content
stringlengths
0
129k
বলি জননেন্দ্রিয়, লিঙ্গ
'ষোলতালা' হল মোলটি আধার
যে আধারে লয়যোগ সাধন হয়
একে যোগী যাজ্ঞবল্ক বলেছেন 'ষোড়শাধারং'
'পাদাঙ্গুষ্ঠী চ গুলফৌ চ / পায়ুমূলং তথা পশ্চাৎ দেহমধ্যঞ্চ মেট্ৰকং
/ নাভিশ্চ হৃদয়ং গার্গি কণ্ঠকূপস্তথৈব চ
/ তালুমূলঞ্চ নাসায়া মূলং চাক্ষুশ্চ মণ্ডলে
/ ভ্ৰবোৰ্মধ্যং ললাটঞ্চ মূর্ধা চ মুনিপুঙ্গবে
' অর্থাৎ ডান পায়ের আঙুল (দক্ষিণ পদাঙ্গুষ্ঠ), গোড়ালি (পাদগুল), গোপনীয় বা অপ্রকাশ্য অংশ (গুহ্যদেশ), পুংজননেন্দ্রিয় বা শিশ্ন (লিঙ্গমূল), নাভির গর্ত বা কুণ্ড (নাভিমণ্ডল), মন (হৃদয়), কণ্ঠনালীর নিচস্থ গর্ত (কণ্ঠকূপ), জিভের অগ্রভাগ (জিহ্বাগ্র), দন্তপংক্তি বা দাঁতের পাটি (দন্তাধার), টাকরা (তালুমূল), নাক বা নাকের ফুটো (নাস...
এই ষোলটি স্থানের ক্রিয়াবিশেষ অনুষ্ঠানে লয়যোগ হয়, লয়যোগ হল আমাদের মনকে যে কোনো পদার্থের উপর একত্র করে একতানে বেঁধে ফেলা
'দ্বাদশ বাতি' হল শরীরের
মধ্যে অবস্থিত অনাহতচক্র
এর বারোটি পাপড়ি থাকে
এই দ্বাদশ দল হল-ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, ট, ঠ
এগুলো সবই মাতৃকাবর্ণাত্মক
মায়ের ভাষা
মাতৃকা হল শক্তিস্বরূপিণী
সেই আধারেও রাখতে পারি এই বারোটি পাপড়িকে
এর রঙ সিঁদুর বর্ণের
এর প্রত্যেক দলে একেকটি বৃত্তি রয়েছে আমাদের
এগুলো হল-আশা, চিন্তা, চেষ্টা, মমতা, দম্ভ, বিকলতা, বিবেক, অহংকার, লোলতা, কপটতা, বিতর্ক ও অনুতাপ
এই অনাহত চক্রে বা পদ্মের মধ্যে অরুণবর্ণের সূর্যমণ্ডল ও ধূম্রবর্ণের বায়ুমণ্ডল আছে
এই পদ্মে সাধক ধ্যানে বসলে অণিমাদি লাভ করেন
অনিমিত্ত ঘটনারাশি তাঁর চোখের সামনে ভাসে
তাহলে আমরা বুঝতে পারছি এ গানে পদকর্তা নারীদেহের ভেতরকার সৌন্দর্যের জাগৃতি দিয়েছেন
তবে যেটা মনে হয় 'ঘর'কে কানাই বাউল নারী দ্যোতকের রূপ দিলেও ভঙ্গির প্রতিচ্ছায়াতে এ গানের বর্ণিত 'ঘর' যুগল দেহের
যুগল সাধনার ব্রহ্মাণ্ড
খ্যাপা বলেছেন 'সপ্ত তালায়, সপ্ত সিন্ধু'-'সপ্ততালার কথা আমরা এর আগেও খ্যাপার গান প্রসঙ্গে বলেছি
তবু প্রসঙ্গত এখানে আবারও বলি
আমাদের শরীরের বীর্য, রক্ত, মজ্জা, মেদ, মাংস, হাড়, চামড়া-এই সাতটি পদার্থকে 'সপ্ততালা' হিসাবে চিহ্নিত করেছেন সাধক
তারপরই বলেছেন 'ষড়দলে দীনবন্ধু'-'ষড়দল' হল ষড়রিপু
সেখানে 'দীনবন্ধু' রয়েছেন কীভাবে? যদি ভাবি 'দীনবন্ধু' সাধকেরই দীনতা খুব কি ভুল ভাবব আমরা? সেই দীনতা 'ষড়দল'এ আটকে যাচ্ছে
'ষড়রিপু'কে পরিণামী মেজাজ দিতে চাইছেন তিনি
যার জন্যই 'শতদলে প্রাণ গোবিন্দ'কে দেখতে পারছেন তিনি
'প্রাণগোবিন্দ' হল সাধকের অপরিমেয়তা
তাঁরই দিব্যবানী শোনাতে চাইছেন তিনি পরবর্তী দু'লাইনে
'শতদল' হল গিয়ে শরীরের গুরুচক্র
অষ্টম পদ্ম এটি
এই পদ্মের কর্ণিকাতে (বীজকোষে) ত্রিকোণমণ্ডল আছে
ত্রিকোণমণ্ডল তিনটি বর্ণ দ্বারা গঠিত
এই বর্ণগুলো হল-হল, ক্ষ
এই তিনটি শক্তিদ্যোতক
নটি চক্রেরই বিকাশ তো শক্তির অভিক্ষেপের জন্যই
যার জন্য একে শক্তিমণ্ডল বলে
অনেকে যোনিপীঠও বলে
যা প্রকৃতি দ্যোতক
নারীর জননাঙ্গ সৃষ্টির সন্নিবেশকেই প্রতীকী করে রাখে
সাধক বলেন তেজময় এই শক্তির মধ্যে কামকলা মূর্তি থাকে
