content
stringlengths
0
129k
১২ বহিসংযোগ
ইতিহাসসম্পাদনা
কিছু ধারণা অনুসারে গাগাউজরা সেলযুক তুর্কিদের বংশধর, যারা দোবরুজাতে আনাতোলীয় সেলযুক সুলতান দ্বিতীয় কায়কাউসের (১২৩৬-১২৭৬) শাসনামলে বসতি স্থাপন করেছিল
তারা সম্ভবত পেচেনেগ, উজ (ওঘুজ) এবং কুমানদের (কিপচাক) বংশধর ছিল
আরো বিশদভাবে, ওঘুজ তুর্কদের একটি গোত্র আন্তঃগোত্রীয় সংঘাতের সময় বলকানে অভিবাসিত হয়েছিল বলে জানা যায়
গোত্রটি মধ্যযুগীয় মধ্যযুগীয় বুলগেরিয়ার অবস্থা দেখে ইসলাম ধর্ম থেকে অর্থডোক্সীয় খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে এবং এরা গাগাউজ তুর্ক নামে পরিচিত
[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] এদের বৃহত্তর অংশ বুলগেরিয়া ত্যাগ করে স্থানীয় বুলগেরীয়দের সাথে বেসারাবিয়ায় গমন করে, যা বর্তমানে মলদোভার আওতাভুক্ত
রুশ সাম্রাজ্যসম্পাদনা
১৮১২ সালে বেসারাবিয়া, যা পূর্বে মলদোভিয়ার পূর্বাংশ বলে অভিহিত হত, ১৮০৬ সাল থেকে ১৮১২ সাল পর্যন্ত সংঘটিত রুশ-তুর্কি যুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্য পরাজিত হলে ১৮১২ সালে বুখারেস্ট চুক্তি অনুসারে তা রুশ সাম্রাজ্যের দখলে আসে
এসময়ে, দক্ষিণ বেসারাবিয়ার (বা বুরজাক) বিভিন্ন গ্রামে বসবাসকারী নোগাই উপজাতিকে বের করে দেওয়া হয়
১৮১২ সাল থেকে ১৮৪৬ সাল পর্যন্ত রুশরা গাগাউজ জাতিগোষ্ঠীকে বর্তমান পূর্ব বুলগেরিয়া (সেটি তখন অটোমান সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল) থেকে বেসারাবিয়ায় নিয়ে আসে এবং মূলত নোগাই উপজাতিদের ফেলে যাওয়া বাড়িতে পুনর্বাসিত করে
তারা বেসারাবীয় বুলগেরীয়দের সাথে আভদার্মা, কমরাট, কঙ্গাজ, তোমাই, সিসিমিচিওই এবং অন্যান্য প্রান্তন নোগাই গ্রামগুলোতে মিলেমিশে বাস করতে থাকে
তাদের কিছু অংশ মলদোভিয়ায় মূল অংশেও বসবাস আরম্ভ করেছিল, যা ১৮১২ সালে রুশ সাম্রাজ্যের অধীনে এসেছিল না
কিন্তু, তারা শীঘ্রই তাদের স্বজাতিদের সাথে বাস করার জন্য মলদোভিয়া ত্যাগ করে
তাদেরকে একবিংশ শতাব্দীতে বেসারাবিয়ায় দক্ষিণাংশে বাস করতে দেখা যায়
১৯০৬ সালের শীতে গাগাউজীয়রা "কমরাট প্রজাতন্ত্র" নামে স্বাধীনতা ঘোষণা করে
তারা "কার্যত" ৫ দিন স্বাধীন ছিল
এই স্বাধীনতা ব্যতিরেকে গাগাউজীয়রা বিভিন্ন দেশ-সাম্রাজ্যের আওতাধীন ছিল: রুশ সাম্রাজ্য (১৮১২-১৯১৭), রোমানিয়া (১৯১৮-১৯৪০ এবং ১৯৪১-১৯৪৪), সোভিয়েত ইউনিয়ন (১৯৪০-১৯৪১ এবং ১৯৪৪-১৯৯১) এবং মলদোভা (১৯১৭-১৯১৮ এবং ১৯৯১-বর্তমান)
সোভিয়েত ইউনিয়নসম্পাদনা
গাগাউজ জাতীয়তাবাদ আশির দশকে অতটা শক্তিশালী আন্দোলন ছিল না
আশির দশকের শেষভাগে সোভিয়েত ইউনিয়নে গণতান্ত্রিক মতাদর্শ প্রভাব বিস্তার শুরু করলে গাগাউজ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শক্তিশালী রূপ লাভ করে
১৯৮৮ সালে স্থানীয় বুদ্ধিজীবীরা অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুদের সাথে একত্র হয়ে "গাগাউজ জাতি" নামের এক আন্দোলন নামে এক আন্দোলন শুরু করেন
এক বছর পর "গাগাউজ জাতি"র প্র‍থম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়
তার মলদোভার দক্ষিণাংশে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশের দাবি জানিয়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেন, যার রাজধানী হিসেবে কমরাটের নাম ঘোষণা করা হয়
১৯৮৯ সালের আগস্টে মলদোভা প্রজাতন্ত্রে সোভিয়েত ইউনিয়নের রুশ ভাষার পরিবর্তে মলদোভীয় (রোমানীয়) ভাষা সরকারি ভাষার স্বীকৃতি লাভ করলে গাগাউজ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন আরো জোরদার হয়
মলদোভার দক্ষিণাংশে অবস্থিত বহুজাতিক জাতিগোষ্ঠীর একাংশ সরকারি ভাষার পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন হয়
