content
stringlengths
0
129k
মায়ারা যে ভলিবল গোছের খেলা খেলত; তা কেবল ধর্মীয় উৎসবের দিনেই খেলত
এই খেলায় যে দল হারত, তারা দেবতার প্রতি উৎসর্গিত হত অর্থাৎ নরবলির শিকার হত!
মায়ারা অন্ততঃ ১১১ রকমের নৃত্যকলা জানত
এর মধ্যে প্রায় ১৫ রকমের নৃত্যকলা অদ্যাবধি প্রচলিত
এর মধ্যে বাঁদর নাচ, সাপ নাচ, স্ট্যাগ হরিণের নাচ বিশেষ উল্লেখযোগ্য
==মায়া সভ্যতার দ্রষ্টব্যস্থল এবং নগররাষ্ট্র== মায়ারা মেক্সিকোর বিভিন্ন স্থান জুড়ে বিভিন্ন নগররাষ্ট্রের মাধ্যমে এক বিশাল সাম্রাজ্য নির্মাণ করেছিল
প্রত্যেক শহর ছিল এক একটা নগররাষ্ট্র
প্রত্যেক নগররাষ্ট্রের চারপাশে কয়েকটা ছোট শহর বা বড় গ্রাম ঘিরে থাকত
তাদের খাজনায় চলত এইসব মায়া নগররাষ্ট্র
মায়ারা অবশ্য অ্যাজটেকদের ন্যায় পরিকল্পিত ও সুগঠিত নগররাষ্ট্র তৈরি করতে পারে নি
তাদের প্রবণতা ছিল যে, প্রথমে একটা মন্দির বানাবে তারপর তার আশপাশে কয়েকটা বড় গ্রাম বানাবে এরপর কয়েকটা বড় গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা বড় শহর বানাবে
এইভাবেই মায়া নগররাষ্ট্র তৈরি হত বলে তা ছন্নছাড়া প্রকৃতির হত
প্রত্যেক নগররাষ্ট্রের একেবারে মাঝখানে সূর্য মন্দির বানানোটা ছিল খাঁটি মায়া রীতি
টাইকাল, কোপায়েন, টেওটিহুয়াকান এবং চিচেন ইটজায় সূর্য মন্দিরের অসাধারণ নমুনা দেখা গিয়েছে
সব সূর্য মন্দির ছিল পিরামিড এর ন্যায়
প্রত্যেক মায়া নগররাষ্ট্রে একটা করে স্থানীয় রাজা বা আহাও থাকতেন
তিনি বসবাস করতেন এক বিরাট রাজপ্রাসাদে
তার সাথে বিরাট রাজ পরিবারও ঐ রাজপ্রাসাদে থাকত
প্রত্যেক রাজপ্রাসাদের উত্তর প্রান্তে থাকত একটা বাণিজ্য কুঠি, বড় রাস্তা এবং দক্ষিণ প্রান্তে থাকত পিরামিড এবং কৃষিজমি
মায়া সাম্রাজ্যের সেরা কৃষিজমির ধারেই রাজপ্রাসাদের অবস্থান থাকত যাতে সেরা খাদ্য সম্রাটের কাছে দ্রুত পৌঁছে যেত
এল মিরাডর [ঊষ গরৎধফড়ৎ][সম্পাদনা]
এল মিরাডর হচ্ছে প্রথমতম মায়া নগররাষ্ট্র
ভাবা হয় যে, যখন এই নগররাষ্ট্র উন্নতির সেরা স্থানে পৌঁছেছে; তখন শহরে বসবাস করত প্রায় ১০০০০০ মানুষ
শহরের মধ্যস্থল এর আয়তন প্রায় ৩.১২ স্কোয়ার কিলোমিটার [১.২০ স্কোয়ার মাইল] ছিল এবং এখানে প্রায় ১০০০ অট্টালিকা ছিল
পুরাতাত্ত্বিকরা এখানে তিনটে বিরাট আকৃতিসমপন্ন পিরামিডের খোঁজ পেয়েছেন
এই তিন পিরামিডের নাম হল যথাক্রমে; এল টাইগ্রে [১৮০ ফিট বা ৫৪.৯ মিটার উঁচু], লস মোনোস [১৫৭ ফিট বা ৪৭.৯ মিটার উঁচু] এবং লা ডানটা [২৫০ ফিট বা ৭৬.৫ মিটার উঁচু]
লা ডানটা পিরামিডকে আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম বলে ধরা হয়
পুরাতাত্ত্বিকরা কার্বন আইসোটোপ পরীক্ষা থেকে অনুমান করেন এল মিরাডর মোটামুটি ৬০০ খৃষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ উদ্ভব হয়েছিল
সেখান থেকে এল মিরাডর খৃষ্টীয় প্রথম শতক অবধি টিকে ছিল
আর এই নগররাষ্ট্রের স্বর্ণযুগ ছিল আনুমানিক খৃষ্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে দ্বিতীয় শতক নাগাদ
