content
stringlengths
0
129k
প্রথমত, অনেকে শারীরিক ইনজুরিতে ভুগেন, বিকলাঙ্গতার-ও শিকার হন, কিংবা দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগ ও অতিরিক্ত-অস্থিরতায় ভুগেন
একটি গবেষণা মতে যেসব নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তারা অন্যান্যদের তুলনায় রূগ্ন অথবা দুর্বল স্বাস্থ্যের কথা বেশি রিপোর্ট করেছেন (, , & , 1997)
দ্বিতীয়ত, অনেকে মানসিকভাবে ভুগেন, যেমন, বিষণ্ন মনোভাব, কাজেকর্মে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, উদ্বেগ, অথবা নিজের উপর আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলা
দেখা গেছে যে সেসব নারী তাদের জীবনে কোনো পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্বেগগত মানসিক ব্যাধির সাহায্যের জন্য যান তারা আগেরকার ধর্ষণ অথবা শারীরিক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন ( ., 1993)
তৃতীয়ত, অনেক নারী বুদ্ধিবৃত্তিক অথবা কগনিটিভ বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন, যেমন কোনো কিছুতে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, ঋণাত্মক চিন্তাভাবনা করা সবসময়, অন্যরা তার সম্পর্কে "খারাপ কিছু ভাবছে" অথবা প্রিয়জনেরা তাকে নিয়ে সবসময় উদ্বিগ্ন এই চিন্তায় অস্থির থাকা ইত্যাদি (, , , & , 1996)
চতুর্থত, কিছু কিছু নারীর ক্ষেত্রে ধর্ষণ "হিতে বিপরীত" ধরণের আচরণকে জাগিয়ে তোলে, যেমন, অনেকে হিংস্র হয়ে ওঠেন, অসামাজিক আচরণ করেন কিংবা মাদক বা ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়েন
এবং পঞ্চমত, অনেক নারী নতুন ও পুরাতন সম্পর্ক গড়ে তোলা কিংবা টিকিয়ে রাখতে অনিহা বোধ করেন, এবং যৌন সমস্যায় ভুগেন
এছাড়া ধর্ষণের ফলে অনেকে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ করেন, কিংবা যৌনাচরণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এমন রোগ যেমন এইডস, ভাইরাস ও ব্যক্টেরিয়ার সংক্রামণ ইত্যাদিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েন, তাই উচিত ধর্ষণ পরে মেডিকেল চেক-আপ করা
অনেক নারীর ক্ষেত্রে যৌনতার প্রতি বিরূপ ধারণা গড়ে ওঠে, এবং তারা তাদের স্বামী কিংবা সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক-সংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে সমস্যায় পড়েন বা ভুগেন, এবং অনেকে পরবর্তীতে যৌন-অক্ষমতায় ( ) ভুগেন
সঠিক সাহায্য সহযোগিতা অথবা মানসিক চিকিৎসার অভাবে উদ্বেগ, বিষণ্নতা, পিটিএসডি ইত্যাদি মানসিক ব্যাধিতে ভুগতে থাকেন অনেক নারী বছরের পর বছর ধরে (, 1993)
অনেকে আবার (বিশেষ করে কানাডায়) মাদকাসক্ত বা ড্রাগ-আসক্ত হয়ে পড়েন, মাদককে মানসিক ব্যাধির জন্য স্ব-চিকিৎসার (-) উপায় হিসেবে বেছে নিয়ে
ধর্ষণ পরবর্তী মানসিক অবস্থা কেমন হবে সেটি নির্ণয় করা জটিল, অনেকগুলো ব্যাপারের উপর নির্ভর করে এটি
