content stringlengths 0 129k |
|---|
হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর পরীক্ষার সময় এলে একটি শয়তান জীন তার রূপ ধরে তাঁর স্ত্রীর নিকট আসে এবং আংটি চায় |
তা তাকে দিয়ে দেয়া হয় |
সে তা পরে হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর সিংহাসনে বসে যায় |
সমস্ত জীন, মানব ও শয়তান তার খিদমতে হাজির হয় |
সে শাসন কাৰ্য চালাতে থাকে |
এদিকে হযরত সুলাইমান (আঃ) ফিরে এসে তাঁর স্ত্রীর নিকট আংটি চান |
তাঁর স্ত্রী বলেনঃ "তুমি মিথ্যাবাদী |
তুমি সুলাইমান (আঃ) নও |
সুলাইমান (আঃ) তো আংটিটি নিয়েই গেছেন |
হযরত সুলাইমান (আঃ) বুঝে নেন যে, এটা হচ্ছে মহান আল্লাহর পক্ষ হতে তার উপর পরীক্ষা |
এ সময়ে শয়তানরা যাদু বিদ্যা, জ্যোতিষ বিদ্যা এবং ভবিষ্যতের সত্য-মিথ্যা খবরের কতকগুলো কিতাব লিখে এবং ওগুলো হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর সিংহাসনের নীচে পুঁতে রাখে |
হযরত সুলাইমান (আঃ) |
এর পরীক্ষার যুগ শেষ হলে পুনরায় তিনি সিংহাসন ও রাজপাটের মালিক হয়ে যান |
স্বাভাবিক বয়সে পৌঁছে যখন তিনি রাজত্ব হতে অবসর গ্রহণ করেন, তখন শয়তানরা জনগণকে বলতে শুরু করে যে, হযরত সুলাইমানের (আঃ) ধনাগার এবং ঐ পুস্তক যার ক্ষমতাবলে তিনি বাতাস ও জীনদের উপর শাসনকার্য চালাতেন তা তাঁর সিংহাসনের নীচে পোঁতা রয়েছে |
জীনেরা ঐ সিংহাসনের নিকটে যেতে পারতো না বলে মানুষেরা ওটা খুঁড়ে ঐ সব পুস্তক বের করে |
সুতরাং বাইরে এর আলোচনা হতে থাকে এবং প্রত্যেকেই এ কথা বলে যে, হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর রাজত্বের রহস্য এটাই ছিল |
এমনকি জনগণ হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর নবুওয়াতকেও অস্বীকার করে বসে এবং তাকে যাদুকর বলতে থাকে |
আল্লাহ তায়ালা সেসময় হারূত ও মারূতকে বনী ইসরাঈলের নিকট পাঠান |
তারা যাতে যাদু ও মু'জিজার মধ্যে পার্থক্য বুঝাতে পারে |
এটাও জানানোর জন্য যে, যাদু শুধুমাত্র একটা কৌশল এবং যে কেউ তা আয়ত্ব করতে পারে |
সংক্ষিপ্ত করলে জানা যায় হারূত মারূতের পাঠানোর উদ্দেশ্য হলো |
১- "সুলাইমান আঃ একজন বড় যাদুকর ছিলেন" শয়তানদের এমন মিথ্যা দাবী খন্ডন করার জন্য |
২- মু'জিজা ও জাদুর মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে মু'জিজা ও জাদু উভয়ের বৈশিষ্ট্য জানা জরুরী |
কিন্তু, মানুষের কাছে জাদুর বৈশিষ্ট্য অজানা ছিল |
তাই, তাদেরকে জাদুর বৈশিষ্ট্য শেখানোর জন্য প্রেরণ করা হয়েছে |
৩- মানুষকে আল্লাহমুখী ও তাওহীদপন্থী করার জন্য পাঠানো হয়েছে |
কিন্তু যারা শয়তান তারা শিক্ষা গ্রহণ করে না |
তারা কোন ভালো উপদেশবানীকেও খারাপ কাজে ব্যবহার করে |
এই ধরণের মানুষ সেসময় যেমন ছিল এখনও আছে |
আজও বহু মানুষ কুরআন দিয়ে এসব অনাচার করে অথচ কুরআন নাজিল হয়েছে এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য |
যুহরা ও ফেরেশতাদ্বয়ের কাহিনীর অসারতা |
