content
stringlengths
0
129k
আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এ ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি
বিমানবন্দরে করোনাভাইরাসের আরটি-পিসিআর টেস্টের সুবিধা না থাকায় সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী (ইউএই) যাত্রীদের নেবে না বলে জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির পতাকাবাহী বিমান পরিবহন সংস্থা এমিরেটস
বিমানবন্দরে কবে থেকে আরটি-পিসিআর টেস্ট শুরু হবে, জানতে চাইলে সচিব বলেন, 'আজকে ইনস্ট্রাকশন দিয়ে দেয়া হয়েছে
যত কুইকলি সম্ভব ২, ৩ দিন, ৭ দিন, কুইক টাইমে, না হলে তো বিদেশ যাওয়া যাবে না
করোনাভাইরাস শনাক্তে এখন পর্যন্ত বিশ্ব যে কয়টি নমুনা পরীক্ষা পদ্ধতি আছে তার মধ্যে আরটি-পিসিআর পরীক্ষাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য
এই পদ্ধতিতে রোগীর নাসারন্ধ্র বা মুখের ভেতর থেকে মিউকাস বা লালা সংগ্রহ করা হয়
আরটি-পিসিআর পদ্ধতিতে নমুনা পরীক্ষায় একটু সময় লাগলেও অনেকটা নিখুঁত ফল পাওয়া যায়
পজিটিভ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম: জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, করোনার এই মহামারিতেও পিছিয়ে নেই দেশে ক্রীড়া ব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রীড়া ব্যবস্থা যাতে করোনার মধ্যে থমকে না যায় সে জন্য সকল ধরনের সহযোগিতা করে আসছে
উন্নত দেশ গড়তে ক্রীড়া অন্যতম ভুমিকা পালন করবে
দেশের ক্রীড়া যত এগিয়ে যাচ্ছে দেশ তত উন্নত হচ্ছে
তিনি বলেন, বিএনপি জামায়াতরা এ দেশকে মাদকের দেশ পরিনত করতে চেয়েছিল
তরুন সমাজকে মাদক তুলে দিয়েছিল
বানিয়েছিল সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ
সেই তরুন সমাজকে আলোকিত করে বিশ্বের কাছে মাথা উচু করে দাড়িয়ে বাংলাদেশ
আগামীতে দিনাজপুর থেকে লিটন ও ধীমানের মত জাতীয় খেলোয়ার বের করতে হবে
২৭ নভেম্বর শুক্রবার হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি ক্রিকেটারস ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ দিনাজপুর জেলা শাখার আয়োজনে দিনাজপুর গোর এ শহীদ বড় ময়দানে মামুন-পলাশ স্মৃতি ক্রিকেট টি-২০ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন
ক্রিকেটারস ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ দিনাজপুর জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ধীমান ঘোষের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শচিন চাকমা, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার, দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক নাসিরুল হক রুস্তম, দিনাজপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক সুব্রুত মজুমদার ডলার, শহর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রায়হান কবীর সোহাগ, সাধারন সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজু প্রমুখ
