content stringlengths 0 129k |
|---|
মোহের দেখাদেখি স্বচ্ছও চুলোর দিকে তাকিয়ে ভেবে বলে, |
"এভাবে তো কোনোদিন নিজের বরের দিকেও তাকাওনি যেভাবে চুলোটার দিকে তাকাচ্ছো! কি আছে ওখানে এমন?" |
"অনেক কিছু |
আচ্ছা চুলোটা জ্বালিয়ে ওটার আঁচ কম করে কিভাবে?" |
বেশ অসহায় ভঙ্গিতে তাকিয়ে স্বচ্ছকে প্রশ্ন করে মোহ |
স্বচ্ছের ভ্রু কুঁচকে থাকার মাত্রাটা বাড়ে |
"কেন? সেটা জেনে কি করবে?" |
"কি করব আবার? চুলো দিয়ে নিশ্চয় রান্নাই করে?" |
"কে রান্না করবে? তুমি?" |
"তা নয়ত কি? আমি যেহেতু চুলো জ্বালাচ্ছি সেহেতু আমিই করব |
স্বচ্ছের চোখজোড়া বিস্ময়ে ভরে ওঠে |
ভ্যাবাচেকা খেয়ে প্রশ্ন করে, |
"তুমি তো রান্নাই পারো না |
একটা রান্নাতে সাধারণত কি কি জিনিস ব্যবহৃত হয় সেটাও তো জানা নেই তোমার |
রান্নাঘরে জীবনে ২-৩ বারের বেশি তো যাওনি |
তুমি কি করে রান্না করবে? এই মেয়ে! কে বলেছে তোমায় রান্না করতে?" |
মোহ নির্বিকার সুরে বলে, |
"এটা তো নাকি নিয়ম |
আপনার মা আর নানিমাও বলল |
সকালে খেয়ে নিয়েছে সবাই |
আপনি খাবেন না? আমাকে খাওয়ার সময় বলেছে দুপুরের রান্না করতে |
নতুন বউদের নাকি রান্না করতে হয় প্রথম দিন?" |
স্বচ্ছের ভ্রুজোড়ার সাথে চোখমুখও জড়িয়ে আসে বিরক্তিতে |
"এসব ফালতু নিয়ম কে মানতে বলেছে তোমায়? তুমি তো রান্নার 'র' জানো না |
এসব নিয়ম মানতে হবেনা বেরিয়ে এসো রান্নাঘর থেকে |
"নানিমা আর আপনার মায়ের কথা মানে বড়দের কথা অমান্য করব?" |
রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসছিল স্বচ্ছ |
পিছু ফিরে তাকায় সে |
আবারও উল্টে এগিয়ে আসে মোহের দিকে |
এগিয়ে আসতে আসতে মোহকে ঠেলতে ঠেলতে মোহকে ফিল্টারের সাথে ঠেকিয়ে ফেলে |
কন্ঠে গাম্ভীর্য এনে বলে, |
"সিরিয়াসলি? আমিও তো তোমার বড় |
আমার কথা খুব মানো না?" |
"আপনি অদ্ভুত অদ্ভুত কথা বলবেন আর সেসব মানতে হবে? আর আপনি কি করে জানলেন আমি রান্না পারি না?" |
গম্ভীর স্বচ্ছের চোখমুখের রঙ পাল্টাতে শুরু করে যেন |
তবুও নিজেকে স্বাভাবিক রেখে বলে, |
"বড়লোকের আদরের দুলালি মেয়ে কে রান্না শিখে? এটা তো কমন সেন্স! দেখো কিভাবে ঘামছো |
তুমি তো অতিরিক্ত ঘামে অসুস্থ হয়ে যাও |
বলেই সযত্নের সাথে মোহের কপালের ঘাম বৃদ্ধা আঙ্গুল দিয়ে মুছে দিল স্বচ্ছ |
মোহ কিছুক্ষণ ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থেকে বলে, |
"এবার বলুন এটা কিভাবে জানলেন?" |
আবারও স্বচ্ছ বেশ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়তেই মোহ বলে, |
"বলুন? এটা তো আপনার জানার কথা নয় |
আপনার আর আমার সম্পর্ক গভীর হয়েছে মাত্র কয়েকদিনে |
এর মাঝে এসব তথ্য কি করে জানলেন? এর আগে তো আপনি এই দেশেও থাকতেন না!" |
"উফফ... এতো প্রশ্ন করো কেন তুমি? তোমার ঘরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছিলাম আমি |
বিরক্ত নিয়ে কড়া কন্ঠে উত্তর দিতেই মোহও তেতে উঠে বলে, |
