content
stringlengths
0
129k
আর তক্ষশীলা (প্রাচীণ ভারতের সুবিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়), প্রব্রজ্যা, জেতবনে, দ্বিনিপাতে, বিবাদভঞ্জন প্রভৃতি শব্দের অর্থ তো দেয়াই যেতে পারত
তবে অন্য কঠিন শব্দগুলো কাট-পেস্ট করতে গিয়ে দেখলাম এগুলো নড়ানো যাচ্ছে না; একেবারে আঠার মত লেগে আছে! 🙂
আবারো দুঃখিত!
কৌস্তুভ ফেব্রুয়ারী 4, 2012 1:30 পূর্বাহ্ন -
দেখুন, কিছু শব্দের অর্থ দিলাম
কোনোটা বাদ পড়ে গেলে জানাবেন
গীতা দাস ফেব্রুয়ারী 3, 2012 2:37 অপরাহ্ন -
আপনার ধর্মালোচনা বা কাহিনীটি অত্যন্ত সুকঠিন ভাষায় লিখিত, যাহা বোধগম্য করিতে আমার বেগ পাইতে হইতেছে
বলদার্গু এর মত শব্দ বুঝিতে পারিতেছি না
আরও সহজ সরল ভাষায় লেখনি পরিচালনা করার প্রার্থণা করিতেছি
কৌস্তুভ ফেব্রুয়ারী 3, 2012 9:32 অপরাহ্ন -
@গীতাদি, আমি ওনার মূল স্টাইলটা হুবহু বজায় রাখার চেষ্টা করেছি
তবে কি, সংস্কৃতের মত সাধুভাষারও এখন আর দিন নেই :))
কোন শব্দগুলো কঠিন, একটু কপি-পেস্ট করে দেবেন? তাহলে সরল প্রতিশব্দ দিয়ে দিতে পারি, অন্য পাঠকদেরও সুবিধাই হবে
বলদার্গু একেবারেই নেটপাষণ্ডদের ব্যবহৃত শব্দ, বুলশিটের বাংলা অনুবাদ
ধর্মকারীতে এটা অনেকে ব্যবহার করি
মনে হয় হিমু ভাইয়ের বানানো শব্দ
জবাব বাতিল
অনুসন্ধান করুন
:
নতুন ব্লগ লিখুন
সাম্প্রতিক মন্তব্য
নারীই বন্ধ প্রকাশনায়
মিসিং লিংক কি সত্যিই মিসিং? প্রকাশনায় অনিন্দ্য পাল
অশ্লীল ভিডিওটি দেখলে কেন? প্রকাশনায় বিধান
নারীই বন্ধ প্রকাশনায় বিধান
বিষণ্ণতায় আমি, এবং কারণ খুঁজে দেখার চেষ্টা প্রকাশনায়
বিষয় অনুযায়ী লেখা
বিষয় অনুযায়ী লেখা একটি বিভাগ পছন্দ করুন অতিমারী (4) অনন্ত বিজয় (24) অনুবাদ (94) অভিজিৎ বিজ্ঞান (12) অভিজিৎ বিতর্ক (10) অভিজিৎ সাহিত্য (4) ই-বই (150) আমার চোখে একাত্তর (22) দ্য গ্রান্ড ডিজাইন (9) ভালবাসা কারে কয়? (67) ইতিহাস (356) উদযাপন (143) ডারউইন দিবস (78) ওয়াশিকুর বাবু (7) কবিতা (481) আবৃত্তি (79) ছড়া (25) খে...