উপস্থাপনায় ছিলেন ধারাভাষ্যকার মোঃ রফিক
বাঙালি পুরুষ, বিশেষ করে বাঙালি মুসলিম পুরুষ হচ্ছে পৃথিবীর নবম আশ্চর্য, যাদের অধিকাংশের চরিত্র ধর্ষকামী, তাদের ধর্ম আছে, নৈতিকতা নেই, তাদের স্ত্রী থাকে, প্রেমিকা থাকে কিন্তু সহযাত্রী বা জীবনসঙ্গী থাকে না, তারা নেতার মতো হুঙ্কার ছাড়তে ভালোবাসে, অথচ তারা প্রকৃতবিচারে চামচার মতো তোষামোদী
তারা মনে করে একটি মেয়েকে বিয়ে করা মানে তাকে সম্পদে পরিণত করা, একটি সম্পর্ককে সম্পদে পরিণত যায়, একটি মানুষকে নয়, বাঙালি মুসলিম পুরুষ এটি জানে না
নিজ স্ত্রীর অনিচ্ছায় যৌনাচরণ করলে যে তা ধর্ষণ কিংবা বিরুদ্ধ যৌনাচরণ হতে পারে এই সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই অধিকাংশ বাঙালি মুসলিম পুরুষের
ধর্ষণের মতো প্রাগৈতিহাসিক ও মধ্যযুগীয় বর্বর পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নষ্টামিকে বাঙালি মুসলিম পুরুষ কোরানের আয়াত কপচিয়ে বৈধ করতে চায়- তাদের মতে ধর্ষণের জন্য মেয়েটি দায়ী, তার অবাধ পোষাক, চোখের চাহনি বাঙালি মুসলিম পুরুষকে কামান্বিত করে তোলে, অথচ সেই পুরুষের মাথায় এই চিন্তা খেলে না যে বাতাসে পাতা নড়ার জন্য বাতাসই দায়ী, পাতা নয়, পুরুষ তার যৌনচিন্তা অদমিত লিঙ্গকে সামাল দিতে পারে না বলেই এইসব নষ্টাচার
এইসবের মূলে মূলত আছে ধর্মীয় অপশাসন আর সুনিষ্ট যৌনশিক্ষার অভাব
বাঙালি মুসলিম পুরুষের যৌনশিক্ষা বলতে মূলত চটি পড়ে হাত মারা, বন্ধুবান্ধব সমবয়েসী কিংবা মুরুব্বীদের কথাবার্তায় কান পেতে শোনা অযাচিত কিছু অপতথ্য, তারা জানে না যৌনতা শিল্প, তারা জানে না যৌনতা প্রবৃত্তির চাবি, তাদের মতে যৌনতা কেবল কামনা
বিজ্ঞানের বইয়ের পাতায় যৌন-বিষয়ক অধ্যায়কে এইচআইভি ভাইরাসের মতো এড়িয়ে চলতে পারলে বাঁচে বাঙালি মুসলিম পুরুষ, তারা বই পাঠ করে না, মাত্র পড়ে পাশ করার জন্য, তারা কবিতা গল্প পড়ার চেয়ে কাসেম বিন আবুবকরের যৌনসুড়সুড়ি দেয়া অপন্যাস পড়তে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে কিন্তু যৌনবিষয়ক কোনো ভালো বই কিংবা জার্নালের আর্টিকেল পড়বে না
কুসংস্কার আছে যে পুরুষ মানুষরা গড়ে প্রতি ৭ সেকেন্ডে একবার যৌনতা নিয়ে চিন্তা করে, দেখা যাবে যে বাঙালি মুসলিম পুরুষের জন্য এটি প্রতি ৩ সেকেন্ডে একবার
রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে চাওয়ার মতো বাঙালি মুসলিম হুরপরীর জন্য ধর্মকে বেছে নেয়, ধর্মের নৈতিকতার জন্য নয়, তাদের কাছে সবকিছু মূলত যৌনলালসার জন্য, ফ্রয়েডীয় অপমনোবিজ্ঞান বাঙালি মুসলিম পুরুষের জন্য অনেক মানানসই
