content
stringlengths
0
129k
28. পৃথিবীর বৃহত্তম গিরিখাত বা ক্যানিয়ন কোনটি?
উত্তর : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কলােরাডাে নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
29. নদীর কোন প্রবাহে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়?
উত্তর : নদীর পার্বত্য প্রবাহে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয়
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]
1. পর্যায়ন' কাকে বলে ?
উত্তর : অসমতল ও বন্ধুর ভূমির ক্ষয়সীমার সাপেক্ষে ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে সমতলে পরিণত হলে তাকে পর্যায়ন' বলে
দুটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া-অবরােহণ ও আরােহণের সম্মিলিত ফল হল পর্যায়ন
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহির্জাত প্রক্রিয়া কার্যকর হয়
2. 'অবরােহণ' ( ) প্রক্রিয়া বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : যে সমস্ত বহির্জাত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা পর্যায়ক্রমিকভাবে হ্রাস পায়, তাকে অবরােহণ প্রক্রিয়া বলা হয়
শিলাবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় এবং ক্ষয়ী ভবনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়
3. 'আরােহণ' ( ) প্রক্রিয়া বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : যে সমস্ত বহির্জাত প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পায়, তাকে আরােহণ প্রক্রিয়া বলা হয়
এর অপর নাম সয়
নদী, বায়ুপ্রবাহ, হিমবাহ, ভৌমজল ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তি ক্ষয়জাত পদার্থ নীচু স্থানে সঞ্জিত করে ক্রমশ উঁচু হয়ে ওঠে
4. পর্যায়িত নদী ( ) কাকে বলে?
উত্তর : যদি কোনাে নদী তার ক্ষমতা অনুযায়ী যতটুকু বস্তৃভার বহন করা সম্ভব ততটুকু বস্তুভার বহন করে তাকে তখন পৰ্যায়িত নদী বলা হয়
ডেভিসের মতে পর্যায়িত নদী হল এমন একটি নদী যার, ক্ষয়সাধন, পরিবহন এবং অবক্ষেপন কার্যের মধ্যে সামঞ্জস্য আছে
5. নগ্নীভবন' () কাকে বলে?
উত্তর : বহির্জাত অবরােহণ প্রক্রিয়ায় আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় ও ক্ষয়ীভবন - এই তিনটি পদ্ধতির যৌথ ক্রিয়াশীলতায় ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগের শিলাস্তর বিচ্ছিন্ন হয়ে অবসারিত হয়ে এবং নীচের শিলাস্তর ভূ-পৃষ্ঠে উন্মুক্ত হলে, এই অবরােহণ প্রক্রিয়াকে নগ্নীভবন বলা হয়
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]
5. জলবিভাজিকা কী?
উত্তর : যে উচ্চভূমি পাশাপাশি অবস্থিত দুই বা ততােধিক নদী অববাহিকা বা নদীগােষ্ঠীকে পৃথক করে, তাকে জলবিভাজিকা বলে
উদাহরণ - হিমালয়, বিন্ধ্য, সাতপুরা, পশ্চিমঘাট পর্বত প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ
জলবিভাজিকা
6. নদী অববাহিকা কাকে বলে?
উত্তর : একটি প্রধান নদী তার উপনদী, শাখানদী, প্রশাখানদী মিলিয়ে যতটুকু স্থান অধিকার করে আছে, তা হল ওই প্রধান নদীর অববাহিকা
উদাহরণ - গঙ্গা অববাহিকা ভারতের বৃহত্তম নদী অববাহিকা
7. ধারণ অববাহিকা কাকে বলে?
উত্তর : নদীর উৎস অঞ্চলের অববাহিকাতে বহু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জলধারা বা শীর্ষনদী একত্রে মিলিত হয়ে নদীরূপে একটি নির্দিষ্ট খাতে নীচের দিকে প্রবাহিত হয়
অণ্ডলে এই অববাহিকাকে ধারণ অববাহিকা বলে
8. ষষ্ঠ-ঘাতের সূত্রটি কী?
উত্তর : নদীর গতিবেগের সঙ্গে বহন ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক আছে
দেখা গেছে নদীর গতিবেগ দ্বিগুণ হলে তার বহন ক্ষমতা 64 গুণ বা 2° হারে বেড়ে যায়
ইহাই যষ্ঠঘাতের সূত্র নামে পরিচিত
1842 সালে . এই সূত্রের ব্যাখ্যা দেন
9. নদী উপত্যকা কাকে বলে?
