content
stringlengths
0
129k
এ ক্রস-কান্ট্রি সম্মেলনে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো যোগ দেয়
পরে ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে যে উভয় কর্মকর্তা পরিবেশ রক্ষায় প্রযুক্তি ও সক্ষমতার দিক থেকে আল্ট্রা-সুপার হিসাবে পরিচিত কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি যথাসময়ে চালু করার উদ্দেশ্যে 'কিছু জটিল সমস্যা' চিহ্নিত ও এ নিয়ে আলোচনা করেছেন
ভারত বিশেষজ্ঞরা ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (বিএইচইল) ও বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) মধ্যে একটি বিদ্যুৎ অংশীদারিত¦ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করছে
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা প্রকল্পটি যথাসময়ে শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছি
'
ভারতীয় পক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, সম্পর্কিত সঞ্চালন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সাথে মিল রেখে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট চালু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে
এতে বলা হয়, '২০২০ সালের মার্চ থেকে কোভিড পরিস্থিতি মৈত্রী প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রভাবিত করার পাশাপাশি উভয় দেশের জনগণকে একটি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করেছে
এখন উভয় পক্ষই প্রকল্পটি সময় মতো সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে
'
সোনালী রদ্দুর যখন এসে পরে অনন্ত সম্ভাবনা নিয়ে
বেঁচে থাকা যখন শুধু মুঠিবদ্ধ আন্দোলন নয়
হায় শীতল বাতাস তুমি বয়ে যাও
আজ অনুভবের ক্ষণ
ক্ষত শুকানোর প্রহর
আন্দলিত শাখা শুধু কর্ষণের ফল নয়
অব্যক্ত বেদনা যখন প্রেরণা
কেবল তুমি আসবে বলে
হে স্বাপ্নিক, স্বপ্ন দেখছ কি ?
আমার স্বপ্ন গুলো
তুলোর বাক্সে বন্দী
সেই যে স্বপ্নের বুড়ী
কাছে আসবে বলে
এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান | : স্বাগতম | ভাবনার কথাগুলো
জানুয়ারি 6, 2011
তারার পানে চেয়ে...
21
"যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে,
আমি বাইব না মোর খেয়াতরী এই ঘাটে,
চুকিয়ে দেব বেচা কেনা,
মিটিয়ে দেব গো, মিটিয়ে দেব লেনা দেনা,
বন্ধ হবে আনাগোনা এই হাটে-
তখন আমায় নাইবা মনে রাখলে,
তারার পানে চেয়ে চেয়ে নাইবা আমায় ডাকলে
"
যখন খুব ছোট ছিলাম
স্মৃতি যতদূর যায়, অলস দুপুরে এক মুখ হাসি নিয়ে স্বপ্নালু চোখে রিনরিনে মাধুরী মাখা কন্ঠস্বরের গাওয়া এই কটি লাইনের স্মৃতি আমার অন্তরের অন্তর্স্থলে জন্মান্তরের জন্য যেন প্রথিত
আমার আম্মার খালি গলার গায়কীতে হয়তো আজন্ম গাড় বিষাদের ছাপ আমার শিশু মনেও ছাপ ফেলতে সফল
আম্মার খুব প্রিয় লাইন ছিলো এগুলো
হয়তো এর মাঝে নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি নিজের কাছে প্রতীয়মান হতো
সেই ছোট বেলা থেকেই যখনই আম্মার গলায় শুনেছি মনের মাঝে হাহাকার জন্ম নিতো
ক্ষয়িষ্ণু জীবনের আনাগত বিচ্ছেদের আশংকা হয়তো দানা বেধে উঠতো
জানি না মনের অবচেতনে কি খেলা হতো
আজ নির্জণে বসে মনের কোণে উঠে আসে কত স্মৃতি! সত্যিই প্রতিটি শব্দ আজ কত সত্যি! আম্মাকে আমরা বলতাম কখনো এমন হবে না, তোমার চিন্তা ছাড়া আমাদের কোন মুহূর্ত কি কাটতে পারে? শয়নে, স্বপনে, জাগরনে প্রতিটি ক্ষণে, কষ্টের প্রতিটি ক্ষণে শুধু তুমি
আম্মা হয়তো মৃদু হেসে বলতো, তারপরেও জীবন ঠিকই চলে যাবে
আজ তারার পানে চেয়ে সঙ্গী দু'চোখে অশ্রুর বন্যা আর অপার্থিব, অসহ্য হাহাকার, পাগল-প্রায় নিঃসঙ্গতা আর ডুকরে কেদে উঠা
আজ এই বাটে তোমার পদচিহ্ন আর না পড়লেও তোমাকে আমরা ধারণ করে আছি আমাদের স্বত্তা দিয়ে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে
আর কি দেখা হবে না? তাই কি হয়! আর কি কথা হবে না? তাই কি হয়! কত কিছু বলবার আছে
কত কিছু জানাবার আছে
জীবনের তীব্র আন্ধকারের দিন কাটিয়েছি তোমার কথা ভেবে, তীব্র আলোর দিন কাটাবো তোমাকে সংগে নিয়ে
আমি কখনও চিন্তা করি নাই আম্মাকে নিয়ে কিছু লিখতে পারবো
অনতিক্রমযোগ্য এ বেদনা আমার ধারণ ক্ষমতার বাইরে
বুকের চাপা ক্ষরণ স্বতত প্রবাহমান
আমার অস্তিত্ত্ব অনস্তিত্ত্বে বিলীয়মান...জানি না কেনো লিখলাম! এ জীবনের কতটুকুই আমরা জানি?
