content stringlengths 0 129k |
|---|
তখন মুসলীম লীগের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো তেমন কোন কাগজ ছিলনা |
তাছাড়া মাওলানা সাহেব ভেবেছিলেন তাঁর নিজ দলের জন্যেও একটি কাগজ দরকার |
শুরুতে সাপ্তাহিক ইত্তেফাক হাটখোলা রোডের প্যারামাউন্ট প্রেস থেকে ছাপা হতো |
৫৪ সালের নির্বাচনের পরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠিত হয় |
চীফ মিনিস্টার হলেন আতাউর রহমান খান সাহেব |
এর আগে কিছুদিনের জন্যে চীফ মিনিস্টার হয়েছিলেন আবু হোসেন সরকার সাহেব |
বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আতাউর রহমান সাহেবের কেবিনেটে কিছুদিন দুর্ণীতি দমন মন্ত্রী ছিলেন |
যদিও তিনি বেশীদিন মন্ত্রীত্ব বা ওজারতি করেননি |
আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে ডাক্তারী ওকালতি শিক্ষকতা সহ অন্যান্য পেশার মতো সাংবাদিকতা নয় |
সাংবাদিকতার সাথে দেশ মানুষ ও সমাজের অনেক কিছু জড়িত |
এর সাথে গণমানুষের অধিকার জড়িত |
পশ্চিমা দেশে সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্রকে রাস্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়ে থাকে |
চলমান সময়ে সংবাদপত্র ছাড়া রাস্ট্র সরকার ও সমাজ কল্পনা করা যায়না |
অনেকেই বলেন, সরকার বা রাস্ট্র না থাকলেও চলবে |
কিন্তু সংবাদপত্র বিহীন কিছুই কল্পনা করা যায়না |
পুরোণো সমাজ বা রাজা বাদশাদের যুগেও শাসকদের তথ্য লেনদেন বা আদান প্রদান করতে হতো |
স্বয়ং আল্লাহপাক নিজেও তাঁর নিজের কথা বলার জন্যে নবী মনোনীত করে ফেরেশতা বা সংবাদ বাহকের মাধ্যমে ওহী/বাণী/সংবাদ প্রেরণ করতেন |
এভাবেই তিনি জগতের সকল ধর্মের নবী/রাসুল/অবতারদের কাছে বাণী পাঠাতেন |
সে বাণী গাছের বাকল পাতা চামড়া ইত্যাদিতে লিখিত থাকতো |
যেখানে লেখার ব্যবস্থা ছিলনা সেখানে তা শ্রুতিতে থাকতো |
ভারতের প্রাচীন বেদ উপনিষদ সংহিতা গুলো প্রথমে শ্রুতিতে ছিল |
তারপর সেসব শ্রুতি ধীরে ধীরে কাগজে কলমে লিপিবদ্ধ করা হয় |
৪৭ থেকে ৬০ সাল পর্যন্ত সাংবাদিকরা একশ'ভাগ আদর্শগত কারনে সাংবাদিকতায় এসেছেন |
বেতন বা মুজুরীর ব্যাপারকে তাঁরা কখনই গুরুত্ব দেননি |
এমন কি আইউব খান আমলে ওয়েজবোর্ড চালু হওয়ার পরেও সাংবাদিকরা আদর্শচ্যুত হননি |
তাঁরা মানবতা গণতন্ত্রের জন্যে কাজ করেছেন |
সত্য ও মানুষের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে বহু সাংবাদিক বছরের পর বছর জেল খেটেছেন |
ওয়েজবোর্ড চালু হলেও পূর্ব পাকিস্তানে সব কাগজ ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী মুজুরী দিতে পারেনি |
যতদূর মনে অবজারভার প্রথমে ওয়েজবোর্ড চালু করে |
তখন থেকেই সংবাদপত্র শিল্প হিসাবে পরিগণিত হয় |
কাঁচামাল আমদানীর জন্যে নানা ধরনের লাইসেন্স পেতে থাকে |
শিল্প হওয়ার আগেই আজাদ সংবাদ এবং ইত্তেফাক সরকারী বাড়ি বরাদ্দ পেয়েছিল |
অবজারভার পরে মতিঝিলে জায়গা বরাদ্দ পেয়েছিল |
অবজারই প্রথম নতুন অফসেট প্রিন্টিং মেশিন আমদানী করেছিল |
তখন থেকেই সাংবাদিকরা শ্রমিক হিসাবে আইনগত স্বীকৃতি পায় |
তাঁরা সরকার ঘোষিত বেতন বোর্ড রোয়েদাদের অধীনে মুজুরী ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে |
সেজন্যেই সাংবাদিক শ্রমিকদের দর কষাকষির জন্যে শ্রমিক ইউনিয়ন রয়েছে |
মালিকদেরও রেয়েছে মালিক সমিতি |
শ্রমিক মালিক ও সরকার যৌথভাবে বসে আলাপ আলোচনা ও দর কষাকষি করে সুযোগ সুবিধা ও মুজুরী নির্ধারন করা হয় |
যেসব পত্রিকা ও সংস্থা বেতন বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন করেছে সেখানে সাংবাদিকরা মোটামুটি ভাল আছেন |