আক্রান্ত ব্যক্তির ধর্ষণ-পূর্ববর্তী জীবন কেমন ছিলো, সামাজিক ও আবেগ-গত ব্যাপারে সে আশপাশের নির্ভর করার মতো লোকদের কাছ থেকে কেমন সাহায্য বা ভরসা পাচ্ছে, কী ধরণের প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ইত্যাদি ব্যাপার অনেক প্রভাব ফেলে
সাধারণত, সবার সহযোগিতা পেলে, আক্তান্ত ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত না করলে এবং সঠিক শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসা বা হস্তক্ষেপ পেলে অনেকে ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেন
ধর্ষকের বৈশিষ্ট্য: ধর্ষক আসলে কে বা কারা? ধর্ষক কি হিংস্র কোনো বদমাশ কিংবা মাতাল? না কি পাড়ার মোড়ে অথবা চায়ের দোকানে শিস দেয়া মাস্তান ছেলেটা? পাতি নেতার ছেলে? না কি শান্তশিষ্ট কিন্তু লেজবিশিষ্ট কোনো ছেলে? কানাডায় গবেষণা করে দেখা গেছে যে ধর্ষকদের মাঝে আসলেই উনিশ-বিশ আছে
মূলত দুই ধরণের ধর্ষক হয়ে থাকে- মনোবিকারগ্রস্ত () ও অমনোবিকারগ্রস্ত (-) ( & , 1997)
যদিও প্রায় সব ধরণের ধর্ষকদের মাঝে কিছু কিছু বৈশিষ্ট্য প্রায় লক্ষ্য করা যায়- নারীদের প্রতি উগ্র আচরণ বা মনোভাব, নারীদের দ্বারা প্রতারিত বা প্রভাবিত হয়েছে এমন ভুল ধারণা নিয়ে চলা, অথবা মনে করা যে জীবনের কোনো না কোনো সংকটময় ঘটনার জন্য একজন নারী দায়ী, বাবা-মায়ের শারীরিক ও বাক ঝগড়ার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে বড় হওয়া, এবং ছোটবেলায় শারীরিক অথবা যৌনভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়া ( ., 1993)
ধর্ষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা রিপোর্ট মতে তারা ধর্ষণ করতে তৎপর হয় একাকিত্ব, রাগ, অপারদর্শীতা, অপমান, মানহানি এবং প্রত্যাখ্যান ইত্যাদি অনুভূতির তীব্রতা থেকে (, , & , 1994)
কিছু কিছু ধর্ষকদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে তারা নারীদের বন্ধুত্বতা বা সৌজন্যতাকে অন্য কিছুর আমন্ত্রণ হিসেবে ভুল পাঠ করেন, তারা মনে করেন যে সেই নারী অন্য কিছু চায়, অথচ বাস্তবে সেই নারী হয়তো কেবল সামাজিকতার জন্য কথা বলছে বা হাসছে
তবে অনেক ধর্ষকের প্রায় বিভিন্ন সামাজিক অবস্থা বা ঘটনায় কীরকম আচরণ করতে হবে সেই ধারণা থাকে না, আন্তর্সাম্পর্কিক কলাকৌশল জানা থাকে না, আত্মমর্যাদাহীন ও আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে থাকে, এবং তারা অন্যদের প্রতি, বিশেষ করে ধর্ষিতার প্রতি সহমর্মিতা () অনুভব করে না ( & , 2001)
অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় যে অন্যদের প্রতি সহমর্মিতা অনুভব করলে-ও তারা শুধুমাত্র আক্রান্ত নারীর প্রতি সহমর্মিতা অনুভব করে না
গবেষকদের মতে সব ধর্ষকই কম-বেশি নারীদের প্রতি হিংস্র মনোভাব ও যৌনাকাঙ্ক্ষার কারণে ধর্ষণ করে
