content
stringlengths
0
129k
বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ফারহানা সুলতানা পাট দিয়ে পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি প্যাড তৈরির মেশিন উদ্ভাবন করেছেন
এ উদ্ভাবনের জন্য চতুর্থ 'অ্যানুয়াল পিচ ইনোভেশন প্রতিযোগিতায়' গ্র্যান্ড পুরষ্কার পেয়েছেন তিনি
তিনি আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) সহকারী বিজ্ঞানী
আমেরিকান সোসাইটি ফর ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন (এএসটিএমএইচ) এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে
প্রতিযোগীতার এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল 'মহামারি মোকাবিলায় স্থিতিস্থাপকতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকারক প্রভাব হ্রাস করা
আইসিডিডিআরবি তাদের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে জানিয়েছে, পুরস্কার অংক হিসেবে ফারহানা সুলতানাকে ৫ হাজার মার্কিন ডলার দিয়েছে এএসটিএমএইচ
একইসঙ্গে তিনি ২০২২ সালে অনুষ্ঠিতব্য ৫ম ইনোভেশন পিচ প্রতিযোগিতায় বিচারক হবেন
আইসিডিডিআরবি জানিয়েছে, পুরস্কারের অর্থ দিয়ে সুলতানা আরও অধিক সংখ্যক প্যাড উৎপাদনের জন্য পরীক্ষা চালাবেন, একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করবেন, নিজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উপায় খুঁজবেন
( ) অন্যধারা প্রকাশনী বই গতিধারা প্রকাশনী বই ভাষাচিত্র প্রকাশনী বই সমকালীন প্রকাশন বই
মুক্তমনায় আমার প্রথম লেখা আমি কিভাবে লিখব কত ভালো লিখব জানি না
শেষ পর্যন্ত যে বিষয়টা কয়দিন ধরে চিন্তা করছিলাম লিখে ফেললাম
ধর্মের সাথে পরিচয় আমার ক্লাস থ্রিতে যখন সরকারী ধর্ম বই স্কুলে পড়ানো হত তখন
বাবা-মা তেমন ধার্মিক না, একেবারে উদাসিন
ধর্মের সংস্পর্শে আসতে সময় লেগেছে
আগে নানার নাড়িতে গেলেই শুধু ধর্ম নামের কিছুর সাথে দেখা হত
ক্লাস থ্রিতে ধর্ম আজব লাগতো
সত্যি এমন ঘটনা হতে পারে
এভাবে থ্রি ফোর পড়লাম
হিন্দু বন্ধুদের কাছে হিন্দু ধর্মের আর ইসলামেরটা জানতাম মুসলিম বন্ধুদের কাছ থেকে
সব কল্পকাহিনি লাগতো
আজব লাগতো, মজা লাগতো
পড়তাম এসব মনোযোগ দিয়ে
ক্লাস ফাইভে একটু বেশি চালু হয়ে গেলাম, মন্ত্রগুলো আর সুরাগুলো নিয়ে শেষ বেঞ্চে আমরা তিন বন্ধু প্যারডি করে হাসতে থাকতাম
ধর্ম ব্যাপারটা জঘন্য লাগে ক্লাস ফোরে
বিএনপি আসার সাথে সাথে ঝামেলা করে আমাকে স্কুল ছাড়ার ব্যবস্থা করা হয়
সাম্প্রদায়িকতার শিকার হতে হল তখন
বাবাকে বললাম এমন হল কেন? বাবা বলে এটা সাম্প্রদায়িকতা, দেখো না গুজরাটে কি হল? পরে ফাইভে অন্য স্কুলে চলে যাই
আগের স্কুলে আমার সহপাঠিরা বলত আসল মুসলমান যারা না তারা নাকি লোহার তৈরী, আসল মুসলমান মাটির তৈরী
এদের সাথে তো এক মুহূর্ত কাটানো আমার কাছে কষ্টের কারন ছিল
এভাবে ক্লাস সিক্স থেকে ধর্ম নিয়ে পড়া শুরু করি, কল্পকাহিনি পড়ে হাসতে হাসতে জীবন শেষ হয়ে যেত
এভাবে এসএসসি দেয়া হয়ে গেল
আমি চাইছিলাম আমি এসএসসিতে ধর্ম নিয়ে পড়ব না
উপায় কোথায়? সরকার ধর্ম ছাড়া সার্টিফিকেট কিভাবে দিবে? এবার কলেজে ভর্তির সময় ধর্ম নাই লিখব বললাম আমাদের কলেজের অঙ্কের স্যারকে
স্যার বলে ধর্ম ছাড়া ভর্তি হওয়া যাবে, সমস্যা হবে
কলেজে যতবার ধর্ম আমি পুরণ করতাম মাথা দেয়ালে বাড়ি দিতে ইচ্ছে করত
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় ধর্ম নাই ফিল আপ করেছিলাম
সেখানে বসে থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্টার আমাকে বললেন ধর্ম না থাকলে সমস্যা, ডীন গ্র্যান্ট করবেন না
আমি বলি আমার ধর্ম নেই, পালন করি না
তিনি বলেন বাবার ধর্ম লিখে দাও
বাবাকে ফোন দিলেন
বাবার সাথে অনেকক্ষণ কথা হবার পর ধর্ম লিখলাম
