content stringlengths 0 129k |
|---|
অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া ৩২ পয়সা তথা ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে |
যদিও বাসভাড়ার ব্যয় বিশ্লেষণে রয়েছে নানা ফাঁকি |
ফলে ভাড়া বৃদ্ধির নামে মূলত বোঝা চেপেছে যাত্রীদের কাঁধে |
যদিও পরিবহণ খাতের বিশেষজ্ঞরা বাস ভাড়ার ব্যয় বিশ্লেষণে বিবেচিত অধিকাংশ উপাদানকেই অপ্রয়োজনীয়, কাল্পনিক ও অপ্রাসঙ্গিক বলে মত প্রকাশ করেছেন |
বিআরটিএ ব্যয় বিশ্লেষণে প্রতিটি বাসের গড় আয়ুষ্কাল ধরেছে ১০ বছর |
আর বাসগুলো বছরে চলবে ৩০০ দিন |
বলা হয়েছে, আসনের ৯৫ শতাংশ যাত্রী বহন করবে বাসগুলো |
যদিও অধিকাংশ সময় আসনের চেয়ে দ্বিগুণ যাত্রী বহন করে বাসগুলো |
তবে ৯৫ শতাংশ যাত্রী বহন দেখিয়ে ভাড়া নির্ধারণ করায় কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া বেশি পড়েছে |
হিসাবে প্রতিটি বাসে গড়ে প্রতি মাসে টায়ার-টিউব পরিবর্তন করায় বছরে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা |
এর বাইরে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ইঞ্জিন ওভারহোলিং না করা হলেও বছরে এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা |
আর সাধারণত বিমা না থাকলেও ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা |
পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের কোনো ধরনের টোল না থাকলেও এ খাতে বছরে ২৫ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে |
মহাসড়কে চলাচলকারী বাসগুলো রংচটা ও লক্কর-ঝক্কর হলেও পাঁচ বছরে এগুলো রেনোভেশনের জন্য বছরে গড়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা |
আবার দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে বছরে ৬৫ হাজার টাকা এবং বাসের গ্যারেজ ভাড়া ৬৫ হাজার টাকা |
এদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে চলাচলকারী বেশিরভাগ বাসেই চালক ও একজন সহকারী থাকলেও ভাড়া নির্ধারণে ব্যয় বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে চালকের দু'জন সহকারী ধরে তাদের দৈনিক ২ হাজার ১০০ টাকা হিসাবে বছরে বেতন ৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে |
বোনাস বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ হাজার টাকা |
যদিও বেশিরভাগ বাসেই চালক ও সহকারীর কোনো বেতন-বোনাস নেই, বরং তাদের ট্রিপভিত্তিক চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয় |
প্রতিটি বাস দৈনিক ১২০ কিলোমিটার চলাচল করবে |
প্রতি লিটারে আড়াই কিলোমিটার হিসাবে দৈনিক ডিজেল খরচ দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৮৪০ টাকা |
এতে বছরে খরচ হবে ১১ লাখ ৫২ হাজার টাকা |
বছরে দুটি ব্যাটারি বাবদ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় যুক্ত হয়েছে |
এর সঙ্গে বছরে একটি ইঞ্জিন কুল্যান্ট কেনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ হাজার টাকা |
এ ছাড়া বিআরটিএ ৩১ আসনের মিনিবাস ও ৫২ আসনের বড় বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে দেয় |
কিন্তু এখন ঢাকায় ৩১-৪০ আসনের বাস চলছে |
দূরপাল্লার পথে ২৬, ৪০ ও ৫২ আসনের বাস চলাচল করে, যে ক্ষেত্রে মালিকরা নিজেদের মতো করে ভাড়া নির্ধারণ করছেন |
এভাবে ভাড়া নির্ধারণে ব্যয় বিশ্লেষণে ১৬টি খাতের ব্যয় যোগ করে বছরে গড়ে বাস পরিচালনায় ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৩৪ লাখ টাকা |
সঙ্গে বাস মালিকের ১০ শতাংশ মুনাফা যোগ করা হয়েছে |
এর ভিত্তিতে প্রতি কিলোমিটার বাসভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ১৫ পয়সা |
কিন্তু গণপরিবহণ মালিকদের কথামতো ব্যয় বিশ্লেষণ হিসাবের সময় প্রতিটি বাসের ট্রিপে কত যাত্রী হয়, বাসের বাজারমূল্য কত, বাসটি কত পথ পাড়ি দেয়-এসব কখনোই সরেজমিন যাচাই-বাছাই না করে বিআরটিএ একটি অঙ্ক বসিয়ে দেয়, যা মূলত গণপরিবহণ মালিকদের স্বার্থই নিশ্চিত করে |
দেশের ভোক্তারা বৃহত্তর অর্থনৈতিক গোষ্ঠী হলেও নীতিনির্ধারণীতে তাদের ভূমিকা বরাবরের মতো গৌণ |