"আমি এখনো উত্তর পেলাম না |
কি করবে তুমি?" |
মোহ আর স্বচ্ছের সঙ্গ কথায় পেরে না উঠে হতাশ চোখে তাকিয়ে থাকল |
স্বচ্ছ চুলোর দিকে এগিয়ে যেতে যেতে বলল, |
"তুমি হয়ত রান্না জানো না |
বাট আমি কিন্তু জানি টুকটাক!" |
"আপনি আর রান্না?" |
বিস্ফোরিত সুরে বলল মোহ |
স্বচ্ছ ফট করে চুলো ধরিয়ে বলল, |
"এনি ডাউট সুন্দরী? একচুয়ালি, বিদেশে থাকতাম সেখানে মাঝে মাঝে রান্না করার আন্টি না এলে আমাকে একাই রান্না করতে হতো |
আবার কফির বিষয়টা আছে |
যেটা একা একা তৈরি করে খেতে হতো |
দ্যাটস হুয়াই জানি কিছু কিছু রান্না |
মোহ সুন্দর করে হেঁসে স্বচ্ছকে বিদ্রুপ করে বলে উঠল, |
"বিশ্বাস হলো না |
কফি বানিয়ে দেখাচ্ছি |
আমি তোমার থেকে বেটার রান্নাতে |
মোহ চোখ গোলগোল করে তাকায় |
সেও দেখতে চায় তার একমাত্র হাজবেন্ড কি আদোও রান্না জানে? |
১০ মিনিটের মধ্যে কফি বানিয়ে তা মগে ভরে মোহের সামনে ধরল স্বচ্ছ |
মোহ সরু চোখে তাকিয়ে আছে কফি মগের দিকে |
কফির মগে অল্প একটু চিনি মেশানো |
মোহ শুধু ভাবছে এটা খাবার পর তার কি হবে? স্বচ্ছ কিছুটা জোরে বলে উঠল, |
"ও হ্যালো ম্যাডাম? আমি বানিয়েছি অনেকদিন পর তাও আপনার জন্য |
সো আপনাকেই খেতে হবে |
মোহ জোর করে হেঁসে কফির মগ হাতে নিল |
ধীরে ধীরে ঠোঁট লাগালো মগে |
কফি মুখে আসতেই চোখমুখ লাল হয়ে এলো তার |
চোখমুখ ঝাঁকিয়ে স্বচ্ছের দিকে তাকালো সে |
দাঁত বের করে হেঁসে বলল স্বচ্ছ |
রেগেমেগে হাতে থাকা মগ স্বচ্ছের হাতে ধরিয়ে বলে, |
"আপনার কফি আপনিই খান |
কি তেতো! নিজেও তেতো মানুষ |
কফিটাও বানিয়েছেন তেতো |
"ওহ তাহলে মিষ্টি চাই মোহ ম্যাডামের?" |
"তা না হলে কি? তেতো কফি কেউ খায়?" |
"ওয়েল! আমি দিচ্ছি মিষ্টি |
বলে অদ্ভুত হাসি দেয় স্বচ্ছ |
মোহ সন্দিহান হয়ে তাকালে হঠাৎ করেই মোহের চোখের ওপর হাত রাখে স্বচ্ছ |
মোহ কিছু ভেবে ওঠার আগেই ঘটে যায় ভয়াবহ এক কান্ড! মোহের চিকন হালকা গোলাপী বর্ণের ঠোঁটে পরে স্বচ্ছের ঠোঁটের পরশ |
উষ্ণ ঠোঁটের ছোঁয়ায় সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে আসে মোহের |
অদ্ভুত ঘোরের আবেশে মেতে ওঠে সে |
বুঝতেই পারে না কি হলো তার সাথে? যখন ঘোর ভাঙিয়ে চোখ খুলে ফেলে তখন দেখে স্বচ্ছ রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেছে |
হেঁটে যাচ্ছে সদর দরজার দিকে |
পিছু ফিরে সে মোহের দিকে আবারও ঠোঁটজোড়া সরু করে চুমুর মতো ইশারা করে দৃষ্টির অগোচরে চলে যায় সে |
মোহ থম মেরে সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে |
এটা কেমন মিষ্টি ছিল? |
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যেবেলা |
চারিদিকে লোকজনের সমাগম |
আলোতে ঝলমল করছে পরিবেশ |
জাঁকজমকভাবে সাজানো রিসোর্ট |
চলছে মোহ ও স্বচ্ছের রিসেপশন |
কথা অনুযায়ী রিসেপশনের অনুষ্ঠান ধুমধাম করেই করছেন মিসেস. রেবা ও নেহাল সাহেব |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.