content stringlengths 0 129k |
|---|
তাই সেখানের জনগণ পাকিস্তানের সাথে থাকতে চেয়েছেন |
কাশ্মীরের বৃহৎ রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের জনপ্রিয় নেতা শেখ আবদুল্লাহ ছিলেন মুসলিমদের নেতা |
তিনি রাজার চাইতেও বেশি জনপ্রিয় ছিলেন |
শেখ আব্দুল্লাহ শুরুতে পাকিস্তানে যাওয়ার ব্যাপারে তার মতামত দেন |
এমতাবস্থায় রাজা স্বাধীন থাকার ব্যাপারেই মত দেন |
এতে সম্মত হয় শেখ আব্দুল্লাহও |
রাজা ভারত ও পাকিস্তানের সাথে একটি ডিফেন্স চুক্তি করার প্রস্তাব দেন যাতে তারা তাকে প্রতিবেশী হিসেবে মেনে নেয় এবং সীমান্ত সুরক্ষা পায় |
পাকিস্তান সম্মত হয় এবং তার সাথে চুক্তি করে |
কিন্তু ঝুলিয়ে রাখে ভারত |
তারা কাশ্মীরকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করে |
রাজা হরি সিংহ |
কাশ্মীরের নিষ্ঠাবান মুসলিমরা তাদের নেতাদের (রাজা ও শেখ আব্দুল্লাহ) এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি |
তারা পাকিস্তানের সাথে একীভূত হওয়ার জন্য আন্দোলন শুরু করে |
তাদের যুক্তি ছিলো যেহেতু ভারত তাদের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়নি, সুতরাং ভারত যে কোনো সময়েই কাশ্মীর আক্রমণ করবে |
কাশ্মীরের মতো মুসলিম অঞ্চল ভারতের দখলের কবলে পড়লে কাশ্মীরের মুসলমানদের দুর্ভাগ্য বরণ করতে হবে |
তারা মুসলিম সংহতির ভিত্তিতে গঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তানের সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য আন্দোলন করে, শেখ আব্দুল্লাহকে গাদ্দার উপাধি দেয় |
শেখ আব্দুল্লাহ ভেবেছিলো কাশ্মীর স্বাধীন থাকলে দিক কয়েক পরে সে কাশ্মীরের প্রধান শাসক হতে পারবে যেহেতু কাশ্মীর মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল |
এসময় রাজার লোকেরা আন্দোলনকারীদের উপর আক্রমণ চালায়, হত্যা করতে থাকে মুসলিমদের |
যেহেতু মুসলিমরা দু'ভাগে বিভক্ত |
তাই সে মুসলিম নিধনের সুযোগ গ্রহণ করে |
এই ঘটনার জেরে অল্পকিছুকাল পরেই পাঠান জনগোষ্ঠী পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে কাশ্মীরে প্রবেশ করে |
মুসলিমরা শ্রীনগরের দিকে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হতে থাকে |
ধারণা করা হয় মুসলিমদের বাঁচাতে জিন্নাহই পাঠানদের কাশ্মীরে পাঠায় |
যেহেতু পাকিস্তান কাশ্মীরের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ, তাই সরাসরি সেনা হস্তক্ষেপ করেনি পাকিস্তান |
পাঠানদের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে কাশ্মীরের রাজা সামরিক সহায়তা চেয়ে ভারতকে চিঠি দেয় |
ভারত তখন রাজাকে একীভূতকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার এবং সেই সাথে শেখ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করার দাবি করে |
নেহেরু এখানে চালাকির আশ্রয় নেয় |
সে জানে ভারত কাশ্মীর আক্রমণ করলে সব মুসলিম এক হয়ে যাবে |
তাই সে ভারত আক্রমণ করার আগে গাদ্দার শেখ আব্দুল্লাহকে কথিত শাসক বানিয়ে নেয়, যাতে মুসলিমরা দ্বিধাগ্রস্থ ও বিভক্ত থাকে |
