content
stringlengths
0
129k
এই তিন জন আপোসহীন সম্পাদক ইকনমিক ডিসপ্যারিটি ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশী লড়াই করেছেন
মানিক মিয়া সাহেব ইত্তেফাকের মালিক ছিলেন বিধায় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব একটু বেশী ছিল
এখানে একটু বলে রাখা দরকার যে, ইত্তেফাকের প্রতিস্ঠাতা ছিলেন মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী
মানিক মিয়া সাহেবের নামে মানিক মিয়া এভিনিউ আছে
জহুর হোসেন সাহেব ও সালাম সাহেবের নামে রাজধানীতে কোন স্মৃতিফলক নেই
এমন কি ভাষা সৈনিক হিসাবেও সালাম সাহেবের নাম উচ্চারিত হয়না
আমার প্রিয় মানুষ পরম শ্রদ্ধেয় মাহবুবুল হক সাহেব আমাকে সাংবাদিকতায় আসার জন্যে উত্‍সাহিত করেছিলেন
স্কুল জীবনেই তাঁর সাথে আমার পরিচয় ছিল
মাহবুবুল হক সাহেব তখন ছিলেন সারা পাকিস্তানের ডাক সাইটে শ্রমিকনেতা ও পার্লামেন্টারিয়ান
একই সাথে ছিলেন অবজারভার গ্রুপের ম্যানেজিং এডিটর ও পূর্বদেশের সম্পাদক
পূর্বদেশ প্রথমে ছিল পল্লীবার্তা
মাহবুবুল হক সাহেব এর প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন
ফেণী থেকে প্রকাশিত হতো
তখন তিনি রেলওয়ে এম্প্লয়িজ লীগের সভাপতি ছিলেন
মাওলানা ভাসানী এক সময় এই সংগঠনের সভাপতি ছিলেন
তখন মাহবুব ভাই ছিলেন সাধারন সম্পাদক
বাংলা বাজার গার্লস হাইস্কুলের পাশেই ছিল আলহেলাল প্রিন্টিং প্রেস
পুরাণো খাম্বাওয়ালা বিল্ডিংয়ে ছিল অবজারভার অফিস
মাহবুব ভাই অবজারভারে যোগদানের পর পল্লীবার্তা ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়
নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় পূর্বদেশ
মানে সাপ্তাহিক পূর্বদেশ
পরে ১৯৬৯ সালে সাপ্তাহিক পূর্বদেশ দৈনিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে
আমি প্রথমে অবজাভারে কাজ করি, পরে পূর্বদেশে
বাল্যকাল থেকেই লিখতে ও কথা বলতে আমার খুব ভাল লাগতো
স্কুল কলেজের বিতর্ক অনুস্ঠানে নিয়মিত অংশ গ্রহণ করতাম
ছবি আঁকারও অভ্যাস ছিল
অবজারভারে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম
কিন্তু মনে মনে খুব ছিল নিজের যোগ্যতা সম্পর্কে
তখন অবজারভারে বিখ্যাত সব মানুষ কাজ করতেন
নিউজ এডিটর ছিলেন এবিএম মূসা
তিনি লন্ডন ছিলেন
বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন মাহবুব জামাল জাহেদী
মুসা ভাই ফিরে এলে জাহেদী সাহেব সম্পাদকীয় বিভাগে চলে গিয়েছিলেন
৬২ সালে জেলখানা থেকে বেরিয়ে কেজি মোস্তাফা সাহেব চীফ সাব এডিটর হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন
এর আগে তিনি সংবাদের ছিলেন
চীফ রিপোর্টার ছিলেন শহীদুল হক সাহেব
এর আগে তিনি মর্ণিং নিউজে ছিলেন
সংবাদপত্রে যোগ দিয়েছিলাম আদর্শগত কারণে
মনে হয়েছিল দেশের কথা দশের কথা বলতে পারবো
আমার লেখাপড়া ছিল কমার্সে
বাবার ইচ্ছা ছিল আমি যেন চার্টার্ড একাউন্টটেন্ট হই
সেদিকে আমার কোন ঝোঁকই ছিলনা
বাবা খুবই চিন্তিত ছিলেন
বড় ছেলেটাই যদি বখে যায় তাহলে সংসারের কি হবে
আমি ছিলাম শিক্ষানবীশ ইকনমিক রিপোর্টার
বেতন ছিল পকেট এলাউন্স হিসাবে একশ' টাকা
কনভ্যান্স হিসাবে পেতাম দৈনিক একটাকা
কারণ তখনও ওয়েজবোর্ড চালু হয়নি
অল্প কিছুদিন পরেই চালু হয়েছিল
এই প্রথম সাংবাদিকরা শ্রমজীবী হিসাবে স্বীকৃতি পেলেন
চাকুরীর নিয়ম কানুন তৈরী হলো
এর আগে সাংবাদিকরা বেতন পেতেন ৫০/১০০ টাকা
তাও কখনও একসাথে পাওয়া যেতনা
তবে কেউ অসন্তুষ্ট ছিলেন না
কারণ তখন সাংবাদিকতা ছিল একটা মিশন ও আদর্শ
সেই মিশন ও আদর্শ ছিল মানুষের জন্যে কথা বলা
যারা কাগজ বের করতেন তাদেরও আদর্শ ছিল
