content stringlengths 0 129k |
|---|
সংকট এখানেই |
নেতৃত্বের পরিবর্তনের পাশাপাশি বামপন্থিদের ভাবনা-চিন্তায়ও ব্যাপক পরিবর্তন দরকার |
পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থিরা পুরো রাজনীতিকে দেখে থাকেন শ্রেণীর জায়গা থেকে |
মালিক-শ্রমিকের দ্বান্দ্বিক নামের একটি বাইনারি জায়গাতে আটকে ছিলেন তারা |
সমাজের প্রতিটি মানুষ শুধু শ্রমিক বা মালিক ক্যাটাগরিতেই থাকে না |
পশ্চিমবঙ্গের সমাজে গোর্খারা আছেন, মতুয়ারা আছেন |
মুসলমান-দলিতরা আছেন |
আদিবাসীও আছেন |
এদের চিন্তা-ভাবনাকে আমলে না নিয়ে শুধু মালিক-শ্রমিকের শ্রেণীর জায়গা থেকে রাজনীতি সাজালে আস্থার সংকট হবে |
সেখানকার রাজনীতিতে যে বহুত্ববাদী দৃশ্য, তা বামফ্রন্ট বুঝতে পারেনি |
বামফ্রন্টের আরেকটি মৌলিক সমস্যা হচ্ছে, তারা মনে করে জনগণের ভুলের কারণে তারা বিজয়ী হতে পারছে না |
তারা মনে করে, এতে তাদের কোনো ভুল নেই, তারা ঠিক আছে |
জনগণ নিজেদের ভুলে তৃণমূলকে ভোট দিচ্ছে |
ভুল বুঝতে পেরে একদিন বামফ্রন্টে ফিরে আসবে |
এটি তাদের বদ্ধমূল ধারণা |
অথচ জনগণ তাদের এই ধারণাকে সচেতনভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে |
বামফ্রন্টের নেতৃত্বকে বুঝতে হবে যে, যা হচ্ছে, তা তাদের ভুল |
জনগণের ভুল নয় |
জাগো নিউজ: একই ভুলের জায়গা থেকে বাংলাদেশের বামদলগুলোরও মূল্যায়ন করা যায় কি-না? |
আলতাফ পারভেজ: না |
আমি তা মনে করি না |
বাংলাদেশের বাম রাজনীতির চেয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাম রাজনীতি অনেক এগিয়ে |
পশ্চিমবঙ্গের বামদের ব্যর্থতা গত দশ বছরের |
পশ্চিমবঙ্গের বামদের সাংগঠনিক-নেতৃত্ব দুর্বল হলেও নির্বাচন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক ছিল |
সিপিএম সাংগঠনিক পরিবর্তন আনলে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করি |
এবারে তারা বেশ কয়েকজন তরুণ প্রার্থী দিয়েছিল |
এটি একটি ইতিবাচক সংকেত বলে মনে করি |
তবে অনেক দেরি করে ফেলেছে |
এই ধারায় তাদের নেতৃত্ব পরিবর্তন জরুরি |
বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তরুণদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে |
সংযোগ ঘটাতে তরুণদেরই নেতৃত্বে আনতে হবে |
জাগো নিউজ: বামফ্রন্ট নিয়ে বিশ্লেষণ করলেন |
কংগ্রেসের রাজনীতি নিয়ে কী বলবেন? |
আলতাফ পারভেজ: পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের রাজনীতির আমি অন্তত কোনো ভবিষ্যৎ দেখি না |
ভারতের অন্য রাজ্যেও তাদের অবস্থান ভালো নয় |
আসামে এবারের নির্বাচনে তাদের ভালো করার খুবই সুবর্ণ সুযোগ ছিল |
জাগো নিউজ: ভালো করতে পারল না কেন? |
আলতাফ পারভেজ: কংগ্রেসের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেয়ার মানুষগুলো একই পরিবারের |
কংগ্রেস পরিবারতন্ত্র থেকে বের হতে পারছে না |
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে পরিবারতন্ত্র আর চলবে না |
কংগ্রেসকর্মী, নেতৃত্বের এটা বোঝার সময় এসেছে |
কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে বামফ্রন্ট এবার আরও খারাপ করেছে |
চতুর্থ স্থানের একটি দলের সঙ্গে সিপিএম যুক্ত হওয়ার কোনো মানে হয় না |
আসাম-বিহারে জোট করে কংগ্রেস তার ঐতিহ্যকে সামনে এনে অধিক আসন দাবি করে |
অথচ, তারা বেশি আসনে জিততে পারে না |
এবারও বামফ্রেন্টের সঙ্গে কংগ্রেসের দরকষাকষি হয়েছে |
কিন্তু কংগ্রেসের আসনগুলোয় ভোট কোথায়? বিহারেও তারা অনেক আসন নিয়ে হেরে গেছে |
নির্বাচনী প্রচারণাই চালায়নি |
জাগো নিউজ: সিপিএম-কংগ্রেস জোটে ফুরফুরা দরবার শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর দল আইএসএফ যুক্ত হয়ে ব্যাপক আলোচনায় এলো |
ফলাফল ভালো হয়নি |
আপনার মূল্যায়ন কী? |
আলতাফ পারভেজ: যে ভাবনা থেকে আব্বাস সিদ্দিকী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এসেছেন, তার সম্ভাবনা কিন্তু এবারের রাজনীতি দিয়ে মূল্যায়ন করলে হবে না |