উত্তর : উৎস থেকে মােহানা গতিপথের দু'পাশের উচ্চভূমির মাঝে যে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ নিম্নভূমির মধ্যদিয়ে নদীর জলধারা প্রবাহিত হয়, তাকে নদী উপত্যকা বলে
10. নদীর ক্ষয়সীমা বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : নদী ভূ-পৃষ্ঠে যে উচ্চতা পর্যন্ত ক্ষয় করতে সক্ষম, সেই উচ্চতাকে নদীর ক্ষয়সীমা বলে
সাধারণভাবে নদীর ক্ষয়সীমা হল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা
আবার মরু অঞ্চলে নদীর ক্ষয়সীমা হল প্লায়া হ্রদ
11. কিউসেক ও কিউমেক কী?
উত্তর : এটি হল নদীর জলপ্রবাহ পরিমাপের একক
কিউসেক হল কিউবিক ফুট/সেকেন্ড
আর মেট্রিক পদ্ধতিতে কিউমেক হল কিউবিকমিটার/সেকেন্ড
12. সমপ্ৰায় ভূমি কী ?
উত্তর : বৃষ্টিবহুল আর্দ্র অঞ্চলে নদীর জলপ্রবাহ, বৃষ্টির জল ও অন্যান্য প্রাকৃতিক শক্তির প্রভাবে, প্রাচীন মালভূমি, উচ্চভূমি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে এক সময় উঁচু
নীচু ঢেউ খেলানাে বা প্রায় সমতলভূমিতে পরিণত হলে তাকে সমপ্ৰায় ভূমি বলে
13. পাখির পায়ের মতাে ব-দ্বীপ কীভাবে সৃষ্টি হয়?
উত্তর : মূল নদী তথা প্রধান নদী বহু শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে পাখির পায়ের আঙুলের মতাে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ হয়ে সমুদ্রের দিকে এগােলে নদীর সঞ্চয়কার্যে এরূপ ব-দ্বীপের সৃষ্টি হয়
যেমন - মিসিসিপি-মিসৌরী ব-দ্বীপ
ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর :[প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
1. জলপ্রপাত সৃষ্টির কারণগুলি আলােচনা করাে
উত্তর : নদীর প্রবাহপথে বিভিন্ন কারণে জলপ্রপাত সৃষ্টি হতে পারে
যেমন - () চ্যুতির ফলে নদীর গতিপথে খাড়া ঢাল সৃষ্টি হলে
() নদী গতিপথে কঠিন ও কোমলশিলা অনুভূমিক, উল্লম্ব বা তির্যকভাবে অবস্থান করলে বৈষম্যমূলক ক্ষয়ের ফলে ঢাল উৎপন্ন হয়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়
() নদী হিমবাহ সৃষ্ট ঝুলন্ত উপত্যপার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হলে এবং () নদীর পূর্ণযৌবন লাভের ফলে সৃষ্ট নিক্ বিন্দুতে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়
2. নদীর নিম্নগতিতে বন্যা হয় কেন?
উত্তর : সমভূমি প্রবাহে তথা নিম্নপ্রবাহে নদীর গতিবেগ একেবারে কমে যায় এবং নদী কেবল সঞ্চয়কার্য করতে থাকে
ফলে এই সময় নদীখাতের গভীরতা হ্রাস পায়
হঠাৎ কোনাে কারণে নদীতে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে (অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত) অতিরিক্ত জল নদীঘাত ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী উপত্যকা অলকে প্লাবিত করে
এই কারণে নদীর নিম্ন প্রবাহে বন্যা হয়
গঙ্গা, ব্ৰক্ষ্মপুত্র নদীর নিম্নপ্রবাহের উপত্যকা অঞ্চলগুলি অত্যধিক বন্যাপ্রবণ
3. ব-দ্বীপের শ্রেণিবিভাগ করাে
উত্তর : আকৃতি অনুযায়ী ব-দ্বীপ চার প্রকার
() ধনুকাকৃতি ব-দ্বীপ - ব-দ্বীপের সমুদ্রমুখী
বহিরেখা ধনুকের আকৃতির হয়
হােয়াংহাে নদী ব-দ্বীপ এইরূপ
