content
stringlengths
0
129k
বুধবার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলার পরে রাস্তাতেই নিজের দিকে তাক করে গুলি ছোড়েন তিনি
সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় পানিপথের হাসপাতালে
সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়
সন্তের কাছ থেকে একটি চিরকুট মিলেছে
সেখানে তিনি লিখেছেন, কৃষকদের দুর্দশা সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যা করলেন
নিজের জীবন দিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ালেন
দিল্লির রাজপথের দখল নিচ্ছেন কৃষকরা
ব্যর্থ আলোচনা
রাজধানী দিল্লি ও হরিয়ানার সীমান্তে রাস্তা আটকে বিক্ষোভ জানাচ্ছেন কৃষকরা। সদ্য পাস হওয়া কৃষি বিল মানতে না পারায় সরকারের সাথে আলোচনায় বসছে কৃষক সংগঠনগুলির নেতৃত্ব। কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। চলছে কৃষকদের অবস্থান বিক্ষোভ।
দিল্লির রাজপথের দখল নিচ্ছেন কৃষকরা
কৃষকদের দাবির মুখে এখনো অনড় কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতিবাদী কৃষকরা যাতে দিল্লির মূল রাস্তায় না ঢুকতে পারেন, সেজন্য যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দিল্লির রাজপথের দখল নিচ্ছেন কৃষকরা
কর্পোরেটের দখল
ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সম্প্রতি সংসদে তিনটি কৃষি বিল পাশ করেছে। নতুন নিয়মের আওতায় এখন আর ফসলের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম দাম নির্ধারণ করতে পারবেন না কৃষকরা। খোলা বাজারের নিয়ম মেনেই ঠিক হবে ফসলের দাম। কৃষকদের বক্তব্য, এই নিয়মের কারণে কর্পোরেট সংস্থাগুলির প্রভাব বাড়বে, কমবে ফসল ফলানো কৃষকদের অধি...
দিল্লির রাজপথের দখল নিচ্ছেন কৃষকরা
ফসলের ন্যূনতম দাম
এমএসপি বা মিনিমাম সাপোর্ট প্রাইসের ব্যবস্থা এতদিন নিশ্চিত করেছে ফসলের দাম। এই এমএসপির সুবিধা তুলে দেওয়ায় বড় বড় কর্পোরেট সংস্থা কৃষকদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
দিল্লির রাজপথের দখল নিচ্ছেন কৃষকরা
চাপে স্থানীয় নেতৃত্ব
যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব বলছে যে, এমএসপির সুবিধা সরানো হবে না, কৃষক সংগঠনগুলির মত, তবুও বাড়বে কৃষিক্ষেত্রে কর্পোরেট হস্তক্ষেপ, যার কোপ এসে পড়বে ছোট চাষীদের ওপরেই। প্রতিবাদে বিজেপি কার্যালয়গুলির সামনে ও নেতাদের বাসস্থানের বাইরেও অবস্থানে রয়েছেন কৃষকরা। অনেক ক্ষেত্রেই গ্রামাঞ্চলে, যেখানে কৃষিনির্ভর পরিবারের বাস, ...
দিল্লির রাজপথের দখল নিচ্ছেন কৃষকরা
পাঞ্জাবের রাজনীতিতে প্রভাব
কৃষক সংগঠনগুলি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলকে এই প্রতিবাদে না টানলেও, তাদের এই প্রতিবাদ সরকারকে চাপে রাখছে। পাঞ্জাবে বহুদিন ধরেই বিজেপির জোটসঙ্গী আকালি দল, যারা চলমান প্রতিবাদের পরিস্থিতিতে জোট ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। বলা হচ্ছে, এমনটা তারা করেছে স্থানীয় সমর্থন না হারাতে।
দিল্লির রাজপথের দখল নিচ্ছেন কৃষকরা
সম্মানের, জীবিকার প্রশ্ন
পাঞ্জাবে একজন কৃষক গড়ে এক থেকে দুই হেক্টর জমির মালিক। তবে সেই জমি থেকে আয় খুব একটা বেশি নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের খরচ চালানোর জন্য তা যথেষ্টই হয়। ভারতের জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ, অর্থাৎ প্রায় ১২০ কোটি মানুষই কৃষির উপর নির্ভরশীল। ফলে, তাদের জন্য এই প্রতিবাদ গুরুত্বপূর্ণ।
দিল্লির রাজপথের দখল নিচ্ছেন কৃষকরা
কিছু বদলাবে কি?