বাঙালি মুসলিম পুরুষের ধর্ষকামী মনোভাবের আলামত পাওয়া যায় পুলিশ রিপোর্ট, ধর্ষণ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও পরিসংখ্যানে
যেমন, জানুয়ারি ২০১১ থেকে ডিসেম্বর ২০১২ সাল নাগাদ চলমান এক তথ্যজরিপে দেখা গেছে যে বাঙলাদেশের গ্রামাঞ্চলে (অশহুরে এলাকা) পতি-নয় এমন লোক দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন প্রতি ১০০ জনে ৫.৪ জন নারী (, , , & -, 2013)
শুধুমাত্র ২০০৭ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে রিপোর্ট করা ধর্ষণের শিকারদের কাছ থেকে জানা যায় যে আক্রান্তদের ৭০% ভাগ হচ্ছে ২০ কিংবা তার-ও কম বয়েসী নারী বা মেয়ে, যাদের দুই-তৃতীয়াংশ (৬৪.৬%) আক্রান্ত হয়েছেন পরিচিত লোক দ্বারা, নিজের বাড়িতে বা বাড়ির আশপাশের এলাকায় (৬৪.২%) (, , , , 2015)
যেহেতু বাঙলাদেশ, এমনকি ভারতীয় উপমহাদেশ কিংবা এশিয়াতে ধর্ষণ-পরবর্তীতে আক্রান্তদের যে পরিমাণ নাজেহাল করা হয় ধর্ষণ হয়েছে কিনা তা যাচাই করার নামে এবং সামাজিকভাবে আক্রান্তের চরিত্র ও নৈতিক মূল্যবোধের উপর যে কালিলেপন করা হয় তাতে অনেক আক্রান্তই ধর্ষণকে রিপোর্ট করেন না, কিংবা করতে দেয়া হয় না
পূর্বোল্লিখত গবেষণাপত্রটি মতে, শুধুমাত্র ১৪.২% আক্রান্ত ব্যক্তিরা ধর্ষণ-সংক্রান্ত মেডিকেল পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য রিপোর্ট করেছেন ২৪ ঘণ্টার মাঝে, এবং প্রতি চারটি ধর্ষণের একটি হচ্ছে গণধর্ষণ!
গণধর্ষণ যে কতোটা বর্বর আর অমানবিক সেটি ছাড়া-ও এটি আরো কিছু বিষয় নির্দেশ করে- ১. পুরুষদের মাঝে ধর্ষণ একটি সাধারণ সম্মতিগতভাবে পরিকল্পিত ব্যাপার যে তারা এটি সহযোগীদের সাথে মিলেমিশে ধর্ষণ করতে বিন্দুমাত্র লজ্জা বা অপরাধবোধ অনুভব করে না এবং সমাজে এর প্রতি যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না, ২. নারীদেরকে জোরপূর্বক পাওয়া যায়- এই ধারণাকে পাকাপোক্ত করা হচ্ছে, ৩. নারীরা তাদের কাছে ভোগের সামগ্রী ও বাচ্চা-বানানোর মেশিন, মানুষ নয়, ৪. গণধর্ষণের ক্ষেত্রে অপরাধ শুধুমাত্র ধর্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকে না, শারীরিক অত্যাচার (যেমন, স্তন কেটে ফেলা কিংবা যোনিতে বিভিন্ন জিনিস প্রবেশ করানো) এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে হত্যা করা হয় আক্রান্ত নারীকে
বাঙালি মুসলিম পুরুষগণ যুক্তিবিদ্যা কিংবা জ্ঞানবিজ্ঞানে বিজ্ঞ না হলে-ও বউ পেটাতে ওস্তাদ
শহুরে বাঙালি মুসলিম বাবুরা-ও পিছিয়ে নেই, জাতিসংঘের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের পরিচালিত সমীক্ষা মতে শহরাঞ্চলের ১০ শতাংশ পুরুষ তাদের জীবনের কোনো না কোনো সময়ে একজনকে ধর্ষণ করেছে ( ., 2013)
