content
stringlengths
0
129k
১৯৯৪ সালে এই ভাঁওতা চুক্তির জন্য ইয়াসিরকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়
চুক্তির ফলে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজায় আরাফাতের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়
তবে এই সরকারের কোনো সার্বভৌমত্ব ছিল না
ইসরাঈলী সেনারা সবসময় ফিলিস্তিনে থাকতো এবং নতুন নতুন ইহুদি বসতি স্থাপন করতো
যাকে ইচ্ছে তাকে উচ্ছেদ ও এরেস্ট করতো
সবই হয়েছে চুক্তি অনুসারে
আরাফাত বুঝেছিল সে ভুল পদক্ষেপ নিয়েছে
অসলো চুক্তির কারণে মূলত সমগ্র মুসলিমপ্রধান অঞ্চলে ইসরাইলী সেনাবাহিনীর নেটওয়ার্ক স্থাপিত হয়েছে
মুসলিমরা আরো ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে
তিনি এসবের প্রতিবাদ করেছেন
চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে চেয়েছিলেন
কিন্তু পারেননি
শেষ জীবনে গৃহবন্দী ছিলেন
আজ তাঁর ১৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী
আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সম্মানিত করুন
তাঁর ভুল ত্রুটি ক্ষমা করুন এবং ফিলিস্তিনবাসীকে মুক্ত করুন
:
১০ নভেম্বর, ২০২১
স্বৈরাচার ও নূর হোসেন
নভেম্বর ১০, ২০২১
আজ ১০ নভেম্বর
নূর হোসেন দিবস
১৯৮৭ সালের এই দিনে নূর হোসেনসহ তিনজনকে হত্যা করে স্বৈরাচার এরশাদ
তখন দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একত্র হয়ে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের লক্ষ্যে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা করে
তাদের একমাত্র দাবি ছিল জামায়াতে ইসলামী প্রস্তাবিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা
অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় একটি মিছিলে নূর হোসেন অংশ নেন এবং প্রতিবাদ হিসেবে বুকে পিঠে সাদা রঙে লিখিয়ে নেন: "স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক"
মিছিলটি ঢাকা জিপিওর সামনে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি আসলে স্বৈরশাসকের মদদপুষ্ট পুলিশবাহিনীর গুলিতে নূর হোসেনসহ মোট তিনজন আন্দোলনকারী নিহত হন
এসময় বহু আন্দোলনকারী আহত হন
নিহত অপর দুই ব্যক্তি হলেন যুবলীগ নেতা নুরুল হূদা বাবুল এবং আমিনুল হূদা টিটু
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বিরোধী দলগুলো ১১ ও ১২ই নভেম্বর সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করে
বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে; ফলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আরো ত্বরান্বিত হয়
এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ও নানা ঘটনা ও উপঘটনার মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বৈরাচার জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করেন
এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়
এরশাদ পদত্যাগ করলে বাংলাদেশে দুটি হ্যাঁ-না ভোটের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী-শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়
১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়
এতে বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি সর্বোচ্চ আসন পান
তবে তিনি সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পাননি
জামায়াতে ইসলামী দেশে একটি শান্তিপূর্ণ সরকার গঠনের লক্ষ্যে কোনো চাহিদা ছাড়াই বিএনপিকে সমর্থন দেয় সরকার গঠনের জন্য
এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম গণতান্ত্রিক নেতা ও মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া নির্বাচিত হন
এরপর সরকারের পক্ষ থেকে নূর হোসেন এর মৃত্যুর দিনটি সরকারিভাবে উদযাপনে উদ্যোগ গৃহীত হয়
দিনটিকে প্রথমে ঐতিহাসিক ১০ই নভেম্বর দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হলেও আওয়ামী লীগ এটিকে শহীদ নূর হোসেন দিবস করার জন্য দাবি জানায় এবং এই নামটি এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে
১৯৯৬ সালে এরশাদ, নূর হোসেনের মৃত্যুর জন্য জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন
তাঁর দল জাতীয় পার্টি এখন ১০ই নভেম্বরকে গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করে
নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর নামে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়েছে
প্রতি বছরের ১০ই নভেম্বর বাংলাদেশে "নূর হোসেন দিবস" হিসেবে পালন করা হয়
এছাড়া তিনি যে স্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন, তাঁর নামানুসারে সেই জিরো পয়েন্টের নামকরণ করা হয়েছে নূর হোসেন চত্বর
