাম 'হক্কুল ইবাদ' আদায় করা |
সালাত কায়েমের নির্দেশের সহিত যাকাত কথাটি ওতঃপ্রোতভাবে জড়িত থাকার গূঢ় অর্থ এই যে, 'হক্কুল ইবাদ' আদায় না করিলে সালাত ব্যর্থতায় পর্যোবসিত হয় |
কুরআনুল কারীম বলেন, যে ব্যক্তি এতিমের দুশমন, বুভুক্ষুকে অন্নদানে বিমুখ এবং প্রতিবেশীর কল্যাণের প্রতি উদাসীন, সে দ্বীনকে অস্বীকার করে; তাহার সালাত অশুদ্ধ ও প্রদর্শনীসর্বস্ব; এবং এই প্রকার মুসুল্লিগণ অভিশপ্ত |
যে-সমস্ত মূল্যবোধ ও গুণাবলী অর্থের উপার্জন ও ব্যবহার সম্পর্কে এর বিপরীত মানসিকতার উৎকর্ষ সাধন করে, তাহাদের পরিচর্যা এবং ব্যবহারিক জীবন ও জড় পরিবেশে সে-গুলির ফলিতরূপ অর্থনৈতিক জীবনে ইসলামী সংস্কৃতি |
রাজনৈতিক জীবনেঃ |
খিলাফত, -এই কথাটির একটি বিশেষ রাজনৈতিক অর্থ আছে |
কুরআনুল কারীম বলেন, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌম অধিকার একমাত্র আল্লাহর- মানুষের নহে, সে ব্যক্তিই হউক, আর ব্যক্তির সমষ্টি জাতিই হউক |
সুতরাং ইসলামী রাষ্ট্র অথবা রাষ্ট্রপতি সার্বভৌম ক্ষমতা সম্পন্ন নহেন |
ইসলামী রাষ্ট্রের নাম খিলাফত অর্থাৎ প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক এই প্রতিনিধিত্ত্বও আল্লাহর রবুবিয়াতের প্রতিনিধিত্ব |
ইসলামী রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রপ্রধান ক্ষমতা অধিকার ও উহা প্রয়োগ করিবেন জনগণের কল্যাণে |
রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি নর-নারী নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারিক জীবনে ও সংঘবদ্ধভাবে রাষ্ট্রকে উহার এই মহান কর্তব্য পালনে নিষ্ঠা ও সততার সহিত সাহায্য করিবেন |
কারণ প্রত্যেক মানুষই আল্লাহর রবুবিয়াতের খলীফা- শুধু রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রপতি নহেন |
ইসলামী রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধান ও নাগরিকের মধ্যে বিশেষ কোন বৈষম্য অথবা মর্যাদার প্রাচীর বিরাজ করে না |
কেননা, এ ব্যবস্থায় কেহ কাহারও দাসও নহে, প্রভুও নহে- পরস্পর ভাই-ভাই, এক আল্লাহর দাস এবং একমাত্র তাঁহারই অধীন |
তাহাদের উভয়েরই দায়িত্ব এক আল্লাহর রবুবিয়াতের প্রতিনিধিত্ব করা এবং দ্বীনের নির্দেশ অনুযায়ী নিজেদের ব্যক্তি ও সমষ্টি-জীবন পরিচালিত করা |
তাহারা প্রত্যেকেই সমাজের এক-একটি বিশেষ কর্তব্য পালনের দায়িত্বে আসীন |
কেহ স্বীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে বা ভুল করিলে অপরের কর্তব্য হইয়া দাঁড়ায় তাহাকে সাহায্য করা বা সংশোধন করা |
এই কারণে ইসলামী রাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের কার্যক্রম সাধারণের সম্মুখে উন্মুক্ত থাকে এবং প্রত্যেকটি নাগরিক তাহার সমালোচনা করিয়া উহা সংশোধনের অধিকার রাখে |
এই আদর্শের অনিবার্য অনুসিদ্ধান্ত আইনের শাসন |
প্রাকৃতিক নিয়ম কাহারও প্রতি পক্ষপাতিত্ত্ব করে না |
অগ্নির দাহিকাশক্তি আছে; যে কেহ অগ্নি স্পর্শ করিবে, তাহাকেই দগ্ধ হইতে হইবে- সে ব্যক্তি কোন সাধারণ নাগরিকই হউন, অথবা রাষ্ট্রপ্রধানই হউন |
এইভাবে মানুষের দ্বীনের বিধানও কোনরূপ পক্ষপাতিত্ব করে না |