এবং (2005) এর মতে চার ধরণের ধর্ষক আছে যারা হিংস্রতা ও যৌনাকাঙ্ক্ষার মাত্রা অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন
একদল পুরোপুরি হিংস্রতা ও ক্রোধের কারণে ধর্ষণ করে থাকে, যাদের কাছে যৌনাকাঙ্ক্ষা বড় বিষয় নয়; দ্বিতীয় একদল আছে যারা শক্তি ও ক্ষমতা প্রয়োগ এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য নারীদের ধর্ষণ করে থাকে, যদিও তারা নিজেরা অক্ষম হতে পারে (যৌনভাবে বা কাজের ক্ষেত্রে); তৃতীয় দল অনেকটা দ্বিতীয় দলের মতোই, তবে তারা তাদের শিকারের প্রতি নমনীয়, কৈফিয়তমূলক, প্রশংসাসূচক আচরণ করে; এবং চতুর্থ দল হচ্ছে যৌনতাড়নার কারণে ধর্ষণ করা দল (সে যৌনাকাঙ্ক্ষা অনেক সময় বিকৃত প্রকারের হয়)
তবে অন্যান্য গবেষকদের মতে এই বিভক্তকরণ পুরোপুরি সঠিক নয়, কিছু কিছু ধর্ষককে উল্লেখিত কোনো দলেই ফেলা যায় না, অবস্থা, সময় ও পারিপার্শ্বিক অনুসারে তাদের ধর্ষণের কারণ ভিন্ন হতে পারে ( & , 2006)
অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই ধর্ষক একাধিক ধর্ষণ করে থাকে, অর্থ্যাৎ যে ধর্ষক একবার ধর্ষণ করেছে সে আবার করতে চাইবে বা করার সম্ভাবনা বেশি, এবং অধিকাংশ ধর্ষণই পূর্বপরিকল্পিত
আশি শতাংশ ধর্ষণ হয়ে থাকে আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ির আশপাশেই অথবা বাড়িতেই; অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটু জনবিরল অথবা জনসমাগম কম এমন জায়গায় ধর্ষণ করা হয় (যেমন- বহুতল ভবনের লিফট বা সিঁড়িতে, এ্যাপার্ট্মেন্ট বা বাড়ির নিরিবিলি অংশে ইত্যাদি)
সামাজিক প্রেক্ষাপটে, যে সমাজ পারষ্পরিক ঝগড়া ক্যাচাল ইত্যাদির সমাধান হিসেবে হিংস্রতা ও আক্রমণে সায় দেয় সেই সমাজে ধর্ষণের হার বেশি
একটি চমকপ্রদ গবেষণাতে দেখা গেছে যে যদিও অনেক শিক্ষার্থী মত প্রকাশের সময় বলে যে তারা ধর্ষণকে সমর্থন করে না কিন্তু যখন তাদেরকে ধর্ষণের ভিডিও দেখানো হলো এবং সেই ভিডিও এডিটিং করে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হলো যে ধর্ষণের সময় আক্রান্ত নারীটির রাগমোচন বা অর্গাজম হচ্ছে তখন সেই শিক্ষার্থীরা যৌনভাবে উত্তেজিত হয়ে ওঠে ( & , 1983)
এই গবেষণা নির্দেশ করে যে যেসব পর্নগ্রাফি বা নীলছবি বা অশ্লীল ছবিতে দেখানো হয় যে নারীরা নিগৃহীত যৌন-সম্পর্ককে উপভোগ করেন সেইসব নীলছবি হয়তো কোনো না কোনোভাবে ধর্ষকামী মনোভাবকে উৎসাহিত করে
ধর্ষিতা ও ধর্ষকের জন্য মনোচিকিৎসা: ধর্ষণ সংক্রান্ত ব্যাপার অনেকক্ষেত্রে মনোচিকিৎসকদের জন্য শাপে বর, যেহেতু ধর্ষিতা ও ধর্ষক যেকোনো জনই চিকিৎসার জন্য আসতে পারেন, এবং একই ঘটনা বিশ্লেষণ করে দুই রোগীর জন্য দুই ধরণের চিকিৎসা প্রদান করতে হয়; বিষয়টি নৈতিকতা ও পেশাদারি দিক থেকে জটিল
ধর্ষকদের জন্য যে মনোচিকিৎসা দেয়া হয় সাধারণ সেইসব চিকিৎসা বিভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে, অনেক সময় অনেক ধরণের চিকিৎসা একই ব্যক্তিকে দেয়া হয়; তবে কী ধরণের চিকিৎসা দেয়া হবে সেটি নির্ধারণ করা হয় ধর্ষক জেল থেকে বের হওয়ার পরবর্তী অপরাধপ্রবণতার হার থেকে