কৃষকদের মত, তাদের সমস্যা শুনতে রাজি নয় কর্তৃপক্ষ। উল্টোদিকে, কৃষকদের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযোগ, তারা 'নতুন বিলগুলি ঠিক করে পড়েনি', তারা'অর্থনীতি বুঝতে নারাজ', এবং তারা 'অতীতেই আটকে আছে'। কৃষকরা 'রাজনৈতিক ঘুঁটি', এমনটাও শোনা গেছে সরকারের তরফে। কৃষকরা হলফ করে বলতে পারছেন না এখনো কতদিন পথ আঁকড়ে পড়ে থাকবেন। কিন্তু প্রতিব...
এ দিকে বৃহস্পতিবার আরো এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে
প্রবল ঠান্ডা সহ্য করতে না পেরে তাঁর মৃত্যু হয়েছে
বস্তুত, বৃহস্পতিবার দিল্লির তাপমাত্রা চার ডিগ্রি
প্রবল শীতের মধ্যেই রাস্তায় কাটাচ্ছেন কৃষকরা
সেই শীত সহ্য করতে না পেরেই ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে
এ দিকে বুধবারই সুপ্রিম কোর্ট কৃষক আন্দোলন নিয়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে
কেন্দ্রীয় সরকার বার বারই এই আন্দোলনকে কয়েকটি অঞ্চলের কৃষকের বিক্ষোভ বলে দেখানোর চেষ্টা করছে
সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, বিষয়টি দ্রুত জাতীয় বিষয় হয়ে উঠবে
তার আগেই সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক
কৃষকদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দরকারে একটি কমিটি গঠন করা হোক
কৃষকরা অবশ্য কমিটি গঠনের বিরোধী
তাঁদের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকারের আইন বৈধ কি না, সুপ্রিম কোর্ট তা বিচার করুক
কমিটি করে আলোচনায় রাজি নন তাঁরা
কেন্দ্রীয় সরকারও আইন পরিবর্তনে সায় দেয়নি
ফলে আলোচনা প্রক্রিয়া এখনো বিশবাঁও জলে
সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, দ্রুত সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন
এখন দেখার দুই কৃষকের মৃত্যুর পর সরকার কী পদক্ষেপ নেয়
বস্তুত, বুধ ও বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর আন্দোলনকারী কৃষকরা আরো উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন
তাঁদের বক্তব্য, প্রয়োজনে আরো প্রাণ যাবে, কিন্তু নিজেদের দাবি থেকে তাঁরা সরবেন না
শরীফুল রুকন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল- দেশে প্রথমবারের মতো কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণ করা হচ্ছে টানেলটি
এতে ব্যয় হচ্ছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা
৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যর টানেলের দুটি টিউবের প্রতিটির দৈর্ঘ্য ২ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার
ব্যস ১০ দশমিক ৮০ মিটার
ইতিমধ্যে টানেলের দুটি টিউবেরই মূল খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে
এখন টিউবে স্ল্যাব বসানো, কার্পেটিং, লাইটিং ও এপ্রাচ সড়কের কাজ বাকি
এসব কাজ শেষ হলে খুলে দেয়া যাবে টানেল
টানেল নির্মিত হলে দেশের জিডিপি শূন্য দশমিক ১৬৬ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে
এছাড়া টানেলকে ঘিরে চট্টগ্রাম কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে
টানেলের যান চলাচল শুরু হলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কক্সবাজার ও দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী গাড়িগুলোকে আর নগরে ঢুকতে হবে না
চট্টগ্রামের সিটি আউটার রিং রোড হয়ে টানেলের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে
এছাড়া কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে
এসব কর্মযজ্ঞ চলছে টানেলকে ঘিরে
টানেলের বহুমুখী সুবিধা নেওয়ার অপেক্ষায় এখন সবাই
এর আগে ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে এই টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসার পর এই টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১২ সালে সেতু কর্তৃপক্ষ, চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসিএল) ও অভি অরূপ অ্যান্ড পার্টনার্স হংকং লিমিটেড যৌথভাবে টানেল নির্মাণের কারিগরি ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা করে