তাই সরকারকে সত্যিকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ভোক্তা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করতে হবে; বিশেষ করে সরকারি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে |
তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক জবাবদিহিতাকে নাগরিক তদারকি ও পরিবীক্ষণের আওতায় আনতে হবে |
নাগরিক অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ভোক্তা অধিকার ও নাগরিক সংগঠনগুলোকে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি সরকারি নাগরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কমিটি, গণপরিবহণ সেক্টরে জড়িত মালিক-শ্রমিক ও ভোক্তা (যাত্রীদের) নীতিনির্ধারণীতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে |
এসব নাগরিক প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে |
গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাড়ি ভাড়া, হোল্ডিং ট্যাক্স, নগর ব্যবস্থাপনা, শিল্প ও বাণিজ্য ইত্যাদি বিষয়ে নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে গ্রাহক, সেবাদানকারী সংস্থা ও ভোক্তা প্রতিনিধি, প্রশাসনের সমন্বয়ে ত্রিপাক্ষিক গণশুনানির মাধ্যমে নাগরিক পরিবীক্ষণ, অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সুশাসন জোরদার করতে হবে |
তাহলেই দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ভোক্তাদের প্রতি সুবিচার নিশ্চিত হবে |
এস এম নাজের হোসাইন : ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) |
.@. |
সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম |
প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত |
পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৩০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২ |
ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ |
-: .@. |
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত |
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি |
© 2021 |
আজকের পত্রিকা |
প্রথম পাতা |
সম্পাদকীয় |
টিউটোরিয়াল |
দ্বিতীয় সংস্করণ |
উপসম্পাদকীয় |
বাংলার মুখ |
নগর-মহানগর |
আইটি বিশ্ব |
শোক সংবাদ |
আজকের পত্রিকা সব খবর |
আজকের পত্রিকা |
ভাড়া নির্ধারণে উপেক্ষিত যাত্রী স্বার্থ |
ভাড়া নির্ধারণে উপেক্ষিত যাত্রী স্বার্থ |
এস এম নাজের হোসাইন |
২৪ নভেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ |
কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরপরই গণপরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের অঘোষিত ধর্মঘটে পুরো দেশ অচল হয়েছিল এবং গণপরিবহণ ও পণ্য পরিবহণের যাত্রীরা জিম্মি হয়েছিল |
সে অচলাবস্থা কাটাতে তিন দিন পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভাড়া নির্ধারণ কমিটির সভা বসে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গণপরিবহণের ভাড়ার হার ও সর্বনিু ভাড়া নির্ধারণ ও পুনঃনির্ধারণ করতে |
জিম্মিদশা চলাকালীন গণপরিবহণ মালিকদের কাছ থেকে নানারকম দাবি শোনা গেলেও ভাড়া বাড়ানোই ছিল মুখ্য |
যদিও তারা এভাবে জনগণকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের ঘটনা ইতঃপূর্বে ঘটালেও এর জন্য তিরস্কৃত না হয়ে অনেকেরই পুরস্কৃত হওয়ার দৃষ্টান্ত আছে |
ফলে এ রোগটি এখন আর গণপরিবহণে সীমাবদ্ধ নেই |
সংক্রমিত হয়েছে অন্য ব্যবসা ও সেবার ক্ষেত্রেও |
ভোক্তা ও গণপরিবহণ খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, বাসভাড়া নির্ধারণে ব্যয় বিশ্লেষণের মধ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি আছে |
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাসভাড়া বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে |
এক্ষেত্রে বাস পরিচালনায় যাত্রীদের নয়, গণপরিবহণ মালিকদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে |
যানবাহনের ভাড়া নির্ধারণে বিআরটিএর চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ব্যয় বিশ্লেষণ কমিটি আছে, যার ১৪ সদস্যের সাতজনই মালিক সমিতির নেতা |
