content stringlengths 0 129k |
|---|
গত ২৮ এপ্রিল দৈনিক সময়ের আলোর সিটি এডিটর ও চিফ রিপোর্টার এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকনের মৃত্যু হয় |
এরপর এই মহামারিতে মৃত্যুবরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সিনিয়র সাংবাদিক সুমন মাহমুদ |
তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর |
গতকাল রবিবার (৩১ মে) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল এনটিভির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান ও দেশের স্বনামধন্য আবৃত্তিকার মোস্তফা কামাল সৈয়দ |
তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর |
করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৩ জন সাংবাদিক হলেন- দৈনিক ভোরের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সাবেক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসলাম রহমান, দৈনিক সময়ের আলোর সিনিয়র সাব-এডিটর মাহমুদুল হাকিম অপু এবং দৈনিক বাংলাদেশের খবরের ফটোগ্রাফার এম মিজানুর রহমান খাঁন বৈশ্বিক... |
পোস্টটি শেয়ার করুন : |
করোনায় দেশে আরো ২২ জনের মৃত্যু |
দেশজুড়ে শোকের ছায়া দেশের অন্যতম শীর্ষ আলেম, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, শাইখুল মাশায়েখ, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা হাশেমীর ইন্তেকাল |
সমীর পরদিন অফিস পৌঁছলো তখন সেকশনে অনেকেই আসেনি শুধু সীমাকে দেখতে পেল |
ওর পিছন দিয়ে নিজের কেবিনে বসে জেসিকে ইন্টারকম করল |
ওপর থেকে সারা পেল - হ্যালো |
সমীর - আমি বলছি স্যার |
অমরনাথ(জেসি) - কি খবর বলো, কালকে পাপিয়াকে কেমন লাগল? |
সমীর- স্যার কিছু মনে করবেন না - ও আসলে একটা বেশ্যা চরিত্রের মহিলা কালকে ওর মেয়ের কাছে অনেক গল্পই শুনলাম |
ওর মেয়ে তানিয়া সবটাই জানে |
আপনি কি কখনো ওর বাড়িতে গেছেন? |
অমরনাথ - না ও আমাকে কোনোদিন ইনভাইট করেনি ওর বাড়িতে |
একথা কেন জিজ্ঞেস করছ তুমি? |
সমীর - ওর বাড়িতে গেলে দেখতে পাবেন যে আপনার বা অনেক ধোনি ব্যক্তিদের থেকেও ওর ফ্ল্যাট অনেক বেশি দামি আসবাবপত্রে সাজান |
আর এ সবই করেছে তাদের সাথে শুয়ে |
প্রোমোটার ইলেক্ট্রিসিয়ান, প্লাম্বার এমনকি ম্যাসনও ব্যাড যায়নি ওর হাত থেকে |
ও শরীর দিয়েছে আর তারা সবাই বিনি পয়সায় ওর ফ্ল্যাটে কাজ করেছে |
অমরনাথ-তাই নাকি আমিতো এসবের কিছুই জানতাম না |
সমীর- আমি ঠিক করেছি যে ওর সাথে শুধু অফিসের সম্পর্ক থাকবে তাও যতটা কম ওর সান্নিধ্যে আস্তে হয় তাই করব আমি |
কেননা যদি কোনদিন ভিজিলেন্স চেকিং হয় তো আমিও ফেঁসে যেতে পারি আর আপনিও |
অমরনাথ -তুমি ঠিকই বলেছে সমীর আমিও ওকে আর বেশি পাত্তা দেবোনা |
রিসিভার রেখে দিয়ে জলের গ্লাসটা নিয়ে এক ঢোকে শেষ করল |
একটু বাদে বাদল ওর জন্ন্যে চা নিয়ে এলো |
ওর সামনে রেখে বলল স্যার খেয়ে দেখুন স্পেশ্যাল চা |
সমীর চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলল - হ্যা বাদল বেশ ভালো চা সুন্দর গন্ধ আর দারুন টেস্ট |