বিভিন্ন পুরাতাত্ত্বিক প্রমাণ থেকে এটাও অনুমান করা হয় মূল শহরটা ১৫০ খৃষ্টাব্দে পরিত্যাগ করে মিরাডরবাসীগণ অন্যত্র চলে যেতে শুরু করে
৭০০ খৃষ্টাব্দে তারা অন্য জায়গায় অবশেষে বসবাস করতে শুর করে
কোর্টেজ এবং তার সাথীরা এই শহরকে পরিত্যক্ত অবস্থাতেই দেখেছিল বলে জানা গেছে
কামিনালজুয়ু[সম্পাদনা]
গুয়াটেমালা উচ্চভূমি এবং দক্ষিণ মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী এলাকায় ছিল বিখ্যাত মায়া নগররাষ্ট্র কামিনালজুয়ু
বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রমাণ হতে এটা আন্দাজ করা হয় এই নগররাষ্ট্রের আয়ু ছিল প্রায় ২০০০ বছর
অর্থাৎ ১২০০ খৃষ্টপূর্বাব্দ থেকে ৯০০ খৃষ্টাব্দ অবধি এই কামিনালজুয়ু নগররাষ্ট্র টিকে ছিল
পরে মিরাডর শহরের মত এই শহরও পরিত্যক্ত হয়
টাইকাল[সম্পাদনা]
টাইকাল ছিল মায়া সভ্যতার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ও প্রভাবশালী নগররাষ্ট্র
এই নগররাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটে মায়া ধ্রুপদী যুগে
অর্থাৎ ২৫০ খৃষ্টাব্দ থেকে ৯০০ খৃষ্টাব্দের মধ্যে এই শহর শক্তিশালী নগররাষ্ট্র হিসাবে গণ্য ছিল
এই শহর আয়তনে অন্য মায়া শহরের তুলনায় অনেক ছোট ছিল [মোট আয়তন ১ বর্গ মাইল বা ২.৫ বর্গ কিলোমিটার ছিল] এবং এই শহরে শতাধিক বড় মাপের অট্টালিকা ছিল
তবে টাইকাল শহরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য ছিল ছয়টি পিরামিড
এই শহরেই সবচেয়ে বেশি পিরামিড ছিল
এর মধ্যে চতুর্থ পিরামিডটি [ ৬০০ খৃষ্টাব্দে নির্মিত] ছিল বৃহত্তম পিরামিড
এর উচ্চতা ছিল ২৩০ ফিট বা ৭৬.২৫ মিটার
টাইকাল শহরে তার স্বর্ণযুগে মোট বাসিন্দার সংখ্যা ছিল ৬০০০০ থেকে ৭৫০০০ এর মধ্যে
১৯৭৯ খৃষ্টাব্দে এই ঐতিহাসিক নগররাষ্ট্র ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা পায়
টেওটিহুয়াকান[সম্পাদনা]
টেওটিহুয়াকান শহরের আয়তন ও জনসংখ্যা ছিল অন্যান্য মায়া নগররাষ্ট্রের তুলনায় বেশ কম
তবে বাণিজ্যনগরী হিসাবে এর গুরুত্ব ছিল অসীম
মধ্য মেক্সিকো উপত্যকায় এই নগররাষ্ট্র অবস্থিত ছিল
অনেকেই বলেন এটি একটি টল্টেখ [ঞড়ষঃবপ] নগর, মায়া নগররাষ্ট্র নয়
মেক্সিকো সিটি হতে ৩০ মাইল বা ৪৯.৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই মহান নগররাষ্ট্র
এই নগরের মোট আয়তন ছিল ৮ স্কোয়ার মাইল বা ২১ স্কোয়ার কিলোমিটার
মায়া সংস্কৃতিতে এই নগররাষ্ট্রের প্রচুর অব্দান আছে
এখানে বেশ কিছু বৃহৎ অট্টালিকা ছিল যার মধ্যে চন্দ্রদেবের পিরামিড ও সূর্যদেবের পিরামিড
এখানে ১৫০০০ বাসিন্দা এই নগররাষ্ট্রের স্বর্ণযুগে বসবাস করত বলে জানা গেছে
[পাশের চিত্রটা একশিলাস্তম্ভের তৈরি টেওটিহুয়াকানে অবস্থিত ৪.৬ মিটার বা ১৫.১ ফিট উচ্চতাসমপন্ন টল্টেখ মূর্তি দেখা যাচ্ছে]
খারাখোল[সম্পাদনা]
আনুমানিক ২৫০ খৃষ্টাব্দে খারাখোল শহর এর উৎপত্তি হয়েছিল টাইকাল শহরের যমজ শহর হিসাবে
ঠিক অনেকটা কলকাতা-হাওড়া শহরের মতন