ইচ্ছে হচ্ছিল পড়ালেখা ছেড়ে দেই ঝামেলাই শেষ
শেষ মানে? তখন শুরু, কোচিং এ ক্লাস নেয়ার জন্য সিভি চাইলো, দিলাম ধর্ম ছাড়া
বলে ধর্ম নাই কেন আবার দাও
এমন মনে হচ্ছে ধর্ম দেখে আমাকে চাকরি দিবে
সেমিস্টার পরিক্ষায় ফর্ম ফিল আপ করতে গিয়ে দেখি ধর্ম লিখতে হবে
আমি না লিখে জমা দিলাম
পরদিন আমাকে ডেকে পাঠালেন ডিপার্টমেন্টের অফিসার, ধর্ম লেখেন নাই কেন? লেখেন! আমি বলি ধর্ম নাই আমার
তারা বলে ভর্তির সময় ধর্ম দিয়েছেন না? এখন কেন? আমি মনে মনে বলছিলাম, "জায়গায় জায়গায় ধর্ম লিখে রাখতে হয়, প্রবেশ পত্রেও
প্রবেশপত্রে ধর্ম দেখে আমাকে আমাকে নাম্বার দিবে
চাকরির জন্য আমাকে ধর্ম লিখতে হয়, না লিখলে আমাকে ভাইভা বোর্ডে অপমান করে তাড়ানো হবে
বিসিএস এর জন্য ধর্ম লিখতে হয়
স্কুলে না পড়তে চাইলেও ধর্ম পড়তে হয়, ধর্ম নিজের নামের নিচে লিখতে হয়
এই দেশ ধর্ম নিরপেক্ষ
ছোটবেলা থেকে তো সিস্টেম আমাদের ধর্মের প্রতি ঝুকানোর চেষ্টা করছে
এভাবে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে দেশ
আমি কখনো অন্য ধর্মের মেয়েকে বিয়ে করতে পারব না, হয় তাকে না হয় আমাকে ধর্ম পরিবর্তন করতে হবে
আমার ধর্ম নেই পরিবর্তন কি করব? আর আমার ধর্ম গ্রহনেরও ইচ্ছে নেই
প্রেম করার আগে ধর্ম দেখে মানুষ প্রেম করে
কারো সাথে পরিচয় হলে নাম শুনে বলে ধর্ম কি আমার? আমি নাই বললে বলে ঈশ্বর প্রদত্ত ধর্ম কোনটা তোমার? আমার বাবা-মা দুইজন ভিন্ন ধর্মের হলে ঈশ্বর প্রদত্ত ধর্ম আমার কোনটা? আমি লিখব কি? ডিম্বানু আর শুক্রানু দুই ধর্মের মানুষের না? তাহলে আমার ঈশ্বর প্রদত্ত ধর্ম কোনটা?
পোস্ট শেয়ার করুন
: শান্ত কৈরী
মুক্তমনা ব্লগার
শুভ জন্মদিন অভিজিৎ রায়
শুভ জন্মদিন অভিজিৎ রায়
সেপ্টেম্বর 11, 2021 | 2
কৃতজ্ঞতা সমাচার
কৃতজ্ঞতা সমাচার
জুলাই 30, 2021 | 0
লাকিংমে বরং সৎকারহীনই থাক!
লাকিংমে বরং সৎকারহীনই থাক!
ডিসেম্বর 26, 2020 | 3
"এ আমার এ তোমার পাপ"
"এ আমার এ তোমার পাপ"
অক্টোবর 30, 2020 | 4
মুক্তমনা থেকে রায়হান আবীরকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে
মুক্তমনা থেকে রায়হান আবীরকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে
সেপ্টেম্বর 22, 2020 | 8
70
আমি কোন অভ্যাগত নই সেপ্টেম্বর 20, 2012 9:01 পূর্বাহ্ন -
আমার একটা স্পেসিফিক প্রশ্নঃ
১) ফর্মে ধর্ম জায়গাটা যদি আমি পূরণ না করি,অথবা
সেখানে ১)নাস্তিকতা ২)প্রযোজ্য নহে ৩)মানবতা লেখি
সেক্ষেত্রে আমি আমার দেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধ্যকতার মুখোমুখী হব কিনা?
মানে কেউ আমাক চ্যালেঞ্জ করলে কি আমি আমার সাংবিধানিক অধিকার দেখিয়ে সেটাকে ডিফেন্ড করতে পারব?
এই বিষয়ে স্পেসিফিক ইনফরমেশন কেউ কি দিতে পারবেন কাইন্ডলি?
অসীম জুলাই 4, 2012 10:28 পূর্বাহ্ন -
@শান্ত কৈরী,
আপনার লেখাটা দারুণ..বক্তব্য খুবই সোজা ও ঋজু
খুব কম কথায় অনেক কিছু বলা হলো-তাই খুব ভালো লাগলো
আমার খুব খারাপ লাগতো..যখন স্কুলে ধর্ম ক্লাসের কারণে প্রিয় বন্ধুদের ছেড়ে কিছু সময়ের জন্য, অন্য রুমে যেতে হতো
যাদের সাথে মিশতাম না..তাদের সাথে ধর্ম ক্লাসে বসতে হতো এই বিষয়টা সত্যি খুব পীড়া দিতো
সারাদিন - বলতে গেলে স্কুলের পরেও যাদের সাথে আড্ডা দিতাম..একটা ৪৫ মিনিটের ক্লাসের জন্য আলাদা হওয়াটা আমার কচি মনে খুব দাগ কেটেছিলো
মাকে কেঁদে জানিয়েছিলাম...আমি ওদের সাথে ধর্ম ক্লাস করতে চাওয়ার বাসনা
কিন্তু বিধি বাম
পরে অবশ্য কিছুটা বড় হয়ে সওয়া হয়ে গেছিল
ধর্ম যে সামাজিক বিভেদ আজো আমাদের ভোগাচ্ছে -তার থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায় হচ্ছে অনুসন্ধিৎসু মন সেইসাথে বংশ পরম্পরা টিকে যাওয়া বিশ্বাসকে ছুঁড়ে ফেলা
আপনাদের আরো ভালো লেখা-আমাদের দুঃসহ অবস্হা থেকে মুক্তি দেবে বলে বিশ্বাস করি