কগনিটিভ () চিকিৎসাকৌশলের ক্ষেত্রে সাধারণত ধর্ষকের চিন্তাধারা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়, যেমন অনেক ধর্ষক মনে করে যে নারীরা ধর্ষিত হতে চায়, এই বিভৎস চিন্তাচেতনাকে পরিবর্তন করা হয়; পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয় নারীদের প্রতি বিরূপ অবমাননাকর মনোভাবের, লোকজন বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়, রাগ নিয়ন্ত্রণের কলাকৌশল শেখানো, আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা বাড়ানো, এবং মাদক দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা বা মাদকাসক্তি থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করা হয়
সাধারণত অনেকে ক্ষেত্রে দলীয় থেরাপিতে এইসব শেখানো হয়, ফলে ব্যক্তি অন্যদের সাথে একাত্মবোধ করতে শেখে এবং অন্যদের কাছ থেকে শিখতে-ও পারে
অনেকক্ষেত্রে ধর্ষকের অস্বাভাবিক যৌনতাড়না থাকলে তা কমানোর জন্য চেষ্টা করা হয় জৈবিক বা শারীরিক চিকিৎসার মাধ্যমে (যেমন- ঔষধ দেয়া)
মেটা-বিশ্লেষণ (-; অনেকগুলো গবেষণার ফলাফলকে একত্র করে একটি চিকিৎসা বা পরিবর্তনের সার্বিক প্রভাব কী সেটি নির্ণয়ের জন্য করা গবেষণা বা বিশ্লেষণ) থেকে জানা যায় যে যেসব ধর্ষক কগনিটিভ মনোচিকিৎসা ও শারীরিক চিকিৎসা পুরোপুরি সম্পূর্ণ করেন তাদের মাঝে ধর্ষণ-পরবর্তী অপরাধপ্রবণতা কম লক্ষ্য করা যায়, অর্থাৎ, চিকিৎসায় কাজ হয় ( & , 1998)
অন্য়দিকে, ধর্ষিতার বা ধর্ষণের শিকার হতে পারেন এমন ব্যক্তির জন্য কানাডার বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ সংকট কেন্দ্র ( ) ও টেলিফোন হটলাইনের ব্যবস্থা আছে
এছাড়া অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিকের-ও এই ব্যবস্থা আছে
ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত চিকিৎসা নিতে পারেন এবং যারা সঙ্কটে আছেন তারা পরামর্শ চাইতে পারেন অথবা সাহায্য চাইতে পারেন
ধর্ষণের শিকার যারা তাদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে মনোচিকিৎসকরা সাধারণত সেই নারীর বর্তমান নাজুক সম্পর্কগুলোর দেখভালের উপর নজর দেন, যেমন ধর্ষণের পর থেকে ঘনিষ্ট কারো সাথে (যেমন- স্বামী বা সঙ্গী) সম্পর্ক খারাপ হয়েছে কি না, হলে সেইক্ষেত্রে কী করণীয়, বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের কাছ থেকে সাহায্য পাচ্ছে কি না অথবা কী ধরণের সাহায্যের প্রয়োজন সেটি নির্ণয় করা, তারা সমালোচনা না করে যথেষ্ট আবেগ-সংক্রান্ত সহযোগিতা করছে কি না ইত্যাদি নিশ্চিত করা
যেহেতু অনেকে ধর্ষণের কারণে পিটিএসডি কিংবা বিষণ্নতার ব্যাধিতে পড়ার অনেক ঝুঁকিতে থাকেন মনোচিকিৎসকদের বড় দায়িত্ব হচ্ছে তা রোধ করা
