content stringlengths 0 129k |
|---|
এইসব পিরামিডে সিঁড়ি বেয়ে কেবল উঠত পুরোহিতকূল |
তারা বছরে কেবল পাঁচদিন বাদে বাকি সব দিনেই পিরামিডের চুড়ায় উঠত |
সেখানে তারা নরবলি এবং অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করত |
সাধারণ মানুষের সাথে এমনকি রাজারও সেখানে যাওয়া বারণ ছিল |
কেবল যেসব দিন শুভ ছিল সেসব দিনে রাজা এবং অভিজাতরা পিরামিডে উঠতেন |
সাধারণ মানুষের জন্য বছরে মাত্র একদিনই পিরামিডে ওঠার সৌভাগ্য হত |
সেটা হল রাজার জন্মদিন উপলক্ষে! |
মায়া ধর্ম ও পুরাণ সমপর্কে কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য[সম্পাদনা] |
মায়ারা বিশ্বাস করত যে আধুনিক সাল অনুযায়ী ৩১১৪ খৃষ্টপূর্বাব্দে তাদের উৎপত্তি হয়েছে |
তাদের দিনপঞ্জীতে এটা একটা বিচিত্র পন্থায় চিহ্নিত করা হয়েছে |
খুইচ্যে ভাষাগোষ্ঠীর ইন্ডিয়ানরা, যারা গুয়াটেমালার সব চেয়ে বড় জাতি তারা আদতে মায়াদের উত্তরপুরুষ |
এদের তরফ থেকে বেশ কিছু দিক থেকে আজও মায়া ধর্ম পালন করা হয় ও দেবতার পূজা করা হয় |
এক মায়া অনুসারে ভুট্টা নাকি ভগবানের সৃষ্টি নয়, মানুষই নাকি ভুট্টার জন্ম দিয়েছে |
মায়া পুরাণ অনুসারে দুই মায়া দেবতা নরকের দেবতার সাথে যুদ্ধ করে পরাজিত করে তাদের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে মানুষকে স্বর্গে নিয়ে যায় |
এই যমজ দেবতার নাম যথাক্রমে হুনাহপু এবং এক্সবালাংখুয়ে |
যমজ দেবতা হুনাহপু এবং এক্সবালেংখুয়ের কাহিনী[সম্পাদনা] |
এই যমজ দেবতার কাহিনী মায়া পুরাণের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায় বলে মনে করা হয় |
এই কাহিনী যে কটা অদ্যাবধি জীবিত মায়া পুরাণ টিকে আছে তার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত |
এই কাহিনী বিখ্যাত পোপোল ভুহ গ্রন্থে লিখিত হয়েছে খুইচ্যে ভাষায়; স্প্যানিশ লিপিতে |
এখানে গল্পের সংক্ষিপ্তসার দেওয়া হল |
বাবা ও কাকা[সম্পাদনা] |
এই যমজ দেবতার কাহিনী শুরু হয়েছে যমজ বাচ্চা ছেলের কাহিনী দিয়ে |
তাদের নাম ছিল এক হুনাহপু এবং সাত হুনাহপু দিয়ে |
এই হুনাহপুদ্বয় বিখ্যাত মায়া বল গেম [ভলিবলের মতন খেলা] খেলতে ভাল বাসত |
তারা খুব প্রতিভাবান ছিল, সবসময়েই এই খেলায় তারাই জিতত |
জিতলে কী হয়, তারা খেলবার সময়ে বড্ড জোরে জোরে চিৎকার করত |
তাদের ক্রমাগত চিৎকার শুনে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল তথাকথিত মায়া নরক দেবতা এক্সিবালবার |
তিনি এইরকম চীৎকারে প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে নরকের দুটি দূত পাঠিয়ে যমজ দেবতাকে সমন দিলেন |
এই এক্সিবালবা অত্যন্ত বদরাগী এবং নিষ্ঠুর চরিত্রের দেবতা ছিলেন |
মায়ারা সচরাচর এর নাম মুখে আনতে চাইত না |
কেননা মায়াদের বিশ্বাস ছিল কেউ যদি ভুল করেও এর নাম মুখে আনে তবে তার আয়ু দ্রুতই ফুরিয়ে যাবে |
সে যাই হোক, যমজ দেবতা তো সমন পেয়ে দ্রুত নরকে এসে হাজির হল |
তখন নরক দেবতা তাদের বেশ কয়েকটা কঠিন পরীক্ষার সামনে ফেললেন |
প্রথমে তাদের বলা হল যে তারা যেন যেভাবেই হোক কাঁটার সেতু পেরোয় |
এই সেতুর তলা দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল রক্তের নদী |
তারা সেই পরীক্ষায় সফল হয়ে নরকের দেবতার কাছে পৌঁছালেন |
সেখানে নরক দেবতা একটা কাঠের ছড়ি কাঁধে ঠেকিয়ে অভিবাদন করলেন |
তারপর জিজ্ঞাসা করলেন যে দেবতাদ্বয় কি তাদের চিনতে পারেন |
দেবতাদ্বয় তাকে চিনতেন না |
ফলে এই পরীক্ষায় তারা অসফল হলেন |
তখন এক্সিবালবা তাদের শয়তানি করে একটা নিরীহ কাঠের বেঞ্চিতে বসতে বললেন |
দুই ভাই তার চক্রান্ত ধরতে না পেরে সরল বিশ্বাসে সেই বেঞ্চিতে বসলেন |
সঙ্গে সঙ্গে তারা বিস্ময়ের সাথে দেখলেন সে বেঞ্চিতে আগুন ধরে গেল |
তারা আগুনে বেঞ্চি থেকে বেরুতে না পেরে পুড়ে মারা গেলেন |
হুনাহপু ও এক্সবালাংখুয়ে জন্মালেন[সম্পাদনা] |
এক হুনাহপু এবং সাত হুনাহপু তো মারা গেলেন |
তারপর কি হল? পুরাণ অনুসারে এক হুনাহপুর একটি সন্তান জীবিত ছিল |
তিনি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মায়া দেবী |
যথাসময়ে তার দুটি সন্তানের জন্ম হল |
এই যমজ সন্তানের নাম হল এক্সবালাংখুয়ে ও হুনাহপু |
তারা তার বাবা ও কাকার মতই ভাল বল খেলোয়াড় ছিলেন |
কিন্তু তাদের তুলনায় বেশি বুদ্ধিমান ও শক্তিমান ছিলেন |
তারাও বাবা-কাকার মতই খেলবার সময়ে প্রচন্ড জোরে জোরে চিৎকার করতেন |
তাদের একটানা জোরে জোরে চিৎকার শুনে অত্যন্ত বিরক্ত হলেন নরকদেব এক্সিবালবা |
আগের বারের মতই এবারেও তিনি দুটি দূত পাঠালেন সমন পাঠিয়ে যে, তারা যেন এক্সিবালবার সাথে দেখা করে |
এবং সেখানে এসে খেলে এক্সিবালবাকে হারিয়ে দেয় |
যমজ দেবতার নরকে অভিযান[সম্পাদনা] |
অতঃপর দুই ভাই নরকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করল |
তারা মার কাছ থেকে আগেই জেনে মিয়েছিল যে, তারা বাবা ও কাকা কি কি ভুল করেছিল |
সেই মতন জেনে তারা নরকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল তারা নরকের দেবতার পাতা ফাঁদে পা দিল না |
এক্সিবালবা যতগুলি পরীক্ষায় বসতে দিল ততগুলিই পরীক্ষায় তারা সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হল |
তখন ক্ষিপ্ত এক্সিবালবা প্রতারণার আশ্রয় নিল |
তিনি একজন মশার রূপ নিয়ে কামড়ালেন দুই ভাইকে |
কিন্তু কিছুই হল না |
তারা মশা মারার জন্য খন্তির মতন একরকম কাঠের টুকরো নিয়ে সে মশাকে তাড়া করতেই মশা জীবন বাঁচাবার জন্য পালাতে বাধ্য হল |
তারপর এক্সিবালবা তাদের কাঠের বেঞ্চিতে বসতে আদেশ দিলে তারা সুকৌশলে সে আদেশ অমান্য করল |
হুনাহপু এবং এক্সিবালেংখুয়ে নরকদেবকে বলল তারা খেলতে এসছে, বসতে আসে নি |
নরক দেবতা কি ওদের সাথে হেরে যাবার ভয়েই খেলতে চাইছেন না? তাই কি এমন করে সময় নষ্ট করছেন? |
এক্সিবালবা বনাম এক্সিবালেংখুয়ে আর হুনাহপু[সম্পাদনা] |
এক্সিবালবা বলাই বাহুল্য দুই ভাইয়ের এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা শুনে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল |
তার ধারণা হল যে, নরকে অবস্থিত সব নরকের দূতদের সামনে এমন কথা বলে দুই ভাই তাকে অপমান করছে |
সে রেগে গিয়ে দুই ভাইকে বলল না, তিনি ভয় পান নি |
এবার খেলতে বসা যাক |
এক্সিবালেংখুয়ে আর হুনাহপু এমন কথা শুনে হাসল |
এটাই তো তারা চেয়েছিল |
এক্সিবালবা জানত সঠিক ভাবে খেললে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে তিনি জিততে পারবেন না |
কারণ তার বয়স হয়েছে; ওদিকে দুই ভাইয়ের বয়স কম, ক্ষিপ্রতা বেশি তাই ওদের জেতার সম্ভাবনা বেশি |
তাই তিনি কাঁটাওয়ালা বলের সাহায্যে খেলা শুরু করলেন |
তার দুই হাত ছিল মোটা কাপড়ে মোড়া |
ফলে তার হাত কাটবার ভয় ছিল না |
কিন্তু দুই ভাইয়ের তো তা ছিল না |
তারা রেগে গেল এক্সিবালবার ওপরে এমন অন্যায় খেলার অপচেষ্টার কারণে |
তারা পরিষ্কার বলল তারা এক্সিবালবা ন্যায্যভাবে না খেললে খেলতেই রাজি নয় |
তখন বাধ্য হয়ে ভাল ও কাঁটা মুক্ত বলের সাহায্যে খেলতে শুরু করল |
দুই ভাইয়ের এটা ভালই জানা ছিল যে, তারা জিতলে নরক থেকে জীবন্ত বেঁচে ফিরবে না |
তাই চালাকি করে তারা হারবার জন্য খেলতে শুরু করল |
তাতে ফল হল |
এক্সিবালবা সহজেই জিতলেন |
তারপর বরফের খেলা আগুনের ওপরে ঝাঁপ দেবার খেলা শুরু করলেন |
প্রতিবারই ইচ্ছা করে হারলেন দুই ভাই |
দুই ভাইয়ের মৃত্যু হল[সম্পাদনা] |
অবশেষে দুই ভাইয়ের সাথে নরকদেবের শেষ খেলায় সত্যকারের খেলা শুরু হল |
প্রত্যেকটা ম্যাচে হারতে আর ভাল লাগছিল না দুই ভাইয়ের |
আর তাই তারা শেষ ম্যাচে সত্য সত্যই জিতলেন |
তাতেই এক্সিবালবা বুঝলেন, দুই ভাই তার সাথে প্রতারণা করেছেন |
তারা সব ম্যাচেই যে ইচ্ছাকৃত ভাবে হেরেছেন তাও বুঝতে পারলেন |
তাতে ক্রুদ্ধ হয়ে দুই ভাইকে এক বিশাল চুল্লিতে ঝাঁপ দিতে বললেন |
দুই ভাই তাতে ঝাঁপ দিতে সম্মত হলেন |
তাতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হল |
তারপর নরকদেব তাদের ছাইকে রক্তের নদীতে ফেলে দিলেন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.