text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, সরকার এবং প্রশাসন একাকার হয়ে গেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে বর্তমান প্রশাসন এবং তার সরকারের কথাবার্তায় সেটা স্পষ্ট ফুটে উঠছে। আজ দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ডিএমপি কমিশনারের 'কটূক্তি'র প্রতিবাদে রাজধানীর শংকর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়াকে নিয়ে ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এছাড়া পুলিশ প্রশাসন যদি রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মতো বক্তব্য দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ আস্থা রাখবে কোথায়? বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য নজিরবিহীন। বিক্ষোভ মিছিলে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আজিজ, ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের বাবু, জামাল হোসেন টুয়েলসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
দায়িত্বে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, ওবায়দুল কাদের সর্বকালের ব্যর্থ একজন সড়কমন্ত্রী। তার নেতৃত্বের কারণে সড়কে শুধু লাশের ছবি, এই মুহূর্তে পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ বলেন, প্রতিদিন দেখছি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাহেব সারাদেশে দৌড়াদৌড়ি করছেন। ওবায়দুল কাদের সাহেবের দৌড়াদৌড়ি কেবল ফটোসেশনে সীমাবদ্ধ, প্রতিদিন সড়কে লাশের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় সড়কে মৃত্যুর মিছিল। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের প্রাণ অকালে ঝরে পড়ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত হচ্ছে প্রায় ২০ জন মানুষ। দুঃশাসনের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়ছে সড়ক ব্যবস্থা। তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে একদিকে তীব্র ট্রাফিক জ্যাম অন্যদিকে পরিবহন নৈরাজ্যে অতিষ্ঠ মানুষ। সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী প্রতিদিন বিরোধীদলকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে থাকেন। তিনি গণপরিবহনে নৈরাজ্য ও অকালে হাজার হাজার প্রাণ ঝরে যাওয়া রোধ করতে ব্যর্থতার জবাব দেবেন কি? | 6 |
শুক্রবারের সকালে ঘড়ির কাঁটা তখন সাড়ে ৯টার ঘরে। শেরেবাংলা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে এনএসআই-এর ওয়াচার কনস্টেবল পদে পরীক্ষা দিতে এসেছেন নাটোরের রবিউল ইসলাম। চোখে মুখে ভীষণ বিরক্তি, সঙ্গে কিছুটা হতাশাও।পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢোকার আগ মুহূর্তে কথা হলো তাঁর সঙ্গে। বললেন, একই সময়ে তাঁর আরও একটি চাকরির পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করায় সেটা বাদ দিতে হয়েছে। একই কেন্দ্রে এমন অভিযোগ করলেন আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থী। রবিউলের মতো সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁদেরও। একই দিনে অনেক পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য এমনটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।গতকাল শুক্রবার সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ২১টি নিয়োগপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সময়ে একাধিক পরীক্ষার আয়োজন করায় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন অনেক পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরাও। তাঁরা বলছেন, পরীক্ষাগুলো সময় নিয়ে নিলে পরীক্ষার্থীদের জন্য ভালো হতো। কারণ করোনার সময় দীর্ঘ দিন পরীক্ষা বন্ধ ছিল। আর কটা দিন তো অপেক্ষা করা যেত।জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হওয়া নিয়োগ পরীক্ষাসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংকের প্রবেশনারি পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এই দিন। পরীক্ষাগুলো ঢাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে দুই শিফটে অনুষ্ঠিত হয়। কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এনএসআই-এর কনস্টেবল পদের পরীক্ষা শুরু হয়। পাশেই শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা মাগুরার বেলায়েত হোসেন বলেন, 'অনেক কষ্ট করে ঢাকায় এসেছি পরীক্ষা দিতে। দুর সম্পর্কের এক ভাইয়ের বাসায় উঠেছি। সারা দিনে পাঁচটি পরীক্ষা পড়েছে। এখন চাইলেও সব পরীক্ষা দিতে পারব না। এটা আমার জন্য অনেক কষ্টের।' তিনি বলেন, 'পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে সমন্বয় থাকা উচিত ছিল। সমন্বয়হীনতার কারণে টাকা খরচ করে ঢাকায় এসেও সব পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছি না।'শায়লা পারভীন নামের আরেক পরীক্ষার্থী জানান, 'আজ তাঁর তিনটি পরীক্ষার তারিখ পড়েছে। সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগের পরীক্ষা। এক ঘণ্টা পরই আবার সাধারণ বীমা করপোরেশনের পরীক্ষা। বিকেলে আরও একটি পরীক্ষা আছে। চাইলেও কোনোভাবে সব পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাচ্ছে না।' | 6 |
স্বাস্থ্য, কৃষি, জাহাজ চলাচল, পর্যটন ও জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে পাঁচটি চুক্তি সই হয়েছে। শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে (পিএমও) দু'দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরে চুক্তিগুলো সই হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসসের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে পরিবহন এবং ট্রানজিট কার্গো চলাচলে অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবহারের বিষয়ে দি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। নৌ পরিবহন সচিব আবদুস সামাদ এবং ভুটানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব দাশো ইয়েসি ভাংদি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং রাজকীয় ভুটান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা চুক্তিতে (এমওইউ) স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম এবং ভুটানের স্বাস্থ্য সচিব উগানদা দফু। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) এবং ভুটানের কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি বিভাগের মধ্যে সমজোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিএআরসি'র নির্বাহী পরিচালক কবির ইকরামুল হক ও ঢাকায় ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি। বাংলাদেশ জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) এবং ভুটানের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (আরআইএম) মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বিপিএটিসি'র রেক্টর ড. এম আসলাম আলম এবং ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি। পাশাপাশি, দু'দেশের মধ্যে পর্যটন খাতে সহযোগিতা বিষয়ে ভুটানের পর্যটন কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন একটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির এবং ভুটানের রাষ্ট্রদূত সোনম তোপদেন রাবগি নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। | 6 |
উঞ্চরবঙ্গের মধ্যে মহামারি করোনার হটস্পট হিসেবে পরিচিতি বগুড়ায় নমুনা সংগ্রহের জন্য চারটি বুথ স্থাপন করেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক বগুড়ার ছেলে মুশফিকুর রহিম মিতু। বুধবার শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকায় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় চত্বরে এই বুথের উদ্বোধন করা হয়। শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বুথের উদ্বোধর করেন বগুড়া চেম্বারের সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাসুদার রহমান মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা.শামির হোসেন মিশু, জাতীয় অনূর্ধ ১৯ ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার বগুড়ার ছেলে তামজিদ হাসান তামিম, তাওহিদ হৃদয়, ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার ডা.শামির হোসেন মিশুর ছেলে সাবির হোসেন, মুশফিকুর রহিম মিতুর সহপাটি যুব রেড ক্রিসেন্টের সাবেক জেলা সমন্বয়ক মাসুদুর রহমান বাপ্পী,স্বাস্থ্যকর্মী মোতাহার হোসেন, ডা.সুজিত কুমার প্রমুখ। ডা.শামির হোসেন মিশু জানান, মুশফিকুর রহিম তার নিলামে ব্যাট বিক্রির টাকায় বগুড়ায় এর আগে কর্মহীন প্রায় ৫০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেন। চারটি বুথের মধ্যে একটি রোগীদের পরামর্শ দিতে চিকিৎসক সেপটি বুথও রয়েছে। বুথগুলোর মধ্যে তিনটি সদর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় চত্বরে স্থাপন করা হয়েছে। অপরটি শহরের সেউজগাড়ী এলাকায়। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে দুপুর পর্যন্ত এই বুথগুলোয় নমুনা সংগ্রহ করা হবে। প্রসঙ্গত, বগুড়ার প্রতিদিন গড়ে দেড়শতাধিক করোনা শনাক্ত হচ্ছে। ১৬ জুন জেলায় ২৬৯ টি নমুনা সংগ্রহ করে শনাক্ত হয় ১৮৮ জন। জেলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭০২ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। | 6 |
রাশিয়া বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ন্যাটোভুক্ত অন্য দেশগুলো ইউক্রেনকে 'ধারাবাহিকভাবে' গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে কিন্তু এ সহায়তা সেখানে মস্কোর সামরিক্ষ লক্ষ্য অর্জন থামাতে পারবে না। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এ কথা বলেন। খবর রয়টার্সের। এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তা ইউক্রেনকে রাশিয়ার প্রায় ডজনখানেক জেনারেল হত্যায় সহযোগিতা করেছে। এ বিষয়ে পেসকভ বলেন, আমাদের সামরিক বাহিনী ভালোভাবে অবগত যে- যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ন্যাটো ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে ধারাবাহিকভাবে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনকে পশ্চিমাদের অস্ত্র সহায়তা 'রাশিয়ার অভিযান দ্রুত শেষ করতে অবদান রাখবে না' এবং একই সময়ে তা লক্ষ্য অর্জনেও বাধা সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে না। রাশিয়া কী পদক্ষেপ নেবে জানতে চাইলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র বলেন, এ পরিস্থিতিতে যা প্রয়োজন রাশিয়ার সেনাবাহিনী তা করবে। ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে মস্কোর বিরুদ্ধে পশ্চিমারা প্রক্সি যুদ্ধ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে রাশিয়া। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন সম্পর্কে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস মন্তব্য করা থেকে বিরত ছিল। | 3 |
শহীদ বুদ্ধিজীবীরা শোষণমুক্ত ও গণমানুষের বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এখনো লড়াই করতে হবে। এটাই আজকের দিনের শপথ হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের নেত্রী ডা. মনীষা চক্রবর্তী।গতকাল রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে বাসদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আজকের পত্রিকাকে এমনটি জানিয়েছেন ডা. মনীষা চক্রবর্তী।মনীষা চক্রবর্তী বলেন, 'বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী স্বপ্ন নিয়ে তাঁদের জীবন দিয়েছেন দেশের জন্য। সে বাংলাদেশ আমরা সেরকমভাবে পাইনি। আমরা মনে করি, একটা দিবস পালনের মধ্য দিয়েই শহীদ বুদ্ধিজীবীদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায় না। তাঁরা যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে।'এ সময় চলচ্চিত্রকার মানজারে হাসীন মুরাদ বলেন, রায়ের বাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধ ভাবগাম্ভীর্য নেই। মাইকের আওয়াজ চিৎকার-চেঁচামেচি, ছবি তোলা এসবের মধ্যে দিয়ে ভাবগাম্ভীর্য প্রকাশ পায় না। শ্রদ্ধা প্রকাশ করার বিষয়টা তো একটু অন্য রকম থাকা দরকার। | 6 |
কিউবার ভিন্নমতাবলম্বীদের ডেরায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দেশটির ভিন্নমতের একটি গ্রুপ বলছে, একজন র্যাপারকে কারাগারে রাখার অভিযোগে রাজধানী হাভানায় সদর দপ্তরে অনশনরত সদস্যদের আটক করেছে পুলিশ। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 'সান ইসিড্রো মুভমেন্ট' গ্রুপের সদস্যদের অভিযোগ, তাদের সদস্যদের পেটানো হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম সাময়িক বন্ধ রেখে অভিযানের ছবি অনলাইনে ছড়ানোর বিষয়টি আটকানো হয়েছে। র্যাপার ডেনিস সোলিসকে পুলিশের সঙ্গে ঝামেলার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়। কিউবার কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিধিনিষেধ ভঙ্গ করায় ওই অভিযান চালানো হয়। কিউবার 'সান ইসিড্রো মুভমেন্ট' সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজর কেড়েছে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শিল্পী, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদেরা যুক্ত আছেন। তাঁরা কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের দমনমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কথা বলেন। সান ইসিড্রো মুভমেন্ট বিবিসিকে বলেছে, রাজধানীতে তাদের প্রধান কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে যাঁদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১৪ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ছয় সদস্য অনশন করছেন। ওই গ্রুপ র্যাপার ডেনিস সোলিসের মুক্তি দাবি করছেন। পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে তর্কাতর্কির জন্য আট মাসের সাজা হয়েছে। | 3 |
বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার আর দুই উইকেট। আর এই মুহূর্তে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার ৪৭ রান দরকার। হাতে দুই উইকেট। এরইমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম অস্ট্রেলিয়ার হার ঘোষণা করে ফেলেছে। বাংলাদেশের কাছে অস্ট্রেলিয়ার এ হারকে তারা আখ্যা দিয়েছে 'অপমানজনক'। বিডি প্রতিদিন/৩০ আগস্ট, ২০১৭/ফারজানা | 12 |
টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে গতকাল ইয়র্কশায়ার-ল্যাঙ্কাশায়ারের ম্যাচে ক্রিকেটীয় চেতনার দারুণ এক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে ইয়র্কশায়ার। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রানআউটের সুযোগ পেয়েও করেননি ইয়র্কশায়ারের ফিল্ডাররা। ক্রিকেট যে মাঝে মাঝে লড়াই ছাপিয়ে চেতনাটা বড় হয়ে দাঁড়ায়, সেটিই কাল দেখাল জো রুটের দল।কাউন্টি ব্লাস্টে ইয়র্কশায়ারের দেওয়া ১২৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করছিল ল্যাঙ্কাশায়ার। একটা সময়ে ম্যাচ জিততে ল্যাঙ্কাশায়ারের দরকার ছিল ১৮ বলে ১৫ রান। উইকেটে তখন ব্যাটিং করছিলেন লুক ওয়েলস ও স্টিভেন ক্রফট। ১৮তম ওভার বল করতে এলেন ইয়র্কশায়ারের ম্যাথিউ ওয়েট।ওভারের প্রথম বলেই লুক ওয়েলস এক রান নিতে গিয়ে নন স্ট্রাইকিং প্রান্ত থেকে দৌড়ে আসা স্টিভেন ক্রফট হঠাৎ উইকেটেই পড়ে যান। রানআউট করার সুযোগ পেয়েও করেনি রুটের দল। খেলোয়াড়ি চেতনার দারুণ দৃষ্টান্ত তৈরি করে তারা। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আবারও ব্যাটিং করেন ক্রফট এবং ল্যাঙ্কাশায়ারকে জিতিয়েই ফেরেন তিনি।ম্যাচের পরে জানা যায়, রান নিতে গিয়ে পায়ের পেশিতে টান পড়েছিল ক্রফটের। টানা ম্যাচ খেলার ধকলেই এটা হয়েছে। ইংল্যান্ডের এই গ্রীষ্মে গরম আবহাওয়ার কারণেই এমন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উইকেটে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে চিকিৎসকেরা আসেন। প্রাথমিক চিকিৎসায় উঠে দাঁড়ান ক্রফট।শুধু দাঁড়ালেনই না, ২৯ বলে ২৬ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে ল্যাঙ্কাশায়ারকে জিতিয়ে ফেরেন ক্রফট। ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের কোয়ার্টারফাইনালে পৌঁছে যায় ল্যাঙ্কাশায়ার। হেরে অবশ্য রুটদের মন খারাপ হতে পারে। তবে নিশ্চিত তাঁরা তালি পাবেন ক্রিকেটীয় চেতনা বড় করে দেখায়। | 12 |
চট্টগ্রামে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকাভর্তি ব্যাগ উদ্ধার করতে গিয়ে পুলিশকে নাকানিচুবানি খাইয়েছেন এক চোর। তাকে গ্রেপ্তারের পর ব্যাগটি সম্পর্কে পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বারবার বিভ্রান্ত করেন তিনি। ব্যাগটি উদ্ধারে রাতভর চোরকে নিয়ে নগরীর এ মাথা থেকে ও মাথা চষে বেড়িয়েছে পুলিশ। অবশেষে সোমবার ভোরে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার চন্দ্রনগর সারোয়ার সাহেব কলোনির চোরের বাসা থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে রোববার রাত ১২টার দিকে কোতোয়ালি থানার রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে ব্যাগটি চুরি করে পালানো অটোরিকশাচালক মতিন মিয়াকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার মতিন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থানার প্রতাপ গ্রামের মো. মমতাজের ছেলে। তার কাছ থেকে চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে পরিবার নিয়ে ট্রেনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরেন অনুপ সেন নামে এক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রেলওয়ে স্টেশন থেকে অটোরিকশা নিয়ে কোতোয়ালি থানার সতীশ বাবু লেনের বাসার সামনে যান তিনি। অটোরিকশা থেকে তারা নামলে ব্যাগ নামানোর আগেই ভাড়া না নিয়ে ব্যাগ নিয়ে চম্পট দেন অটোরিকশা চালক মতিন। এ ঘটনায় বিকেল ৪টার দিকে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন অনুপ। তাৎক্ষণিক সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চট্ট মেট্রো-থ-১৩-৩৭৮৫ নম্বরের অটোরিকশাটি শনাক্ত করে পুলিশ। রাত সাড়ে ১২টার দিকে রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অটোরিকশাটি জব্দ ও চালক মতিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির বলেন, মতিনকে গ্রেপ্তারের পর চুরি করা ব্যাগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। একবার বলেন ব্যাগটি দেওয়ানহাটে তার বোনের বাসায় আছে। সেখানে গেলে তিনি জানান ব্যাগটি আকবরশাহ এলাকায় তার বন্ধুর বাসায় রেখেছেন। পুলিশ ব্যাগটি উদ্ধারে সেখানে যায়। এবার তিনি বলেন ব্যাগটি বন্দর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় রেখেছেন। এভাবে ব্যাগটি উদ্ধারে তাকে নিয়ে চষে বেড়িয়েছে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ব্যাগটি তার বর্তমান ঠিকানার বাসায় রেখেছেন বলে স্বীকার করেন। সোমবার ভোরে তার বাসায় অভিযান চালানো হয়। বাসার সামনে পরিত্যক্ত বাথরুম থেকে ১০ হাজার টাকা, আলমারি থেকে চার ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও বাসার ভেতরের একটি ড্রাম থেকে কাপড় ভর্তি ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়। | 6 |
'হাসতে নাকি জানে না কেউ/কে বলেছে ভাই,/এই শোন না কত হাসির/খবর বলে যাই।' তারপর বেশ কয়েক ধরনের হাসির খবর দিয়ে গেছেন ছড়াকার রোকনুজ্জামান খান। সেখানে শাপলা, চাঁদ, পাতিহাঁসসহ নানাজনের নানা হাসির খবর তিনি দিয়েছেন। কিন্তু খোকনের শুধু ফোকলা দাঁতের হাসির হদিসই সেখানে আছে। এদিকে গবেষকেরা বলছেন, মানুষই অন্তত ১৯ রকমভাবে হাসে।নবজাতক দুটি ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়-কান্না আর হাসি। এই হাসি ফ্লুর চেয়েও বেশি সংক্রামক হয়ে ছড়িয়ে পড়ে স্বজনদের মধ্যে। বয়স বাড়লেও এই হাসিটা থেকে যায় সুখের সর্বজনীন চিহ্ন হয়ে। এই সর্বজনীনতার ব্যাপ্তি এত বেশি যে, আপনি যে দেশ বা সংস্কৃতিতেই যান না কেন, হাসির অর্থ বোঝাতে দোভাষীর প্রয়োজন পড়বে না।ব্রাসেজফ্রনজ ডটকমে হাসি-সংক্রান্ত গবেষণালব্ধ কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, মনের অভিব্যক্তি হিসেবে মুখে ফুটে ওঠে হাসি, যা আমাদের সুখী ও সফল দেখায়। একই সঙ্গে আমাদের অন্যের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।গবেষণা বলছে, হাসি মানসিক চাপ কমিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। হাসিখুশি মানুষ সহজেই মানুষের আপন হয়ে উঠতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই হয়তো কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে হাসিখুশি প্রার্থীদের নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কিছুটা অগ্রাধিকার দেয়। বিশেষ করে বিক্রয়কর্মী, পরিষেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তো একে শর্ত হিসেবেই জুড়ে দেয়। হোটেলের হাসিখুশি ওয়েটারদের অন্যদের তুলনায় বেশি টিপস পেতেও দেখা যায়। সকালে পার্কের মধ্যে একসঙ্গে ব্যায়াম করা লোকদের উচ্চ শব্দে হাসতে দেখা যায়। সকালে ঢাকার রমনা পার্কে এমন দৃশ্য প্রতিদিনের। এখানে প্রথম দিন হঠাৎ উচ্চশব্দের হাসি শুনে কিছুটা আঁতকে উঠেছিলাম। পরে ইন্টারনেটে খুঁজে এর মর্মার্থ জানলাম। এই হাসি চমৎকার এক ব্যায়াম। হাসিতে মুখের ৫ থেকে ৫৩ ধরনের পেশি সঞ্চালিত হয়; নিঃসৃত হয় এন্ডোরফিন। এতে হৃদ্যন্ত্র স্থিতিশীল থাকে, শরীর শিথিল হয়, রক্তচাপ কমে। হাসলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে; মন ভালো থাকার পাশাপাশি আয়ুও বাড়ে। ভ্রু কুঁচকে থাকার চেয়ে হাসিতে শরীরের শক্তি খরচও কম হয়।হাসিতে আছে নানা বৈচিত্র্য। এনোরসেনা ডটকমের তথ্যমতে, হাসির রয়েছে অন্তত ১৯ ধরন। কেউ ৩০০ ফুট দূরে বসে হাসলেও আপনি বুঝতে পারবেন মুখের অভিব্যক্তি। হাসিমুখে কথা বললে অপরিচিত লোকের মধ্য থেকেও অন্তত অর্ধেক মানুষ হাসিমুখে আপনার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী হবে। লিঙ্গ বিবেচনায় পুরুষের তুলনায় নারীদের হাসির প্রবণতা বেশি। পুরুষ দৈনিক গড়ে আটবার হাসলে নারী হাসে অন্তত ৬২ বার। আর শিশুদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা অন্তত ৪০০। হাসিখুশি নারীরা পুরুষের দৃষ্টিতে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন বলেও প্রমাণ মিলেছে। অনেকে হাসিকে নিজের একান্ত সম্পদ বলেও মনে করেন। ফেসবুকের প্রোফাইল ছবিতে বেশির ভাগ লোকই একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি দিয়ে থাকেন। এভাবে নিজেকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে হওয়ার ভাবনা ছাড়া এর আর কী কারণ থাকতে পারে।হাসির একটি চমৎকার অনুষঙ্গ দাঁত। এই দাঁত আবার আঙুলের ছাপের মতো মানুষ ভেদে ভিন্ন। ৬৩ শতাংশ নারী মনে করেন দাঁত বের করে দেওয়া হাসিতে তাঁদের বেশি সুন্দর লাগে। প্রাচীনকাল থেকেই দাঁত চকচকে রাখতে মানুষের চেষ্টা অব্যাহত। এরই ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, প্রতি বছর অন্তত ১৪ মিলিয়ন গ্যালন টুথপেস্ট বিক্রি হয়। ফোনে কথা বলার সময় দাঁত দেখা না গেলেও হাসির শব্দে মানুষকে বন্ধুত্বপূর্ণ হিসেবে তুলে ধরে। মুখে হাসি লেগে থাকে এমন মানুষের সংসারজীবনও আনন্দমুখর হয়। কষ্ট দূর হয়ে মন হয় আনন্দমুখর, ঝরঝরে। হাসি নিয়ে কবি-সাহিত্যিক, মহামানবেরাও কম লিখে যাননি। আলবেনীয়-বংশোদ্ভূত ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসী এবং ধর্মপ্রচারক মাদার তেরেসা বলে গেছেন, 'শান্তির শুরু হয় হাসি থেকে। একটি হাসি দিয়ে যে কত কী করা সম্ভব, তা আমরা ভাবতেও পারি না।'হাসি খুবই সহজসাধ্য একটি বিষয়। এ প্রসঙ্গে ঔপন্যাসিক টম উইলসন বলেছেন, 'হাসির সুখ আপনি নাকের গোড়ায়ই খুঁজে পাবেন।' মুখে হাসি রাখতে কোনো অর্থ খরচ করতে হয় না। অথচ মার্কিন সংগীত শিল্পী স্টিভ ওয়ান্ডারের বিশ্বাস, 'হাস্যোজ্জ্বল মুখ একটি নক্ষত্রের মতো।' আর মার্কিন অভিনেত্রী ফিলিস ডিলারের কথায় 'হাসি একটি বক্ররেখা, যা সবকিছুকে সরল করে দেয়।'আনন্দের খবরে চোখে-মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তবে হাসির মাঝেও যে আনন্দিত হওয়া ও ভালো থাকার নানা অনুষঙ্গ রয়েছে, তা নিশ্চয়ই এতক্ষণে কিছুটা হলেও পরিষ্কার হয়েছে। এরপরও আজ মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে দাঁড়িয়ে দেখতে হয় মানুষের মধ্যে হতাশা, বিষণ্নতা ও উদ্বেগের বড় বড় সমীকরণ। তবে কি বয়স বাড়ার সঙ্গে হাসিও হারিয়ে যায়? বোধ-বুদ্ধি বাড়ার ব্যস্তানুপাতে আমরা নিজেদের ভালো থাকার বিষয়টি ভুলতে থাকি?জীবন কাউকে শতভাগ দেয় না। তাই তো সব না পাওয়া ও বেদনার ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েও বরং এই ব্রতই করা যায়-হাসতে হবে প্রাণ খুলে। জীবন সুন্দর; হাসিখুশি থাকার জন্য এক জীবনে অনেক কিছু আছে। | 4 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ধর্ষণ একটা সামাজিক ব্যাধি। এটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। অপরাধী যত বড় নেতাই হোক, তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে। এটাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে ভিন্ন খাতে নিলে সুষ্ঠু বিচার বাধাগ্রস্ত হবে। দুর্বৃত্তের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সম্প্রতি ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। তবে সরকার কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না। অপরাধী যত বড় নেতা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক না কেন, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে সব অপরাধের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। কারও প্রতি সরকার পক্ষপাত দেখায়নি। ধর্ষণ একধরনের সন্ত্রাস। ধর্ষণ-হত্যার সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধীকে সরকার কখনো ন্যূনতম ছাড় দেয়নি। ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় সরকার অপরাধীদের শাস্তি দিচ্ছে। তবে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে হবে। এ ধরনের ইস্যু নিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিবাদের প্রয়োজন নেই, সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। সভায় তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন, মির্জা আজম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের বোন উবোলরাতানা মাহিদল দেশটির আগামী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম ঘটনা। সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াতা ও তার বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রার দল থাই রাকসা চার্ট পার্টি রাজকন্যাকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনি। বিবিসি বলছে, থাইল্যান্ডের ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন ঘটনা। কারণ দেশটির রাজপরিবারকে প্রকাশ্যে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর আগে অংশ নিতে দেখা যায়নি। আগামী ২৪ মার্চ দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত পাঁচ বছরের সেনা শাসনের পর এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রে ফেরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ৬৭ বছর বয়সী উবোলরাতানা রাজাকানিয়া স্রিভাধনা বর্নাভাদি মাহিদল ১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। থাইল্যান্ডের প্রয়াত রাজা ভুমিবল আদুলিয়াদেজের বড় সন্তান তিনি। ১৯৭২ সালে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বিয়ে হলে রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করেন তিনি। পরে তিন সন্তানের জননী উবোলরাতানা স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হলে দেশে ফিরে রাজকীয় জীবনযাপন শুরু করেন। এদিকে, দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেউথ চান-ওচা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৪ সালে ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে হঠিয়ে ক্ষমতায় বসেন তৎকালীন সেনাপ্রধান ওচা। সেনাপন্থী পালাং প্রচারাত পার্টির প্রার্থী হয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। প্রসঙ্গত, থাইল্যান্ডে রাজপরিবারকে ব্যাপক শ্রদ্ধা করা হয়। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, অন্য কোনো প্রার্থী রাজকন্যার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কি না। উল্লেখ্য, সাবেক গণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা ও তার ভাই থাকসিন সিনাওয়াত্রা স্বেচ্ছা নির্বাসিত থাকলেও দেশটির রাজনীতিতে তাদের বেশ প্রভাব রয়েছে। বিবিসি সংবাদদাতা জনাথন হেড ব্যাংকক থেকে বলেছেন, আগামী মার্চের নির্বাচন থাকসিনের মিত্র ও সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিন্তু সেনাবাহিনী দেশটির রাজনীতিতে একটি শক্তি হিসেবে অবস্থানের যে কৌশল নিয়েছে তাতে আঘাত হেনেছে রাজকন্যার নির্বাচনে লড়ার ঘোষণা। | 3 |
গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামীর অধিকার ফিরে পেতে তুহিন মাহমুদের বাড়ির গেটে অবস্থান নিয়েছেন ফাতেমা জাহান নামে এক নারী। আজ বুধবার সকাল থেকে বাড়ির গেটে আছেন তিনি। ফাতেমা উপজেলার গাজীপুর গ্রামের হুমায়ূন কবিরের মেয়ে এবং তুহিন মাহমুদ উপজেলার নিজ মাওনা গ্রামের মো. জালাল উদ্দিনের ছেলে।এ বিষয়ে ফাতেমা জাহান বলেন, তুহিন মাহমুদের সঙ্গে আমার প্রেমের সম্পর্কের ছিল। এর জেরে গত ছয় মাস আগে আমাকে বিয়ের আসর থেকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে করে তুহিন। এর কয়েক মাস পর তাঁর বাড়ির লোকজন আমার ওপর অত্যাচার শুরু করেন। সম্প্রতি তুহিন আমাকে জোর করে বাড়িতে বের করে দেয়। পরে আমি বাড়ির বাইরে অবস্থা নেই।ফাতেমা জাহান আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত স্বামীর অধিকার ফিরে না পাব ততক্ষণ এখানেই অবস্থান নিব।ফাতেমার মা মনিরা কবির বলেন, আমার বোনের ছেলের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। এ মুহূর্তে তুহিন লোকজন নিয়ে বিয়ের আসর থেকে মেয়েকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের দুই মাস পর থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে ফাতেমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কয়েক দিন আগে মেয়েকে বাড়ি থেকে জোর করে বের করে দেয়। অনেক বুঝিয়ে তাঁকে বাড়িতে ফিরাতে পারিনি।অভিযুক্ত তুহিনের বড় ভাই সবুজ মিয়া বলেন, ফাতেমা আর তুহিন প্রেমের সম্পর্ক করে বিয়ে করেন। এরপর কয়েক মাস তাঁদের সংসারজীবন ভালো চলে। বর্তমানে আইন অনুযায়ী আমার ভাই তুহিন ফাতেমাকে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এখন আইন অনুযায়ী তাঁরা ব্যবস্থা না নিয়ে বাসার সামনে বসে আছেন।শ্রীপুর পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে একাধিক বার সালিস হয়েছে। কিন্তু সমাধান হয়নি। সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।মাওনা অস্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাফর ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় কয়েক দিন আগে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত করে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
চীনে নভেল করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সোমবার পর্যন্ত দেশটিতে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৩৬০ ছাড়িয়ে গেছে। চীনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সোমবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার থেকে সোমবার পর্যন্তকরোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েদেশটিতে নতুন করে আরও ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চীনের অভ্যন্তরে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬১ জনে। এ ছাড়া রোববার চীনের বাইরে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসে ফিলিপাইনে একজনের মৃত্যু হয়। অবশ্য ফিলিপাইনে মারা যাওয়া ব্যক্তিও চীনের নাগরিক। তিনি ফিলিপাইনে গিয়েছিলেন হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকেই, যে শহরে উৎপত্তি করোনাভাইরাসের। গত বছরের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো উহানে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর চীনসহ প্রায় ২৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৭ হাজার ২০০ জনের আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য মিলেছে। চীনের সর্বত্র ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশের উহান শহরসহ বেশিরভাগ এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে গণপরিবহনও। সংক্রমণ ঠেকাতে চীনের বিভিন্ন শহরেও নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। রোববার জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেনস স্পাহান জানান, জার্মানিসহ জি-৭ জোটের সবগুলো দেশেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষ পাওয়া গেছে। এই জোটের অন্য সদস্য দেশগুলো হচ্ছে- কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তারা যৌথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছেন বলেও জানান জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এদিকে থাইল্যান্ডে ইতোমধ্যে ১৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। রোববার দেশটির চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ও এইচআইভির ওষুধ একসঙ্গে মিশিয়ে তা দিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত চীনের বয়স্ক এক ব্যক্তির চিকিৎসা করেছেন এবং এতে তার অবস্থার নাটকীয় উন্নতি হয়েছে। চিকিৎসা দেওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পর ওই ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং প্রাণহানি বাড়তে থাকায় গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এরপর এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশগুলো ব্যাপক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়। এর অংশ হিসেবে চীন সফর করা বিদেশিদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ইসরায়েল। এ ছাড়া দেশগুলো তাদের নিজেদের নাগরিকদের চীন ভ্রমণ না করার জন্য সতর্কও করেছে। এর বাইরে মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া ও নেপাল তাদের স্থলসীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে।এ ছাড়া পাপুয়া নিউগিনি সমুদ্র ও বিমানবন্দর দিয়ে এশিয়া থেকে কারও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। | 3 |
একটা-দু'টা নয়, সাত সাতটা বিয়ে করেছিলেন মুম্বাইয়ের থানার কনস্টেবল। দিব্যি ছিলেন। তবে শেষে স্ত্রীর অভিযোগেই খোয়া গেল চাকরি, বরখাস্ত হতে হলো কর্মস্থল থেকে। কীর্তিমান পুলিশ কনস্টেবলের নাম সূর্যকান্ত কদম। তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাতটা বিয়ে পুলিশ সদস্যের! লুকোনো ছিল তিন দশক। পুলিশ জানিয়েছে, গত সোমবার সূর্যকান্তের সাতটি বিয়ের খবর সামনে আসে। স্ত্রীরা কদমের অন্য বিয়ের খবর জানতে পারেন। মধ্যবয়সী কদমের কীর্তি সামনে আনেন স্ত্রীদের মধ্যে একজন। ভারতের বিভিন্ন জেলায় বিয়ে করে স্ত্রীদের রেখে দিয়েছিলেন কদম। পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে সূর্যকান্ত কদম নামে পুলিশ কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এবং বিভাগীয় তদন্তের পর দোষী সাব্যস্ত হলে জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হবে। পরিবার ও পড়শি সূত্রে খবর, গত ২৮ বছর ধরে সাতজন নারীকে বিয়ে করেছেন কদম। শেষ বিয়ে করেছেন ২০১৪ সালে। প্রথম বিয়ে করেন ১৯৮৬ সালে। তারপরে ১৯৯২, ১৯৯৩, ১৯৯৫, ১৯৯৮, ২০০৭ ও ২০১৪ সালে শেষবার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন কদম। নারীরা সকলেই থানে ও তার আশপাশের এলাকার বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতবছর ধরে এতগুলি বিয়ে করার পরও কীভাবে এতদিন তা গোপন রেখে দিতে পেরেছিলেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য তা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। বিডি প্রতিদিন/১০ জানুয়ারি ২০১৮/আরাফাত | 3 |
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বলেছেন, কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেনীতে পরিকল্পিতভাবে মন্দিরগুলোতে হামলা ও পুরোহিতকে মারধর করেছে একটি সরকার বিরোধি চক্র। এরা একেক সময় একেক জেলায় এমন সাম্প্রদায়িক হামলা করে দেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চায়। সোমবার (১৮ অক্টোবর) সকালে ফেনীর বড় মসজিদ, কালী মন্দির ও রাজ মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। আনোয়ার হোসেন আরো বলেন, সম্প্রীতির এ দেশে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এসব ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। যারা আটক হয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং সিসি ফুটেজ দেখে সকল হামলাকারীকে আইনের আওতায় আনা হবে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ফেনীর পুলিশ সুপার খন্দকার নুরুন্নবী, ফেনীর পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শুসেন শীল, ফেনী জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, সাধারন সম্পাদক লিটন সাহা , কালী মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তপন ধর প্রমুখ। কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার সন্ধায় ফেনীর ট্রাংক রোডে ব্যপক সংঘর্ষ হয়। এসময় বড় মসজিদ, কালী মন্দির , তাকিয়া রোডের ১২টি দোকান ও বাজারের রাজ মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় দুটি মামলা হয়। এতে জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ ও র্যাব। | 6 |
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যেতে হলে নতুন করে আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীতে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন-ক্র্যাবের অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে আছে শর্তযুক্ত, শর্তমুক্ত। খালেদা জিয়ার দরখাস্ত শর্তযুক্ত শর্তে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। সরকারকে আইনের মধ্যে থেকে কাজ করতে হয়। ওই দরখাস্ত পুনর্বিবেচনা করে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগের কথা। কিন্তু সেই দরখাস্ত নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। আমি বারবার বলে আসছি, একটা নিষ্পত্তি করা দরখাস্ত, আইন অনুসারে পুনর্বিবেচনা করার ক্ষমতা আমার নাই। আইনমন্ত্রী বলেন, পুনরায় যদি একটি দরখাস্ত করা হয় সেটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। আমি এখানেও বলছি, সংসদেও বলেছি। শর্তযুক্ত শর্তে তিনি সাজা স্থগিতে যে মুক্তি পেয়েছেন সেটি যদি না মেনে পুনরায় জেলের যেতে চান সেটাও হতে পারে। কিন্তু এই অবস্থায় ফৌজদারি কার্যবিধির কোথাও নাই যে, তাকে আমরা আগের দরখাস্ত বিবেচনা করে বিদেশ যাবার সুবিধা করে দিতে পারি, সেটা নাই। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, যে মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন সেটি কিন্তু আওয়ামী লীগ করে নাই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলা হয়েছে। ২০১২ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন সেই মামলার প্রতিবেদন দেয়। মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলাকালীন তারা অন্তত দশবার হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে আবেদন করেছে মামলা স্থগিত করার জন্য। অনেক বিচারকের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন। সব কিছুর পর রায় হয়েছে। একটি মামলায় বিচারিক আদালতে সাজা পাঁচ বছর, হাইকোর্টে সেটি বেড়ে ১০ বছর হয়েছে। আরেকটা মামলায় পরে খালেদা জিয়ার সাত বছর সাজা হয়েছে। | 6 |
আইফোনের গ্যালারি থেকে ৭ হাজার ছবি ও ৫০০ ভিডিও গায়েব হয়ে গেছেপশ্চিমবঙ্গের সাংসদ-অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর। এ ঘটনায় তিনি "কাঁদবেন নাকি আরও জোরে কাঁদবেন" তা জানেন না তিনি! ৩২ বছর বয়সী এ অভিনেত্রী তার ফোনের গ্যালারি পুনরুদ্ধারের জন্য আইফোনের প্রস্তুতকারক অ্যাপলকেই অনুরোধ জানিয়ে একটি টুইট করেছেন। অ্যাপলকে ট্যাগ করে দেওয়া ওই পোস্টে মিমি বলেন, "৭ হাজার ছবি। ৫০০ ভিডিও। সবগুলোই গ্যালারি থেকে মুছে গেছে। আমি জানি না কী করব, কাঁদব নাকি আরও জোরে কাঁদব!" মিমি আরও জানান, ছবিগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য সম্ভাব্য সব উপায়েই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, গত সেপ্টেম্বরেই একটি আইফোন ১৩ ফোন কিনেছিলেন মিমি। এদিকে, সাহায্যের জন্য টুইটারে দেওয়া মিমির পোস্টে বিভিন্ন মন্তব্য করেছেন তার ভক্তরা। অনেকেই তাকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে গ্যালারি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করলেও "একজন সাংসদের কাছ থেকে এমন টুইটের আশা করেন না," জানিয়ে সমালোচনা করেছেন অনেকেই। এক টুইটার ব্যবহারকারী উপহাস করে লিখেছেন, "হাজার হাজার শিশু স্কুল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে, চাকরি হারিয়েছেন অনেক মানুষ, ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে আর এমপি ম্যাডাম কেবল তার ছবি এবং ভিডিও নিয়েই চিন্তিত।" আরেকজন লিখেছেন, "ভালোই হয়েছে। এবার হয়ত আপনার জনগণের সেবার মনোযোগ দেওয়ার সময় হবে।" উল্লেখ্য, মিমি চক্রবর্তী যাদবপুরের সাংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। গত জুন মাসেই মিমি এক ছদ্মবেশী আইএএস অফিসারের মাধ্যমে নকল কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। | 2 |
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে সরকারি রোটারি ডিগ্রি কলেজে রাশিদা হামিদ ছাত্রীনিবাস উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভবনটি উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদের স্ত্রী রাশিদা হামিদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশিদা হামিদ বলেন, 'শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। সরকার শিক্ষার প্রসার বিশেষত মেয়েদের শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। আমরা জানি, শিক্ষার পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সরকার এ লক্ষ্যে শিক্ষার সকল স্তরে গুণগত মানোন্নয়নে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাধ্যমিক স্তর থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান, বেতন মওকুফ, বই কেনার জন্য এককালীন আর্থিক সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।' কলেজের অধ্যক্ষ মোজতবা আরিফ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক, তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুন্নাহার নেলী, অষ্টগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর হায়দরী বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা.বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন, অষ্টগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 6 |
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অংশগ্রহণের জন্য তরুণ প্রজন্মকে আইসিটি শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল বাংলাদেশের বীজ বপন করেছিলেন ১৯৭৪ সালে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশের চারা রোপন করেছেন। এর সুফল জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে আমরা সকলে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে অংশগ্রহণ করছি।শুক্রবার রাতে বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি আয়োজিত 'চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও ডিজিটাল বাংলাদেশ' শীর্ষক এক বিশেষ ওয়েবিনার সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়েবিনার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন। তিনি বলেন, আইসিটি শিক্ষায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বৃদ্ধি পেলে দেশ কয়েক বছরের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। বর্তমান সরকার এ পর্যন্ত ১২ টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে আমাদেরকে যোগ্য হিসেবে অংশগ্রহণের পথ সৃষ্টি করে দিয়েছেন।ওয়েবিনারে আরও যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. হাফিজ মো. হাসান বাবু, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাসিম আক্তার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. রামেশ্বর দেবনাথ, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির জেনারেল সেক্রেটারি মো. তমিজউদ্দিন আহমেদসহ বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটির সদস্যরা। | 6 |
ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামীকাল সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটায় আনুষ্ঠানিকভাবে মহাজোটের তিনশ' আসনের দলীয় মনোনয়নের তালিকা প্রকাশ করা হবে।তিনি বলেন, 'বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলীয় কার্যালয়ে আজ অনানুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বাক্ষর সম্বলিত প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। যে সকল আসনে জোটের শক্তিশালী প্রার্থী নেই বা আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী রয়েছে সে আসনগুলোতেই দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে।' সেতুমন্ত্রী কাদের আরো বলেন, জোটের শরীকদের ৬৫ থেকে ৭০টি আসন দেয়া হবে। তবে এ সংখ্যা ৭০'র বেশি হবে না। ওবায়দুল কাদের রোববার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়নের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্য নির্বাহী সংসদের সদস্য এস এম কামাল হোসেন ও মারুফা আক্তার পপি উপস্থিত ছিলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, আসন বন্টন নিয়ে শরীকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ২৩০ টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চুড়ান্ত করা হয়েছে। এ আসনগুলোতেই দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দেয়া হয়েছে।তিনি বলেন, তবে ২৩০ টি আসনে দলীয় মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হলেও প্রয়োজনে প্রার্থীর ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই মনোনয়নের চিঠি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের স্বাক্ষর সম্বলিত সম্মতিপত্রও রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, বিএনপি সুপরিকল্পিতভাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি), প্রশাসন, পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের মতলব হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), প্রশাসন ও পুলিশকে বিতর্কিত করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা।দলীয় মনোনয়নের চিঠি পাওয়াদের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে কিনা জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, প্রয়োজনে পরিবর্তন আসতে পারে। সময় ও পরিস্থিতি ডিমান্ড করলে এ সকল আসনেও পরিবর্তন আসতে পারে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি পরাজিত হবেই। কারণ, দেশের মানুষ স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সঙ্গে থাকতে পারে না। তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, উন্নয়নের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই বিজয়ী করবে। বিএনপি ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রমাণ পাবে।তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত আবার ক্ষমতায় এলে ২০০১ সালের চেয়েও ভয়ংকর রূপে আর্বিভূত হবে। নয়াপল্টনের তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে মনোনয়ন ফরম বিতরণকালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে, পুলিশকে আহত করে, পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়ে ও গাড়ীর ওপর নৃত্য করে তারা তা দেখিয়ে দিয়েছে। | 9 |
বেতাগী উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ঠিকমতো সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। বেশির ভাগ ক্লিনিকে ওষুধের সংকট। নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও লোকবল। কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ ঠিক থাকে না। অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার কারণে এসব ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।সদর ইউনিয়নের ছোট কেওড়াবুনিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছিলেন বটতলা গ্রামের গৃহবধূ ইয়াসমিন বেগম। রোদে পুড়ে ক্লিনিকে আসার পর সিএইচসিপি (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) জানালেন ডায়াবেটিস এবং প্রেশার মাপার যন্ত্র নষ্ট। মন খারাপ করে ফিরে যাওয়ার সময় ইয়াসমিন বলেন, 'দুই দিন ধরে শরীরটা খারাপ যাচ্ছে। আমি ডায়াবেটিকের রোগী। এসেছিলাম প্রেশার এবং ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে। সামান্য ডায়াবেটিস ও প্রেশার যদি পরীক্ষা করতে না পারি, তাহলে হাসপাতালে (ক্লিনিক) এসে লাভ কী?'ছোট কেওড়াবুনিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি বিয়াম্মাতুমুল সীমা বলেন, 'বেশ কিছুদিন ধরে প্রেশার, ডায়াবেটিস ও ওজন মাপার মেশিন নষ্ট হয়ে আছে। মেশিন ঠিক না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সেবা দিতে পারছি না।'শুধু কেওড়াবুনিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে নয়, উপজেলার ১৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রায় প্রতিটিতেই এমন পরিস্থিতি। এগুলোতে নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও লোকবল। অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার কারণে এসব ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।।জানা যায়, গ্রামের হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৩ সালে সারা দেশে চালু করা হয় কমিউনিটি ক্লিনিক। কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবল না থাকা, অবকাঠামোগত সুবিধার অভাব আর প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অন্যান্য উপকরণ না থাকায় স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না বেতাগী উপজেলার ক্লিনিকগুলোতে। আর প্রয়োজনীয় তদারকি না থাকায় অনেক কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সময় মতো অফিসে পাওয়া যায় না। অনেকে অফিসে আসেন দেরিতে, আবার ক্লিনিক ছাড়েন নির্ধারিত সময়ের আগে। ফলে ক্লিনিকগুলোতে আসা রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।গত রোববার দুপুরে সরেজমিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের ঝোপখালী কমিউনিটি ক্লিনিক, মোকামিয়া ইউনিয়নের মোকামিয়া করুনা কমিউনিটি ক্লিনিক ও বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের দক্ষিণ করুনা কমিউনিটি ক্লিনিক তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সিএইচসিপি না থাকায় ঝোপখালী কমিউনিটি ক্লিনিকটি দুই সপ্তাহ থেকে বন্ধ রয়েছে।ঝোপখালি গ্রামের বাসিন্দা রুস্তম আলী মুসুল্লি বলেন, 'আমাদের ক্লিনিকের তিন বছর ধরে সিএইচসিপি পদে কেউ নেই। ওই পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে যিনি আছেন তিনি টিকা কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তিনি যেদিন সময় পান ওই দিন এসে ক্লিনিক খোলেন। 'ঝোপখালী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি'র দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্য সহকারী মো. সোহেল বলেন, 'সিএইচসিপি পদে কেউ না থাকায় আমাকেই সব কাজ করতে হয়। বর্তমানে টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকায় ক্লিনিকে যেতে পারি না। তাই বাধ্য হয়েই ক্লিনিক বন্ধ রাখতে হয়।'বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. তেন মং বলেন, 'শুরুর দিকে ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান ভালো ছিল। বর্তমানে সিএইচসিপিদের অবহেলা ও নানা ধরনের সংকটে ক্লিনিকগুলোতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। তবে, এমন পরিস্থিতিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' | 6 |
ঘড়ির কাঁটায় রাত ৯টা বাজতেই ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান চালুর তোড়জোড় শুরু হয় সাদেকের। সকল ব্যবসায়ীরা যখন সারা দিনের কর্মক্লান্তির অবসান ঘটিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়ির পানে ছোটেন, ঠিক সেই সময়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের কলেজ রোডের মুখে ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান খুলে বসেন তিনি। তাঁর দোকান বসার সঙ্গে সঙ্গেই চা খেতে সেখানে ছুটে আসেন নানা বয়সী মানুষ। উপস্থিত সকলের চাহিদা অনুসারে তাঁদের হাতে হাসি মুখে তুলে দেন চা।ভ্রাম্যমাণ এই দোকানির অধিকাংশ ক্রেতাই শুধু চা খেয়েই তৃপ্ত হন। আবার অনেকে চায়ের সঙ্গে জমিয়ে বিস্কুট, কেক কিংবা ঝালমুড়ি মুখে দিয়ে খিদে মেটান। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মন্দির সড়কে (কলেজ রোড) দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে প্রতি রাতেই চলছে 'সাদেক নাইট স্টোর' নামে সাদেকের ভ্রাম্যমাণ চায়ের দোকান। এই দোকান করেই সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়েছেন সাদেক (৫৭)। নিজ বাড়িতে করেছেন পাকা দালান ঘর। স্ত্রী সুফিয়া বেগম, ছেলে মারুফ (২০) ও শারুফের (১৩) যাবতীয় ভরণ-পোষণ ও ছেলেদের পড়াশোনা সকল খরচই চালাচ্ছেন মধ্যরাতের এ চা দোকানের মাধ্যমে।সাদেক আজকের পত্রিকার সঙ্গে আলাপকালে বলেন, সীতাকুণ্ড পৌর সদরের চৌধুরীপাড়া এলাকায় তাঁর বাড়ি। তাঁর বাবা নুরুল আলমের উৎসাহে ১৯৮১ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন। কিন্তু পরীক্ষার পর পরেই তাঁর বাবার মৃত্যুতে থেমে যায় লেখাপড়া। | 6 |
শুভ সংবাদ বাতাসের আগে যায়। না, শুধু কোরবানির ঈদ নয়, লকডাউনও শিথিল হয়েছে। সরকার আজ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে আগামী ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ থাকবে না। ঈদুল আজহা উদ্যাপন, জনসাধারণের যাতায়াত, ঈদ পূর্ববর্তী ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, দেশের আর্থসামাজিক অবস্থা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে এত দিনের আরোপিত সব বিধিনিষেধ শিথিল করা হলো। এই সময় সবাইকে মাস্কসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।আগামী ২১ জুলাই উদ্যাপিত হবে ঈদুল আজহা। আর ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে আবার আরোপ হবে কঠোর বিধিনিষেধ। এই ঘোষণায় চিন্তায় পড়ে গেছেন অনেকে। অনেকেই ভাবছেন-বাড়ি তো যাব, কিন্তু আসব কীভাবে। গেলে ঈদের পরের দিন আসব, একটু দু-চার দিন থেকে না এলে কেমন হয়। আর কোরবানির ঈদে মাংস তো আর একদিনে শেষ করা যাবে না। এই সব চিন্তায় যাদের মাথায় তালগোল পাকিয়ে গেছে, তাঁদের জন্য আছে সহজ সমাধান-বিয়ারিং গাড়ি: শৈশব নিয়ে হা হুতাশ করে তো অনেক দিন কাটালেন। এবার শৈশবকে বুকে টেনে নিন। মনে রাখুন-বিধিনিষেধের আওতার মধ্যে এই গাড়ির নাম নেই। তাই বিনা বাধায় আপনি এই গাড়ি নিয়ে ঢাকায় আসতে পারবেন। বিয়ারিং গাড়ি যেহেতু একটি সামাজিক গাড়ি, তাই অন্তত দুজন আসতে হবে। ইচ্ছে করলে আরও দু-একজনকেও সঙ্গে নিতে পারেন। তবে একা নৈব চ নৈব চ। কারণ, বিয়ারিং গাড়ি 'একলা চলো' নীতি মানে না। মানলে, গাড়িতে চড়ে অনন্তকাল বসেই থাকতে হবে। সুতরাং ফুসলিয়ে একজন বন্ধুকে রাজি করান, যে আপনার বসে থাকার সময়ে পেছন থেকে ধাক্কা দেবে। এটি সহযোগিতা ও সহানুভূতির মূল্যবোধকেও জাগিয়ে তুলতে পারে, যা এই করোনাকালে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। যা হোক একটি বিয়ারিং গাড়িতে করে পালাক্রমে পরস্পরকে ঠেলা-ধাক্কা দিয়ে ঢাকায় বা চট্টগ্রাম শুধু নয়, পৃথিবীর যেখানেই আপনার কর্মক্ষেত্র হোক, সেখানে নির্বিঘ্নে ফিরতে পারবেন। যারা উত্তরবঙ্গে থেকে আসবেন তাঁদের জন্য এই যানবাহন খুব কাজে দেবে, যেহেতু কোনো 'পানিপথ' নেই।সাঁতার কেটে: বলা হয়েছে লঞ্চ-স্টিমার চলবে না। কিন্তু সাঁতার কাটতে তো মানা নেই। এ জন্য আপনাকে একটি টেকসই লুঙ্গি বা অনুরূপ ঢিলেঢালা, কিন্তু বিশ্বস্ত পোশাক ব্যবহার করতে হবে। যখন সাঁতার কাটতে কাটতে ক্লান্ত হয়ে যাবেন, তখন লুঙ্গিটি বাতাসে ফুলিয়ে পানিতে ভেসে ভেসে থাকবেন। এভাবে আপনি বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ঢাকায় আসতে পারবেন।টারজান পদ্ধতি: এ জন্য কিছুটা প্রশিক্ষণ লাগবে। শুরুতেই হাত, পা ইত্যাদিকে সচল করতে একটু ব্যায়াম করে নিন। ঘরের পালা বা বিম ধরে ঝুলে থাকুন যতক্ষণ পারেন। পারলে ঈদের খাবার-দাবারও সারুন ঝুলন্ত অবস্থায়। ডাইনিং টেবিলের বদলে গাছের মগডালে বসে দুপুর বা রাত-অন্তত এক বেলার খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দেখবেন নিজের ভেতরের সত্তাটি বেরিয়ে এসেছে। নিজেকে 'আত্মশক্তি' জেগে উঠেছে। এবার পুরো প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে, বাজারে গিয়ে টারজানের পোশাক কিনুন। বাড়ি গিয়ে সবচেয়ে দুষ্ট বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটান। তারা যা যা করে, তাই করুন নির্দ্বিধায়। ভয় পাবেন না, ঘাবড়ে যাবেন না। খেয়াল করুন সেই শিশুটিকে, যার ছায়া মাড়াতে আগে আপনি ভয় পেতেন। মনে রাখুন, তার ভেতরেই রয়েছে আপনার শিক্ষক হওয়ার সব গুন। দেখুন সে কীভাবে এক ঘর থেকে আরেক ঘরে দ্রুত চলে যাচ্ছে। হ্যাঁ, এটিই আপনার শহরে ফেরার টারজান পদ্ধতি।বন্ধুর সাইকেল: অন্য যানবাহনের মতো সাইকেলকে তেমন গুরুত্ব দেয় না পুলিশ ও সেনাবাহিনী। দেখা গেল ট্রাক থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল-সব যানবাহন আটকানো হচ্ছে। অথচ পাশ দিয়ে ফুশ করে চলে যাচ্ছে সাইকেল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সুনজর ছাড়াও সাইকেলে আছে আধ্যাত্মিকতাও-'জীবন একটা দুই চাকার সাইকেল'। আর যেহেতু জীবনের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ হচ্ছে শহর, গ্রাম, করোনা, চেকপোস্ট ইত্যাদি, তাই সাইকেলে চড়ে নিঃসন্দেহে শহরের পথে দেওয়া যাবে সহজ পাড়ি। তবে এ ক্ষেত্রে নিজের নয়, বন্ধুর সাইকেল নিয়ে রওনা হোন। এতে করে পথের ক্লান্তি মেটাতে বন্ধুও যোগ দিতে পারে আপনার সঙ্গে। সঙ্গ পাবেন, সঙ্গে চালকও। আর নিতান্তই বন্ধুকে না পাওয়া গেলেও ক্ষতি নেই। সাইকেলটি তো পেলেন। পুরো পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে বন্ধুর কাছ থেকে এই সাইকেল হরণ আপনাকে বিশেষ উৎসাহ জোগাবে। | 5 |
