content
stringlengths
0
129k
ডিনার শেষে আঙ্কেল, আন্টি আর আপুর সাথে
বেশ কিছুক্ষণ যাবৎ বসে থেকে আড্ডা দিলাম
শ্রাবণ এখানে উপস্থিত নেই
কি জানি বাঁদরটা
আবার কি আকাম করতে গেছে
আমার সাথে
যেন কিছু না করে দোয়া করি
আজকে অনেক টায়ার্ড লাগছে
তাই ব্যালকনিতে
না গিয়ে সোজা বিছানায় শুয়ে পরলাম
খুলে যেই গায়ে দিতে যাব তখনই দেখি কাঁথার ভেতর থেকে গোটাকয়েক আরশোলা বের হয়ে কিলবিল করে বিছানার এ মাথা থেকে ঐ মাথা পর্যন্ত দৌড়াদৌড়ি করছে
তেলাপোকা দেখেই আমি লাফ দিয়ে ফ্লোরে নেমে এক চিৎকার দিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাই
তারপর কি হয়েছে কিছুই মনে নেই
মুখে হালকা পানির ছিটায় জ্ঞান ফেরার পর দেখি আমার মুখের ওপর শ্রাবণ ঝুকে আছে
আমার কি হয়েছিল মনে করতে পারছি না
ধাতস্থ হওয়ার পর শুয়া থেকে তাড়াতাড়ি ওঠে যেই আবার চিৎকার দিতে যাব তখনই শ্রাবণ আমার মুখ চেপে ধরেছে
- চুপ, আর একটা চিৎকারও দিবেনা বুঝলে? রাত বিরাতে এমন চিৎকার করলে মানুষ কি ভাববে?
জোর করে আমার মুখ থেকে তার হাতটা সরিয়ে
দিয়ে বললাম
- আপনি আমার রুমে কি করছেন? আর
কিভাবেই বা আসলেন? রুমের তো দরজা লাগানো
- ঐ যে ঐখান দিয়ে আসলাম
ব্যালকনিতে যাওয়ার দরজার দিকে ইশারা করলো
দেখি দরজা খোলা
তেলাপোকার কথা মনে পড়তেই আবারো লাফিয়ে বিছানা থেকে নেমে গেলাম
- কি হলো? এভাবে লাফাচ্ছো কেন?
(অসহায় মুখ করে বললাম)
- তুমি আরশোলা এত ভয় পাও জানতাম না তো! ভয়ে একেবারে অজ্ঞান হয়ে গেছিলে
আরশোলা দিয়ে ভয় দেখানো ঠিক হয়নি আম.........(মুখে হাত দিয়ে বাকি কথাটা আর উচ্চারন করলো না)
- কি বললেন আপনি?
- না মানে বলছিলাম যে.....(ঢোক গিলে)
আরশোলার মত সাধারন একটা ছোট প্রাণীকে
এতো ভয় পায় কেউ?
- তার মানে আপনিই আমার বিছানায় আরশোলা রেখেছিলেন তাইতো? আজকে আমি আপনাকে.....
এটুকু বলেই উনার দিকে এগিয়ে গিয়ে বিছানায়
ওঠে উনার গলা চেপে ধরলাম
- আজকে আপনার রেহাই নেই
মেরে ফেলবো আজ
- আরে আরে আমাকে অল্প বয়সেই কি বিপত্নীক বানানোর ইচ্ছে আছে নাকি তোমার?
উনার কোন কথা-ই আমার কানো যাচ্ছে না
আমি আমার কাজে ব্যস্ত
আচমকা উনি বসা থেকে শুয়ে পড়লেন
আর আমি একেবারে উনার বুকের সাথে লেপ্টে উনার ওপর পড়ে গেলাম
আমার অবাধ্য খোলা চুলগুলি এঁকেবেঁকে আমার মুখ বেয়ে গিয়ে উনার মুখের ওপর বারি খাচ্ছে
এক অদ্ভুত মোহময় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে
উনার চোখ আমার মুখে নয়, আমার চোখে
একেবারে চোখের গভীরে
এমন দৃষ্টিতে তিনি আগে আমার দিকে কখনও তাকায়নি
উনার চোখগুলোও অনেক গভীর
যে চোখে মাদকতা আছে, ডুব দিলে নির্ঘাত ডুবে মারা যাব
কিন্তু কেন যেন উনার চোখ থেকে চোখ সরাতে ইচ্ছা করছে না
আমার হার্টবিটের সাথে উনার হার্টবিটও পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে
এতো দ্রুত বিট করছে কেন হার্ট? ফেটে বেরিয়ে আসবে নাকি?
