content stringlengths 0 129k |
|---|
একদম শিওর |
' হাসেম সাহেব আমার কথা শুনে ফিজ ফিচ করে হাসেন |
পানের পিক ফেলে রায়হান সাহেবের দিকে তাকিয়ে একটা চোখ টিপি দেন |
সমস্যা হলো হাসেম সাহেব যদি মাইন্ড করেন |
উনি কি আমাকে পাড়া থেকে বের করে দেবেন? না.. এমন কিছু হয়তো করবেন না |
আমাদের সবারই তো বয়স হয়েছে |
এসব নিয়ে কেউ কিছু মনেই করবে না হয়তো |
আর আমি কীনা এখনও ওসব মনে করেই বেঁচে আছি |
অবশ্য বেঁচে থাকার জন্যই মনে রেখেছি |
যেদিন প্রথম এসেছিলাম এই পাড়ায় সেদিন থেকে এখনও সব মনে আছে |
সকালে পোস্ট অফিসের সামনে যখন দাঁড়িয়েছিলাম, একদম প্রথম দিন |
রিকশা পাচ্ছিলাম না |
নতুন বাসায় উঠবো |
মালপত্র সব উঠে গেছে |
আমি পোস্ট অফিসে এসেছি চিঠি পোস্ট করতে |
মাকে চিঠি পোস্ট করে বাইরো বেরুতেই বৃষ্টি শুরু হলো |
ঝুম বৃষ্টি |
পোস্ট অফিসের সামনে গোটা বিশেক লোক |
রিকশা নেই একটাও |
একটা রিকশা এলো |
এগিয়ে গিয়ে দেখি রিকশায় এক যুবতী বসে আছে |
ডাগর ডাগর চোখে আমাকে ইশারায় রিকশায় উঠে বসতে বললো বলে মনে হলো |
আমি বিশ্বজয়ি হাসি দিয়ে রিকশায় উঠতে গিয়েই বিপত্তি ঘটলো |
রিকশারোহী রি-রি করে উঠলো |
কন্ঠটা এখনও কানে বাজে |
মিহি চাপা মৃদ কন্ঠস্বর |
ভিমড়ি খেয়ে বুঝলাম উনি আমাকে উঠতে বলেননি |
রিকশা রেখে মেয়েটা পোস্ট অফিসে ঢুকলো |
কাহিনীর অকম্মিকতায় আমি কখন চুপসে গেছি |
লজ্জা আর ক্ষোভে ফোঁৎ ফোঁৎ করছি |
আনমনেই রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম 'কোত্থেকে আনছেন ভাড়া? ' রিকশাওয়ালা বললো 'গোলাপবাগ' |
আরে আমিও তো গোলাপ বাগেই যাবো |
মেয়েটার পিছু পিছু যেয়ে ঠিকানা জেনে আসা উচিত |
শিক্ষা আমি দিয়ে ছাড়বই |
ওই মেয়েটাই ছিলো নিমি |
আমার জীবনের একমাত্র নারী |
সেই থেকে নিমির সাথে আমার পরিচয় |
নিমি সেদিন পোস্ট অফিস থেকে বেরিয়ে আমাকে রিকশায় তুলে নিয়েছিলো |
রিকশায় বসেই পরিচয় হয়েছিলো আমাদের |
জানতে পারলাম নিমির একজন পত্রবন্ধু আছে |
তাকে প্রতি সপ্তাহে চিঠি পাঠায় |
আমার তখনও টনক নড়েনি |
হঠাৎ বদলি হয়ে নতুন শহরে এসেছি মাত্র |
সবকিছু তখনও গুছিয়ে উঠিনি |
গুছিয়ে আসিনি পুরনো শহরে |
গল্পগুলো আমার বলতেই হবে |
আমি তো এতদিন সব না বলে থাকলাম |
এবার বলা উচিত |
বলা উচিত হাসেম সাহেবের জন্য |
সন্ধ্যে নেমে গেছে প্রায় |
আমি হাসেম সাহেবের বাড়ীর দ্বিতীয় তলায় বসে আছি |
আমার পাশে মাশকুর সাহেব |
মাশকুর সাহেব অধ্যাপনা করেছেন সারা জীবন |
চা চক্রে এসেও লেকচার মারা শুরু করেন |
মোটামুটি সবাই এসে গেছে |
আমি হাসেম সাহেবের দিকে তাকালাম |
যথারীতি আজকেও উনি কেঁদেছেন খুব |
আমি বিশ্বাস করি আজকের গল্পটা শোনার পর থেকে হাসেম সাহেব আর কাঁদবজেন না |
কেউ কিছু বলে উঠার আগেই হাসেম সাহেব বললেন 'আমি একটা গল্প বলবো |
' আমরা চমকে উঠলাম না |
এটা উনার স্বভাববিরোধী না |
উনি সবসময় গল্প বলতে চান |