সেই মূর্তিকেই তিনি দিব্য প্রেমের ইঙ্গিত দেন
গুরুপদ্ম বা চক্র শতদল পদ্মকে কেন বলা হচ্ছে? বলা হচ্ছে এই কারণেই, এই পদ্মেই
সাধক গুরুদেবের ধ্যানজপ করেন
এই ধ্যানে সাধক মনে করেন সর্বসিদ্ধি লাভ হয়
দিব্যজ্ঞান স্ফুটমান হয়
এই দিব্যতা লাভ করার উদ্দেশ্যেই সাধক 'দ্বিদলে রূপ সাধনা' করেন
দ্বিদল হল আজ্ঞাপদ্ম
দুটো দলের বর্ণ হ এবং ক্ষ
এই পদ্মের বীজকোষে যে ত্রিকোণমণ্ডল আছে তাতে তিনটি গুণ বর্তমান-সত্ত্ব, রজ, তম
সাধক বলেন ত্রিগুণান্বিত ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর
এই জন্যই খ্যাপা গানকে সেই দ্বিদ্বলের দ্যোতনা দিয়েছেন
তাঁকে একটু আগে আমরা 'দিব্যবাণী' হিসাবে চিহ্নিত করে নিয়েছি
এই দিব্যবাণী হল-'এক ধারায় নয় তিন ধারানন, তিনগুণে তার তিন সাধনা/ ওই নব রসে রসিক বসে, স্বরূপ নিয়ে করে রূপ ঘোষণা
' 'নবরস' নটা চক্রেরই দ্যোতক
বাউল একে 'নববিধা ভক্তি' বলেন
নববিধা ভক্তি হল অলংকার শাস্ত্রের নয়টি রস-শৃঙ্গার, হাস্য, বরুণ, রৌদ্র, বীর, ভয়ানক, বীভৎস, অদ্ভুত ও শান্ত
কানাই বাউল আমাকে বলেছিলেন, নবরসে শরীরের নটি দ্বার খোলে গো
এই নটি দ্বার-শরীরের নটি ছিদ্র
দুই চোখ, দুটি কান, দুই নাক, মুখ, যোনি লিঙ্গ
তা যদি খোলে 'ঘর' কে কানাই বাউল কথিত 'নারীদেহ' হিসাবে কীভাবে মেনে নেব? যার জন্যই তাঁকে যুগল দেহের প্রেম সাধনার (কাম সাধনার? !) দীর্ঘসূত্রতা দিয়েছিলাম
তা কিন্তু গানের শেষ লাইনে একেবারেই স্পষ্ট-কৈরা কিশোরী রূপে, খ্যাপা করেরে রূপের সাধনা
.....কাঁচা হাড়িতে রাখিতে নারিলি প্রেমজল (গো)
কাঁচাহাঁড়ি জলে দিলে তখনি যাইবে গলে
শেষে লাগবে গণ্ডগোল (গো)
রাখিতে নারিলি প্রেমজল
যদি হবি পাকা হাঁড়ি
চলে যাবি গুরুর বাড়ি,
প্রেমানলে দগ্ধ হবি
রূপে করবে টলমল গো
রাখিতে নারিলি প্রেমজল (গো)
সদানন্দ ভেবে আউল
এই কথা যে বুঝেছে সেইত বাউল,
ধান কুটিলে হবে চাউল
(ক্ষ্যাপা) তুষ কুটিলে কিবা ফল
রাখিতে নারিলি প্রেমজল (গো)
এই গানে কথিত 'কাঁচা হাঁড়ি' হল আমাদেরই স্থূল দেহ
এই স্থূল দেহকে প্রবর্ত স্তরে নিয়ে যেতে হলেই গুরুর কাছে যেতে হয়
গুরু শিক্ষা দেন স্থূল স্তর থেকেই
স্থূলকে মোটা হিসাবে না দেখে অতীক্ষ্ণ বুদ্ধি বা অসূক্ষ্ম ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার নামান্তর ধরলেই বোধহয়
গুরু এই অতীক্ষ্ণ বুদ্ধি বা অসূক্ষ্ম ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতাকেই প্রবর্তস্তরে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন
তাঁর জন্যই গানে গুরুর বাড়ি যেতে বলা হচ্ছে
'প্রেমজল' নারীর বা সাধন সঙ্গিনীর রজঃস্রাব
সহজিয়া বলছেন 'কাঁচাহাঁড়ি জলে দিলে তখনি যাইবে গলে/ শেষে লাগবে গণ্ডগোল (গো)
' এই 'জল' পুরুষ দ্যোতক বা পুরুষের কিংবা সাধকের বীর্যপাত
স্থূল দেহেই যদি বাউল সঙ্গিনীর সঙ্গে মিলিত হয়ে পরেন তাহলে তিনি বীর্যকে চূড়ান্ত মিলনের সময় উর্ধগতিতে উঠিয়ে নিতে পারবেন না
বীর্য 'প্রেমজল' এ মিশে যাবে
পথভ্রষ্ট হবেন সাধক
যাকে 'গণ্ডগোল' হিসাবে চিহ্নিত করেছেন সাধক খ্যাপা
তাঁর জন্যই গুরুর কাছে যাওয়া
.....কৃষ্ণকে সাধক শরীর আমরা ধরেছি আগেই
গোপীরা সব নাড়ি
কৃষ্ণ শরীরস্থ আত্মা বা অনুভব