গাজীপুরের শ্রীপুরে যৌতুক না পেয়ে গভীর রাতে সাউন্ডবক্সে উচ্চ স্বরে ওয়াজ বাজিয়ে স্ত্রী খুশি আকতারের (২১) ওপর নির্যাতন চালায় স্বামী। নির্যাতনের পর গৃহবধূর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মাওলানা শরিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। গত বুধবার রাতে গাজীপুরের শ্রীপুর থানায় বাদী হয়ে এমন একটি লিখিত অভিযোগ করেন গৃহবধূর বাবা হাসেন আলী।এর আগে শনিবার রাত ৩টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নতুনবাজারের আনছার রোড এলাকার বয়রাসালায় এ ঘটনা ঘটে।নির্যাতনের শিকার খুশি আকতারের বাড়ি গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের বদলাগাড়ি গ্রামে। তিনি স্বামী মাওলানা শরিফ মাহমুদের সঙ্গে শ্রীপুরের বয়রাসালায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।খুশির পরিবার জানায়, পারিবারিকভাবে ২০১৯ সালের ১২ জুন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় এলাকায় মাওলানা শরিফ মাহমুদের সঙ্গে বিয়ে হয় খুশির। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে শ্রীপুরে যান শরিফ। সেখানে স্থানীয় ইয়াকুব আলী জামে মসজিদে ইমামতি শুরু করেন তিনি। কিন্তু আর্থিক দৈন্যদশা ও পরকীয়ায় লিপ্ত হন শরিফ। কিছুদিন ধরে স্ত্রী খুশিকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছিলেন তিনি। গত শনিবার রাতে স্ত্রীর কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন শরিফ। এ সময় টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে, পরকীয়ার ঘটনা বলায় মারপিট শুরু করেন শরিফ। এরপর রাত ৩টার দিকে উচ্চ স্বরে সাউন্ডবক্সে ওয়াজ বাজিয়ে খুশির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে খুশির চিৎকারে পাশের রুমের এক নারী এসে প্রতিবেশীদের সহায়তায় খুশিকে উদ্ধার করেন।ঘটনার রাতে মোবাইলে খবর পেয়ে গাইবান্ধা থেকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায় তাঁর পরিবার। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আগুনে খুশির শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রায় ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তবে বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।মেয়েটির বাবা হাসেন আলী বলেন, 'টেকার জন্যে ছোলটাক (খুশি) আগুনত ফেলে মারবের চাছিলো (চেয়েছিল)। বহুত টেকা দিছি এই দুই বছরে। তাও ছোলটেক মারডাং (মারধর) করত সে (শরিফ)।'খুশি আকতার বলেন, 'অন্য মেয়েদের সাথে ইয়ে করত, কথা বলত। সেগুলো আমি সহ্য করতে পাই নাই। অনেক মারধর করছে ওই রাতে। সেদিন খাটে শুইতেও দেয়নি। পরে মেঝেতে ঘুমাই। হুট করে ঘুম থেকে উঠে দেখি দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে, আর ওয়াজ বাজছে।'রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. এম এ হামিদ পলাশ জানান, তার নাভির নিচ থেকে পা পর্যন্ত দশ শতাংশ পুড়ে গেছে। এ ছাড়াও ব্রেস্টের কিছু অংশ পুড়েছে। আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। সুস্থ হতে সময় লাগবে।এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমাম হোসেন বলেন, 'অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
ওফরিদপুরের সালথায় সহিংসতার ঘটনায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো: ওয়াহিদুজ্জামানকে (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টায় ডিবি পুলিশের একটি দল ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় ওয়াহিদুজ্জামানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ। ওয়াহিদুজ্জামান উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাই মোল্যার ছেলে। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার আলীমুজ্জামান বলেন, সালথায় সরকারি অফিসে তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া সাত আসামির আদালতে দেয়া স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওয়াহিদুজ্জামানের নাম উঠে আসায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাণ্ডবের ঘটনায় সালথা থানা পুলিশের এসআই মিজানুর রহমানের দায়ের করা মামলায় ওয়াহিদকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, লকডাউনকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনায় গত ৫ এপ্রিল সালথা উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সরকারি অফিসে হামলা করে উত্তেজিত জনতা। এ সময় দুটি সরকারি গাড়িসহ কয়েকটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা। এ ঘটনায় দুই যুবক নিহত হয়। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত সালথা থানায় সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ৯২ জনকে। | 6 |
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ করার ভাবনাচিন্তা করছে আফগানিস্তান। অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে অক্টোবরের শুরুতেই একেবারে প্রথম সপ্তাহে ওই সিরিজটি আয়োজন করতে চাইছে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে ১৭ অক্টোবর। তার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে আইপিএল রয়েছে। ক্রিকেটের একেবারে ঠাঁসা সূচি। এর মধ্যেই আবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ভাবনা রয়েছে আফগানিস্তানের! আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, হোবার্টে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একমাত্র যে টেস্ট ম্যাচটি ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা, সেটি নির্ধারিত সময়েই হবে। এবং আফগানিস্তান টিম সেই টেস্ট ম্যাচ খেলবে। এসিবি সিইও হামিদ শিনওয়ারি জানিয়েছেন, কাতার না সংযুক্ত আরব আমিরাত কোথায় এই ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করা সম্ভব হবে, সেটা নিশ্চিত হলে তবেই সিরিজ নিয়ে নিশ্চয়তা দিতে পারবে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। শিনওয়ারির দাবি, 'আশা করছি, ত্রিদেশীর সিরিজ খেলতে আমাদের দল বিদেশে যাবে। এবং আমরা অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ দু'টি দেশকে এই সিরিজ খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানাতে পারব।'সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস | 12 |
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা ঘরোয়া লিগ দুটোতেই এখন খারাপ সময় যাচ্ছে বার্সেলোনা পুরুষ দলের। তবে এদিক দিয়ে চলতি মৌসুমে পুরোপুরি ব্যতিক্রম বার্সার মেয়েরা। তারা ঘরোয়া প্রতিযোগিতা জয় করেছে অপরাজিত থেকে। অবিশ্বস্য হলেও তারা লিগে ২৬টি ম্যাচ খেলে সবগুলোতেই জয় তুলে নিয়েছে। ঘরোয়া লিগে এমন সাফল্য পাওয়ার পর তাদের লক্ষ্য ছিল ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন হওয়া। সে লক্ষে তারা পৌঁছে যায় নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জায়গা করে। ফাইনালে তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে পায় ইংলিশ ক্লাব চেলসিকে। এ ম্যাচে বার্সার মেয়েরা চেলসিকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয়। ম্যাচের মাত্র ১ মিনিটের সময় চেলসির মেলানি লিওপোজের আত্মঘাতী গোল থেকে এগিয়ে যায় বার্সা। এরপর ১৪ মিনিটের সময় পেনাল্টি থেকে অ্যালেক্সিয়া পুতেলাস গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। খুবই অল্প সময়ের মধ্যে দুটি গোল হজম করা চেলসি দম ফেলানোর ফুসরতও পায়নি। এর আগেই তৃতীয় গোলটি তুলে নেয় বার্সা। তাদের হয়ে ম্যাচের ২০ মিনিটের সময় তৃতীয় গোলটি করেন আইতানা বোনমাতি। এরপর ৩৬ মিনিটের সময় ক্যারোলিন গ্রাহাম হেনসেন দলের চতুর্থ গোলটি করেন। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার আগেই চারটি গোল হজম করায় তখনই শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় চেলসির। আর অনেকটা নির্ভার হয়ে যায় বার্সা। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের কেউই আর গোল করতে পারেনি। ফলে বার্সার মেয়েরা ৪-০ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপ সেরা হয়। এদিকে চেলসির মেয়েদের পাশাপাশি এবার চেলসির পুরুষ দলও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। এর মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই ক্লাবের পুরুষ ও নারী দল ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল। এর মাধ্যমে চেলসির নারী দল এমনিতেই ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারা যদি শিরোপা জয় করতে পারত, তাহলে বিষয়টি আরো ভালো হতো। এখন ২৯ মে চেলসির পুরুষ দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে আরেক ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির। এখন দেখার বিষয় তাদের পুরুষ দল ইউরোপ সেরা হতে পারে কিনা। | 12 |
বরগুনায় শহীদ গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, প্রদীপ প্রজ্বালন, আনন্দ শোভাযাত্রা, গণসংগীত ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আজ ৩ ডিসেম্বর বরগুনা হানাদার মুক্তদিবসের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় বরগুনার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গণকবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর মল্লিক, পৌর মেয়র আ্যাড. কামরুল আহসান মহারাজ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, খেলাঘর, মহিলা পরিষদ, উদিচী, বিডিক্লিন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, মুক্তিযোদ্ধাসহ সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 6 |
কুমিল্লার বরুড়ার ঝলম ইউনিয়নের ঢেউয়াতলিতে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১৫টি মোটরসাইকেল অগ্নিসংযোগসহ বাড়িঘরে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকালে এই ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল ইসলামের লোকেরা প্রচারণায় বের হয়। এসময় তারা ঢেউয়াতলি কেন্দ্রের সামনে তাদের মোটরসাইকেল রেখে গ্রামের ভিতরে প্রচারণার জন্য যায়। কয়েকজন যুবক গিয়ে মোটরসাইকেলে ভাঙচুর শুরু করে। পরে নুরুল ইসলামের লোকেরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় নুরুল ইসলামের সমর্থকদের বেশ কিছু মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। নৌকার প্রার্থী খায়রুল আনাম ইয়াকুব বলেন, আমি ছিলাম উপজেলাতে। আমাদের আজকের কোনও কর্মসূচি ছিল না। আমরা কোনও হামলা চালাইনি। চশমা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল বাতেন আর স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুল ইসলামের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে আমাদের কোনও ভূমিকা ছিল না। বরুড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়েছি বরুড়ার ঝলমের ঢেউয়াতলিতে সংঘর্ষ হয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারকে কল দিয়েছি। তিনি সেখানে আছেন। তিনি আরও বলেন, ঝলম ইউনিয়নে ঢেউয়াতলি কেন্দ্রের নির্বাচন সংঘর্ষের কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। ৩০ ডিসেম্বর এই কেন্দ্রের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করার কথা রয়েছে। বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনিসুল ইসলাম বলেন, ঝলমের স্থগিত কেন্দ্রের নির্বাচনী প্রচারণায় তিন প্রার্থীর লোকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ঘটনায় ১৫টির মতো মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বরুড়া, সদর দক্ষিণ ও লালমাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশান্ত পাল বলেন, আমি নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত। ওসিকে নির্দেশ দিয়েছি ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। উল্লেখ্য, কুমিল্লার বরুড়ায় ২৮ নভেম্বর উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের ডেউয়াতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সারোয়ার ভূঁইয়া এবং পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবু হানিফকে ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
উত্তরের ছোট্ট জেলা পঞ্চগড়। আগে অবশ্য জেলা ছিল না। ছিল দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমার একটি থানা। গত শতকের আশির দশকে স্বৈরশাসক এরশাদ ক্ষমতায় এসে অনেকগুলো নতুন জেলা বানালে পঞ্চগড় জেলার মর্যাদা পায়। এই জেলার একটি উপজেলা বোদা। এই নামটি নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের কারও কারও আপত্তি আছে। এতে বোদাবাসী কোনো পরোয়া করে না। কারণ, এই নামের একটি ইতিহাস আছে। এক সময় ছিল নদী বন্দর। পাথরাজ ও ঝিনাইকুড়ি নদীর তীরে বোদা বন্দর। ছোটবেলায় আমরাও শুনেছি গ্রামের মানুষ বলতেন, 'বন্দর যামো'। এই বোদার একটি বাড়ির কথা ঈদের অবসরে পাঠকদের জানানোর লোভ সংবরণ করতে পারলাম না।আমাদের বালকবেলায় দূর অঞ্চলের কেউ এই এলাকায় বেড়াতে এসে যদি বোদার কোনো বিখ্যাত বাড়ির কথা জানতে চাইতেন, তাহলে তাঁকে নিশ্চিতভাবে বলা হতো 'কারকুন বাড়ি'-এর কথা। এই বাড়ি নিয়ে কিছু কথা।কারকুন বাড়ির কর্তা হিসেবে আমরা পেয়েছি যোগেন চন্দ্র কারকুনকে। যোগেন কারকুনের বাবার নাম ত্রৈলোক্যনাথ খাঁভাদুরী, ছোট ভাইয়ের নাম সুরেন্দ্রনাথ খাঁভাদুরী। এক পরিবারে দু-রকম পদবি হলো কী করে? এ প্রশ্নের সঠিক জবাব দেওয়ার লোক এখন আর পাওয়া যাবে কি-না, আমি জানি না। তবে আমার অনুসন্ধানে দুটি তথ্য বেরিয়েছে। ১. যোগেন বাবুও খাঁভাদুরী পদবি লিখতেন। কিন্তু কুচবিহার মহারাজা তাঁকে তাঁর জমিদারি তদারকির জন্য 'কারকুন' উপাধি দিয়েছিলেন বলে তিনি খাঁভাদুরী ত্যাগ করে কারকুন ব্যবহার শুরু করেন। ২. জনৈক কারকুন পদবিধারী জমিদার যোগেন বাবুকে তার বালকবেলায় দত্তক নিয়েছিলেন। তখন থেকেই তিনি কারকুন পদবি ব্যবহার করেন। ওই দত্তক গ্রহণকারীর জমিদারি যোগেন বাবু উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। তাঁর বাবার আসলে জমিদারি ছিল না।এই দুই তথ্য নিয়ে এখন আর বিভ্রান্তি তৈরির কিছু নেই। আমরা যোগেন বাবুকে কারকুন হিসেবেই জানি এবং আমাদের কাছে তাঁর বাড়িটি কারকুন বাড়ি হিসেবেই পরিচিত।ত্রৈলোক্যনাথ খাঁভাদুরীকে মানুষ 'পাগলা মাস্টার' বলে কেন ডাকত? সম্ভবত তিনি কিছুটা পাগলাটে স্বভাবের ছিলেন। পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও অঞ্চলে কারও কারও নামের শেষে 'পাগলা' শব্দের ব্যবহার দেখা যায়। যেমন ফইম পাগলা, সিরাজ পাগলা ইত্যাদি।ত্রৈলোক্যনাথ বাবু ছিলেন পরোপকারী মানুষ। কেউ বিপদে পড়লে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন। অভাবী মানুষকে সহায়তা করতেন। কখনো কখনো নিজের সামর্থ্যের কথা খুব একটা চিন্তা না করেও। দুটো ঘটনার কথা বললে তাঁর পাগলামির কিছুটা নমুনা পাওয়া যাবে। বোদা হাইস্কুল প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানের কথা বলেছি। স্কুলের আর্থিক সংকট দেখা দিলে তিনি স্থির থাকতে পারতেন না। বলতেন, 'বেচাও গাছ, বাঁচাও স্কুল'। তাঁদের শাল বাগান ছিল। ওই বাগান থেকে শাল গাছ বিক্রি করে স্কুল তহবিলে টাকা দিতেন। তাঁদের শাল বাগানের কিছু অংশ আমরাও দেখেছি। এখন সম্ভবত কারকুনদের শাল গাছ আর নেই।একবার যোগেন বাবু বোদা ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট পদে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। হয়তো সেটা দেশ ভাগের আগে। তখন পর্যন্ত সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা চালু হয়নি। মানুষ এক জায়গায় সমবেত হয়ে প্রার্থীর পক্ষের লাইনে দাঁড়ালে মাথা গুনে বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হতো। যোগেন বাবুর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ভাসাইনগরের মহিরউদ্দিন সরকার। ভোটের দিন দেখা গেল দুই প্রার্থীর লাইনে সমানসংখ্যক মানুষ দাঁড়িয়েছেন। যোগেন বাবুর বাবাকে এই খবর দেওয়া হলো। তিনি ভোট দিতে যাননি। তিনি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ছেলের লাইনে দাঁড়ালেই ছেলে প্রেসিডেন্ট; অর্থাৎ, চেয়ারম্যান হয়ে যাবেন। ত্রৈলোক্যনাথ বাবু দৌড়াতে দৌড়াতে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার সময় বলছিলেন, 'এক দিকে পুত্র, আর একদিকে ছাত্র। এখন কী করি?'সবার ধারণা ভুল প্রমাণ করে তিনি গিয়ে মহিরউদ্দিন সরকারের লাইনে দাঁড়ালেন। ফলে তিনি বিজয়ী হলেন। যোগেন কারকুন পরাজিত হলেন। ত্রৈলোক্য বাবুকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জবাব দিয়েছিলেন, 'পুত্র তো প্রেসিডেন্ট হলেও আমার, না হলেও আমার। কিন্তু ছাত্রও যে আমার, সেটা প্রমাণের আর উপায় কী ছিল?' এমন মানুষকে 'পাগলা' না বলে কী বলা হবে!বাবার রক্তের ধারা বহন করছিলেন বলে যোগেন বাবুও কিছুটা কম বৈষয়িক ছিলেন বলেই মনে হয়। তিনি ছিলেন খুব শৌখিন ও রুচিবান মানুষ। শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ছিল। বাড়িতে নাচ-গানের প্রচলন ছিল। তিনি নিজেও একসময় মঞ্চনাটকে অভিনয় করতেন। তাঁর বই পড়ার বাতিক এবং বাড়িতে বইয়ের সমৃদ্ধ সংগ্রহশালার কথা আগেই বলেছি। আর একটি কাজ তিনি করতেন, সেটা হলো ভ্রমণ। জীবনের প্রথম ভাগে তিনি ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেছেন।আমাদের ছোটবেলায় দেখেছি, কারকুন বাড়ি ছিল যেন বোদার অনেকের 'ফুসফুস'। কারকুন বাড়ি কারও কারও কাছে ছিল মন ভালো করার 'যন্তরমন্তর'। ওই বাড়িতে যাওয়া এবং পাতপেড়ে খাওয়া ছিল একটি নিত্য ঘটনা। কারকুন বাড়িতে গেছেন, অথচ কিছু না খেয়ে এসেছেন-এটা অবিশ্বাস্য। আমারও ছিল অবাধ যাতায়াত। কারণ, কারকুন-গিন্নি, ঊষারানী কারকুন ছিলেন আমার পিসিমা। মার চেয়ে আপনার মাসিমা নয়, মার চেয়ে আপনার পিসিমা। কীভাবে তিনি আমার পিসি হলেন? আমাদের তো কোনো রক্তের সম্পর্ক ছিল না। তাহলে?আমার বাবা-কাকারা ছিলেন তিন ভাই। তাঁদের আপন কোনো বোন ছিল না। সে হিসেবে আমার কোনো পিসি থাকার কথা নয়। তারপরও কারকুন বাড়ির ঊষারানী কারকুন, যোগেন চন্দ্র কারকুনের স্ত্রী, আমার পিসি হয়েছিলেন। আমার বাবা-কাকার কাকাতো বোন, আমার সুনীতি পিসির সঙ্গে ছিল তাঁর দারুণ হৃদ্যতা, বোনের মতো। পিসির বোন, তাই আমারও পিসি। আমার এই পিসি হলেন বোদার কার্তিক সরকার, জ্যোতিষ সরকারের মা। আমার পিসা মহাশয়ের নাম শরৎচন্দ্র সরকার। তিনি ছিলেন আবার যোগেন কারকুনের ভাইতুল্য। এই দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠতা, যোগাযোগের সূত্রেই আমাদের সঙ্গেও কারকুন পরিবারের পরিচয় ও প্রায়-আত্মীয়তার মতো সম্পর্ক।কারকুনবাড়ির সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল না-এমন মানুষ অবশ্য সে সময় খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। ওই বাড়িতে আসা-যাওয়া ছিল বোদার গণ্যমান্য বলে পরিচিত সবারই। যোগেন বাবু মিশুকে স্বভাবের ছিলেন। তাঁর মধ্যে কোনো অহংকার ছিল না। ব্রাহ্মণ হলেও তাঁর মধ্যে কোনো গোঁড়ামি ছিল না। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবার অবাধ যাতায়াত ছিল কারকুন বাড়িতে। ওই বাড়ির সবাই ছিলেন আধুনিক ও উদার মনের মানুষ। অথচ এই যোগেন বাবুকেও একবার (ষাটের দশকের মাঝামাঝি) বোদা হাইস্কুলের কিছু উগ্র ছাত্রের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল।যোগেন কারকুন ছিলেন বোদা হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। কমিটির কোনো এক সভায় তিনি নাকি ছাত্র-শিক্ষকদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। তার জের ধরে কয়েকজন শিক্ষক কিছু ছাত্রকে উসকে দিয়েছিলেন তাঁর বিরুদ্ধে।কারকুন পরিবারের একটি ট্র্যাজেডি হলো অতি রূপবতী-গুণবতী হওয়া সত্ত্বেও ওই বাড়ির মেয়েদের বিয়ে না হওয়া। বাংলায় একটি প্রবাদ আছে 'অতি বড়ো ঘরনি না পায় ঘর, অতি বড়ো সুন্দরী না পায় বর'। কারকুন বাড়ির দিদিদের দেখেও আমার তাই মনে হতো। কিন্তু ব্যতিক্রম একটি ঘটেছিল, যেটা আবার পরিবারকে ফেলেছিল লজ্জায়। ষাটের দশকের শেষ দিকেই কারকুন বাড়ির দ্বিতীয় কন্যা, আমাদের ইরাদি (ইরা রাণী কারকুন) পালিয়ে বিয়ে করলেন বোদা থানা সার্কেল অফিসারকে (উন্নয়ন)। তখন মানুষ বলত সিও (ডেভ.)। আব্দুর রৌফ চৌধুরী ছিল সম্ভবত ভদ্রলোকের নাম। ইরাদির এই বিয়ে ছিল তখন এক ব্যাপক আলোচিত বিষয়। কারকুন পরিবার বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারেনি।মেয়ের এভাবে বিয়ে করা এবং ছাত্রদের হাতে নিগৃহীত হওয়ার দুটি ঘটনা সম্ভবত যোগেন পিসা মহাশয়কে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিয়েছিল। মানসিকভাবে দারুণ আঘাত পেয়েছিলেন। এর পর তিনি নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। বাজারে আসা-যাওয়াও কমিয়ে দিয়েছিলেন। ঝড়ে বিশাল বৃক্ষ উপড়ে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল তাঁর।যোগেন কারকুন মৃত্যুবরণ করেন ১৯৭১ সালে, মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে আগে। আমার স্পষ্ট মনে আছে, তাঁর মৃত্যু সংবাদ শুনে আমি এবং আমার প্রিয় বন্ধু বিজন দত্ত সকালেই ছুটে গিয়েছিলাম কারকুন বাড়িতে। তাঁকে শুইয়ে রাখা হয়েছিল তুলসিতলায়। বিশাল দেহের সৌম্যকান্তি মানুষটির অমন শয্যা দেখে আমার ভেতরটা কেমন হু হু করে উঠেছিল। তার আগে আমি কখনো কোনো মরদেহ দেখতে যাইনি। সে হিসেবে ওটাই আমার প্রথম কোনো মৃতদেহ দেখা। প্রাণহীন একজন মানুষকে ভূমিশয্যায় দেখে আমার ভেতরটা হাহাকার করে উঠেছিল এবং আরও যে বিচিত্র অনুভূতি হয়েছিল, তা এখন আর বর্ণনা করতে পারব না। জীবন-মৃত্যুর যিনি নিপুণ কারিগর সেই বিশ্বস্রষ্টার প্রতি আমার মধ্যে আগে থেকেই ছিল বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল। একজন প্রিয় ও পছন্দের মানুষের মৃত্যুর পর বিশ্বস্রষ্টার অপার ক্ষমতা সম্পর্কে বিশ্বাস যেন কিছুটা হলেও বেড়েছিল। সংসারের কর্তা চলে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই সব দায়িত্ব পিসিমার কাঁধে বর্তায়। তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সংসারের হাল ধরেছিলেন।যোগেন কারকুনের মৃত্যুর অল্প পরেই শুরু হয় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দেশীয় সহযোগী-অনুচরদের হত্যা-নির্যাতনের মুখে অসংখ্য মানুষকে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল। বোদা থেকেও আমরা অনেকেই বাধ্য হয়েই ভারতে গিয়ে শরণার্থীর জীবন বেছে নিয়েছিলাম। পাকিস্তানিদের আক্রমণের প্রধান টার্গেট ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক জনগোষ্ঠী। কারকুন বাড়ি দুই কারণেই টার্গেট ছিল। তারা একদিকে হিন্দু এবং অন্যদিকে বাড়ির বড় ছেলে অনুপ কুমার কারকুন দুলাল ছিলেন আওয়ামী লীগের কর্মী, স্বাধীনতার পক্ষের একজন সংগঠক।যেদিন বোদা প্রথম পাকিস্তানিদের নিয়ন্ত্রণে যায়, সেদিনই তিনজনকে হত্যা করা হয়েছিল। তাদের একজন আমার দাদাশ্বশুর (পরবর্তী সময়ে) যতীন্দ্র মোহন সাহা। প্রকৃতপক্ষে তিনিই বোদার প্রথম শহীদ। তার পর হত্যা করা হয়েছিল বোদার তখনকার পোস্টমাস্টার আব্দুল মান্নানকে। তৃতীয় যাঁকে হত্যা করা হয়, তিনি আব্দুল লতিফ। লতিফ মেম্বর বলেই তাঁকে সবাই চিনত। তিনি পাকিস্তানিদের সহযোগী হয় হিন্দু ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়িঘর, দোকানপাট চিনিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও তাঁকে কেন পেছন থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, সেটা একটা রহস্য। কিছু দালাল হত্যা করে পাকিস্তানিরা বোধ হয় বুঝিয়েছিল যে, বিশ্বাসঘাতকদের বেঁচে থাকার অধিকার না থাকাই ভালো। পাকিস্তানিরা বোদা বাজারে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছিল ব্যাপক লুটপাট। আমাদের একটি গালা মালের দোকান ছিল। দোকানের সব মালামাল লুট হয়েছিল মুহূর্তের মধ্যে। ওই লুটেরার দল মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ধরেই লুটপাট অব্যাহত রেখেছিল। আমার পরিবারের সবাই বলতে গেলে এক বস্ত্রে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বের হয়ে আর ফিরে আসা হয়নি। আমাদের তখনকার বাড়িটি ছিল দিনাজপুর-পঞ্চগড় হাইওয়ের পাশে পাথরাজ ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তে আখ ক্রয়কেন্দ্রের লাগোয়া। আমাদের বাড়িটি একেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল।কারকুন বাড়ির ছেলেমেয়েরা দেশত্যাগ করলেও পিসিমা, ঊষারানী কারকুন জেদ ধরলেন তিনি কিছুতেই সদ্যপ্রয়াত স্বামীর ভিটা ছেড়ে কোথাও যাবেন না। বাড়ির সমস্ত জিনিসপত্র লুট হয়েছে। পাড়াপড়শিরাও লুটে অংশ নিয়েছে। রান্না-খাওয়ার বাসনকোসনও লুট হয়েছে। কিন্তু তাঁকে ভিটে ছাড়া করা যায়নি। তাঁর জেদ কিংবা মনোবলের কাছে ভয়ভীতি পরাজিত হয়েছিল।তাঁকে হত্যার জন্য রাজাকার কমান্ডার চন্দনবাড়ির হবিবর রহমান একদিন কারকুন বাড়ি গিয়েও উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেনি। পিসিমা আগেই টের পেয়ে ঘর ছেড়ে বাড়ির পেছন দিকের ঝোপঝাড়ের মধ্যে লুকিয়েছিলেন। তাঁকে খুঁজতে ওই ঝোপের দিকেও গিয়েছিলেন হবিবর রহমান। তিনি পিসিমাকে দেখতেও পেয়েছিলেন। রাইফেল তাক করে গুলি ছোড়ার আগে একটি সাপ তার দিকে ছোবল হানতে গেলে প্রাণভয়ে তিনি দৌড়ে পালান। জীবন রক্ষা হয় পিসিমার।হবিবর রহমান ছিলেন আনসার কমান্ডার। সে জন্য তাঁকে মানুষ হবিবর কমান্ডার বলেই জানত। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগে তাঁকে কেউ ভয়াবহ চরিত্রের মানুষ বলে মনে করত না। ২৬ বা ২৭ মার্চ ঠাকুরগাঁও ইপিআর ছাউনি থেকে পালিয়ে আসা একজন পাকিস্তানি সৈনিককে পাকড়াও করে বোদা হাইস্কুল মাঠে বহু মানুষের উপস্থিতিতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। যারা গুলি করেছিলেন, তাদের মধ্যে হবিবর কমান্ডারও ছিলেন। তিনি একসময় যাত্রা-নাটকে অভিনয় করতেন। বেশ হাসি-খুশি প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। আমার বাবা-কাকাদের সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল। আমি তাঁকে চাচা বলতাম। তিনিও আমাকে নাম ধরে না ডেকে 'বাবাজি' বলে সম্বোধন করতেন। আমরা বন্ধুরা স্কুলে পড়ার সময়ই কিছুদিন বেশ নাটক পাগল হয়ে উঠেছিলাম। এক বছর আমরা চারটি নাটক মঞ্চস্থ করেছি। হবিবর চাচা দু-একটি নাটক নির্দেশনা বা পরিচালনার দায়িত্বও নিয়েছিলেন। মনে আছে, রিহার্সালের জায়গা না পেয়ে আমরা রাতের বেলা হ্যাজাক লাইট জ্বালিয়ে বাসস্ট্যান্ডের কাছে পাথরাজ ব্রিজের ওপরও রিহার্সাল করেছি। তখন অবশ্য জায়গাটি এখনকার মতে ঘিঞ্জি ছিল না।একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হবিবর রহমান হয়ে ওঠেন এক ভয়ংকর মানুষ। বোদায় মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের মধ্য তাঁর নাম ওপরের দিকেই রাখতে হবে। অথচ আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, স্বাধীনতার পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর একসময় প্রকাশ্যে আসেন এবং বোদায় বসবাস শুরু করেন। তাঁর বাড়ি ছিল বোদা বাজার থেকে কয়েক মাইল দূরের চন্দনবাড়িতে। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকা পালন সত্ত্বেও স্বাধীন দেশে প্রথম স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তিনি বোদা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান বোদা গেলে তাঁর সভামঞ্চে হবিবর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হন। আবার ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ ফরহাদের পক্ষাবলম্বন করে আমাদের লজ্জায় ফেলেছিলেন।হবিবর কমান্ডার কারকুন-গিন্নিকে হত্যা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর ওপর উপদ্রব একটু কমে আসে। একজন পাকিস্তানি মেজরও তাঁর দেশ ছেড়ে না যাওয়ার কথা শুনে তাঁকে দেখতে আসেন। ওই মেজরও তাঁকে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। আমি পরবর্তী সময়ে জেনেছি যে, পিসিমাকে গোপনে নানাভাবে সাহায্য করেছেন মাঝগ্রাম নিবাসী দবিরউদ্দিন হাজী সাহেব। চাল-ডাল, এমনকি হাড়িপাতিলও দবির চাচাই কারকুন বাড়িতে সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলোতে পাঠাতেন। আজিজার রহমানও (যিনি পরে বোদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন) গোপনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন, খোঁজ-খবর দিতেন। শত্রুকবলিত দেশে পিসিমা শত্রুর সঙ্গে মিত্রও পেয়েছিলেন। এটাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সবাই শত্রু ছিল না, আবার মিত্রও সবাই নয়। আমরা আজ শত্রু-মিত্র একাকার করে এক বিপন্ন অবস্থা তৈরি করেছি।কারকুন বাড়ির সামনের পুকুর এবং মন্দির নিয়ে কিছু মিথ বা কাহিনি শোনা যায়। মন্দিরে শিবের মূর্তি ছিল। সে জন্য শিব মন্দির হিসেবেই ওটা পরিচিতি পেয়েছিল। বোদার হিন্দু নারীরা ফাল্গুন মাসে শিব চতুর্দশীর রাতে সমবেতভাবে ওই মন্দিরে পূজা অর্চনা করতেন। শিব রাত্রিতে ভক্তরা যে বাসনা করেন, তা নাকি ভগবান শিব পূরণ করেন। এই মন্দিরে পূজা দিয়ে অনেকেরই নাকি মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়েছে। সে জন্য ওই মন্দিরকে একসময় জাগ্রত মন্দির বলা হতো। তবে এখন সে রামও নেই, নেই সে অযোধ্যাও। পাকিস্তান আমলেই একবার মন্দির থেকে শিবের বিগ্রহ চুরি যাওয়ায় ভক্তরা খুবই অসহায় বোধ করেছিলেন। অবিশ্বাসীরা তখন শিবের 'ক্ষমতা' নিয়ে বিদ্রূপ করতেও দ্বিধা করেননি! মন্দিরটি কিছুটা জীর্ণ দশা প্রাপ্ত হলেও এখনো শিবরাত্রি পালনের জন্য বিপুলসংখ্যক হিন্দু নারী ওই মন্দিরে সমবেত হন। ব্রত পালন করেন।কারকুন বাড়ির সামনের পুকুর বা দিঘিটি কত বছর আগে খনন করা হয়েছিল, তার সঠিক তথ্য জানা না গেলেও বোদার প্রবীণ লোকদের ধারণা, কমপক্ষে দুই শ বছর আগে পুকুরটি খনন করা হয়ে থাকতে পারে। প্রায় ১৮ বিঘা জমির ওপর ওই বিশাল পুকুরটি একসময় হয়তো শুধু কারকুন বাড়ি নয়, স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দৈনন্দিন জলের সমস্যা মেটাত। আমরা ছোটবেলায় দেখেছি, পুকুরের পাড়জুড়ে কত গাছগাছালি। পুকুরে তখনো ছিল গভীর জল। পুকুরজুড়ে শাপলা ও পদ্ম যখন ফুটত, তখন চমৎকার লাগত দেখতে।