যেখানে বাস্তবায়ন হয়নি সেখানে সাংবাদিকরা খুবই কস্টে আছেন |
বেতন বা কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা দিতে পারেনা এমন কাগজ বা সংস্থার সংখ্যা কম নয় |
এছাড়াও সারা দেশে শত শত ছোট কাগজ রয়েছে যারা বেতন বোর্ড রোয়েদাদ বাস্তবায়ন করতে পারেনা |
ছোট কাগজদের কোন সংগঠন নেই |
এরা নিজেদের ছোট বলতেও রাজী নয় |
ছোট কাগজের সম্পাদকরা বা সম্পাদক মালিকরা বড় কাগজের সম্পাদকদের পাশে বসে ডিনার খেতে বা মিটিং করতে ভালবাসে |
ছোট কাগজ গুলোর দর কষাকষি বা বারগেইনিং পাওয়ার একেবারেই নেই |
সারাদেশে সম্মিলিত ছোট কাগজ গুলোর অবদান কিন্তু কম নয় |
আমি বলবো অনেক বেশী |
সরকারী হিসাব মতে বড় শহরের কাগজের প্রচার বা সার্কলেশনের চেয়ে জেলা বা উপজেলা শহরের কাগজের সার্কুলেশন অনেক বেশী |
উপজেলা পর্যায়ে ছোট কাগজ গুলোর প্রভাব অনেক বেশী |
বড় বড় শহর বা নগরে এখন পত্রিকার মালিক হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা |
ব্যবসায়ীরা এক সময় মিডিয়ায় বিনিয়োগ করতে আসতোনা |
এখন তাঁরা সংসদের সদস্য হচ্ছেন |
কেউ কেউ মন্ত্রীও হচ্ছেন |
চলমান সংসদে নাকি একশোরও বেশী প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আছেন |
সরকারী নীতিতে প্রভাব বিস্তার করছেন |
কিছুদিন আগে এক জমির ব্যবসায়ী প্রকাশ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীকে হুমকি ধামকি দিয়েছেন |
যা অনেকক্ষন ধরে টিভিতে দেখানো হয়েছে |
জমির ব্যবসায়ী, বিদেশী পণ্যের এজেন্ট, মসলা বা অষুদ বিক্রেতারা বড় বড় মিডিয়া হাউজের মালিক হয়েছেন |
সম্পাদকরা গাড়ি বাড়ি সহ লাখ লাখ টাকা বেতন পাচ্ছেন |
সম্পাদকরা এখন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন |
মাঝারী ও ছোটখাট সাংবাদিকরাও ডালভাতের জায়গায় হালুয়া রুটি পোলাও কোরমা খেতে পারছেন |
আমি নিজেও খুব খুশী |
যাক এতদিন পর হলেও সাংবাদিকরা দুটো পয়সার মুখ দেখছেন |
মালিকদের চেহারাতেও দিন দিন রওনক বাড়ছে |
মাঝখানে শহীদ হয়ে গেছে মানবতা গনতন্র ও গরীবের ভাগ্য |
খবরের কাগজে রঙিন বিজ্ঞাপণ বাড়ছে আর কতল হচ্ছে গরীব মানুষের জীবন যাত্রা |
সংবাদপত্রের মালিক ও সাংবাদিকরা দলবেঁধে তাবেদারী ও তোষামোদীর প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে |
তাবেদারী আর তোষামোদীর প্রয়োজনে সাংবাদিক ইউনিয়ন আজ দুই ভাগে বিভক্ত |
ভাগ্য ভালো জাতীয় প্রেসক্লাবটা এখনও ভাগ হয়নি |
সাংবাদিকরা এখন আর মানুষ বা দেশবাসীর সাথে নেই |
তাঁরা আছেন দলের সাথে অথবা সরকারের সাথে |
ইউনিয়ন ভাগ হয়ে যাওয়ার ফলে দল আর সরকার গুলোর জন্যে খুবই ভাল হয়েছে |
সরকার বা দল সব সময় এক গ্রুপ সাংবাদিক তাঁদের পক্ষে পেয়ে যান |
সাংবাদিকরাও বলেন, দেশ স্বাধীন হয়ে গেছে |
এখনতো আর উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন নেই |
এখন সরকার আর দল গুলোতো আমাদের নিজেদেরই |
এখন শুধু দেশকে ভালবাসতে হবে |
দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে হবে |
বিদেশী কোন শাসক নেই |
শোষণও নেই |
এখন সাংবাদিকরা লড়াই করবে কি জন্যে? সাংবাদিকদের এখন অভিযোগ কিসের? |
লেখক: কবি সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক |
40@. |
: |
: |
... |
| |
2018 (1) |
2016 (1) |
2016 (2) |
2015 (2) |
2015 (1) |
2015 (1) |
2015 (1) |
2015 (4) |
2015 (1) |
2015 (4) |
2015 (3) |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.