content stringlengths 0 129k |
|---|
"১৮ মাসের রাসেল জেল অফিসে এসে একটুও হাসে না- যে পযর্ন্ত আমাকে না দেখে |
দেখলাম দূর থেকে পূর্বের মতোই 'আব্বা আব্বা' বলে চিৎকার করছে |
জেল গেট দিয়ে একটা মাল বোঝাই ট্রাক ঢুকেছিল |
আমি তাই জানালায় দাঁড়াইয়া ওকে আদর করলাম |
একটু পরেই ভিতরে যেতেই রাসেল আমার গলা ধরে হেসে দিল |
ওরা বলল আমি না আসা পর্যন্ত শুধু জানালার দিকে চেয়ে থাকে, বলে 'আব্বার বাড়ি' |
এখন ধারণা হয়েছে এটা ওর আব্বার বাড়ি |
যাবার সময় হলে ওকে ফাঁকি দিতে হয় |
শিশু রাসেল ছিল অভিমানী |
এ নিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজেই লিখেছেন 'কারগারের রোজনামচা'য় |
১৯৬৭ সালের ১৪-১৫ এপ্রিল অন্যান্য প্রসঙ্গ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু রাসেলকে নিয়ে লিখেছেন- |
"জেল গেটে যখন উপস্থিত হলাম ছোট ছেলেটা আজ আর বাইরে এসে দাঁড়াইয়া নাই দেখে আশ্চর্যই হলাম |
আমি যখন রুমের ভিতর যেয়ে ওকে কোলে করলাম আমার গলা ধরে 'আব্বা' 'আব্বা' করে কয়েকবার ডাক দিয়ে ওর মার কোলে যেয়ে 'আব্বা' 'আব্বা' করে ডাকতে শুরু করল |
ওর মাকে 'আব্বা' বলে |
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, 'ব্যাপার কি?' ওর মা বলল,"বাড়িতে 'আব্বা' 'আব্বা' করে কাঁদে তাই ওকে বলেছি আমাকে 'আব্বা' বলে ডাকতে |
" রাসেল 'আব্বা' 'আব্বা' বলে ডাকতে লাগল |
যেই আমি জবাব দেই সেই ওর মার গলা ধরে বলে, 'তুমি আমার আব্বা |
' আমার উপর অভিমান করেছে বলে মনে হয় |
এখন আর বিদায়ের সময় আমাকে নিয়ে যেতে চায় না |
শিশু রাসেলকেও কাটাতে হয় বন্দিজীবন |
অত্যন্ত কষ্টকর ছিল তার দিনগুলো |
তার বন্দিত্ব সম্পর্কে বোন শেখ হাসিনা 'আমাদের ছোট রাসেল সোনা' নিবন্ধে লিখেছেন- |
"ছোট্ট রাসেলও বন্দি জীবন-যাপন শুরু করে |
ঠিকমতো খাবার-দাবার নেই |
কোন খেলনা নেই, বইপত্র নেই, কী কষ্টের দিন যে ওর জন্য শুরু হলো |
বন্দিখানায় থাকতে আব্বার কোন খবর আমরা জানি না |
কোথায় আছেন কেমন আছেন কিছুই জানি না |
প্রথমদিকে রাসেল আব্বার জন্য খুব কান্নাকাটি করত |
তার ওপর আদরের কামাল ভাইকে পাচ্ছে না, সেটাও ওর জন্য কষ্টকর |
" (ইতিহাসের মহানায়ক: পৃষ্ঠা ২১) |
ছোট থেকে বাবা শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগারে দেখতে দেখতে বড় হওয়া রাসেল অজান্তেই চাপা স্বভাবের হয়ে উঠেছিল |
বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে বিষয়ে বক্তৃতায় বলেন- |
'খুব চাপা স্বভাবের ছিল |
সহজে নিজের কিছু বলতো না |
তার চোখে যখন পানি, চোখে পানি কেন জানতে চাইলে বলতো, চোখে যেন কী পড়েছে |
ওইটুকু ছোট বাচ্চা, নিজের মনের ব্যথাটা পর্যন্ত কীভাবে লুকিয়ে রাখতে হয় শিখেছিল |
শেখ রাসেল ছিল বন্ধুবৎসল, গরিবদের জন্য ছিল তার দরদ, মমতা |
জাতির পিতার গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়াতে যখন সে যেত তখন গ্রামের ছেলেদের জন্য সে জামা নিয়ে যেত |
তাদের উপহার দিত |
আজ শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে দেশ একজন মানবদরদি মানুষ পেত |
শেখ রাসেলের এই ছোট্ট জীবন আমাদের জন্য অনেক শিক্ষণীয় |
প্রথমত, আমাদের শিশুরা যদি শেখ রাসেলকে আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করে তার মতো বেড়ে ওঠে, তাহলে আমরা আদর্শ শিশু পাব |
যাদের হাত ধরে বিনির্মিত হবে আগামীদিনের চেতনার নাগরিক |
শিশুদের তাই, শেখ রাসেলের ছোট্ট জীবনটা জানাতে হবে |
যাতে শিশুরা অনাবিল সুন্দরের সৌন্দর্যে বেড়ে ওঠে, হাসতে পারে, খেলতে পারে, দুষ্টুমি করতে পারে, বন্ধুত্ব করতে পারে, গরিব মানুষকে ভালোবাসতে পারে |
এভাবে যদি প্রতিটি শিশু বেড়ে ওঠে তাহলে এই শিশুরা বড় হয়ে আলোকিত মানুষ হতে পারে |
একারণেই শেখ রাসেলের জীবন আমাদের জানাটা অত্যন্ত জরুরি |
শেখ রাসেল নিজেকে কীভাবে গড়ে তুলত তা বলার উপায় নেই |
তবে পারিবারিক ঐতিহ্য, আদর্শের উত্তরাধিকার তার চরিত্র গঠনে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত, তাতে সন্দেহ নেই |
সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় অন্তত এই দেশ, দেশের মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ থাকত তার অন্তর ও চেতনাজুড়ে |
পরিণত হয়ে উঠত দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য |
তার আগ্রহের বিষয়গুলো আয়ত্ত করে সেখানে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারত |
সেটিই স্বাভাবিক ছিল তার জন্য |
আজ রাসেল থাকলে একজন মেধাবী মানুষ বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার সংগ্রামে থাকত প্রথম সারিতে |
দুর্ভাগ্য এই যে, জীবনের পথ, ইতিহাসের গতিধারা সব সময় স্বাভাবিক সূত্র ধরে এগোয় না |
অনভিপ্রেত বহু ঘটনা এসে সেই যাত্রাপথ বিপৎসংকুল করে তোলে, বাঁক ঘুরিয়ে দেয়, ভিন্নখাতে নিয়ে যায় |
তখন আবার সঠিক পথে ফিরতে প্রয়োজন হয় কঠিন সংগ্রামের |
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ভেতর দিয়ে এমনি এক ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করা হয়েছিল এই দেশকে |
এরই নির্মম শিকার হয়েছিল শিশু শেখ রাসেল |
ফলে তার জন্মদিনটি আনন্দ নয়, বরং বেদনাই বয়ে আনে বিবেকবান মানুষের কাছে |
শেখ রাসেলের সেই বেদনাঘন জন্মদিন আজ |
আমরা শেখ রাসেলের পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মৃতিও এই দিনে স্মরণ করি |
একাত্তরের পরাজিত ঘাতক বাহিনী দেশ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দিতে এ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল |
আর আইন করে সেই আত্মস্বীকৃত খুনিদের দায়মুক্তি দেয়া হয় |
আশার কথা হলো- বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বাতিল করে খুনিদের বিচারের আওতায় এনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে মুক্ত করেন |
শেখ রাসেলের জন্মদিন ১৮ অক্টোবর |
এ বছর থেকে 'জাতীয় দিবস' হিসেবে পালন করা হবে আগামী বছরগুলোতে |
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ শেখ রাসেল দিবস পালনের প্রস্তাব এবং যৌক্তিকতা মন্ত্রিসভায় পেশ করে |
২৩ আগস্ট ২০২১, মন্ত্রিসভার বৈঠকে শেখ রাসেল দিবস 'ক' শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালনের বিষয়ে অনুমোদন দেয়া হয় |
এর জন্য আমরা আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই |
শিশু শেখ রাসেলের অকালপ্রয়াণের শোক-দুঃখ কোনো দিন শেষ হবার নয় |
শেখ রাসেলের জন্মদিনে আমাদের কামনা শুধু আমাদের দেশ নয়, সারা পৃথিবীই শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠুক |
হানাহানির অবসান হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক চিরকাঙ্ক্ষিত শান্তি |
লেখক: সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় |
অজয় রায়: সাম্য ও সম্প্রীতির সাধক |
অগ্রযাত্রার এসব পথের কাঁটা দূর করতে হবে |
'অন্তর মম বিকশিত করো' |
নির্বাচন কমিশন গঠন: সার্চ কমিটি ও আইনের প্রাসঙ্গিকতা |
মন্দিরে কোরআন ও অনুভূতির করাত |
শেয়ার করুন |
এ বিভাগের আরো খবর |
সুষ্ঠু ভোটের অনিবার্যতা |
জ্ঞানের বাতিঘর আপনি অনির্বাণ! |
শিকড় সন্ধানী গবেষক রফিকুল ইসলাম |
চিরভাস্বর সাংবাদিক চিশতী |
রাজস্ব প্রশাসন ও করজাল সম্প্রসারণে করণীয় |
বানর ও হাতি নিধন বন্ধ হোক |
দায়িত্ব নাকি ক্ষমতা? |
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, তবু বিস্মরণ |
পার্বত্য শান্তি চুক্তির দুই যুগে অর্জন ও বাস্তবতা |
মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী , |
২ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৪:৪৩ |
লিংকডইনে শেয়ার করুন |
ইমেইল করুন |
ওয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করুন |
ব্লগস্পটে শেয়ার করুন |
সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ক্ষোভ নিরসন কিংবা অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করার মাধ্যমে কখনও শান্তি স্থাপিত হতে পারে না এই সত্যটি উপলব্ধির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী সরকারসমূহের ধারণার সঙ্গে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক এবং মানবাধিকারে বিশ্বাসী সংগঠন ও জনগণের ... |
১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতির প্রধান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও সাংসদ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ৭২ দফার একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন |
এটি ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি নামে অভিহিত |
সেই সময় বিশ্ব গণমাধ্যম এই চুক্তি স্বাক্ষরকে ব্যাপকভাবে প্রাধান্য পায় |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.