content
stringlengths
0
129k
2. নদীর সঞ্চয়কাজের ফলে কী কী ভূমিরূপ গড়ে ওঠে আলােচনা করাে
উত্তর : নদীর সঞ্চয়কাজের ফলে গঠিত ভূমিরুপগুলি নিয়ে আলােচনা করা হল-
() পলল শঙ্কু ও পলল ব্যজনী : নদী পার্বত্য অঙুল থেকে সমভূমিতে পৌঁছানাের সময় পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষয়জাত পদার্থসমূহ পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে যে ত্রিকোণাকার ভূমিরূপ গড়ে তােলে তাকে পলিশ বলে
একাধিক পলিশঙ্কু পাশাপাশি অবস্থান করলে তাকে পলল ব্যজনী ও পলল শঙ্কু বলে
() নদী বাঁক বা মিয়েল্ডার : মধ্য ও নিম্নপ্রবাহে নদীর গতিবেগ কম থাকায় সামান্য বাধার সম্মুখীন হলে নদী গতিপথের পরিবর্তন ঘটিয়ে এঁকে বেঁকে প্রবাহিত হয়
একে নদী বাঁক বলে
তুরস্কের নদী মিয়েন্ডারেস এর নামানুসারে এই ভূমিরূপের নাম মিয়েন্ডার
উদাঃ - জলঙ্গী নদীতে অসংখ্য নদীবাঁক দেখা যায়
() অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ : মধ্য ও নিম্নগতিতে ঘােড়ার ক্ষুরের ন্যায় যে পরিত্যক্ত নদীঘাত দেখা যায় তাকে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে
মধ্য ও নিম্নগতিতে নদী ক্ষয়জাত পদার্থসমূহ নিয়ে এঁকে বেঁকে প্রবাহিত হতে
হতে হঠাৎ সােজা পথে অগ্রসর হলে নদীবাঁকের একটি অংশ মূল প্রবাহ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ সৃষ্টি করে
উদাঃ-গঙ্গা নদীর নিম্নপ্রবাহে দেখা যায়
() প্লাবনভূমি ও () স্বাভাবিক বাঁধ : সমভূমি প্রবাহে নদীখাতের গভীরতা কমে যাওয়ায়
নদীর জল হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত জল নদীখাত ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী অঞ্জল প্লাবিত করে এবং নদীবাহিত পলি, বালি, কাদা সঞ্চিত হয়ে প্লাবনভূমির সৃষ্টি করে
উদাঃ-গঙ্গা নদীর সমভূমি প্রবাহে প্লাবনভূমি দেখা যায়
স্বাভাবিক ধাঁধ ও বনভূমি
বারংবার নদীতে প্লাবনের সময় পার্শ্ববর্তী অণ্ডলে একাধিকবার পলি জমা হবার ফলে নদী এবং প্লাবনভূমির মধ্যবর্তী অঞ্চলে একটু বেশি উচ্চতাসম্পন্ন ভূমির সৃষ্টি হয়, একে স্বাভাবিক বাঁধ বলে
উদাঃ - নীলনদের গতিপথে এইরকম অনেক স্বাভাবিক বাঁধ দেখা যায়
() খড়ি : শেষ প্রান্তে মােহানায় নদী যেখানে সাগরে মেশে সেখানে ফানেল আকৃতির চওড়া নদী মােহানাকে খাঁড়ি বলে
() ব-দ্বীপ : মােহানার কাছে নদীর গতিবেগ কমে গিয়ে বস্তৃভার নদীবক্ষে সঞ্চয় করে গ্রিক অক্ষর ডেল্টা-র (4) ন্যায় বা বাংলার মাত্রাহীন 'ব'-এর মতাে যে দ্বীপ গঠন করে তাকে ব-দ্বীপ বলে
উদাঃ-গঙ্গা ব্রহ্মপুত্র নদীর ব-দ্বীপ পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ
বহির্জাত প্রক্রিয়া ও তাদের দ্বারা সৃষ্ট ভূমিরূপ - ভূমিরূপের পরিবর্তনে হিমবাহের ভূমিকা
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]
1. হিমরেখা কাকে বলে?
উত্তর : অত্যধিক শীতলতার জন্য যে সীমারেখার ওপরে সারাবছর বরফ জমে থাকে এবং যে রেখার নীচে বরফ গলে জলে পরিণত হয়, সেই কাল্পনিক রেখাকে হিমরেখা বলে
হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে হিমরেখার গড় উচ্চতা স্থানবিশেষে 4000- 5000 মিটার
আবার তীব্র শীতলতার জন্য মেরু অঞ্চলে হিমরেখা প্রায় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় থাকে
2. আইস শেল কাকে বলে?