এই কারণে আইনের দৃষ্টিতে প্রত্যেকে সমান; অর্থাৎ প্রত্যেকের উপর আইনের বিধান সমভাবে প্রযোজ্য |
এমনকি জন-স্বার্থ, জাতীয় মর্যাদা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রভৃতির অজুহাতে খলীফা বা রাষ্ট্রপ্রধান এবং উচ্চতর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গও এ-ক্ষেত্রে কোনরূপ বিশেষ সুবিধা ভোগ করিতে পারেন না |
তাই দেখিতে পাওয়া যায়, হযরত উমর (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ) কে পর্যন্ত খলীফার পদে অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় সাধারণ নাগরিক কর্তৃক আনীত অভিযোগের জওয়াব দানের জন্য বিচারকের সম্মুখে আসামীর বেশে দাঁড়াইতে হইয়াছে |
কুফার গভর্নরকে মদ্য পানের দায়ে চল্লিশ বেত্রাঘাতের দণ্ড মাথা পাতিয়া মানিয়া লইতে হইয়াছে |
সাধারণের সাধ্যাতীত সীমায় স্বীয় জীবন-মান উন্নীত করার অপরাধে খলীফার নির্দেশে সিরিয়ার গভর্নরকে আত্মশুদ্ধির জন্য মদীনার উপকণ্ঠে মেষ চরাইতে হইয়াছে |
এমন কি, খলীফা উমরের পুত্রকে পর্যন্ত মদ্যপানের দায়ে পিতৃহস্তে কঠোর শাস্তি গ্রহণ করিতে হইয়াছে |
খিলাফতে যখন খলীফা হইতে আরম্ভ করিয়া সামান্য একজন নাগরিক পর্যন্ত সকলেই জন-কল্যাণের জন্য দায়ী, তখন এই গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রতিটি নাগরিকের জন্য বাক-স্বাধীনতা থাকা একান্ত অপরিহার্য |
বাক-স্বাধীনতা না থাকিলে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের প্রতিবাদ কেমন করিয়া হইবে? এইভাবে যে সমস্ত মূল্যবোধ ইসলামী রাষ্ট্রীয় আদর্শের সহায়ক, সেগুলির অনুশাসন এবং ব্যক্তি ও সমষ্টি-জীবনে তাহাদের প্রয়োগ রাজনৈতিক জীবনে ইসলামী সংস্কৃতি |
মানুষের জ্ঞান, বিশেষ করিয়া বস্তু-নির্ভর জ্ঞান আপেক্ষিক (), কিন্তু তাহা সত্ত্বেও সেই সীমিত জ্ঞানকে অবলম্বন করিয়া বিভিন্ন মানুষ নিজেদের জন্য জীবন-বিধান প্রণয়নের প্রচেষ্টা চালাইয়াছে- প্রয়াস পাইয়াছে মানব-জীবনের মূল সুর আবিষ্কারের |
আর ইহা করিতে গিয়া কেহবা অর্থনৈতিক প্রয়োজন, কেহবা যৌন পিপালসা, কেহবা ক্ষমতা-লিপ্সা আবার কেহবা সৌন্দর্য প্রীতিকে জীবনের একমাত্র নিয়ন্তারূপে স্বীকৃতি দিয়াছেন |
মানব-জীবনের এক-একটি বিশেষ দিকের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করিয়া অন্যান্য দিকগুলির প্রতি তাহারা প্রদর্শন করিয়াছেন অমার্জনীয় অবহেলা |
ফলে, তাহাদের একদেশদর্শী মতাদর্শ মানব-সমাজে ডাকিয়া আনিয়াছে উত্তরোত্তর অধিক সংকট, সংঘাত আর অভিশাপ |
জীবন-প্রবাহে এই সমস্ত বৃত্তিগুলির কোনটিরও প্রভাব ইসলাম অস্বীকার করে না, কিন্তু ইহাদের কোন-টিকেই জীবন তথা ইতিহাসের একমাত্র নিয়ন্তা বলিয়া মনে করে না |
তাই, ইসলামের বিধান সমষ্টিগতভাবে মানব-প্রকৃতির স্থুল ও সূক্ষ্ম সবগুলি বৃত্তিরই সুসামঞ্জস ও কল্যণমুখী পরিচর্যা এবং ব্যবহারিক জীবন ও বাস্তব পরিবেশে উহার প্রকাশ |
ইহাই ইসলামী সংস্কৃতির অর্থ এবং ইহাই মানব-সত্তার পূর্ণ বিকাশ তথা মানুষের সীমাহীন সম্ভাবনার পরম পরিণতি লাভের প্রকৃষ্টতম পন্থা |
সূত্রঃ আবুজর গিফারী সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত "রব্বানী দৃষ্টিতে" গ্রন্থ |
