content
stringlengths
0
209k
ফলতঃ সেখানে একটা কিছু করা যায় কিনা, এইটা, আর একটা, একদম প্র্যাকটিক্যাল প্লেনে একটা জিনিস, দুটো কোয়েশ্চন আমার আছে, সেটা হচ্ছে, কিছুদিন আগে, মানে আমি জখন চার পাঁচ বছর আগে ক্লাস এইট নাইনে পড়তাম, সেই সময় কো-ক্যারিকুলার বলে একটা ক্লাস এক্সট্রা দেওয়া হত
গান নাটক ইত্যাদির জন্য, কিন্তু সেগুলোকেও প্রায় সিলেবাস এর মত করেই চাপিয়ে দেওয়া হত
ওই সময় গান করতে ইচ্ছে না করলেও গান করতে হবে, আঁকতে না ইচ্ছে করলেও আঁকতে হবে
তো ওটাকেও একটা সিলেবাস-এর পার্ট করেই নিয়ে যাওয়া হত
পড়ার থেকে ওটাকে আলাদা কিছু মনে হত না
বা ওই সময় খেলতেই হবে
খেলার পিরিয়ডেই খেলতে হবে
ওইসময়ে খেলতে হয়ত ইচ্ছে করছে না, গল্প করতে ইচ্ছে করছে, সেটা করা যাবে না
খেলার সময় খেলতে হবে
খুব রুটিন মাফিক খেলতে হবে
যেদিন যেই খেলাটা বলে দেবে
এইটা একটি
আরেকটা হচ্ছে এই যে মানে, ওখানে ডোপোস্কুওলা বলে ওখানে যেটা বলা হয়েছে, এটা আজকে তাদের যে প্রাইভেট টিউশান সেটারই একটা এক্সটেনডেন্ট ফর্ম বলা যাবে কি? ডোপোস্কুওলা সম্পর্কে আমার খুব একটা ধারণা গড়ে ওঠেনি
সলিলঃ ডোপোস্কুওলা ব্যাপারটা ওখানে যেটা বলা আছে, সেটা কিন্তু টিউশান নয়
সেটা কিন্তু স্কুলের টিচাররাই আর কিছু ছাত্র কনটিনিউ করে যাচ্ছেন পড়ানোটা
কারন বারবিয়ানা স্কুলের রুটিন ছিল সকাল আটটা থেকে বোধহয় সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা
আমাদের শ্রমজীবি স্কুলের রুটিনটা তাই
ডোপোস্কুলা বলতে যা হয় তা হল যে, যে ছেলেটি পিছিয়ে আছে, বা মেয়েটি পিছিয়ে আছে, তাকে অন্যরা মিলে এগিয়ে নিয়ে যাবে
এই অন্যরা যারা তাদের মধ্যে শিক্ষকও থাকবে
কিন্তু টিউশানি যখন পয়সা দিয়ে সেই প্রশ্নটা তো ওঠেই না, আর এখন তো, কালকেই একটা হাসির জিনিস পড়ছিলাম, এখন সব স্কুলে গিয়ে ইউনিফর্ম স্কুল থেকে নিতে হয়, বই স্কুল থেকে নিতে হয়, জুতোটাও পর্যন্ত স্কুল থেকে নিতে হয়
শুধু শিক্ষাটা অন্য জায়গায় নিতে হয়
এখন সেইটা ডোপোস্কুলা নয়
আরেকটা কথা হচ্ছে যেটা ধর্মের কথা
এটা খুব একটা গোলমেলে ব্যাপার, মজাটা হচ্ছে বারবিয়ানা স্কুল যিনি তৈরি করেছিলেন, তাঁর নাম হচ্ছে ডন লোরেঞ্জো মিলানি
আর এই বইটা যিনি লিখেছেন 'নিপীড়িতের শিক্ষাবিজ্ঞান', তাঁর নাম হচ্ছে পাওলো ফ্রেইরি
এরা দুজনেই কিন্তু ধর্মযাজক
দুজনই প্রিস্ট
এবং আজকে দক্ষিণ আমেরিকায় একটা ধর্মের একটা অন্য অঙ্গ কাজ করছে সেটাকে বলে লিবারেশান থিওলজি
সেখানে, আমার কাছে একটা ছবি আছে, দেখাতে পারলে আপনাদের ভালো লাগত
ছবিটার নাম হচ্ছে ক্রাইস্ট দা গেরিলা
আজকে যদি ক্রাইস্ট থাকতেন তিনি অবশ্যই গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিতেন
(এই কথাটা আমি এইখানে যোগ করছি, ওই আলোচনায় বলা হয়নি
এই কথাটা বলেছিলেন কামিলো তোরেস রেস্ত্রেপো
) এবং এই ছবিটাতে আছে ক্রাইস্টের কাঁধে একটা অটোমেটিক রাইফেল
এবং সাউথ আমেরিকাতে বহু উদাহরণ আছে যেখানে একজন প্রিস্ট (ইনিই কামিলো তোরেস), যিনি গেরিলা বাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, যখন যোগ দিয়েছেন তাকে সবাই বলেছে, আপনি তো অন্যরকম জীবনে অভ্যস্ত, আপনি আমাদের বাচ্চাদের পড়ান
আপনি আমাদের অন্য কাজে থাকুন
