content stringlengths 0 129k |
|---|
ভিগান ডায়েট |
ভিগানিজম এমন একটি জীবনধারা, যেখানে প্রাণী ও প্রাণিদেহের দ্বারা তৈরি সব খাবার ও ব্যবহার্য পণ্য বর্জন করা হয় |
এককথায়, নিরামিষাশীরা যখন প্রাণিজাত সমস্ত খাবারের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলেন, তখন তাঁদের ভিগান বলে |
মাছ-মাংস তো নয়ই, ভিগানরা ডিম, দুধ আর দুধের তৈরি কোনো খাবার, যেমন ছানা, দই, পনির, সন্দেশ, রসগোল্লা এসব কিছু চেখেও দেখেন না |
ভিগানরা কত প্রকার |
দিন দিন ভিগানরাও বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়েছেন |
• হোল ফুড ভিগান |
তাঁরা ফলমূল, শাকসবজি, শস্য, বাদাম ও বীজ-জাতীয় খাবার খেয়ে থাকেন |
• জাঙ্ক ফুড ভিগান |
তাঁরা প্রক্রিয়াজাত ভিগান খাবার খান |
যেমন: ভিগান মাংস, ফ্রোজেন ডিনার, নন-ডেয়ারি আইসক্রিমের মতো ডেজার্ট ইত্যাদি |
• র ফুড ভিগান |
এই ব্যক্তিরা কেবল কাঁচা খাবার অথবা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নিচের তাপমাত্রায় রান্না করা খাবার খান |
• লো ফ্যাট, র ফুড ভিগান |
তাঁদের ডায়েটে বাদাম, অ্যাভোকাডো, নারকেলসহ উচ্চ ফ্যাটযুক্ত খাবার সীমিত রাখেন |
এর বদলে ফলের ওপর নির্ভর করেন |
তাই তাঁদের 'ফ্রুটারিয়ানস'ও বলা হয় |
কীভাবে ভিগান ডায়েটে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে |
ভিগান ডায়েটের ধারণাটি একেবারেই নতুন |
ভিগানদের শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, লং-চেইন ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়োডিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্ক না-ও থাকতে পারে |
এটা এড়াতে তাঁরা দুধ, চা-কফি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেন |
তার বদলে শোষণক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যতালিকায় বেশি করে ভিটামিন সি ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবার খেয়ে থাকেন |
আয়রনের শোষণে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে ভিটামিন সি |
অঙ্কুরিত বীজ, উদ্ভিজ্জ দুধসহ সুষম খাদ্য গ্রহণ করে স্বাস্থ্য ভালো রাখেন তাঁরা |
ভিগানদের খাদ্যতালিকায় যা থাকে, যা থাকে না |
প্রাণিজাত যেকোনো জিনিসই ভিগানদের খাদ্যতালিকায় থাকে না |
মাংস, মাছ, শেলফিশ, ডিম, মধু, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার কিছুই খান না ভিগানরা |
তাঁরা প্রাণিজ প্রোটিন বর্জন করে কেবল উদ্ভিজ্জ প্রোটিন খান |
ভিগানদের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ডাল, টফু, বাদাম, বীজ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য |
এমনকি প্রাণিজ দুধের বদলে, উদ্ভিদজাত দুধ এবং মধুর বদলে ম্যাপল সিরাপ খান তাঁরা |
ভিগানরা প্রধানত তাঁদের খাদ্যতালিকা প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল ও শস্যের ওপর ভিত্তি করে বানান |
ভিগান ও ভেজিটেরিয়ানের মধ্যে পার্থক্য |
ভিগান ও ভেজিটেরিয়ানরা উভয়ই নিরামিষাশী হলেও, তাঁদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আছে |
ভেজিটেরিয়ানরা মাছ-মাংস না খেলেও তাঁদের খাদ্যতালিকায় দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য, মধু, ডিম এবং বিভিন্ন প্রাণিজ দ্রব্য থাকে |
