content stringlengths 0 129k |
|---|
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম -কিশোরকণ্ঠ জাতীয় পাঠ প্রতিযোগিতা-২০১৫ |
, 2015 |
কিশোরকণ্ঠের ইফতার মাহফিলে কবি আল মাহমুদ 'কিশোরকণ্ঠ' শুনতে বয়স কম মনে হলেও আসলে... |
, 2012 |
কিশোরকন্ঠ, বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রকাশিত শিশুকিশোর মাসিক |
৫১, ৫১/এ, পুরানা পল্টন (৭তম তলা), ঢাকা-১০০০ |
ফোন: ৮৮০-২-৯৫৬৭২৩৬ |
'); _ = _[].(/\\(\'(?!\:)/, _() { ' (\'' + _ + '/' + .(/\(\'/, '').(/^\+|\+$/,''); }); _ += ""; } __ = ('#--'); (__.) { __.(_); } } }); } })(); |
মন ভালো থাকলে বাড়িতে একা থাকা আমার জন্য কোনো সমস্যা নয় |
আমার একটা পার্সোনাল কম্পিউটার আছে |
ওটাকে পার্টনার বানিয়ে গেম খেলি |
আমার কাছে প্রায় একশ গেমের প্রোগ্রাম আছে |
কয়েকটা গেম আছে মহাশূন্য অভিযানের ওপর |
খেলতে বসলে সময় কীভাবে কাটে টেরও পাওয়া যায় না |
এমন উত্তেজনাকর খেলা যে নাওয়া খাওয়া ভুলিয়ে দেয় |
মা অবশ্য দুতিন ঘণ্টার বেশি এসব গেম খেলা পছন্দ করে না |
নাকি ব্রেনের নার্ভের ওপর চাপ পড়ে, চোখের জন্যও ভালো নয় |
সেদিন আমার কিছুই ভালো লাগছিলো না |
ঠিক করলাম শহর থেকে দূরে কোথাও গিয়ে দিনটা কাটাই |
ঘরে গিয়ে কাপড় পাল্টে শীতের জন্য তৈরি হয়ে দরজায় তালা দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম |
এরকম আমি মাঝে মাঝেই করি |
ট্রেনে চেপে উঠে বসি |
অচেনা কোনো গ্রামের স্টেশনে হঠাৎ করে নেমে পড়ি |
ঘুরতে থাকি উদ্দেশ্যবিহীন |
ক্লান্ত হলে রেস্তোরাঁয় বসে হ্যামবার্গার আর কফি খাই |
বিচিত্র সব মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয় |
একবার এক জিপসী মেয়ের পাল্লায় পড়েছিলাম |
জোর করে ওদের তাঁবুতে নিয়ে গেলো |
পালকের একটা টুপি উপহার দিলো |
নাকি আমাকে দেখে ওর হারিয়ে যাওয়া ভাইয়ের কথা মনে পড়েছিলো |
ভিক্টোরিয়া স্টেশন থেকে পশ্চিমের এক ট্রেনে উঠে বসলাম |
সকাল তখন পৌনে দশটা |
এ সময় সবাই লন্ডনের দিকে আসে, যায় খুব কম |
আমি যে কামরায় বসেছিলাম সেখানে আমি ছাড়া একটা কাপ ছিলো, বসেছে বেশ দূরে |
জানালার কাছে বসে ছুটে যাওয়া বিবর্ণ সবুজ মাঠ, ন্যাড়া গাছপালা আর ধূসর নীল আকাশ দেখছিলাম |
বুকের ভেতরটা ফাঁকা মনে হচ্ছিলো |
যেন এ পৃথিবীতে আমার কেউ অচেনা কোরস্তোরায় বলে জিপসী মেয়ের নেই |
এভাবে কোনো অচেনা স্টেশনে গিয়ে যদি হারিয়ে যাই, মনে হলো কারও কিছু আসবে যাবে না |
দিব্যেন্দুর অবহেলা আমি কিছুতেই ভুলতে পারছিলাম না |
ভিক্টোরিয়ার পরের স্টেশনে একজন বয়স্ক লোক উঠলো আমার কামরায় |
চেহারাটা খুব অমায়িক, চোখ দুটো শিশুর মতো সরল আর কৌতূহলী |
আমার কাছে এসে বললো, দয়া করে তোমার কাছে বসার অনুমতি দেবে? |
কামরায় এতসব খালি জায়গা থাকতে আমার পাশে কেন বুড়ো বসতে চাইছে বুঝলাম না |
চেহারা দেখে অবশ্য সন্দেহজনক কিছু মনে হয় না |
তারপরও আমি একা থাকতে চাইছিলাম |
অনিচ্ছার সঙ্গে বললাম, দয়া করে বসুন |
গায়ের ওভারকোটটা খুলে ওপরের বাঙ্কে রেখে বুড়ো আমার মুখোমুখি বসলো |
বয়স ষাটের মতো হবে, পোশাক পরিচ্ছদে মনে হয় আর্থিক অবস্থা খারাপ নয়, তবে অমনোযোগী |
টাইয়ের সঙ্গে যেমন কোটের রঙ ম্যাচ করেনি |