বাদলকে জিজ্ঞেস করল - তুমি সকালে কিছু খেয়ে বেড়িয়েছ নাকি এমনি খালি পেটেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছো? |
বাদল মাথা নিচু করে বলল - না স্যার আজকে খাওয়া হয়নি আমার, তবে এখুনি ক্যান্টিনে গিয়ে কিছু খেয়ে নেব |
ও মুখে বললেও পকেটে শুধু গাড়ি ভাড়া রয়েছে খাবে কি করে |
সমীর ওর মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল ক্যান্টিনের ম্যানেজারকে এখন পাওয়া যাবে? |
বাদল - না স্যার এখনো বিপুলদা আসেনি |
সমীর বলল - ঠিক আছে তুমি ক্যান্টিনে গিয়ে কাউকে বলে এসে যে ম্যানেজার এলে যেন আমাকে একটা খবর দেয় |
সমীরের চা শেষ হতে বাদল কাপ নিয়ে বেরিয়ে এলো |
সোজা ক্যান্টিনে গিয়ে দেখে বিপুল সবে এসেছে |
বাদল সমীরের কথা বলতেই বিপুল বলল - অরে স্যার আমাকে স্মরণ করেছেন আমি নিজেই যাচ্ছি ওনার সাথে দ্যাখা করতে |
বাদলের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল - কেন ডেকেছে বলতো? খাবার খারাপ ছিল? |
বাদল - তা আমি জানিনা আমাকে কিছুই বলেন নি |
বিপুল মানুষটা বেশ ভালো মানুষ বয়েস ৩৫-৩৬ হবে সংসারী মানুষ |
আর এই দুনিয়ায় যতটা সৎ থাকা যায় সেটাই চেষ্টা করে. |
নিজের চেয়ারে না বসে সোজা লিগ্যাল সেকশনের দিকে চলল |
ও জানে লিগ্যাল আর একাউন্টস এই দুটো সেকশনকে চটানো চলবেনা |
দরজায় টোকা দিয়ে একটু ফাঁক করে ভিতরে উঁকি দিয়ে জিজ্ঞেস করল - ভিতরে আসতে পারি স্যার? |
সমীর মুখে তুলে ওকে দেখে ভিতরে আসতে বলল |
বিপুল হাত তুলে নমস্কার করে বলল - আপনিকি আমাকে ডেকেছেন? আমি ক্যান্টিন ম্যানেজের এখুনি বাদল আমাকে বলল আপনার কথা |
সমীর- অরে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন কেন বসুন আর আপনি আসতে গেলেন কেন আমাকে খবর দিলে তো আমি নিজেই আপনার কাছে যেতাম |
যাকগে এসেছেন যখন তবে শুনুন - বাদল ছেলেটির জন্য সকালের জলখাবার দুপুরের খাবার বিকেলের টিফিন চা সব কিছুই ওকে দেবেন আর ওর কাছ থেকে কোনো পয়সা নেবেন না |
বলবেন যে আপনিই ওকে খাওয়াচ্ছেন তবে আপনার সারা মাসে যা বিল হবে আমার কাছে থেকে নিয়ে নেবেন আর এ কথা যেন আমি আর আপনি ছাড়া আর কেউ না জানে বুঝেছেন |
বিপুল কিছুক্ষন সমীরের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল - আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন এ কথা আর কেউই জানবেনা |
সমীর ওকে বলল - আজ এখন থেকেই যেন ওর খাওয়ান শুরু করুন |
বিপুল হাত জোর করে প্রণাম জানিয়ে বেরিয়ে গেল |
বিপুল বেরিয়ে যেতে সিএলও কল করলেন |
সমীর ফোন তুলতেই ওপার থেকে বললেন - আপনি তো মশাই এক মাসের কাজ কয়েক ঘন্টায় করে রেখেছেন |
লাঞ্চের পরে একবার আমার কেবিনে আসুন ডিসকাস করব |
সমীর-ঠিক আছে আমি তিনটে নাগাদ আসছি আপনার কাছে |
সবে চারটে ফাইল দেখে রিপোর্ট করেছে সমীর এখনো বেশ কয়েকটা ফাইল আছে ওর টেবিলে |
সব আগের লোকের জমিয়ে রাখা ফাইল |
আজকে কয়েকটা ফাইল দেখতে হবে |
সমীর এবার ফাইল দেখতে লাগল |
বেশ কিছুক্ষন পরে দরজা ঠেলে পাপিয়া ঢুকল |
