content
stringlengths
0
209k
কাকিমা মারা গিয়েছেন সকাল ছয়টায়
দীপ যখন খবর পেলো তখন বেলা দুটো
দীপ ছিলো অফিসে
সবকিছু ঠিকঠাক করে যখন অফিস থেকে বেরোলো তখন বেলা প্রায় তিনটে
অফিস থেকে বেরোনোর সময় বন্ধু সুকান্ত কে ফোন করলো দীপ
ওর সাথে যাওয়ার জন্য
সুকান্ত এক কথায় রাজি
খালি বলল " তুই এগো আমি পরে ট্রেন ধরে আসছি
"
শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে বেথুয়াডহরি পৌঁছতে প্রায় সন্ধ্যা সাতটা বেজে গেল
স্টেশনে নেমে আরও প্রায় দেড় দুই মাইল পাটুলি গ্রাম
এখানে এর আগে আসেনি দীপ
যা যোগাযোগ রাখার ছোট কাকু আর উমা কাকিমাই রাখতেন, মাঝে মাঝে কোলকাতায় গিয়ে
সেই কারনে এই অঞ্চলে দীপের আসা এই প্রথম
টোটো করে ছোট কাকার বাড়িতে গিয়ে দীপ যখন পৌঁছল তখন বাজে প্রায় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা
একেবারে অজ গ্রাম বললেই চলে
চারিদিকে এর মধ্যেই নিঝুম অন্ধকার
টোটো চালক জানালো লোডশেডিং আজ সারাদিন
গোটা গ্রাম যেন এর মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছে
যাওয়ার পথে টিমটিমে লম্ফ জ্বালা ছোটখাটো দোকান ছাড়া আর তেমন কিছু চোখে পড়লো না
কাকার বাড়িতে যখন পৌঁছল দীপ তখন বৃদ্ধ মানুষটি মৃতদেহ আগলে উঠোনে বসেছিলেন
তাঁর সামনে বসেছিলেন দুজন ভদ্রমহিলা
দীপ বুঝতে পারলো তাঁরা আশেপাশের বাড়ি থেকেই এসেছেন
উঠোনের দুদিকে শুধু দুটো লন্ঠন জ্বলছে
তার আলোতে বৃদ্ধ মানুষটি প্রথমে দীপ কে চিনতে পারেননি
ওকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন , " কে ?" দীপ পরিচয় দিতে বললেন, " অনেক দেরি করে এলি দীপ
আজ প্রথমবার এখানে এলি
যে তোকে আদর করে বসিয়ে যত্ন করে খাওয়াতো সেই আজ নেই
" বৃদ্ধের কন্ঠস্বর যেন হাহাকার করে উঠলো
ওঁকে সান্ত্বনা দিল দীপ, " তুমি একটু শান্ত হও ছোট কাকা
আমি যখন এসে পড়েছি তখন আমার ওপর ছেড়ে দাও
আগে দেখি কাকিমার শেষ কাজ গুলো কত তাড়াতাড়ি করা যায়
" " দীপ তোর কাকিমার ডেথ সার্টিফিকেট কিন্তু নেওয়া হয়নি
কারন ডাক্তার পাওয়া যায়নি
"
অনেক খুঁজে ঘন্টা খানেক পর একজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার কে নিয়ে ফিরল দীপ
কাকিমা অনেকদিন ধরেই ভুগছিলেন
সুগারের জন্য অনেক রকম সমস্যা হয়েছিল
দেখা গেল ডাক্তার বাবু সে বিষয়ে অবগত আছেন
মোটামুটিভাবে মৃতদেহ দেখে একটা ডেথ সার্টিফিকেট চট করে লিখে দিয়ে বললেন, " উনি মারা গিয়েছেন সেই সকালে
অনেকক্ষণের মড়া
বরফ দেওয়া নেই
তাড়াতাড়ি আজ রাতেই পুড়িয়ে দিন
নাহলে কিন্তু গন্ধ বেরোবে
"
কিন্তু গোল বাধলো এরপর
তখনই বেজে গিয়েছিল রাত নটা
পাটুলি তে সেটা অনেক রাত