এরপর ২০১৪ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে (সরকারের সঙ্গে সরকারের) সমঝোতা স্মারক সই হয়
চীন সরকারই সিসিসিসিএলকে এই টানেল নির্মাণের জন্য মনোনীত করে
এ বিষয়ে ওই বছরের ৩০ জুন সেতু কর্তৃপক্ষ ও সিসিসিসির মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি সই হয়
বলা হচ্ছে, চীনের সাংহাই নগরীর আদলে চট্টগ্রামকে 'ওয়ান সিটি টু টাউনে'র আদলে গড়ে তোলা হচ্ছে
এতে চট্টগ্রাম শহর এবং নদীর অপর পাড়ের আনোয়ারা নতুন শহর হিসেবে গড়ে উঠবে
টানেলের এক প্রান্তে আনোয়ারায় ভারী শিল্প এলাকা এবং অন্য প্রান্তের চট্টগ্রাম নগরী, বিমান ও সমুদ্রবন্দর
কর্ণফুলী নদী দিয়ে বিভক্ত দুই প্রান্তকে যুক্ত করতে সরকার স্বপ্নের এই টানেল বাস্তবায়ন করছে
২০২২ সালের মধ্যে টানেলটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে
এটি পুরোদমে চালু হলে বছরে প্রায় ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে
প্রকল্পটি চালু হলে চট্টগ্রাম তথা দেশ পাল্টে যাবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের
আশা করা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু টানেল নির্মিত হলে এলাকার আশে পাশে শিল্পোন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে
ফলে দারিদ্র দূরীকরণসহ দেশের ব্যাপক আর্থসামাজিক উন্নয়ন সাধিত হবে
বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে এবং এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযোগ স্থাপিত হবে
সার্বিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থার সহজীকরণ, আধুনিকায়ন, শিল্পকারখানার বিকাশ সাধন এবং পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের ফলে বেকারত্ব দূরীকরণসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে
বলা যেতে পারে, প্রকল্পটি পুরোদমে চালু হলে পাল্টে যাবে দেশের অর্থনীতি
বন্দরনগরী চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও আকর্ষণীয় স্থান
বর্তমানে টানেল সংযোগ সড়ক থেকে শিকলবাহা ওয়াই জংশন পর্যন্ত ছয় লেনের কাজ শুরু হয়েছে
সড়ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে গাছ কাটা ও মাটি ভরাট শুরু হয়েছে
কর্ণফুলী টানেলের প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, 'গত বছর করোনার কারণে কাজের অগ্রগতি যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল
টানেলের বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ উপকরণ সামগ্রী চীন থেকে আনা হয়
করোনার কারণে তাতে প্রভাব পড়ে
এরপরও ইতিমধ্যে দুটি টিউবের খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে
মূল চ্যালেঞ্জ আমরা পার করেছি
আশা করি আর জটিলতা নেই
এখন টিবিএম (টানেল বোরিং মেশিন) ধীরে ধীরে বের করে নিয়ে আসতে হবে
এটি পরিষ্কার করতে দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগবে
তিনি আরও বলেন, '২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই এই টানেলের কাজ শেষ করা আমাদের লক্ষ্য
আমরা চেষ্টা করছি এই লক্ষ্যের মধ্যেই কাজ শেষ করার
বর্তমানে প্রকল্পের ৭৩ ভাগ কাজ শেষ
প্রথম টিউবের যে অংশের উপর দিয়ে গাড়ি চলবে, সেখানে বর্তমানে স্ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে
দ্বিতীয় টিউবে স্ল্যাব স্থাপনের কাজ জানুয়ারিতে শুরু করা হবে
এই প্রকল্পে নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ হচ্ছে
তবে আগেও শেষ হয়ে যেতে পারে
বাস্তবায়িত হচ্ছে বে-টার্মিনাল, গতিশীল হবে অর্থনীতি
বন্দর জলসীমার শেষ প্রান্তে চট্টগ্রাম ইপিজেডের পেছনে সাগরপার থেকে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের অদূরে রাসমনিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার লম্বা এলাকায় বে-টার্মিনাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে বন্দরের