উত্তর : দক্ষিণ আন্টার্কটিকা মহাদেশে উপকূলের সঙ্গে সংযুক্ত যে বরফের পাত দেখা যায়, সেই বরফের পাতটিকে আইস শেলফ বলে
যেমন - আন্টার্কটিকার রস ও রনি আইস শেলফ
3. হিমযুগ কাকে বলে?
উত্তর : বর্তমান সময় থেকে প্রায় 50 লক্ষ বছর পূর্বে প্লিস্টোসিন উপযুগে পৃথিবীর অধিকাংশ স্থান বরফাবৃত ছিল, এই সময়কে হিমযুগ বলে
আর দুটি হিমযুগের মধ্যবর্তী সময়কে অন্তর্বর্তী হিমযুগ বলা হয়
4. নেভে ও ফার্ন কী?
উত্তর : হিমরেখা ঊর্ধ্বে প্রবল শৈত্যের কারণে সদ্য পতিত তুষার হালকা পেঁজা তুলাের মতাে হয়, একে 'নেভে' বলে
নেভের ঘনত্ব থাকে 0.06 থেকে 0.16 সেমি
নেভের ওপর পুনরায় তুষারপাতে নীচের তুষারে ঘনত্ব ও দৃঢ়তা বাড়ে, একে বলে ফার্ণ
ফার্ণের ঘনত্ব 0.72 থেকে 0.9 সেন্টিমিটার হয়
5. হিমানী সম্প্রপাত বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের বিশাল বরফের স্তুপ যখন ভূমিকম্প বা অধিক তুষারপাত বা ঢালের স্থিতিস্থাপকতা নষ্টের ফলে পর্বতের ঢাল বরাবর পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পর্বতের পাদদেশে নেমে আসে, তাকে হিমানী সম্প্রপাত বলে
এটি হল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ
6. আমলক তল ( ) কী?
উত্তর : আমলক তল সাধারণত হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত হয়
প্রবহমান হিমবাহের তলদেশে যে সকল প্রস্তর-খণ্ড থাকে তাদের ঘর্ষণে পর্বতগাত্রের শিলাস্তরে আঁচড় কাটার দাগ পড়ে এবং এই অলের শিলা মিশ্রিত হয়
একে আমলক তল বলে
7. হিমর্সিড়ি বলতে কী বােঝাে?
উত্তর : হিমবাহ উপত্যকার লম্বচ্ছেদ অসমতল ও অপর্যায়িত হয়
তবে কখনাে কখনােও লম্বচ্ছেদ মসৃণ ও অবতলাকৃতি হয়
হিমবাহ উপত্যকার অসমতল তলে সিঁড়ির মতাে ধাপের সৃষ্টি হয়, তাকে হিমসিঁড়ি বলে
হিমসিড়ির তিনটি অংশ
যথা - রাইজার, রিগেল ও ট্রেড
8. নুনাটা কাকে বলে?
উত্তর : মহাদেশীয় হিমবাহের প্রান্তভাগে অগভীর বরফের স্তুপযুক্ত পর্বতগুলি মাঝে মাঝে বরফহীন হয়ে অবস্থান করে
মেরু অঞ্চলের তুষারক্ষেত্রের বরফমুক্ত শৃঙ্গগুলি নুনাটাকস নামে পরিচিত
উদাঃ - কুমেরুর প্রদেশের মাউন্ট তার্কাহি
9. 'ড্রমলিন' কাকে বলা হয় ?
উত্তর : বিভিন্ন আকৃতির শিলাখণ্ড এবং নুড়ি, বালি, পলি ইত্যাদি হিমবাহ বাহিত পদার্থ
পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে উলটানাে নৌকা বা উলটানাে চামচের মতাে ভূমিরূপ তৈরি করলে, তাকে ড্রামলিন বলে
ড্রামলিনের দৈর্ঘ্য 1-3 কিমি, প্রস্থ 300-600 মিঃ এবং উচ্চতা 60 মিঃ পর্যন্ত হয়
10. বহিঃধৌত সমৃভমি কাকে বলে?
উত্তর : প্রান্তদেশে হিমবাহ গলতে শুরু করলে গলিত জল হিমবাহ বাহিত নুড়ি, বালি, পলিকে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে চাদরের ন্যায় সয় ঘটায়
এরফলে পর্বতের পাদদেশে যে সমভূমি গড়ে ওঠে তাকে বহিঃধৌত সমভূমি বা আউটওয়াশ প্লেন বলা হয়
11. কর্তিত স্পার বা কর্তিত শৈলশিরা কী ?
