content
stringlengths
0
129k
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
মেডিকেল কলেজ
কারিগরি শিক্ষা
শিক্ষা সংবাদ
অন্যান্য সংবাদ
ব্যতিক্রমী সংবাদ
বিদেশ সংবাদ
ব্যাংক বীমা
প্রতিক্রিয়া
বিশেষ মতামত
প্রতিবেদন ∨
প্রচ্ছদ প্রতিবেদন
বিশেষ প্রতিবেদন
শিশু ক্যাম্পাস
বিশেষ নিবন্ধ
ক্যাম্পাস'র অনুষ্ঠান
ক্যাম্পাস পরিবার
সুধীজন কথামালা
বিদেশে উচ্চশিক্ষা
আত্মোন্নয়ন
বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি
প্রাপ্তিস্থান
পাঠক ফোরাম
● পুলিশকে মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে -আইজিপি ● জ্ঞানভিত্তিক উন্নত দেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে -আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ● স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ ১৭ মার্চ থেকে বর্ণাঢ্য আয়োজন পরিকল্পনা ● বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে বাংলাদেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে -প্রধানমন্ত্রী ● বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একসূত্রে ...
হোম > প্রিয় মানুষের মুখোমুখি
পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সূফি মিজানুর রহমান
জীবন পাল্টে দেয়ার মতো এক অনুপম শিক্ষণীয় অনুপ্রেরণার গল্প
ক্যাম্পাস ডেস্ক প্রিয় মানুষের মুখোমুখি
সহজ-সরল, বিনয়ী ও মিষ্টভাষী একজন মানুষ
এক কথায় ভীষণ মিশুক
কথা বলতে গেলেই কখনো উদাহরণ টানেন পাশ্চাত্যের জ্ঞানগুরুদের, কখনো ইসলামের কালজয়ীদের, কখনো বা মানবধর্মের মহামানবদের
নিজেও জীবনযাপন করেন সৎ ও সত্যতার নিরেট এক প্লাটফরমে
খুঁজে বেড়ান জীবনের মানে
মানুষটিকে কেউ ডাকেন সূফি সাহেব, কেউ বা মিজান সাহেব
পুরো নাম সূফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
পিএইচপি ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তিনি
ব্যবসার জগতে সফল এক কিংবদন্তি
জীবনের এই স্বর্ণশিখরে এসে শোনালেন নিজের ভাঙা-গড়ার নানা গল্প
বললেন বলা-না বলা সব স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কথা
ছেলেবেলায় মাকে হারিয়েছেন সূফি মিজান
জন্ম থেকেই শান্তশিষ্ট স্বভাবের মানুষ তিনি
বাবার কঠিন অনুশাসনে বড় হয়েছেন
অল্প বয়সে মাকে হারিয়ে বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন দ্বিগুণ স্নেহ-ভালোবাসা
তার ভাষায়, আমাকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করার জন্য আমার আব্বা নতুন করে সংসারধর্ম করেননি
আমিই ছিলাম তার জীবনের সব
প্রতিদিন সকালে আব্বা নিজ হাতে আমাকে গোসল করাতেন
নাস্তা খাওয়াতেন
হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যেতেন
আবার স্কুল ছুটির আগেই স্কুলের সামনে গিয়ে বসে থাকতেন
ক্লাস ওয়ান থেকে সিক্স পর্যন্ত তিনি এমনটিই করেছেন
তিনি বলেন, আজ দুঃখ হয়, সমাজের কোমলমতি শিশুরা নষ্ট হয় যাচ্ছে
এই সমাজে ঐশীর মতো সন্তান তৈরি হচ্ছে
এর কারণ হিসেবে তিনি সন্তানদের বাবা-মায়ের সময় না দেয়াকে দায়ী করেন
আক্ষেপ করে বলেন, আজ আমরা সন্তানদের সময় দিই না, আদর করি না, মায়া করি না
তাদের অনুপ্রাণিত বা উজ্জীবিত করতে পারি না
