content
stringlengths
0
129k
স্বচ্ছের ঘুমানোর ধরন দেখে হেঁসেই ফেলল মোহ
কিভাবে ছোট বাচ্চাদের মতো ঠোঁট ফাঁক করে ঘুমাচ্ছে সে
মোহের মুখ আঁচড়ে পড়ছে তার তপ্ত নিঃশ্বাস
দরজায় আস্তে করে টোকা পড়তেই ধ্যান ভেঙে মাথা হালকা উঁচু করে দরজার দিকে তাকায় মোহ
সাদা পাতলা পর্দা ভেদ করে কাঁচ ও কাঠের সংমিশ্রণে দরজার ওপাশে একটি অবয়ব দেখা যাচ্ছে
তার মানে কেউ ডাকতে এসেছে
ফট করে ঘড়ির দিকে তাকায় মোহ
দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখা সুন্দর ঘড়িতে প্রায় সকাল নয়টা পেরিয়েছে
চক্ষু চরকগাছে পরিণত হয় তার
আবারও দরজায় টোকা পড়তেই আস্তে করে স্বচ্ছের হাতে হাত রেখে সেটা ধীরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে মোহ যাতে স্বচ্ছের ঘুমটা না ভাঙে
কিন্তু ঘটে উল্টো ঘটনা
হালকা নড়েচড়ে উঠে স্বচ্ছ আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরে মোহকে
এই মূহুর্তে স্বচ্ছকে জাগাতে চাচ্ছে না সে
হয় লোকটা তাকে লজ্জা পাইয়ে দিবে নয়ত নিজেই লজ্জায় পড়বে
মোহ জানে স্বচ্ছ লজ্জা পাওয়ার মানুষ নয়
তাই মোহ কেটে পড়তে চায় দ্রুত
"ভাবসাব দেখো! যেন আমাকে সত্যি কোলবালিশ বানিয়ে ফেলেছে
অন্যদিকে এতো লেট হয়ে গিয়েছে বুঝতেই পারিনি
লোকটার সঙ্গে রাতে বের হওয়ায় ভুল হয়েছে আমার
কথাগুলো আপনমনে বিড়বিড় করে আবারও নিজেকে ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল মোহ
"আমি নিরুপায়
বড্ড নিরুপায়
আমি কখনো চাই না ফ্যামিলিকে ধোঁকা দিতে
কিন্তু... "
চকিতে তাকায় মোহ
স্বচ্ছ চোখ বন্ধ করেই বিড়বিড়িয়ে চলেছে
চোখজোড়া সরু হয়ে আসে মোহের
স্বচ্ছ কি স্বপ্ন দেখছে? যার কারণে এসব বিড়বিড় করছে? আবারও পড়ল দরজায় টোকা
এবার বেশ জোরেসোরেই টোকা পড়ল
স্বচ্ছ নড়ে উঠে মোহের বাঁধন হালকা করে দিতেই মোহ আস্তে করে নিজেকে ছাড়িয়ে বেড থেকে নেমে এলো
তার গায়ে বর্তমানে শুধু লেহেঙ্গা
ক্লান্ত হয়ে সেভাবেই শুয়ে পড়েছে সে
গয়নাও খোলেনি
বোধহয় স্বচ্ছই খুলে দিয়েছে
ঠিক মনে নেই মোহের
গায়ে লেহেঙ্গার ওড়না জড়িয়ে গুটিগুটি পায়ে দরজার কাছে গিয়ে দরজার লক খুলতেই চোখের সামনে স্পষ্ট হলো সোহা
দুষ্টু হেঁসে সোহা জিজ্ঞেস করল,
"রাতে ঘুম হয়নি তাই না? সেজন্য ঘুম ভাঙতে দেরি হলো?"