অনেক ধর্ষিতা ধর্ষণের জন্য নিজেকে দোষারোপ করেন (যেমন- কেনো আমি এই কাজটি করলাম না, কেনো আমি বাইরে গেলাম একা একা), এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে যে আক্রান্ত ব্যক্তি যেনো নিজেকে দোষারোপ না করেন, কারণ তাতে বিষণ্নতা ও অন্যান্য ব্যাধিতে পড়ার ঝুঁকি বাড়েই
চিন্তাসংক্রান্ত-আচরণগত চিকিৎসার (- ) রূপভেদ্গুলোর মধ্যে মনোবিজ্ঞানি এর অনেক কার্যকরি এবং গবেষণা দ্বারা যাচাইকৃত ( & , 2009)
এই চিকিৎসার ক্ষেত্রে আক্রান্ত নারীর যেসব চিন্তাধারা আত্মঘাতী (যেমন, ধর্ষণের জন্য ধর্ষককে নয় বরং নিজেকে দায়ী করা) সেইসব চিহ্নিত করে পুনর্গঠন করা হয়, এবং ধর্ষণের স্মৃতিসমূহ রোমন্থন করা হয় উদ্বেগ দুশ্চিতা কমাতে
অনেকক্ষেত্রে ধর্ষণের রিপোর্ট করা হলে-ও বিচার পাওয়া যায় না, কিংবা আইনিপদক্ষেপ যথেষ্ট হয় না (যেমন- সাম্প্রতিককালের তনু ধর্ষণ ও হত্যা)
প্রায় পাঁচ লাখের-ও বেশি আক্রান্ত নারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে সাধারণত তিনটি কারণে ধর্ষণ রিপোর্ট করতে দ্বিধাবোধ করেন তারা:
১. ধর্ষণ-সংক্রান্ত বিষয়াদিতে অনেকক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর ব্যাপার জড়িত থাকে
২. তারা ধর্ষক বা তার পরিবার কিংবা বন্ধুবান্ধবের কাছ থেকে আরো হুমকি বা প্রাণনাশের আশংকা করেন
৩. তারা মনে করেন যে পুলিশ অথবা বিচার বিভাগ উদাসীনতা দেখাবে, যথেষ্ট পদক্ষেপ নিবে না, কিংবা তাদেরকেই নাজেহাল করতে পারে (, 1991)
খুব অল্পসংখ্যক ধর্ষণের কথা রিপোর্ট করা হয়
যেমন, কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ ধর্ষণের কথা রিপোর্ট করা হয় এবং সেই সব রিপোর্টের দশ ভাগের এক ভাগের বিচার হয় (, , & , 2002)
ধারণা করছি বাঙলাদেশ অবস্থা আরো খারাপ
অথচ এই অবস্থার অবসান হওয়া উচিত
তা হলে ধর্ষক ও ধর্ষণকেই উৎসাহ করা হয়
ধর্ষণ রোধে কী করা যায়?: ১. যেহেতু অধিকাংশ ধর্ষণের জন্য পুরুষরাই দায়ী, তাই নারীদের প্রতি তাদের মনোভাব আচরণ চিন্তাধারা পরিবর্তন করতে হবে
এরজন্য প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষাদান ও যৌনশিক্ষা দান
'যৌনতায় প্রয়োজন সম্মতি' এই নীতি মনে রাখতে হবে ধর্ষকামী পুরুষদের
বাঙলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যৌনশিক্ষা বলতে কিছু নাই, অথচ যৌনশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনেক- সঠিক যৌনশিক্ষা পেলে যৌনরোগ প্রতিরোধ, সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ, কিশোরীদের অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ ইত্যাদি ছাড়া-ও সুষ্ঠ যৌনচর্চার ব্যাপারে অবিহিত করা যায়
যৌনশিক্ষা পেলে ছেলেমেয়ে "নষ্ট" হয়ে যাবে এই ধারণা ভুল
যৌনতাকে ইতিহাসের যে সময়ে যে সমাজ দাবিয়ে রেখেছে তারা রক্ষণশীল হয়েছে, শুধু তাই নয়, অন্যান্য অপরাধের হার-ও বেড়ে গেছে, সামাজিক অবস্থায় অস্থিতিশীলতা এসেছে