কলেজে সেদিনই মাত্র এসেছি
একাডেমী ব্লক থেকে ফাহিম ভাই আমাকে রিসিভ করে হাউসে নিয়ে এসে সব কিছু গুছিয়ে দিতে দিতেই কলেজে সারভাইভ করার প্রথম পাঠ শিক্ষা দিচ্ছিলেন
আমিও ছেলে হিসেবে বেশ বাধ্যগত টাইপের
সিনিয়রদের সাথে তো বটেই
ফাহিম ভাইয়ের কথাগুলো তাই মাথায় গেঁথে নেবার চেষ্টা করি... অলওয়েজ লুক ডাউন
মুখ খুললেই কাইন্ডলি জ্বী
হাউসের কাজ শেষে ফাহিম ভাইয়ের সাথে আবার একাডেমি ব্লকের দিকে পা বাড়াই
আমার প্যারেণ্টস সেখানে অপেক্ষা করছে
রুম থেকে বের হয়ে এবার আর ভুল করিনা
চিবুকটা একেবারে বুকে এসে ঠেঁকে
আমার দুনিয়ার আর কিছু দেখার দরকার নেই
কিছু জানার দরকার নেই
আমি আমার চারপাশটা এড়িয়ে শুধু পায়ের সামনের পথটুকু বুঝে বুঝে লুক ডাউন হয়ে হাঁটতে থাকি
পরবর্তী সাত দিনও তার ব্যত্যয় ঘটেনা
সময়ের কাঁটা থেমে থাকা সেই সাতটি দিনও কেমন কেমন করে যেন একসময় শেষ হয়ে যায়
ক্যাডেট লাইফের প্রথম ছুটিতে বাসায় গেলাম
দুনিয়ার আর সব ভাল জিনিসের মত একুশ দিনের বড়সড় ছুটিটাও চোখের পলক ফেলার আগেই একসময় দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল
ছুটি শেষে বাসা থেকে ফিরে আসার পর হাউসের পাশের রাস্তা দিয়ে যাবার সময় মনের ভুলে লুকডাউন না হয়ে ডানে তাকালাম
ভুলে যাবার জন্য একুশ দিন কম সময়তো নয়
এবং ডানে তাকিয়ে আমি বেশ বড় সড় সাইজের একটা ধাক্কা খেলাম
এত বিশাল একটা সবুজ ঘাসে মোড়া মাঠ আমাদের কলেজে আছে সেটা আমি সেই সাত দিন কলেজে থেকে একটুও টের পাইনি!!
কথাটা ফাহিম ভাই কোনদিন শুনে থাকলে নিশ্চিত ভাবেই খুশি হবেন
তার ফলোয়ার কেমন অক্ষরে অক্ষরে তার শেখানো নিয়মগুলো মেনে চলেছিল ভেবে
আর বাকি সবাই যে আমাকে বেকুব ভেবে মনে মনে হাসাহাসি শুরু করে দিয়েছেন সেটাও নিশ্চিতভাবেই বলা যায়
সেই সাতটা দিনেই কেবল প্রথম এবং শেষবারের মত মাঠটাকে না দেখে থাকা
মাঠ নিয়ে সেদিনের সেই বিস্ময়বোধের জায়গাটুকু পরবর্তী ছয় বছরে কেবল ভালোবাসা দিয়ে পূর্ণ হয়েছে
সেভেনে থাকতে নভিসেস ড্রীল করতে করতে চোখে মুখে অনেক যন্ত্রণা নিয়ে মাঠটার দিকে তাকিয়ে থাকতাম
সিনিয়র ক্লাসগুলো কি মজায়ই না গেমস করছে! আর ভাবতাম কবে নভীস থেকে পুরোপুরি ক্যাডেট হবো আর স্টাফের পশ্চাৎদেশে লাথি মারার চিন্তা বাদ দিয়ে ফুটবলের গায়ে লাথি মারতে পারবো
কষ্টকর সময়গুলো খুব দীর্ঘ হয়
কিন্তু সৌভাগ্যের কথা যে তা একসময় শেষও হয়
নভিসেস ড্রিল শেষ করে একসময় পুরোদস্তুর ক্যাডেট হলাম
আমাদের প্রতি সিনিয়রের মনোভাবে যদিও তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি
কিন্তু তাতে কি
তখন আমরা আর সবার মত সকালে উঠে পি টি করি
লেফট রাইটের ঝামেলা চুকিয়ে সাত পিরিয়ড ক্লাস করি
আর হ্যা... বিকেল বেলা গেমস আওয়ারে একটা ফুটবল এর পেছনে ব্যাচের তিপ্পান্ন জন মিলে দৌড়াদৌড়ি করি
আমরা এখন অন্যদের চে আলাদা কেউ নই
সেই তখন থেকেই বিকেল বেলার গেমস আওয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে করতে আমার প্রতিটি দিনের শুরু হতো