বর্তমানে বেলিজে রাষ্ট্রের রাজধানী বেলিজে শহরের কায়ো জেলায় অবস্থিত
৬০০ খৃষ্টাব্দে এই শহর টাইকাল এর করদ রাজ্যের তকমা ঝেড়ে স্ববলে মহীয়ান হয়ে ওঠে
অর্থাৎ টাইকাল শহরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে
এই শহর আজকের বেলিজে শহরের চেয়ে আকারে ও আয়তনে বড় ছিল
এর আয়তন ছিল আনুমানিক ২০২.৩ স্কোয়ার কিলোমিটার বা ৭৮.১ স্কোয়ার মাইল ছিল
এইভাবেই খারাখোল হয়ে ওঠে মায়া সভ্যতার অন্যতম বৃহত্তম নগররাষ্ট্র
এখানে এর স্বর্ণযুগে প্রায় ২০০০০০ মানুষ খারাখোল শহরে বসবাস করত
চিচেন ইটজা[সম্পাদনা]
চিচেন ইটজা উত্তর ধ্রুপদী যুগের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী মায়া নগররাষ্ট্র ছিল
এখানে বহু বিখ্যাত একশিলাস্তম্ভের স্থাপত্য ছাড়াও অট্টালিকা ছিল
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল এল কাস্টিল্লো, গ্রেট বল কোর্ট, যোদ্ধাদের মন্দির ইত্যাদি
নিচে এইসব বিখ্যাত স্থাপত্যের বিবরণ দেওয়া হল ঃ
এল কাস্টিল্লো ঃ এক বিশাল পিরামিড যা নির্মিত হয়েছিল মায়া দেবতা কুকুল্কানের উদ্দেশ্যে
এই পিরামিড ৯৮ মিটার [৩২১ ফিট] উচ্চতাসমপন্ন
এই পিরামিড আনুমানিক খৃষ্টীয় ষষ্ঠ শতকে নির্মিত হয়েছিল
এই পিরামিডের প্রত্যেক প্রান্তে মোট একানব্বইটি ধাপ ছিল এবং একেবারে ওপরে আয়তক্ষেত্রাকৃতির ভবন ছিল আসলে ৩৬৫টি ধাপ মিলিয়ে এই পিরামিড গড়া হয়েছিল
অর্থাৎ একটা সিঁড়ির ধাপ এক পার্থিব দিনকে বোঝাত
গ্রেট বল কোর্ট ঃ এটা ছিল বিখ্যাত মায়ান ভলিবল গোছের খেলার মাঠ
এই মাঠ লম্বায় ৫৫১ ফিট এবং ২৩০ ফিট চওড়া ছিল
সব মিলিয়ে মাঠের মোট আয়তন ছিল ১২৬৭৩০ স্কোয়ার ফিট বা ১১৭৭৩ স্কোয়ার মিটার
মাঠের চারপাশে থাকা দেওয়ালের উচ্চতা ছিল ২৬ ফিট বা ৭.৯ মিটার
উত্তরের দেওয়ালের ওপারে ছিল জাগুয়ার দেবতার মন্দির
যোদ্ধাদের মন্দির ঃ এটাও একটা পিরামিড ছিল
এর গঠন অনেকটাই চিচেন ইটজার ন্যায় ছিল
তবে সিঁড়ির ধাপ ৩৬৪ এর স্থলে ছিল ২০০ টি
অর্থাৎ চার প্রান্ত থেকে ৫০টি করে ধাপ গঠিত ছিল
কোপায়েন[সম্পাদনা]
এটি একটি মায়া নগররাষ্ট্র, যা কিনা বর্তমান হন্ডুরাস রাষ্ট্রে অবস্থিত
এই শহরের পূর্বপ্রান্তে রয়েছে কোপায়েন নদী
এই ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর হন্ডুরাসের সান্টা রোজা ডে কোপায়েন শহর হতে ৩৫ মাইল বা ৫৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত
এই শহর বিখ্যাত ছিল জ্যোতির্বিদ্যার এবং সাংস্কৃতিক কারণে
খৃষ্টীয় নবম শতকে এই শহরের মোট বাসিন্দা ছিল ২০০০০ এর বেশি
এখানে বহু একশিলাস্তম্ভ দ্বারা সৃষ্ট অতিকায় গ্রানাইট পাথরের মূর্তি, দুটি পিরামিড এবং বল কোর্ট ছিল এই ঐতিহাসিক নগরীতে
মায়ারা আনুমানিক ৩০০ খৃষ্টাব্দে এই শহরের পত্তন করে এবং ১২০০ খৃষ্টাব্দে এই শহর সমপূর্ণভাবে পরিত্যাগ করে
১৯৮০ খৃষ্টাব্দে এই শহর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটে রূপান্তরিত হয়
এর বার্ষিক আগত পর্যটকদের সংখ্যা আনুমানিক ৭ লাখ
পালেংখুয়ে[সম্পাদনা]