আমরা মতামত দেওয়ার আগেই হাসেম সাহেব সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বলা শুরু করলেন " একটা মেয়ের গল্প |
অল্প বয়সেই বিয়ে হয়ে যায় নিজের অমতে এক টাক পড়া উকিলের সাথে |
মেয়েটা মাত্র মেট্রিক দিয়েছে |
রেজাল্ট পেলো উকিলের বাড়ি বসে |
উকিল সারাদিন কোর্টে থাকে |
স্ত্রী কে সময় কম দেয় |
স্ত্রীর সাথে মেলামেশাও কম করে |
বলা যেতে পারে সেই কম বয়সী মেয়েটা অনেক দুঃখী" নিশ্বাস নিলেন হাসেম সাহেব |
গল্প থামাতেই মাশকুর সাহেব খিক খিক করে হেসে উঠে বললেনন " আজকেও এই গল্প!! জমবে না মনে হচ্ছে |
প্রথমেই সেই সস্তা হিউমার কপচানো কাহিনী |
এ গল্পের পরিণতি আমরা বুঝে নিছি দুই বছর আগেই |
নতুন কিছু বলেন - হাসেম সাহেব কথার তোয়াক্কা না করে আবার বলা শুরু করলেন - "তখন ছিলো পত্রমিতালীর সময় |
পত্রসূচি পত্রিকা থেকে এক যুবককে বন্ধু বানালো মেয়েটা |
যুবক সবে লেখাপড়া শেষ করেছে |
চাকরি খুজঁছে |
দুজনের ভাব জমলো প্রচুর |
উকিলের অগোচরেই সেই যুবকের প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়লো মেয়েটা |
এভাবেই চলতে থাকলো |
একদিন মেয়েটা প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়লো |
উকিলের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো |
কারণ বিয়ের তখন দুবছর চললেও... " ফাহিম সাহেব জোরে হেসে উঠলেন |
বুঝে গেছে সবাই গল্পের শেষটা |
আমি চুপটি করে বসে আছি দেখে পাশ থেকে যিয়াদ সাহেব বললেন - ' কীভাবে সেই পত্রবন্ধু যুবকের সাথে মেয়েটার বেড শো হয়েছিলে সেটাই কিন্তু আজকে বলার কথানছিলো |
দুজনের দেখা হলো কি করে? ' " কি গো হাসান ভাই! আপনি এখনও শুরু করেননি? " আমি খানিকটা চা মুখে দিয়ে চিরচেনা ভঙ্গিমায় প্রতিদিনকার মতো বললাম 'গল্পটায় অনেক অস্পষ্টতা আছে |
আমি আরেকটু জুড়ে দিতে চাই |
" হাসেম সাহেবও পা দুলিয়ে বললেন 'বেশ... বেশ" আমি শুরু করলাম " ইবু নামে একটা দারোওয়ান ছিলো মেয়েটা যে বাড়ী থাকতো সে বাড়ীতে |
ওই দারোয়ানের ভাষ্যমতে উকিল রাতে যখন বাগী ফিরতো তখন মাতাল হয়ে ফিরতো |
মাঝে মাঝে রাতে নিজের বাড়ীতে বন্ধু বান্ধব নিয়ে বার বসাতো |
সারারাত চলতো মাতলামী |
মেয়েটা তখন...... " হাসেম সাহেবের হাত থেকে কাপ পড়ড়ে গেলো |
সবার হো হো করে হেসে উঠলো |
আমি জানি গল্পটা হাসেম সাহেবের মতো ধুরন্ধর উকিল আমাকে কখনই বলতে দেবেন না |
তারপরেও আমি নিজের মুখে একবার স্বীকার করতে চাই আমিই মারিয়ার বাবা |
" এই নিয়ে একশো বিরানব্বুইটা " হো হো করে হেসে উঠে একসাথে সবাই বলে উঠলো |
আমিও মনের খাতায় যোগ করে নিলাম সংখ্যাটা |
একশো বিরানব্বইতম বার আমি ব্যর্থ হলাম আমার গল্প বলতে |
হাসেম সাহেব মুচকি হেসে ভাঙা কাপটার দিকে পা ছুড়ে বললেন "আজকেও পারলাম না... ধরে রাখতে আর কি? ' আমিও বলতে পারলাম না যে, নিমি সেই পত্রবন্ধুর সাথে নয় আমার সাথেই...... তেতলার সিঁড়ি দেখা যায় বারান্দা থেকে |
একটানা কিছু সময় তাকিয়ে থাকলাম |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.