উনি বলেছেন না, আমি বন্দুক হাতে যুদ্ধে যাব
এবং উনি যুদ্ধে গেছেন, এবং সে যুদ্ধে তিনি মারাও (১৯৬৬) গেছেন
সুতরাং ধর্ম ব্যাপারটা ... যেমন আজকে আসতে আসতে আমাদের আলোচনা হচ্ছিল, যে ঐ সুমন-এর গানটাকে একজন একটু পালটে বলছেন
'আমি চাই ধর্ম বলতে সবাই বুঝবে মানুষ শুধু' আছে তো ? উনি লিখছেন, 'ধর্ম বলতে সবাই জানবে খোঁয়ার শুধু'
তো এইটা তো ঘটনা
কিন্তু আবার 'অন রিলিজিয়ান' বইতে লেখা হচ্ছে যে, আমি যদি একজন ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিকে ডেকে বলি যে, তুমি একজন আফিমখোর, তোমাকে তোমার ভাবনা পালটাতে হবে
আমি সেই মানুষটাকে তাহলে চিরতরে হারাব
. ঠিকই, কিন্তু আমি কি তাকে ডেকে বলব, যে তুমি একজন আফিমখোর! (এটা বলেছেন জর্জ থম্পসন) কিন্তু সেটা করবনা
আমি তাকে অন্যভাবে এগিয়ে নিয়ে যাব
কিন্তু এটা নিয়ে আলোচনার অনেক জায়গা আছে
কোনো ধর্মপ্রাণ মানুষ বিপ্লবী আন্দোলনে আসবেন না এরকম নাও হতে পারে
আসবেন, এমনই হতে পারে
এবং ওরা যখন ক্রাইস্ট এর কথা বলছেন যখন ওরা ওই বারোজন শিষ্যের কথা বলছেন তখন ওদের জায়গা থেকে কেন বলছেন কথাটা , সেটা ভাবার দরকার আছে
এবং আরেকটা জিনিস হচ্ছে এই যে, গার্জিয়ানদের কথা বললে, যে এখানে আপনাকে বলছি স্যার বইটার একটা প্রধান বক্তব্য হচ্ছে যে যারা অভিভাবক, তাদের সংগঠিত হতে হবে
ওই যে আছে না, একজন জিজ্ঞেস করেছেন, এই গাছটা কী গাছ? শিক্ষিকা গাছের নাম বলতে পারেননি, উলটো ভুল একটা নাম বলেছেন
এইটা যখন বাড়িতে গিয়ে সেই ছাত্র বলছে, তখন ছাত্রের মা-বাবা বলছে, কে রে মহিলা? একটা গাছের নাম জানেনা, সে আবার বাচ্চাদের পড়াতে এসেছে? তো এব্যাপারে তো আমরা অনেকেই গিলটি
আমাদের ঘরের বাইরের গাছের নাম জিজ্ঞেস করলে আমি বলতে পারিনা
আমাদের স্কুলের বাইরে একটা কদম গাছ আছে
হ্যা, আমি সেটাকে দীর্ঘদিন শিরীষ গাছ বলে জানতাম
এইরকম কান্ড তো আমরা করেই থাকি
কাজেই গার্জিয়ানদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের ডেকে আনা, তাদের সঙ্গে আমাদের ইন্টার অ্যাকশান হতে হবে, যারা জ্ঞানার্জন সহায়ক তাদের ইন্টারঅ্যাকশান হতেই হবে
বা ছাত্রদের ক্ষেত্রে আরো অনেক কথা বলা, এগুলো তো খুব জরুরি দরকার
জনৈক শ্রোতাঃ (দুঃখের কথা তাঁর নাম পাইনি) ক্রাইস্ট দা গেরিলা যে কথাটা আপনি বললেন, অ্যাকচুয়ালি ক্রাইস্টদের যে শিষ্যরা ছিল, তাদের সঙ্গে কিন্তু অস্ত্র ছিল
... যখন রোমান সৈন্যরা ওইভাবে অ্যাটাক করতে আসে ক্রাইস্ট কিন্তু তাদের বলেন যে এই সামান্য অস্ত্র দিয়ে তুমি এদেরকে কিছু করতে পারবে না, তোমরা অস্ত্র সংবরণ করো
সুতরাং ক্রাইস্টদের যে দঙ্গল ছিল তাদের নিয়ে ক্রাইস্টদের একটা আন্দোলন করতে যাবার মতো একটা প্রবণতা হয়ত ছিল
পরিস্কার করে বলা যাবে না
সলিলঃ না, বলা যাবে না
শ্রোতাঃ সুতরাং ক্রাইস্টকে গেরিলা ভাবলে এখন খুব যে সচকিত হতে হবে তা নয়
সলিলঃ হ্যাঁ
মানে, ক্রিশ্চিয়ানিটি যখন প্রথম আসে মধ্যপ্রাচ্যে, তখন তো ওটা রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে একটা লড়াই ছিল
ইহুদীদের লড়াই
সেই লড়াইটা পরবর্তীকালে ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে গেছে, ভুল দিকে চলে গেছে
গণ্ডগোল হয়ে গেছে, এমন সব কান্ড সব ধর্মেই আছে