এমন কোন লোক পাওয়া গেল না যে মড়া পোড়াতে শ্মশানে যাবে
তার ওপরে সেদিন ছিল ঘোর অমাবস্যা
সাধ‍্য সাধনা করেও কাউকে রাজি করানো গেল না
সবথেকে বড় বিপদ মূল শ্মশান পাটুলি গ্রাম থেকে অনেক দুরে
এতরাতে সেখানে যাবেটাই বা কে ? ওদিকে দীপ পুরো একা
সুকান্ত এখনও এসে পৌঁছায়নি
ফোনেও বলছে 'পরিষেবা সীমার বাইরে
'
কোলকাতা শহরের ছেলে দীপ
কোন অজ পাড়াগাঁয়ে নিছক একা এসে এমন বিপদে সে কোনদিন পড়েনি
মাঝখানে মা দুবার ফোন করেছিলেন
এখানকার অবস্থা শুনে দীপ কে দুম করে একা একা এখানে পাঠানোর জন্য আফশোষ করলেন
কিন্তু দীপের সমস্যা তাতে কমলো না
অবশেষে দীপ কে একটা পরামর্শ দিলেন ঐ হোমিওপ্যাথি ডাক্তার বাবু
এতক্ষণ দীপের সঙ্গে ছিলেন
বললেন,
" আপনি একটা কাজ করতে পারেন
এখান থেকে দুই মাইল দুরে আরও গ্রামের ভেতর একটা শ্মশান আছে
যেখানে বেওয়ারিশ মড়া পোড়ানো হয়
সেখানে গিয়ে পোড়াতে পারেন
তবে সাবধান জায়গা টা কিন্তু ভালো নয়
অনেক বদনাম আছে
আর ওখানে কোন বার্নিং ঘাট সার্টিফিকেট পাবেন না
কারন অফিস বলতে কিছু নেই
কোন ডোম ও নেই কিন্তু
যা করার নিজেদেরই করে নিতে হয়
" বলে চলে যাচ্ছিলেন
কিন্তু হঠাৎ থমকে গিয়ে বিড়বিড় করে বললেন, " কিন্তু আজ আবার অমাবস্যা
তার ওপরে আপনি একা
আপনি মড়া নিয়ে অতদুর যাবেন কি করে ?" দীপ চুপচাপ হয়ে গিয়েছিল
এবার অধৈর্য্য হয়ে গেল
" তাহলে এখন কি করি ডাক্তার বাবু ?" এমন সময় দুর থেকে একটা ভ‍্যান রিক্সা চালিয়ে একজন ভ‍্যান রিক্সা চালক কে আসতে দেখা গেল
দীপের মাথায় হঠাৎ কি খেলে গেল হাত দেখিয়ে দাঁড় করালো লোকটাকে
লোকটাকে সব বুঝিয়ে বলাতে , দীপের সঙ্গে মড়া নিয়ে শ্মশানে যেতে রাজি হয়ে গেল লোকটা
যদিও টাকা চাইলো অনেক
ডাক্তার বাবু দাঁড়িয়ে সব দেখছিলেন
এবার বললেন, " ওখানে গিয়ে ভয় কিন্তু পাবেন না
কারন জায়গা টা নির্জন, তার ওপরে চারপাশে জঙ্গল
আশেপাশে কোন জনবসতি দুরে থাক, আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনার দোকানপাট ও পাবেন না
আর একটা ঘটনা ওখানে গিয়ে দেখতে পাবেন
অনেক নিভে যাওয়া চিতায় আধপোড়া মড়া
ওখানে যারা পোড়ে তারা তো সকলেই দূর্ভাগা
তাদের সঙ্গের লোকজন অনেক সময় তাদের ভালো করে না পুড়িয়েই চলে যায়
ওগুলো দেখে ভয় বা ঘেন্না পাবেন না
" এইকথা বলে ডাক্তার বাবু হনহন করে চলে গেলেন
ভ‍্যান ওয়ালা কে নিয়ে ছোট কাকার বাড়িতে চলে এলো দীপ
বৃদ্ধ কিন্তু যেই শুনলেন তখনই দীপ কে বারন করলেন
" আমি শুধু এইভাবে ভ‍্যান ওয়ালার ওপর ভরসা করে তোকে যেতে দিতে পারিনা
কারন আজ একে অমাবস্যা তার ওপরে একটু আগে পুরোহিত মশাই এসেছিলেন
উনি বললেন উমা ত্রিপাদ দোষ পেয়েছে
তাছাড়া ঐ শ্মশানটার অনেক বদনাম ও আছে
আজকে ছেড়ে দে