কাশ্মীরের রাজা নিরুপায় হয়ে সব মেনে নেয় |
শেখ আব্দুল্লাহ ও ইন্দিরা |
ভারতীয় সৈন্যরা জম্মু, শ্রীনগর দখল করে নেয় |
কিন্তু শীতকাল শুরুর সাথে সাথে শুরু হওয়া এই প্রচণ্ড যুদ্ধের ফলে রাজ্যটির অধিকাংশ স্থান দুর্গম হয়ে পড়ে |
নেহেরু এই বিবাদের উপর আন্তর্জাতিক দৃষ্টি স্মরণে রেখে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন এবং জাতিসংঘের সালিশি কামনা করেন |
তিনি বলেন, অন্যথায় উপজাতীয় আক্রমণ থামাতে ভারতকে বাধ্য হয়েই পাকিস্তান আক্রমণ করতে হবে |
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সিদ্ধান্ত হয় গণভোটের মাধ্যমেই কাশ্মীরের ভাগ্য চুড়ান্ত হবে |
ভারত সেই গণভোট কখনই অনুষ্ঠিত হতে দেয় নি |
আজ পর্যন্ত না |
২৬শে জানুয়ারি, ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান ৩৭০ ধারা দিয়ে কাশ্মীরকে অধিভুক্ত করে |
ভারত কাশ্মীরের পুরোটা দখলে নিতে পারেনি |
১৯৪৭ সালে কাশ্মীরের উত্তর এবং পশ্চিম অংশদ্বয়ের উপর পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং উক্ত স্থানকে বর্তমানে আযাদ কাশ্মীর বলা হয় |
৩৭০ ধারা হলো কাশ্মীর রাষ্ট্র ও ভারত রাষ্ট্র একীভূত হওয়ার দলিল |
কী ছিলো ৩৭০ ধারাতে? |
ভারতের সংবিধানে ৩৭০ ধারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ১৭ অক্টোবর |
এই ধারাবলে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতীয় সংবিধানের আওতামুক্ত রাখা হয় (অনুচ্ছেদ ১ ব্যতিরেকে) এবং ওই রাজ্যকে নিজস্ব সংবিধানের খসড়া তৈরির অনুমতি দেওয়া হয় |
এই ধারা বলে ওই রাজ্যে সংসদের ক্ষমতা সীমিত |
ভারতভুক্তি সহ কোনও কেন্দ্রীয় আইন বলবৎ রাখার জন্য রাজ্যের মত নিলেই চলে |
কিন্তু অন্যান্য বিষয়ে রাজ্য সরকারের একমত হওয়া আবশ্যক |
১৯৪৭ সালে, ব্রিটিশ ভারতকে ভারত ও পাকিস্তানে বিভাজন করে ভারতীয় সাংবিধানিক আইন কার্যকর হওয়ার সময়কাল থেকেই ভারতভুক্তির বিষয়টি কার্যকরী হয় |
ভারতভুক্তির শর্ত হিসেবে জম্মু কাশ্মীরে ভারতীয় সংসদ প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগ- এই তিনটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে ক্ষমতাধর |
এর বাইরে এখানের নাগরিকরা দ্বৈর নাগরিকত্ব ভোগ করবে, কাশ্মীরের জন্য আলাদা সংবিধান হবে, আলাদা পতাকা থাকবে, এখানে কাশ্মীরি ছাড়া ভারতের অন্য কেউ জমি কিনতে ও স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে না |
এখানের বিচার ব্যবস্থা ও আইন থাকবে আলাদা |
স্বতন্ত্র |
কেন ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীর পুরো দখল করে নিলো? |
কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির মূল লক্ষ্য ভারত সরকার এর ডেমোগ্রাফি বা জনসংখ্যার চিত্র বদলে দিতে চায় |
আগে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ কাশ্মীরে জমি বা বাড়ি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারতো না |
৩৭০ ধারা বিলোপের মাধ্যমে সে বাধা কেটে গেলো |
যে কেউ এখন সরকার থেকে ভূমি অধিগ্রহণ করে শিল্পকারখানাও স্থাপন করতে পারবে |