এবং আপনারা তো নিশ্চয় জানেন যে চৈতন্যদেবের যে কাজ (ভক্তি কাল্টের উদ্ভব নিয়ে তেমন সমাজ-সচেতন কাজ হয়েছে কি? আমি পড়িনি
আমাকে একবার সুপ্রকাশ রায় বলেছিলেন কাজটা করতে
আমি একেবারেই উপযুক্ত নই, ছিলামও না
স্যার আমাকে ক্ষমা করবেন
) সেটা তো সাধারণ মানুষদের নিয়ে, এবং তিনি তো সত্যি সত্যি পুরীতে গিয়ে আহা কৃষ্ণ বলে সমুদ্রে ডুবে যাননি
তাকে তো বিষ খাইয়ে মারা হয়েছিল
কে মেরেছিল? মেরেছিল তো আমাদের তথাকথিত হিন্দু লোকজনই মেরেছিল
কাজেই হিন্দুরা এখন মারে তখন মারত না, এটা ঘটনা নয়
এবারে, এই জায়গাটা, অ্যাজ আই সেইড, কন্টকিত জায়গা
ভাবা দরকার আছে
সলিলঃ অভিভাবকদের কথায় আসি
ঠিকই, যেটা একটু আগে অভিভাবকদের সম্পর্কে আমি বললাম, অভিভাবকরা যদি সংগঠিত হন, যদি ভাবনা-চিন্তা করেন, তাহলে আমরা অনেকটা এগোতে পারি
কিন্তু আমি যখন বলছি যে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এই চক্রটা ভাঙ্গা দরকার, তখন যে প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক ভাবে আসে তাহলে জীবিকা অর্জনের কি হবে? জীবিকা অর্জনের দিকটাও তো ভাবতে হবে
ঘটনা
জীবিকা অর্জনের দিকটাও তো ভাবতে হবে
খুব ভাল হত যদি এসব কিচ্ছু না করতে হত, কিন্তু হবেই
কিছু করার নেই
কিন্তু মাধ্যমিকের কথাটা রাখতেই হচ্ছে, মাধ্যমিক পাশ করতে হবে
শ্রমজীবীতে আমরা কিছু লোক যেটা ভেবেছি সেটা হচ্ছে, মাধ্যমিকের পরে কেউ আমাদের শ্রমজীবী বিদ্যালয় বা পাঠশালা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পড়বে না
বা পড়তে পারবে না
বা আমরা পড়াতে পারবো না
এবার মাধ্যমিকে যারা ফেল করবে, তারা কোথায় যাবে? তাদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি? তাদের যদি আমরা একটা অন্য পথ না দেখাতে পারি, তাহলে এসব কথাগুলো তাদের বলতে পারা যাবে না
অভিভাবকরা, তাঁরা মানেন যে কথাগুলো সত্যি, কথাগুলো ঠিক
কিন্তু তবুও তারা সেটা গ্রহণ করবেন না
এই যে আমি বলছিলাম, গার্জিয়ানরা আমাদের স্কুলে এসে খুব খুশি, তাদের ভীষণ ভালো লাগে, তারা মনে করছেন এটাই করা উচিত
কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তারা এটাও ভাবছেন যে আমার মেয়েটার বিয়ে হবে কি করে? আমার ছেলেটা কোথায় চাকরি করবে, কোথায় কী করবে? তার একটা পথ করে দেওয়ার জন্য শ্রমজীবী থেকে ভাবা হচ্ছে, একটা ব্রিজ কোর্স করিয়ে, তাদের একটা ডিপ্লোমা কোর্স-এ নিয়ে গিয়ে কোনো একটা কাজের চিন্তা করা হবে
যেটা ডক্টর্স অ্যাসিস্ট্যান্ট হতে পারে, নার্সিং হতে পারে, বা চিকিৎসার সঙ্গে সংযুক্ত আরও কিছু হতে পারে, যেটা করা আমাদের সুবিধে, কারণ হাসপাতালটা আছে
কিন্তু আমার এখানে প্রশ্ন, আমি ওদের কাছে করেছি, অনেক ছেলেমেয়ে, অন্তত চারটি ছেলেমেয়ে আমাকে এসে বলেছে, স্যার, আমি তো ডাক্তার হব না, আমি তো নার্স হব না, আমি তো হেমাটোলজিস্ট হব না, প্যাথলজিস্ট হবনা, আমি তো মাস্টার হতে চাই, শিক্ষক হতে চাই
আমরা অনেকে চিরদিন বলে এসেছি, যে শিক্ষক হতে চাই বলে যারা আসেন, তারা ধাঁ করে শিক্ষক হয়ে যান, কোন প্রশিক্ষণ ছাড়া
সেটা ঠিক না
সেই সূত্রে বলি, যে অনেকে মনে করেন বারবিয়ানা স্কুল, মানে আপনাকে বলছি স্যার বইটা বলে যে পরীক্ষায় পাশ করার কোন দরকার নেই