কারণ, যৌনতা মানুষের আদিম ও প্রাথমিক একটি রিপু, একে দমন করা কিছু নেই, সঠিক ব্যবহার প্রয়োজন শুধু
২. নারীরা পুরুষদের সমান- এই চিন্তাকে গ্রহণ করতে হবে
নারীদের প্রতি হিংস্র মনোভাব, কিংবা তাদেরকে নিচু চোখে দেখার চর্চা বন্ধ করতে হবে
৩. শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরণের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে, তা না হলে তারা বরং মানসিক বৈকল্যের শিকার হয়, এবং বড় হয়ে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে
সব শিশুর জন্য সুষ্ঠ স্বাভাবিক পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে
৪. ধর্ষকদের চিহ্নিত করতে হবে
আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে দ্রুত
এবং তাদের মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা-ও করতে হবে
তা না হলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে
৫. ধর্ষণ রোধের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিতে হবে
যেমন- ইন্টারভেনশনের ব্যবস্থা, ধর্ষণবিরোধী জনমত তৈরি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা (বিশেষত, যেসব এলাকায় নারীরা অধিক রাতে কাজ করে বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা)
এই উল্লেখিত পদক্ষেপই শেষ নয়, বরং সূচনা
ধর্ষণ রোধের দায়িত্ব আপনার, আমার, সকলের
ধর্ষিতাকে নয়, ধর্ষণকে ঘৃণা করুন
, ., , ., , ., , . . (2015). . . ;3(1). 31-35.
, . ., & , . . (1997). : , , . , 65(5), 848.
, ., , ., , ., , ., , ., & , . . (2009). - . ,180(5), 513-519.
, ; , ; , ; , ; , ; . (1993). 150.12 : 1872-4.
, ., , ., , ., , ., , . , . (2013). ? - . : , ,
, . ., , . ., & , . . (1997). : . , 16(5), 417.
, . ., & , . . (1998). : - . ,66(2), 348.
, ., , ., , ., & -, . (2013). - : - - . , 1(4), 208-218.
, . ., & , . . (1990). : . 36 , , .
, . . (2005). : .
, ., & , . . (2006). . , : .
, . ., & , . . (1983). : . , 92(1), 55.
, . ., & , . . (1990). (. 257-275). .
, . ., & , . (2001). . : , 13(4), 249-255.
, . ., & , . (2005). : . ,34(2), 241-253.
, . ., , . ., & , . . (1988). . , 16(4), 531-594.
, . ., , ., & , . . (2002). : ?. , 39(6), 639-647.
, ., , ., & , . (1994). , . , 32(5), 571-575.
, . . (1993). . , 8(2), 223-255.
, ., , ., & , . (1998). - . , 13(3), 398-412.
, . ., , . ., , . ., & , . . (1996). . , 105(3), 455.
, . ., & , . (2009). : . ,29(5), 431-448.
ব্যক্তিগত ব্লগে পূর্বপ্রকাশিত
আশরাফ মাহমুদ এর ব্লগ
১ | লিখেছেন শেহাব (তারিখ: মঙ্গল, ১২/০৪/২০১৬ - ৮:৫৯পূর্বাহ্ন)
বাংলাদেশ নিয়ে যেসব পেপারের রেফারেন্স দিয়েছেন তার মধ্যে কোনটাতে কি ধর্ষণের সাথে ধর্মবিশ্বাসের কোরিলেশন আছে? না থাকলে আমি কেন 'বাঙালী মুসলিম পুরুষ' বলছেন সেটি বুঝতে পারছি না