সম্পর্কে আছেন এমন পুরুষরাই বেশি ধর্ষণ করেন, মনে হয় যেনো তারা ধর্ষণের সংজ্ঞাই জানেন না, জানেন না যে যৌনতায় সম্মতি না পেলে তা যে কারো সাথেই হোক না কেনো তা ধর্ষকামী আচরণ
এবং এইসব পুরুষরা ধর্ষণ করা শুরু করেন অতি অল্প বয়েসেই, তাদের কৈশোর বয়েসেই ( ., 2013)
তারা মনে করে তারা সম্মতি পাক অথবা না পাক যেকোনো নারীর সাথে যৌনতায় লিপ্ত হতে কোনো বাঁধা নেই
দ্বিতীয় অন্যতম কারণ হচ্ছে আনন্দলাভ করা বা বিনোদনের জন্য ধর্ষণ করা! অনেক সময় রাগের বশবতী হয়ে অথবা শান্তি দেয়ার জন্য অনেকে ধর্ষণ করেন, জরিপ মতে
দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে যে অধিকাংশ ধর্ষকই কোনো আইনী ব্যবস্থার সম্মুখীন হন নি বা শাস্তি পান নি, এতে শুধু ধর্ষক পার পেয়ে যাচ্ছেন তা নয় বরং ধর্ষণকে উৎসাহিত করা হয়
সাম্পর্কিক ধর্ষণের ( ) বা বৈবাহিক ধর্ষণের ( ) ক্ষেত্রে তো বিচার তো দূরের কথা একে অপরাধ হিসেববেই গণ্য করা হয় না
কিছু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বা অবস্থায় ধর্ষণ বেশি হয় - যেমন, যৌনলেনদেনের ক্ষেত্রে ( ), অনেক যৌনসঙ্গী থাকলে, যে ব্যক্তি এমনিতেই নারীদের প্রতি শারীরিক অত্যাচার করেন, পুরুষদের বাড়ির বাইরে আগ্রাসনের শিকার বা শিকারী হওয়া ইত্যাদি ( ., 2013)
সরকারী জরিপ অনুসারে পাওয়া তথ্য-ও ভয়াবহ
২০১১ সালে প্রতি দশজন নারীর নয়জন তাদের স্বামী বা সঙ্গী দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন (৮৭%), বাঙলাদেশ পরিসংখ্যান সংস্থার ( ) দেয়া তথ্য মতে, যাদের মধ্যে ৭৭% শতাংশ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন গেলো ১২ মাসের মাঝেই
শুধু তাই নয়, এক-তৃতীয়াংশ নারী স্বামী বা সঙ্গীর আরো ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হবেন এই ভয়ে পুলিশকে রিপোর্ট করেন নি কিংবা ডাক্তারের কাছে যান নি চিকিৎসার জন্য, নীরবে সহে গেছেন
যদিও এই নির্যাতনের সবটি ধর্ষণ নয় তবুও এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে নারীদের প্রতি বাঙালি মুসলিম পুরুষদের মনোভাব কী
আমি শুধু বাঙালি মুসলিম পুরুষের কথা বলছি যেহেতু বাঙলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং সর্বোচ্চ আদালত কিছুদিন আগে বাঙলাদেশ রাষ্ট্রকে মুসলমানী করিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে বজায় রেখে
বাঙলাদেশ পুলিশ বাহিনির পরিসংখ্যান অনুসারে নারী ও শিশুদের প্রতি রিপোর্ট করা নির্যাতন ও নানাবিধ অবমাননার সংখ্যা ২০০২-২০১৫ সাল নাগাদ প্রায় ২৪৩৩৭৩, এটি বলার অপেক্ষা রাখে না নীরবে সহ্য করা অথবা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন না নানা রকম কারণে এমন নারী ও শিশু নির্যাতন মেলালে এই সংখ্যা দ্বিগুণ তিনগুণ হলে-ও আশ্চর্যের কিছু নেই