তা ছাড়া চেহারাটা খুবই ইনোসেন্ট |
এসব দেখার জন্য আমার দশ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগেনি |
দেখা শেষ হলে আবার জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম |
ট্রেন ততক্ষণে চলতে শুরু করেছে |
একটু পরে আলাপ জমাবার জন্য বুড়ো প্রথমে বললো, আজকের আবহাওয়াটা খুব চমৎকার তাই না ইয়ং ফ্রেন্ড? |
হাঁ, এ সময় এত ভালো আবহাওয়া সাধারণত হয় না |
দ্রভাবে জবাব দিলাম আমি |
বুড়ো হাসিমুখে বললো, আমার নাম আলফ্রেড |
কটনউড যাচ্ছি |
আলফ্রেডের বাড়িয়ে দেয়া হাতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বললাম, আমার নাম নিক |
তুমি কদুর যাবে নিক? হাসিমুখে জানতে চাইলো কৌতূহলী আলফ্রেড |
ওর হাসি হাসি মুখের দিকে তাকিয়ে আমাকেও ভদ্রতার খাতিরে সামান্য হাসতে হলো |
বললাম, এমনি বেড়াতে বেরিয়েছি |
নিশ্চয় তোমাদের স্কুল এখনও খোলেনি |
আপনি ঠিক ধরেছেন |
কোনো গন্তব্য না থাকলে বেড়াবার জন্য কটনউড জায়গাটা ভারি চমৎকার |
ছশ বছরের পুরোনো একটা পাথরের দুর্গ আছে ওখানে |
আপনার বাড়ি বুঝি কটনউডে? |
না, না! আঁতকে ওঠার ভান করে আলফ্রেড বললো, আমাকে দেখে কি তোমার মনে হচ্ছে আমি একজন অর্ধসভ্য ইংরেজ? |
আলফ্রেডের ইংরেজি উচ্চারণ লন্ডনের আদি বাসিন্দাদের মতো জড়ানো নয়, বরং শিক্ষিত এশিয়ানদের মতো পরিষ্কার |
একটু অবাক হয়ে বললাম, আপনি কি ট্যুরিস্ট, ইউরোপ থেকে এসেছেন? ওর চেহারা অবশ্য পুরোপুরি ইউরোপিয়ান |
আলফ্রেড হেসে বললো, আমার বাড়ি ওয়েলস-এ |
লন্ডনে মাসে একবার ঘুরতে আসি |
তুমি নিশ্চয় ইন্ডিয়ান? |
না, বাংলাদেশের! আমাকে কেউ ইন্ডিয়ান বা পাকিস্তানি বললে আমি বিরক্ত বোধ করি |
আ-আ-হ বাংলাদেশ! বুড়ো গদগদ হয়ে ভললো, সেভেন্টি সিক্স-এ আমি ঢাকা গিয়েছিলাম জাপান যাওয়ার পথে |
ঢাকায় তিনদিন ছিলাম |
ভারি সুন্দর জায়গা, খুব শান্ত আর নিরিবিলি শহর |
তুমি কি ঢাকায় থাকো? |
না, আমি লন্ডনে থাকি |
আমার জন্ম হয়েছে বাংলাদেশের সিলেটে |
আমার আগেই বোঝা উচিত ছিলো |
তোমার ইংরেজি বলার ধরন দেখে |
তুমি একেবারে লন্ডনের লোকদের মতো ইংরেজি বলো |
লন্ডনের বাসিন্দা না হলে এটা সম্ভব নয় |
আমি বাংলাও ভালো বলতে পারি |
সেটা যাচাই করা আমার সাধ্যের বাইরে |
বলে হা হা করে গলা খুলে হাসলো আলফ্রেড |
আমি টের পাচ্ছিলাম আলফ্রেডের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমার বুকের ভেতর চেপে থাকা গুমোট ভাবটা ধীরে ধীরে কেটে যাচ্ছে |
মনটা হালকা হালকা লাগছে |
আলফ্রেড হাসিমুখে বললো, এবার বলো নিক, তুমি কি আমার সঙ্গে কটনউড যাচ্ছো বেড়াতে? আমি প্রায়ই যাই |
দুর্গের পাশে ছোট্ট একটা নদী আছে |
নদীর পাশে দুশ বছরের পুরোনো একটা রেস্তোরাঁ আছে |
ইচ্ছে করলে নদীতে নৌকা নিয়েও বেড়ানো যায় |
তুমি যেভাবে লোভ দেখাচ্ছো না গিয়ে উপায় কী! |
আলফ্রেড উচ্ছ্বসিত গলায় বললো, তোমাকে সঙ্গী হিসেবে পেলে বেড়াতে আমার দারুণ ভালো লাগবে |
ধন্যবাদ আলফ্রেড |
তুমি একজন চমৎকার মানুষ |
প্রশংসার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ নিক |
আমার ভেতর ভালো যদি কিছু থাকে সেটা ওয়েলস-এর আলো বাতাস আর প্রকৃতির জন্য |
ওয়েলস-এর লোকেরা সবাই হাসিখুশি, বন্ধুবৎসল |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.