() পাখির পায়ের ন্যায় ব-দ্বীপ - মূল নদী বহুশাখায় বিভক্ত হয়ে পাখির পায়ের ন্যায় ব-দ্বীপ তৈরি করে
যেমন - মিসিসিপি-মিসৌরী ব-দ্বীপ
() করাতের দাঁতের মতাে ব-দ্বীপ মােহানায় প্রবল সমুদ্রতরঙ্গের আঘাতে নদীর পলি দুদিকে ছাপিয়ে এরুপ ব-দ্বীপ গঠন করে
যেমন - ইতালির তাইবার ব-দ্বীপ
() খাড়ীয় ব-দ্বীপ - খাঁড়ির মধ্যে এইরূপ ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়
যেমন - ফ্রান্সের সীন নদীর ব-দ্বীপ
4. বর্তমানে সুন্দরবনের লােহাচড়া, নিউমুর, ঘােড়ামারা দ্বীপের ওপর জলবায়
পরিবর্তনের প্রভাব আলােচনা করাে
উত্তর : () লােহাচড়া দ্বীপ : হুগলি নদীর মােহনায় এই দ্বীপটি 2006 সালে সমুদ্রজলতল বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অবলুপ্ত হয়
6000 জনবসতিকে স্থানান্তরিত হতে হয়
() নিউমুর দ্বীপ : 10,000 বর্গমিটার এলাকায় দ্বীপটি 1970 সালে হাড়িয়াভাঙা নদীর মােহনায় জেগে উঠলেও 2010 সালে জলতলবৃদ্ধির কারণে তা ডুবে যায়
() ঘােড়ামারা দ্বীপ : 1975 সালে ৪.5 বর্গকিমি ক্ষেত্রফল বিশিষ্ট দ্বীপটি বর্তমানে উপকুল ক্ষয়, জলতল বৃদ্ধির কারণে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে
এর প্রথম ক্ষেত্রফল মাত্র 4.4 বর্গকিমি
রচনাধর্মী উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [ প্রতিটি প্রশ্নের মান-5]
1. নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্টভূমিরূপগুলি আলােচনা করাে
উত্তর : নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরুপগুলি নিম্নে আলােচনা করা হলাে-
() শৃঙ্খলিত বা আবদ্ধ শৈলশিরা : পার্বত্য অংশে নদী পথের বাধা স্বরূপ শৈলশিরা বা পাহাড় থাকলে
এড়িয়ে যাবার জন্য নদী এঁকে বেঁকে প্রবাহিত হয়
তখন শৈলশিরা- গুলিকে দূর থেকে আবদ্ধ মনে হয়
এটি হল আবদ্ধ বা শৃঙ্খলিত শৈলশিরা
উদাঃ - তিস্তা নদীর ( আবদ্ধ শৈলশিরা পার্বত্য অংশে এই প্রকার ভূমিরূপ দেখা যায় )
() র্যাপিডস বা খরস্রোত : নদীগর্ভে পর্যায়ক্রমে কঠিন ও কোমল শিলা অবস্থান করলে কঠিন শিলা অপেক্ষা কোমল শিলা বেশি ক্ষয় পেয়ে ধাপের সৃষ্টি করে, ফলে নদীর জল ধাপে ধাপে নেমে আসে
একে র্যাপিডস বা খরস্রোত বলে
উদাঃ - আফ্রিকার জাইরে নদীতে 32টি খরস্রোত সৃষ্টি হয়েছে
() জলপ্রপাত : পার্বত্য প্রবাহে নদীর তলদেশের ঢাল হঠাৎ বিচ্যুত হলে বিচ্যুত তলের ওপর জলরাশি নীচে পতিত হলে তাকে জলপ্রপাত বলে
কঠিন ও কোমল শিক্ষা পাশাপাশি অবস্থান করলে এরূপ জলপ্রপাত সৃষ্টি হয়
দক্ষিণ আমেরিকার ভেনেজুয়েলার রিওকরােনি নদীর সান্টোঅ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাত (উচ্চতা 979 মিঃ)
() প্রপাতকূপ বা প্রাপুল : জলপ্রপাতের পাদদেশে সৃষ্ট ঘূর্ণাবর্তের মধ্যস্থিত নুড়ি বা শিলা পাক খেতে খেতে ঘর্ষণের ফলে ভূমিশিলায় যে গর্তের সৃস্টি হয় তাকে প্রপাতকূপ বা প্রাপুল বলে
() মন্থকূপ বা পটহােল : প্রবলবেগে প্রবাহিত নদীর তলদেশ বা পার্শ্বদেশে জলাবর্তের সৃষ্টি হলে সেখানে নুড়ি বা শিলার ঘর্ষণের ফলে যে গর্তের সৃষ্টি হয় তাকে মন্থকূপ বা পটহােল বলে
উদাহরণ-ঝাড়খণ্ডের খরকাই নদীগর্ভে অসংখ্য মন্থকূপ দেখা যায়