content
stringlengths
0
129k
আব্বু প্রায় চার বছর ধরে আমার বিয়ের চেষ্টা করছেন
কিন্তু দুর্ভাগ্য বশত (আমার সৌভাগ্যও) আব্বুর ইচ্ছেটা পূর্ণ হচ্ছে না
একসময় আমি পড়াশুনা করতে চেয়ে বলেছিলাম বিয়ে করব না
আব্বুর বিরোধিতা সত্ত্বেও আম্মি তাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে রাজি করিয়ে নিয়েছিল
আজ স্নাতকোত্তর পরার পরও যোগ্য পাত্র জুটছে না
অনেকেই জানে, আমি ধর্ম নিয়ে পড়াশুনা করেছি
এখনো গবেষণা করছি
তাদেরই কারো মুখে সেই কথা শুনে যে দু একজন আগ্রহ দেখাচ্ছে তারাও কেন জানি না হাত গুটিয়ে নিচ্ছে (আসলে জানি !)
আজ আমি কয়েকদিন আগের একটা মজার ঘটনা শোনাবো তোমাদের
তার আগে বলে নিই ,আমার আব্বু ও আম্মি দুজনেই ধর্মপ্রাণ মানুষ
অবশ্য দুজনের কাছে ধর্মের সংজ্ঞাটা আলাদা
আব্বু খুব অর্থোডক্স মুসলিম
আমার উচ্চশিক্ষা উনার খুব একটা ভালো লাগেনি
আম্মির কাছে ধর্ম ধর্মের জায়গা তে, আর বাস্তবকেও তিনি কখনো অস্বীকার করেন নি
তাই কখনো দেখিনি আমার অবিশ্বাস কে তিরস্কার করতে বা হুমায়ুন আজাদ এর বই কে ঘৃণা করতে
কিম্বা কোন হিন্দু কে অসম্মান করতে
আমাকে তিনি সর্বদায় মানুষ কে সম্মান করতে শিখিয়েছেন
বলেছেন ওইটাই যথেষ্ট
সেদিন এক পাত্রের বাপ এলো আমাকে দেখতে
ভদ্রলোক কে দেখেই মনে হল গোঁড়া মুসলিম
আমি ধর্ম নিয়ে পড়াশুনা ও গবেষণা করছি জেনে তিনি খুব আগ্রহ নিয়েই এসেছিলেন
সোফা তে একদিকে আব্বু আর একদিকে তিনি বসে কথা বলছিলেন
কিছুক্ষণ পরে আমার পরীক্ষার ক্ষণ এলো
আমি যথা রীতি আম্মির কথা মতো ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালাম তার সামনে
তিনি আমায় বসতে বললেন
কিন্তু আব্বুর সাথে গল্প থামালেন না
আমাকে শুনিয়ে শুনিয়েই বললেন ছেলে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার
ব্যাঙ্গালরে থাকে
৭৫০০০ স্যালারি
ওখানেই ফ্ল্যাট ,গাড়ি বছরে তিন চার বার আসে
এবং ছেলের আরও অনেক গুনের কথা
আমি চুপচাপ শুনছিলাম মাথা নিচু করে
পরিকল্পনা অনুযায়ী ঠিক সেই সময়েই আম্মির ডাক - -
"ও রিয়াযের আব্বু
একটু শুনে যাও
আব্বু উনাকে একটু আসি বলে উঠে চলে গেলেন পাসের ঘরে
আমি বসে রইলাম
উনি আমার সাথে কথা সুরু করলেন
আমি কোথায় পড়াশুনা করেছি , কোন ইয়ার,এই জানো সেই জানো ...ইত্যাদি জিজ্ঞাসা করার পর তিনি ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করলেন...
___আচ্ছা বেটি তুমি রোজ ৫ ওয়াক্ত নামায পড়ো তো?
আমি বললাম, " না"
উনি একটু অবাক হলেন
বুঝলাম, এই উত্তরের ন্যুনতম সম্ভাবনাও তিনি আসা করেন নি
____ তুমি ইসলাম নিয়ে পড়াশুনা কর নি?
____তুমি আল্লাহ মানো না? আল্লাহ কে ভয় কর না?
উনি থমথমে মুখ করে চুপ রইলেন
নিজেকে একটু গুছিয়ে নিচ্ছিলেন বোধ হয়
এবার নিজেকে খানিকটা সংযত করে আমার সাহস টা অসহ্য হলেও সহ্য করে নিয়ে বললেন - -
"তুমি কি ধরম নিয়েই গবেষণা করছ এখন ?"
