content stringlengths 0 129k |
|---|
পূজা শেষে সবার মঙ্গল কামনা এবং পাপমুক্তির জন্য ভক্তরা দেবীর পায়ে শ্রদ্ধা জানান ফুল ও বেলপাতা নিবেদন করে |
বিভিন্ন মন্দিরে অঞ্জলী শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয় |
কুমারী পূজার মাধ্যমে নারী জাতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় আছে সন্ধিপূজাও |
সন্ধিপূজা হলো মা দুর্গার কাছে অসুর বাহিনীর আত্মসমর্পণ |
উল্লেখ্য, ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতার বেলুড় মাঠে ৯ কুমারীকে পূজা করেন তখন থেকে প্রতিবছর দূর্গোৎসবের অষ্টমী তিথিতে মহা ধুমধামে কুমারী পূজা প্রথা চলে আসছে |
সবকিছুই এখন দ্রুত চলছে - প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে দ্রুত, সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে অনেকটা চোখের সামনেই, বাড়ছে মানুষ, আর সেইসাথে বাড়ছে ডেটা! |
সময়ের প্রয়োজনে গবেষণা এখন হয়ে উঠেছে কোলাবরেটিভ বা সহযোগিতামূলক |
এতে সুবিধা অনেক |
একসাথে অনেক ফিল্ডের এক্সপার্টরা কাজ করছে যার ফলে প্রোডাক্টিভিটি বেড়েছে |
অর্থাৎ অল্প সময়ে দ্রুত প্রোডাক্ট (রিসার্চ পেপার) বের করা সম্ভব হচ্ছে |
নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে তার পরবর্তী সময়কালে কোলাবরেটিভ কাজের সুযোগ ও আগ্রহ দুইই বেড়েছে |
তরুণ গবেষকদের কোলাবরেটিভ কাজ শুরু করার প্রাথমিক ধাপ হলো রিসার্চ কীভাবে করে সে সম্পর্কে ধারণা থাকা |
আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রিসার্চ মেথডলজি নামে একটি বিষয় পড়ানো হয় |
গবেষণা পদ্ধতি জানতে এবং তার ব্যবহারিক রূপ দেখতে এই কোর্সের কোন বিকল্প নেই |
কাজ করে করে কাজ শেখা যায় তবে সেটি আরো এফিসিয়েন্ট হয় যদি তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করা থাকে |
যেটি সম্ভব হয় এরকম কোর্স করার মাধ্যমে |
প্রথাগত কোর্স করলেই যে সবাই সবকিছু শিখে নেবে এমনটি নয় |
তবে কোন কিছু সম্পর্কে একেবারে অন্ধকারে থাকার চেয়ে কিছুটা জানা ভালো যদি সেই জানাকে পরবর্তীতে জ্ঞান আহরণের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং সেরকম প্রচেষ্টা থাকে |
দু:খজনক হলেও সত্যি যে আমাদের দেশে পড়াশুনা ও গবেষণার জন্য সত্যিকার কোন মোটিভেশন না থাকায় এই কোর্সটিও কাগুজে কোর্সে পরিণত হয় |
এরকম কোর্স থেকে শিক্ষার্থীরা সামান্য কিছুই পেয়ে থাকে যেগুলোকে তারা পরবর্তীতে নিজেদের গবেষণায় কাজে লাগাতে পারে |
এর কারণ বহুবিদ |
অন্যতম কারণটি হলো শিক্ষার সাথে ব্যবহারিক কাজের কোনো সম্পর্ক না থাকা |
এই সমস্যার উত্তরণের একটি পথ আছে যেটি হলো গবেষণায় নেমে পড়া |
বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা অনেকেই গবেষণা করতে চায় কিন্তু কীভাবে করবে সেটি অনেক সময় খুঁজে পায়না |
এর কারণ মুলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গবেষণার পরিবেশ না থাকা কিংবা আনপ্রোডাক্টিভ খাতে সময়ের অপচয় করা |
এছাড়া আগেই যেমনটা বলেছি- শিক্ষার্থীদের মোটিভেশনের অভাব আরেকটি বড় কারণ |
অনেক সময় শিক্ষক গবেষণায় আগ্রহী কিন্তু শিক্ষার্থী সিস্টেমের ফাঁক ফোকর ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করে পার পেয়ে যেতে চায় |
গবেষণা পদ্ধতি |
এই লেখায় গবেষণার বিস্তারিত আলোচনা করবো না |
গবেষণার পুরো বৃত্তান্তের স্টেপ বাই স্টেপ বর্ণনা করেছেন রাগিব হাসান তার গবেষণায় হাতেখড়ি বইটিতে |