এমনকি প্রাণী জাতীয় পণ্য, যেমন চামড়ার তৈরি জুতা অথবা জামাকাপড় প্রভৃতি ব্যবহার করেন |
অন্যদিকে ভিগানরা তাঁদের জীবন থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রাণিজ দ্রব্য ও পণ্য বর্জন করেন |
উল, চামড়া বা সিল্কের পোশাকও পরেন না তাঁরা |
ভিগানদের মতে, খাদ্য ও পণ্যের জন্য প্রাণী হত্যা করা অন্যায় |
পশুসমাজের ওপর নির্মম অত্যাচার |
এসবের ঘোরতর বিরোধী ভিগানরা |
এককথায় বলা যায়, সব ভিগান ভেজিটেরিয়ান হলেও, সব ভেজিটেরিয়ান ভিগান নন |
ভিগানরা আরও স্বকীয় |
অনেকের প্রশ্ন থাকে, তাহলে ভিগানরা আমিষের ঘাটতি পূরণ করেন কী করে? পৃথিবীতে ভিগানদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে |
তবে ভিগানরা প্রমাণ করছেন যে প্রাণিজ আমিষ ছাড়াও মানুষ ভালোভাবেই বাঁচতে পারে |
সে সঙ্গে প্রাণী রক্ষা আন্দোলনটাও প্রাণ পায় |
ভিগানরা মনে করেন, পৃথিবীতে সব প্রাণীর সমান অধিকার রয়েছে |
বাংলাদেশেও ভিগান আন্দোলন চলছে |
দিন দিন এর সদস্যসংখ্যাও বাড়ছে |
লেখক: আলমগীর আলম, খাদ্য পথ্য ও আকুপ্রেশার বিশেষজ্ঞ |
আকুপ্রেশার করে লিভার ভালো রাখুন |
| 3, 2021 | , , প্রথম আলোয় প্রকাশিত, বিশ্ব স্বাস্থ্য |
আমাদের বর্তমান সমাজে খাদ্যে একধরনের মোডিফিকেশন চলছে, যা আমাদের পূ্র্বপুরুষদের ছিল না |
আমরা এখন ফাস্ট ফুড কালচারে অভ্যস্ত; সেই সঙ্গে খাদ্যে নানা মডিফায়েড খাদ্য, প্যাকেটজাত খাদ্যে নানান রাসায়নিকের উপস্থিতির কারণে আমাদের যে সমস্যাটা প্রথমে শরীরে স্থান করে নিচ্ছে, তা হলো লিভারজনিত নানা সমস্যা |
লিভারের একটি সাধারণ সমস্যা হলো ফ্যাটি লিভার, যা সঠিক চিকিৎসা না করলে মারণব্যাধিতে রূপ নেয় |
মানুষের রক্তের মধ্যে কোয়াগুলেশন ফ্যাক্টর হিসেবে আছে অসংখ্য কেমিক্যালস, যা রক্তকে সঞ্চালন অব্যাহত রাখে |
সব কটি কোয়াগুলেশন ফ্যাক্টর শুধু লিভার থেকে তৈরি হয় |
রক্তের সঞ্চালন এবং জমাট বাঁধার ক্ষমতা একমাত্র লিভারের কার্যক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল |
আমরা যা কিছু খাই, সেই খাবারগুলো পরিপাকতন্ত্রে প্রাথমিক হজমের জন্য পিত্তরস অপরিহার্য |
পিত্তরস ছাড়া খাদ্যবস্তু হজম সম্ভব নয় |
এই পিত্তরস শুধু লিভার কোষ তৈরি করে |
হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের পর ফ্যাটি লিভারই এখন এ দেশে ক্রনিক লিভার ডিজিজের প্রধান কারণ |
পাশাপাশি ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীদের হার্ট ডিজিজ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও অনেক বেশি থাকে |
তবে আমাদের দেশে অ্যাকিউট হেপাটাইটিসের প্রধান কারণ হেপাটাইটিস ই, এ এবং বি ভাইরাস |
এর মধ্যে পানি ও খাদ্যবাহিত আর তৃতীয়টি ছড়ায় মূলত রক্তের মাধ্যমে |
হেপাটাইটিস এ ভাইরাস প্রধানত শিশুদের জন্ডিসের কারণ, তবে যেকোনো বয়সের মানুষই হেপাটাইটিস ই ও বি ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে |
লিভার ঠিক রাখার প্রধানত শর্ত হচ্ছে বিশুদ্ধ খাদ্য ও পানি গ্রহণ, সেই সঙ্গে নিয়মিত আকুপ্রেশার করা হলে লিভার ভালো থাকবে, সেই সঙ্গে লিভারে আক্রান্ত প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো সমস্যা থাকলে সেটাও সেরে যাবে |
এই প্রচীন চিকিৎসা পদ্ধতি আকুপ্রেশারচর্চা নিজে নিজের চিকিৎসা করে জটিল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব |
লিভার ঠিক রাখতে ও ফ্যাটি লিভার ঠিক করতে এই পয়েন্টগুলোতে আকুপ্রেশার করতে হবে |
আমাদের দেশে লিভারের যে রোগগুলো হয়ে থাকে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো: |
• ফ্যাটি লিভার |
• ভাইরাল হেপাটাইটিস (যা জন্ডিস নামে পরিচিত) |
• লিভার সিরোসিস |
• লিভার ক্যানসার |
• লিভারের ফোড়া |
• পিত্তথলির বা পিত্তনালির রোগ |
• লিভারের জন্মগত ও মেটাবলিক রোগ ইত্যাদি |
এই সব রোগ হলেও আজ আমরা শুধু ফ্যাটি লিভারের জন্য কীভাবে আকুপ্রেশার করব এবং সুস্থ মানুষ কী করে লিভারকে রোগমুক্ত রাখতে পারব, সেটাই জানানো হচ্ছে |
যেভাবে বুঝবেন ফ্যাটি লিভার হচ্ছে |
• হজমের সমস্যা ও অ্যাসিডিটি সমস্যা হতে পারে |
• লিভারে চর্বি জমলে স্বাভাবিক কাজ কিছুটা ব্যাহত হয় |
• খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়, খাবারে অরুচি হয় |
• দ্রুত ওজন কমা |
• বমি বমি ভাব, বমিও হওয়া, খুব দুর্বল লাগা ও কোনো কাজ করতে ইচ্ছা করে না |
• কখনো কখনো বিলিরুবিন বেড়ে যায় |
• ফ্যাটি লিভারের সব থেকে বড় লক্ষণ স্বাভাবিকের থেকে বেশি কোমরের মাপ বেড়ে যায় তথা ভুঁড়ি বেড়ে যায় |
• ফ্যাটি লিভার হলে মাথাব্যথা, মন খারাপ ও ডিপ্রেশন, আচমকা কাঁপুনিসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয় |
ফ্যাটি লিভারের জন্য আকুপ্রেশার কীভাবে করবেন |
ফ্যাটি লিভারের আকুপ্রেশার শুরু করতে হলে প্রথমে যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে তা হলো যে কারণে আপনি আক্রান্ত হয়েছেন, সেই ছিদ্রটা প্রথমে বন্ধ করতে হবে |
অর্থাৎ খাদ্যে শৃঙ্খলা আনতে হবে |
লিভারের বিভিন্ন রোগের খাবারের ব্যাপারে বিভিন্ন রকম বাছ-বিচার আর সতর্ক থাকা, এসব রোগীকে ভালো থাকতে যেমন অনেকখানি সাহায্য করে তেমনি অজ্ঞতা বা ভুল ধারণার কারণে অনেক সময়েই লিভারের রোগীরা বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন |
এ ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান খুবই জরুরি |
ডান হাতের এই পয়েন্ট লিভারের, এখানে চাপ দিন ১০০ বার করে |
আকুপ্রেশার শুরু করার প্রথম ধাপটি হচ্ছে দুই হাতের তালুতে ঘষতে হবে দুই মিনিট, এমনভাবে ঘষতে হবে যেন দুই হাতের তালু গরম হয়ে যায় |
তারপর ডান হাতে কড়ে আঙুলের নিচের রেখা যে পয়েন্টটি দেখানো হয়েছে, তাতে প্রথম পয়েন্ট ১০০ বার করে চাপ দিন, চাপ এমনভাবে দেবেন যেন খুব বেশি জোরেও না আবার আস্তেও না |
সঠিক স্থানে চাপ দিলে হাতের পয়েন্টে মৃদু ব্যথা অনুভূত হবে |
তারপর আরেকটু নিচের পয়েন্ট চাপ দিন, এটা আমাদের গলব্লাডারের পয়েন্ট, গলব্লাডার লিভারের পরম বন্ধু, তাই লিভার সমস্যায় গলব্লাডারও ভালো রাখতে হবে |
লিভার ঠিক রাখার জন্য গলব্লাডার ঠিক করতে হলে এখানে ১০০ চাপ দিন |
এরপরে এর নিচে অ্যাপেন্ডিক্স পয়েন্টে ও ঠিক একইভাবে চাপ দিতে হবে |
প্রতিটি পয়েন্টে ১০০ করে চাপ দিয়ে এবার স্টমাক পয়েন্ট লম্বালম্বিভাবে বুড়ো আঙুলের নিচের রেখা থেকে কবজির মাঝ বরাবর স্থানে চাপ দিতে হবে, এখানে লম্বালম্বিভাবে তিনটা স্থানে চাপ দিতে হবে, যাতে ওপর-নিচ থেকে মাঝেও একটি চাপ পড়ে |
খেয়াল করবেন যে এখান আপনি তীব্র ব্যথা অনুভব করতে পারেন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.