নানা গল্প চালু আছে এই পুকুর নিয়ে। একসময় নাকি মানুষের পূজা-পার্বণ কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানাদির জন্য থালা-বাসন দরকার হলে ওই পুকুরপাড়ে চাহিদাপত্র দিলে পুকুরই তা সরবরাহ করত। মানুষ প্রয়োজন শেষে সেগুলো আবার পুকুরে দিয়ে আসত। আমরা অবশ্য এমন মানুষের সন্ধান পাইনি, যে বা যারা পুকুর থেকে বাসনকোসন নিয়ে প্রয়োজন মিটিয়েছেন! মানুষ এসব 'গল্প' একটা সময় পর্যন্ত বিশ্বাস করত বলেই এগুলো চালু ছিল। এখন বিশ্বাস করে না বলেই শোনা যায় না। কথায় আছে: বিশ্বাসে মিলায়ে বস্তু, তর্কে বহু দূর।আচ্ছা, শুধু বিশ্বাসের ওপর ভর করে কি সত্যি কিছু অর্জন করা যায়? আমরা কিছু হলেই 'দোয়া' 'প্রার্থনা' করি। দোয়া কি কাউকে রোগ বা বিপদমুক্ত করতে পারে? জানি না। তবে দোয়ার সঙ্গে 'দাওয়া' বলেও একটা কথা আছে। দোয়ার গুণের চেয়ে দাওয়ার গুণ টের পাওয়া যায় বেশি।কারকুন বাড়িতে আম-কাঁঠালের অনেক গাছ ছিল। ঝড়ের দিনে শুধু মামার বাড়ি আম কুড়াতে সুখ ছিল না, কারকুন বাড়িতেও সে সুখ ছিল। কারকুন বাড়ির ব্যাপার ছিল আরও আলাদা। গাছেরটা খাওয়া এবং তলারটা কুড়ানো-দুটোই চলত। অর্থাৎ, যেগুলো গাছ থেকে ঝরে পড়ত সেগুলো যেমন যে কেউ নিতে পারত, তেমনি গাছের পাকা ফলও চাইলেই পাওয়া যেত। কারকুন বাড়ি থেকে পাকা আম-কাঁঠালের বোঝা আমিও বহন করেছি।আমাদের ছোটবেলার সময়টা ছিল অন্য রকম। বাড়ি, পরিবার, গ্রামগুলো কেমন সুন্দর মমতায় জড়ানো ছিল। মানুষের মনে এবং চোখে অন্ধকার ছিল। অর্থাৎ, শিক্ষিতের হার কম ছিল, আবার বিদ্যুৎও ছিল না। চোখের অন্ধকার দূর করত কেরোসিনের বাতি। কিন্তু মনের অন্ধকার? সেটা ছিল বলেই মানুষ অলৌকিকতায় বিশ্বাস করত। জিন-ভূতের গল্প বেশি শোনা যেত। এই পথে সন্ধ্যায় যাওয়া যাবে না-ভূতের ভয় আছে, এই পুকুরের এই ক্ষমতা আছে-এসব মানুষ অবলীলায় বিশ্বাস করত।এখন মানুষের মন এবং চোখ দুটোতেই আলো। কিন্তু কোনো কোনো মানুষকে পেয়ে বসছে এক নতুন ধরনের অন্ধত্ব, যার নাম ধর্মান্ধতা। আমাদের সেইকালে ধর্মবিশ্বাস ছিল, ধর্মান্ধতা ছিল কম। সে জন্য চমৎকার সম্প্রীতির পরিবেশ ছিল। কারকুন বাড়ি ছিল সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষের এক মিলনক্ষেত্র।কারকুনবাড়ির অনেক কিছুই আজ আর নেই। জীবন কারকুন এবং অচিন্ত্য কারকুন-দুই ভাই দিদি শর্বাণীকে নিয়ে আছেন। শর্বাণীদির বিয়ে হয়নি। কিন্তু জীবন-অচিন্ত্য বিয়ে করেছে। জীবনের এক পুত্র সন্তান, অচিন্ত্যর তিন মেয়ে। ওরা নিশ্চয়ই এখন এক হাঁড়িতে খায় না। কত দিন ওই বাড়িতে যাই না। বছর তিনেক আগে বোদা গিয়ে বন্ধু বিজন দত্তকে নিয়ে কারকুন বাড়ির সামনে দিয়ে ঘুরে এসেছি। কিন্তু ভেতরে ঢুকিনি। একসময়ের প্রাণময় বাড়িটি কেমন নিষ্প্রাণ মনে হলো। জীবন সম্ভবত আগের ভিটায় আছে। অচিন্ত্য সামনের দিকে নতুন পাকা বাড়ি বানিয়েছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, অচিন্ত্য ছিল আমার প্রয়াত ছোট ভাই নিরঞ্জনের ক্লাসফ্রেন্ড। ওরা খুব ভালো বন্ধু ছিল।আগে বাড়িতে গেলে শোনা যেতো প্রাণের স্পন্দন, এখন মনে হয় ঘুমঘোর।ভেতরের লম্বা ঘরটি, যেটার বিভিন্ন কক্ষে মাসিমা এবং দিদিরা থাকতেন, সেটাও সেভাবেই আছে, নাকি সেখানেও নতুন ঘর উঠেছে, জানি না। বাইরের পরিবর্তন দেখে মনে হয়েছে, ভেতরেও নিশ্চয়ই অনেক অদলবদল হয়েছে।সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, সেই নানা গল্পগাথার পুকুরটি আর আগের মতো নেই। যে পুকুর খননের সময় পানি না ওঠায় নাকি স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে নরবলি দিতে হয়েছিল, যে পুকুরের মাঝখানে নাকি ছিল একটি রহস্যময় বড় সিন্দুক জাতীয় কিছু, সেই পুকুরের ওপর দিয়ে এখন হয়েছে মহাসড়ক। পুকুরটি দুই ভাগ হয়েছে, ছোট হয়েছে। আগে পুকুরপাড়ে গেলে কখনো কখনো যেমন গা ছমছম করত, এখন আর তা করে না। অসংখ্য মানুষের যাতায়াত, যোগাযোগ সহজতর করার জন্য একটি পরিবারের ঐতিহ্য, স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করা হয়েছে। এটাই বোধ হয় আধুনিক সভ্যতার নিয়ম। পুরাতনকে আঁকড়ে থাকা নয়, নতুনকে আবাহন করাই যেন প্রগতি ও অগ্রগতির লক্ষণ।কারকুন বাড়ির বড় ছেলে অনুপ কারকুন, আমাদের দুলালদা, যিনি ছোট-বড় সবার কাছেই একজন প্রিয় মানুষ ছিলেন, সবাইকে ছেড়ে শেষ বিদায় নেন ১৯৮১ সালে। প্রায় দশ বছরের ব্যবধানে পিতা ও পুত্রের মৃত্যু কারকুন বাড়িতে ভাঙনের যে সুর বাজিয়েছিল, তা কিছুটা দূর হয়েছে ছোট দুই কারকুন বিয়ে করে সংসার শুরুর পর।পিসিমা, ঊষারানী কারকুন বেঁচে থাকতে ওই বাড়িতে আগের ধারা, মানুষের যাতায়াত, আহার-বিহার অব্যাহত ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর সে রকম আছে কি-না, জানি না। পিসির মৃত্যু হয়েছে ২০০৪ সালে। কী আশ্চর্যের ব্যাপার যে, তাঁর বিদায়ের দিনেও আমি বোদায় ছিলাম এবং বিজনকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলাম।কারকুন বাড়ির দুই উত্তরাধিকার জীবন ও অচিন্ত্য ওদের ছেলেমেয়ে নিয়ে আর আগের অবস্থায় যেতে চায় কি-না, যেতে চাইলেও আর যেতে পারবে কি-না, জানি না।শর্বাণী কারকুন, আমাদের বাণীদি, কত দিন তাঁকে দেখি না। কত দিন তাঁর আপ্যায়নবঞ্চিত। কেমন আছেন বাণীদি? বয়স কি তাঁর সৌন্দর্য আড়াল করতে পেরেছে? এর পর বোদা গেলে বাণীদিকে অবশ্যই এক নজর দেখে আসব। | 8 |
রাজধানীর নর্দ্দা প্রগতি সরণী এলাকায় একটি মাদ্রাসার ২০ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে হেফাজত ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। 'আল মাদরাসাতু মুঈনুল ইসলাম'-এর পক্ষে মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুর রাজ্জাক কাসেমী মঙ্গলবার এ মামলাটি করেন। এ মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মোরশেদ আল মামুন ভুঁইয়া বুধবার বাদির জবানবন্দি গ্রহণ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত করে পিবিআইকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বিচারক। মামলায় অভিযোগে বলা হয়, 'আল মাদরাসাতু মুঈনুল ইসলাম'-এর প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মুহতামিম মুফতি আতাউর রহমানের মৃত্যুর আগে বিভিন্ন সময় ছাত্র-শিক্ষকদের খাবার হিসেবে চাল, ডাল এবং ভবন নির্মাণে রড-সিমেন্টসহ মাদ্রাসায় বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। অভিযোগ থেকে আরও জানা যায়, ২০২০ সালের ৯ অক্টোবর নর্দ্দা বারিধারা সংলগ্ন প্রগতি স্মরণির প্রধান সড়ক অবরোধ করে বেআইনিভাবে 'আল মাদরাসাতু মুঈনুল ইসলাম' বিরোধীদের নেতৃত্বে আনুমানিক ২৫০ জন হেফাজতকর্মী ও উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র-শিক্ষক মাদ্রাসার অফিসের ভেতর আলমারিতে রাখা ক্যাশ টাকা, রশিদ বই, খরচের ভাউচার, ক্যাশ বই, খতিয়ান বই ও স্টক বইসহ মূল্যবান দলিলপত্র আসামিরা লুট করে অফিসে তালা লাগিয়ে দেয়। এরপর ১৩ অক্টোবর শিক্ষকদের সঙ্গে অভিভাবকদের মতবিনিময় সভার আহ্বান করা হলে আসামিরা কয়েকশ উশৃঙ্খল ছাত্র ও সন্ত্রাসী একত্রিত করে মাদ্রাসা ঘিরে ফেলে। এ সময় তারা আগত অভিভাবকদের কাছ থেকে মোবাইল, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে তাদের লোহার রড, দা, লাটি, বাঁশ ইত্যাদি দিয়ে আঘাত করে তাদের মারাত্মক জখম করে। | 6 |
দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গতকাল শুক্রবার থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া একই সময়ে এই ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩৫৯ জন।আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল ৩০ জনের মৃত্যু এবং ৯ হাজার ৫২ জন রোগী শনাক্তের তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৫৬০ জন। আর মোট রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৮ লাখ ৫৩ হাজার ১৮৭ জন।বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৭ হাজার ১৭ জন। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯১ জন করোনা রোগী।গত ২৪ ঘণ্টায় আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র্যাপিড অ্যান্টিজেন মিলিয়ে ৮৬৮টি সক্রিয় ল্যাবে ৩৫ হাজার ৭৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ।আগের দিন ৮৬৮টি সক্রিয় ল্যাবে ৩৯ হাজার ৪৪৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে করোনাভাইরাস পজিটিভ শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৯৫ শতাংশ।দেশে মোট ১ কোটি ২৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮৮টি নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৬১ শতাংশ। প্রতি ১০০ জনে সুস্থতার হার ৮৬ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম তিনজনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্তের কথা জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের হার বাড়তে থাকে। | 6 |
তিনি একজন সাংসদ। আইন প্রণয়ন করা তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু আইন তো আর প্রতিদিন তৈরি করা যায় না। কারণ, প্রতিদিন সংসদ অধিবেশন চলে না। অধিবেশন চললেই একজন সাংসদতাঁর ইচ্ছামতো আইন প্রণয়ন করতে পারেন না। আইন প্রণয়ন, তা সংসদে উত্থাপন ও পাস করার কিছু নিয়ম-বিধিবিধান আছে। কিন্তু কথা বলতে তো কোনো অসুবিধা নেই। দেশের জন্য, দেশের মানুষের ভালোর জন্য আইন প্রণয়নের কথা কি সব সাংসদ সমান গুরুত্ব দিয়ে ভাবেন? না, এত সময় কোথায় তাঁদের? সারাক্ষণ মানুষ নিয়ে ভেবে ভেবে তাঁদের জান বরবাদ হয়ে যাচ্ছে। তবে সামনে মাইক থাকলে, বক্তৃতা দিতে উঠলে কোনো কোনো সাংসদের কাণ্ডজ্ঞান লোপ পায় বলে মনে হয়। তাঁরা মনে করেন, সামনে বসে যাঁরা বক্তৃতা শুনছেন, তাঁরা গভীর আগ্রহ নিয়ে নির্দেশের অপেক্ষা করছেন। কাগজের টাকার নোটে যেমন মুদ্রিত থাকে 'চাহিবামাত্র ইহার বাহককে দিতে বাধ্য থাকিবে' তেমনি নির্দেশ দেওয়ামাত্র তা কার্যকর হয়ে যাবে!ভাগ্যিস সেটা হয় না। হলে যে কী অনাসৃষ্টি হতো, তা কল্পনা করলেও যেকোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের জিব শুকিয়ে আসার কথা। রোববারের 'আজকের পত্রিকা'য় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, দুষ্কৃতকারীদের পিটিয়ে মেরে ফেলতে নিজ দলের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) আসনের সাংসদ এইচ এম ইব্রাহিম। তিনি বলেছেন, 'আমি হুকুম দিয়ে দিচ্ছি, এসব দুষ্কৃতকারীদের গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেললে কিছুই হবে না। যদি কেউ মামলা করে আমি মামলার ১ নম্বর আসামি হব। আপনারা কি আমার কথা বুঝতে পারছেন?'দেওটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাংসদ ইব্রাহিম। দেলোয়ার বেঁচে থাকা অবস্থায় তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতেন এক যুবক। তাঁর মৃত্যুর পর এখন পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার পুলিশকে অবগত করা হলেও ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। সভাস্থলে সাংসদকে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানালে পরে তাঁর বক্তৃতায় সাংসদ বলেন, 'যদি পুলিশ না পারে, আমি আপনাদেরকেও বলে গেলাম, যারা সমাজের মানুষকে অত্যাচার করছে, আপনারা তাদের পিটিয়ে মেরে ফেলবেন, তাতে কিছুই হবে না। সেই ঘটনায় যদি আসামি হতে হয়, আমি আসামি হব সে ঘোষণা দিয়ে গেলাম।''এক যুবক' কোন শক্তিবলে আওয়ামী লীগের একজন স্থানীয় নেতা ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দিয়ে নিরাপদে বসবাস করছে, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণ কী-সে প্রশ্নেরই বা জবাব কে দেবে?সাংসদ এলাকাবাসীকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর কেউ যদি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেও কাউকে পিটিয়ে হত্যা করেন, তাহলে সাংসদ কী সত্যি দায় নেবেন? এতে এলাকায় নৈরাজ্য তৈরি হলে স্থানীয় প্রশাসন কী করবে? | 6 |
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিপ্লব এখনো শেষ করেননি। তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জয় ও ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজে জিতে হোয়াইট হাউসের ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার কাজে নেমে পড়েছেন ট্রাম্প। এমন সব কথাই আলোচিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীলদের সমাবেশে। গত বৃহস্পতিবার ফ্লোরিডায় 'কনজারভেটিভ পলিটিক্যাল অ্যাকশন কনফারেন্স' শুরু হয়েছে। পুরো দেশ থেকে রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের সমাবেশ ঘটেছে এই সম্মেলনে। রিপাবলিকান পার্টির অর্থদাতা থেকে শুরু করে রক্ষণশীল বুদ্ধিজীবীরা কয়েক দিন ধরে কীভাবে নির্বাচন চুরি হয়ে গেল, মার্কিন উদারনৈতিক গণমাধ্যম কেমন করে তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে-এসব বিষয় নিয়ে উত্তেজনাকর বক্তৃতা দিয়েছেন। আর কয়েক ঘণ্টা পর, স্থানীয় সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রক্ষণশীলদের মঞ্চে উপস্থিত হবেন। আমেরিকায় ট্রাম্প নানা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ক্ষমতা ত্যাগের ৪০ দিনের মধ্যে আবার রাজনৈতিক মঞ্চে কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টের উপস্থিত হওয়ার নজির নেই। ট্রাম্প শুধু মঞ্চে উপস্থিত হবেন, এমন নয়; সদ্য ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নানা কর্মসূচির বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাবেন তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসসহ একাধিক মার্কিন গণমাধ্যম বলছে, নতুন ক্ষমতায় আসা কোনো প্রেসিডেন্টকে সময় না নিয়ে এভাবে সমালোচনায় নেমে পড়াও নজিরবিহীন। রক্ষণশীলদের সম্মেলনে ২৭ ফেব্রুয়ারি দেওয়া বক্তৃতায় বক্তারা বলেছেন, রিপাবলিকান পার্টি কর্মজীবীদের দল। রক্ষণশীল রাজনীতির ধনকুবের লোকজন দিনব্যাপী কর্মজীবীদের স্বার্থে বক্তব্য দিয়েছেন। আমেরিকার স্টিল ওয়ার্কার, জ্বালানি খাতের কর্মীসহ প্রান্তিক কর্মজীবীরা ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে বক্তারা উল্লেখ করেছেন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ নিয়ে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টির ঘোর বিরোধিতার সময় ফ্লোরিডা সম্মেলনে রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের কর্মজীবীদের নিয়ে মায়াকান্না করাকে পরিহাসের বলে উল্লেখ করেছে পলিটিকোসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম। সিনেটর টেড ক্রুজ বলেছেন, রিপাবলিকান পার্টি শুধু কান্ট্রি ক্লাবের দল নয়; দলটি নির্মাণশ্রমিক, ক্যাবচালক, দমকলকর্মী, পুলিশসহ সাধারণ কর্মজীবীদের বলে উল্লেখ করেন তিনি। টেড ক্রুজ বলেন, ট্রাম্প কোথাও চলে যাচ্ছেন না। ডোমোক্রেটিক পার্টি ট্রাম্পের প্রস্থান চায় উল্লেখ করে টেড ক্রুজ বলেন, ট্রাম্প দ্রুতই ফিরে আসছেন। গত সপ্তাহে টেক্সাসে চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময় অঙ্গরাজ্যের সিনেটর টেড ক্রুজ তাঁর মেয়েকে নিয়ে প্রমোদভ্রমণে চলে গিয়েছিলেন। এ নিয়ে চরম সমালোচনার মুখে পড়েন রিপাবলিকান পার্টির অতি রক্ষণশীল ধনকুবের এই সিনেটর। হার্ভার্ড থেকে পাস করা সিনেটর টেড ক্রুজ এখন সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। আগে একদফা তিনি রিপাবলিকান পার্টির হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের জন্য বাছাইপর্বে লড়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন। রক্ষণশীলদের সম্মেলনে ট্রাম্পের ছেলে ট্রাম্প জুনিয়র বলেছেন, তাঁর বাবার বক্তৃতার মধ্য দিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ রূপরেখা পাওয়া যাবে। ট্রাম্প জুনিয়র তাঁর বক্তৃতায় প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কড়া সমালোচনা করেন। ট্রাম্প জুনিয়র বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর অর্থনৈতিক চাঞ্চল্যের জন্য যখন সব খুলে দেওয়া কথা ছিল, তখন তা বাইডেন করেননি। কিন্তু বাইডেন দ্রুততার সঙ্গে খুলে দিয়েছেন সীমান্ত। অভিবাসীদের প্রবাহ শুরু হয়েছে। অভিবাসীদের কারণে আমেরিকার কর্মজীবীরা কাজ হারাবেন। দেশের মানুষের নিরাপত্তার সংকট সৃষ্টি হবে। রক্ষণশীলদের সম্মেলনে গতকাল শনিবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি মূর্তি অবমুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা গায়ে দেওয়া মূর্তির মাথায় সোনালি রঙের প্রলেপ দেওয়া আছে। মূর্তির আশপাশেই বিক্রি হচ্ছিল নানা ধরনের স্টিকার। দুই ডলার মূল্যের এসব স্টিকারে লেখা আছে 'ট্রাম্প ইজ মাই প্রেসিডেন্ট', 'বাইডেন ইজ নট মাই প্রেসিডেন্ট', 'ট্রাম্প ২০২৪'। ট্রাম্পের ছবি দিয়ে স্টিকারে লেখা আছে 'মিস মি ইয়েট?' টি-শার্টে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ছবিতে হিটলারের গোঁফ যুক্ত করা হয়েছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিসান্টিস পুরো সম্মেলন দেখভাল করছেন। সম্মেলনে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বত্র লোকজনকে ঘরে আটকে রাখার নানা আয়োজনের মধ্যেও তিনি তাঁর অঙ্গরাজ্যে এমনটা করেননি। কোভিড-১৯ সংক্রমণের সময়ে স্কুল খোলা রেখেছেন। লোকজনকে বন্দী করেননি। এসবই তাঁর অঙ্গরাজ্যের সাফল্য; যদিও করোনার সংক্রমণে ইতিমধ্যে ফ্লোরিডায় ৩০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। রক্ষণশীল ভাষ্যকার কেটি ম্যাকফারল্যান্ড বলেছেন, তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের কথা হয়েছে। আজ রোববার সম্মেলনে রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্প কথা বলবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। এ ছাড়া ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হবে। ট্রাম্প ২০২৪ সালে রিপাবলিকান পার্টির হোয়াইট হাউস ফিরে পাওয়ার রূপরেখাও তাঁর বক্তৃতার তুলে ধরবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। | 3 |
দল বাংলাদেশে আসার চার দিন আগেই চলে এসেছেন নিউ জিল্যান্ডের দুই ক্রিকেটার। ইংল্যান্ডে 'দা হানড্রেড' টুর্নামেন্টে খেলে সরাসরি ঢাকায় এসেছেন অলরাউন্ডার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম ও ওপেনার ফিন অ্যালেন। ১০০ বলের ক্রিকেট আসরে খেলে শুক্রবার (২০ আগস্ট) সকালে ঢাকায় পৌঁছান দুজন। এখন তারা টিম হোটেলে আছেন কোয়ারেন্টিনে। দা হানড্রেড-এ ডি গ্র্যান্ডহোম ভালো করতে পারেননি খুব একটা। সাউদার্ন ব্রেভ দলের হয়ে ৬ ইনিংস ব্যাট করে তার মোট রান ৫৬, এর মধ্যে শেষ ম্যাচেই করেন ৪০ রান। চার ইনিংস বল করে উইকেট নিতে পারেননি একটিও। বার্মিংহাম ফোনিক্সের হয়ে অ্যালেন নিজের সেরা চেহারায় না থাকলেও এতটা খারাপ করেননি। ৮ ইনিংসে ১৬৫ রান করেন ২০.৬২ গড়ে। স্ট্রাইক রেট অবশ্য ছিল দারুণ, ১৫০। স্কোয়াডের বাকি ক্রিকেটাররা নিউ জিল্যান্ড থেকে বাংলাদশে আসবেন আগামী মঙ্গলবার। দলের কয়েকজন কর্মকতা অবশ্য আসবেন শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে। পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু ১ সেপ্টেম্বর থেকে। নিউ জিল্যান্ড দল: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, হামিশ বেনেট, টম ব্লান্ডেল, ডগ ব্রেসওয়েল, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, জ্যাকব ডাফি, স্কট কুগেলাইন, কোল ম্যাকনকি, হেনরি নিকোলস, এজাজ প্যাটেল, রাচিন রবীন্দ্র, বেন সিয়ার্স, ব্লেয়ার টিকনার, উইল ইয়াং। | 12 |
জার্মানির নাগরিক স্টোয়া সলৎস একটি বহুজাতিক উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা। সম্প্রতি সংস্থার কাজে এসেছেন বাংলাদেশে। বইয়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে বুধবার চলে আসেন অমর একুশে বইমেলায়। অ্যাডর্ন পাবলিশার্সের স্টল থেকে বইও কেনেন এ ভিনদেশি। আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা হলে স্টোয়া বলেন, 'বাংলাদেশে পা রেখেই বইমেলার কথা জানতে পারি। আজ তো চলেই এলাম। এত বড় আয়োজন দেখে ভালোই লাগছে; সত্যিই প্রশংসনীয়।'স্টোয়ার মতো অনেক বিদেশি আসছেন বইমেলায়। মেলা ঘুরে পছন্দ করে কিনছেন বইও। এদিকে মেলায় বিদেশিদের আগমনকে বেশ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন স্টলের কর্মীরা। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'বিদেশিরা আমাদের মেলায় আসছেন, এটা আমাদের জন্য গর্বের। তবে বিদেশিদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মেলায় তাঁদের আগমন আরও বাড়বে।' তিনি বলেন, 'বিদেশি পাঠকদের টানতে হলে প্রকাশকদের আরও বেশি মানসম্মত বিদেশি ভাষার বই নিয়ে আসতে হবে।'ইউপিএলের স্টলে অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের পিএইচডি অভিসন্দর্ভ নিয়ে আহরার আহমেদ রচিত 'পলিটিক্যাল পার্টিজ ইন ইন্ডিয়া' বইটি কিনছিলেন ভারতীয় নাগরিক অতুন সাহা। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সহযোগী অধ্যাপক জানান, প্রতিবছরই বাংলা একাডেমির বইমেলায় আসেন। কিন্তু করোনার কারণে গত দুই বছর আসতে পারেননি। অতুন বলেন, 'বাংলা আমারও মাতৃভাষা। প্রাণের টানেই আমি এখানে ছুটে আসি।' বাংলাদেশের বাইরের বই প্রকাশিত না হওয়ায় একটু হতাশাও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, কলকাতাসহ বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত বাংলা বইকে এ মেলায় স্থান দিলে মেলা আরও বেশি কার্যকর হবে।মেলায় ঘুরতে আসা বিদেশিদের আরেকজন বাংলাদেশের চীনা দূতাবাসে কর্মরত মিয়া ইয়ুন। তিনি বলেন, 'তিন বছর এখানে থেকে মোটামুটি বাংলা শিখে গেছি। বাংলা কবিতা পড়তে ভালো লাগে আমার। কবিতার বই কিনতে এসেছি আজ।' বিদেশি দর্শনার্থীদের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'একুশে আজ আর শুধু বাঙালির নয়, সারা বিশ্বের। বাংলার প্রতি বিদেশিদের আগ্রহ রয়েছে। বইমেলাকে আন্তর্জাতিক মাত্রা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি শুরু করা উচিত।'এদিকে বুধবার নবম দিনের মেলায় নতুন বই এসেছে ১২২টি। মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় 'স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর: বঙ্গবন্ধু-চর্চা' শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আসলাম সানী, মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং মামুন সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ একই সূত্রে গাঁথা। তাই এ তিন ক্ষেত্রে অধ্যয়ন ও চর্চা একযোগে, সমানতালে হতে পারে। তবে এ কাজ কোনো ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়, এ বিশাল দায়িত্ব প্রত্যেক বাঙালির। | 6 |
করোনাভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় ঢাকার সঙ্গে রাঙামাটি জেলাকেও 'রেড জোন' হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা ড্যাশবোর্ড ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এমন ঘোষণায় নড়েচড়ে বসেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। মাস্ক নিশ্চিত করাসহ সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে মাইকিং করা হচ্ছে।জেলা সিভিল সার্জন বলেছেন, করোনার নমুনা পরীক্ষার হার কমার বিপরীতে শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে।জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, দেশে করোনা শনাক্ত শুরুর পর সর্বশেষ জেলা হিসেবে আক্রান্ত হয় রাঙামাটি। এরপর ভালোভাবে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলা করে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে উদাসীনতা তৈরি হয়েছে। কমে গেছে করোনার নমুনা পরীক্ষার প্রবণতা। সম্প্রতি এই হার একেবারে কমে যায়। এরই মধ্যে শীতের শুরু থেকে করোনা শনাক্তের হার বাড়ছে।এদিকে রাঙামাটিকে করোনার উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন জেলা চিহ্নিত করা হলেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা নেই। শহরের রাস্তায়, বাজার, অফিস-আদালতে উপস্থিত অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। জেলার সংবাদকর্মী সাখাওয়াত হোসেন রুবেল বলেন, রাস্তাঘাটে অসংখ্য মানুষ মাস্ক ছাড়া ঘোরাফেরা করছেন। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলেও মানুষের মধ্যে সচেতনতা নেই।রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, গত ১৫ দিনে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৪ জনের। এর আগে গত ডিসেম্বরে ২৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে।সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা বলেন, 'আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মানুষের মাঝে নমুনা দেওয়ার প্রবণতা কমেছে। এতে করে শনাক্তের হার বেড়েছে। করোনা মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি স্বাস্থ্য বিভাগের আছে।'এদিকে রাঙামাটিকে রেড জোন ঘোষণার পর মানুষের মাস্ক পরা নিশ্চিত করাসহ সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে চালানো হচ্ছে মাইকিং। পর্যটন স্পটগুলো বাড়তি নজরদারি করতে নির্দেশনা দিয়েছে প্রশাসন।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মামুন বলেন, 'আমাদের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট মাঠে আছে। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে প্রশাসনের যা করণীয়, তা করছে। সব উপজেলা বার্তা পাঠানো হয়েছে।'জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় ৪ হাজার ২৮০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন ৩৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৫ জনের। এ থেকে ৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। জেলায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রাজধানীতে করোনা সংক্রমণের হার ১২ দশমিক ৯০ শতাংশ। রাঙামাটিতে করোনা সংক্রমণের হার ১০ শতাংশ।এদিকে কাপ্তাই প্রতিনিধি জানান, রাঙামাটি জেলাকে 'রেড জোন' হওয়ার পর কাপ্তাইয়ে সচেতনতামূলক প্রচার, মাস্ক বিতরণ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলা সদর ও বড়ইছড়ি সাপ্তাহিক বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনতাসির জাহান।অভিযানে একটি ভ্রাম্যমাণ দোকানিকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি জব্দ মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া ৪টি মামলায় মোট ১ হাজার ২৫০ টাকা জরিমানা করেন ইউএনও। এ সময় সচেতনতামূলক প্রচার ও বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়। অভিযানে ইউএনও কার্যালয়ের অফিস সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম ও কাপ্তাই থানার পুলিশ সদস্যরা সহায়তা করেন। | 6 |
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) মধ্যে ১০টিতে হেরেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। ভরাডুবির কারণ হিসেবে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা এবং নতুন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়াকে দুষছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক নেতা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ ও বিভিন্ন উঠোন বৈঠকে যোগ দিলেও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা তেমন আন্তরিক ছিলেন না। একাধিক ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ইউনিয়ন নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে যায়। কিছু সাধারণ নেতা-কর্মীও নিষ্ক্রিয় ছিলেন।এবারে রামখানা ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান গতবারের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম সরকার। সাফল্য-ব্যর্থতায় খুব একটা খারাপ কাটেনি তাঁর মেয়াদকাল। জনসমর্থন একেবারে খারাপ ছিল না। তবে মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর বিপক্ষে মনোনয়নপ্রত্যাশী আরেক জনের পক্ষে কিছু ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মী নাখারগঞ্জ বাজারে মিছিল করলে আলীম সরকারের জনসমর্থন কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে সামগ্রিক নির্বাচনে। ফলে জাতীয় পার্টির জালাল উদ্দিন এই ইউপিতে বিজয়ী হন।সন্তোষপুরে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নৌকা প্রতীক নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হয়েছেন লিয়াকত আলী লাকু। রায়গঞ্জে বিজয়ী হতে পারেননি আ. স. ম. আব্দুল্লাহ আল ওয়ালিদ। গতবার তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে খুব একটা ভালোভাবে তাঁর মেয়াদকাল কাটাতে পারেননি। সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার অপরাধে মামলায় পড়ে কারাবাসও করেছেন। এসব ঘটনার প্রভাব পড়েছে এবারের নির্বাচনে। তাঁকে হটিয়ে আনারস প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুজ্জামান।বিদ্রোহীর চাপে হেরেছেন বামনডাঙ্গা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের মাইনুল হক প্রধান। এখানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের আসাদুজ্জামান রনি।কালীগঞ্জে এবার ইউনিয়ন যুবলীগ সহসভাপতি ও নৌকা প্রতীকের জুলফিকার আলী সর্দারকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির রিয়াজুল হক প্রধান।ভিতরবন্দে সাড়া জাগাতে পারেননি আওয়ামী লীগের নতুন মুখ নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুল আলিম। এখানে লড়াই হয়েছে জাপা প্রার্থী সাইদুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফির মধ্যে। জাপা প্রার্থী সাইদুর রহমানকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শফিউল।হাসনাবাদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারেননি নতুন মুখ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইদ্রিস আলী। এখানে জাপাপ্রার্থী নুরুজ্জামান লাঙল প্রতীকে নিয়ে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হয়েছেন।প্রত্যাশিত ফলাফল করে নৌকা প্রতীকে নুনখাওয়ায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নতুন মুখ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। এখানেও আওয়ামী লীগ বিদ্রোহীর চাপ ছিল। তবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আন্তরিকতা ও সমন্বিত স্বতঃস্ফূর্ত প্রচারে জয় এসেছে আওয়ামী লীগের।বল্লভেরখাসে বিদ্রোহীর চাপে সম্ভাবনা জাগিয়েও নির্বাচিত হতে পারেননি নতুন মুখ আওয়ামী লীগ প্রার্থী অমিত কুমার সরকার। এই ইউপিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি এস এম আব্দুর রাজ্জাক।বল্লভেরখাস ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদক আতাউর রহমান মাস্টার জানান, দলের একাধিক ব্যক্তি বিদ্রোহী হওয়ায় ভোটও ভাগ হয়ে যায়। তাই সম্ভাবনা জাগিয়েও ভোটের ফল নৌকার প্রার্থীর পক্ষে আসেনি।নারায়ণপুরে আওয়ামী লীগের বেলাল হোসেনকে বাদ দিয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ব্যাপারীকে নৌকার প্রার্থী মনোনয়ন দিলে বিতর্ক শুরু হয়। এটি নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে ভোটের মাঠে। এখানে চেয়ারম্যান হয়েছেন রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান।নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদক মশিউর রহমান জানান, পছন্দের প্রার্থী না হওয়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেওয়ায় দলীয় প্রার্থীর এ পরাজয়।কচাকাটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদক প্রভাষক আতাউর রহমান জানান, এবার নতুন মুখকে নৌকার প্রার্থী করা হয়েছে। তাঁর পরিচিতিও তেমন ছিল না। সব মিলিয়ে প্রার্থী পছন্দ হয়নি কর্মী-সমর্থকদের। তাই আন্তরিকতার সঙ্গেও কাজ করেননি তাঁরা।এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি নাগেশ্বরী উপজেলা আওয়ামী লীগ সম্পাদক কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাংসদ আছলাম হোসেন সওদাগর। | 6 |
