content
stringlengths
0
129k
ভালো থেকো
আল্লাহ্ হাফেজ
আজ শুক্রবার বিধায় কোচিং বন্ধ
সবাই নাস্তা করে একসাথে বসে আড্ডায় বসলাম
এই উল্লুকটার কি কোন কাজ নেই নাকি? সারাদিন দেখি বাসায় নয়তো ঐ কাঠের ঘরটায় থাকে
বাসায় বসে বসে খাওয়ার জন্যই কি সেলারি দেয় নাকি? আস্ত একটা অকর্মার ঢেঁকি বুঝাই যায়
নিশ্চয়ই কাজ থেকে বের করে দিয়েছে! অমন অকর্মণ্যকে কে রাখবে কাজে! আচ্ছা সে কি সত্যিই ইঞ্জিনিয়ার? আমার তো মনে হচ্ছে
ভুয়া ইঞ্জিনিয়ার
নকল টকল করে পাশ করেছে নিশ্চিত! অপদার্থ একটা!
আমি আর আপু আলাদা বসে কথা বলছিলাম
কোত্থেকে যেন শ্রাবণ এসে উপস্থিত হলো
- কিরে ফাগুন মাস! কি এতো কথা হচ্ছে
দুজনের মাঝে?
- ভাইয়া! তোকে না বলেছি আমাকে ফাগুন
মাস ডাকবি না! আমার একটা সুন্দর নাম
আছে সেই নামে ডাকবি নয়তো ডাকতে হবে না
- আরে এতো গাল ফুলাস কেন?
- ব্যাঙ ডাকার মাস তুমি
- আপু ব্যাঙ ডাকার মাস মানে? বুঝলাম না
- তোমার তা বুঝতে হবে না মিস মিমি চকলেট
- এই যে মিঃ আমার নাম মিমি চকলেট না
আফসানা মিমি আমার নাম! ওকে?
- আরে সানা তুমি তো জানো না ভাইয়া সবাইকেই একটা না একটা ডাকনাম দেয়
আচ্ছা যা বলছিলাম ভাইয়াকে ব্যাঙ ডাকার মাস ডাকার কারন হলো......
- এই তুই চুপ করবি?
- আরে বলতে দে তো তোর এই নামের সিক্রেট রিজনটা
আচ্ছা শুনো ভাইয়ার নাম তো শ্রাবণ
আষাঢ় শ্রাবণ এই দুই মাস মিলে হয় বর্ষাকাল
তো বর্ষাকালে ব্যাঙ ডাকে জানো তো? এজন্যই
ভাইয়াকে ব্যাঙ ডাকার মাস ডাকি
এটা বলেই আপু হাসতে লাগল
আমারও হাসি পেয়ে গেল
আর মিঃ কাঠখোট্টা পেঁচার মত মুখ করে বসে আছে
দেখার মত হয়েছে মুখটা
শ্রাবণের দিকে তাকিয়ে আপুকে আমি জিজ্ঞেস করলাম
- তা আপু কোন কোন ব্যাঙ ডাকে শ্রাবণ মাসে?
- ঐ মিমি চকলেট ভালো হবেনা কিন্তু
- কি ভালো হবে না রে? নিজে তো ঠিকই বলতে
পারিস? লোকে বললে জাত চলে যায়!
- একদম উল্টাপাল্টা বলবি না......
তাদের ঝগড়া চলতেই আছে
তারা দুই ভাইবোনের ঝগড়া দেখে ভাইয়ার কথা মনে পড়ে গেল
ভাইয়াও আগে আমার সাথে কত দুষ্টমিই না করতো! এখন চেঞ্জ হয়ে গেছে ঐ একটা কারনে
এটার জন্য ভাইয়া কত কষ্টই না পাচ্ছে! এটা ভেবেই মনটা খারাপ হয়ে গেল
একবার ভাইয়া আর আমি আম বাগানে গিয়েছি আম পাড়তে
যখন গাছে উঠে আম পাড়তে শুরু করলো তখন ভাইয়াকে বললাম
- ভাইয়া এখন যদি গাছে আরশোলা দেখো
তাহলে কি করবে?
- আফু রে আমাকে ভয় দেখাস না প্লিজ
কিন্তু গাছ থেকে পড়ে যাব!