বিআরটিএর ভাড়া নির্ধারণ কমিটিতে ভোক্তাদের একজন প্রতিনিধি থাকলেও নৌপরিবহণ খাতে ভোক্তা প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগই রাখা হয়নি |
ফলে নৌপরিবহণ খাতে ব্যবসায়ী ও বিআইডব্লিউটিএ মিলে ভাড়া নির্ধারণ করেন |
বাকি সাতজনের ছয়জন সরকারি কর্মকর্তা এবং ভোক্তা প্রতিনিধি হিসাবে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) একজন প্রতিনিধি থাকলেও মালিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং তারাই সেখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন |
যাত্রীদের স্বার্থ সবসময়ই উপেক্ষিত থেকে যায় |
বাসভাড়া বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারির পর ২৭ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হলেও গণপরিবহণ মালিকরা রুট ভেদে ৫০-১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ভাড়া আদায় করছেন |
এছাড়া সড়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা পরিষদে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধি ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের রাখার কথা বলা হলেও ভোক্তাদের (যাত্রী) প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার বক্তব্য না থাকলে সেখানে ভোক্তাদের নামে মন্ত্রণালয়ের আশীর্বাদপুষ্ট লোকজন অংশগ্রহণ করবেন |
ক্যাবসহ যাত্রীদের অধিকার নিয়ে আন্দোলনরত অন্য নাগরিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকাসহ সারা দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগরে যান চলাচলের অনুমোদনকারী আঞ্চলিক পরিবহণ কমিটিতে (আরটিসি) ভোক্তাদের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করে আসছিল |
ফলে যাত্রীদের অধিকারের বিষয়গুলো বরাবরের মতো উপেক্ষিত থেকেই যায় |
আমরা জানি, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে চলাচলকারী অধিকাংশ বাসই লক্কর-ঝক্কর |
ভাড়া নির্ধারণে যে প্যারামিটারগুলোকে আমলে নেওয়া হয়, সেখানে শুভঙ্করের ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে |
বিশেষ করে গণপরিবহণ মালিকরা ভাড়া নির্ধারণে এসব বাসের মূল্য ধরেন গড়ে ৩৫ লাখ টাকা |
ব্যাংক ঋণে কেনা এসব বাসের সুদ পরিশোধ ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ১০ লাখ টাকা |
পাশাপাশি নিবন্ধন ফি ৪২ হাজার টাকা |
এসব মিলিয়ে প্রতিটি বাসের পেছনে গড় বিনিয়োগ ব্যয় পড়েছে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা |
সারা দেশে দূরপাল্লার রুটগুলোয় চলে বিভিন্ন মানের বাস |
তবে এসব (নন-এসি) বাসের মূল্য ধরা হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা |
ব্যাংক ঋণে কেনা এসব বাসের জন্য সুদ পরিশোধ করতে হবে সাড়ে ২২ লাখ টাকা |
সঙ্গে যুক্ত হবে নিবন্ধন ফি ৪২ হাজার টাকা |
এতে প্রতিটি দূরপাল্লার বাসের পেছনে বিনিয়োগ ব্যয় পড়েছে প্রায় ৯৮ লাখ টাকা |
শুধু বাসের দামই নয়, ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিমা খরচ, টোল খরচ, প্রতি মাসে টায়ার-টিউব পরিবর্তন, ছয় মাসে দুটি ব্যাটারি বদল, নিয়মিত বাসের রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতি পাঁচ বছরে বাস রেনোভেশন করা ইত্যাদি অনেক অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ধরা হয়েছে |
এছাড়া বাসের গ্যারেজ ভাড়া, ভবিষ্যতে দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতিও দেখানো হয়েছে ভাড়া নির্ধারণে |
এভাবেই ১৬টি খাতে ব্যয় যোগ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতি কিলোমিটার বাসভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২ টাকা ১৫ পয়সা |
আগে এ হার ছিল ১ টাকা ৭০ পয়সা |
অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া ৪৫ পয়সা তথা সাড়ে ২৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে |
আর দূরপাল্লার বাসভাড়া দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৮০ পয়সা |
আগে এ হার ছিল ১ টাকা ৪২ পয়সা |
অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে বাসভাড়া ৩২ পয়সা তথা ২৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.