ধর্ষণ প্রমাণের জন্য বাঙলাদেশ এখনো দুই-আঙুলের পরীক্ষা করে ("- ") ধর্ষণ-সংক্রান্ত তদন্তে
ডাক্তার কিংবা তাদের সাগরেদরা (যাদের সঠিক যোগ্যতা আছে কি না তা সন্দেহজনক) আক্রান্ত নারীর যোনিতে দুই আঙুল প্রবেশ করিয়ে সাবজেক্টিভভাবে ধারণা করে নেন যে সেটিতে লিঙ্গ প্রবেশ করা হয়েছিলো কি না
যোনি সম্পর্কে যাদের অল্প কিছু ধারণা আছে তারা জানেন যে এটি অনেক নমনীয় অঙ্গ, আপনি দুই আঙুল কি তিন আঙুল ঢুকালে-ও ঢুকবে, তার কারণেই বিভিন্ন আকারের লিঙ্গ ধারণ করতে পারে এক যোনি, কিংবা সন্তান জন্মের পর এটি পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে
দুই-আঙুলের পরীক্ষা দ্বারা ধর্ষণ হয়েছে কি না তা জানতে চাওয়া অনেকটা রাবারের ব্যান্ডকে টেনে আবার ছেড়ে দেয়ার পরা সেটি পূর্বাবস্থায় ফিরে গেলে তা দেখে নির্ণয় করা যে সেই ব্যান্ডটি অন্য কেউ স্পর্শ করেছিলো কি না নির্ণয়ের মতো হাস্যকর ব্যাপার
আর "সতীচ্ছেদ" তো যেকোনোভাবেই ছিঁড়ে যেতে পারে কোনো প্রকার সঙ্গমেরই আগেই (যেমন, সাইকেল চালানো)
অথচ ধর্ষণ হয়েছে কি না সেটি নির্ণয়ের জন্য বীর্য, রক্ত, যোনি নিঃসরণ, লালা, যোনির এপিথেলিয়াল কোষ সংগ্রহ করে ধর্ষককে সনাক্ত করা যায় সহজেই, ডিএনএ প্রোফালিং করা যায় অনেক কম খরচে এবং অন্যান্য ব্যবস্থার চেয়ে যা কিনা অনেক নির্ভরযোগ্য
ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাঙলাদেশকে ধর্ষণ-সংক্রান্ত ১৮৭২ সাল থেকে চলে আসা আইনের হালনাগাদ করতে হবে
শুধুমাত্র যোনিতে লিঙ্গ প্রবেশ করালেই ধর্ষণ হবে এমন ধারণা বাতিল করতে হবে, অনেক উন্নত দেশেই পায়ুসঙ্গম, মুখসঙ্গম ইত্যাদিকে ধর্ষণের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
নিচে আমি ধর্ষণ সংক্রান্ত মনোবৈজ্ঞানিক (এবং কিছু আইনগত) বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো
যেহেতু আমার পড়াশোনা কানাডায়, তথ্য ও তথ্যসূত্র কানাডা-কেন্দ্রিক, তবে মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পার্থক্য না-ও থাকতে পারে বাঙলাদেশের প্রেক্ষাপটে
কানাডার (এবং আমেরিকা) আইনানুসারে ধর্ষণ মূলত দুই প্রকার: বলপূর্বক ধর্ষণ ( ) এবং সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণ ( )
বলপূর্বক ধর্ষণ হচ্ছে কোনো ব্যক্তির অনিচ্ছায় তার সাথে বলপূর্বক অথবা কৌশলে যৌনসঙ্গম বা যৌনাচারে লিপ্ত হওয়া; অন্যদিকে, সংবিধিবদ্ধ ধর্ষণ হচ্ছে সম্মতি দেয়ার বয়েসের নিচে বা নাবালক কারো সাথে (যেমন- ১৩ বছরে মেয়ের সাথে) যৌনসঙ্গম বা যৌনাচারে লিপ্ত হওয়া, এইক্ষেত্রে নাবালক (নাবালিকা) "সম্মতি" দিলে-ও সেটি ধর্ষণ কারণ সে সম্মতি দেয়ার বয়েসী নয়, আইনগতভাবে সে এখনো কারো শিশু বা তার অভিভাবক আছে