তারা মুনাফা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্যে কাগজ বের করতেন না
কাগজের মালিক ও সাংবাদিকরা সবাই ছিলেন সমাজে খুবই সম্মানিত
তবে একথাও শুনেছি, সাংবাদিকদের কাছে কেউ বাড়ি ভাড়া দিতে চাইতোনা
বিয়ের ব্যাপারেও তাদের সমস্যা ছিল
তবে ব্যবস্থাপনার দিক থেকে অবজারভার ছিল খুবই সংগঠিত একটি প্রতিস্ঠান
সম্ভবত হামিদুল হক চৌধুরী সাহেবই সর্ব প্রথম পত্রিকাকে শিল্প হিসাবে গড়ে তোলার ব্যাপারে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছেন
তিনিই সংবাদপত্রে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করেছেন
তখনকার দিনে একমাত্র অবজারভারই নিয়মিত বেতন দেওয়ার রেওয়াজ চালু করেছিল
সেই সময়ে সবচেয়ে সাহসী বার্তা সম্পাদক ছিলেন মুসা ভাই
সাংবাদিকতা ছিল তাঁর কাছে একটা আদর্শ
সরকারের স্বৈরাচারী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন একজন আপোষহীন কলম সৈনিক
এইতো ক'দিন আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে মুসা ভাইয়ের ৮০ তম জন্মদিন পালিত হয়েছে
আমরা দোয়া করি কর্মক্ষম মুসা ভাই আরো অনেকদিন বাঁচবেন
সত্যের পক্ষে কলম চালিয়ে যাবেন ও কথা বলবেন
তখনকার দিনে খবরের কাগজ প্রকাশ করতেন রাজনীতিক আইনজীবী ও সমাজ সচেতন ব্যক্তিগণ
তাঁরা স্বাধীনতা অধিকার গনতন্ত্র ইত্যাদি বিষয়ে জগণকে সজাগ ও সচেতন করার জন্যেই নিজের অর্থে বা বন্ধুদের সহযোগিতা নিয়ে কাগজ প্রকাশ করতেন
কোলকাতায় দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়েছিল মুসলমানদের পক্ষে কথা বলার জন্যে
শ্রদ্ধেয় মাওলানা আকরাম খাঁ সাহেব কোন ধনী ব্যক্তি ছিলেন না
তিনি ছিলেন উদ্যোক্তা ও সংগঠক
পরে তাঁকে অনেকেই সাহায্য করেছেন
সেই আজাদ পাকিস্তান হওয়ার পর ঢাকায় স্থানান্তরিত হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের খেদমত করেছে
অনেক প্রগতিশীল বামপন্থী সাংবাদিকও আজাদে কাজ করেছেন
অবজারভারের আত্মপ্রকাশও সেইভাবে হয়েছ
হামিদুল হক চৌধুরী সাহেব একজন আইনজীবী ছিলেন
জমিদার বা শিল্পপতি ছিলেননা
কিছু বন্ধুবান্ধবকে সাথে নিয়ে তিনি এ কাগজ চালু করেছিলেন
উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থের পক্ষে কথা বলার জন্যে একটি ইংরেজী কাগজ চালু করা
তখন মর্ণিং নিউজ ছিল সরকার ও মুসলীম লীগ সমর্থক ইংরেজী কাগজ
আর অবজারভার ছিল গণতন্ত্র ও পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থের পক্ষে কথা বলা
এখন আজাদ মর্ণিং নিউজ ও অবজারভার বন্ধ হয়ে গেছে
দৈনিক সংবাদ ৫৪ সালের নির্বাচনের আগে মুসলীম লীগের কাগজ ছিল
নির্বাচনের পরে নুরুল আমিন সাহেবের নিকট আত্মীয় আহমদুল কবীর সাহেবেরা দায়িত্ব গ্রহন করেন
প্রথমে কিছুদিন খায়রুল কবীর সাহেব সম্পাদক ছিলেন
পরে জহুর হুসেন চৌধুরী সাহেব সম্পাদক ছিলেন
তখন থেকে সংবাদ বামপন্থীদের কাগজে পরিণত হয়
বামপন্থী মনোভাবের কারণে আমি নিজেও অবজারভার ছেড়ে সংবাদে যোগ দেই জহুর ভাইয়ের উত্‍সাহে
সে সময়ে শহীদুল্লাহ কায়সার সাহেব ছিলেন নির্বাহী সম্পাদক
তিনি বার্তা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন
ডাকসাইটে বড় বড় কমিউনিস্ট নেতারাও সংবাদের কাজ করতেন
সেই সময়ে আরও বহু ছোটখাট কাগজ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থে কথা বলার জন্য বেরিয়েছিল
যেমন সৈনিক ও নওবেলাল
ভাষা আন্দোলনের কথা বলার প্রধানতম কাগজ ছিল সাপ্তাহিক সৈনিক
মুসলীম লীগের শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যে মাওলানা সাহেব সাপ্তাহিক ইত্তেফাক প্রতিস্ঠা করেছিলেন ৪৯ সালে আওয়ামী মুসলীম লীগ গঠণের পর পরই