___ তা তমার বিষয় টা কি? থিওলজি না ইসলাম স্টাডিজ ?
________তুলনামূলক ধর্ম (কম্পারেটিভ রিলিজিয়ন)
______তুমি কি সেইটা নিয়েই গবেষণা করছ ?
খানিক তা অপ্রস্তুত হয়ে বললাম
বিষয় টা ফিলসফি বা কম্পারেটিভ রিলিজিয়ন দুটোর ই অন্তর্ভুক্ত
তা কোন ধর্ম তোমার সবচেয়ে পছন্দের ?
- - -কোন ধর্মই নয়
- -কেন, কোরআন পড়ো নি ? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলাম ই একমাত্র ধর্ম
কোরআনে আল্লাহ তালাহ ও জানিয়েছেন সেকথা
এটাই পৃথিবীর সমস্ত রকম জীবন চর্যার মধ্যে একমাত্র পূর্নাঙ্গ জীবন চর্যার পদ্ধতি
আমরা গর্বিত যে আমরা মুসলিম তুমি এটাকেও মানো না ?!!
_______ দুঃখিত
আপনার ধারনা একটু ভুল
আসলে পৃথিবীর সমস্ত ধরমের লোকেরাই দাবি করে যে একমাত্র তাদের জীবন চর্যার পদ্ধতি ই পূর্নাঙ্গ
স্বাভাবিক ভাবে আপনিও করছেন
দাবি সকলেই করে কিন্তু কোন ধর্মই আজ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারেনি কিম্বা কখনই পারবে না যে তাদের জীবন চর্যার পদ্ধতিই পূর্নাঙ্গ
উনার মুখ কেমন যেন আর একটু লাল হয়ে গেল
এটা বলা টা যেন আমার অপরাধ হয়ে গেছে
উনি সেই থমথমে ভাব যথাসম্ভব চেপে বললেন... " তা বেটি , তুমি ত প্রচুর পড়াশুনা করেছ
আমি আর কি বুঝব ! (আসলে খোঁচা দিলেন ) তা তোমার কি মনে হয় , তুলনামূলক ভাবে কোন ধর্ম টা তোমার সবচেয়ে ভাল বলে মনে হয়েছে ?
- - বৌদ্ধ ধর্ম , আমি বললাম
উনি হয়ত এবার আর চুপচাপ থাকতে পারলেন না
ও তো কাফেরের ধর্ম
ওরা তো কোনও কিছুকেই মানে না
- - -কিন্তু ওদের চেয়ে আধ্যাত্মিক ধর্ম পৃথিবী তে আর দুটো নেই
উনি বিস্মিত সুধু না
মনে হল খুব আশাহতও হলেন
উনি আমাকে আর একটা কথাও জিজ্ঞাসা করলেন না
বললেন ঠিক আছে এস
আর তোমার আব্বা কে পাথিয়ে দাও
আমি অন্য ঘরে চলে এলাম
উনি আব্বুর সাথে কি কথা বললেন জানি না
তারপর খাওয়া দাওয়া করলেন কিন্তু আমার সাথে একটাও কথা বললেন না
তারপর চলে গেলেন
উনাকে ছেড়ে দিয়ে আসার পর আব্বু আমাকে নিয়ে উঠে পরে লাগলেন
" - আমি যতই চেষ্টা করি তোর জন্য একটা ভালো ছেলেও জুটবে না
তোর মতো কাফির কে কোন ইমানদার মুসলিম ঘরে নেবে? আল্লাহ মানে না! বলি, জাহান্নামে যাবি যে! বলি শুনছো!"
আমি চুপচাপ
রাগে ফেতে যাচ্ছি মনে মনে
- - "ও রিয়াজের আম্মী! এবার তো একটু শেখাও ওকে
নিজে তো সারা জীবন কুফরি করলে
আর এখন মেয়েকেও শেখাচ্ছো! এবার আমার উপর একটু রহম করো! মেয়ের বিয়ে না দিয়ে আল্লার কাছে কি মুখ দেখাবো? এই ঘরে থেকে আমি দোযখের রাস্তা পরিষ্কার করব না
বলে জুতো পায়ে দিয়ে গটগট করে বেরিয়ে গেলো
আমি চুপচাপ বসে রইলাম
আমি বুঝলাম আজ আমার বারোটা বাজলো
আব্বু তো বলে টলে বেড়িয়ে গেল
রাতে খাবার সময় ফিরলো
বুঝলাম, এই জামা-আত থেকে ফিরছেন, মহাশয় ! ফিরেই আম্মির উপর হুকুম হল খাবার নিয়ে আসার
আম্মি এতদিন ঘর করছে
গলা শুনেই বুঝে গেছে আজ ঘরে আবার অশান্তি
আমার আর আব্বুর নিত্যদিনের কলহে আম্মিই ভোগে সবচেয়ে বেশি