content stringlengths 0 129k |
|---|
বিশেষ বিশেষ দিনে কবরের পাশে বেষ্টনীর এই কাঠের স্ট্রিমগুলো সরে যায় এবং ফুল রাখার জন্য বেদিটা সামনে চলে আসে |
মাঝেমধ্যে যখন আনুষ্ঠানিক আয়োজন থাকে, তখন আপনি বাইরে দাঁড়িয়েই ফুল দিতে পারবেন |
কাঠের স্ট্রিমগুলো সরে গেলেই কবরটা দেখা যায় |
বাকি সারা বছর বন্ধ থাকে |
এর চারপাশে আরেকটি সার্কুলার স্পেস বা ইন্টারনাল কোর্টইয়ার্ড বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আর সমাধির মধ্যে রয়েছে |
এ বাড়িতেই বঙ্গ বন্ধু থাকতেন, যা পরে ছোট একটি মিউজিয়াম হয় |
তখন ফার্নিচার যা ছিল তা সংরক্ষণ করে ওপরে বঙ্গ বন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা থাকতেন |
সে বাড়িটিকে আমরা অক্ষুণ্ণ রেখেছি |
ভেতরের এই উঠোনে বসে মানুষ যাতে কোরআন পাঠ করতে পারেন বা আলোচনা করতে পারেন সে রকম একটা ব্যবস্থাও সেখানে আছে |
ঢাকা থেকে যে কফিনে বঙ্গবন্ধুকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাও সংরক্ষিত আছে |
পাবলিক ও স্পিরিচুয়াল দুই কোর্টইয়ার্ডের মধ্য থেকে এটি একেবারে মাটি থেকে উত্থিত একটি স্থাপত্য হিসেবে তৈরি করা হয় |
প্রকৃতিনির্ভরতাই এ স্থাপত্যের সবচেয়ে বড় ঐশ্বর্য হিসেবে বিবেচিত |
সে সময় অনেক সম্মানিত ব্যক্তি আমাদের সাজেশন দিয়েছিলেন |
আমি তাদের নাম উল্লেখ করছি না |
তারা বলেছিলেন, এই স্থাপত্য ইরানের শাহ কিংবা তুরস্কের কামাল আতাতুর্কের মাজারের মতো হবে না কেন? বঙ্গবন্ধুকন্যা একটি ছোট্ট স্কেচ এঁকে দিয়েছিলেন |
সেটি এখনো টুঙ্গিপাড়ায় টাঙানো আছে |
সব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু সেভাবে তৈরি হওয়া নেতা নন |
তিনি মাটি থেকে, সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে বেড়ে ওঠা নেতা |
তার মাজার হবে সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠার অনুপ্রেরণায় ভরপুর |
সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশে গাছ, তালাব... ঝিঁঝি পোকার ডাক ইত্যাদি যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে সেসব এই স্থাপত্য নির্মাণের সময় বিবেচনায় রাখা হয়েছে |
এ কারণেই হয়তো কেউ সেখানে গেলে বঙ্গবন্ধু কোথা থেকে কীভাবে এসেছেন, কোথা থেকে কোথায় গিয়ে পৌঁছেছেন সবাই যেন তা বুঝতে পারেন |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার পর সামরিক ঘাতকরা হয়তো ভেবেছিল, মানুষের কাছ থেকে তাকে দূরে সরিয়ে ফেলি |
কিন্তু অবচেতন মনে ঘাতকরা তাকে সেখানেই নিয়ে গেলেন! যে মাটিতে এ মহামানবের জন্ম, তিনি সেখানেই শায়িত আছেন |
এর চেয়ে ভালো যে আর হয় না সেটা এই স্থাপত্য করতে গিয়ে আমরা ভীষণভাবে উপলব্ধি করেছি |
আরেকটি ছোট তথ্য না দিলেই নয় |
সমাধি নির্মাণের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর পরিবার অন্যদের কাছ থেকে কোনো জমি অধিগ্রহণ করেননি |