বলপূর্বক ধর্ষণের ক্ষেত্রে একটি জিনিস মনে রাখা ভালো যে এটি অন্যান্য প্রাণীদের মাঝে-ও দেখা যায়, যেমন গরিলা, বানর-জাতীয় প্রাণী, যারা বিবর্তনের ক্ষেত্রে মানুষের নিকট্য
অনেকে তাই মনে করেন যে বিবর্তনের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে বংশবৃদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে এটি একটি অভিযোজিত ক্রিয়া যেহেতু "পুরুষ" বিভিন্ন নারীর সাথে সঙ্গমের মাধ্যমে নিজের জিন ছড়িয়ে দিতে পারেন বা অনেক সন্তান জন্মদান করতে পারেন ( ., 2005)
কিন্তু মনে রাখা দরকার যে মানুষের বিবেক ও সভ্যতা আছে, তাই অনেক আচরণ এককালে বিশেষ করে হাজার লক্ষ বছর আগে বিবর্তনে কাজে লাগলে-ও এখন নিস্ফল, এবং সেই আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার
ইতিহাস মতে, যুদ্ধকালীন এবং যুদ্ধপরবর্তী সময়ে যেকোনো সমাজে ধর্ষণের হার বেড়ে যায়, হয়তো পুরুষরা মনে করে যুদ্ধাবস্থার কারণে অথবা ভাঙা সামাজিক-কাঠামোর জন্য তারা পার পেয়ে যাবে, অথবা এটি শত্রুর প্রতি হিংস্রতা প্রকাশের আরেকটি পন্থা ( ., 2005)
যদি-ও ধর্ষণের নানা কারণ থাকতে পারে তবে মূলত দেখা যায় যে হয় এটি পূর্বপরিকল্পিত অথবা আবেগতাড়িতভাবে (সেই আবেগ রাগ, হিংসা, হিংস্রতা অনেক কিছু হতে পারে) 'মূহুর্তের তাপে'র ফল
কানাডায় প্রায় ধর্ষণের ৭০% ঘটে মাদক-প্রভাবিত বা নেশাগ্রস্ত অবস্থায়, যেমন হয় ধর্ষক মাদক বা ড্রাগের প্রভাবে কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে, অথবা যেকেউ নেশাগ্রস্ত হলে তার দুরাবস্থার সুযোগ নিয়ে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা ( & , 1990)
অনেক ধর্ষণ ঘটে ধর্ষিতাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা থেকে (যেমন, বৈবাহিক ধর্ষণ বা সাম্পর্কিক ধর্ষণের ক্ষেত্রে)
অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষক বিকৃত যৌনাচারের জন্য ধর্ষণ করে, যেমন যোনিতে অদ্ভুত সব বস্তু ঢুকিয়ে বৈকল্যিক আনন্দ লাভ করা
অর্থাৎ, ধর্ষণ কেবল যৌনানন্দ লাভের জন্য হয় না, হিংস্রতা, আগ্রাসন, ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য-ও হতে পারে
অনেক পুরুষ-ও ধর্ষণের শিকার হন, যেমন যৌনানন্দ লাভ বা বিকৃত যৌনাচারের কারণে বয়েসী কোনো নারী দ্বারা নাবালক বা বয়েসে ছোট কারো ধর্ষিত হওয়া, কিংবা জেল, মক্তব্য বা অন্যত্র অন্য পুরুষ দ্বারা ধর্ষিত হওয়া
তবে যেহেতু অধিকাংশ ধর্ষণই পুরুষরাই করে তাই নিচের আলোচনায় সেই সম্পর্কে বেশি আলোকপাত করা হবে
অনেক ধর্ষণ হয় অভিসারীয় ধর্ষণ ( ), যার প্রাদুর্ভাব কানাডায় ও বাঙলাদেশের শহরাঞ্চলে বেশি, যেমন- অভিসারে গেলে প্রেমিক দ্বারা প্রেমিকার ধর্ষিত হওয়া
এই ধরণের ধর্ষণ পুরোপুরি অচেনা লোক দ্বারা ধর্ষণের চেয়ে তিনগুণ বেশি ( & , 1990)