যদিও আমি জানতাম যে গাছে কোন আরশোলা থাকে না
তবুও ভয় দেখানোর জন্য বললাম যে
- ঐ যে দেখো ভাইয়া তোমার মাথার উপরের
ডালে আরশোলা!
এটা বলতে দেরি হলো কিন্তু দিক বেদিক হারিয়ে পড়তে দেরি হলো না
যদিও একেবারে মাটিতে পড়েনি
একটা ডালে ঝুলে ছিল
এটা দেখেই আমি হাসতে হাসতে শেষ
ছেলেরাও আরশোলাকে এত ভয় পায়!
এটা মনে হতেই হাসি পেয়ে গেল আমার
শ্রাবণের একটা কথায় ঘোর ভাঙলো
- পাগলের মত এভাবে হাসছো কেন? কুকুর
কামড় দিয়েছে নাকি?
এটা শুনেই আমি চোখ বড় বড় করে তাকালাম
এই লোকে কি বলে এসব?
- কি হলো? এমন তেলাপিয়া মাছের মতো চোখ বড় বড় করে এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? মনে হচ্ছে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে!
এটা শুনে আমার মাথায় রক্ত ওঠে গেল
কি বললো!আমার চোখ তেলাপিয়া মাছের মতো! এমন একটা
কমপ্লিমেন্ট করতে পারলো আমার চোখ নিয়ে?
- ঐ মিঃ খরগোশ আপনার চোখ যে গরুর মতো
জানেন কি আপনি? সারাক্ষণ তো এই ষাঁড়ের মত
চোখ দিয়ে মানুষকে গিলেন
আপু বাগড়া দিয়ে বললো
- আরে কি শুরু করেছো তোমরা? ছোট বাচ্চার
মতো ঝগড়া কেন করছো?
- ওই কি বললা তুমি আমার চোখ গরুর মতো?
সাহস তো কম না তোমার!
- যা সত্যি তাই তো বলেছি
হুহ্ গরুর চোখওয়ালা
এটা বলেই রুমে চলে আসলাম
কত বড় সাহস এই বেটার! স্কুল কলেজে কেউ আমাকে এসব বলার সাহস পায়নি
আর ঐ বেটা বলে কিনা আমার চোখ তেলাপিয়া মাছের মতো! মন চাচ্ছে তাকে ব্লেন্ডারে ভরে ইচ্ছেমতো লবন, মরিচ, চিনি দিয়ে ব্লেন্ড করে শরবত বানিয়ে খাই
তবেই যদি সাময়িক সময়ের জন্য একটু শান্তি পাই! বেটা খচ্চর! বদমাইশ!
সারাদিন আর শ্রাবণের সাথে কোন কথা হয়নি
সে অবশ্য বলতে চেয়েছে কিন্তু আমিই পাশ কাটিয়ে চলে আসি
খেতে বসেও বারবার পায়ে গুঁতো দিচ্ছিল
তখন মনে চাচ্ছিল পা দুটো কেটে তার গলায় ঝুলিয়ে দেই! এতো বিরক্ত করেন কেন উনি?
ঘুমের যে কি হলো! ঘুমও আসছে না
রাত বাজে বারোটা! এদিকে আমারও বারোটা বেজে গেছে
ঘুমের মাসির দেখা নেই
কোথায় আছে কখন আসবে কে জানে! ব্যালকনিতে যেতাম কিন্তু যদি আবার ঐ
কাঠখোট্টার মুখ দেখতে হয় তাই যাবনা! চোখে যেই হালকা ঘুম ভর করেছে সেই মুহূর্তে মোবাইলটা বিকট শব্দে বেজে উঠল
সাইলেন্ট না করার ফল
মানুষের কি রাত বিরাতে কাজ নেই নাকি? শুধুশুধু ডিস্টার্ব করে
রিসিভ করার আগে ফোনদ্বাতার চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করলাম
- আস্সালামু আলাইকুম কে বলছেন?
- কি করতেছো তুমি?
কেমন বেয়াদব! সালামের উত্তরটাও দিল না!
- কে বলছেন আপনি?
- আগে বলো কি করতেছো?