তাদের চিসিনাউয়ের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আস্থার অভাব ছিল
গাগাউজরা তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থা নিয়েও চিন্তিত ছিল কেননা, তখন মনে করা হচ্ছিল যে রোমানিয়ার সাথে মলদোভা একীভূত হবে
১৯৯০ সালের আগস্টে কমরাটকে স্বায়ত্তশাসিত প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়
মলদোভার সরকার এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে এবং ঘোষণাটিকে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করে
সে সময়ে, গাগাউজ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের নেতা হিসেবে স্টিফেন তোপাল আবির্ভূত হন
স্বাধীন মলদোভাসম্পাদনা
"গাগাউজিয়ায় স্বাগতম" সাইনবোর্ড
গাগাউজিয়ার প্রাকৃতিক মানচিত্র
নির্দিষ্ট রূপরেখা অনুযায়ী গাগাউজিয়ার মানচিত্র
১৯৯১ সালের মার্চে গাগাউজিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নে থাকা না থাকা নিয়ে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়
গণভোটে প্রায় সভাই সোভিয়েত ইউনিয়নে থাকার পক্ষে ভোট দেন
অনেক গাগাউজীয় ১৯৯১ সালে সোভিয়েত অভ্যুত্থান চেষ্টার পক্ষে ছিলেন এবং ১৯৯১ সালের ১৯ আগস্ট গাগাউজিয়াকে স্বাধীন প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়
[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] সেপ্টেম্বর মাসে ট্রান্সনিস্ট্রিয়া স্বাধীনতা ঘোষণার পর মলদোভীয় সরকারের সাথে সম্পর্ক আরো শীতল হয়
কিন্তু, ১৯৯১ সালের ২৭ আগস্ট মলদোভার আইনসভায় মলদোভার স্বাধীনতার পক্ষে ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলে মলদোভীয় আইনসভার ১২ জন গাগাউজীয় প্রতিনিধির মাঝে ৬ জন স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেন ও ৬ জন ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকেন
এরপর‍, মলদোভার সরকার সংখ্যালঘু অধিকারের দিকে অধিক নজর প্রদান করে
[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]
১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মলদোভার তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মিরসেয়া স্নেগুর গাগাউজদের স্বায়ত্তশাসন প্রদানের অঙ্গীকার করলেও তাদের স্বাধীনতা প্রদানের বিরোধিতা করেন
তিনি মলদোভাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার অধীনে নিয়ে তাকে মলদোভা, গাগাউজিয়া ও ট্রান্সনিস্ট্রিয়া নামের তিনটি প্রজাতন্ত্রে বিভক্ত করাত বিরোধী ছিলেন
১৯৯৪ সালে মলদোভার আইনসভা "গাগাউজিয়ার জনগণ"কে (মলদোভার নতুন সংবিধান গৃহীত হবার মাধ্যমে) "জাতিগত আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার" প্রদান করে
১৯৯৪ ২৩ ডিসেম্বর মলদোভীয় আইনসভা "গাগাউজিয়ার বিশেষ আইনি মর্যাদা আইন" (গাগাউজ: ) পাস করে
এর দরুন, গাগাউজ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান ঘটে
এটি বর্তমানে সেদেশের ছুটির তালিকায় গাগাউজীয় ছুটির দিন হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে
গাগাউজিয়াকে বর্তমানে সেদেশের একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রাদেশিক অঞ্চল বলে গণ্য করা হয়ে থাকে
গাগাউজিয়ার সরকারি ভাষা তিনটি: রোমানীয়, গাগাউজ এবং রুশ
৩ টি নগরি এবং ২৩ টি প্রজাসভা গাগাউজ স্বায়ত্তশাসিত প্রাদেশিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়: প্রতিটি এলাকার জনসংখ্যার ৫০% এরও অধিক ব্যক্তি গাগাউজ জাতিগোষ্ঠীর এবং যেসব এলাকায় গাগাউজীয়দের সংখ্যা ৪০% থেকে ৫০% এর মাঝে, সেখানে গণভোটের মাধ্যমে তাদেরকে গাগাউজিয়ার আওতাভুক্ত করা হয়
১৯৯৫ সালে ঘেওরঘে তাবুন্সচিচ গাগাউজিয়ার গভর্নর (রোমানীয়: , গাগাউজ: s) হিসেবে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন
তিনি গাগাউজীয় গণপরিষদ সভাপতি পিটার পাসালির সাথে গাগাউজিয়ার গণপরিষদ (: " s") প্রতিনিধি হিসেবেও নিযুক্ত হন
দিমিত্রি ক্রোইটর ১৯৯৯ সালের গভর্নর নির্বাচনে জয়লাভ করেন এবং এবং ১৯৯৪ সালের চুক্তি অনুসারে গভর্নরের কাজের এখতিয়ার সম্পর্কে সোজাসুজিভাবে কথা বলতে শুরু করেন
মলদোভার কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের মাঝে নির্বাচনের ফলাফল সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করার লক্ষণ দেখা যায় নি
ফলশ্রুতিতে, কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে গাগাউজিয়ার বিরোধ সৃষ্টি হয়
অবশেষে, মলদোভীয় সরকারের চাপের মুখে ক্রোইটুর ২০০২ সালে পদত্যাগ করেন
মলদোভীয় সরকার তাত বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ট্রান্সনিস্ট্রিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্ক রাখা সহ অন্যান্য অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল
গাগাউজিয়ার কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিশন পরবর্তী নির্বাচনগুলো ক্রোইটরকে গভর্নর পদে প্রার্থিতার অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছিল
পরবর্তী নির্বাচনে ঘেরোঘি তাবুশিক গভর্নর হিসেবে নির্বাচন হন, যে নির্বাচনকে বিতর্কিত নির্বাচন বলে অভিহিত করা হয়
[২][৩] এরপর মিহাইল ফরমুজাল ২০০৬ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গাগাউজিয়ার গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন
২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত গভর্নর নির্বাচনে ইরিনা ভ্লাহ ৫১% ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন
২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে ইইউতে যোগদানের বিরুদ্ধে এবং রাশিয়ার সাথে আরো দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলার পক্ষে রায় প্রদান করেন গাগাউজিয়ার জনগণ
তারা আরো জানায় যে, মলদোভা ইইউতে যোগদান করলে তারা গাগাউজিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন
২০১৫ সালের ২৩ মার্চে ইরিনা ভ্লাহ নতুন গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হন
তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় প্রবলভাবে রাশিয়াপন্থী প্রচারণা চালান এবং তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণায় রুশ ফেডারেশনের সাথে আরো গভীর সম্পর্ক রাখার অঙ্গীকার করেন
ভূগোলসম্পাদনা
গাগাউজিয়া তিনটি জেলায় বিভক্ত
গাগাউজিয়ার চারটি বিচ্ছিন্ন অংশও বিদ্যমান
প্রধান ও কেন্দ্রীয় বিচ্ছিন্ন অংশে কমরাট এবং সিয়াদির-লুঙ্গার মত নগরী বিদ্যমান
এটি দুইটি জেলায় বিভক্ত এবং এই দুইটি নগরীকে জেলাদ্বয়ের প্রশাসনিক কেন্দ্র বলে গণ্য করা হয়ে থাকে
দ্বিতীয় বৃহত্তম বিচ্ছিন্ন অংশ ভালকানেস্তি শহরের কাছে অবস্থিত
অপরদিকে, বাকি দুইটি ছোট বিচ্ছিন্ন অংশগুলোর আওতাভুক্ত হল কপকেয়াক এবং কারবালিয়ার গ্রামগুলো
কারবালিয়ার গ্রামগুলো ভালকানেস্তি প্রশাসনের আওতাধীন
অপরদিকে, কপকেয়াকের গ্রামগুলো সিয়াদির-লুঙ্গা জেলার অন্তর্গত
প্রশাসনিক বিভাগসম্পাদনা
গাগাউজিয়া একটি পৌরসভা, দুইটি নগর এবং তেইশটি প্রজাসভাসহ মোট ৩২ টি স্থানীয় অঞ্চলে বিভক্ত
সরকারি নাম
গাগাউজীয় নাম
% গাগাউজীয়
কমরাট (পৌরসভা) ৭২.৮%
সিয়াদির লুঙ্গা (পৌরসভা) Ci ৭৩.৭%
ভালকানেস্তি (নগরী)
ভালকানেস্তি, . . . .
আভদারমা ৯৪.২%
বাউরকি c ৯৭.৯%
বেসালমা s ৯৬.৭%
বেসঘিওজ so ৯৩.০%
বুগেয়াক ৬১.৮%
কারবালিয়া ii ৭০.২%
সরকারি নাম
গাগাউজীয় নাম
% গাগাউজীয়
কাজাকলিয়া ৯৬.৫%
চিওসেলিয়া রুসা o ২৫.২%
চিরিয়েট-লুঙ্গা ৯২.৬%
চিরসোভা suu ৪৫.৬%
কিওক-মাইদান C- ৯৩.১%
কিসমিচিওই Cosauu ৯৪.৪%
কঙ্গাজ ৯৬.১%