সামনের চেয়ারে বসে বলল - কালকে পোঁদ মারতে দেয়নি বলে রেগে গেছো তুমি |
সমীর - না আমি রাগ করিনি রাগ তার উপরেই করা যায় যে তার উপযুক্ত আর আমি তোমাকে আমার রাগের উপযুক্ত মনে করিনা |
পাপিয়া কথাটা শুনে ভাবলো জেসির কথার টোন আর সমীরের কথার টোন একই রকম লাগল |
তারমানে জেসি একেও ওর সাথে বেশি মিশতে বারন করেছে |
পাপিয়া চুপ করে কিছুক্ষন বসে থেকে আর সমীরকে ঘাঁটাতে চাইলো না শুধু যাবার আগে বলল - কখন আমার কথা মনে পড়লে যেও আমার ফ্ল্যাটে আর শুধু আমার জন্য নয় আমার মেয়েও তোমার ফ্যান হয়ে গেছে |
পাপিয়া সমীরের উত্তরের অপেক্ষা না করেই বেরিয়ে গেল |
লাঞ্চের পরে সিএলওর কেবিনে গেল যাবার আগে আরো তিনটে ফাইল স্টাডি করে রিপোর্ট লিখে রেখেছিল সে গুলো নিয়ে ওনার সাথে বিস্তারিত আলোচনা সেরে বেরিয়ে এলো |
৬:৩০ বেজে গেছে এবার বেরোতে হবে জেসি কল করে বলল - আজকে চলো আমার বাড়িতে দেবিকা একটু আগে ফোন করে তোমাকে নিয়ে যেতে বলেছে |
উনি সল্টলেকে থাকেন |
অমরনাথ বাবুর এড্রেস অনুযায়ী ও ঠিক পৌঁছে যাবে |
সমীর পার্কিঙে এসে গাড়ি নিয়ে বেরোতে যাবে দেখলো সীমা দাঁড়িয়ে আছে |
মুখ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল - তুমি কোন দিকে যাবে? |
সীমা - আমি তো উল্টোডাঙায় থাকি |
সমীর - উঠে এস তোমাকে নামিয়ে দিয়ে যাই আমি তো বারাসাতে থাকি পথেই তোমার বাড়ি |
সীমা আর কোনো দ্বিরুক্তি না করে গাড়িতে উঠে বলল - অফিসের কেউ দেখলে অফিসের সবাই জানবে |
সমীর - জানুক না এতে কি এসে যাবে আমাদের |
উল্টোডাঙায় একটা জায়গাতে পৌঁছে সীমা বলল - আমাকে এখানে নামি দিন এ টুকু আমি হেঁটে চলে যেতে পারব |
সমীর -বুঝলাম আমাকে তোমার বাড়ি চেনাতে চাইছেন তাই তো? |
সীমা - মোটেও না আবার কষ্ট করে ভিতরে ঢোকাবেন তাই বললাম |
সমীর- ভিতরে ঢোকাতে গেলে একটু তো কষ্ট করতেই হয় তাইনা? |
সীমা - আপনি ভীষণ অসভ্য কি কথার কি উত্তর দিলেন |
আমি কি ওই ঢোকানোর কথা বলেছি আমার বাড়ির গলিতে ঢোকানোর কষ্ট থেকে বাঁচাতে চাইলাম |
আমার কি চলুন আমার বাড়ি দেখে আসবেন |
সমীর সীমার নির্দেশ মতো গাড়ি একটা বাড়ির সামনে এসে দাঁড় করালো |
সীমা নেমে বলল - একবার আমাদের বাড়িতে ঢুকলে হতো না? |
সমীর- না না আজকে যেতে পারবো না জেসি এক বিশেষ কারণে আমাকে ওনার বাড়িতে যেতে বলেছেন |
এখন থেকে ওনার বাড়ি হয়ে আমাকে বারাসাত ফিরতে হবে |
অন্য একদিন ঠিক আসব তবে এই আপনি করে বললে আসবোনা |
বন্ধুকে কেউই আপনি করে বলেন |
অফিসে আপনি চলবে কিন্তু অফিসের বাইরে নয় |
সীমা - ঠিক আছে তুমি করেই এবার বলছি একবার বাড়িতে এস না আমার বাড়ির লোকের সাথে একটু দেখা করে যাবে |
সমীর এবার আর ও ডাক উপেক্ষা করতে পারলো না |
গাড়ি ওদের বাড়ির সামনে পার্ক করে নেমে এল |
বলল - চলো |
সীমা এগিয়ে গিয়ে বেল একটু বাদে একটি মেয়ে এসে দরজা খুলে দিয়ে চলে যেতে গিয়েও সমীরকে দেখে দাঁড়িয়ে পড়ল |
এর আগে ওর দিদির সাথে কোনো ছেলেকে আসতে দেখেনি তাই |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.