বিজেপি এখানে প্রচুর হিন্দুদের সেটেল করতে চাইবে অনেকটা ইসরাঈলের মতো |
তারা যেভাবে বসতি স্থাপন করে ফিলিস্তিন দখল করেছিলো |
এর মাধ্যমে বর্তমানের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা নষ্ট হয়ে যাবে |
বিপুলভাবে হিন্দুদের সেটেল করে দিয়ে মুসলিম সংকীর্ণ করে ফেলা হবে |
তাদেরকে উদ্বাস্তুও করে ফেলা হতে পারে |
ডেমোগ্রাফি চেইঞ্জ হলে কাশ্মীর নিয়ে স্বাধীনতার দাবীদাররা হামেশাই কন্ট্রোল হয়ে যাবে |
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কাশ্মীর সমস্যা কি একই রকম? |
না, কখনোই নয় |
ভারত একটি স্বাধীন জাতিকে জোরপূর্বক দখল করে তাদের অধীন করে নিয়েছিলো |
কাশ্মীরীরা ইংরেজ আমলেও স্বায়ত্বশাসিত ছিলো |
কিন্তু ভারত তাদের গোলামে পরিণত করেছে |
৩৭০ ধারা যার মাধ্যমে কাশ্মীর ও ভারত একীভূত হয়েছে সেই চুক্তিকে বিলোপ করে দিতে ভারত ঐ জাতির সাথে প্রতারণা করেছে |
আর অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম কখনোই পাহাড়িদের ছিলো না |
এই ভূমি সবসময় বাঙালিদের ছিলো |
আমরা কিছু পালিয়ে আসা ও নির্যাতিত মানুষকে আশ্রয় দিয়েছি |
আর তারা এখন আমাদের বলছে তারা নাকি এই অঞ্চলের ভূমিপূত্র |
প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে এখানে দ্রাবিড় জাতিগোষ্ঠীর বসবাস, যাদের থেকে বাঙালি জাতির উৎপত্তি |
অতএব আমাদের ভূমিতে অন্যরা এসে নিজেদের ভূমি দাবী মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয় |
আর আমাদের দেশে পাহাড়িদের সাথে কোনোভাবেই অন্যায় আচরণ করা হয় না |
বরং তাদের সকল সুযোগ সুবিধা বাঙালিদের চেয়ে বেশি দেয়া হয় |
তাদের স্বাধীনতা দাবী অন্যায্য ও অন্যায় |
: |
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!-এ শেয়ার করুন-এ শেয়ার করুন |
নবীনতর পোস্ট পুরাতন পোস্ট হোম |
0 : |
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন |
ফেসবুক পাতা |
টুইটারে সাথে থাকুন |
@_ |
কালো পঁচিশ কি আসলেই কালো? |
২৫ মার্চের আলোচনায় যাওয়ার আগে একটা ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি |
আপনারা জানেন চট্টগ্রামে ছাত্রশিবির এবং জামায়াতের ব্যপক প্রভাব |
চট্টগ্রামের আ. ল... |
১৪ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী কারা? |
১৯৭১ সালে নিহতদের মধ্যে যারা বুদ্ধিজীবী হিসেবে চিহ্নিত এরকম আছেন প্রায় ৩৬ জন |
এদের মধ্যে আঠার জন ১৪ই ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেছেন |
সীমানাভাঙা বিপ্লবের কবি আল্লামা ইকবাল |
আল্লামা ইকবাল যখন জন্ম নিলেন তখন মুসলিম নেতৃত্বের সূর্য অস্তমিত হচ্ছে |
তিনি যখন যৌবনে তখন মুসলিম সালতানাত ভেঙে খান খান হচ্ছে |
ইউরোপিয়ানদের জ... |
বঙ্গকথা পর্ব-৭৪ : ১৯৭১ সালের হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ও সত্যাসত্য প্রসঙ্গ |
বাংলাদেশে ৫০ বছরে এই পর্যন্ত ৭১ এর হত্যাযজ্ঞ নিয়ে ভালো কোনো তালিকা বা রেকর্ড তৈরি করেনি এদেশের কোনো সরকার |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.