বাংলাদেশি রোগীদের জন্য ঢাকা থেকে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের সরাসরি ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে ভারতের অ্যাপোলো হসপিটালস, হায়দরাবাদ। চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া আরও সুবিধাজনক করতে ইন্ডিগো এয়ারলাইনস প্রতি সপ্তাহের শনি ও সোমবার, ঢাকা থেকে সরাসরি হায়দরাবাদে ফ্লাইট চালু করেছে। ফলে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য হায়দরাবাদের অ্যাপোলো হসপিটালে পৌঁছানো এখন সহজ ও আরামদায়ক।এই ঘোষণার অনুষ্ঠানে অ্যাপোলো হসপিটালস, হায়দরাবাদের ইন্টারন্যাশনাল ডিভিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. রাধে মোহন বলেন, 'বাংলাদেশ থেকে আসা আমাদের রোগীরা বহু বছর ধরে এই সুবিধাজনক সরাসরি ফ্লাইট সংযোগ চেয়েছিলেন, এবং সেই চাওয়া এখন পূরণ হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে এই সার্ভিসটি ব্যবহার করে রোগীদের অ্যাপোলো হসপিটালস, হায়দরাবাদে পৌঁছে সবার সেরা ক্লিনিক্যাল সেবা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।'এ ছাড়াও, হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে অ্যাপোলো হসপিটালস-এর একটি এয়ারপোর্ট মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া রোগীদের স্বাগত জানানোর জন্য আলাদা রিসেপশন ডেস্ক রয়েছে। বিমানের মধ্যে যেকোনো জরুরি সার্ভিস প্রদান এবং কোনো ঝামেলা ছাড়াই হাসপাতালে রোগী নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সসহ হায়দরাবাদে অ্যাপোলো হসপিটালস-এর ডাক্তার এবং প্যারামেডিক স্টাফদের বিমানের মধ্যে জরুরি প্রবেশাধিকার রয়েছে।অ্যাপোলো হসপিটালস, হায়দরাবাদ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সব রোগীকে বিনা খরচে বিমানবন্দর থেকে গেস্টহাউস কিংবা হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে দেয়। এ ছাড়া আলাদা আন্তর্জাতিক লাউঞ্জে রোগীদের বাংলা ভাষা জানা একজন দোভাষীর মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। অ্যাপোলো হসপিটালস-এর সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে ডাক্তারদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ওপি ইনভেস্টিগেশন, তৃতীয় পক্ষ ভেন্ডরের মাধ্যমে অগ্রাধিকারমূলকভাবে সিমকার্ড এবং বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থা করে দেওয়া, ভিসা এক্সটেনশন লেটার, টিকিটিং, সিক লিভ লেটার দেওয়া ইত্যাদি।বাংলাদেশি রোগীদের জন্য একটি সূচনামূলক বিশেষ অফার হিসেবে হেলথ চেক-আপে ১০% ছাড় দিচ্ছে অ্যাপোলো হসপিটালস, হায়দরাবাদ।উল্লেখ্য, অ্যাপোলো চেন্নাই-এর পরে অ্যাপোলো গ্রুপের দ্বিতীয় হাসপাতাল অ্যাপোলো হসপিটালস হায়দরাবাদ, যা ১৯৮৮ সালে যাত্রা শুরু করে। আজ প্রায় তিন দশক পরে অ্যাপোলো হসপিটালস, হায়দরাবাদ এশিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত এবং বিশ্বস্ত সমন্বিত হেলথ সিটিতে পরিণত হয়েছে। | 0 |
চলনবিল অঞ্চলে বিভিন্ন জাতের রোপা ও বোনা আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আমন ধানের বাম্পার ফলনে এ বছর কৃষকের চোখে মুখে হাঁসি ফুটেছেজানা গেছে, চলনবিলের সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, পাবনার ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, নাটোরের গুরুদাসপুর, সিংড়া, ও নওগাঁর আত্রাই উপজেলার মাঠে বোনা ও রোপা আমন সরসড়িয়া, দিঘা, সাদা দিঘা, কাজলদিঘা ও রোপা আমন ধান সহ বিভিন্ন জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে।কৃষি অধিদপ্তরের প্রাপ্ত তথ্য মতে , চলনবিলের আট উপজেলার চলতি বছর প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা ও বোনা আমনের আবাদ করা হয়েছে। চলনবিলের বিভিন্ন মাঠে এরই মধ্যে বোনা ও রোপা আমন ধান পেঁকে ওঠায় ধান কাটা ও মাড়াই কাজ চলছে পুরোদমে।কৃষকেরা জানান, প্রকারভেদে বিভিন্ন মাঠে বিঘা প্রতি ৮-১২ মণ হারে ফলন হচ্ছে।তাড়াশের গুরপিপুল গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম (৩৫) জানান, রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হচ্ছে।অপর দিকে বিল হামকুড়িয়া গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসেন (৫৫) জানান, রোপা ও বোনা আমন কৃষকের জন্যে লাভের আবাদ। কেন না এ আবাদে শুধু মাত্র বীজ ছিটিয়ে আসলেই হল। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের খরচ কম থাকায় যে ফলন পাওয়া যায় তাতেই কৃষকের লাভ।এ দিকে চলনবিলের প্রসিদ্ধ হাট বাজারে নতুন আমন ধান মণ প্রতি ৮৫০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর আমন ধান আবাদের বাম্পার ফলন হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে চলতি মৌসুমে আমন ধানের উৎপাদন ভালো হবে।
| 6 |
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের 'ভয়ঙ্কর ক্ষতি' করছে বলে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হঠাৎ করেই কঠোর লকডাউন-টকডাউন সমস্ত উধাও হয়ে গেল। এখন খুললাম-যে যেমন খুশি চলো। হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে চলছে, ফিরছে, সব কিছুই করছে। একটা জিনিসই চলছে না। এটা হচ্ছে-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন শিক্ষা না পায় সেই ব্যবস্থা তারা (সরকার) করছে। সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। বিএনপি পরিচালিত কোভিড-১৯ হেল্প সেন্টারের জন্য ওষুধ সামগ্রী হস্তান্তর উপলক্ষে জিয়া পরিষদ ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মির্জা ফখরুল বলেন, অনলাইনে কারা পড়ে? একমাত্র যারা বিত্তশালী মানুষ, তারাই অনলাইনে পড়াশুনা করতে পারে, আর তো কারো পক্ষে সম্ভব নয়। একটা কম্পিউটার যোগাড় করা, একটা মোবাইল সেট জোগাড় করা- সারাদেশে সেটা নাইও। গ্রামে স্কুল যেগুলো আছে সেগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ। পত্রিকায় দেখেছেন যে, ছেলেরা এখন বেলুন বিক্রি করছে, বাদাম বিক্রি করছে। স্কুল বন্ধ এখন। তারা বাবা-মাকে সাহায্য করার জন্য এগুলো করছে। অর্থাৎ দে হেভ বিন অলরেডি ডাইভার্টেড। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই যে একটা ভয়ঙ্কর ক্ষতি হচ্ছে প্রজন্মের, সেই ক্ষতিটা সরকারকে মোকাবিলার করার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা তারা সেভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। তারা আছে শুধু বিভিন্ন রকম ভুল ব্যাখ্যা ও তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে। বিএনপির এ নেতা বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে সব দিক দিয়ে। না পেরেছে তারা চিকিৎসা দিতে, না পেরেছে তারা আমাদের জনগণকে আগাম একটা প্রিভেনটিভ ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য একটা ব্যবস্থা তৈরি করতে, না পেরেছে তারা মানুষের মধ্যে একটা আস্থা তৈরি করতে যে, আমি এখানে চিকিৎসা পাব। পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে শুধু দুর্নীতির কারণে। ফখরুল বলেন, টিকা নিয়ে তেলেসমাতি কাণ্ড। এতো মিথ্যা কথা, এতো মিথ্যা অপপ্রচার যে মিথ্যা অপপ্রচার ও ভুল তথ্য দিয়ে পুরো জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। যারা বিশেষজ্ঞ আছে তারা বলছেন যে বয়সে মানুষের টিকা দেওয়া দরকার, আমি ধরে নেই সেটা ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত টিকা দেওয়া দরকার। তাহলে আপনার টিকার প্রয়োজনীয়তাটা হয় মোটামুটিভাবে ১৩ কোটি। ১৮ কোটির দেশে ১৩ কোটি টিকা দরকার হয়। তাহলে ২৬ কোটি ডোজ টিকা লাগবে। আনে দুই লাখ, তিন লাখ, এক লাখ। তাও আবার দান, অনুদান আসে। সেখানে বলে যে, আমরা গণটিকা প্রদানের অভিযান করছি এবং প্রতিদিন এক কোটি করে টিকা দেব। অনরেকর্ড বলেছে। অথচ টিকা নাই। জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক এমতাজ আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জিয়া পরিষদের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শফিকুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, আবু জাফর খান, দেলোয়ার হোসেন, শহীদুল ইসলাম, নীলিমা রহমান লিলি, নুরুন নবী, ইদ্রিস আলী প্রমুখ। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
করোনার থাবায় বিপর্যস্ত জনজীবন। আয় কমেছে মানুষের। চরম আর্থিক সংকটের এই সময়েও ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছেন ব্যবসায়ীরা। এর পেছনে অজুহাতের শেষ নেই তাঁদের। কখনো সরবরাহ সংকট, কখনো-বা আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে বাড়াচ্ছেন নিত্যপণ্যের দাম।বাজারে সব ধরনের ডালের দামই বেড়েছে। এক মাস আগে রাজধানীর পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি দিল্লি সুপার মসুর ডালের দাম ছিল ১০২-১০৩ টাকা। বর্তমানে তা ১১২-১১৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর এক সপ্তাহ আগে ৭৮-৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া বোল্ডার মসুর ডাল (মোটা দানা) গতকাল ৮০-৮৩ টাকা বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে ৫৬-৫৮ টাকার বুটের ডাল গতকাল ৬৫ টাকা বিক্রি হয়েছে। পাইকারিতে দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়েছে। এক মাস আগে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মোটা দানার মসুর ডাল ছিল ৭৫-৮০ টাকা, যা গতকাল বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯০ টাকা। একইভাবে ৯০-১০০ টাকার মাঝারি মানের মসুর ডাল গতকাল ৯৫-১০০ টাকা এবং ১০০-১১০ টাকার ছোট দানার মসুর ডাল ১০৫-১১০ টাকা বিক্রি হয়েছে গতকাল।ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাতে দাম বাড়িয়ে চললেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের বাজারে চিনি ও ভোজ্যতেলের সংকট নেই। ডালের সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের কথা বলে কেউ যাতে সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে তদারকি বাড়ানোর তাগিদ রয়েছে। ডালের দাম যাতে মানুষের নাগালের বাইরে না যায়, সে জন্য মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ডালের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ পর্যালোচনার কাজ করছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন। বিশ্লেষণ শেষ হলেই আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করে ডালের দাম নির্ধারণ করা হবে।শুধু ডাল নয়, চিনি ও ভোজ্যতেলের দামও বেশ চড়া। চিনি নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে দাম ঠিক করে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু নির্ধারিত এই দামে মিলছে না পণ্যটি। সরকার প্রতিকেজি চিনির দাম সর্বোচ্চ ৭৫ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও খোলা বাজারে গতকাল ৭৭-৭৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি চিনি। আর প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৮৪-৮৬ টাকা দরে। একইভাবে সয়াবিন তেল ১৪২ টাকা, সুপার পাম ১৩৫ টাকা এবং পাম তেল ১৩৩ টাকায় বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি।চিনি-ভোজ্যতেল ও ডালের বাড়তি দামের বিষয়ে জানতে চাইলে এসব পণ্যের অন্যতম বড় আমদানিকারক সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, সরকারনির্ধারিত দামে তাঁরা চিনি বিক্রি শুরু করেছেন। আগে সরবরাহকৃত চিনির দাম কমিয়ে সরকারনির্ধারিত দামে বিক্রির জন্য ডিলারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মিল থেকে দৈনিক ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টন চিনি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। | 6 |
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের 'গরুর দুধে সোনা' মন্তব্য নিয়ে কম ঠাট্টা-তামাশা হয়নি। সম্প্রতি সিপিআই নেতা মুহাম্মদ সেলিমও এ প্রসঙ্গ উল্লেখ্য করে বিঁধেছিলেন তাকে। এবার সেসব বিদ্রুপের পাল্টা জবাব দিলেন বিজেপি সাংসদ। বললেন, 'আমি গরুর কথা বললে অনেকের শরীর খারাপ হয়ে যায়। গাধারা গরুর কথা বুঝবে না!' পাশাপাশি, এদিন ফের দৃঢ়কণ্ঠে দিলীপবাবু বললেন, গোমূত্র খেয়েই তারা সুস্থ থাকবেন। প্রতিদিনই প্রাতঃভ্রমণে বের হন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এরপর কোনোদিন চায়ে পে চর্চা তো কোনোদিন অন্যকোনো কর্মসূচিতে যোগ দেন তিনি। বৃহস্পতিবারও তার অন্যথা হয়নি। এদিন মর্নিংওয়াক সেরে দলীয় কর্মীদের সাথে দেখা করেন দিলীপবাবু। সবাইকে পরামর্শ দেন গোলমরিচ, তুলসীপাতা, মধু দিয়ে ভালো করে নাড়া বানানোর। বলেন, 'আয়ুর্বেদ ছাড়া করোনাকে রোখা যাবে না। আমি মা-বোনদের বলছি, বাড়ির কেউ যদি ওই নাড়া না খেতে চায় তাকে দুপুরে ভাত দেবেন না।' কিঞ্চিত মজার সুরেই জানান যে তিনি নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণের সময় সাংবাদিকদেরও আদা, কাঁচা হলুদ দেন। কেউ খেতে না চাইলে 'বাইট দেব না', এই হুমকি দিয়ে তাদের তা খেতে বাধ্য করান। এরপরই গোমূত্র প্রসঙ্গে বলেন, 'আমি গরুর কথা বললে অনেকের শরীর খারাপ হয়ে যায়। আমরা গরুর দুধ, গোমূত্র খাই, তাই ভালো থাকি। আমরা গরুকে মা বলি। তার সেবা করি। গাধারা গরুর কথা বুঝবে না!' রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও তার দলবলকে কটাক্ষ করে বিজেপি সাংসদ বলেন, 'তোমরা বোতলের মদ খাও, আমরা গোমূত্র খেয়ে ভালো থাকব।' দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূলও। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোর করোনা পরিস্থিতি উল্লেখ করে বিঁধেছেন বিজেপি সাংসদকে। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন | 3 |
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম শ্রেষ্ঠ এর জনসংযোগ ও যোগাযোগ কর্মকর্তা হিসেবে গত ১ আগস্ট যোগদান করেছিলেন নায়ক নিরব। দুই মাস প্রতিষ্ঠানটিতে চাকরির পর মঙ্গলবার সমকালকে তিনি জানালেন, চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। সোমবার প্রতিষ্ঠানটি থেকে রিজাইন দিয়েছেন। এখন থেকে শুধু অভিনয়েই মনোযোগ দিবেন। শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে চাকরি কন্টিনিউ করা তার সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানান নিরব। পাশাপাশি বর্তামনে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনসাধারণের বিরুপ ধারণা তৈরি হয়েছে। তাই তিনিও চাকরি করতে উৎসাহ পচ্ছেন না বলেই জানালেন। নিরব বলেন, 'ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। ছবিগুলোর শুটিং টানা চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশ মুক্তি প্রতিক্ষিত ছবিগুলোর মুক্তির চূড়ান্ত তারিখ জানানোর পর সেগুলোরও প্রমোশনে নিয়মিত সময় দিতে হবে। তাই চাকরিটা কন্টিনিউ করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তাই নিজ থেকেই চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছি। ' এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রতারণার অভিযোগে দেশের একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো মালিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। নজরদারিতে রয়েছেন আরও অনেক ই -ই কমার্স প্রতিষ্ঠান ও তার মালিকরা। ফলে সাধারণ মানুষের বিরুপ ধারণা তৈরি হয়েছে এই খাতকে নিয়ে। একজন তারকা হিসেবে বিষয়টি মাথা নিয়েছেন নিরব। তিনি বলেন, 'জন সাধারণের জন্যই তো আমরা তারকা। তাদের যে খাতে বিশ্বাস নেই সে খাতে নিজেও থাকছি না। চাকরিটা কন্টিনিউ করার ইচ্ছে ছিলো শুটিংয়ের ব্যস্ততা বাড়ার পাশাপাশি ই কমার্স নিয়ে সাম্প্রতি ঘটনাগুলো আমাকে বেশ ভাবিয়ে তুলে। তাই এ খানের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা আর রাখছি না। আমি অভিনয়ের মানুষ। অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকতে চাই।' এদিকে দুই সপ্তাহ আগে নিরব অভিনীত 'চোখ' ছবিটি মুক্তি পায়। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার অভিনীত 'ক্যাসিনো', 'অমানুষ', ও 'ফিরে দেখা' ছবিগুলো। শিগগিরই 'অমানুষ ২' 'ক্যাশ' ছবির শুটিং শুরু করবেন বলেও জানিয়েছেন ঢাকাই ছবির 'আব্বাস' খ্যাত এই নায়ক। | 2 |
নীলফামারী জেলার শ্রেষ্ঠ উপ-পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন আরমান আলী। মঙ্গলবার মাসিক অপরাধ ও পর্যালোচনার শুরুতে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য অফিসার ও ফোর্সদের মাঝেপুরস্কার তুলে দেন নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান। মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আমিরুল ইসলাম (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার- প্রশাসন), আলী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (সহকারী পুলিশ সুপার (ডোমার-সার্কেল), নীলফামারীসহ সকল থানার অফিসার ইনচার্জ, ওসি ডিবি, ডিআইও ১, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর, আর-আই, আরওআই, নীলফামারী-কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ। এর আগেও পুলিশ বাহিনীতে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য বিভিন্ন সময়পুরস্কার লাভ করেন এসআই আরমান। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া গণটিকার দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাকসিন আবারও দেওয়া হবে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে টিকা দেওয়া শুরু হবে।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য করোনা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২১ এর ২য় ডোজ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে টিকা দেওয়া হবে। টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া পর্যন্ত হালুয়াঘাট উপজেলার পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন চলবে। এর আগে যারা প্রথম ডোজ নিয়েছে সবাই ২য় ডোজ টিকা নিতে পারবেন।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রেজাউল করিম বলেন,২য় ডোজ টিকা প্রদানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যারা এর আগে ১ম ডোজ নিয়েছেন তাঁরা ২য় ডোজ টিকা নিতে পারবেন। | 6 |
পাকিস্তানে পেট্রলের দাম বাড়ানো হয়েছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী মিফতা ইসমাইল বৃহস্পতিবার পেট্রল, ডিজেল, কোরোসিন তেল, ও হালকা ডিজেলের দাম ৩০ রুপি করে বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছেন। এসব পণ্যের ওপর ভর্তুকি হ্রাস করতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত আজ শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। দাম বাড়ানোর ফলে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম হবে ১৭৯.৮৬ রুপি, ডিজেল ১৭৪.১৫ রুপি, কেরোসিন তেল ১৫৫.৫৬ রুপি, হালকা ডিজেল ১৪৮.৩১ রুপি। পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী বলেন, এর ফলে জনগণের ওপর কিছুটা বোঝা চাপবে। তবে দাম বেশ বাড়ানো সত্ত্বেও এসব পণ্যে সরকারি ক্ষতি অব্যাহত থাকবে। জ্বালানির দাম বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) অব্যাহতভাবে চাপ দিয়ে আসছিল। সূত্র : জিও নিউজ | 3 |
রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলাধীন চন্দ্রঘোনা থানার অর্পিত দায়িত্ব কর্তব্য পালনে প্রশংসনীয় গৌরব অর্জন করায় শ্রেষ্ঠ ওসি উপাধিতে ভূষিত হন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা এবং মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ ঘোষণা আসে। এ সংবাদ কাপ্তাই উপজেলায় পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনন্দনের বার্তায় ভাসছে। জানা যায়, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেনের সভাপতিত্বে রাঙামাটিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের মাসিক কল্যাণ সভা ও মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত ভিডিও কনফারেন্সে রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সব থানা, ফাঁড়ি ও ক্যাম্পের ইনচার্জগণ সংযুক্ত ছিলেন। সভায় রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন বক্তব্য পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ প্রদান করেন। মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্ট তামিল, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, বিট পুলিশিং, সাইবার বুলিং, কিশোর গ্যাং, নারীর প্রতি ডিজিটাল ভায়োলেন্স ও করোনা ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন সম্পর্কিত সামাজিক জনসচেতনতা বৃদ্ধি সংক্রান্তে বিভিন্ন বিষয়ে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন। অভিন্ন মানদণ্ডের আলোকে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত করা হয়। জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আব্দুল আওয়াল চৌধুরী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (বাঘাইছড়ি সার্কেল), রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনর্চাজ হিসেবে নির্বাচিত হন মো: ইকবাল বাহার চৌধুরী, চন্দ্রঘোনা থানা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে নির্বাচিত হন মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন, কোতয়ালী থানা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। শ্রেষ্ঠ এসআই(নি.) হিসেবে নির্বাচিত হন দয়াল হরি ভৌমিক, লংগদু থানা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। শ্রেষ্ঠ এএসআই (নি.) হিসেবে নির্বাচিত হন মো: জাহেদুল ইসলাম, কাপ্তাই থানা, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। শ্রেষ্ঠ থানা নির্বাচিত হয় বরকল থানা ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা। | 6 |
ঢাকা: 'মনে হচ্ছে কেউ লা লিগা জিততে চাইছে না!'-এবারের লা-লিগা যেভাবে শেষ হতে যাচ্ছে গ্যারি লিনেকারের কথাটাই যথার্থই মনে হচ্ছে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ তিন দল আতলেতিকো মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, রিয়েল মাদ্রিদ শেষ দিকে জিততেই যেন ভুলে গেছে! সর্বশেষ, কাল রাতে প্রায় জেতা ম্যাচটা বার্সা লেভান্তের সঙ্গে ড্র করেছে ৩-৩ গোলে।তার আগে বার্সা আতলেতিকোর সঙ্গে করেছে গোলশূন্য ড্র। রিয়াল-সেভিয়া ম্যাচ ২-২ ড্র। ফলগুলোই যেন লিনেকারের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে, 'কেউ জিততে চাইছে না!' কাল ভ্যালেন্সিয়া স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে লেভান্তের বিপক্ষে ২-০ তে এগিয়ে থেকেও মেসিরা ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি। রিয়ালকে টপকে দুইয়ে উঠলেও শিরোপা জয়ের হিসাব-নিকাশ আরও জটিল হয়েছে কাতালানদের। এই ড্রয়ে উপকার হয়েছে আসলে দুই 'মাদ্রিদে'র। কাল শুরুতেই সহজ সুযোগ হাতছাড়া করে বার্সা। ২ মিনিটে সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে না পারা পেদ্রি ৫ মিনিটে আবারও সুযোগ হাতছাড়া করেন। যেখানে পূর্ণ কৃতিত্ব লেভান্তে গোলরক্ষক আইতোর ফার্নান্দেজের। দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন পেদ্রির শট। ২১ মিনিট নিজেদের ভুলেই গোলের সুযোগ হারায় লেভান্তে। ২৫ মিনিটে বার্সাকে ১-০ করে দেন মেসি। জর্দি আলবার ক্রস থেকে বাঁ পায়ের জাদুতে লক্ষ্যভেদ করেন বার্সার আর্জেন্টাইন তারকা । ৩১ মিনিটে টের স্টেগেনের দক্ষতায় আরও একবার রক্ষা পায় বার্সা। বারবার সুযোগ মিস করা পেদ্রি এবার আর ভুল করেননি। ৩৪ মিনিটে দেম্বেলের সহায়তায় আলতো করে গোলপোস্টের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বার্সাকে ২-০ তে এগিয়ে নেন এই ডিফেন্ডার।প্রথমার্ধে ২-০ তে এগিয়ে থাকা বার্সা দ্বিতীয়ার্ধে স্বাগতিকদের আক্রমণে ভড়কে যায়। কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে বার্সার রক্ষণভাগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বেশ রঙ্গরসিকতাও হচ্ছে-বার্সা ডিফেন্ডাররা নাকি মাঠে 'সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন'! আর এই সুযোগে দুই গোল করে সমতায় ফেরে লেভান্তে। ৫৭ মিনিটে মিরামনের ক্রসে হোসে লুইস মোরেলস না পারলেও গনসালো মেরেলো ঠিকই ফাঁকি দেন টের স্টেগেনকে। ২ মিনিট পর মোরেলসের গোলেই সমতায় ফেরে লেভান্তে।৬৪ মিনিটে বার্সাসমর্থকদের মুখ হাসি ফোটান দেম্বেলে। গ্রিজমানের সহায়তায় বার্সাকে এগিয়ে নেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। বার্সার এ আনন্দ অবশ্য ক্ষণিকের জন্য। ৮৩ মিনিটে লেভান্তেকে সমতায় ফেরান সার্জিও লিওঁ।৩-৩ গোলে ড্র করে ৩৬ ম্যাচ শেষে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে এসেছে কাতালানরা। তাতে আরও জটিল হয়েছে শিরোপা জয়ের সমীকরণ। ৩৫ ম্যাচ শেষে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে আতলেতিকো। সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে ৭৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল। শিরোপা জিততে হলে বার্সাকে দুটো ম্যাচ জিততে তো হবেই। একই সঙ্গে চাইতে হবে দুই মাদ্রিদের পরাজয়ও।বার্সার বাকি দুই প্রতিপক্ষ সেল্টা ভিগো আর এইবার। কাগজে-কলমে মৃদু আশা থাকলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। এই সমীকরণে মেসিদের শিরোপার স্বপ্ন ম্রিয়মান হয়েছে অনেকটাই। | 12 |
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেছেন কাদিয়ানী সম্প্রদায় মুসলমান নয়। তারা অমুসলমান। একই সাথে তাদের কে যারা অমুসলমান মনে করেননা তারাও অমুসলামান। কাদিয়ানীদের মেয়েকে বিবাহ করা যাবেনা। একই সাথে কাদিয়ানীদের ছেলেদের সাথে মেয়েকে বিয়ে দেয়া যাবেনা। কাদিয়ানীরা কাফের। যারা তাদেরকে কাফের মনে করেন না তারাও কাফের। আমরা শেখ হাসিনা সরকারকে বলব কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করার জন্য। পঞ্চগড়ে সম্মিলিত খতমে নবুয়তের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা শফী এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে এসময় কয়েক হাজার মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে আনাস মাদানী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, এই দেশে কাদিয়ানীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করে সংখা লঘু হিসেবে থাকতে দেয়া হোক। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যশনাল খতমে নবুয়তের বাংলাদেশ আমির মাহমুদুল হাসান মনতাজী, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব ড. আসম শোয়াইব আহমদ প্রমুখ। বক্তারা এ সময় বলেন, কাদিয়নীদের কোন প্রকার সাহায্য করবেন না। যাদের আত্নীয়-স্বজন টাকা পয়সা নিয়ে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনুন। | 6 |
শ্রীমঙ্গলের ১৫ তম চা নিলামে এবার সর্বোচ্চ দরে বিক্রি হয়েছে ব্ল্যাকটি 'ডিএম ক্লোন বিটি-২ স্পেশাল'। নিলামে ৬১০ টাকা ভ্যাটসহ এর দাম উঠেছে ৭১৩ টাকা। এর খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিতে ১০০০ টাকা। গতকাল বুধবার শ্রীমঙ্গলের চা নিলাম কেন্দ্রের নিলামে বিশেষ এ চা নিয়ে এসেছে হবিগঞ্জের বৃন্দাবনপুর চা বাগান।নিজেদের উৎপাদিত ব্ল্যাকটির মধ্যে এ পর্যন্ত এটিই সর্বোৎকৃষ্ট এবং সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হয়েছে উল্লেখ করে বৃন্দাবনপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন খান জানান, চা টির সাংকেতিক নাম 'ডিএম সি বিটি টু এস'। বাংলাদেশ এবং ভারতে এ পর্যন্ত যে কয়টা চায়ের জাত আবিষ্কার হয়েছে এর মধ্যে বিটি-২ এর গুণগত মান সবচেয়ে ভালো।চা টি নিলামে ওঠায় শ্রীমঙ্গল জালালাবাদ ব্রোকাস্ লিমিটেড। তা কিনে নেয় শ্রীমঙ্গল হবিগঞ্জ রোডের চা ব্যবসায়ী মাস্টার টি। গতকালের নিলামে মোট চা উঠেছে এক লাখ ৭৫ হাজার কেজি। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার কেজি।বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে বিটি-২ ক্লোন চা আবিষ্কার করেন তৎকালীন চা বিজ্ঞানী ড. হারাধন চক্রবর্তী। পরবর্তীতে এর কয়েকটি নতুন ধরন আবিষ্কৃত হয়েছে। | 6 |