একটা ঘোরের মধ্যে আছি আছি
সময়টা যেন থমকে গেছে
সেই সাথে থমকে গেছে দুই জোড়া আঁখি
পলক ফেলার নাম নেই
হঠাৎ আমাকে অবাক করে দিয়ে শ্রাবণ আমার ছোট ছোট চুলগুলো কানের পাশে গুঁজে দিয়ে ঠোঁটের ডানপাশের নিচের তিলটায় আলতো করে তার ঠোঁট দুটি ছুঁইয়ে দিল
চোখদুটো আপনাতেই বন্ধ
হয়ে গেল আবেশে
মুহূর্তেই যেন আমার সারা মুখ কান গরম হয়ে গেল
যখন খেয়াল হলো তাড়াহুড়ো করে তার ওপর থেকে নেমে এসে ফ্লোরে দাঁড়ালাম
আমার পা এখনো কাঁপছে
তার সাথে হৃদস্পন্দন তো হচ্ছেই
আজকে রাতে আমার ঘুম হবে না
অজানা এক মিশ্র অনুভূতির সাথে পরিচিত হয়েছি এই প্রথম
তাও আবার রিয়েলে
একবার হয়েছিলাম স্বপ্নে তবে বাস্তবেরটা অনেক বেশিই নাড়া দিয়েছে আমার মনকে
তখন শ্রাবণকে কোনকিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ব্যালকনির দরজা দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দরজার সাথে লেপ্টে বসে খুব জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিলাম
এতক্ষণ ধরে যেন আমার নিঃশ্বাসটা আঁটকে ছিল
বহুক্ষণ পর কিছুটা ধাতস্থ হলাম
- ভাইয়া তোমাকে একটা কথা বলি রাখবে?
- তোর কোন কথাটা রাখিনি বল তো?
- সব কথাই রাখো তবে একটা কথা কখনোই
শুনছো না তুমি
- আরাদ্ধা আপুর কথা মনে রেখে এখনো কষ্ট পাচ্ছো
কেন এমন করছো বলো তো? সে তো তোমার কথা ভাবেনি
সে ভেবেছে তার কেরিয়ারের কথা, ভেবেছে তার স্ট্যাটাসের কথা
তোমাদের মধ্যে যে একটা গভীর সম্পর্ক ছিল সেটার দাম দিয়েছে কি সে? তোমার কথা কি একটাবারের জন্যও ভেবেছে? আপুর কাছে তুমি তার কেউ ছিলে না
তাহলে তুমি কেন সেই সময়টায়
আঁটকে আছো?
- জানিস আফু! সত্যিকারের ভালবাসাটা এমনই হয়
তাকে শত চেষ্টা করলেও ভুলা যায় না, ঘৃণা করা যায় না
ওর প্রতি আমার যে অনুভূতি তা একটুর জন্যও ফিকে হয়নি এখনো
হয়তো হবেও না কখনো
- এমন ভালবাসা ভালো না ভাইয়া
উপকার হয় না বরং এই ভুল মানুষকে ভালবাসার
জন্য সারাজীবন তার মাশুল দিতে হয়
- তুই আমাকে নিয়ে ভাবিস না রে আফু
আমি ঠিক আছি
- তুমি যে কেমন আছো আমার চেয়ে ভালো কেউ জানেনা ভাইয়া
তোমার জন্য খুব কষ্ট হয় আমার জানো ভাইয়া?
- আমার জন্য শুধু শুধু কষ্ট পাস না রে পাগলী
তুই মন দিয়ে পড়াশোনা কর
আমাকে নিয়ে
অযথা চিন্তা করিস না
- এটা তোমার শেষ কথা জানি আমি
কিন্তু তুমি
তিলে তিলে কষ্ট পাচ্ছো তা আমি সহ্য করতে
আপুকে আমি কোনদিন ক্ষমা করব