content stringlengths 0 129k |
|---|
প্রগ্রেস রিপোর্ট যখন দিলো, স্যারকে বুদ্ধি দিলাম, সার, মার্কশিটে ৩৩ বানায়ে দেন |
স্যার চড় মেরে আমার দাঁত নাড়ায়ে দিলেন এই সুপরামর্শে |
মার্কশিটটা বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগে আমিই বুদ্ধি করে নিজের হাতে ১-কে ৯ বানায়ে দিলাম |
অংকে পাইলাম ৯২ |
বাড়িতে সেবার খুশিতে মিলাদ পড়ানো হয়েছিল |
মার্কশিটটা যখন স্কুলে ফেরত দিতে হবে তখন ৯-কে আবার ১ বানায়ে দিলাম |
মার্কশিট ফেরত দিতে গেলাম, স্যার বললেন, এখানে ওভাররাইটিং কেন রে? আমার গায়ের উপর বেতপাত করতে করতে তিনটা বেত স্যার ভেঙে ফেললেন |
শুধু তিনটে বেত ভেঙে স্যার ক্ষান্ত হলেন না |
বাড়িতেও জানায়ে দিলেন আমার এই সুকীর্তির কথা |
বাড়িতে কয়েকটা লাঠি আমার গায়ের উপর ভেঙে আমাকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হলো |
কিন্তু আমার অপরাধটা কী ছিল তা আজ অবধি বুঝতে পারলাম না |
নিজের বুদ্ধি ও যোগ্যতাতেই আমি পরীক্ষায় বেশি নাম্বার পেয়েছিলাম |
স্যার তো দেন নি! এজন্য স্কুল ও বাড়ির যৌথ প্রজোযনায় ধোলাই দিতে হবে একটা অবুঝ বাচ্চাকে? |
আরেকবার দুই নাম্বার কেয়ামত মোকাবেলা করছি, মানে ইংরেজি পরীক্ষা দিচ্ছি |
বাংলা থেকে ইংরেজিতে ট্রান্সলেশন করতে বলেছে, 'তুমি কোথায় যাচ্ছ?' চিন্তায় মগ্ন হলাম আমি |
খালেদ স্যার আমার পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন আমি কী লিখছি |
জিগ্যেস করছেন আমাকে, কেমন হচ্ছে রে পরীক্ষা? স্যারের মনে দয়ামায়া আছে |
আমার পরীক্ষার খবর নিচ্ছেন এই ভেবে আমি স্যারকে জিগ্যেস করলাম, 'তুমি কোথায় যাচ্ছ' এর ইংরেজি কী হবে সার? স্যার বললেন, তুই এখন কোথায় যাচ্ছিস? আমি তো এখন কোথাও যাচ্ছি না, সার! স্যার বললেন, তো ল্যাখ, আমি কোথাও যাচ্ছি না |
আমি লিখে দিলাম 'তুমি কোথায় যাচ্ছ' এর ইংরেজি অনুবাদ ' আমি এখন কোথাও যাচ্ছি না |
' সেবার ইংরেজিতে পেয়েছিলাম ০৫ |
০-কে আমি বুদ্ধি করে ৭ বানায়ে দিয়েছিলাম |
ধোলাই খেয়েছিলাম স্কুল ও বাড়িতে |
কী পরিমাণে তা জিগ্যেস করে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার কথা মনে করায়ে দিবেন না প্লিজ |
একবার বাংলা দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা হচ্ছে |
একটা প্রশ্ন ছিল, টাকা চাহিয়া পিতার নিকট পত্র লিখ |
আমার পাশে বসেছিল কদ্দুছ আলি |
তার কাছ থেকে দেখে দেখে আমি পত্রটা লিখে দিলাম |
জ্ঞান বুদ্ধি মেধা এগুলো বেশি মাত্রায় থাকলে তো পড়ালেখা বেশি করা লাগে না |
ও লিখেছিল - ইতি আপনার একান্ত বাধ্যগত পুত্র কদ্দুছ আলি |
আমিও তাই লিখেছিলাম |
এজন্যই নির্দয় স্যার আমাকে অনেক মেরেছিলেন |
তুই কি কদ্দুইচ্চা নে? তুই কি পুত্র নে? নকল আর কইরবি নে? হাডাই হালামু আইজ্জা |
