content stringlengths 0 129k |
|---|
৯২৫ খ্রিস্টাব্দে বিখ্যাত মায়া নগররাষ্ট্র চিচেন ইৎজা খুবই প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে |
তারাই এই সময়ে মায়া সাম্রাজ্যের কার্যত রাজধানীতে রূপান্তরিত হয়ে আসে |
পরবর্তী ২০০ বছর ধরে এটাই ছিল শ্রেষ্ঠতম মায়ান শহর |
এই সময়ে বিশ্ব বিখ্যাত মায়ান পিরামিড চিচেন ইৎজা নির্মিত হয় |
পদানুবর্তী পোস্ট ধ্রুপদী সময়ে (১০ম থেকে ১৬তম শতাব্দীর প্রারম্ভিক) উত্তরাঞ্চলীয় কেন্দ্রসমূহের উন্নয়ন অব্যাহত থাকে, যা বহিরাগত প্রভাব বৃদ্ধি বৈচিত্র্য দ্বারা চিহ্নিত করা যায় |
ইয়ুকাটানের উত্তরাঞ্চলীয় নিচুভূমি অঞ্চলের মায়া শহরগুলো আরও কিছু শতাব্দী ধরে এর উন্নতি অব্যাহত থাকে, এই যুগের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহের মধ্যে রয়েছে চিচেন ইৎজা, উক্সমাল, এদযনা, এবং কোবা |
১২৫০ খ্রিস্টাব্দে চিচেন ইৎজাও মায়াদের দ্বারা পরিত্যক্ত হয় |
১২৮৩ খ্রিস্টাব্দে এই সময়ে অনন্য মায়া নগররাষ্ট্র মায়াপান শহরের উৎপত্তি হয় |
এই শহর একটা সংঘ গড়ে মায়া সাম্রাজ্যের অধিকর্তা হয়ে ওঠে |
চিচেন ইৎজা এবং উক্সমাল ক্ষমতাসীন রাজবংশের পতনের পরে, ১৪৫০ সালের বিদ্রোহ শুরু না হওয়া পর্যন্ত মায়াপান সমস্ত ইয়ুকাটান শাসন করে |
এই শহরের নামের শব্দের উৎস "মায়া" হতে পারে, যা ইয়ুকাটেক এবং ঔপনিবেশিক স্পেনীয় মধ্যে একটি ভৌগোলিক সীমাবদ্ধ অর্থ ছিল এবং শুধুমাত্র ১৯শ এবং ২০শ শতাব্দীতে তার বর্তমান অর্থে পৌঁছয় |
ইয়ুকাটান স্পেনীয়দের দখলে না যাওয়া পর্যন্ত অঞ্চলটি প্রতিদ্বন্দ্বী শহর-রাজ্যের মধ্যে অধঃপতিত হয়েছিল |
"ধ্রুপদী যুগের পতনের" সময় ইত্জা মায়া, ', এবং কেন্দ্রীয় পেতেনের ইয়ালাইনের ছোট সংখ্যক দল টিকে থাকে এবং ১২৫০ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী শহর-রাজ্য মধ্যে নিজেদের পুনর্গঠন করে |
ইত্জা তাদের রাজধানী তায়াসালেই (এছাড়াও নোহ পেতেন নামে পরিচিত) রাখেন, এটি একটি প্রত্নতাত্ত্বিক সাইট যা লেক পেতেন ইত্জাতে ফ্লোরেস, এল পেতেনের আধুনিক শহরের তলাচি বলে বিবেচনা করা হয়েছে |
এটি পেতেন হ্রদ অঞ্চল জুড়ে প্রসারিত একটি এলাকা শাসন করেছে, যার মধ্যে লেক কুয়েসাইলে একিকসোলের সম্প্রদায়ও ছিল |
যাকপেতেনে ' -দের রাজধানী ছিল |
এছাড়াও পোস্টধ্রুপদী মায়া রাজ্য দক্ষিণাঞ্চলীয় উচ্চভূমিতে টিকিয়া থাকে |
এই অঞ্চলে মায়া জাতির মধ্যে অন্যতম কি'কে' কুমারকাজের রাজ্য, তারা সবচেয়ে বিখ্যাত মায়া ইতিহাস-রচনা ও পুরাণ পোপোল ভূহ কাজের জন্য অতি পরিচিত |
অন্যান্য উচ্চভূমি সাম্রাজ্যের মধ্যে রয়েছে হুয়েহুয়েতেনাঙ্গো-তে মাম ভূমি, ইক্সিমকে-তে কাককিকেলস ভূমি, মেক্সকো ভিয়েজো-তে চাজোমা ভূমি,[২৪] এবং সান মাতিও ইক্সতাতান-তে কুজ ভূমি |
১৫১৭ খ্রিস্টাব্দে উত্তরাঞ্চলীয় ধ্রুপদী যুগ শেষ হয়ে আসে |
কেননা স্পেনীয় ফ্রান্সিসকো হার্নান্দেজ দে কর্ডোবা ইয়ুকাটান উপদ্বীপে আসেন এবং তিনি তাদের সাথে বেশ কয়েকটা যুদ্ধ করে তাদের দুর্বল করে দেন |
ঔপনিবেশিক যুগ[সম্পাদনা] |
