content
stringlengths
0
129k
ইসরায়েলের ইসলামিক মুভমেন্ট এবং ওয়াকফ আল-আকসা ইন্তিফাদার পর থেকে হারাম আল শরিফে মুসলিম নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা চালিয়েছে
মুহাম্মদ আহমেদ হুসাইন প্রধান ইমাম এবং আল-আকসা মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক
ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আব্বাস ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে তাকে জেরুজালেমের গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিয়োগ দেন
ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি দ্বন্দ্ব্বের ক্ষেত্রে আল-আকসা মসজিদের অধিকার একটি ইস্যু
মসজিদসহ পুরো হারাম আল শরিফের উপর ইসরায়েল তার সার্বভৌমত্ব দাবি করে কিন্তু ফিলিস্তিনিদের দাবি এর অভিভাবকত্ব ইসলামি ওয়াকফের
২০০০ ক্যাম্প ডেভিড সম্মেলনে আলোচনায় ফিলিস্তিনিরা মসজিদ এবং পূর্ব জেরুজালেমের অন্যান্য ইসলামি স্থানগুলোর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করে
মুসলিমরা এখনও নামাজ পড়তে পারলেও প্রায়ই এই নিয়ে সংঘর্ষ হয়
এই লিখাটি এমনই এক পরিস্থিতিতে লিখা
গতকাল নামাজ পড়তে গিয়ে তিনজন মুসলিম শাহদাত বরণ করে আহত হয় শতাধিক
সহায়ক তথ্যসূত্র
১- আল কুরআন
২- বাংলা হাদীস
৩- জেরুজালেমের ইতিহাস বিশ্বেরই ইতিহাস - সাইমন সেবাগ মন্টেফিওরি
৪- আল আকসা মসজিদের ইতিকথা, সিরাজুল ইসলাম
৫- আল-আকসা মসজিদ বিভক্ত করতে নেসেটে নতুন বিল : আরব সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদ, দৈনিক সংগ্রাম"
দৈনিক সংগ্রাম
সংগৃহীত ২০১৬-১২-২২
৬- আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক ফিলিস্তিনি অ্যাকাডেমিক সোসাইটি , 2000
:
১২ জুলাই, ২০১৭
ইসলামিক প্রবন্ধ, ঘটনাবহুল কুরআন
বাবিলের হারূত ও মারূতের কাহিনী
জুলাই ১২, ২০১৭ 5
ইরাকের বাবিল/ব্যাবিলন শহরে আল্লাহ তায়ালা দুইজন ফেরেশতাকে পাঠিয়েছেন যাদু শেখাতে
যাতে করে মানুষ মু'জিজা ও যাদুর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে
এই ব্যাপারটা সূরা বাকারার ১০২ নং আয়াতে বর্ণিত আছে
এই দুইজন ফেরেশতার নাম হারূত আর মারূত
এই দুইজন নিয়ে আরো চমকপ্রদ ঘটনা আছে যা আমরা অনেকেই শুনেছি
হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ "যখন আল্লাহ তা'আলা হযরত আদম (আঃ)কে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন এবং তাঁর সন্তানেরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, অতঃপর তারা আল্লাহর নাফরমানী করতে থাকে, তখন ফেরেশতাগণ পরষ্পর বলাবলি করেন- "দেখ এরা কত দুষ্ট প্রকৃতির লোক এবং এরা কতই না অবাধ্য! আমরা এদের স্থলে থাকলে কখনও আল্লাহর অবাধ্য হতাম না
তখন আল্লাহ তা'আলা
তাদেরকে বলেনঃ "তোমরা তোমাদের মধ্য হতে দু'জন ফেরেশতাকে নিয়ে এসো; আমি তাদের মধ্যে মানবীয় প্রবৃত্তি সৃষ্টি করে তাদেরকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিচ্ছি
তার পরে দেখা যাক তারা কি করে