আমি সেখানকার চুম্বক অংশ তুলে দিচ্ছি |
বইটা ভাগ করা হয়েছে কয়েকটি অংশে |
প্রথমে আলোচনা করা হয়েছে গবেষণা কাকে বলে, এর প্রয়োজনীয়তা এবং মূলনীতি নিয়ে |
এর পরে আস্তে আস্তে বলা হয়েছে, কীভাবে গবেষণা শুরু করবেন, বিষয় নির্বাচন ও লিটারেচার রিভিউ করবেন |
তার পরে ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে, রিসার্চ পেপার পড়া, বোঝা, এবং নিজের গবেষণাপত্র কীভাবে লিখবেন |
গবেষণার সমস্যা সমাধানের জন্য নতুন আইডিয়া কীভাবে চিন্তা করবেন ও যাচাই করবেন |
এছাড়া গবেষণার ফলাফলকে প্রেজেন্টেশন বা বক্তৃতার মাধ্যমে উপস্থাপন করার নানা কৌশল সম্পর্কে লিখেছি |
এবং সবশেষে আলোচনা করেছি গবেষণার অর্থায়ন কীভাবে করবেন, এবং গবেষণার সাথে আনুসঙ্গিক অনেক বিষয় যেমন গবেষকদের অভ্যাস, গবেষণার জন্য সময় জোগাড় করা, এসব কিছু |
আমি নতুন করে চাকা আবিষ্কার না করে বরং সংক্ষেপে ধাপগুলো তুলে ধরছি |
এটি বিশেষ করে যারা আমার সাথে কাজ করতে চান তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য |
তাছাড়া নিজেদের গবেষণাতেও এই ধাপগুলো অনুসরণ করা যাবে |
হয়তো কাজের ধারা কিছুটা বদলাতে হতে পারে |
সেটি নির্ভর করবে কী ধরনের গবেষণা হচ্ছে তার উপর |
সমস্যা কোথায় পাবেন? |
সমস্যা অনেক ভাবে পাওয়া যেতে পারে |
যারা কোন বিষয়ের অভিজ্ঞ বা অথরিটি তারা খুব সহজেই একটা গবেষণা করার মতো সমস্যা বের করতে পারেন |
কিন্তু নতুন গবেষকদের জন্য এটি অনেক কঠিন একটি বিষয় |
তাই তাদের জন্য গবেষণা করার মতো সমস্যা খুঁজে পেতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের জার্নাল থেকে আর্টিকেল পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি |
এটি সবচেয়ে কম সময়ে ভালো একটি সমস্যা খুঁজে পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় |
আর দ্বিতীয়টি হলো চোখ কান খোলা রাখা এবং নিজের চিন্তা ভাবনা থেকেই সম্ভাব্য সমস্যা বের করা |
মনে রাখতে হবে সব সমস্যাই গবেষণা করার মতো নয় |
অনেক সময় দূরদর্শীতা এবং অভিজ্ঞতার অভাবে একটি কাজ শুরু করে সেটি নানা কারণে শেষ করা হয়ে ওঠে না |
প্রথম দিকে তাই অভিজ্ঞ কারো সাথে কাজ করলে কাজটি ভালো ভালোয় শেষ করার সম্ভবনা বাড়ে |
গবেষণার সমস্যা খুঁজতে গিয়ে আপনি প্রথমেই ব্রড একটা সমস্যা নিয়ে চিন্তা করবেন |
তার পর সেখান থেকে ছোট ছোট বা স্পেসিফিক একাধিক সমস্যা বের করুন |
সেগুলোকে লিপিবদ্ধ করুন |
তারপর সেখান থেকে একটি বা দুটি সমস্যাকে বাছাই করুন |
একটি গবেষণায় একটি প্রধান সমস্যাকে লক্ষ্য করে এগুবার পরামর্শ দেবো |
এতে করে গবেষণা সেই লক্ষ্যেই স্থির থাকে এবং সকল কর্মকান্ডও ওই লক্ষ্যকে ঘিরে হয় বলে গবেষণাটি ভালো মানের হওয়ার সম্ভবনা থাকে |
যেমন ধরুন আপনি বাংলাদেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্যানসার সচেতনতা নিয়ে কাজ করবেন বলে স্থির করছেন |
ক্যান্সারের অনেক ধরন আছে |
এক্ষেত্রে ভালো হবে একটি মাত্র ক্যান্সার (ধরা যাক স্তন ক্যান্সার) নিয়ে কাজ করা |
সেই সাথে টার্গেট পপুলেশনে কলেজ শিক্ষার্থীদের না অন্তুর্ভুক্ত করে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করলে আপনার গবেষণাটি আরো ফোকাসড হবে |
গবেষণার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা |
গবেষণার মূল লক্ষ্যই হলো কোন সমস্যাকে তুলে ধরা বা সেটির সমাধানের পথে কী কী করা যায় সে সম্পর্কে রেকমেন্ডেশন দেয়া |