আচ্ছা আপনারাই বলুন, কদ্দুছ আর নীলাঞ্জনাতে পার্থক্য কী? নামে কী হয়? আমাদের দু'জনেরই তো একই উদ্দেশ্য ছিল, টাকা চাহিয়া পিতার নিকট পত্র! কিন্তু নিষ্ঠুর যুক্তিহীন স্যারেরা তা বুঝবে কেন? তাদের কথা হলো বেতপাতে, যুক্তিতে না |
আমরা মাঝেমাঝে নকলে সুবিধা করতে না পেরে পুরো প্রশ্নটা খাতায় লিখে দিয়ে আসতাম |
কিন্তু স্যারেরা কোনো নাম্বার দিতেন না |
প্রশ্নটা লিখে দিতে কি কোনোই কষ্ট নাই? এজন্য কি দয়া করে একটু নাম্বার দেওয়া উচিত না? একবার বাংলা পরীক্ষা শেষ হলো |
পরের দিন অংক পরীক্ষা |
খুকী নামে এক মেয়ে স্যারকে বলে সিরিয়াসলি, সার, অংক প্রশ্নটা আমাকে দেন |
আমি কালকে নিয়ে আসবো |
স্যার পেটাতে শুরু করলেন |
খুকি বলে, স্যার, আমি নিয়ে আসবো তো কালকে |
স্যার আরো জোরে মারতে থাকেন |
খুকি তত জোরে কাঁদতে কাঁদতে বলে, আমি কালকে নিয়ে আসব তো, স্যার |
এখনো সেই ছোট্ট খুকির আহাজারি চোখে ভেসে ওঠে, ভেসে ওঠে স্যারের নিষ্ঠুরতা |
বুক এখনো ফেটে যায় |
কী এমন ক্ষতি হতো প্রশ্নটা দিয়ে দিলে? পরদিনই তো খুকি তা ফেরত নিয়ে আসতো! |
পরীক্ষার হল থেকে আমরা নক্ল আনার জন্য প্রতিদিনই বাথরুমের নাম দিয়ে বাইরে আসতাম |
কমন রুমে বইপত্ত্র রেখে যেতাম |
প্রশ্ন দেখে নিয়ে দাঁড়ায়ে গিয়ে চেহারায় বাথরুম-বাথরুম করুণ ভাব এনে বলতাম, সার, বাথরুমে যাবো |
তারপর বইপত্তর সার্জারি করে নিয়ে এসে লিখতে শুরু করতাম |
একদিন আক্কাছ উদ্দীনের বাথরুম ধরলো একই উদ্দেশ্যে |
স্যার বললেন, এই মাত্রই তো রুমে ঢুকলি, এখনই কীসের বাথরুম? বাটপারির আর জায়গা পাস না? আক্কাছ অনেক কাকুতিমিনতি করতে লাগলো |
অবশেষে বললো, সার, ফাটি গেল |
স্যার বললেন, এখনো তো ফাটে নাই |
এদিকে আয়, ফাটায়ে দিই |
স্যার হৃদয়হীনভাবে নিরপরাধ আক্কাছকে বেতপাতে শরীরের বিভিন্ন নাজুক অঙ্গ ফাটায়ে রক্তাক্ত করে দিলেন |
কিছুকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর আমরা অনেক ভালোভাবে মুখস্ত করতাম |
কিন্তু হায়! পরীক্ষায় ওগুলো আসতো না |
পরীক্ষায় না আসলে আমরা আর আমাদের বিদ্যাশিক্ষা বৃথা যেতে দিতে পারি না! আমরা খাতায় লিখে দিয়ে আসতাম আমাদের অর্জিত সব জ্ঞান বুদ্ধি |
কিন্তু স্যারেরা নাম্বার দেয়ার পরিবর্তে আমাদেরকে পিটায়ে হাড্ডির সাথে মাংস মিশায়ে দিতেন |
খাতায় দিতেন দুটি বড় বড় শূন্য |
খাতা দেওয়ার সময় ডেকে বলতেন, নিয়ে যা, আণ্ডা পেয়েছিস দুইটা |
বাড়িতে নিয়ে ভেজে খাবি |
কী ইয়ার্কি! ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে কি এমন ইয়ার্কি করতে আছে স্যারদের? শূন্য কি ভেজে খাওয়া যায়? উনারা নিজেরা কি খেয়েছেন কখনো? |
মাঝেমাঝে আমরা খাতার নিচে লিখে দিতাম, আর পারি না, সার |
দয়া করে কিছু নাম্বার দিয়ে দিয়েন |
মনে করতাম, এতে স্যারের মন বিগলিত হয়ে যাবে আর আমাদের নাম্বার বেশি করে দেবেন |
কিন্তু স্যারেরা ছিলেন বড় দয়াহীন |