উত্তর : উপত্যকার মধ্যদিয়ে হিমবাহ অগ্রসর হওয়ার সময় স্পার বা পর্বতের অভিক্ষিপ্তাংশে তীক্ষ্ম ও মসৃণভাবে ক্ষয় করে
এই স্পারগুলিকেই বলা হয় কর্তিত স্পার বা কর্তিত শৈলশিরা
ব্যাখ্যামূলক উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-3]
1. ঝুলন্ত উপত্যকায় জলপ্রপাত সৃষ্টি হয় কেন? - ব্যাখ্যা করাে
উত্তর : ঝুলন্ত উপত্যকায় জলপ্রপাত সৃষ্টির কারণগুলি নিম্নরূপ-
() কর্তিত স্পার বরাবর মূল হিমবাহের গভীর উপত্যকা ও উপহিমবাহের দ্বারা গঠিত অগভীর উপত্যকার মধ্যে উচ্চতার উল্লম্ব ব্যবধান সৃষ্টি হয়ে জলপ্রপাত সৃষ্টি করে
() বায়ুর উয়তার বৃদ্ধি পেলে হিমবাহ গলে গিয়ে বরফ গলা জলধারার সৃষ্টি হয়
() বরফগলা জলধারা ঝুলন্ত উপত্যকা বরাবর প্রবাহিত হয়ে মূল হিমস্রোণীর ওপর জলপ্রপাতের সৃষ্টি করে
2. গ্রাবরেখার শ্রেণিবিভাগ আলােচনা করাে
উত্তর : পার্বত্য অঞ্চলে নানা আকৃতির বিচ্ছিন্ন ও ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাখণ্ড, নুড়ি, কাকড়, বালি, কাদা-হিমবাহের সাথে স্তুপাকারে সঞ্চিত হতে হতে নীচের দিকে অগ্রসর হয়
একে গ্রাবরেখা বলে
একে নানাভাগে ভাগ করা হয়
যথা - (1) বিচলনশীল গ্রাবরেখা : () পার্শ্ব গ্রাবরেখা () মধ্য গ্রাবরেখা () হিমপৃষ্ঠ গ্রাবরেখা () হিমাবদ্ধ গ্রাবরেখা () ভূমি গ্রাবরেখা
(2) অবক্ষিপ্ত গ্রাবরেখা-() প্রান্ত গ্রাবরেখা () বিরাম গ্রাবরেখা () ঠেলা গ্রাবরেখা, () অবিন্যস্ত গ্রাবরেখা
() রােজেন গ্রাবরেখা () স্তরায়িত সামুদ্রিক গ্রাবরেখা () বলয়ধর্মী গ্রাবরেখা
ভূমিরূপের পরিবর্তনে হিমবাহের ভূমিকা - বায়ুর কাজ
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নোত্তর : [প্রতিটি প্রশ্নের মান-2]
1. আর্গ বা কুম কী?
উত্তর : বায়ুর অপসারণ কার্যের ফলে বালি দিয়ে ঢাকা ছােটো ছােটো যে ভূমির সৃষ্টি হয় তাকে আর্গ বলে
সাহারা মরুভূমিতে এটি আর্গ এবং তুর্কিস্থানে এটি কুম নামে পরিচিত
2. গাসি কী?
উত্তর : বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ শৈলশিরার মতাে বালির পাহাড়গুলিকে সিফ বালিয়াড়ি বলে
এই সিফ বালিয়াড়ির মধ্যবর্তী করিডােরগুলি সাহারায় 'গাসি' নামে পরিচিত
এই করিডােরগুলি যাতায়াতের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হয়
3. সিফ বালিয়াড়ি কাকে বলে?
উত্তর : বায়ুপ্রবাহের গতিপথের সঙ্গে সমান্তরাল গঠিত দীর্ঘাকৃতি বালিয়াড়িকে সিফ বা অনুদৈর্ঘ্য বালিয়াড়ি বলে
এদের আকৃতি তরােয়ালের মতাে বলে ভূবিজ্ঞানী ব্যাগনল্ড এর নামকরণ করেন সিফ বালিয়াড়ি
এগলির উচ্চতা কয়েকশাে মিটার ও দৈর্ঘ্য কয়েক কিমি থেকে কয়েকশাে কিমি হয়
এর শীর্ষদেশ তীক্ষ্ণরু হয়
এরা একে অপরের সমান্তরালে গড়ে ওঠে
4. মরুখাত বা ব্লো-আউট কাকে বলে ?
উত্তর : মরু অঞ্চলে প্রবল বায়ুপ্রবাহের দ্বারা কোনাে একটি অঞ্চল থেকে হাজার হাজার টন বালুকারাশি অপসৃত হলে সেখানে অবনতভূমি বা খাতের সৃষ্টি হয়
এই প্রকার খাত বা অবনতভূমি ব্লোআউট বলে
মিশরের কাতারা হল পৃথিবীর বৃহত্তম মরুখাত
5. রেগ কী?
উত্তর : বিভিন্ন আকৃতির প্রস্তর খণ্ড দিয়ে গঠিত ও পাথুরে মরুভূমিকে আলজিরিয়াতে রেগ বলা হয়
লিবিয়া ও মিশরে এটি সেরীয় এবং অস্ট্রেলিয়ায় গিবার বলা হয়