সেজন্য গবেষণার মাধ্যমে যে যে প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন সেগুলোকে লিপিবদ্ধ করা দরকার |
এতে করে গবেষণাটি সিস্টেমেটিক হবে এবং গবেষণার শেষে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ হলো কী না সেটিও পরিমাপ করা যাবে |
এজন্য গবেষণার প্রশ্ন বা () গুলোকে লিখে রাখতে হবে |
অনেকগুলো প্রশ্ন একসাথে লেখা যেতে পারে তবে কয়েকটি স্পেসিফিক প্রশ্নের উত্তর গবেষণায় খোঁজা হবে |
এই প্রশ্নগুলোকেই একে একে উত্তর দেয়া হবে কনক্লুসন বা ডিসকাসন সেকশনে |
লিটারেচার রিভিউ |
সমস্যা বের করার পর আপনাকে দেখাতে হবে আপনার গবেষণাটি কেন দরকার |
অর্থাৎ আপনাকে বোঝাতে হবে আপনার কাজের মোটিভেশন কী? সেজন্য এই সমস্যার উপর ইতোপূর্বে কে কী করেছে এবং তাদের কাজগুলোকে আপনার রিভিউ করতে হবে |
লিটারেচার রিভিউ লেখা সহজ নয় |
মানে এটিকে খুব সহজ ভাবে নেয়া উচিত নয় |
লিটারেচার রিভিউ কেবলমাত্র পূর্বে সম্পাদিত কাজের তালিকা নয় বরং সেই কাজগুলো কীভাবে একটির সাথে আরেকটি সম্পর্কযুক্ত সেটি বুঝে আপনাকে পাঠকউপযোগী করে উপস্থাপন করতে হবে |
এরকম উপস্থাপনার উদ্দেশ্য হলো আপনার গবেষণার কনটেক্সট বা প্রাসঙ্গিকতা তৈরী করা |
আপনার রিভিউ পড়ে যেন সবাই বুঝতে পারে আপনার অবদান কতটুকু এবং কীভাবে |
' ... |
খুব ভালো মানে কাজও কিন্তু ভাল লিটারেচার রিভিউ না থাকার কারণে রিভিউয়াররা বাতিল করে দিতে পারে |
এক্ষেত্রে আপনাকেই কাজের নতুনত্ব ও অবদান লেখার মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে |
মেথড অব এনালিসিস বা মেথডলজি |
এই অংশে মূলত পরিসংখ্যানিক এনালিসিস করা হয় |
একজন গবেষক নানা ভাবে তার গবেষণা করতে পারেন |
তবে এপিডেমিওলজিকাল এবং সামাজিক-বিজ্ঞানের গবেষণাগুলোকে মোটা দাগে দুই ভাগে ভাগ করা যায় |
অবজারভেশনাল স্টাডি ( ) |
এক্সপেরিমেন্টাল স্টাডি ( ) |
অবজারভেশনাল স্টাডিতে আপনি শুধু অবজার্ভ করবেন বা দেখবেন |
সেটি হতে পারে স্টাডি শুরু থেকে ভবিষ্যতের দিকে আপনার স্টাডি সাবজেক্টকে ফলো করা |
আবার হতে পারে স্টাডি শুরুর সময় থেকে পিছনের দিকে অরজার্ভ করা |
উদাহরণস্বরূপ আপনি দেখতে চাইছেন নেশাদ্রব্য গ্রহণের সাথে স্ট্রোকের সম্পর্ক আছে কিনা বা নেশাদ্রব্য গ্রহণ স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় কিনা |
এজন্য আপনি টার্গেট পপুলেশনের একটি অংশকে আজ থেকে ফলো করা (অবজার্ভ) করা শুরু করলেন এবং আগামী ৫ বছর তাদের অবজার্ভ করবেন |
৫ বছর শেষে আপনি দেখবেন এদের মধ্যে যাদের স্ট্রোক হয়েছে তাদের কেউ কেউ নেশাকারী এবং কেউ কেউ নয় |
এভাবে স্টাডি করে দেখা যাবে নেশাদ্রব্য গ্রহণের সাথে স্ট্রোকের এসোসিয়েসন আছে কিনা |
এ ধরনের স্টাডিকে বলে প্রসপেকটিভ স্টাডি |
আবার অন্য ধরনের অবজারভেশনাল স্টাডিতে প্রথমেই তাদেরকে বেছে নেয়া যাদের স্ট্রোক হয়েছে |
অর্থাৎ ইভেন্ট যাদের মধ্যে ঘটেছে তাদের বাছাই করে তাদের ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে জানা যে তারা অতীতে কোন নেশাদ্রব্য নিয়মিত গ্রহণ করতো কিনা |
এধরনের স্টাডিকে বলে রেট্রোস্পেক্টিভ স্টাডি যা বর্তমানের ইভেন্ট দেখে অতীতকে পর্যবেক্ষণ করা যে ইভেন্টটি ঘটার সাথে অতীতের কার্যকলাপের (নেশাদ্রব্য গ্রহণ) এসোসিয়েশন আছে কিনা |
কমন একটি অবজারভেশনাল স্টাডি হলো ক্রস-সেকসনাল স্টাডি |
এরকম স্টাডি পরিচালনা করা হয় একটি পপুলেশনের বৈশিষ্ট্যগুলোর স্ন্যাপশট দেখার জন্য |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.