' তারা তখন হারূত ও মারতকে হাজির করেন
আল্লাহ তা'আলা তাদের মধ্যে মানবীয় প্রবৃত্তি সৃষ্টি করে তাদেরকে বলেনঃ "দেখ, বানী আদমের নিকট তো আমি নবীদের মাধ্যমে আমার আহ্কাম পৌঁছিয়ে থাকি; কিন্তু তোমাদেরকে মাধ্যম ছাড়াই স্বয়ং আমি বলে দিচ্ছি, আমার সাথে কাউকেও শরীক করবে না, ব্যভিচার করবে না, মদপান করবে না
তখন তারা দু'জন পৃথিবীতে অবতরণ করে
তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্যে আল্লাহ তা'আলা যুহরাকে একটি সুন্দরী নারীর আকারে তাদের নিকট পাঠিয়ে দেন
তারা তাকে দেখেই বিমোহিত হয়ে পড়ে এবং তার সাথে ব্যভিচার করার ইচ্ছা প্রকাশ করে
সে বলেঃ "তোমারা শিরক করলে আমি সম্মত আছি
' তারা উত্তর দেয়ঃ "এটা আমাদের দ্বারা হবে না
" সে চলে যায়
আবার সে এসে বলেঃ তোমরা যদি এই শিশুটিকে হত্যা কর তবে আমি তোমাদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে সম্মত হবো
" তারা ওটাও প্রত্যাখ্যান করে
সে আবার আসে এবং বলেঃ "আচ্ছা, এই মদ পান করে নাও
তারা ওটাকে ছোট পাপ মনে করে তাতে সম্মত হয়ে যায়
এখন তারা নেশায় উন্মত্ত হয়ে ব্যভিচারও করে বসে এবং শিশুটিকে হত্যা করে ফেলে
তাদের চৈতন্য ফিরে আসলে ঐ স্ত্রীলোক তাদেরকে বলেঃ যে যে কাজ করতে তোমরা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছিলে তা সবই করে ফেলেছাে
" তারা তখন লজ্জিত হয়ে যায়
তাদেরকে দুনিয়ার শাস্তি বা আখেরাতের শাস্তির যে কোন একটি গ্রহণ করার অধিকার দেয়া হয়
তারা দুনিয়ার শাস্তি পছন্দ করে
সহীহ ইবনে হিব্বান, মুসনাদ-ই-আহমাদ, তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই এবং তাফসীর-ই-ইবনে জারীরের মধ্যে এ হাদীসটি বিভিন্ন শব্দে বর্ণিত আছে
মুসনাদ-ই-আহমাদের এ বর্ণনাটি গরীব
ওর মধ্যে একজন বর্ণনাকারী মুসা বিন যুবাইর আনসারী রয়েছে
ইবনে আবি হাতিমের (রঃ) মতে সে নির্ভরযোগ্য নয়
যুহরা ফেরেশতাদের সাথে শর্ত করে বলেছিলঃ "তোমরা আমাকে ঐ দো'আটি শিখিয়ে দাও যা পড়ে তোমরা আকাশে উঠে থাকো
তারা তাকে তা শিখিয়ে দেয়
সে এটা পড়ে আকাশে উঠে যায় এবং তথায় তাকে তারকায় রূপান্তরিত করা হয়
কতকগুলো মারফু' বর্ণনায় এটা আছে
অন্য একটি বর্ণনায় আছে যে, এ ঘটনার পূর্বে তো ফেরেশতাগণ শুধুমাত্র মুমিনদের জন্যই ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, কিন্তু এর পর তারা সারা দুনিয়াবাসীর জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে আরম্ভ করেন
কোন কোন বর্ণনায় আছে যে, যখন এই ফেরেশতাদ্বয় হতে এ অবাধ্যতা প্রকাশ পায় তখন অন্যান্য ফেরেশতাগণ স্বীকার করেন যে, বানী আদম আল্লাহ পাক হতে দূরে রয়েছে এবং তাঁকে না দেখেই ঈমান এনেছে, সুতরাং তাদের ভুল হওয়া অস্বাভাবিক নয়
ঐ ফেরেশতাদ্বয়কে বলা হয়ঃ "তোমরা দুনিয়ার শাস্তি গ্রহণ করে নাও, অথবা পরকালের শাস্তির জন্যে প্রস্তুত হয়ে যাও
' তারা দু'জন পরামর্শ করে দুনিয়ার শাস্তিই গ্রহণ করে
কেননা, এটা অস্থায়ী এবং পরকালের শাস্তি চিরস্থায়ী