ক্লাস টুয়েলভে ঊঠতে উঠতে অনেক কিছুই বদলে গেছে
বদলায়নি শুধু অপেক্ষার বিষয়টি
সবসময় শুধু ছটফট করতাম গেমস আওয়ার কখন আসবে
ক্লাস টেন পর্যন্ত গেমস আওয়ারের আগে তখন "ফার্স্ট প্রেপ" নামের একটা বস্তু পার করতে হত
আমার মনে হয় দুনিয়ার বোরিং জিনিসগুলোর টপ চার্ট করা হলে এই জিনিসটা আর সবকিছুকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে ফার্স্ট প্লেস দখল করে নিবে
ক্লাস এইটে এসে সেটাকেও আমরা রীতিমত এক্সাইটমেন্টে কনভার্ট করি আমি আর ইকবাল মিলে
ইকবাল আর আমার পাশাপাশি ডেস্ক ছিল
আমাদের ফার্স্ট প্রেপের পুরো সময়টুকু কাটতো গেমস আওয়ারে যার যার ফুটবল টিমের জন্য প্লেয়ার সিলেকশন আর স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে করতে
আমরা দুজন প্রেপ গার্ডের কাছ থেকে অনুমতি নিতাম ক্লাসমেটের কাছ থেকে পড়া বুঝে নেয়ার কথা বলে
আর তারপর সবার ডেস্কে ডেস্কে ঘুরতাম কার দল কত ভাল সেটা বুঝিয়ে ভালো প্লেয়ারগুলোকে ভুলিয়ে ভালিয়ে হাত করার ধান্দায়
মাঝে মাঝে বুঝানোর মাত্রা বোধহয় একটু বেশিই জোরে হয়ে যেত
ফলাফল হিসেবে তখন কেউ করিডোরে উঁকি মারলে মেরুন রঙ করা ডাস্টবিনের পাশাপাশি হ্যান্ডস ডাউন অবস্থায় আমাদের দুজনকেও আবিস্কার করতো
ক্লাস নাইনে উঠে ফুটবল নিয়ে আমাদের মধ্যে নতুন ক্রেজের শুরু
আমরা ক্লাবের নাম নিয়ে ফুটবল ম্যাচ খেলা শুরু করলাম
আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ম্যান ইউ ভার্সাস আর্সেনাল
পুরা সেইরকম ব্যাপার স্যাপার
তখন আর শুধু ফার্স্ট প্রেপেও কুলায় না
ঐ সময়টুকু যায় যার যার টীমের রণ কৌশল ঠিক করতে করতে
আর ইভনিং প্রেপ, নাইট প্রেপ যায় খেলা পরবর্তী উত্তেজনার রেশ সামলাতে সামলাতে
হারু পার্টিকে টীজ করতেও আমরা আমাদের পড়াশুনার সময়ের একটা বড় অংশ ব্যয় করি
ইট ইজ অলসো আ পার্ট অফ ট্রেইনিং!! সে এক কঠিন অবস্থা
কলেজের বাকি সময়টুকুতেও খেলা নিয়েই মেতে থাকা হয়েছে বেশিরভাগ সময়
পড়াশুনা জিনিসটাকে কোনদিনই তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু হিসেবে ভেবে দেখা হয়নি
সবুজ মলাটে বাঁধাই করা শাহজাহান তপনের ফিজিক্স বইয়ের চেয়ে সবুজ ঘাসে মোড়া মাঠটার ভাষা আমি সবসময়ই ভাল বুঝতে পারতাম
বুকের একেবারে গভীরে কোথাও টান অনুভব করতাম
অপশনাল গেমসের দিনে কাঠফাটা রোদ দেখেও কখনো দুই বার চিন্তা করা হয়নি মাঠে নামবো কীনা
আর বেশির ভাগ সময়ই ফুটবল নিয়েই মেতে থাকা হতো
আমাদের ব্যাচটাকে ফুটবল ফ্রিক বললে বোধহয় খুব বেশি বলা হবেনা
ক্লাস টুয়েলভে যখন কলেজকে শেষবারের মত বিদায় জানিয়ে ছুটিতে চলে আসার সময় হল আমার মনটা ভীষণ খারাপ থাকতো
যতটা না কলেজকে ছেড়ে যাবার কথা ভেবে তার চে বেশি আমার অতি অতি প্রিয় মাঠটাকে রেখে চলে যেতে হবে এটা ভেবে
বিকেল বেলা গেমস আওয়ার শেষে মাগরিব প্রেয়ারের জন্য রেডি হয়ে মাঠের পাশে কংক্রীটের বেঞ্চে বসে থাকতাম চুপচাপ
আমার ভালোবাসার মাঠটাকে সামনে রেখে
আমার তখন ক্লাস সেভেনের প্রথম সাতটা দিনের কথা মনে পড়তো