2 টি মন্তব্য | ভাবনার কথাগুলো
অক্টোবর 16, 2010
প্রাচীনতায় বন্দী প্রহর ১ম পর্ব
21
১ম পর্বঃ
"তখন আমার বাবা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী", বলে দুধ চিনি ছাড়া কড়া রঙ চা এর কাপে সুড়ুক করে এক চুমুক দিয়ে ভদ্রলোক নড়েচড়ে বসলো
পুরনো রি-ভলভিং চেয়ারের মটমট প্রতিবাদকে বিন্দুমাত্র গ্রাহ্য না করে ভদ্রলোক বেশ আয়েশ করে হেলান দিয়ে অর্ধ-শতাব্দী প্রাচীন কৌলিন্যের গল্প শুনানোর আনাগত আনন্দে কিছুটা বিভর
ঘরের মাঝে চাপা গুমোট পরিবেশ
ভাদ্রের চটচটে আঠালো দিন
মাথার ঊপর বৃদ্ধ সিলিং ফ্যানটি বন্ধ
ভদ্রলোক এক বাহারী নামের অধিকারীঃ জনাব সৈয়দ শামসুল মোমিন চৌধুরী, কৃত্রিম বাতাস পছন্দ করেন না
তাই এই কুক্কুরি পাগলের দিনেও চাপ চাপ ভ্যাপসা গরমের মাঝে কূল কূল করে ঘেমে চলেছি
"ইন দ্যা ইয়ার নাইন্টিন ফিফটি ওয়ান", বলে চৌধুরী সাহেব তার প্রাচীন গল্পের কথা মালার সুতায় আবার টান দিয়েছেন
বুঝে ফেললাম কঠিন এক গ্যাড়াকলে পড়েছি
এই ধরনের কিছু প্রাচীন বৃদ্ধ আছে যাদের প্রাগৈতিহাসিক আনন্দের গর্বের গল্পের ঝাঁপি নিয়ে ওৎ পেতে বসে থাকে সুযোগের অপেক্ষায়
আমি হতাশ হয়ে রুমের এদিক-ওদিক তাকালাম
দেয়াল এবং ছাদ সাদা চুনকাম করা
অতিথিদের জন্য বয়সের কারনে ন্যুজ তিনটি কাঠের চেয়ার রয়েছে
যার একটিতে শিরঃদাড় সোজা করে বসে আছি
আমাদের মাঝে ক্ষুদ্রাকৃতির একটি টেবিল রয়েছে
মনে হলো যেন ঘরের সময় স্থির হয়ে আছে সেই ষাটের দশকে
চারিদিকে চোখ বুলিয়ে মোটামুটি আঁতকে উঠলাম একটি মিটসেফ জাতীয় আসবাব দেখে
কমকরে হলেও ১৫/২০ বছর আগে মা-খালারা এই জাতীয় জিনিসের মধ্যে খাবার রাখতেন যার স্থান ছিলো রান্নাঘরে, যা কোনক্রমেই একটি অফিস ঘরে হতে পারে না
এথচ এই ভদ্রলোক হলেন একটি ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যাস্থাপনা পরিচালক এবং এই ঘুপচি ঘরটি হল তাঁর ব্যক্তিগত অফিস কক্ষ
ভদ্রলোক আমার বাবার পরিচিত সেই সুত্রে আমার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক প্রয়োজনে উনার কাছে আসা
বাবাকে উনি অসম্ভব পছন্দ করেন
কিন্তু অবস্থাদৃষ্ঠে মনে হচ্ছে বিস্তর ইতিহাসের জ্ঞান আহরনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে
দূর্বল চেয়ারটির উপর গ্যাট হয়ে বসে অনাগত ক্লান্তিকর দীর্ঘ সময়ের জন্য মনে মনে প্রস্তুতি নিলাম
(চলবে...)
2 টি মন্তব্য | : গল্প, রম্য রচনা | গল্প
জুলাই 23, 2009
বাস যাত্রা
21
আমি এবং আমার খালাতো ভাই রাতের বাসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসছি
পুরা বাস প্রায় খালি
সবমিলিয়ে মেরে কেটে ১০-১২ জন মানুষ হবে
আমরা তাই একবার এই সিটে আরেকবার ঐ সিটে বেশ আরাম করে হাত-পা ছড়িয়ে বসে যাত্রা করছি
রাত ৩ অথবা ৪টা
খালাতো ভাই সামনের সিটে
আমি মাঝের সারির তিন সিট নিয়ে ঘুমাচ্ছি
হঠাৎ গ্লাস ভাঙ্গার শব্দ এর সংগে সংগেই ভারী ধুপ শব্দ সবশেষে হেলপারের আর্ত চিৎকারে ঘুম ভাংলো
ঘটনা কি? খালাতো ভাই গভীর ঘুমে ছিলো
বাস রাস্তার বামদিকের গাছের ডালে বাড়ি খেয়ে উইন্ডশিল্ড ভেঙ্গে গিয়েছে
ড্রাইভার আচমকা ব্রেক কষাতে খালাতো ভাই উড়ে গিয়ে পরেছে হেলপারের গায়ে
যুগপৎ তিন শব্দের রহস্য উন্মোচন হলো
পরবর্তী ঘটনা কিঞ্চিত করুন
উইন্ডশিল্ড পরিদর্শণ শেষে দেখা গেলো হালকা চিড় ধরেছে কিন্তু হেলপার চিৎ হয়ে সিটের উপর ককাচ্ছে