সুতরাং বাবিলে /ব্যবিলনে তাদেরকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে
ইবনে কাসীর তার তাফসীরে এই ঘটনাটি উল্লেখ করে বলেছেন ওটা মুনকার ও বে-ঠিক
এটা ইসরাঈলীয়াত হতে পারে
তবে আল্লাহই ভালো জানেন
আল্লাহর রাসূলের সঃ সময় সাহাবীরা আহলে কিতাবদের কাছ থেকে নানান ঘটনা শুনতো
নবী সঃ এর নবুয়্যত প্রাপ্তির আগেও এসব ঘটনা আরবে জনশ্রুতি ছিল
কিন্তু কোন সহীহ হাদীসে এসব ঘটনা আল্লাহর রাসূল থেকে বর্ণনা হয়নি
আমরা লোকমুখে প্রচারিত কোন ঘটনাকে সত্য হিসেবে ধরে নিতে পারি না
তাছাড়া এটা ইসলামের মূলনীতির সাথেও যায় না
আমরা যতটুকু ঘটনা কুরআন ও রাসূল সঃ এর কাছ থেকে জানতে পারবো ততটুকুতেই বিশ্বাস রাখবো
হারূত-মারূতের ঘটনাঃ
প্রথমেই আমরা জেনে নিই এই প্রসঙ্গে কুরআনে আল্লাহ তায়ালা আমাদের কী ইতিহাস জানিয়েছেন
আল্লাহ তায়ালা বলেন, অর্থাৎ আর তারা এমন সব জিনিসের অনুসরণে মেতে ওঠে, যেগুলো শয়তানরা পেশ করতো সুলাইমানী রাজত্বের নামে
অথচ সুলাইমান (আঃ) কোন দিন কুফরী করেননি
কুফরী করেছে সেই শয়তানরা, যারা লোকদেরকে যাদু শেখাত
তারা বাবিল শহরে দুই ফেরেশতা হারূত ও মারূতের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছিল তা আয়ত্ব করার জন্য উঠে পড়ে লাগে
অথচ তারা (ফেরেশতারা) যখনই কাউকে এর শিক্ষা দিতেন, তাকে পরিষ্কার ভাষায় এই বলে সতর্ক করে দিতেন যে, সাবধান! আমরা নিছক একটি পরীক্ষা মাত্র, খবরদার! তুমি কুফরীতে লিপ্ত হইও না
এরপরও তারা তাদের থেকে এমন জিনিস শিখতো, যা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা এনে দিত
একথা সত্য যে, আল্লাহর হুকুম ছাড়া এ পন্থায় তারা কাউকে ক্ষতি করতে পারত না
কিন্তু এ সত্ত্বেও তারা এমন জিনিস শিখত যা তাদের নিজেদের জন্য লাভজনক ছিল না বরং ক্ষতির কারণ ছিল
তারা ভালো করেই জানত, তারা যা ক্রয় করেছে (এ কাজগুলো করার মাধ্যমে) তাদের জন্য আখেরাতে কোন অংশ নেই
কতই না নিকৃষ্ট জিনিসের বিনিময়ে তারা বিকিয়ে দিল নিজেদের জীবনকে!! হায়, যদি তারা একথা জানতো!
-(সুরা বাকারা:১০২)
এই আয়াত থেকে আমরা যা পাই...
১- বনী ইসরাঈলের লোকেরা সুলাইমান আঃ এর মৃত্যুর পর যাদু নামক শয়তানী কর্মকান্ডে নিমজ্জিত হয়েছিল
২- আর এই যাদু তারা প্রচার করতো নবী সুলাইমান আঃ এর নামে
তারা প্রচার করতো সুলাইমান আঃ নিজেই যাদুকর ছিলেন
৩- আল্লাহ সুলাইমান আঃ কে নিষ্কলুষ এবং নিরাপরাধ ঘোষনা করেন
৪- কুফরি করেছে শয়তানেরা
৫- বাবিল শহরে আল্লাহ তায়ালা দুজন ফেরেশতা পাঠিয়েছেন
৬- তারা ছিল পরীক্ষাস্বরুপ
তারা যাদু শিক্ষা দিত কিন্তু সাথে সাথে সতর্ক করে দিত
৭- বনী ইসরাঈলের লোকেরা যাদু দিয়ে খারাপ কাজ করতো
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা এনে দিত
৮- এই কাজ ছিল তাদের জন্য ক্ষতির কারণ
কেন হারূত মারূতকে পাঠানো হয়েছিল?
হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, হযরত সুলাইমান (আঃ)-এর নিকট একটি আংটি ছিল
টয়লেটে গেলে তিনি ওটা তার স্ত্রীর নিকট রেখে যেতেন