content
stringlengths
0
209k
কালকে খুব ভোরে কোন ব্যবস্থা করা যাবে
" কিন্তু দীপ কে কাল কোলকাতায় ফিরতেই হবে
‌ তার ইচ্ছে আজকেই যা হবার হয়ে যাক
সে কিছুতেই সুজয় বাবুর কথায় রাজি হোল না
ভ‍্যান ওয়ালা ছেলেটার নাম বাপী
ছেলেটা খুব ভালো
উমা দেবীর মৃতদেহ ভ‍্যানে তোলার থেকে শুরু করে কি কি শ্মশানে লাগবে সবকিছু তথ্য দিয়ে খুব সাহায্য করলো দীপ কে
সবকিছু গুছিয়ে মৃতদেহ ভ‍্যানে তুলে ওরা যখন রওনা হোল তখন রাত প্রায় দশটা
অমাবস্যার রাত
তায় পথেঘাটে আলো নেই
রাস্তার হাল ও ভালো নয়
কাকার বাড়ির থেকে একটা লন্ঠন জ্বালিয়ে এনেছিল দীপ
তার আলোতে ভরসা করেই পথ চলতে হচ্ছিল
কাকিমার মড়ার গা থেকে কেমন একটা আঁশটে গন্ধ বেরোচ্ছিল
সেই গন্ধ নাকে গিয়ে গা গুলিয়ে উঠছিল দীপের
কিছুদুর যাওয়ার পর একটা ছেলে হাত দেখিয়ে ভ‍্যানটাকে থামালো,
" দাদা সঙ্গে মড়া দেখছি, শ্মশানে যাচ্ছেন ?" বাপী ছেলেটাকে দেখে ভ‍্যান থামিয়ে দিয়েছিল
" হ‍্যাঁ আমরা শ্মশানেই যাচ্ছি
কিন্তু আপনি কি শ্মশানে যাবেন নাকি ?"
" হ‍্যাঁ দাদা ওদিকেই যাব
"
ছেলেটা উঠে পড়লো ভ‍্যানে
ডায়াবেটিস রোগীর মড়া, তার ওপরে নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত
উমা দেবীর শরীর শুকিয়ে ছোট্ট হয়ে গিয়েছিল
তাই ছেলেটার বসার কোন অসুবিধা হোল না
ছেলেটা উঠে বসার পর বাপী চালানোর গতি বাড়িয়ে দিয়েছিল
এমনিতেই মোটর লাগানো ভ‍্যান
সেটা চলছিল যেন হাওয়ার গতিতে
তবুও পথ যেন আর ফুরোয় না
একঘেয়েমি কাটাতে দীপ ছেলেটার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল
" দাদা আপনার নাম টা তো জানা হোল না
"
" আমার নাম খেমো
আমাকে এখানে সবাই এই নামেই চেনে
আপনার নাম টা ?"
" দীপ
তা আপনি ওদিকে যাচ্ছেন কি মনে করে ?"