তার ভোট ব্যাংক মুসলিমদের |
কিন্তু সম্প্রদায়গত বিশেষ বিবেচনায় মমতা ব্যানার্জিকে তারা ভোট দিয়েছেন |
মানে গণভোটের হিসাবে মুসলমানরা একটি পক্ষকে বেছে নিয়েছেন |
তার মানে এই নয় যে, তারা আব্বাস সিদ্দিকীকে প্রত্যাখ্যান করেছেন |
এবারের ফল কী, তা দিয়ে যদি আব্বাস সিদ্দিকীকে বিচার করেন, তাহলে ভুল হবে |
আব্বাস সিদ্দিকী নিজেও এমন বিচার করলে ভুল করবেন |
আব্বাস সিদ্দিকী যে বক্তব্য নিয়ে রাজনীতিতে এসেছেন, যদি তিনি দীর্ঘমেয়াদে পথ হাঁটতে রাজি থাকেন, তাহলে অবশ্যই ভালো করবেন |
জাগো নিউজ: এমন ভরসা কেন পাচ্ছেন? |
আলতাফ পারভেজ: তৃণমূল এবার দুশ' আসনের বেশি পেয়েছে |
তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু প্রথম পাঁচ বছর রাজনীতিতে ভালো করেনি |
কিন্তু মমতার লড়াকু মনোভাব ছিল |
ধৈর্য ধরে রাজনীতি করেছেন |
আব্বাস সিদ্দিকীকেও এভাবে লেগে থাকতে হবে |
এবার ভালো করেননি বলেই হাল ছেড়ে দিলে হবে না |
আব্বাস সিদ্দিকীর প্রতিপক্ষও যদি তাকে সাময়িক বিবেচনায় মূল্যায়ন করে, তাহলে ভুল হবে |
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জিতে টানা তৃতীয়বারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি |
জাগো নিউজ: মমতা লড়ছেন ধর্মীয় সংগঠন বিজেপির সঙ্গে |
এনআরসি, কাশ্মীর, বাবরি মসজিদ ইস্যু সামনে এনে মমতা ব্যানার্জি ধর্মনিরপেক্ষতার পরিচয় ধারণ করতে চাইছেন |
কিন্তু আব্বাস সিদ্দিকী ধর্মের ওপর ভর করেই রাজনীতি করছেন... |
আলতাফ পারভেজ: এখানে আপনার একটি কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছি |
মমতা সবসময় বিজেপির বিরোধিতা করে রাজনীতি করেননি |
বলতে পারেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থানের পেছনে মমতার ভূমিকা আছে |
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির নতুন সমীকরণের কারণে বিজেপিবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন তিনি |
এটি মমতার বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত |
আমি আগেই বলেছি, মমতা রাজনীতিকে গণিতবিদ্যা আকারে দেখেন |
তিনি ক্ষমতার রাজনীতি করেন এবং তার জন্য এটিই উপযুক্ত |
মমতা ভবিষ্যতেও বিজেপিবিরোধী অবস্থানে থাকবেন, তাতে আমার সন্দেহ আছে |
মমতার রাজনীতির ধরন থেকে বলতে হয়, যে কোনো সময় তার রাজনীতির সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে |
তিনি নির্বাচনে জেতার জন্য রণকৌশল ঠিক করেন তাৎক্ষণিকভাবে |
আব্বাস সিদ্দিকী আদর্শের কথা বলে রাজনীতিতে এসেছেন |
তিনি নিজে মুসলমান |
কিন্তু সেক্যুলার রাজনীতি গুরুত্ব দিচ্ছেন |
তার রাজনীতিতে দলিতরা মনোনয়ন পাচ্ছে |
সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিয়ে মাঠে নামেননি |
প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি লম্বা পথ পাড়ি দিতে রাজি কি-না |
পশ্চিমবঙ্গে এমন রাজনীতির সম্ভাবনা আছে |
সুযোগ আছে |
গোটা ভারতবর্ষেই সুযোগ আছে |
ভারতে যে বহুত্ববাদী রাজনীতির কথা হয়, তা মূলত এটিই |
একটি ভোটের মধ্য দিয়েই কারও রাজনীতি শেষ হয়ে যায় না |
কংগ্রেস ও বামদের সঙ্গে মিলে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর দল আইএসএফের গঠিত সংযুক্ত মোর্চার ব্রিগেড সমাবেশ |
যদিও নির্বাচনে এই জোটের ভরাডুবি হয়েছে |
জাগো নিউজ: নাগরিকত্ব বিল নিয়ে হিংসার রাজনীতি করছে বিজেপি |
মমতা কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এই বিলের বিরুদ্ধে |
এখন কী ঘটতে পারে? |
আলতাফ পারভেজ: এনআরসির বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে যাবে সেখানে |
পশ্চিমবঙ্গে এনআরসি নিয়ে যে ইস্যু, আসামেও একই ইস্যু |
আসামে বিজেপি জিতলেও এনআরসি করা কঠিন হয়ে পড়বে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.