ঘুমোতে পারিনি
কিছু না বুঝেই স্বাভাবিক ভাবে উত্তর দিয়ে দিল মোহ
সাথে সাথে সোহা ফিক করে হেঁসে উঠে বলে,
"হয় হয়! এমন হয়
প্রথম প্রথম বিয়ে
মাখো মাখো প্রেম
চোখ লজ্জায় ছলকে তাকায় মোহ
সোহার বয়স বড়জোড় ১৭-১৮ হবে
মেয়েটা এতোটুকুতেই পেকে গেছে
অথচ মোহ নির্বিকার সুরে উত্তর দিয়ে চলছিল
মোহ হালকা কেশে রাগি সুরে বলার চেষ্টা করল,
"দুষ্টু হয়ে যাচ্ছো? আমি তোমার বড় না? মাইর লাগাবো
"হেহেহে! আচ্ছা, তুমি ফ্রেশ হয়ে নিচে এসো
অনেক লেট হয়ে গেছে এমনিতেই
নিচে সব আত্মীয়রা তোমাকে দেখার জন্য ওয়েট করছে
আর এসব শাড়ি, গয়না পড়ে এসো
বলেই নিজের হাতে থাকা শাড়ি আর জুয়েলারি বক্স ধরিয়ে দেয় সোহা
রানী গোলাপি জামদানী শাড়ি! একপলক শাড়ি দেখে সৌজন্যমূলক হাসি দিল মোহ
সোহা চলে যেতেই দরজা লাগিয়ে দিল মোহ
স্বচ্ছের দিকে একবার তাকালো সে
নিজের বালিশটা জড়িয়ে এখনো গভীর ঘুমে বিভোর
সব জুয়েলারি বক্স রেখে শুধু শাড়ি আর তার সাথে ম্যাচিং জামাকাপড় নিয়ে ধীর পায়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে সে
সকাল প্রায় এগারোটা
দুপুর হতে চলেছে
বিছানায় পাশে ঘুমের ঘোরে হাতায় স্বচ্ছ
পাশের জায়গাটুকু খালি
চোখটা হালকা করে মেলে সে
সূর্যের আলো সর্বত্র ছড়ানো
অদ্ভুত সুন্দর আলোকিত যেন আজকের পরিবেশ
চোখ খিঁচে ফেলল সে
এতোটা পর্দা মেলল কে? স্বচ্ছ সবসময় রুমটা কিছুটা অন্ধকার করেই রাখে
যে ঘুম জড়ানো কন্ঠে বিরক্তির সুরে বলল,
"হোয়াট দ্যা হেল! পর্দা এতো মেলল কে?"
চোখ কচলাতেই তার মনে হয় মোহের কথা
ভালোভাবে চোখ মেলিয়ে পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে নিতেই যখন মোহকে পায় না তখনই দ্রুত উঠে বসে পড়ে সে
কোথায় গেলো মেয়েটা? হঠাৎ করেই তার মাথায় আসে সৌমিত্রে কথা! এখন সৌমিত্রের পরিস্থিতি ভালোভাবে জানা স্বচ্ছের
যেকোনো কৌশলে বাহিরে আসার চেষ্টা করে যাবে সে
স্বচ্ছ কিছুটা জোরে ডেকে ওঠে,
সাড়া পায় না সে
বড় নিঃশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়ায়
কিছুটা ছুটেই ঘর থেকে বেরিয়ে আসে
করিডোর ধরে হাঁটতেই নিচে চোখ পড়ে তার
ড্রয়িংরুমের ডানপাশে রান্নাঘর! সেখানে চোখ, মন, চোখের পলক, পা জোড়া স্থির হলো তার
দূর থেকে গোলাপি আবরণে নিজেকে মুড়িয়ে নেওয়া এক নারীকে দেখা যাচ্ছে
ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফোটে স্বচ্ছের
দূর থেকে মোহকে একটা ছোট্ট পুতুল মনে হচ্ছে স্বচ্ছের
একটা পুতুলকে যেন গোলাপী শাড়ি আর গয়না পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আর পুতুলটা গুটিগুটি পায়ে হেঁটে যাচ্ছে
কিন্তু সে রান্নাঘরে কি করছে? ভ্রু কুঁচকে আসে স্বচ্ছের
ফ্রেশ হয়ে মোহের কাছে যাবে ভেবে ঘরের দিকে হাঁটা দেয় সে
গালে হাত দিয়ে রান্নাঘরের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে আছে মোহ
চোখেমুখে ক্ষীণ চিন্তার ছাপ
একধ্যানে গ্যাসের চুলোর দিকে তাকিয়ে আছে সে
কপালে বেয়ে বেয়ে ঘাম পড়ছে
গোলাপী শাড়ির আঁচল কোমড়ে বেঁধে রাখা
বেশ ভাবনায় মেতে থাকা মোহ আচমকা অনুভব করে তার ঘাড়ে গরম নিঃশ্বাসের সুগভীর উষ্ণতা
চমকে পেছনে তাকায় সে
জলপাই রঙের ফুল শার্ট পরিহিত ভ্রু উঁচিয়ে রাখা স্বচ্ছকে দেখে বুকে প্রথমে থুথু ফেলে বলে,
"আপনি? ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন
এভাবে কেউ এন্টি নেয়?"
"স্বচ্ছ নেয় তো
চোখ টিপল স্বচ্ছ
মোহ আবারও মুখ বাঁকিয়ে চুলোর দিকে চোখ পাকায়