সেখানে গেলে মনে হয়, সমাধি আরেকটু বড় করা যেত! কিন্তু আমরা তা পারিনি |
জমি যা রয়েছে, সবই দান করেছেন বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্যরাই |
এসব স্মৃতি আমাকে কাঁদায় |
আমরা জাতির পিতার সমাধিসৌধ করতে গিয়েও কারও দান নিতে পারলাম না |
লর্ডসের মাঠে স্কোর কার্ড বিক্রি করে মিডলসেক্স নার্সারিতে খেলা শিখেছিলেন ডেনিস কম্পটন |
আজ ২৩ মে তার জন্মদিন |
গল্পে গল্পে শুভেচ্ছা জানানো যাক |
ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৪৬ সালের ১৭ আগস্ট |
সাধারণ একটা রান আউট |
স্কোর বোর্ড দেখে অন্তত তাই মনে হবে |
ওভালে সেদিন ১২৮ রানে ব্যাট করছিলেন বিজয় মার্চেন্ট |
৩১৫ মিনিটের ইনিংসটা তিনি সাজিয়েছিলেন ড্রাইভ, পুল আর লেটকাটে |
উইজডেনের ভাষায়, 'ইন মাস্টারলি ফ্যাশন |
' শেষে একটা বল মিডঅফে ঠেলে সিঙ্গেলের জন্য দৌড় দিয়েছিলেন মার্চেন্ট |
অন্য প্রান্তে দাঁড়ানো ভিনু মানকাড 'নো' বলে বারন করেন |
তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন |
হলে কী হবে |
কম্পটন বিদ্যুৎগতিতে এসে বল না তুলে পা দিয়ে সজোরে কিক করলেন |
উইকেট ছিটকে গেল |
রান আউট মার্চেন্ট |
কলকাতার এক খবরের কাগজ হেডলাইন করেছিল 'মার্চেন্ট কিকড আউট বাই কম্পটন |
ক্রিকেটার কম্পটন ফুটবলও খেলতেন |
ছিলেন আর্সেনাল ক্লাবের ফরোয়ার্ড |
ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে ১৪টি ম্যাচও খেলেছেন |
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষভাগে তিনি যোগ দেন ব্রিটিশ আর্মিতে |
ইন্দোরের কাছে মাউতে পোস্টিং হয়েছিল |
সেই সময় হোলকরের পক্ষে রঞ্জি ট্রফিতেও খেলেছেন কম্পটন |
যেকোনো ম্যাচেই পুরোদস্তুর পেশাদারের মতো সিরিয়াস থাকতেন কম্পটন |
সেসব নিয়ে অনেক গল্পও আছে |
ছেচল্লিশে হোলকরের অধিনায়ক ছিলেন সি কে নাইডু |
আধুনিক বিরেন্দ্র শেভাগের আদি ভারতীয় সংস্করণ মুশতাক আলিও খেলতেন নাইডুর দলে |
মুম্বাইয়ের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৮৬৪ রানে পিছিয়ে পড়েছিল হোলকর |
ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত ম্যাচ চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় |
হোলকরের দুই ওপেনার মুশতাক এবং কম্পটনকে অধিনায়ক নাইডু বলেন, 'প্রয়োজন হলে সারা দিন উইকেট কামড়ে পড়ে থাকো |
' মুশতক সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি করে আউট হওয়ার পর ক্ষুব্ধ নাইডু বলেছিলেন, 'কম্পটনকে দেখো |
ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার |
হোলকর টিমের প্রতি তার কোনো লয়ালটি নেই |
কিন্তু সিজনড, প্রফেশনাল, অধিনায়কের নির্দেশ তার কাছে অমোঘ বিধান |
সে টিকে আছে |
আর তোমাদের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন ছোকরারা বাজে স্ট্রোক নিতে গিয়ে আউট হও, লজ্জা করে না?' কম্পটন সেই ম্যাচে ২৪৯ রানে অপরাজিত ছিলেন |