১- কুরআনে বর্ণিত ঘটনার সাথে মিল নেই |
এই ধরণের ঘটানার কোন ইঙ্গিতও নেই |
২- আল্লাহর রাসূল সঃ এই যুহরার সম্পর্কে কোন কথা বলেছেন এমন সহীহ রেওয়ায়েত নেই |
৩- এই ঘটনাকে বিখ্যাত তাফসীরকারকগণ মুনকার বলে উল্লেখ করেছেন |
৪- ফেরেশতাগণ সমস্ত প্রকার গুণাহ থেকে পবিত্র |
ফেরেশতারা কখনোই আল্লাহর অবাধ্য হন না |
হতে পারেন না |
(দ্রঃ সূরা তাহরিম-৬ এবং সূরা আম্বিয়া-১৯,২০) |
৫- গল্পটিতে বলা আছে, "দুনিয়া এবং আখিরাতের শাস্তির মধ্যে একটি বেছে নিতে" এটাও গ্রহনযোগ্য নয় |
কারণ আল্লাহ তায়ালা বেছে নিতে বললে বলার কথা তাওবা এবং শাস্তি |
আর দুনিয়া তো বিচারের জায়গা নয়, পরীক্ষার জায়গা |
বিচার হবে আখিরাতে |
এই প্রসঙ্গে রাসায়েল মাসায়েলে মাওলানা মওদুদী বলেছেন, |
এ গল্পটি কিছু পুস্তকে লেখা থাকলেও সরাসরি রসূল সা.-এর মুখ থেকে কেউ শুনেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় না |
হাফিয ইবনে কাসীর, অধ্যাপক আহমদ মুহাম্মদ শাকের, সাইয়েদ রশীদ রেজা এবং অন্যান্য বিজ্ঞজন এর বিস্তারিত সমালোচনা করেছেন |
আসলে এ কিসাসটি প্রধানত কা'ব আহবার থেকে বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যমে অনেক ইহুদি কল্পকাহিনী আমাদের ইতিহাস ও তাফসীরের গ্রন্থাবলীতে ঢুকে গেছে |
অথচ এ সবের আদৌ কোনো ভিত্তি নেই |
এ কিসসা তাওরাত বা অন্যান্য লিখিত ইহুদি সাহিত্যেও নেই |
পবিত্র কুরআন থেকে এ কথা অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে, ফেরেশতারা আল্লাহর কোনো হুকুম লংঘন করতে পারেননা |
একথা সত্য যে, আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে এমন কাজের নির্দেশ দিতে পারেন, যা মানুষের জন্য শাস্তি বা পরীক্ষার রূপ ধারণ করে |
কিন্তু তারা আল্লাহর কোনো আদেশের বিরুদ্ধাচরণ বা নৈতিক দিক দিয়ে কোনো অশালীন কাজ করতে পারেন- এটা অকল্পনীয় কেননা তারা প্রকৃতিগত ভাবেই নিষ্পাপ এবং যৌন আবেদন থেকে মুক্ত |
তাদের মধ্যে সন্তান প্রজনন বা বংশ বিস্তারের ধারাও চালু নেই |
তবু ধরে নেয়া হয় যে, খোদা না করুন, তাদের কারো দ্বারা এমন গুরুতর নাফরমানী হতো এবং সে জন্য এমন কঠিন সাজা দেয়া হতো, তহলে কুরআনে তার উল্লেখও থাকতো |
হাদীসের নামে জালিয়াতী গ্রন্থে ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর বলেন, |
এ বিষয়ক অনেক গল্প কাহিনী হাদীস নামে বা তাফসীর নামে তাফসীরের গ্রন্থগুলিতে বা সমাজে প্রচলিত |
কাহিনীটির সারসংক্ষেপ হলো, মানবজাতির পাপের কারণে ফিরিশতাগণ আল্লাহকে বলেন, মানুষের এত অপরাধ আপনি ক্ষমা করেন কেন বা শাস্তি প্রদান করেননা কেন? আল্লাহ তাদেরকে বলেন, তোমরাও মানুষের প্রকৃতি পেলে এমন পাপ কাজ করতে |
তারা বলেন, কক্ষনো না |
তখন তারা পরীক্ষার জন্য হারূত ও মারূত নামক দুইজন ফিরিশতাকে নির্বাচিত করেন |
তাদেরকে মানবীয় প্রকৃতি প্রদান করে পৃথিবীতে প্রেরণ করা হয় |