২০১৬-০৭-০৪ |
পূর্ববর্তী মাদরাসার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (এক) |
পরবর্তী 'ধনীরা দুলালরা কেন জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে, ভাবতে হবে রাষ্ট্রকে' |
এ বিভাগের আরো কিছু সংবাদ |
দূর্গা পূজায় মুসলমানের টাকা ও সহযোগিতা! |
২৫ অক্টোবর ২০২০ |
পুলিশি নির্যাতনে হত্যার বিচার চাইবেন কার কাছে? |
১২ অক্টোবর ২০২০ |
বিকৃত যৌনতায় দিশেহারা জাতি: সমাধান কোন পথে? |
১২ অক্টোবর ২০২০ |
এটাও পড়তে পারেন |
ঐতিহাসিক এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই |
খতিব তাজুল ইসলাম: বিগত আড়াইশত বছর থেকে চলেআাসা ঐতিহাসকি একটি ধারাকে মুল ধারার সাথে যুক্তকরে ... |
ঢাকা কক্সবাজারকুমিল্লাকিশোরগঞ্জকুষ্টিয়াকুড়িগ্রামখাগড়াছড়িখুলনাগাইবান্ধাগাজীপুরগোপালগঞ্জচট্টগ্রামচাঁদপুরচাঁপাইনবাবগঞ্জচুয়াডাঙ্গাজামালপুরজয়পুরহাটঝিনাইদহঝালকাঠিটাঙ্গাইলঠাকুরগাঁওঢাকাদিনাজপুরনওগাঁনাটোরনেত্রকোনানরসিংদীনারায়ণগঞ্জনীলফামারীনোয়াখালীনড়াইলপটুয়াখালীপঞ্চগড়পাবনাপিরোজপুরফেনীফরিদপুরবাগেরহাটবগুড়াবান্দরবানবরগু... |
দুপুর ১১:৫১ |
বিকাল ৩:৩৫ |
সন্ধ্যা ৫:১৪ |
সর্বশেষ সংবাদ |
সর্বাধিক পঠিত |
সর্বাধিক ট্যাগ |
কওমি কল্যাণ ট্রাস্ট- বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা |
কমাশিসার ২১ দফা |
দূর্গা পূজায় মুসলমানের টাকা ও সহযোগিতা! |
কওমি মাদরাসা কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ |
পুলিশি নির্যাতনে হত্যার বিচার চাইবেন কার কাছে? |
সিলেটের পবিত্র মাটি আবারও কলংকিত হলো রায়হানের রক্তে! |
বিকৃত যৌনতায় দিশেহারা জাতি: সমাধান কোন পথে? |
কওমীর নিউ ভার্সন এবং রাষ্ট্র থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসন! |
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে জরুরী কিছু কথা! |
আল্লামা আহমদ শফীকে কি আসলেই তিলে তিলে হত্যা করা হয়ছে? |
মাদারিসে কওমিয়ার মূল সমস্যা ও তার সমাধানমূলক একটি পর্যালোচনা |
ইতিহাসে আল্লামা আহমদ শফী |
কে সেই আনাস মাদানি? কি তার পরিচয়? |
অনুসন্ধান অর্থনীতি আকাবির-আসলাফ আন্তর্জাতিক আমল আমেরিকা ইউরোপ ইতিহাস ঐতিহ্য এশিয়া কওমি অঙ্গন কবিতা-গল্প কর্মসংস্থান কুরআন খিলাফাহ খোলা জানালা ঘর-সংসার জীবন জিজ্ঞাসা দারস দেশ-বিদেশ নারী-পুরুষ পরামর্শ প্রতিদিন প্রতিষ্ঠান প্রবন্ধ-নিবন্ধ ফাতওয়া ফিকহ বিকশিত মেধা বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্বকোষ মানবাধিকার মাহফিল মুসলিম বিশ্ব র... |
চেতনানাশক প্রয়োগ করে রাতে বিরাট চুরি চেতনানাশক প্রয়োগ করে রাতে বিরাট চুরি - ://24. |
আন্তর্জাতিক |
শিক্ষাঙ্গন |
বিশেষ সংবাদ |
চাকরির বিজ্ঞপ্তি |
বিশ্ব ও সাহিত্য |
ভিন্ন রকম খবর |
চেতনানাশক প্রয়োগ করে রাতে বিরাট চুরি |
অলটাইম নিউজ ডেক্স / ৮৪ শেয়ার হয়েছে |
নিউজ আপঃ শুক্রবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ২:৫০ অপরাহ্ন |
শেয়ার করুনঃ |
কণ্যা শিশুর শ্লীলতাহানি করে কিশোর |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.