content
stringlengths
0
129k
আজকের পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ২৫ নভেম্বর ২০২১
মৃত্যুর আগে কেউ মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলে এ বান্দাকে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন
বিচার-ফয়সালা হিসাব-নিকাশের পর যদি কারো শাস্তিও হয়; তারপরও ঈমানদার ব্যক্তি জান্নাতে যাবেন
হাদিসের বিশুদ্ধ বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত
এমনকি সবার শেষে কে জান্নাতে প্রবেশ করবে; এ সম্পর্কেও হাদিসে পাকের বর্ণনায় ওঠে এসেছে
কে হবে সেই ব্যক্তি?
হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাআলা বিচারকাজ শেষ করার পর 'লা ইলাহা ইল্লাহু'র সাক্ষ্যদাতাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করার ইচ্ছা করবেন এবং ফেরেশতাদেরকে আদেশ করবেন তাদের বের করে আনতে
সেজদার চিহ্ন দেখে দেখে ফেরেশতারা তাদেরকে চিনতে পারবে
আর আল্লাহ তাআলা বনি আদমের সেজদার স্থানগুলোকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিয়েছেন
সুতরাং ফেরেশতারা তাদেরকে এমতাবস্থায় বের করবে যে, তখন তাদের দেহ থাকবে কয়লার মতো
তারপর তাদের দেহে পানি ঢেলে দেয়া হবে
যাকে বলা হয় 'মাউল হায়াত' বা 'সঞ্জীবনী পানি'
সাগরের ঢেউয়ে ভেসে আসা আবর্জনায় যেরূপ উদ্ভিদ জন্মায়, পরে এগুলো যেরূপ সজিব হয় তারাও সেরূপ সজিব হয়ে যাবে
এসময় জাহান্নামের দিকে মুখ করে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকবে আর বলবে-
হে প্রভু! জাহান্নামের লু হাওয়া আমাকে ঝলসে দিয়েছে, এর জ্বলন্ত আঙ্গার আমাকে জ্বালিয়ে দিয়েছে
সুতরাং তুমি আমার চেহারাটাকে জাহান্নামের দিক থেকে ঘুরিয়ে দাও
এভাবে সে আল্লাহকে ডাকতে থাকবে
তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমি যদি তোমাকে এটা দিয়ে দিই তবে তুমি অন্যটির প্রার্থনা করবে?
লোকটি বলবে, 'না', তোমার ইজ্জতের কসম আল্লাহ! আর অন্য কিছু চাইবো না
সুতরাং তার চেহারাটা জাহান্নামের দিক থেকে ঘুরিয়ে দেওয়া হবে
এরপর সে বলবে, হে প্রভু! তুমি আমাকে জান্নাতের দরজার কাছাকাছি করে দাও
আল্লাহ বলবেন, তুমি কি বলনি যে, তুমি আমার কাছে আর কিছু চাইবে না?
আফসোস তোমার জন্য আদম সন্তান! তুমি কতইনা গাদ্দার! সে এরূপই প্রার্থনা করতে থাকবে
তখন আল্লাহ বলবেন, সম্ভবত আমি যদি তোমাকে এটা দিয়ে দিই, তবে তুমি অন্য আরেকটি আমার কাছে দাবি করবে
লোকটি বলবে, 'না', তোমার ইজ্জতের কসম আল্লাহ! অন্য কিছু আর চাইবো না
তখন সে আল্লাহ তাআলার সঙ্গে এ মর্মে ওয়াদা করবে যে, সে আর কিছুই চাইবে না
তখন আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের দরজার কাছাকাছি করবেন
সে যখন জান্নাতের মধ্যস্থিত নেয়ামতগুলো দেখতে পাবে; তখন আল্লাহ যতক্ষণ চাইবেন ততক্ষন সে চুপ করে থাকবে
এরপরই সে বলতে থাকবে, হে প্রভূ! তুমি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও
তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি কি বলনি যে, তুমি আর কিছু চাইবে না?