তারা যোহরা নামক এক পরমা সুন্দরী নারীর প্রেমে পড়ে মদপান, ব্যভিচার ও নরহত্যার পাপে জড়িত হন |
পক্ষান্তরে যোহরা তাদের নিকট মন্ত্র শিখে আকাশে উড়ে যায় |
তখন তাকে একটি তারকায় রূপান্তরিত করা হয় |
এই গল্পগুলি মূলত ইহুদীদের মধ্যে প্রচলিত কাহিনীমালা |
তবে কোনো কোনো তাফসীর গ্রন্থে এগুলি হাদীস হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে |
এ বিষয়ক সকল হাদীসই অত্যন্ত দুর্বল ও জাল সনদে বর্ণিত হয়েছে |
কোনো কোনো মুহাদ্দিস বিভিন্ন সনদের কারণে কয়েকটি বর্ণনাকে গ্রহণযোগ্য বলে মত প্রকাশ করেছেন |
অনেক মুহাদ্দিস সবগুলিই জাল ও বানোয়াট বলে মত দিয়েছেন |
আল্লামা কুরতুবী ও অন্যান্য মুহাদ্দিস ও মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, এ সকল গল্প ফিরিশতাগণ সম্পর্কে ইসলামী বিশ্বাসের বিপরীত |
ইহুদী, খৃস্টান ও অন্যান্য অনেক ধর্মে ফিরিশতাগণকে মানবীয় প্রকৃতির বলে কল্পনা করা হয় |
তাদের নিজস্ব ইচ্ছাশক্তি ও সিদ্ধান্তশক্তি আছে বলেও বিশ্বাস করা হয় |
ইসলামী বিশ্বাসে ফিরিশতাগণ সকল প্রকার মানবীয় প্রবৃত্তি, নিজস্ব চিন্তা বা আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদের প্রবৃত্তি থেকে পবিত্র |
তাঁরা মহান আল্লাহকে কিছু জানার জন্য প্রশ্ন করতে পারেন |
কিন্তু তাঁরা আল্লাহর কোনো কর্ম বা কথাকে চ্যালেঞ্জ করবেন এরূপ কোনো প্রকারের প্রকৃতি তাদের মধ্যে নেই |
কাজেই এ সকল কাহিনী ইসলামী আকীদার বিরোধী |
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সঠিক জ্ঞান দান করুন |
আল্লাহর নাফরমানী এবং রাসূল সঃ এর নামে বানোয়াট কথা বলা ও ছড়ানো থেকে রক্ষা করুন |
সহায়ক গ্রন্থ |
১- তাফসীরে ইবনে কাসীর |
২- তাফহীমুল কুরআন |
৩- রাসায়েল মাসায়েল ৬ষ্ঠ খন্ড |
৪- হাদীসের নামে জালিয়াতী |
: |
নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ হোম |
ফেসবুক পাতা |
টুইটারে সাথে থাকুন |
@_ |
কালো পঁচিশ কি আসলেই কালো? |
২৫ মার্চের আলোচনায় যাওয়ার আগে একটা ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি |
আপনারা জানেন চট্টগ্রামে ছাত্রশিবির এবং জামায়াতের ব্যপক প্রভাব |
চট্টগ্রামের আ. ল... |
১৪ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী কারা? |
১৯৭১ সালে নিহতদের মধ্যে যারা বুদ্ধিজীবী হিসেবে চিহ্নিত এরকম আছেন প্রায় ৩৬ জন |
এদের মধ্যে আঠার জন ১৪ই ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেছেন |
৭ নভেম্বর কী হয়েছিল? কারা ঘটিয়েছিল? কেন ঘটিয়েছিল? |
খালেদ মোশাররফ, কর্নেল তাহের, জিয়াউর রহমান ২ থেকে ৭ নভেম্বর |
বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কুয়াশাচ্ছন এবং ঘোলাটে অধ্যায় |
অনেকে এটাকে বলেন... |
সীমানাভাঙা বিপ্লবের কবি আল্লামা ইকবাল |
আল্লামা ইকবাল যখন জন্ম নিলেন তখন মুসলিম নেতৃত্বের সূর্য অস্তমিত হচ্ছে |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.