দুই হাজারেরও বেশি অ্যানালিস্ট, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং টেলিকম, ইন্টারনেট ও ফাইন্যান্সসহ বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিত হয়েছে হুয়াওয়ের ১৭তম বার্ষিক গ্লোবাল অ্যানালিস্ট সামিট। অনসাইট ও অনলাইন দু'ভাবেই এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একসাথে কাজ করে কীভাবে কঠিন সময়গুলোকে অতিক্রম করা যায়, সবার জন্য লাভজনক পরিস্থতির সুযোগ তৈরি করা যায় এবং কীভাবে ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্ল্ডের বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন সামিটে অংশগ্রহণকারীগণ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে হুয়াওয়ে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই, বিশ্বকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আরও অধিক ব্যক্তি, পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হুয়াওয়ে। বিগত ৩০ বছরেরও অধিক সময় ধরে হুয়াওয়ে ১শ' ৭০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে বিশ্বজুড়ে ৩শ' কোটিরও বেশি মানুষকে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ১৫শ' এর বেশি নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটি ৬০ কোটি গ্রাহককে স্মার্ট ডিভাইস সরবরাহ করেছে। হুয়াওয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র হুয়াওয়েকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না পাশাপাশি যেসব গ্রাহক হুয়াওয়ের পণ্য ব্যবহার ও সেবা গ্রহণ করছেন তাদেরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্ল্ডের ভিত্তিই হচ্ছে আইসিটি অবকাঠামো। আইসিটি খাত বেশ সম্ভাবনাময়। ২০২৫ সালের মধ্যে ডিজিটাল অর্থনীতি ২৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ম,ল্যের একটি খাতকে প্রতিনিধিত্ব করবে। ইন্টেলিজেন্ট ওয়ার্ল্ডের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে, হুয়াওয়ে আইসিটি খাতের প্রতিক,লতার চেয়ে সুযোগ ও সম্ভাবনাগুলোকেই বেশি দেখতে পাচ্ছে । ভবিষ্যতেও হুয়াওয়ে তিনটি ক্ষেত্রে: কানেক্টিভিটি, কম্পিউটিং ও স্মার্ট ডিভাইস এর উদ্ভাবন ও বিনিয়োগ চলমান রাখবে। অংশীদারিত্ব, খাতের অন্তর্ভুক্তিম,লক উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে উৎসাহ প্রদানে আমরা সাপ্লাই চেইন, স্ট্যান্ডার্ডস, ট্যালেন্ট কালটিভেশন সহ অন্যান্য খাতেও গ্রাহক, অংশীদার ও স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশনের সাথে কাজ করবো।
এ নিয়ে গুয়ো পিং বলেন, 'বর্তমান বিশ্ব একটি সমন্বিত সহযোগিতাম,লক সিস্টেমের ওপর পরিচালিত। বিশ্বায়নের যে ধারা বহমান রয়েছে তা পরিবর্তন করা উচিত হবে না। ঐক্যহীন সাপ্লাই চেইন কারো জন্য কল্যাণকর হবে না বরং ঐক্যহীনতা পুরো খাতের ওপর তীব্র প্রভাব ফেলবে। এ খাতের সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে আইপিআর সুরক্ষা, সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা, বৈশ্বিক মানদণ্ডকে রক্ষা ও সহযোগিতাপূর্ণ বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে হবে।' প্রথম হুয়াওয়ে গ্লোবাল অ্যানালিস্ট সামিট অনুষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালে। এরপর থেকে প্রতিবছরই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বছর সামিটটি চলবে ১৮-২০ মে পর্যন্ত। তিন দিনব্যাপী এ সামিটটিতে বিভিন্ন সেশন রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে অংশ নেয়া ব্যক্তি এবং এ খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সামিটে এ শিল্পখাতের গতিপ্রকৃতি, প্রযুক্তির ধারা ও বৈশ্বিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে তাদের ম,ল্যবান বক্তব্য রাখবেন। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন: ://..//-// বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 0 |
করোনাভাইরাসের কারণে গত দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে তুলতে সরকার নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। আজ শুক্রবার সকালে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের দত্তপাড়া এলাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ব্লেন্ডেড শিক্ষা মহা-পরিকল্পনা চুড়ান্তকরণ বিষয়ক কর্মশালায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের রাজনীতি করলে চলবে না শিক্ষার্থীদেরকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে কোন দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। শিক্ষার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। ব্লেন্ডেড শিক্ষা বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্স দুই দিনব্যাপি এ কর্মশালার আয়োজন করেছে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সচিব আবু বক্কর ছিদ্দীকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় এসময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ অংশগ্রহণ করেন।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ | 9 |
স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদান করেছেন মো. তৌহিদুল আলম খান। ব্যাংকিং খাতে ২৭ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ও বিচক্ষণ এ ব্যাংকার গত ২৪ নভেম্বর উক্ত পদে যোগ দেন। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে যোগদানের পূর্বে তিনি প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন। নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্সে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তৌহিদুল আলম খান ১৯৯৩ সালে অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু করেন। বাংলাদেশে সিন্ডিকেশন লোনের দিশারী হিসেবে তার নেতৃত্বেই প্রথম শরিয়াহ ভিত্তিক সিন্ডিকেশন চুক্তি এবং সূচনাকালীন সময়ে সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেশন টার্ম লোন নিষ্পত্তি করা হয়। তিনি আইসিএমএবির একজন সম্মানিত সদস্য, আইআইবিআই, যুক্তরাজ্যের সহযোগী সদস্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাসেল ২ কমপ্লাইয়েন্স প্রফেশনালস অ্যাসোসিয়েশনের একজন সনদপ্রাপ্ত প্রফেশনাল ও আজীবন সদস্য এবং ইন্টারনাল অডিটরস-আইআইএ গ্লোবাল-ইউএসএ অ্যান্ড লোকাল চ্যাপ্টার-বাংলাদেশের একজন সম্মানিত সদস্য। তিনি বাংলাদেশের প্রথম সনদধারী সাসটেইনেবল রিপোর্টিং অ্যাস্যুরার। তিনি সিঙ্গাপুর থেকে প্রকাশিত বিজনেস ম্যাগাজিন 'এশিয়ান ব্যাংকিং অ্যান্ড ফিন্যান্স' এর অন্যতম লেখক। আইসিএমএবি'র জার্নাল কমিটির সভাপতিসহ তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ইসলামিক ফিন্যান্স নিউজ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'আইএফএন' এর আন্তর্জাতিক করেসপন্ডেন্ট। তৌহিদুল আলম খান তার লেখনীর স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননা অর্জন করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি দেশ-বিদেশে অসংখ্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 0 |
আপনাকে সেই দুপুর (গতকাল সোমবার) থেকে খুঁজছি... বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্যারেড স্কয়ারে একটি অনুষ্ঠানে দাওয়াত ছিল। রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রীসহ গণ্যমান্য আরও অনেকে ছিলেন। দুপুর থেকে সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল। শেষ পর্যন্ত 'গন্তব্য' ছবিটি তার গন্তব্য খুঁজে পেয়েছে। মুক্তি পেয়েছে প্রেক্ষাগৃহে। অভিনয়শিল্পী হিসেবে কেমন লেগেছে? আমার খুব ভালো লেগেছে এই ভেবে, ছবিটি ৭ মার্চের ভাষণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে পরিচালক অরণ্য পলাশের ছবিটি দর্শকের সান্নিধ্যে এসেছে। স্বাধীনতার মাসে, মুজিব বর্ষে ছবিটি মুক্তি পাওয়ায় অন্য রকম একটা আবেগ তৈরি করেছে। ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত হয়ে দেখেছেন? না, এখনো সুযোগটা হয়নি। শিগগিরই যাব। কয়েকটি সিনেমা হলে খবর নিয়েছি, করোনার মধ্যেও দর্শক উপস্থিতি সন্তোষজনক বলল। ভারতের মুম্বাইয়ে বঙ্গবন্ধু বায়োপিকের শুটিং চলছে। 'বঙ্গবন্ধু' ছবিতে আপনার অভিনয়ের কথা শোনা গিয়েছিল। হঠাৎ জানা গেল, ছবিতে আপনি নেই। কারণ কী? ভারতের প্রবেশসংক্রান্ত আমার একটা জটিলতা ছিল। আজও তা সমাধান হয়নি। তাই ভিসা হয়নি, যাওয়াও হয়নি। এটা কি কলকাতায় শুটিংয়ের ফাঁকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার সেই জটিলতা? ঠিকই ধরেছেন। একবার ভুল করে ভারতের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলাম। বিদেশি নাগরিক হিসেবে, যা মোটেও উচিত হয়নি। ওই ইস্যুটির কারণে আমার ভারতের ভিসা পেতে জটিলতা হচ্ছে। সেখানকার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়াটা তাহলে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল? অবশ্যই, অবশ্যই। এক দেশের নাগরিক হিসেবে আমি তো আরেক দেশে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারি না। রাষ্ট্রীয় নির্বাচনের প্রচারণায় অংশগ্রহণের নিয়মকানুন আমার জানা ছিল না, যারা আমাকে নিয়ে যান, তারাও জানত না। আমি লম্বা সময় ধরে ভারতেও কাজ করছি, তারা সব সময় আমাকে তাদেরই অংশ মনে করে। কিন্তু রাষ্ট্রেরও তো কিছু নিয়মকানুন থাকে, এসবে ভুল করলে তো চলবে না। সেই ভুলে বড় ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিনের সহযাত্রী, বন্ধু অভিনেতা রিয়াজ'বঙ্গবন্ধু' ছবিতে আপনি নেই, শোনার পর আপনার আফসোস হয়েছে? এত বড় আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে ছবি হচ্ছে, এটাতে থাকা ইতিহাসের অংশ হওয়া। আমি থাকতে পারছি না, এটা তো চরম আফসোস। এই আফসোস আজীবন রয়ে যাবে। আমি ভুল করেছি, ভুলের মাশুল দিয়েছি। আমি চাইব, আমার এই ভুল থেকে পরবর্তী প্রজন্ম যেন শিক্ষা নেয়। আপনার দীর্ঘদিনের সহযাত্রী, বন্ধু অভিনেতা রিয়াজ ছবিটায় থাকছেন। আপনি খুশি? অনেক ধন্যবাদ রিয়াজকে, শেষ মুহূর্তে কাজটি করতে রাজি হয়েছে। অন্য কেউ এই চরিত্র কতটা ফুটিয়ে তুলতে পারত, জানি না। রিয়াজের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে, আমার চেয়েও ভালো করতে পারবে। চলচ্চিত্র অঙ্গনে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, যখন যে নায়িকার সুসময়, তখন তাঁর সঙ্গে আপনার বন্ধুত্ব গাঢ় হয়। এটা সচেতনভাবেই করেন? আমার তো সব নায়িকার সঙ্গেই সুসম্পর্ক। চলচ্চিত্রের স্বার্থেই সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক। ববিতা, শাবানা, কবরী থেকে শুরু করে এখনকার থেকে মাহী পরীমনি, পূজা চেরি-সবার সঙ্গে আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। নারীর প্রতি আমি বরাবরই শ্রদ্ধাশীল। দীর্ঘদিন ধরে যাঁদের সঙ্গে কাজ করি, তাঁদের সঙ্গে শ্রদ্ধার এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। আমরা যখন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কাজ করি, শুটিং করি, তখন মনে করি-ওই নায়িকা বা অভিনয়শিল্পী আমার ওপর যেন আস্থা রাখতে পারেন। ভরসা যেন পান-এসব সচেতনভাবে করি। শিল্পীর সঙ্গে শিল্পীর সুসম্পর্ক বজায় রাখার বড় কৌশল কী? বিশ্বাসটা অনেক বেশি জরুরি। অনেককে বলতে শুনি, চলচ্চিত্রে একটা অংশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সুনাম অর্জন করছে। কিন্তু কিছু লোকের কর্মকাণ্ড চলচ্চিত্রের সুনাম নষ্ট করছে। দেশ-বিদেশের অনেকেই এ নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। এ অবস্থা কেন হয়েছে, কবে থেকে হয়েছে বলে মনে করছেন? যখন থেকে চলচ্চিত্রে কতিপয় লোকের আনাগোনা শুরু হয়েছে, তখন থেকেই এমনটা হচ্ছে। এই কতিপয় লোক নিজেদের বড় শিল্পী হিসেবে দাবি করে, অথচ তাঁদের মধ্যে শিল্পীসুলভ কোনো কিছুই নেই। তারা চলচ্চিত্রশিল্পটাকে নষ্ট করছে। প্রকৃত শিল্পীদের ভাবমূর্তিও নষ্ট করছে। আমি মনে করি, চলচ্চিত্রে কিংবা যেকোনো শিল্পে লম্বা সময় ধরে টিকে থাকতে হলে মেধার পাশাপাশি শিল্পমন থাকতে হয়। পেশিশক্তি দিয়ে কখনোই শিল্প হয় না। শিল্পমাধ্যমে নিজেকে শিল্পী হিসেবে প্রমাণ করতে চাইলে অনেক সাধনার দরকার হয়। যাঁরা শিল্পী হতে চান, তাঁদের আমি সাধক হতে বলব। কূট রাজনীতি না করে নিজেকে প্রতিনিয়ত কাজে প্রমাণ করো। এটা রাজনীতি করার জায়গা নয়। এখানে মানুষের কল্যাণ, আনন্দ দেওয়া, সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবদান রাখার কথা ভাবতে হবে। তাহলে আপনাদের মতো প্রকৃত শিল্পী যাঁরা আছেন, তাঁরা এসব কতিপয় লোকের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? এই ধরনের কতিপয় লোক আগেও ছিল, এখনো আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এরা আসবে, আবার ভেসে চলে যাবে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর, এখনো কিছু রাজাকার আছে। ভালো-মন্দ নিয়েই তো জীবন। সাদা থাকবে, কালো থাকবে-কালো না থাকলে সাদার পার্থক্য তো বোঝাও যায় না। দিনশেষে, সাদা এবং সত্যেরই জয় হয়। প্রকৃত শিল্পীরাই টিকে থাকে, ওসব অশিল্পী ভেসে চলে যাবে। আপনি বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতেও কাজ করছেন। এ দেশের চলচ্চিত্র আরও ভালোভাবে এগিয়ে নিতে হলে কী করতে হবে? আমাদের সবচেয়ে বড় অন্তরায় ছিল চিত্রনাট্যে। চিত্রনাট্যের প্রতি ভালোভাবে মনোযোগ না দেওয়া। ভালো চিত্রনাট্যের অভাবে একটা সময় আমরাও গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসিয়েছি। অনেক ভুল সিনেমায় অভিনয় করেছি। অন্য দেশকে কপি না করে নিজেদের স্বকীয়তা আনতে হবে। এখন আমাদের দেশের নাটক, সিনেমায় অসাধারণ কিছু গল্প ওঠে আসার আভাস পাচ্ছি। সুন্দর ভবিষ্যতের পূর্বাভাস পাচ্ছি। এখন কী কাজ করছেন? মানিকের 'লাল কাঁকড়া', '১৯৭১ সেইসব দিনগুলি', 'গাঙচিল', 'জ্যাম' ও 'রাসেলের জন্য অপেক্ষা'-এই ছবিগুলোর কাজ করছি। | 2 |
ঢাকা: যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারে দ্বিতীয় ঢেউ পার করছে বাংলাদেশ। তবে এবার নতুন করে শনাক্ত ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট এদের ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যার ভয়াবহতা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শুরু হতে পারে-এমনটাই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।যুক্তরাজ্যের ৬৯ শতাংশ করোনা আক্রান্ত রোগী বি ১.৬১৭.১ ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে পরিচিত ধরনটিতে ভুগছে। পাশাপাশি ভারতের ২০ শতাংশ করোনা রোগী এই ভ্যারিয়েন্টের শিকার, যা বাংলাদেশের জন্য রীতিমতো ভয়ের।বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার জন্য ৬০ শতাংশ যুক্তরাজ্য ও ৩০ শতাংশ দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়েন্ট দায়ী বলে মনে করছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। তবে নতুন করে শনাক্ত ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি তৃতীয় ঢেউয়ের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা গবেষকদের।গত এক মাসে করোনাভাইরাসের নতুন ১০টি জীবনরহস্য উদ্ঘাটন করেছে চট্টগ্রামের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) গবেষকেরা। যেখানে ছয়টি যুক্তরাজ্যের এবং তিনটি দক্ষিণ আফ্রিকা ও একটি অস্ট্রেলিয়ান। পাশাপাশি দেশে ব্রাজিল ও নাইজেরিয়ার ভ্যারিয়েন্টের প্রভাব রয়েছে। আর সম্প্রতি ভারতফেরতদের মধ্যে ছয়জনের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি মিলেছে। এর মধ্যে দুটিতে পুরোপুরি ওই ভ্যারিয়েন্টের বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে। তবে এটি ডাবল মিউটেন্ট কি না-পরিপূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সি শেষ না করা পর্যন্ত তা বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।এদিকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ল্যাব গত ৬ মে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল থেকে ভারতফেরত ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় তিনজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে দুজনের শরীরে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বি ১.৬১৭.২ পাওয়া যায়।গবেষক দলটির প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, 'সম্প্রতি ভারতফেরত কয়েকজনের নমুনা পৃথকভাবে সংগ্রহ করে আইইডিসিআর ও যবিপ্রবি। আমাদের পরীক্ষায় দুজনের নমুনায় ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই ধরনটি ২০ শতাংশের বেশি সংক্রমণের সক্ষমতা রাখে।' ভারতের তিন ধরনের ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম বলে মনে করছেন যুক্তরাজ্যের জনস্বাস্থ্যবিদেরা।এর সঙ্গে একমত বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যবিদেরাও। তাঁরা বলছেন, শক্তিশালী এই ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতে সীমান্ত যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করার পাশাপাশি কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই। কিন্তু সরকারের উচ্চ বিধিনিষেধ জারি থাকলেও তা বাস্তবায়ন না থাকায় ১৪ দিন পর ভাইরাসটির ভয়ানক রূপ দেখা যেতে পারে। যার তাণ্ডব থামাতে কতটা সক্ষম হবে বাংলাদেশ, তাই এখন ভাবনার বিষয়।করোনা প্রতিরোধে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ইকবাল আর্সলান বলেন, 'শুধু মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বললে তো হবে না। মানুষের ঘরে খাবার নেই। তাই নতুন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের খবর শুনেও বাড়ি ফেরার ঢল নেমেছে। অথচ গত বছর এই সময়ে মানুষ নিজে থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্যোগী ছিল। যে অবস্থা এখন আমরা দেখছি তাতে ঈদের পরপরই কিংবা দুই সপ্তাহ পর ধরনটি বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বলাই যায়, আমাদের জন্য ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করছে। এখন কতটা আমরা সামাল দিতে পারব, সেটাই কথা।' | 6 |
বিয়ের দুই মাস পর ভাইকে ফাঁসাতে নিজের স্ত্রী রিবা আক্তারকে (১৫) হত্যা করেছেন স্বামী আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল (৬০)। আজ বৃহস্পতিবার সকালে জেলা পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে আব্দুর রাজ্জাককে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করে ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।মৃত রিবা আক্তার নরসিংদীর মাধবপুর উপজেলার খিলগাঁও গ্রামের অটোচালক দুলাল মিয়ার মেয়ে। সে গার্মেন্টসকর্মী ছিল। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুর রাজ্জাক ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার টাংগাটি মধ্যপাড়ার বাসিন্দা। দুই মাস আগে আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল ও রিবা আক্তারের বিয়ে হয়।জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুর রাজ্জাক ও তাঁর ভাই আমিনুল ইসলামের জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। আমিনুল ইসলামকে ফাঁসাতে গত সোমবার রিবাকে বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে ধোবাউড়া গোয়াতলা কংশ নদীর তীরে নিয়ে যান আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় অপেক্ষমাণ দুই সহযোগী দল বেঁধে রিবাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে মরদেহ আমিনুল ইসলামের বাড়ির পাশের খেতে ফেলে রাখেন তাঁরা। মরদেহের সঙ্গে আমিনুল ইসলামের ছেলে শহীদুল্লাহর জন্মনিবন্ধনের ফটোকপিও রাখা হয়। পরদিন মঙ্গলবার রিবা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান বলেন, 'দুই মাস আগে রিবা আক্তারের সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাকের পরিচয় হয়। আব্দুর রাজ্জাক তাকে সাংবাদিক বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের পর গাজীপুরের গাছা রোড এলাকায় আব্দুর রাজ্জাকের ভাড়া বাসায় রিবার যাতায়াত ছিল।'পুলিশ সুপার আরও বলেন, 'এ বিষয়ে ধোবাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।' | 6 |
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রামচরনপুর গ্রামে সাপের কামড়ে বেলাল হোসেন (২৬) ও মৌসুমী আক্তার (২১) নামে এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় ঘুমের মধ্যে সাপ তাদের কামড় দেয়। পরে স্থানীয়রা তাদের ঘরে থাকা মাছ ধরার জালে একটি সাপ আটকে থাকতে দেখে। নওগাঁর মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তারা রাতের খাবার শেষে ঘুমাতে যান। ঘুমের মধ্যে বেলাল হোসেন ও মৌসুমী আক্তারকে সাপ কামড় দেয়। বিষয়টি তারা বুঝতে চিৎকার করলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে রাতেই মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার ভোরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়রা জানায়, এক মাস আগে একই ভাবে ঘুমের মধ্যে বেলাল হোসেনের বাবা সিরাজ উদ্দিনকে সাপে কামড়ালে তিনি মারা যান। | 6 |
চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় নিহত পলাশ আহমেদের সাবেক স্ত্রী অভিনেত্রী শামসুন নাহার সিমলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম নগরের দামপাড়া কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কার্যালয়ে আসেন তিনি। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক রাজেস বড়ুয়া। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের অভিনেত্রী শামসুন নাহার সিমলা বলেন, 'তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার কাছে বিভিন্ন বিষয় জানতে চেয়েছেন। আমি আমার কাছে থাকা সব তথ্য জানিয়েছি।' সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'পলাশ কেন বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে, তা আমি বলতে পারব না। আমাদের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের পর মনে হয়েছিল পলাশ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই তাকে ডিভোর্স দিয়েছি।' কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সূত্র জানায়, সিমলা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানান, ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর 'নাইওর' ছবির পরিচালক রাশিদ পলাশের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পলাশ আহমেদের সঙ্গে সিমলার পরিচয় হয়। তখন পলাশ সিমলাকে জানিয়েছিলেন, তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিট্রিশ। লন্ডনে তাদের পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। নিজেও ব্যবসা করেন। সিনেমার প্রতি তার আগ্রহ আছে। তার বাবাও বড় ব্যবসায়ী। নারায়ণগঞ্জে তাদের বিশাল বাড়ি রয়েছে। বিয়ের পর তিনি স্ত্রীকে নিয়ে লন্ডনে চলে যাবেন। এসব শুনে সিমলা নিজেই পলাশকে বিয়ের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে প্রস্তাব দেন। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ পলাশ ও সিমলা বিয়ে করেন। বিয়ের পর সিমলাকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাগজপত্রও তৈরি করিয়েছিলেন পলাশ। একপর্যায়ে সিমলা জানতে পারেন, সবই ভুয়া। তিনি প্রতারিত হয়েছেন। পলাশের আচার-আচরণও স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল না। পলাশকে মেন্টালি ডিস্টার্বড মনে হয়েছে তার। এ জন্য একই বছরের ৫ নভেম্বর পলাশকে ডিভোর্স দেন তিনি। ডিভোর্সের বিষয়টি জানতে পেরে একবার ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যারও অভিনয় করেন পলাশ। বারবার সিমলাকে এসএমএস পাঠান। কিন্তু কখনো তিনি তার উত্তর দেননি। এতে তার আচরণ আরও উগ্র হয়ে যায়। সিমলার সঙ্গে সংসার হবে না জেনে মানসিক বিপর্যস্ততা থেকে বিমান ছিনতাই চেষ্টা করেছেন বলে মনে করছেন সিমলা। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী ফ্লাইট বিজি-১৪৭ ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই এক যুবক অস্ত্র দেখিয়ে জিম্মি করেন ক্রুদের। ওই অবস্থায় বিমানের পাইলট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানটি অবতরণ করান। যাত্রী ও ক্রুদের নামিয়ে আনার পর কমান্ডো অভিযানে মারা পড়েন ওই যুবক। পরে জানা যায়, ওই যুবক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের দুধঘাটা এলাকার পিয়ার জাহান সরদারের ছেলে পলাশ আহমেদ। ঘটনার দিন অভিযান পরিচালনাকারীরা জানিয়েছিলেন, পলাশ 'স্ত্রীর বিষয়ে' প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। পরদিন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রযুক্তি সহকারী দেবব্রত সরকার বাদি হয়ে পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পলাশ আহমেদ ও অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়। মামলার এজাহারেও বলা হয়, তার কিছু দাবি দাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীকে শোনানোর জন্য বিমান ক্রুদের জিম্মি করেন পলাশ। মামলা দায়েরের পর তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বিমান থেকে উদ্ধার করা পিস্তল ও বিস্ফোরকসদৃশ বস্তুসহ বেশকিছু আলামত জমা দেয় র্যাব ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো টিম। পরে পিস্তলটি অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিতে পাঠানো হয়। গত ১৩ মার্চ সিআইডি পিস্তলের ব্যালাস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদন দেয় কাউন্টার টেরোরিজমের হাতে। এতে বলা হয়, পিস্তলটি ছিল খেলনা। বিমান ছিনতাই চেষ্টার ঘটনায় এ পর্যন্ত শিমলাসহ ৪২ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক রাজেস বড়ুয়া। তিনি বলেন, 'সিমলা এ মামলার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একজন সাক্ষী। তিনি গত ২৫ অগাস্ট মুম্বাই থেকে দেশে ফিরেন। এরপর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই বাছাই করা হবে।' | 6 |
বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের প্রযোজক হিসাবে নতুন ওয়েব সিরিজ "বেতাল" মুক্তি পেতে চলেছে আগামী ২৪ মে । 'বেতাল' হরর-থ্রিলার রচিত এবং প্যাট্রিক গ্রাহামের পরিচালিত, যিনি এর আগে "ঘোল" পরিচালনা করেছিলেন। আর এই শো পরিচালনা করেছেন নিখিল মহাজন। এই সিরিজটির শুটিং হয়েছে ভারতের মুম্বাই, লোনাওয়ালা এবং খান্ডালায়। কারণ, এটি একটি কাল্পনিক ভারতীয় লোককাহিনীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। সিরিজটি অবশ্যই কিছু অবিশ্বাস্য ভিএফএক্স এবং কৃত্রিম যৌগিক কাজের সাথে ভৌতিক বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে জেনার-বেন্ডিং হবে। বেতাল সিরিজটি এসআরকে-র রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট, নেটফ্লিক্স, এসকে গ্লোবাল এবং ব্লুমহাউস প্রোডাকশনের সহযোগিতায় তৈরি। | 2 |
হলিউড, টম ক্রুজ, মার্কিন সরকার- সবাইকেই পেছনে ফেলে দিয়েছে রাশিয়া। অভিনেত্রী ইউলিয়া পেরেসিল্ড এবং পরিচালক ক্লিম শিপেঙ্কোর মহাকাশ যাত্রা শুরুর পর তাই ক্রেমলিনের ঘোষণা, 'মহাকাশে আমরাই অগ্রপথিক'। ২০২০ সালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছিল, হলিউডের একটি চলচ্চিত্রের দৃশ্য ধারণ করতে স্পেসএক্সের রকেটে চড়ে মহাকাশে যাবেন অভিনেতা টম ক্রুজ। জানানো হয়েছিল চলচ্চিত্রটির নাম এবং কাহিনী এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু টম ক্রুজের সেই ছবির নাম ঠিক হওয়ার আগে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে কাজও শুরু করে দিলো রাশিয়া। মঙ্গলবার 'দ্য চ্যালেঞ্জ' নামের একটি ছবির শুটিং করতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন রাশিয়ার অভিনেত্রী ইউলিয়া পেরেসিল্ড এবং পরিচালক ক্লিম শিপেঙ্কো। মঙ্গলবার কাজাখস্তানের কাছের বাইকনুর নভোযান উড্ডয়ন কেন্দ্র থেকে ইউলিয়া পেরেসিল্ড এবং ক্লিম শিপেঙ্কোকে নিয়ে রওনা দেয় রাশিয়ার সয়ুজ এমএস-১৯ মহাকাশযান। মস্কোর সময় বুধবার ৩টা ১২ মিনিটে তাদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছে যাওয়ার কথা। মহাকাশে ১২ দিন থাকবেন ইউলিয়া পেরেসিল্ড এবং ক্লিম শিপেঙ্কো। সঙ্গে দুজন পেশাদার নভোচারীও থাকছেন এই অভিযাত্রায়। ওপরের ছবিতে ইউলিয়া এবং শিপেঙ্কোর সঙ্গে 'কসমোনট' আন্তন শ্কাপলারভ। টম ক্রুজের ছবির নাম ঠিক করতে দেরি হলেও রুশ পরিচালক ক্লিম শিপেঙ্কো আগেই জানিয়ে দিয়েছেন তার ছবির নাম 'দ্য চ্যালেঞ্জ'। ছবিতে এক চিকিৎসকের ভূমিকায় অভিনয় করবেন ইউলিয়া। একজন নভোচারীর প্রাণ বাঁচাতে মহাকাশ স্টেশনে যেতে হয় তাকে। যাওয়ার পরের ঘটনাগুলোরই চিত্রায়ন হবে ১২ দিনে। মঙ্গলবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ বলেছেন, 'মহাকাশে আমরাই অগ্রপথিক। হ্যাঁ, অন্যরাও আমাদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে, এখানে যে সদর্থে এক ধরনের প্রতিযোগিতা রয়েছে তা ঠিক। এ ধরনের ফ্লাইট আমাদের অর্জনকে জনপ্রিয় করে। মহাকাশ নিয়ে মৌলিক চিন্তার জন্যও এটা সুখবর।' সূত্র: ডয়চে ভেলে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 2 |