সাধারণত, অধিকাংশ ধর্ষণের ক্ষেত্রে ধর্ষক আক্রান্ত ব্যক্তির পূর্বপরিচিত (, , & , 1998)
ক্ষমতা আছে এমন লোকজন তাদের ক্ষমতা বা প্রভাব অপব্যবহার করে ধর্ষণ করেন, যেমন বিশ্ববিদ্যালয় ইস্কুল কলেজের শিক্ষক দ্বারা শিক্ষার্থী ধর্ষিত হওয়া, কিংবা কাজে উর্ধ্বতন কর্মকতা দ্বারা কর্মচারী ধর্ষিত হওয়া; এইসব ধর্ষণের ঘটনা সাধারণত চেপে যাওয়া হয়, যেহেতু ধর্ষিত ব্যক্তি নিজেকে অসহায় মনে করেন কর্তৃপক্ষ বা কর্মকতার বিপক্ষে, কিন্তু এইসব ধর্ষণের প্রচার পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সহজ হয়, যেহেতু কেবল ব্যক্তি নয় বরং প্রতিষ্ঠান-ও (বা প্রতিষ্ঠানের ভাবমর্যাদা) জড়িত, তাই এইসব ধর্ষণের কথা প্রকাশ করা জরুরী- ফলে জনসাধারণ সচেতন হবে এবং আক্রান্ত ব্যক্তি ন্যায়বিচার পেতে পারেন
ইদানীংকালে, অভিসারীয় ধর্ষণের ক্ষেত্রে ট্রাঙ্কুইলাইজার বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে
এই ঔষধটি গন্ধহীন, স্বাদহীন এবং সহজেই যেকোনো পানীয়-এর সাথে মিশিয়ে দেয়া যায়
এটি গ্রহণের ফলে ব্যক্তি সাধারণ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন এবং কী থেকে কী ঘটেছে সেই সম্পর্কে তেমন স্মৃতি মনে করতে পারেন না পরবর্তীতে, অর্থাৎ সাময়িক স্মৃতিলোপ হয়
জরিপ-গবেষণায় দেখা গেছে যে অনেক ধর্ষক, যারা অভিসারে গিয়ে ধর্ষণ করেন তারা অনেকেই এই ঔষধটি ব্যবহার করে অনেক নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন
১৯৯০ সালের পর থেকে অ্যালকোহল পান করেন যারা তাদের মাঝে এই ঔষধটি ব্যবহারের হার ক্রমেই বাড়ছে অভিসারীয় ধর্ষণের ক্ষেত্রে
যেমন, এবং অন্যান্যরা (2009) অন্টারিওতে (কানাডার একটি প্রদেশ) ড্রাগ-সম্পর্কিত ১৮৪টি ধর্ষণের ঘটনা তদন্ত করে দেখেছেন যে ৬২.৫% (বা ১১৫ জন) নারীই অভিসার ও ধর্ষণ সম্পর্কিত ঘটনার পুরোপুরি স্মৃতি হারানোর কথা বলেছেন
গবেষকদের মতে এইসব ঔষধ যেনো খোলাবাজারে বা ফার্মাসিতে সহজেই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে এবং নারীদেরকে এই ব্যাপারে সচেতন করতে হবে, এবং তারা যেনো অভিসারে গেলে সচেতন থাকে (বিশেষ করে প্রথম দিকের অভিসারসমূহে)
অনেকে বিশ্বাস করে থাকেন যে ধর্ষকরা রূপসী সুন্দরী নারীদেরকে ধর্ষণ করে থাকেন, কিন্তু এই ধারণা ভুল ও প্রচলিত ভ্রান্তি
যদিও অনেক সুন্দরী নারী ধর্ষণের শিকার হন তার মানে এই নয় যে অন্যরা নিরাপদ, কারণ, মানসিক বৈকল্যে ভোগা বা লম্পট ধর্ষক বয়েস ও শারীরিক সৌন্দর্যের তোয়াক্কা না করে এক বছরের শিশু কিংবা আশি বছরের বৃদ্ধাকে-ও ধর্ষণ করে থাকে
ধর্ষণ শুধু শারীরিকভাবেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে ক্ষতি করে না, দীর্ঘ স্থায়ী মানসিক অশান্তি কষ্টের কারণ-ও হয়
শিশুরা ধর্ষণের শিকার হলে সেটি তাদের পরবর্তী জীবনের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে
যে শিশু বা অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয় সে পুরো ব্যাপারটি নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে, যেহেতু সে যৌনতা বিষয়ে অজ্ঞ, বিশেষ করে ঘটনা দামাচাপা দেয়ার জন্য শিশুদেরকে ঘটনাটি "ভুলে" যেতে বলা হয়, অথচ উচিত ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা, যেহেতু পরবর্তীতে এই ঘটনা আর ঘটার সুযোগ না হয় অথবা তার মনে মানসিক অশান্তি সৃষ্টি না করে অথবা যৌনতা সম্পর্কে যেনো তার মনে ভীতি বা অনিহার সৃষ্টি না হয়
কিশোরী মেয়েদের ক্ষেত্রে ধর্ষণ তাদের স্বাভাবিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে
অনেক অভিভাবক লজ্জা বা গোপনীয়তার জন্য অন্যত্র চলে যেতে চান কিংবা মেয়েটিকে "ঘরবন্দী" করে ফেলেন, যা তাকে স্বাভাবিক যোগাযোগ ও বিকাশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে
সাধারণত, ধর্ষণের সময় অনেক নারীই তার জীবনের আশংকা করেন, এবং শক্তি সামর্থ্য দিয়ে ধর্ষককে থামাতে পারছেন না এই চিন্তা তাকে অসহায় করে তোলে
ফলে ধর্ষণের সপ্তাহ মাস পরে-ও অনেকে গভীরভাবে অপমানিত বোধ করেন, তারা অনুশোচনায় ভোগেন কেনো তারা অই ধর্ষককে "থামাতে" পারে নি সেই অক্ষমতার জন্য, এবং ক্ষেত্রবিশেষে নিজেকে দায়ী করেন, অনেক সময় প্রতিশোধ নেয়ার চিন্তা-ও করেন
অনেকে দুঃস্বপ্ন দেখেন প্রায়ই, কাজে-কর্মে স্বাভাবিকভাবে মনোযোগ দিতে পারেন না, এবং অনেকে বিষণ্নতা () ও পিটিএসডিতেও (: - ; দুর্ঘটনা-পরবর্তীকালীন মানসিক পীড়ন) ভুগেন
নারীদের ক্ষেত্রে ধর্ষণ হচ্ছে পিটিএসডিতে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম একটি কারণ (, 2004)
তাই আক্রান্ত ব্যক্তির নিকটজনের উচিত ব্যক্তিকে মানসিকভাবে সাহায্য করা ও মনোবল বজায় রাখতে সহযোগিতা করা
অনেকে নিজের উপর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন, এবং এমনকি আত্মহত্যার পথ বেছে নেন, তাই আক্রান্ত ব্যক্তির উপর নজর রাখা উচিত যেনো এইরকম কিছু না করে বসে
যদি ধর্ষণ বাহিরে হয়ে থাকে তবে অনেকের মাঝে সেই স্থান বা সেই স্থানের মতো জায়গার উপর ভীতি জন্মে
অনেকে বর্ণনা করেন যে তাদের প্রায় মনে হয় যে কেউ একজন তাদের পিছনে ওতপেতে আছে বা ভিড়ের মাঝেও তাদের একা বা ভয় লাগে
অনেকক্ষেত্রে পুলিশ, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন এদের কাছে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তাদেরকে ঘটনা বারবার বর্ণনা করতে হয়, ফলে তারা সেই দুঃসহ স্মৃতিকে "তাজা" করে তোলেন, যেটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
, , এবং (1988) দেখেন যে ধর্ষণ নারীদের স্বাভাবিক কার্যাবলি বা বিকাশকে পাঁচভাবে বাধাগ্রস্থ করে