তাদের এই অঞ্চলে প্রথম অভিযানের অল্পসময় পরে যে মায়ারা স্পেনীয় মুকুটের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন ছিল তাদেরকে ক্রীতদাস করার প্রচেষ্টা আরম্ভ হয় এবং মায়া ইউকাটান উপদ্বীপ এবং গুয়াতেমালার পার্বত্য অঞ্চলের মধ্যে তাদের ঔপনিবেশিক উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা করে |
এই অভিযানকে, কখনও কখনও, "ইউকাটানের স্পেনীয় বিজয়" বলে আখ্যায়িত করা হত, যা সূত্রপাত থেকে দখলদারদের জন্য একটি সুদীর্ঘ এবং বিপজ্জনক অনুশীলন প্রমাণিত হয় |
সমস্ত মায়া ভূমির উপর স্পেনীয় স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করতে সেখান কার শত শত হাজার আদিবাসি এবং প্রায় ১৭০ বছর সময় লেগেছে |
মায়ানদের দৈনন্দিন জীবনযাপন[সম্পাদনা] |
অভিজাত জীবন[সম্পাদনা] |
একজন মায়া সম্রাট এবং অভিজাতদের জীবন অত্যন্ত সহজ ও বিলাবহুল ছিল |
তাদের এমনকি জামাকাপড় ছাড়া কিছু বহনও করতে হত না |
তাদের সব ভার বহন করত সাধারণ মায়া অথবা অন্যান্য জাতি হতে আগত ক্রীতদাসরা |
জীবনযাত্রা[সম্পাদনা] |
একজন মায়া সাধারণ মানুষের জীবন যেমন কষ্টকর তেমনি কঠিন পরিশ্রমের ছিল |
মজদুররা সাধারণত কৃষাণ হিসাবে জীবিকা নির্বাহ করত |
তারা সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত কাজই শুধু করে যেত |
তাদের স্ত্রীরা সাধারণত রান্নাবান্না এবং সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত থাকত |
ছেলেমেয়ে প্রতিপালন করাটাও তাদের অন্যতম কাজ ছিল |
চাষিরা সারাদিন চাষাবাদ করার ফাঁকে দিনে একবারই মাত্র বাড়িতে ফিরে আসত; স্নান করে খেয়ে নেওয়ার জন্য |
স্নান করাটা ছিল তাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ |
স্নান না করলে তারা খুবই অসুবিধা বোধ করত |
অবশ্য স্নান করাটা শুধু চাষিরা নয় সব মায়ারাই করত |
এটা তাদের সংস্কৃতির অঙ্গ বলে মনে করা হত |
পোশাক[সম্পাদনা] |
পোশাক তাদের সামাজিক স্তরের প্রকারভেদ এর ওপরে নির্ভর করত |
অভিজাতদের পোশাক ও সাধারণ মায়াদের পরিধেয় বস্ত্র এক ছিল না |
যারা ধনী ও অভিজাত মায়া ছিল; তারা সাধারণত জন্তু জানোয়ারের চর্ম ও লোম হতে তৈরি বস্ত্র পরিধান করত |
যা দেখতে যেমন রঙিন হত তেমনই ভারী হত |
তারা মহামূল্যবান রত্ন ও সোনা দ্বারা সৃষ্ট গয়না পড়তে পছন্দ করত |
সাধারণ মায়ারা নেংটি পড়ে থাকত |
গ্রীষ্মকালে খালি গায়ে থাকলেও শীতকালে পুরুষরা ঊর্ধ্বাঙ্গে পঞ্চো ধরনের পোশাক পড়ে থাকত |
যা কম্বল দিয়ে তৈরি করা হত |
মেয়েরাও একই পোশাক পরে থাকত |
তবে মেয়েরা লম্বা স্কার্ট গোছের পোশাক পড়ত |
এদের উভয় লিঙ্গের পোশাকআশাক অনেকাংশে অ্যাজটেক সভ্যতার মতন ছিল |
আরও দুটি বিষয়ে উভয় লিঙ্গের মধ্যে মিল ছিল |
আর তা হল উভয়েই বিয়ের পরে গায়ে উল্কি মেরে রাখত নিজেদের বিবাহিত প্রমাণ রাখতে |
এবং উভয়েই একই রকমের বিশাল কেশরাজি বহন করে রাখত |
খাদ্য[সম্পাদনা] |
মায়াদের কাছে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ আহার ছিল ভুট্টা বা মেইজে |
তারা এই ভুট্টা দিয়ে সব রকমের খাদ্য তৈরি করে খেত |
যেমন টর্টিলা, ডালিয়া এবং পনীর জাতীয় খাদ্য |
এমনকি ভুট্টা পচিয়ে মদ তৈরি করে খেত |
এছাড়া এরা আহার হিসাবে যেসব খাদ্যশস্য ও আমিষ গ্রহণ করত তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল শিম, সব রকমের শুঁটি, স্কোয়াশ, লঙ্কা |
এছাড়া হরিণ, হাঁস, বক, টার্কি এবং মাছ |
মাছ তারা বেশি করে খেত বিশেষতঃ সমুদ্রের মাছ |
তেলাপিয়া ছিল তাদের প্রিয় খাদ্য |
মায়াদের কাছ থেকেই বিশ্ব বিভিন্ন প্রকারের খাদ্য উপহার পেয়েছে |
যেমন, চকোলেট, টোম্যাটো, রাঙ্গালু, কালো শিম ও পেঁপে |
চকোলেট তৈরি হত কাকাও গাছ থেকে |
তারা মনে করত চকোলেট হল ঈশ্বরের অবদান |
এবং চকোলেট যে গাছ থেকে উৎপন্ন হত; সেই কাকাওয়ের বীজকে তারা মুদ্রার বিকল্প রূপে ব্যবহার করত |
যেমন আমরা এককালে সামুদ্রিক কড়িকে মুদ্রার বিকল্প রূপে ব্যবহার করতাম ওরাও সেইরকমই কাকাওয়ের বীজকে মুদ্রার বিকল্প রূপে ব্যবহার করত |
বাড়িঘর[সম্পাদনা] |
অভিজাত ও সম্রাট এর আত্মীয় বর্গের দল শহরের মধ্যে নিখাদ গ্রানাইট পাথরের বাড়িতে বসবাস করতেন |
তাতে বাগান বাড়ি ও বিরাট স্নানাগার থাকত |
আর মায়া জনসাধারণ গ্রামে কৃষিক্ষেতের পাশে কুঁড়েঘর বানিয়ে থাকত |
এইসব কুঁড়েঘর তৈরি হত এঁটেল মাটি দিয়ে |
এসব বাসস্থান অত্যন্ত নিম্নমানের ছিল |
এইসব বাড়িতে ঘরের সংখ্যা ছিল মাত্র দুটি |
এক, প্রার্থনা ঘর এবং রান্না ঘর এবং দুই শয়নকক্ষ এবং শৌচাগার |
এইসব বাড়ির ছাদ পাম গাছের পাতা দিয়ে ছাওয়া থাকত |
তবে কিছু কিছু মায়া সাধারণ মানুষ পাথরের বাড়িতে বসবাসও করত; তবে তাদের সংখ্যা ছিল অত্যল্প |
তবে সব মায়ারাই মাটি থেকে বেশ খানিকটা উঁচুতে পাথর দিয়ে মাচা বানিয়ে তার উপরে বাড়ি বানাত |
এতে বন্যার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যেত |
কেননা অধিকাংশ মায়া নগররাষ্ট্র এবং সংলগ্ন অঞ্চল ছিল সমুদ্রতীরে |
সেই জন্যই এমন সতর্কতা পালন করত |
বিশেষতঃ ইউকাটায়েন উপদ্বীপ অঞ্চলে সর্বদাই সুনামি বা সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস প্রায়ই আসত |
সেই জন্যই এমন ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল মায়া অঞ্চলে |
বিনোদন[সম্পাদনা] |
যদিও মায়ারা অত্যন্ত কঠিন জীবনযাপন করত, তবুও তারা বিনোদন এর ব্যবস্থা করত; বিশেষতঃ ছুটির দিনে কিংবা ধর্মীয় দিবসের দিনগুলিতে |
তারা নাচতে, গাইতে এবং খেলতে খুবই উৎসাহ পেত |
অনেকেরই ধারণা তারা ছিল ভলিবল এর জনক |
কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য[সম্পাদনা] |
মায়ারা ভাবত যে, মঙ্গোলিয়ানদের ন্যায় টানা চোখ, চওড়া কপাল এবং লম্বা ও বড় নাক সৌন্দর্যের প্রতীক |
এর কোনওটাই না থাকলে সেই মায়া বিবাহের পক্ষে অযোগ্য বলে মনে হত |
এইজন্য তারা অস্ত্রোপচার এবং সাজসজ্জা করে নাক বড় ও চোখ টানা করার ব্যবস্থা করত |
মায়ারা বড় বড় টুপি [অনেকটা বৈষ্ণবদের কানঢাকা টুপির মতন] ও দামী দামী অলঙ্কার পড়া পছন্দ করত, বিশেষ করে যারা অভিজাত তারা |
যত উচ্চদরের অভিজাত ততই বড় মাপের টুপি পরিধান করত |
মায়ারা ইনকা বা অ্যাজটেকদের মতই লোহার ব্যবহার জানত না |
এমনকি চাকার ব্যবহারও জানত না |
তারা পাথরের তীক্ষ্ম অস্ত্র দিয়ে সব কাজ চালিয়ে নিত |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.