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ১১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগ তাঁদের অব্যাহতি দিয়েছে। আজ রোববার দুপুরে ধামইরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গতকাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১১ জন নেতা-কর্মীকে তাঁদের দলীয় পদ ও সংগঠনের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া নেতা-কর্মীদের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানায়, চতুর্থ ধাপে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের সব কটিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। এসব ইউপিতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১১ জন চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত বুধবার উপজেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিদ্রোহী প্রার্থীদের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার ও সংগঠনের সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সুপারিশের চিঠি জেলা কমিটি ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কাছে পাঠানো হয়। জেলা কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১১ নেতা-কর্মীকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অব্যাহতি দেওয়া ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহীর সদস্য ওসমান আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহদপ্তর সম্পাদক মাসুদুর রহমান, আগ্রাদ্বিগুণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল লতিফ মীর, ইসবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েস, খেলনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সালাম, আলমপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা মো. বেলাল হোসেন, উমার ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আজাহারুল ইসলাম, আড়ানগর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেকুর রহমান, ধামইরহাট সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য এ টি এম বদিউল আলম, আড়ানগর আওয়ামী লীগের সদস্য রফিকুল ইসলাম ও উমার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মাসুদুর রহমান সরকার। | 9 |
ফুটবলবিশ্বের দুই মহারথী লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর তো মাঠে হরহামেশায় লড়াইয়ে নামতে হয়। তাঁদের মধ্যে কে সেরা-এ নিয়ে বিতর্ক যেন কখনোই শেষ হওয়ার নয়। এমনকি বর্তমানে চলা ইউরো-২০২০ ও কোপা আমেরিকা-২০২১ দুটো আলাদা আসর হলেও এই দুজনের মধ্যে কে ভালো খেলছেন, এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন তৈরি করেই রেখেছেন দর্শকেরা। তবে মাঠের বাইরেও তাঁদের লড়াইয়ের চমকপ্রদ গল্প রয়েছে। ২০১৬ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে এক নিলামে অংশ নিয়েছিলেন দুই সেরা ফুটবলারের প্রতিনিধিরা। একটি ১৯৫৭ ফেরারি ৩৩৫ এস স্পাইডার স্ক্যাগলিয়েত্তি নিয়ে হয়েছিল ওই নিলাম। ইতালিয়ান বিলিয়নিয়ার আলেসান্দ্রো প্রোতো নিলামে তুলেছিলেন ওই গাড়ি। রেসিংয়ের দুনিয়ায় গাড়িটির চমকপ্রদ কাহিনি আছে। ১৯৫৮ সালে কিউবান গ্রাঁ প্রিঁতে ঐতিহাসিক এই গাড়ি চালিয়েছিলেন ব্রিটিশ ফর্মুলা ওয়ান ড্রাইভার স্টার্লিং মস। এরপর থেকেই গাড়িটাকে সবচেয়ে দামি ফেরারি হিসেবে ধরা হয়। গাড়িটি অন্য অনেক রেসও জিতেছিল এবং অনেককাল এটি রেসিং চালকদের জন্য একটি স্বপ্নের গাড়ি ছিল।১৯৫০ সালে তৈরি এই মডেলের মাত্র চারটি গাড়িই তৈরি করেছিল ফেরারি। তাই একেকটির দাম এতটা আকাশছোঁয়া। স্পানিশ নিউজপেপার স্পোর্টয়ের তথ্য অনুযায়ী ৩ কোটি ২০ লাখ ইউরো (সে সময়ের হিসাবে প্রায় ২৮৫ কোটি টাকা) দিয়ে নিলামে গাড়িটি কিনেছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। আলেসান্দ্রো প্রোতোও সে সময় এমনটা জানান। মেসির জন্য এই গাড়ি তৎকালীন সময়ে ফেরারির ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া গাড়িতে পরিণত হয়েছিল। মেসির আগে আলেসান্দ্রো প্রোতোই ছিলেন সর্বশেষ এই গাড়ির মালিক। প্যারিসে নিলামে তোলার সময় এর ভিত্তি মূল্য ধরা হয়েছিল ২ কোটি ইউরো। স্পানিশ নিউজপেপার স্পোর্টয়ের তথ্য অনুযায়ী নিলামে রোনালদোর এজেন্টরা ৩ কোটি ইউরো পর্যন্ত টক্কর দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য মেসির কাছে তাঁদের রণে ভঙ্গ দিতে হয়েছিল। তবে গল্পটা এখানেই শেষ হলো না। এর এখনো একটি চমক আছে। তা হলো মেসি কিন্তু কখনো এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। গোল ডট কমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সে সময় ইনস্টাগ্রামে একটি মজার পোস্ট করেছিলেন তিনি। হাতে ফেরারির ওই মডেলের মতো দেখতে একটি খেলনা গাড়ি নিয়ে ছবি পোস্ট করেন তিনি। ক্যাপশনে লেখেন নিজের নতুন গাড়ি। আর তাই বিষয়টি নিয়ে কিছুটা রহস্য রয়ে গেছে। | 0 |
চট্টগ্রামের হালিশহরের শান্তিবাগ এলাকায় মো. মিজানুর রহমান জাবেদ নামে এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত স্ত্রীর নাম ফাতেমা আক্তার কলি। ওই গৃহবধূর মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স সঙ্গেনিয়ে নোয়াখালী জেলা শহরে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন তার স্বজনরা। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ থেকে নিহতের স্বজনরা ও এলাকাবাসী জানান, পুলিশ সদস্য জাবেদ ও নিহত কলি দুজনই নোয়াখালীর বাসিন্দা। জাবেদ সদর উপজেলার বিনোদপুরের বাসিন্দা এবং কলি কাদিরহানিফের বাসিন্দা। ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। তাদের পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানও রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের দুই আড়াই বছর পর থেকে জাবেদ অন্য কারও সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকে কলিকে প্রায় সময় মারধর করতেন। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিক বৈঠকও হয়েছে। স্বামীর পরকীয়া ও ইয়াবাসহ অবৈধ উপার্যনের বিষয়ে স্ত্রী নিষেধ করতেন। এতে স্ত্রীকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তিনি। এরে জের ধরে গত শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম হালি শহরের ভাড়া বাসায় তিনি ও তার বন্ধু বাদশা মিলে স্ত্রীকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেন। পরে আত্মহত্যা ও সড়ক দুর্ঘটনা বলে প্রচার করে নিহতের স্বজনদের কাছে খবর পাঠান। এ বিষয়ে হালিশহর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন কলির বাবা আহছান উল্যাহ্।
মানবন্ধনে স্বজনরা কলি হত্যার বিচার দাবিতে নানা স্লোগান দেন। এ সময় তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জাবেদকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। জানতে চাইলে চট্টগ্রামের হালিশহর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আল-মামুন জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ১০ জন মুসুল্লী এবং ২ জন হাফেজ সহ মোট ১২ জনের অংশগ্রহণে রমজান মাসে মসজিদ সমুহে এশা ও তারাবির নামাজ আদায়ের সুযোগ থাকবে। এর সঙ্গে ইতোপুর্বে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জারিকৃত মসজিদে জু'মা ও জামাত বিষয়ক নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বরাত দিয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া রমজান মাসে ইফতার মাহফিলের নামে কোনো ধরণের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। এ বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিস্তারিত নির্দেশনাসহ আগামীকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) একটি সার্কুলার জারি করা হবে। | 6 |
আফগানিস্তানের তালেবান মার্কিন বিমান বি-৫২ ভূপাতিত করেছে। এ খবর দিয়েছে সিরিয়ার নিউজ সাইট মুরাসেলন।দক্ষিণাঞ্চলীয় আফগানিস্তানের শাওয়ারাব বিমানঘাঁটি থেকে ওড়ার সময়ে এ বিমানকে ভূপাতিত করা হয়। ঘাঁটিটি হেলমান্দ প্রদেশের ওয়াশিরের লার এলাকায় অবস্থিত। তালেবানের একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে খবরটি প্রচার করা হয়েছে।ভারী অস্ত্রের আঘাতে বিমানটি ভূপাতিত হয়ে সব আরোহী নিহত হয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়। অবশ্য খবরে আরোহীর সংখ্যা জানানো হয়নি। এ ছাড়া, সন্ত্রাসী মার্কিন বাহিনী এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ১৯৫০-এর দশক থেকে মার্কিন বিমানবাহিনী নিয়মিত বি-৫২ বোমারু বিমান ব্যবহার করছে। ৩২ হাজার কিলোগ্রাম অস্ত্র বহনে সক্ষম এ বিমান উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি তেল না নিয়েই টানা ১৪,০৮০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে পারে। ২০৫০ সাল পর্যন্ত বি-৫২ ব্যবহার মার্কিন বাহিনী অব্যাহত রাখবে বলে ধারণা করা হয়। এ দিকে চলতি মাসের ৮ তারিখে গাড়ি বোমার হামলায় চার মার্কিন সন্ত্রাসী সেনা নিহত হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আফগানিস্তানের বাগরাম বিমানঘাঁটির কাছে মার্কিন সন্ত্রাসী সেনাবহরে এ হামলা চালানো হয়েছিল। সূত্র :পার্স টুডে আফগান শান্তি আলোচনার মধ্যেই বসন্ত অভিযানের ঘোষণা তালেবানেরআলজাজিরাবার্ষিক বসন্ত অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান শান্তি আলোচনা এবং এই মাসের শেষে আফগান প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক হওয়ার পরিকল্পনার মাঝে শুক্রবার তারা এ ঘোষণা দেয়।তালেবানের এক বিবৃতিতে বলা হয়, 'আমাদের মুসলিম স্বদেশকে দখলদারিত্ব ও দুর্নীতির হাত থেকে রক্ষা করতে' এবং 'দখলদারিত্ব নির্মূল করতে' অপারেশন (আরবিতে) ফাতাহ তথা 'বিজয়' আফগানিস্তানে পরিচালিত হবে। বার্ষিক বসন্ত অভিযান সাধারণভাবে তথাকথিত যুদ্ধের মওসুমের শুরুকে চিহ্নিত করে, যদিও সম্প্রতি শীতকালে আফগান ও মার্কিন বাহিনীর সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে তালেবান। গত মাসে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি প্রশাসন নিজস্ব বসন্ত আক্রমণ 'অপারেশন খালিদ' ঘোষণা করে এবং তালিবান এই ঘোষণাটিকে একটি নতুন অভিযান পরিচালনার যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করে। তালেবান বলেছে, 'শত্রুরা এখনো সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তার অসৎ লক্ষ্য অর্জন করতে চায়'। তারা বলেছে যে, তারা যুদ্ধ চালিয়ে যাবে কারণ আন্তর্জাতিক বাহিনীগুলি বোমা হামলা এবং স্থল হামলার মাধ্যমে সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব রেখেই চলছে। শুধু প্রচার-প্রচারণাআফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কাইস মঙ্গল বলেন, তালেবানের বসন্তের অভিযান 'নিছক প্রচার'। তালিবান তাদের অসৎ লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না এবং তাদের কর্মকাণ্ড পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতোই পরাজিত হবে। | 3 |
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন কলকাতার সাবেক মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়। বুধবার দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে পদ্মশিবিরে যোগ দেন তিনি। এসময় তাকে উত্তরীয় পরে বিজেপিতে বরণ করে নেন মুকুল রায়। যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় কার্যকরী সভাপতি জেপি নাড্ডা, পশ্চিমবঙ্গের সহকারী পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায় প্রমুখ। শোভনের সঙ্গে এদিন বিজেপিতে যোগ দেন তার বন্ধু অধ্যাপিকা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শোভন ছিলেন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসদলীয় মেয়র। তিনি এক সময় তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ নেতা ছিলেন। শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপিতে স্বাগত জানিয়ে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের জানান,'শোভন- বৈশাখীকে স্বাগত। শোভন বাবুর মতো অভিজ্ঞ নেতা এলে দলেরই লাভ হবে।' সূত্র: জিনিউজ | 3 |
সড়কে সবার সামনে স্ত্রীকে বেধড়কপিটিয়ে হত্যা করেছেন এক স্বামী। চীনের এসইহাওজৌ শহরে গত শনিবার স্থানীয় সময় সকালে এঘটনা ঘটে। পথচারী উপস্থিত থাকলেও তিনি স্ত্রীকে পিটিয়ে মেরেছেন। কেউ বাধা দেয়নি। এগিয়ে আসেনি বাঁচাতে। স্বামীর এই পেটানোর একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এসইহাওজৌ শহরের রাস্তায় গত শনিবার সকালে ওই দম্পতির বিদ্যুৎচালিত স্কুটারের সঙ্গে আরেকটি যানের সংঘর্ষ হয়। এরপরই ওই নারীকে পেটান তার স্বামী। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, স্ত্রীকে স্বামী পেটানোর সময় আশপাশে অনেক সাইকেলারোহী ও পথচারী ছিলেন। কিন্তু কেউই এ ঘটনার প্রতিকারে কেউই এগিয়ে আসেননি। বেশির ভাগ মানুষই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। সূত্র: রয়টার্স বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন কারিকুলামে শিক্ষকেরা সঠিক পন্থায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে কি না সেটা নজরদারি করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।আজ শনিবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নতুন কারিকুলামের ওপর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই নির্দেশ দেন।জেলা শিক্ষা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কারিকুলাম তৈরি করার চেয়ে বাস্তবায়ন করাটা অনেক কঠিন। নিয়মিত সেটি মনিটরিং আপনাদের করতে হবে। নির্দেশনা মোতাবেক শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান দিচ্ছে কি না সেটার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। সেখানে কি ঘটছে তার নিয়মিত ফিডব্যাক আমাদের জানাতে হবে।এর আগে শনিবার সকাল ৯টা থেকে নতুন কারিকুলামে পাইলটিং চালু হওয়া জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তাদের নিয়ে এনসিটিবিতে একটি কর্মশালা হয়। সেখানে চারটি সেশনে কর্মকর্তাদের নতুন কারিকুলামের বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়। তার মধ্যে নতুন সিলেবাস আর পুরোনো সিলেবাসের মধ্যে পার্থক্য, আগের ও নতুন শিক্ষাক্রমের মধ্যে পরিবর্তন, হাতেকলমে শেখার কৌশল, শিক্ষার্থীদের গাইড নির্ভর না হওয়াসহ শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর আলোচনা করা হয়।কর্মশালায় অংশ নেওয়া দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শমসের আলী মণ্ডল আজকের পত্রিকাকে বলেন, যেসব উপজেলায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পাইলটিং শুরু হয়েছে সেসব উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে কর্মশালা হয়েছে। কর্মশালায় শিক্ষা কর্মকর্তাদের নতুন কারিকুলাম বিষয়ে ধারণা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকেরা কীভাবে শিক্ষক নির্দেশিকা বাস্তবায়ন করবে এবং এই কার্যক্রম কীভাবে কর্মকর্তারা মনিটরিং করবে সেটা শেখানো হয়েছে।কর্মশালায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. নেহাল আহমেদ বলেন, নতুন এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন ছাড়া ২০৪১ সালের উন্নত দেশ গঠন সম্ভব নয়। এটি সেই শিক্ষা যার মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থীদের সঠিক শিক্ষা দিতে পারব। সেটির পাইলটিং শুরু হয়েছে। সেটাকে নিবিড়ভাবে আপনাদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে।কর্মকর্তাদের তিনি আরও বলেন, আপনারা কী কী করছেন সেটাও মনিটরিং করা হবে। যার যা দায়িত্ব তা পালন করছেন কি না তাও দেখা হবে। জেলা উপজেলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের খবর আসছে আমরা তাদের বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।এনসিটিবির সদস্য মশিউজ্জামান বলেন, নতুন কারিকুলাম সরকারের একটি নির্বাচনী ইশতেহার। এটা সরকারের আরেকটা পদ্মাসেতু। | 1 |
পাখির কিচিরমিচির শব্দে ঘুম ভাঙে। ভোর সকালে কাঁধে লাঙল-জোয়াল, হালের গরু, কেউ পাসুন-কোদাল-কাস্তে হাতে নিয়ে ছুটে চলেন ফসলের মাঠের দিকে। সূর্য ওঠার পর বাসি ভাত পান্তা করে, কাঁচা মরিচ, লবণ আর পেঁয়াজের সঙ্গে বাসি তরকারিসহ গামছা বেঁধে মাঠে ছুটে যায় কিশোর-কিশোরীর দল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে গৃহিণীদের ব্যস্ততা। ঘরদোরের কাজ শেষে বাঁশের চোঙায় ফুঁ দিয়ে চুলায় দেন আগুন। শিশুদের খেলা থেকে তুলে ধুলোবালি ঝেড়ে পাঠিয়ে দেন বিদ্যালয়ে। মাঠে কাজ করে ক্লান্ত কৃষকেরা বিশ্রাম নেন সবুজ মাঠের বুক চিরে যাওয়া রাস্তার ধারের শিমুলগাছ, বটগাছের ছায়ায়।বলছি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী গ্রামের কথা।এ গ্রামের ৮০ ভাগ মানুষ কৃষিকাজ করেন। ধান তাঁদের প্রধান ফসল হলেও আলু, ভুট্টা, গম, পাট, সরিষা, আদা, সবজিরও চাষ হয়। এ গ্রামের শিক্ষিত যুবকেরা চাকরির পেছনে না ছুটে গর্বের সঙ্গে করছেন খামার ও কৃষিকাজ। এখানকার জমিতে বছরে তিনবার ফসল ফলে। গ্রামে রয়েছে অসংখ্য পোলট্রি, মাছ, গাভির খামার। ১৯৮৩ সালে উপজেলা পরিষদ গঠনের পর এই গ্রাম থেকেই নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তা এখন পর্যন্ত অব্যাহত আছে। প্রবীণেরা বলছেন, ৪০০ বছর আগে এ গ্রামটি গড়ে উঠেছে। বর্তমানে গ্রামটিতে প্রায় ৪৫০ পরিবারের বাস।তারাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান গ্রামটির। গ্রামটির প্রবেশ মুখে সোনালি সবুজ ফসলের মাঠ। রাস্তার দুই ধারে সারি সারি গাছ। গ্রামটিতে ওকড়াবাড়ি নামে একটি হাট আছে।গ্রামটিতে ১৯০১ জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৯৬২ সালে ইকরচালী উচ্চবিদ্যালয়, ১৯৯৪ ইকরচালী ডিগ্রি কলেজ ও ১৯৭১ সালে ওকড়াবাড়ি ফারুকিয়া আলিম মাদ্রাসা ও একটি বালিকা নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। রয়েছে ব্যাংক, বিমা প্রতিষ্ঠান। গ্রামটির উত্তরে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়ক, পশ্চিমে যমুনেশ্বরী নদী বয়ে গেছে, পূর্বে আছে ঐতিহাসিক বামনদীঘি।ব্রিটিশরা চলে গেছে বহু বছর আগে। নীলকর নেই। নেই তাদের নীলকুঠি। কিন্তু এ গ্রামে এখনো নীলের চাষ হয়। নীলের পাতা সবুজ সার হিসেবে ব্যবহার করেন কৃষক।একসময় গ্রামজুড়ে খড়ের কুঁড়েঘরে গৃহিণীরা রান্নার কাজ করতেন। প্রতিটি বাড়ির বারান্দায় থাকা ডালিম গাছ, পেয়ারা গাছ থেকে ফল পেড়ে খেতেন তাঁরা। প্রতিটি বাড়ির পেছন দিকে শোভা বর্ধন করত সারি করা কলাগাছ, জামগাছ, আমগাছ। ঘরের চালজুড়ে দেখা যেত শিম, লাউ, আর মিষ্টিকুমড়ার সমারোহ। বৃষ্টির দিনে ফুটবল নিয়ে মাঠে ছুটে যেতে ছেলেমেয়ের দল। ঈদ উৎসবে গ্রামের বিবাহিত ও অবিবাহিতদের মধ্যে ফুটবল খেলাও হতো। সন্ধ্যায় গ্রামের মোড়ে ফজল চাচার পুঁথি আর সিরাজউদদৌলার গল্প শুনতে ভিড় জমে যেত মাঠে পোড়া মানুষগুলোর। শীতের দিনে জমিলার বাড়িতে ভাপা পিঠা নিতে ভিড় জমত।গ্রামের এসব চিরচেনা দৃশ্য দৈত্যের মতো হরণ করছে নগরায়ণ, হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের স্নিগ্ধতা। প্রযুক্তি বদলে দিয়েছে গ্রামের মানুষের জীবন।খুশির খবর হলো, গ্রামের শতভাগ শিশু বিদ্যালয়ে যায়। গ্রামে প্রতিটি বাড়িতে গড়ে উঠছে দালান, টিনশেড বাড়ি। গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান। প্রতিটি বাড়িতে এখন সচ্ছলতার হাসির ঝিলিক। | 6 |
করোনাভাইরাস নিয়ে চিকিৎসায় কেলেঙ্কারির অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সরকারের চুক্তিনামাসহ অন্যান্য নথিপত্র তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম দুদকের উপপরিচালক ও রিজেন্ট দুর্নীতির অনুসন্ধান কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিকীর কাছে নথিপত্র জমা দেন এর আগে গতকাল রবিবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে দুদকের উপ-পরিচালক ও এ সংক্রান্ত অনুসন্ধান টিমের প্রধান আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যান। এ সময় দুদক টিম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় বেশ কিছু নথি জব্দ করেন। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বের হয়ে দুদক উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, আমরা গত তিনদিন আগে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে করোনা চিকিৎসা সংক্রান্ত চুক্তিপত্রসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে চেয়েছিলাম। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সকল তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ না হওয়ায় দিতে পারেনি। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, সোমবার (আজ) তারা দুদকে কাগজপত্র পৌঁছে দেবেন। এর আগে প্রথমবার ১৫ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট নথি সংগ্রহ করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়েছিল দুদক। সেদিন হাসপাতালটির লাইসেন্স ও করোনা পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতালের মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারটেকিংসহ (এমওইউ) সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করে তারা। তবে অনেক নথিপত্র পাওয়া যায়নি। দুদক সূত্র জানায়, ওইদিন যেসব নথি পাওয়া যায় প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে কাগজপত্রের বেশ অসঙ্গতি পাওয়া যায়। হাসপাতালের লাইসেন্সের কপি পেলেও ছিল না নবায়ন কিংবা হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট অনেক বিভাগের অনুমোদন। এমনকি কোভিড-১৯ এর এমওইউ এর কাগজপত্রেও অসঙ্গতি পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত, সাহেদের বিরুদ্ধে মাইক্রোক্রেডিট ও এমএলএম ব্যবসার নামে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত, আয়কর ফাঁকি, ভুয়া নাম ও পরিচয়ে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। গত ৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে তিন সদস্যের টিম গঠন করা হয়। | 6 |
কৌশলে অনাস্থা প্রস্তাব ঠেকিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নতুন নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণায় দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হয়েছে। এমন পদক্ষেপকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে চ্যালেঞ্জ করেছে বিরোধী জোট। তারা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কোণঠাসা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে টুইটারেও সমালোচনায় সরব হয়েছেন পাকিস্তানিরা। অনেকে বলছেন, নিজেকে রক্ষায় বিব্রতকর পথে হেঁটেছেন ক্যাপ্টেন। কেউ বলছেন, ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করার দাবি করা ইমরান আজ মাঠ ছেড়ে পালালেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ইমরান পাকিস্তানের পুতিন ও সি চিন পিং হতে চান। খবর ট্রিবিউনের। গতকাল রোববার জাতীয় পরিষদে ইমরানের ভাগ্যনির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে নজর ছিল পাকিস্তানিদের। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন জোট সরকার থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি শরিক দল বের হয়ে গেলে জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধীরা। অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নাকচ করে দেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। অনাস্থা ভোটের দিন জাতিকে 'সারপ্রাইজ' দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন ইমরান খান। ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। তিনি এমনটা বলেছিলেন, কারণ তখনো তাঁর হাতে একটা কৌশল অবশিষ্ট ছিল। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের অধিবেশন চলাকালে তাঁর সেই 'অঙ্গীকার' সামনে আসে। সরকার ও বিরোধী দলের চূড়ান্ত এই শোডাউনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এ নিয়ে সরগরম ছিল। জাতীয় পরিষদের এমন ঘটনা অনেকেই সমর্থন করতে পারেননি। কেউ আবার ইমরান খান অনাস্থা ভোট এড়ানোয় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। পাকিস্তানে টুইটারে হাশট্যাগ বিহাইন্ডইউস্কিপার (আপনার সঙ্গে আছি দলনেতা) ট্রেন্ডিং ছিল গতকাল। নাজির লেগারি টুইটারে লিখেছেন, 'ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে দিনটিতে নিজেকে রক্ষায় বিব্রতকর পথে হেঁটেছেন ক্যাপ্টেন।' দেশটির প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মীর লিখেছেন, 'সব সময় তিনি ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করার দাবি করতেন। কিন্তু আজ তিনি স্টাম্প তুলে নিলেন এবং মাঠ ছেড়ে পালালেন। আম্পায়াররা হতবাক।' কামরান ইউসফ নামের একজন টুইট করেছেন, 'ইমরান খান পাকিস্তানের আজীবনের পুতিন ও সি চিন পিং হতে চান।' সালার খান নামের একজন লিখেছেন, 'একদিকে আপনি বিস্মিত হবেন আমরা কীভাবে এ পর্যায়ে এসে পড়লাম, অন্যদিকে আপনি দেখবেন কীভাবে পুরোপুরি প্রাপ্তবয়স্ক লোকগুলো নিজেদের সংবিধান লঙ্ঘনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।' মোয়িদ পিরজাদা নামের একজন লিখেছেন, 'ইমরান খানের বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপ। তিনি অবশেষে বুঝতে পেরেছেন-তুমি যদি রোমে থাকো, রোমানদের মতো আচরণ করো। সিআইএ তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কীভাবে সাজায়, তা দেখতে বিস্ময়ের সঙ্গে অপেক্ষায় আছি। সর্বোপরি পাকিস্তানে নির্বাচন সব সময়ই সাজানো।' পারভেজ খাট্টাক লিখেছেন, 'সারপ্রাইজ কি উপভোগ করছেন!' মেহর তারার লিখেছেন, 'কখনো ইমরান খানকে খাটো করে দেখবেন না, কখনোই না।' অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করে জাতীয় পরিষদে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব গতকাল ডেপুটি স্পিকার নাকচ করে দেন। উল্টো স্পিকারের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দিয়ে আদালতে গেছে বিরোধীরা। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখার কথা জানিয়েছেন। | 3 |
ইউরোপ সফরের শেষ দিনে পোল্যান্ড সীমান্তে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের সাথে দেখা করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এসময় পোল্যান্ডে নিযুক্ত মার্কিন ৮২ বিমান ডিভিশনের সদস্যদের সাথেও সৌজন্য সাক্ষাত করবেন বাইডেন। পোলিশ প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠক করে ইউক্রেনীয়দের আশ্রয় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদও দেবেন বাইডেন। সূত্র: বিবিসি বিডি প্রতিদিন/নাজমুল | 3 |