" হাঃ হাঃ হাঃ
ভালো কথাই জিজ্ঞেস করেছেন
আসলে আমার এক বন্ধু খুন হয়েছিল গতকাল
পলিটিক্যাল মার্ডার
তাই ওর পোস্টমর্টেম ও হয়নি কোন কেস ও হয়নি
সৎকারের জন্য ঠাঁই হয়েছিল এই শ্মশানে
কিন্তু যারা পোড়াতে নিয়ে গিয়েছিল তারা ওর দেহ টা ওখানেই ফেলে রেখেই পালিয়েছে
আমি ও শ্মশানযাত্রী দের সঙ্গে গিয়েছিলাম
সবাই হঠাৎ করে চলে আসায় আমি ও চলে আসি
কিন্তু মনে হোল শেষ সৎকার টা হবেনা দেহটার ? এই ভাবতে ভাবতেই দেখলাম আপনারা ওদিকে যাচ্ছেন
তাই ভাবলাম আপনাদের সঙ্গে ফিরে যাই ওখানে
যদি কাজটা সেরে আসতে পারি
"
কথা বলতে বলতেই হঠাৎ গাড়ি থেমে যাওয়াতে চমকে উঠলো দীপ
খেমো গাড়ি থেকে নেমে পড়ে বলল, " নামুন শ্মশান এসে গেছে
" শ্মশানের পরিস্থিতি দেখে শিউরে উঠলো দীপ
চারিদিকে নিশ্ছিদ্র কালো অন্ধকার
আশেপাশে ঘন জঙ্গল
তার মাঝখানে মাঠের মতো কিছুটা জমি নদীর ধারে
এই হোল শ্মশান
মাঝে মাঝে দুর থেকে শিয়ালের ডাক শোনা যাচ্ছে
ওরা তিনজন ছাড়া জন মানুষের চিহ্ন মাত্র নেই
তিনজনে মিলে ধরাধরি করে উমা দেবীর মড়া নামাতে কোন বেগ পেতে হোল না
এরপর এলো চিতা সাজানোর প্রশ্ন
দীপ আগাগোড়া মড়া ছুঁয়ে এসেছে
তাই ওকে মৃতদেহের কাছে বসিয়ে রেখে, বাপী আর খেমো গেল জঙ্গলের ভেতর কাঠের ব্যবস্থা করতে
চলে যাবার আগে খেমো দীপ কে একটু দুরে রাখা সাদা কাপড় ঢাকা একটা মৃতদেহ দেখালো
" ঐ যে আমার বন্ধুর মৃতদেহ
" এছাড়াও আরও একটু দুরে একটা চিতায় যে আর একটা মৃতদেহ রয়েছে সেটা দীপ আগেই দেখেছিল
খেমো আর বাপী যাবার আগে দীপ কে বারবার বলে গেল যাই ঘটুক দীপ যেন ভয় না পায়
এখানে ভয় পেলে বিপদ আছে
ওরা চলে যাবার পর নৈঃশব্দ্য দীপ কে আরও চেপে ধরলো
তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অন্ধকার
একমাত্র লন্ঠন টা ওরা নিয়ে গেছে
তার ওপরে আজ অমাবস্যা
চারিদিকে কোথাও যেন প্রাণের অস্তিত্ব নেই
হঠাৎ চারপাশের নৈঃশব্দ্য খানখান করে দিয়ে জঙ্গলের ভেতর থেকে একটা বিকট হাড়হিম করা চিৎকার শোনা গেল
একটা নয় অনেক গুলো স্বর একসাথে
কারা যেন সমস্বরে আর্ত চিৎকার করছে
" জল, জল
আগুন দাও মুক্তি দাও
" এই চিৎকার শুনে দীপের বুক হিম হয়ে গেল
কিন্তু ভয় পাওয়া আজ মানা
তাই দীপ সাহস করে বসে রইল
কিন্তু চিৎকার কিছুতেই থামেনা
দীপ ভাবলো উঠে গিয়ে একবার জঙ্গলের ভেতর ঢুকে দেখে আসে ব‍্যাপারটা কি ! এমন সময় কাছাকাছি কেউ বলে উঠলো,
" আমার মুখে আগুন না দিয়ে যাবেন না দাদা
" চমকে উঠে ঘুরে তাকিয়ে স্তম্ভিত হয়ে গেল দীপ
খেমোর বন্ধুর মড়া টা খাটের ওপর উঠে বসেছে
মুখ টা সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা
এবার মুখ থেকে সাদা কাপড় টা সরিয়ে নিল মড়া টা
দীপ হতবাক হয়ে দেখল ওটা আর কেউ না খেমো
চিৎকার করতে গিয়েও থেমে গেল দীপ
আজ তার ভয় পাওয়া মানা
এমন সময় বাপী চলে এলো
দীপ বললো,
" বাপী খেমো মানুষ নয়
ও একটা মড়া
"
" আর ওপাশের আধপোড়া মড়া টা ?"
দীপ সভয়ে দেখল ওপাশের আধপোড়া মড়া টাও উঠে দীপের দিকে এগিয়ে আসছে
এবার আর্ত চিৎকার করে উঠলো দীপ
কারন ঐ মড়া টা আর কারোর না, বাপীর