আফসোস, তোমার জন্য হে আদমসন্তান! তুমি কতইনা গাদ্দার
লোকটি বলবে, হে প্রভূ! তুমি আমাকে তোমার সৃষ্টি জীবের মাঝে সবচেয়ে হতভাগ্য করো না
এভাবে সে প্রার্থনা করতে থাকবে
পরিশেষে আল্লাহ তাআলা হেসে ফেলবেন-
আর আল্লাহ তাআলা যখন হেসে ফেলবেন তখন তাকে জান্নাত প্রবেশের অনুমতি দিয়ে দেবেন
এরপর যখন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তখন তাকে বলা হবে, তোমার যা ইচ্ছে হয় আমার কাছে চাও
সে (বিভিন্ন) আবেদন করবে; এমনকি (এক সময়) তার আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যাবে
তখন আল্লাহ বলবেন- এগুলো তোমার এবং এর সমপরিমাণও তোমার
হজরত আবু হুরায়রা বলেন, ঐ লোকটি হচ্ছে সর্ব শেষে জান্নাতে প্রবেশকারী লোক
এ কারণেই মানুষের উচিত, মহান রবের রহমত থেকে নিরাশ না হওয়া
আল্লাহ তাআলা আশাবাদীদের এভাবেই রহমত দান করবেন
জান্নাত দান করবেন
আল্লাহর রহমতের প্রতি একনিষ্ঠ বিশ্বাস থাকলে তিনি দুনিয়া ও পরকালে অসংখ্য নেয়মতে জীবন পরিপূর্ণ করে দেবেন
সুতরাং সব বনি আদমের উচিত, আল্লাহর রহমতের প্রতি অগাধ আস্থা এবং বিশ্বাস রাখা
আল্লাহর হুকুম-আহকাম যথাযথভাবে পালন করা
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন গড়ার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করে যাওয়া
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে একনিষ্ঠ ঈমানের সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর বিধি-বিধানগুলো মেনে চলার তাওফিক দান করুন
পরকালের হিসাব-নিকাশ সহজ করে দিন
চিরস্থায়ী জান্নাত ও তার দিদার পেয়ে ধন্য হওয়ার তাওফিক দান করুন
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন: শেখ হাসিনা সরকারের শেকড় এদেশের মাটির অনেক গভীরে, গুজব রটিয়ে লাভ হবে না
তিনি আজ সকালে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের খুলনা সড়ক জোন, বিআরটিএ ও বিআরটিসির কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন
ওবায়দুল কাদের নিয়মিত আলোচনার অংশ হিসেবে তার সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মতবিনিময় সভায় যুক্ত হন
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সকল দপ্তর ও সংস্থার কর্মরতদের উদ্দেশে বলেন: পদোন্নতি, পদায়নের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার পাশাপাশি পারফরম্যান্সকে মূল্যায়ন করা হবে
তিনি বলেন: ভাল কাজ করলে পুরস্কৃত করা হবে এবং মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারসহ চাকরি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার সংক্রমণ নতুন করে দেখা দিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন: দেশে এ সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা বাড়ার সাথে সাথে সংক্রমণের হারও বেশি দেখা যাচ্ছে
তাই মাস্ক পরিধানসহন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে কোন ধরনের শৈথিল্য দেখালে চলবে না
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন: একটি অশুভ চক্র নানান ইস্যুতে গুজব রটনা ও অপপ্রচারে লিপ্ত
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা রাশেদের মর্মান্তিক ঘটনাকে ঘিরে কেউ কেউ দুই বাহিনীর মধ্যে উস্কানি দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে
জনগণ এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে
এ ধরণের ঘটনাকে ইস্যু করে সরকার হটানোর মতো দিবাস্বপ্ন দেখছে কেউ কেউ
সিনহা হত্যা বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক রয়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন: ইতিমধ্যে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত কমিটি কাজ করছে
এ ঘটনায় ইতিমধ্যে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে
গুজব রটনা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার বন্ধে দেশ-বিদেশে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের
তিনি বলেন: শেখ হাসিনা সরকার কারো হাতে ইস্যু তুলে দিবেন না
তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে যেকোন বিষয়ে সুরাহা করা হবে
হাই স্পিড / জে এম-একটি যথার্থ শঙ্কু করার মেশিন তারেক শঙ্কু ঘুর - চীন উচ্চ গতি / জে এম-একটি যথার্থ শঙ্কু সরবরাহকারী থেকে ঘুর মেশিন তারেক শঙ্কু,কারখানার -
শেখ রাসেল ছিল বন্ধুবৎসল, গরিবদের জন্য ছিল তার দরদ, মমতা
জাতির পিতার গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়াতে যখন সে যেত তখন গ্রামের ছেলেদের জন্য সে জামা নিয়ে যেত
তাদের উপহার দিত
আজ শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে দেশ একজন মানবদরদি মানুষ পেত
সময়টা ছিল লড়াই আর যুদ্ধের উত্তেজনায় মুখর
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ঘটে চলেছে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
ওই সময় পাকিস্তানজুড়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডামাডোল
একদিকে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান, অপরদিকে সম্মিলিত বিরোধীদলের প্রার্থী কায়দে আজম মুহম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহ
অনিশ্চয়তা আর অন্ধকারের মাঝেও এ অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখছে
যিনি এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়ে বাঙালি জাতিকে এনে দেবেন মুক্তির স্বাদ বাঙালির সেই অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘর আলো করে জন্ম নিল এক শিশু
১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িতে শেখ রাসেলের জন্ম
রাসেলের যেদিন জন্ম হয় বঙ্গবন্ধু সেদিন ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণের জন্য চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন
জন্মের সময় বাবা কাছে না থাকলেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পিতা-পুত্রের চিরপ্রস্থান ঘটেছিল একসঙ্গেই
ছোট ছেলের রাসেল নামটি রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
তার প্রিয় লেখক ছিলেন পৃথিবী বিখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক সাহিত্যে নোবেল পুস্কারপ্রাপ্ত বার্ট্রান্ড রাসেল
তিনি কেবল একজন দার্শনিকই ছিলেন না
বিজ্ঞানীও ছিলেন
ছিলেন পারমাণবিক যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের একজন বড় মাপের বিশ্বনেতা
পৃথিবীটাকে মানুষের বসবাসের জন্য সুন্দর ও শান্তিময় করার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন নিরলস
বার্ট্রান্ড রাসেলের নামের সঙ্গে মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যের নাম রাখলেন রাসেল
শেখ রাসেল
এই নামটিকে ঘিরে নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধুর মহৎ কোনো স্বপ্ন বা আকাঙ্ক্ষা ছিল
কত আশা ছিল তার ছেলে বড় হয়ে জগৎখ্যাত হয়ে উঠবে একদিন
কত সাধই না মানুষের অপূর্ণ থেকে যায়!
শিশু রাসেলের ভুবন ছিল তার পিতা-মাতা - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব; বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং ভাই শেখ কামাল ও শেখ জামালকে ঘিরে
তাদের সবার ভালোবাসার ধন ছিলেন ছোট্ট রাসেল
রাসেলের জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে বাবা মুজিবকে ছাড়া
কারণ, বাবা মুজিব রাজনৈতিক বন্দি হয়ে কারাগারে ছিলেন দিনের পর দিন
শেখ রাসেল বেশ কবারই কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করেছেন
তবে তার প্রথম কারাগার দেখা ১৯৬৬ সালের ৮ মে, পিতার গ্রেপ্তারের পর
কারাগারে দেখা করার সময় রাসেল কিছুতেই তার বাবাকে রেখে আসতে চাইত না
এ কারণে তার মন খারাপ থাকত
'কারাগারের রোজনামচা'য় ১৯৬৬ সালের ১৫ জুনের দিনলিপিতে রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন-