content stringlengths 0 129k |
|---|
১৮ ' শস্যভান্ডার |
১৯ ' অমঙ্গলজনক ৫ দিন |
তাদের একটি গৌণ বর্ষপঞ্জিকার উপরে চেইন দিয়ে বেধে দেওয়া হয়েছিল, যেটি ধর্মীয় প্রথা উদ্দ্যেশ্যের জন্য ব্যবহার করা হতো এবং দেবতদের জন্য ২৬০ দিনের একত্র করে একে গঠন করেছিল, ২০ দিনের ১ "মাস" আর ১৩ মাসে ১ বছর এবং ৫২ বছর ১ শতাব্দী ছিল |
এক ' ২০ বছর, ৩৬০ দিনের একটি চক্র যা পুনরাবৃত্তি হতো তাৎপর্য্য ব্যতীত |
২০ বছরের শুরুতে অথবা প্রান্তে ' প্রতিনিধিত্ব করতে গুরুত্বপূর্ণ প্রধান নগরীগুলো নির্মিত করা হয়েছিল |
দিন, মাস এবং ঋতুর চিরস্থায়ী প্রবাহের তালগুলো একটি অলৌকিক ঘটনা যা প্রতি সূর্যদয় এবং প্রতি সূর্যাস্ত মায়াদের ধাক্কা দিতো একটি গভীর পবিত্রে |
প্রতি ভাবভঙ্গী, প্রতি মানবিক ক্রিয়াকর্ম তার আর্দশের চিহ্ন হয়েছিল যা দিন তার সাথে আন্তো, সূর্যের প্রকৃতিগুলো যা প্রত্যেক ভোরে নরকের রাজ্য থেকে আসে স্বর্গ পৌঁছতে |
লেখা এবং সাক্ষরতা[সম্পাদনা] |
লিখনপদ্ধতি[সম্পাদনা] |
মায়া একমাত্র প্রচীন কলম্বীয় সভ্যতা যা রেখে গিয়েছে অনেক উৎকীর্ণলিপি |
একটি বড় পরিমাণ মায়ার উৎকীর্ণলিপি নহ্মত্রদের মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং ইতিহাস তাদের এই তথ্যগুলোর ধারণের সাহ্মী |
মায়া লিখন ছিল একটি , যেটিতে প্রত্যেক চিহ্ন বা বর্ণ, নিজে থেকেই প্রতিনিধিত্ব করতে পারতো এক একটি শব্দ বা অর্থের প্রকাশ |
নির্দেশ করতে পারতো একটি শব্দের উচ্চারণের কন্ঠস্বর |
অতি প্রাচীন মায়া লেখার সময় কাল শনাক্ত করা হয়েছে খ্রিষ্টপূর্ব ২০০-৩০০ শতাব্দীর প্রথম দিকে |
মায়ারা একটি ভাষা লেখার ব্যবহার শিখার আরম্ভের সময় ধরে খ্রীষ্টান যুগের প্রথম দিকে ফিরে যাওয়া যায় |
এইটি প্রাচীন কলম্বিয়ার নতুন বিশ্বের একমাত্র লিখন পদ্ধতি, যেটি এ সম্প্রদায়ের কথ্য ভাষা সম্পূর্ণভাবে বর্ণনা করে |
মোট, এক হাজার চেয়েও বেশি আলাদা বর্ণ লিপি রয়েছে, যদিও কয়েকটি একই চিহ্ন অথবা অর্থের পরিবর্তনশীলতা আছে এবং অনেক গুলোকে দূলর্ভ মনে হয় অথবা বিশেষ স্থানে সীমাবদ্ধ করা হয় |
যে কোন সময়ে, প্রায় ৫০০ টির চেয়ে বেশি বর্ণ ব্যবহার হত না, এগুলোর মধ্যে প্রায় ২০০ টি ধ্বনি অথবা শব্দের (পরিবর্তনশীলতা সহ) অনুবাদ করা হয়েছিল |
লেখার সরঞ্জাম[সম্পাদনা] |
যদিও প্রত্নতাত্ত্বিক রেকর্ড কোনো দৃষ্টান্ত না দিলেও মায়ার শিল্পে দেখা যায় যে, তারা পশুর চুল বা লোম দ্বারা তৈরি তুলী এবং পাখির পালক দ্বারা তৈরি কলম দিয়ে লেখাতো |
লেখতে তারা সাধারণত কালো কালিতে কোডেক্স-স্টাইলের সঙ্গে লাল কালিতে গাঢ় করা হতো |
মায়া অঞ্চলের অ্যাজটেক স্থানকে নাম দেওয়া হয়েছে "লাল এবং কালোর জমি" হিসেবে |
সাক্ষরতা[সম্পাদনা] |
মায়ার আদালতগুলোতে লেখকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখে ছিল |
মায়া শিল্পে প্রায়ই ছবির অঙ্কন গুলোতে নিদের্শনা করতো তারা লেখক অথবা অন্তত লিখতে সক্ষম |
তা ছাড়া, অনেক শাসকদেরকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে যারা লিখার সরঞ্জামের সঙ্গে যুক্তা করেছে খোসা অথবা কাদা কালি |
যদিও লোগোগ্রামসের সংখ্যা এবং সঙ্কেতের চিহ্নগুলো সম্পূর্ণভাবে শতকের ভাষা লেখতে প্রয়োজন বোধ হতো, সাক্ষরতা অভিজাত শ্রেণীর প্রয়োজনীয় ভাবে বহুবিস্তৃত ছিল না |
গ্রাফফিট বিভিন্ন প্রসঙ্গগুলোতে উম্মুক্ত ছিল, রান্নার কাজসহ, লিখন পদ্ধতি আনুকরণেতে অর্থহীন প্রচেষ্টায় দেখায় |
মায়াদের দেবতা ও পুরাণ[সম্পাদনা] |
মায়াদের জীবনযাত্রায় এমন কোনও দিক ছিল না যেখানে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রয়োগ ছিল না |
তারা এতটাই ধর্মবিশ্বাসী ছিল মতান্তরে ধর্মান্ধও বলা যেতে পারে |
তারা ঈশ্বরের ভয়ে সর্বদাই ভীত ছিল |
অধিকাংশ পুরাতাত্ত্বিক মায়া ধর্ম সম্বন্ধে জেনেছেন তাদের দ্বারা লিখিত পুরাণ আর শিলালিপি হতে |
বিশেষতঃ পালেংখুয়েতে অবস্থিত শিলালিপির মন্দির থেকে |
সেখানে বেশ কিছু পাথুরে এবং পোড়ামাটির পুঁথি হতে তাদের ধর্মবিশ্বাস সম্বন্ধে প্রচুর তথ্য পাওয়া গিয়েছে |
এইসব মায়ান পুঁথিকে বলা হয় কোডেক্স |
এর মধ্যে বিখ্যাততম জীবিত মায়া কোডেক্স হল প্যারিস কোডেক্স, মাড্রিড কোডেক্স এবং ড্রেসডেন কোডেক্স |
ড্রেসডেন কোডেক্স সাধারণভাবে পোপোল ভুহ নামে পরিচিত |
এই কোডেক্স মায়ান ভাষা খুইচ্যে এবং স্প্যানিশ লিপিতে লেখা হয়েছিল |
সম্ভবতঃ ১৫৫৪ থেকে ১৫৫৮ খৃষ্টাব্দে এই মহামূল্যবান কোডেক্স তৈরি করা হয়েছিল জাগুয়ারের চামড়ার ওপরে |
এতে সব মায়া সম্রাটের বংশলতিকার তালিকাও ছিল |
জনৈক গুয়াটেমালান স্প্যানিশজাত ক্যাথলিক পুরোহিত ফ্রান্সিস্কো জিমেয়নেজ আবিষ্কার করেন ১৭৮৭ খৃষ্টাব্দে |
মায়া দেবতা[সম্পাদনা] |
মায়ারা হিন্দুদের মতই বহু দেবতায় বিশ্বাস রাখত |
তবে তার মধ্যে সামান্য কিছু দেবতা অন্যান্য দেবতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব, সম্মান ও মর্যাদা পেতেন মায়া জনসাধারণের কাছে |
এরা যেমন শক্তিশালী ছিলেন তেমনই ছিলেন রাগী |
ইটজাম্না ঃ মায়াদের কাছে সম্ভবতঃ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেবতা ছিলেন এই ইটজাম্না |
মায়াদের কাছে ইনিই ছিলেন সৃষ্টির দেবতা |
অনেকটা ইনকাদের ভিরাকোচার মতই |
মায়া পুরাণ অনুসারে তিনিই এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা |
তিনিই নাকি দিন এবং রাত্রির সৃষ্টি করেছেন |
মায়ারা বিশ্বাস করত যে তিনি স্বর্গের দেবতা |
তারা এটাও বিশ্বাস কোর্ট যে, এই ইটজাম্নাই তাদে লিখতে ও দিনপঞ্জী তৈরি করতে শিখিয়েছেন |
মায়ান ভাষায় ইটজাম্না শব্দের অর্থ টিকটিকির বাড়ি |
চিচেন ইটজার পিরামিড এই দেবতার সম্মানে গঠিত হয়েছিল |
কুকুল্কান ঃ হিন্দুধর্মে যেমন মা মনসা সর্পদেবী; সেরূপই মায়াদের কাছে সর্পদেবতা হলেন কুকুল্কান |
মায়া ভাষায় এর অর্থ পালক দ্বারা আবৃত সাপ |
তবে প্রাক ধ্রুপদী যুগে এই দেবতার মর্যাদা তুলনায় কম ছিল |
তিনি শক্তিশালী হয়ে ওঠেন কেবল যখন মায়ারা ধ্রুপদী যুগে মেক্সিকো শাসন করতে থাকে |
বিভিন্ন মায়া দেওয়ালচিত্রে, এবং ভাস্কর্যে কুকুল্কানের চেহারা অবিকল চৈনিক ড্রাগনের মতন |
প্রায় সব মায়া মন্দিরেই এর নামে পিরামিড গড়া হয়েছে |
বোলোন টজাখাব ঃ মায়াদের কাছে এই দেবতা অনেক ক্ষেত্রেই হুরাখান নামে পরিচিত |
অনেকেই মনে করেন এর নাম থেকেই স্প্যানিশ বিকৃত উচ্চারণে তা হ্যারিকেনে পরিণত হয়েছে |
কেননা ইনি ছিলেন একত্রে ঝড়ের, বজ্রপাতের এবং আগুনের দেবতা |
তবে ইউকাটায়েন উপকূলে হ্যারিকেনের উৎপাত সবচেয়ে বেশি এবং এই দেবতার পুজাও তাই ঐ অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি করা হত |
মায়া ভাষায় হুরাকান বা বোলোন ট জাখাব শব্দের অর্থ একপদবিশিষ্ট দেবতা |
মায়া পুরাণ অনুসারে যখন এই দেবতা ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন তখনই নাকি তিনি বন্যা পাঠিয়ে মানুষকে উচিত শিক্ষা দেন |
চায়াখ ঃ হুরাখানের মতই তিনিও বজ্রপাতের দেবতা |
সাথে তিনি বৃষ্টির দেবতা এমন ধারণা ছিল মায়া কৃষকদের মধ্যে |
তাই কৃষকরা ভাল বৃষ্টির জন্য তার কাছেই প্রার্থনা করতেন |
তিনি নাকি প্রথমে মেঘ তৈরি করেন, তারপর বজ্রপাত উৎপন্ন করেন; শেষে বৃষ্টি নামান |
এই রকমই ছিল প্রচলিত মায়া বিশ্বাস |
ঐশ্বরিক সম্রাট[সম্পাদনা] |
মায়া বিশ্বাস অনুসারে সম্রাট ছিলেন ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী |
তিনি নাকি মানুষ ও দেবতার মধ্যে মধ্যস্থতা করেন, এরকমই মায়ারা ভাবত |
এই কারণেই রাজার যে কোনও আদেশকেই তারা ঈশ্বরের আদেশ হিসাবে মান্য করত |
এমনকি তারা এটাও ভাবত যে, রাজা হলেন ইটজাম্নার পুত্র |
অর্থাৎ দেব পুত্র |
পুরোহিত[সম্পাদনা] |
ধর্মের দিক দিয়ে দেখলে মায়া সাম্রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ হলেন এই পুরোহিত বা ংধপবৎফড়ঃব |
এরা এমনকি মায়া আহাওয়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী ছিল |
তারা চাইলে রাজাদেশ নাও মানতে পারত; কিন্তু তাদের আদেশ মানতে বাধ্য থাকত |
এতটাই শক্তিশালী ছিল এই পুরোহিতকূল |
তারা বিভিন্ন রকমের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করত যাতে দেবতারা মানুষের ওপরে ক্রুদ্ধ না হন |
বিখ্যাত স্প্যানিশ বই দ্য বুক অফ জাগুয়ার প্রিস্ট থেকে জানা যায় যে, তাদের ওপরে কতরকমের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল |
নিচে সেইসব দায়িত্ব পালনের তালিকা দেওয়া হল |
ঈশ্বরকে তুষ্ট রাখা |
যথার্থ ভবিষ্যদ্বাণী করার ক্ষমতা |
অলৌকিক বা ব্যাখ্যাতীত কার্যকলাপের অনুষ্ঠান করা |
সূর্যগ্রহণের এবং চন্দ্রগ্রহণের তালিকা প্রস্তুত করা |
ভূমিকমপ, খরা, দুর্ভিক্ষ, প্লেগ এইসব প্রাকৃতিক বিপর্যয় আটকানো |
যাতে সঠিক সময়ে বৃষ্টিপাত হয় সে জন্য চায়াখ দেবতাকে তুষ্ট করা |
পুরোহিতকূল যদি কোনও কারণে এর কোনও একটা কাজ ঠিকমতন করতে না পারতেন; তবে চাকরিটা খোয়াতে হত |
মৃত্যু পরবর্তী জীবন[সম্পাদনা] |
মিশরীয় বা অ্যাজটেক, ইনকাদের মতই মায়ারাও তীব্রভাবে মৃত্যু পরবর্তী জীবন আছে বলে বিশ্বাস করত |
তারা ভাবত যেহেতু বেশির মানুষ পাপী তাই তাদের নরকে যেতে হয় যেখানে দুষ্ট দেবতা তাদের গিলে খেয়ে ফেলার জন্য তৈরি থাকেন |
তাদের বিশ্বাস অনুসারে কেবলমাত্র যে মহিলা শিশুর জন্ম দেওয়ার পরেই মারা গিয়েছেন এবং যাকে নরবলি দেওয়া হয়েছে তারাই কেবল স্বর্গে যেতে পারবেন |
পিরামিড[সম্পাদনা] |
সব পিরামিডই ছিল দেবতার প্রতি উৎসর্গিত |
অধিকাংশ পিরামিড ছিল হয় কুকুল্কান নয় ইটজাম্নার প্রতি সমর্পিত |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.