তাদের মনের মধ্যে বড় স্বপ্ন তৈরি করতে আমরা ব্যর্থ হই
চব্বিশ ঘণ্টা কেবল টাকার জন্য পাগলের মতো ছুটে বেড়াই
স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন কিংবা দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে যে আত্মার সম্পর্ক তা ভুলে যাই
কষ্টের শিক্ষা জীবন
স্কুল জীবন মোটামুটি শেষ হলেও কলেজ জীবনেই অনেকটা কষ্টের সূফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের
কলেজ জীবনে আর দশ জনের মতো বন্ধুদের সঙ্গে খুব একটা আড্ডাবাজির সুযোগ পাননি তিনি
ইন্টারমিডিয়েট পাস করেই চাকরি শুরু করেছিলেন
সারা দিন কাজ করতেন
সন্ধ্যা ৬টায় নাইট কলেজে গিয়ে বসতেন
সারা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রমের পর রাত ১১টা পর্যন্ত ক্লাস করতেন
কেবল তাই নয়, ৪ মাইল হেঁটে বাড়ি ফিরতেন গভীর রাতে
এরপর নিজে হাতেই রান্নাবান্না করে খেতেন
আবার সকাল ৮টা থেকে অফিস
কাজের ফাঁকে ফাঁকেই টিউশনি ও নিজের লেখাপড়া করেছেন
অর্থনৈতিক দুরবস্থার কারণে সাংসারিক প্রয়োজনেই ছাত্র জীবন থেকে এমন কষ্ট করতে হয়েছে তাকে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি
লেবু চুরি ও জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা
প্রাইমারিতে পড়ার সময় লেবু চুরির একটি ঘটনা থেকে জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা নিয়েছেন সূফি মিজান
আজও সেই শিক্ষা তার চলার পথের পাথেয়
মজার সেই ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন এভাবে গরমের দিন
বৈশাখ-চৈত্র মাস
বাড়িতে শুঁটকির ভর্তা বানানো হয়েছে
আমাদের কাছে তখন শুঁটকি ভর্তার সঙ্গে লেবু খুব উপাদেয় খাদ্য ছিল
তো বাবার সামনে লেবু কেটে দেওয়া হলো
বাবা খেতে গিয়ে বললেন, আজকে তো লেবু কিনি নাই
লেবু কোত্থেকে এলো? আমি মনে মনে ভাবলাম, বাবাকে যদি বলি আমরা বন্ধুরা মিলে পাশের জমিদারবাড়ি থেকে লেবু চুরি করে এনেছি, তাহলে বুঝি বাবা খুব খুশি হবেন
বলেও ফেললাম তাই
আব্বা বিদ্যুতের মতো গর্জন দিয়ে উঠলেন
বললেন, কী বললে! তুমি মানুষের বাড়িতে লেবু চুরি করতে গেছ! আমি তোমাকে লেখাপড়া শেখাচ্ছি ভালো মানুষ করার জন্য আর তুমি লেবু চুরি করতে গেছ! কাঠের পিঁড়িতে বসে খাচ্ছিলেন
হঠাৎ একটা পিঁড়ি হাতে নিয়ে আমাকে মারতে গেলেন
সঙ্গে সঙ্গে আমি দৌড়ে বের হয়ে গেলাম
আমাকে বললেন, সব লেবু নিয়ে ওদের বাড়িতে দিয়ে এসো
মনে আছে, অপরাধীর মতো দাঁড়িয়ে এক হাতে লেবু, আরেক হাতে চোখের পানি মুছছিলাম
ক্লাস থ্রি-ফোরে পড়ার সময় বাবা এই যে একটা অনুশাসন দিলেন তা সারা জীবনের মতো মনে গেঁথে গেল
প্রথমে ভেবেছিলাম বাবা বুঝি খুব নিষ্ঠুর
কিন্তু না
এখন মনে করি ওইটা আমার শ্রেষ্ঠ শাসন ছিল
আর সে কারণেই আজ এই ৭৫ বছর বয়সেও কোনো মানুষের জিনিসে হাত দিই না
অবৈধ কোনো কিছু মনেও আসে না
কেবলই বাবার সেই অনুশাসনের কথা মনে হয়
যেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছেন আমার বাবা
সূফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, টোকিও থেকে ভ্যানকুভার, উত্তর থেকে দক্ষিণ গোলার্ধ অনেক জায়গায় গিয়েছি
ব্যবসায়িক জীবনে বহু মানুষের সঙ্গে লেনদেন করেছি
কিন্তু কেউ বলতে পারবে না, মিজান সাহেবের কাছে ৫টা টাকা পাওনা আছে