খাতা দেওয়ার সময় ডেকে ডেকে আমাদের মারতেন |
আর বলতেন, সার? আমি সার? আমাকে সার বানায়ে দিলি, গাধারা? আমি ইউরিয়া সার? আমাকে ইউরিয়া সারের মত লাগে? |
বাংলায় ব্যাখ্যা নামে একটা বস্তু ছিল |
ওগুলো মুখস্ত করতে হতো আরামের ঘুম হারাম করে |
কবি এখানে কী বলতে চেয়েছেন ব্যাখ্যা করো |
আমরা রাত ঝিমায়ে ঝিমায়ে মুখস্ত করতাম, আলোচ্য অংশটুকু আলোচ্য অংশটুকু .................... |
বাড়িতে এজন্য বেদমভাবে পেটানো হতো |
জিগ্যেস করা হতো, খালি আলোচ্য অংশটুকু নাকি? আর কিছু নাই |
মার খেতে খেতে আর ঝিমোতে ঝিমোতে পড়তে থাকতাম আরো প্রবলভাবে আলোচ্য অংশটুকু আলোচ্য অংশটুকু |
পরীক্ষায়ও উত্তর দিয়ে দিতাম, আলোচ্য অংশটুকু আলোচ্য অংশটুকু |
তার পরে লিখে দিতাম প্রশ্নটা |
একবার ভূগোল পরীক্ষা |
আমি লিখেছিলাম, তাই তো কবি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার জীবজন্তুরা বড় বিচিত্র |
তাই তো কবি বলেছেন, জোয়ার-ভাটা ইত্যাদি |
খাতা দেওয়ার সময় স্যার আমায় কাছে ডেকে জিগ্যেস করেছিলেন, ভূগোল পরীক্ষায় কবি সাহিত্যিক কীরে, গাধী? দে হাত পাত, বেত খা |
হাত আমার ফাটায়ে দিয়েছিলেন স্যার |
আমার দোষটা কী ছিল, বলুন! একটি ছোট্ট মেয়ের সাহিত্যপ্রেমকে স্যার একটুও পাত্তা দিলেন না! একটুও উৎসাহ দিলেন না! অস্ট্রেলিয়ায় কি কবি সাহিত্যিক নাই? জোয়ার-ভাটা নিয়ে কি কবিতা লেখা হয়নি? এজন্য একটা সাহিত্যপ্রেমী বাচ্চা মেয়েকে মেরে ফাটায়ে দিতে হবে? |
একটু ভালভাবে নাম্বার দিতে ও কালকের পরীক্ষার প্রশ্নটা আজকে দিয়ে দিতে এত কার্পণ্য কেন স্যারদের? এতে কি পৃথিবীর উপকার ছাড়া কোনো ক্ষতি আছে? নাম্বার দিতে তো পয়সা লাগে না |
তবুও কেন এই বৃথা ও ক্ষতিকর কার্পণ্য? নাম্বার বাড়ায়ে দিলে ও প্রশ্নটা আগে আগে দিয়ে দিলে ছেলেমেয়েরা রেজাল্ট কতো ভালো করতো আর দেশের কত উন্নতি হতো |
তাই না? এই হৃদয়হীন স্যারদের তা কে বোঝাবে? |
ক্লাস এইট থেকে বৃত্তি পরীক্ষা দেবো |
বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে ক্লাস করানো হচ্ছে বিশেষ যত্ন ও মারপিটের সহিত |
'ছাত্রজীবনের উদ্দেশ্য ও কর্তব্য' নামে রচনা মুখস্ত করতে দেয়া হয়েছে একদিন |
হেলাল নামে এক ছেলেকে স্যার রচনাটি মুখস্ত বলতে বললেন |
হেলাল বলতে শুরু করলো |
কিছুক্ষণ পর বলতে শুরু করলো, গরুর দুটি চোখ, দুটি কান ও একটি নাক আছে |
স্যার বেতাতে বেতাতে বললেন, কি রে গরু হয়ে গেলি নাকি? ছাত্রজীবনের সাথে গরুর সম্পর্ক কী? হেলাল বলল, আমার বইতে এরকম লিখেছে, সার |
সে বই খুলে দেখালো স্যারকে |
সত্যিই তো |
পরের পৃষ্ঠাতেই গরুর বর্ণনা |
ব্যাপার কী? আরো খুঁটিয়ে দেখতে লাগলেন স্যার |
দেখলেন, ওর বইতে ছাত্রজীবনের উদ্দেশ্য ও কর্তব্য রচনার এক পৃষ্ঠার পরে কয়েকটি পাতা মিসিং |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.