গ্যালারি থেকে এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী তাকে লোভ দেখিয়েছিল |
সেঞ্চুরির পর কম্পটনকে নাকি লোকটা বলে 'খেলে যাও, প্রতি রানের জন্য এক পাউন্ড করে দেব |
' আত্মজীবনীতে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক লিখেছেন, 'খেলার পর আমি লোকটার খোঁজে গ্যালারিতে গিয়ে দেখি একটা চিঠি পড়ে আছে |
তাতে লেখা ডিয়ার কম্পটন, জরুরি দরকারে শহরের বাইরে যাচ্ছি |
' সেদিন ১৪৯ পাউন্ড না পেয়ে আফসোস হয়েছিল কম্পটনের |
আত্মজীবনীতে লিখেছেন, 'অনেকগুলো টাকা তো |
এখনকার কয়েক হাজার পাউন্ডের সমান |
না পেয়ে খারাপ লেগেছিল |
ডেনিস কম্পটনরা যখন খেলতেন তখন ক্রিকেটে অ্যামেচারের রাজত্ব |
ইটোন হ্যারো পাবলিক স্কুল থেকে অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজ হয়ে ইংল্যান্ড দলে ঢুকতেন তারা |
ভালোবেসে ক্রিকেট খেলতেন |
অর্থকড়ির চিন্তা ছিল না |
অধিকাংশের বাপ-দাদাই লর্ড ছিলেন, কিংবা বড় ব্যবসা ছিল |
লর্ড হক, সিবি ফ্রাই, স্ট্যানলি জ্যাকসন, ডগলাস জার্ডিন, পার্সি ফেন্ডার, লর্ড টেনিসন, কলিন কাউড্রে এই দলে পড়েন |
স্কোর কার্ডে এদের নামের পাশে মিস্টার লেখা থাকত |
আলাদা ড্রেসিং রুমে বসতেন |
জ্যাক হবস, কম্পটন কিংবা হ্যারল্ড লারউডের মতো যারা ক্রিকেট খেলে পেট চালাতেন, তাদের জন্য ছিল আলাদা ড্রেসিং রুম |
চূড়ান্ত শ্রেণিসচেতন সেই ইংরেজ সমাজে স্রেফ ক্রিকেট খেলে অর্থ এবং সম্মান আদায় সহজ ছিল না |
সেই দুঃসাধ্য কাজটাই করেছিলেন কম্পটন |
অ্যামেচার যুগেও ইংল্যান্ড ক্রিকেটের 'আইকন' হয়ে উঠেছিলেন তিনি |
১৯১৮ সালের ২৩ মে মিডলসেক্সে জন্ম নেওয়া কম্পটন ইংল্যান্ডের হয়ে ৭৮ টেস্টে ৫০.০৬ গড়ে ৫৮০৭ রান করেছেন |
সেঞ্চুরি ১৭টি |
হাফসেঞ্চুরি ২৮টি |
এর সঙ্গে ভয়ংকর ফিল্ডিং আর কার্যকর অফস্পিন যোগ করুন, দেখবেন আর্সেনাল স্ট্রাইকারকে বিরল প্রতিভা মনে হবে |
৫১৫টি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১২৩টি সেঞ্চুরি আছে কম্পটনের |
৫১.৮৫ গড়ে রান করেছেন ৩৮৯৪২ |
উইকেট নিয়েছেন ৬২২টি |
চিরকাল ক্রিকেটে নিবেদিতপ্রাণ কম্পটনের ফুটবলপ্রেমও ভোলার নয় |
এক সময় কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মোহনবাগানে খেলতে চেয়েছিলেন |
১৯৪৬ সালে আইএফএ শিল্ডে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ দেখে তিনি নাকি হাসতে হাসতে বলেছিলেন, 'ফরোয়ার্ড লাইনের কাছে ছেলেরা লাল পিঁপড়ের মতো ছুটে বেরাচ্ছে কেন! গোলে শট নিতে বলো |
আমি ছয় বছর প্রথম শ্রেণির ও আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলেছি |
গোলে শট নিতে আমায় পেনাল্টি বক্সে ঢুকতে হয়নি |
এখনকার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের মতো পেনাল্টি বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করার বিরল ক্ষমতা ছিল কম্পটনের |
চাইলে তিনি গ্রেট ফুটবলারও হতে পারতেন |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.