১০ই নভেম্বর তাঁর মৃত্যুর কিছু সময় পূর্বে তোলা তাঁর গায়ে লেখাযুক্ত আন্দোলনরত অবস্থার ছবিটি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়
নূর হোসেন বিএনপির কর্মী ছিলেন না
তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন শ্রমিক লীগের কর্মী
দুঃখজনক ব্যাপার হলো গণতন্ত্রের জন্য জীবন দেওয়া আওয়ামী লীগ কর্মী নূর হোসেনের দল ও তার নেতা শেখ হাসিনা গত এক যুগ ধরে বাংলাদেশে স্বৈরাচার হয়ে জগদ্দল পাথর হয়ে চেপে বসেছে
১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর মাত্র তিনজনের মৃত্যু দেশে মারাত্মক আলোড়ন তৈরি করেছে ও এরশাদ স্বৈরাচার হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে
বর্তমানে হাসিনা এত বড় স্বৈরাচার হয়েছে যে ৩০০ জনের মৃত্যুও এখন মামুলি ব্যাপার মনে হয়
শেখ হাসিনার তুলনায় এরশাদ ছিল চুনোপুটি স্বৈরাচার
গত এক যুগে হাসিনা তার গুণ্ডা বাহিনী ও পুলিশ দিয়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ খুন করেছে
গুম করেছে এক হাজারেরও বেশি মানুষকে
দেশের সব রাজনৈতিক অধিকার হরণ করা হয়েছে
এখন আর কেউ ভোট দিতে পারে না
মিছিল ও সমাবেশ করতে হয় পুলিশের অনুমতি নিয়ে একটু আধটু
তারপরও পুলিশ পিটিয়ে আধমরা বানিয়ে রাখে
আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য দলগুলো নিঃসংকোচে তাদের পার্টি অফিস পর্যন্ত খুলতে পারে না
:
৯ নভেম্বর, ২০২১
সীমানাভাঙা বিপ্লবের কবি আল্লামা ইকবাল
নভেম্বর ০৯, ২০২১
আল্লামা ইকবাল যখন জন্ম নিলেন তখন মুসলিম নেতৃত্বের সূর্য অস্তমিত হচ্ছে
তিনি যখন যৌবনে তখন মুসলিম সালতানাত ভেঙে খান খান হচ্ছে
ইউরোপিয়ানদের জাতিবাদী রাষ্ট্র ধারণায় মুসলিমরা বিভ্রান্ত হচ্ছে
মুসলিমরা নিজেদের মুসলিম পরিচয়ের চাইতে পাঞ্জাবি, বাঙালি, আরব, তুর্কি ইত্যাদি পরিচয় দিতে বেশি পছন্দ করা শুরু করলো
মুসলিমরা নিজেদের বিশাল শক্তিকে খন্ড খন্ড করে ফেললো এসব জাতিবাদী সংকীর্ণ পরিচয়ে
নিজেদের মধ্যে দাঁড় করিয়ে দিল জাতিয়তাবাদী সীমানা
আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল সেই মেকী সীমানা ভাঙার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন
তাই তো তিনি গেয়ে উঠেন
চীন-ও-আরব হামারা, হিন্দুস্তাঁ হামারা
মুসলিম হে হাম, ওয়াতান হে সারা জাহাঁ হামারা
তাওহীদ কি আমানত সিনোঁ মে হে হামারে
আসাঁ নেহি মিটানা নাম-ও-নিশাঁ হামারা
তিনি সবসময় মুসলিমদের এক জাতিতে পরিণত করার বিপ্লব করেছেন
তাঁর এই সীমানাভাঙা বিপ্লবের ফসল হলো পাকিস্তান
ভারতের সকল মুসলমানদের জন্য তিনি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চেয়েছেন
তাঁর এই চিন্তাই বর্তমান পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে
তার নাম মুহাম্মদ ইকবাল হলেও তিনি আল্লামা ইকবাল হিসেবেই অধিক পরিচিত
তার ফার্সি সৃজনশীলতার জন্য ইরানেও তিনি ছিলেন সমধিক প্রসিদ্ধ
ইরানের ইসলামী বিপ্লবেও তাঁর সাহিত্য ব্যপক উদ্দীপনা দিয়েছে
তিনি ইরানে ইকবাল-ই-লাহোরী নামে পরিচিত
জন্ম ও শৈশব :
কবি ইকবাল পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শিয়ালকোট নামক স্থানে ১৮৭৭ সালের ৯ নভেম্বর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন
তার পিতার নাম শেখ নুর মোহাম্মদ এবং মাতার নাম ইমাম বিবি
কবির পিতা মাতা উভয়ই অত্যন্ত দ্বীনদার ও পরহেজগার মানুষ ছিলেন
কবির পূর্বপুরুষগণ কাশ্মীরবাসী সাপ্রু গোত্রীয় ব্রাহ্মণ পন্ডিত ছিলেন
ব্রাহ্মণ থেকে তাঁর পূর্বপুরুষ ইসলামের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ইসলামকে ধারণ করেন
তাঁর দাদা শিয়ালকোটে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ষাট বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন
কবির পিতা নূর মোহাম্মদের ইচ্ছা ছিল পুত্রকে মাদরাসায় পড়ানোর
কিন্তু উস্তাদ শামসুল উলামা মীর হাসানের পরামর্শে তাঁকে ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করা হয়
প্রাইমারী শিক্ষা শেষ হলে তাঁকে শিয়ালকোট স্কচ মিশন স্কুলে ভর্তি করা হয়
এ স্কুল হতে তিনি ১৮৯৩ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন
স্কচ স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন তিনি একদিন দেরিতে ক্লাসে আসেন, ক্লাস টিচার তাঁর দেরিতে ক্লাসে আসার কারণ জানতে চাইলে বালক ইকবাল তৎক্ষণাত উত্তর দেন, "ইকবাল (সৌভাগ্য) দেরিতে আসে স্যার
" উত্তর শুনে পন্ডিত শিক্ষক তো 'থ'
তিনি যে শুধু উপস্থিত বুদ্ধিতে দক্ষ ছিলেন তা নয়
ছাত্র হিসেবে তিনি ছিলেন প্রচন্ড মেধাবী
১৮৮৮, ১৮৯১ ও ১৮৯৩ সালে যথাক্রমে প্রাথমিক বৃত্তি, নিম্ন মাধ্যমিক বৃত্তি ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে তিনি স্বর্ণপদক ও মাসিক বৃত্তি লাভ করেন