ওই যে, আস্তে আস্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি, তার একটা ইতিহাস আছে। সেই আইয়ুব খানের আমলে, ১৯৬১ সালে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। কোথায় হবে সে বিদ্যুৎকেন্দ্র? ঠিক হয় পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার পদ্মা নদীর তীরে রূপপুরে হতে পারে এটি। কিছু কিছু কাজ চলে, জমি অধিগ্রহণ করা হয়, কিন্তু ১৯৬৯-৭০ সালে পাকিস্তান সরকার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সে প্রকল্প বাতিল করে দেয়। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এরপর নানাভাবে নানা গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা বলেন, হ্যাঁ এখানে, পাকশীর রূপপুরেই গড়ে উঠুক বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।২০১১ সালের ২ নভেম্বর বাংলাদেশ ও রাশিয়ান ফেডারেশনের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন সংক্রান্ত আন্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৩ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী রাশিয়া সফরকালে রাশিয়ার সঙ্গে নির্মাণকাজের প্রস্তুতিপর্বের কাজ সম্পাদনসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর পরের বছরগুলোতে প্রয়োজনীয় সব কাজ সম্পন্ন হয়।বিদ্যুৎকেন্দ্র ছেড়ে দৃষ্টিনন্দন কয়েকটি বাস চলে গেল গ্রিন সিটির দিকে, তাতে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁরা রুশ দেশের নাগরিক। এসেছেন বাংলাদেশের এই পারমাণবিক কেন্দ্রে কাজ করতে। আমরা যাঁরা আদার ব্যাপারী, তাঁরা এই জাহাজের খবর না নিয়ে বরং সেই তারিখটাকে মনে রাখি, যেদিন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারিখটি ছিল ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর। সেদিন থেকেই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পথে পা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ।পাকশীর রূপপুর পাকার মোড়ে গড়ে উঠছে যে বিশাল স্থাপনা, তার গভীরে যেতে হলে পাকশীর জনজীবন নিয়েও জানা থাকা দরকার। বহু আগে যখন এই এলাকা অধিগ্রহণ করা হয়, তখন উচ্ছেদ হওয়া মানুষের ঠাঁই হয়েছিল যেখানে, তারই নাম নতুন রূপপুর। ষাটের দশকের মাঝামাঝি গড়ে ওঠে নতুন রূপপুর। আর এই রূপপুর তখন থেকেই প্রস্তুত হয় একটিপারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য।তারও অনেক আগে কলকাতার সঙ্গে আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড আর উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ সহজ করারজন্য পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ব্রিজটি ১৯১০ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ অবিভক্ত ভারতবর্ষের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ব্রিজটির উদ্বোধন করেছিলেন। ব্রিজের নামও দেওয়া হয়েছিল তাঁর নামেই, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ।এর পর থেকেই ভারতবর্ষের নানা জায়গার মানুষ এসে পাকশীতে বসবাস করতে থাকেন। তা থেকে ঋদ্ধ সংস্কৃতির জন্ম হয় এখানে। ১৯০৪ সালে গড়ে ওঠে পাকুরিয়া স্কুল।১৯১৮ সালেই দুটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকশীর মানুষ তাদের সাংস্কৃতিক চেতনার প্রকাশ ঘটাতে থাকে। স্কুল, কলেজ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, অফিসপাড়ায় মিশ্র সংস্কৃতি-সবকিছু মিলিয়ে এখানে যে জনবসতি গড়ে ওঠে, তা এলাকাটিকে আধুনিকতার পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। তবে, দেশের অন্যান্য জায়গার মতো এই এলাকাও ছিল কৃষিপ্রধান। বেশির ভাগ মানুষ কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। চর এলাকায় যে ফসল হতো, তার একটা ছিল আখ। সুগার মিলে আখের চাহিদা পূরণের পথে অনেকটা অবদানই ছিল পাকশীর। এখন অবশ্য আখে ভাটার টান।বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকশীর পরিবেশে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সংস্কৃতি সংগঠক আবুল কালাম আজাদ পাকশী বাজারের রেইনট্রির নিচে একটি লোহার টেবিল ঘিরে থাকা চেয়ারে বসে বলতে থাকেন সেই রূপকথার গল্প। বিশদে সে বর্ণনা থাকবে। এখানে শুধু কয়েকটা তথ্য বলে রাখা যাক। আমরা অনেকেই দর্শনির বিনিময়ে নাটকের কথা বলতে গিয়ে রাজধানী ঢাকার কথা বলি। কিন্তু পাকশীতেই হাফিজউদ্দিন মুনশি ১৯৪৬ সাল থেকেই দর্শনির বিনিময়ে নাটক করে এসেছেন। পাকশী বাজারের কাছে অফিসপাড়ায় সবুজে ছাওয়া উদ্যানের পাশে যে হাশেম আলী মিলনায়তন আছে, সেটি স্থাপিত হয়েছিল ১৯১৬ সালে।কৃষিপ্রধান এই এলাকাটির প্রথমে যদি চেহারা বদলে দিয়ে থাকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, তাহলে এবার আমূল বদলে দিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে এখনই পুরো পাকশীতেই সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে, এটা বললে ভুল হবে। যেসব জায়গায় বিদেশিদের বসবাস, তার আশপাশে সূচনা হয়েছে নতুন দিনের। বেকার যুবক পেয়েছেন চাকরি কিংবা ব্যবসার সন্ধান, কেন্দ্রে মালামাল জোগানের জন্য তৈরি হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেকেই এখানে এসেছেন ব্যবসার স্বার্থে। রুশদের সঙ্গে আলাপ-সালাপ করে তাঁরা দিব্বি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।ভাষাতত্ত্বে বলা হয়, যেখানে একসঙ্গে এক ভাষাভাষী বহু মানুষের বসবাস, সেখানে অন্য ভাষাভাষীরাও সে ভাষা শিখে ফেলে দ্রুত। রূপপুরের গ্রিন সিটি সেই তত্ত্বের সফল পরীক্ষাগার। বাঙালিদের কেউ রুশ ভাষা শিখছে পেটের দায়ে, কেউ শিখেছে রুশদের মন জয় করবে বলে, কেউ বন্ধুত্বের খাতিরে। এখানে এমন অনেক বাঙালি বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন, যাঁরা পড়াশোনা করেছেন সোভিয়েত ইউনিয়নে, যার প্রতিনিধি আজকের রাশিয়ান ফেডারেশন। প্রকল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাঁরা কাজ করে থাকেন।শ্রমিকদের রুশ ভাষা না জানলেও চলে। তাঁরা শুধু ওপরের নির্দেশ মেনে কাজ করেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করে নিম্নবিত্ত অনেক মানুষেরই ভাগ্য খুলে গেছে। তাঁদের চেহারায় সমৃদ্ধির ছোঁয়া। সাইকেল থেকে মোটরসাইকেলে উত্তরণকে তারই একটি সূচক হিসেবে ধরা হলে বোধ করি ভুল বলা হবে না।গ্রিন সিটির রেস্তোরাঁগুলো নিয়ে আলাদাভাবে বলতে হবে। এখানে কেউ কেউ রুশ খাবার পিলমিনি (অনেকটা নেপালি খাবার মোমোর মতো) তৈরির কারখানাও বানিয়েছেন।সুদৃশ্য প্যাকেটে সেই খাদ্য বিক্রিও হচ্ছে গ্রিন সিটির মধ্যে থাকা দোকানগুলোয়।বেশ কয়েকটি পর্বে আমরা এখানকার বদলে যাওয়া জনজীবনের গল্পই বলব। যা শুনতে শুনতে মনে হতে পারে, এ এক নতুন রুশ দেশের উপকথা পড়ছি। (চলবে)পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য।তারও অনেক আগে কলকাতার সঙ্গে আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড আর উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ সহজ করারজন্য পদ্মা নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ব্রিজটি ১৯১০ থেকে ১৯১৫ সাল পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৯১৫ সালের ৪ মার্চ অবিভক্ত ভারতবর্ষের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ ব্রিজটির উদ্বোধন করেছিলেন। ব্রিজের নামও দেওয়া হয়েছিল তাঁর নামেই, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ।এর পর থেকেই ভারতবর্ষের নানা জায়গার মানুষ এসে পাকশীতে বসবাস করতে থাকেন। তা থেকে ঋদ্ধ সংস্কৃতির জন্ম হয় এখানে। ১৯০৪ সালে গড়ে ওঠে পাকুরিয়া স্কুল।১৯১৮ সালেই দুটি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকশীর মানুষ তাদের সাংস্কৃতিক চেতনার প্রকাশ ঘটাতে থাকে। স্কুল, কলেজ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, অফিসপাড়ায় মিশ্র সংস্কৃতি-সবকিছু মিলিয়ে এখানে যে জনবসতি গড়ে ওঠে, তা এলাকাটিকে আধুনিকতার পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। তবে, দেশের অন্যান্য জায়গার মতো এই এলাকাও ছিল কৃষিপ্রধান। বেশির ভাগ মানুষ কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। চর এলাকায় যে ফসল হতো, তার একটা ছিল আখ। সুগার মিলে আখের চাহিদা পূরণের পথে অনেকটা অবদানই ছিল পাকশীর। এখন অবশ্য আখে ভাটার টান।বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে পাকশীর পরিবেশে লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সংস্কৃতি সংগঠক আবুল কালাম আজাদ পাকশী বাজারের রেইনট্রির নিচে একটি লোহার টেবিল ঘিরে থাকা চেয়ারে বসে বলতে থাকেন সেই রূপকথার গল্প। বিশদে সে বর্ণনা থাকবে। এখানে শুধু কয়েকটা তথ্য বলে রাখা যাক। আমরা অনেকেই দর্শনির বিনিময়ে নাটকের কথা বলতে গিয়ে রাজধানী ঢাকার কথা বলি। কিন্তু পাকশীতেই হাফিজউদ্দিন মুনশি ১৯৪৬ সাল থেকেই দর্শনির বিনিময়ে নাটক করে এসেছেন। পাকশী বাজারের কাছে অফিসপাড়ায় সবুজে ছাওয়া উদ্যানের পাশে যে হাশেম আলী মিলনায়তন আছে, সেটি স্থাপিত হয়েছিল ১৯১৬ সালে।কৃষিপ্রধান এই এলাকাটির প্রথমে যদি চেহারা বদলে দিয়ে থাকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, তাহলে এবার আমূল বদলে দিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। তবে এখনই পুরো পাকশীতেই সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে, এটা বললে ভুল হবে। যেসব জায়গায় বিদেশিদের বসবাস, তার আশপাশে সূচনা হয়েছে নতুন দিনের। বেকার যুবক পেয়েছেন চাকরি কিংবা ব্যবসার সন্ধান, কেন্দ্রে মালামাল জোগানের জন্য তৈরি হয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে অনেকেই এখানে এসেছেন ব্যবসার স্বার্থে। রুশদের সঙ্গে আলাপ-সালাপ করে তাঁরা দিব্বি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।ভাষাতত্ত্বে বলা হয়, যেখানে একসঙ্গে এক ভাষাভাষী বহু মানুষের বসবাস, সেখানে অন্য ভাষাভাষীরাও সে ভাষা শিখে ফেলে দ্রুত। রূপপুরের গ্রিন সিটি সেই তত্ত্বের সফল পরীক্ষাগার। বাঙালিদের কেউ রুশ ভাষা শিখছে পেটের দায়ে, কেউ শিখেছে রুশদের মন জয় করবে বলে, কেউ বন্ধুত্বের খাতিরে। এখানে এমন অনেক বাঙালি বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন, যাঁরা পড়াশোনা করেছেন সোভিয়েত ইউনিয়নে, যার প্রতিনিধি আজকের রাশিয়ান ফেডারেশন। প্রকল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তাঁরা কাজ করে থাকেন। শ্রমিকদের রুশ ভাষা না জানলেও চলে। তাঁরা শুধু ওপরের নির্দেশ মেনে কাজ করেন। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজ করে নিম্নবিত্ত অনেক মানুষেরই ভাগ্য খুলে গেছে। তাঁদের চেহারায় সমৃদ্ধির ছোঁয়া। সাইকেল থেকে মোটরসাইকেলে উত্তরণকে তারই একটি সূচক হিসেবে ধরা হলে বোধ করি ভুল বলা হবে না।গ্রিন সিটির রেস্তোরাঁগুলো নিয়ে আলাদাভাবে বলতে হবে। এখানে কেউ কেউ রুশ খাবার পিলমিনি (অনেকটা নেপালি খাবার মোমোর মতো) তৈরির কারখানাও বানিয়েছেন। সুদৃশ্য প্যাকেটে সেই খাদ্য বিক্রিও হচ্ছে গ্রিন সিটির মধ্যে থাকা দোকানগুলোয়।বেশ কয়েকটি পর্বে আমরা এখানকার বদলে যাওয়া জনজীবনের গল্পই বলব। যা শুনতে শুনতে মনে হতে পারে, এ এক নতুন রুশ দেশের উপকথা পড়ছি। (চলবে) | 6 |
অসাধারণ নাচের দক্ষতার জন্য খ্যাতি পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নোরা ফাতেহি। 'দিলবার' গানের সঙ্গে নেচে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। প্রথমবারের মতো নোরা ফাতেহি জুটি বেঁধে কাজ করতে যাচ্ছেন 'উরি'খ্যাত অভিনেতা ভিকি কৌশলের সঙ্গে। সম্প্রতি একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার জন্য তারা চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে নোরা বলেন, 'আগে আমি যত কাজ করেছি এর চেয়ে এই গানটি একেবারে ভিন্ন। এটা নাচের উপর নয়, এটা পারফর্মেন্স নির্ভর গান-যেখানে বিবাহিত দম্পতির ভেতর কোন কোন বিষয়গুলো ঘটে তা দেখানো হবে। এই গানে আমি নাচ করছি না।' মিউজিক ভিডিওটি নির্দেশনা দেবেন অরবিন্দর খাইরা। খুব শিগগিরই ভারতের শিমলায় এর শুটিং হবে। | 2 |
ঘরের মাঠে ব্যাট হাতে কীভাবে লড়াই করতে হয় তা ভুলে গেছে টাইগাররা। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শনিবার (২০নভেম্বর) দায় সারা ব্যাটিং করেছেন মাহমুদউল্লাহরা। ৭ উইকেট খুইয়ে ১০৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। এত মামুলি রানের জবাবে কেমন খেলবে পাকিস্তান তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। এদিন হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্ত ব্যাট হাতে শুরুটা ভালো করতে পারেনি লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। এদিন শুরুতে ওপেনার সাইফ হাসান আউট হন। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১ রান করা সাইফ আজ গোল্ডেন ডাক হয়ে সাজঘরে ফিরেন। আফ্রিদির ফুলার লেন্থর বল ব্যাটে লাগাতে পারেনি। এলবিডব্লিউ হয়ে ব্যর্থ এ টাইগার ওপেনার সাজঘরে ফিরেন । এরপর দ্বিতীয় ওভারে বাংলাদেশ হারায় নাঈম শেখের উইকেট। পাকিস্তানের ডানহাতি পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়রের অফস্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন দুই রান করা নাঈম। এরপর লড়াই করার আভাস দিয়ে আউট হন আফিফ হোসেন। তিনি ২০ রান করে সাজঘরে ফিরেন। তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। কিন্ত বিপদের সময় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে দলের হাল ধরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তারা দুজন ২৮ রানের জুটি গড়েন। এরপর তারাহুরো করে খেলতে গিয়ে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। তিনি হারিস রউফের বলে খোঁচা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন উইকেটরক্ষক রিজওয়ানের হাতে। মাহমুদউল্লাহ ১৫ বলে ১২ রান করে আউট হন। এদিকে দ্রুত ৪ উইকেট হারানোর পর শান্তর ব্যাটে স্বপ্ন দেখছিলো বাংলাদেশ। কিন্ত বড় ইনিংস খেলে দলকে লড়াকু সংগ্রহের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি। ৩৪ বলে ৫ চারের সাহায্যে ৪০ রান করে আউট হন শান্ত। এরপর ব্যক্তিগত ৩ রানে আউট হন মেহেদি হাসান। এরপর নিয়মিত উইকেট হারালে আর বড় সংগ্রহ তুলতে সক্ষম হয়নি টাইগাররা। | 12 |
দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান আসামি আসাদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ একটি টিম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাকিমপুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ। বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন | 6 |
রমজান মাসে চট্টগ্রাম নগরীর কোথাও সেহরি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হলে পূর্ব অনুমতি নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। রমজান মাসে চট্টগ্রাম নগরীর কোথাও সেহরি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হলে পূর্ব অনুমতি নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে রোববার একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে - রমজান উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যদি "সেহরি নাইট" আয়োজন করতে চান তাহলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের "সিটি স্পেশাল" ব্রাঞ্চ থেকে পূর্বানুমতি গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করা হল। এ বিষয়ে মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহবুবুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''রমজান মানে অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেহরি নাইটের আয়োজন করেন, যেখানে অনেক "যেহেতু সেখানে নিরাপত্তা বিষয় আছে, তারা ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে পারেন বা কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তাই এ ধরণের অনুষ্ঠান আয়োজনের আগে পুলিশের অনুমতি নেয়ার কথা বলা হয়েছে।'' তিনি বলছেন, ''মহানগরীতে যেকোনো সমাবেশ করার আগে তো পুলিশকে জানানো উচিত।'' চট্টগ্রাম নগরীর স্পেশাল ব্রাঞ্চ থেকে এই অনুমতি নিতে হবে। তবে পরিবার নিয়ে বাইরে বা হোটেল সেহরি খেতে যাওয়ায় কোনো বিধি-নিষেধ নেই বলে তিনি জানান। সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোয় রমজান মাসে বিভিন্ন হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টারে সেহরি খাওয়ার অনুষ্ঠান আয়োজনের চল শুরু হয়েছে।গত বছর রমজানের সময় নগরীর জিআইসি কনভেনশন হলে সেহরি অনুষ্ঠানে গান ও জাদু প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলে সেটি বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। সম্প্রতি কয়েক বছর ধরে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোয় রমজান মাসে বিভিন্ন হোটেল ও কমিউনিটি সেন্টারে সেহরি খাওয়ার অনুষ্ঠান আয়োজনের চল শুরু হয়েছে। এছাড়া অনেক রেস্তোরাঁয় সেহরি খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে, যেখানে পরিবার বা বন্ধুদের স্বজনদের নিয়ে অনেকে খেতে যান।সূত্র : বিবিসি | 6 |
ঢাকা: প্রথম যেদিন পত্রিকায় খবর হয়ে এলেন, সেই দিনের স্মৃতি এখনো তারকাদের মনে জ্বলজ্বলে। প্রথম নাম, প্রথম ছবি-সেই উত্তেজনায় আগের রাতে ঘুমাতে পারেননি অনেকেই। কেউ আবার প্রতীক্ষার প্রহর গুনেছেন দিনের পর দিন। তারকাদের সেই প্রথম খবরের গল্প নিয়ে এ আয়োজন। ইচ্ছে করেই বেশি সাক্ষাৎকার দেই নাআলমগীর, চিত্রনায়কআমাকে সিনেমায় এনেছিলেন প্রয়াত পরিচালক আলমগীর কুমকুম। ১৯৭২ সালের ঘটনা। কুমকুম ভাই আমাকে 'চিত্রালী' অফিসে নিয়ে যান। তখন 'চিত্রালী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ মোহাম্মদ পারভেজ ভাই। তাঁর সঙ্গে পরিচয় হলো। তিনি আমাকে পাঠালেন সহসম্পাদক আহমেদ জামান চৌধুরীর কাছে। আমরা যাঁকে বলতাম আজাচৌ। তিনি আমার সাক্ষাৎকার নিলেন।দুই-তিন সপ্তাহ পেরিয়ে যায়, কিন্তু ছাপা তো হয় না। অবশেষে একদিন ছাপার অক্ষরে আমার নাম এল। শিরোনাম ছিল-'আমি আলমগীর জয়যাত্রার পথে নেমেছি'। আরো অনেক দিন পর আজাচৌর সঙ্গে এফডিসিতে একদিন অনেকক্ষণ আড্ডা হলো। সেই আড্ডার পরে লিখলেন-'আলমগীরের জয়যাত্রা অব্যাহত আছে'।পুরো অভিনয়জীবনে আমি খুব বেশি সাক্ষাৎকার দিইনি। মনে হতো দর্শক আমার সম্পর্কে যত জানবে, তাদের প্রত্যাশা তত বেড়ে যাবে। সবার প্রত্যাশা পূরণ করার ক্ষমতা আমার নেই। পড়াশোনা নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলামসুবর্ণা মুস্তাফা, অভিনেত্রীপত্রিকায় আমাকে নিয়ে প্রথম লেখা হয়েছিল সাপ্তাহিক 'বিচিত্রা'য়। সম্পাদক ছিলেন কবি শামসুর রাহমান। ১৯৭৫ সালের ঘটনা। আব্দুল্লাহ আল মামুন ভাইয়ের নির্দেশনায় 'বরফ গলা নদী' করেছিলাম। 'বিচিত্রা'য় সেটা নিয়ে লেখা বেরিয়েছিল। শিরোনাম ছিল-'আসলেন, দেখলেন, জয় করলেন'।খুব খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এর পরদিন কী যেন পরীক্ষা ছিল। ওটা নিয়ে যে একটু মাতামাতি করব, পড়াশোনার চাপে তা পারছিলাম না। বাবা-মা বারবার পড়তে বসতে বলছিলেন। আমি তো তখন ছোট। অভিনয় করলেও পড়াশোনা নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতাম। প্রথম খবরটা ছোট করে এসেছিলমিশা সওদাগর, খল অভিনেতাততদিনে অনেকগুলো ছবিতে অভিনয় করেছি, কিন্তু পত্রিকা বা পোস্টার-কোথাও আমার ছবি আসেনি। ১৯৯৪ সালের দিকের ঘটনা। একদিন নরেশ ভুঁইয়া আমাকে ফোন করলেন, 'তুই কোথায়?' বললাম, আমি তো এফডিসিতে শুটিং করছি। উনি বললেন, 'তোর একটা নিউজ করব। তুই কি অফিসে আসবি, নাকি আমি আসব?' ওই সময় 'চিত্রালী'তে কোনো শিল্পীর সাক্ষাৎকার আসা বেশ বড় প্রাপ্তি ছিল।বললাম, 'আজ শুটিং শেষ করে কালকেই যাব।' কেউ বিশ্বাস করবে কিনা জানি না, ওই রাতে আমার ঘুম হয়নি। কীভাবে প্রশ্ন করবে, উত্তরটা কত সুন্দরভাবে দিতে পারি, সারা রাত মনে মনে সেই মহড়া করেছি। নিউজটা ছোট করে এসেছিল। নতুন প্রতিভাবান ছেলে-এই ধরনের কিছু লেখা। আর টুকিটাকি কাজের খবর। পত্রিকা কিনে সবাইকে দেখালামতৌকীর আহমেদ, অভিনেতা ও নির্মাতাপত্রিকায় আমার প্রথম ছবি এসেছিল ১৯৮৮ সালে। তখন 'বিচিত্রা'য় বর্ষসংখ্যা বের হতো, যেখানে মঞ্চে আলোচিত ১০ জনের ছবি ছাপা হবে। সে বছর আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরিচালনায় আমার অভিনীত 'তোমরাই' নাটকটি খুব আলোচিত হয়েছিল।১০ জনের মধ্যে আমার সাক্ষাৎকারও নেওয়া হলো। ছবি তোলা হলো। কিন্তু কবে ছাপা হবে তা তো জানি না। প্রতিদিন ফার্মগেটে পত্রিকার দোকানে তন্নতন্ন করে খুঁজতাম। আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর একদিন ওটা প্রকাশিত হলো।পত্রিকা কিনে বাড়ির সবাইকে দেখালাম। মানে, আমি পাস। রেজাল্ট নিয়ে গিয়েছি এমন একটা অবস্থা! জানি না, এখন যারা নতুন, তাদের কাছে এই ব্যাপারটা এত রোমাঞ্চকর কি না। পত্রিকার কাটিংটা যত্ন করে রেখেছিলেন বাবা-মাতারিন জাহান, অভিনেত্রী১৯৮৪ সালে পত্রিকায় প্রথম আমার নাম আসে। আমি তখন কুমিল্লায়। একটা নাচের অনুষ্ঠান করেছিলাম। তখন 'ইত্তেফাক'-এ আমার সাদাকালো ছবি ছাপা হয়েছিল। সঙ্গে চার-পাঁচ লাইনের ছোট্ট লেখা। পত্রিকার কাটিং এখনো আমার কাছে আছে। আমি তো তখন ছোট ছিলাম। এটা যে রেখে দিতে হবে, এমনটা তো একদমই মাথায় ছিল না। পরিবার থেকেই বিশেষ করে বাবা-মা পত্রিকার কাটিংটা যত্ন করে রেখে দেওয়া হয়েছিল। সেটা এখনো আমার কাছে আছে। পত্রিকার ফটোশুট কিভাবে করতে হয় সেবারই প্রথম জেনেছিজয়া আহসান, অভিনেত্রী'আনন্দভুবন' ম্যাগাজিনে প্রথম নিজেকে দেখতে পাই। সেটা ১৯৯৮ সালের ঘটনা। পত্রিকায় কাভার পেজে এসেছিলাম। তখন আমি ওভাবে মিডিয়ায় কাজ শুরুও করিনি। ফটোশুট কী, কীভাবে সাজতে হয়, কীভাবে মেকআপ করতে হয়-কিছুই জানি না।কীভাবে কোন অ্যাঙ্গেলে দাঁড়াতে হয়, সেটা ওই প্রথম অনেকটা শিখেছি। ওই সময় পত্রিকায় নিজের ছবি আসা মানে অস্কার পেয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা! একজন বন্ধু আর আমার ছবি বড় করে ছাপা হয়েছিলতাহসান রহমান খান, সংগীতশিল্পীক্লাস ফাইভে পড়ার সময় পত্রিকায় প্রথম আমার ছবি আসে। তখন এসএসসি পরীক্ষায় ছিল বোর্ডস্ট্যান্ড সিস্টেম। আমার বড় ভাই রিশান সারা দেশে প্রথম হয়েছিলেন। যাঁরা প্রথম হতেন, পুরো পরিবারসহ পত্রিকায় তাদের ছবি আসত। সেই সুবাধে ছবিতে আমি ছিলাম।তবে নিজের কাজ দিয়ে প্রথম পত্রিকার পাতায় আসি ক্লাস নাইনে পড়ার সময়। পহেলা বৈশাখে রমনার বটমূলে গান গাইতাম। একবার আমার আর আমার এক বন্ধুর ছবি পত্রিকায় বড় করে এসেছিল। মনে আছে, পরদিন যখন স্কুলে যাই, বন্ধুরা পেপার কেটে ক্লাসে টানিয়ে রেখেছিল। | 2 |
মৌলভীবাজারে বেড়েছে করোনার সংক্রমণ। গত তিন দিনে জেলায় নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ৬৩ জন।জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, ১৮ জানুয়ারি ৯৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৯ জনের করোনা পজিটিভ আসে।১৭ জানুয়ারি ১০৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৬ জনের করোনা পজিটিভ হন। ১৬ জানুয়ারি ৭০ জনের নমুনা পরীক্ষায় আটজন করোনা পজিটিভ হন। তিন দিনেই ২৭০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬৩ জনের শরীরে করোনা রোগী শনাক্ত হন।জেলায় এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ২৯৭। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ৭ হাজার ৪৮৭ জন, মৃত্যুবরণ করেছেন মোট ৭২ জন।মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, আবারও করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। প্রতিদিন নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। অক্রান্তে সংখ্যা ১০ থেকে ২৫ শতাংশে ওঠানামা করছে।হঠাৎ করে করোনা বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্ক বেড়েছে মানুষের মধ্যে। তবে অধিকাংশ মানুষ মানছেন না বিধিনিষেধ। মাস্কসহ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এমন অবস্থায় সংক্রমণের দ্রুত বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকেরা।জেলা পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া বলেন, 'স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে কাজ করছি, বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রীও বিতরণ করছি, পাশাপাশি যানবাহনে অধিক গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে কাজ করছি।' | 6 |
এসএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের মোট ৫১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। অন্যান্যবারের মতো এ বছরও কলেজের শিক্ষার্থীরা সাফল্য অর্জন করেছে।জানা যায়, ক্যাডেট কলেজগুলোতে শুধু পড়ালেখা নয়, শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনের জন্য মৌলিক সামরিক শিক্ষা এবং খেলাধুলা অনুশীলন করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া সৃজনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহপাঠ্য ক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন (বিএন) এইচ আর আফরাদ বলেন, সামগ্রিক বিবেচনায় ক্যাডেট কলেজে কেবল ভালো ছাত্র নয়, আদর্শ নাগরিক গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতে এ কর্মধারা যেন অব্যাহত থাকে সে জন্য রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের পক্ষ থেকে সবার আন্তরিক দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি। | 1 |
১৮ জন ভারত ফেরত করোনা আক্রান্ত রোগী যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের শরীরে করোনার ভারতীয় নতুন ধরন রয়েছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য আট জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অপর ১০ জনের করোনার ভারতীয় ধরন পরীক্ষার জন্য আগামী দুই এক দিনের মধ্যে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আরিফ আহম্মেদ বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের রেড জোনে ২৬ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ভারত ফেরত ১৮ জন ও বাকিরা স্থানীয় পর্যায়ে সংক্রমিত রোগী। যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত ১৮ থেকে ২৪ এপ্রিলের মধ্যে ভারত থেকে করোনা সংক্রমিত সাত জন যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে দেশে আসেন। তারা ওয়ার্ডে না গিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। ভারতে করোনাভাইরাসের একটি নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ায় এ খবর আতঙ্কের সৃষ্টি করে। পরে তাদের ফিরিয়ে এনে হাসপাতালের রেড জোনে ভর্তি করা হয়। এরপর ভারত থেকে আসা আরেক জনের করোনা শনাক্ত হয়। পরে ভারত থেকে আসা আরও ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। বেনাপোল ইমিগ্রেশন স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্রের স্বাস্থ্য সহকারী মামুনুর রহমান বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে ভারত থেকে আসা করোনায় আক্রান্ত রোগীদের যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ ভারত থেকে করোনায় আক্রান্ত আরও একজন রোগী ফিরেছেন। যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলীপ কুমার রায় বলেন, ভারত ফেরত ১৮ জনের মধ্যে আট করোনা রোগীর শরীরে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় নতুন ধরন রয়েছে কি না, তা দুটি ল্যাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ জন্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টার এবং ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর ১০ জনের করোনার ভারতীয় ধরন পরীক্ষার জন্য আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করা হবে। | 5 |
র্যাব মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ে গুজব সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে। কেউ ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব সৃষ্টিকারী পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো তথ্য যাচাই না করে অহেতুক শেয়ার দিয়ে নিজেকে বিপদে ফেলবেন না। শুক্রবার সকালে আসন্ন ঈদুল ফিতর ও করোনা পরিস্থিতি নিয়ে অনলাইন ব্রিফিংয়ে র্যাব মহাপরিচালক এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরো বলেন, ঈদে গণ-পরিবহন বন্ধ থাকলেও ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকার বাইরে যাওয়া যাবে। ব্যক্তিগত গাড়িতে সাধারণত পরিবারের মানুষজনই ভ্রমণ করে থাকে। তাই সরকার মানুষের সুবিধায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঈদের দিন সবাইকে ঘরে থেকে ঈদ পালন করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ জামাত নিশ্চিতে সারা দেশে র্যাবের নজরদারি থাকবে বলেও জানান ডিজি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জনকল্যাণমুখী ও সময়োপযোগী। 'অর্থনৈতিক উত্তরণ : ভবিষ্যত পথ পরিক্রমা' শীর্ষক বাজেটে মানুষের জীবন রক্ষা ও জীবিকার নিশ্চয়তায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রতিক্রয়ায় মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, কোভিড-১৯ এর বতর্মান পরিস্থিতিতে বিবেচনায় নতুন অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যখাতের পাশাপাশি কৃষিখাত, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা সম্প্রসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুদ্ধার করার বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনার খাতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
করোনারভাইরাসে বিপর্যস্ত ভারত। অক্সিজেনের আকাল দেশজুড়ে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত বিছানা নেই, শ্মশানঘাটেও মৃতদেহ সৎকারের স্থান সংকুলান হচ্ছে না। মহামারির এই অভাবের সময়েও অর্থের ছড়াছড়িতে আইপিএল চলছে দোর্দ-প্রতাপে। বিষয়টি মানতে নারাজ অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু টাই। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের (আইপিএল) চতুর্দশ আসর ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরেছেন টাই। দেশে ফিরে করোনায় বিপর্যস্ত ভারতে আইপিএল চলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজস্থান রয়্যালস শিবির ছাড়া এই অজি তারকা। একইসঙ্গে আইপিএল নিয়ে তার মত একান্তই ব্যক্তিগত বলে জানান টাই। তিনি বলেন, 'আমি জানি এ ব্যাপারে সকলের মত সমান নয় এবং আমি সকলের মতকে সম্মান করি। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 12 |
আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে সমকাল সন্ধ্যার বিশেষ আয়োজনে আজ অতিথি হয়ে আসছেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। অনুষ্ঠানের বিশেষ এই পর্বটিতে সঞ্চালক হিসেবে থাকবেন লেখক ও গবেষক এবং নদী বিষয়ক নাগরিক সংগঠন রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন। সমকালের বিশেষ এই আয়োজন আজ সন্ধ্যা ৬ টা ১৫ মিনিটে সমকালের ওয়েবসাইট ও ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সরাসরি প্রচার করা হবে। বিশেষ এ পর্বটিতে নদী দখল, দূষণ, ভাঙন, বালু উত্তোলন, প্রবাহস্বল্পতা নিয়ে আলোচনা হবে। বিষয়গুলো অতিথিকে প্রশ্ন করতে পারবেন দর্শকরা। অতিথি সেই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেবেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বাংলাদেশে পরিবেশ আন্দোলনের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব। গত আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি নদী, পানি, প্রকৃতি রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন জাতীয় পরিবেশ পদক, রামোন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড, ও পরিবেশের নোবেল খ্যাত গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ। আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস প্রতিবছর ১৪ মার্চ বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। এবছর করোনাভাইরাস ছড়ানোর কারণে মাঠপর্যায়ে দিবসটির উদযাপন সীমিত করেছে আয়োজকরা। | 6 |
ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরির পরিকল্পনা করছে চীন। এ নিয়ে আবারও সরব হল ভারত। নিম্নাঞ্চলের দেশগুলোর স্বার্থের প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্য চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ভারত। সেই সঙ্গে আন্তঃনদী ইস্যুতেও চীনকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানায় ভারত। চীনের ওপর দিয়ে ব্রহ্মপুত্রের যে অংশ গিয়েছে তার নাম সাংপো। তিব্বত থেকে এটির উৎপত্তি হয়ে অরুণাচল ও আসামের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে এই নদ। ফলে চীনের অংশে যদি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য যদি কোনও বাঁধ নির্মাণ করা হয় তাহলে সমস্যা হতে পারে ভারতের। এ নিয়ে বহুদিন ধরেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে ভারত। এমনকি চীনকে চাপে রাখতে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপরে ১০ গিগাওয়াটের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বানানোর কথাও ভাবছে ভারত। অনুরাগ শ্রীবাস্তব আরও বলেন, তিব্বতে বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে চীনের কাছে ইতিমধ্যেই আপত্তি জানিয়েছে ভারত। কারণ এর ফলে নিচের দিকে যারা থাকবে তাদের সমস্যা হতে পারে। এনিয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অবশ্য সাফাই দেওয়া হচ্ছে, ওই বাঁধ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। এর কারণে ভারত ও বাংলাদেশে যাতে কোনও সমস্যা না হয় তা দেখছে চীন। সূত্র: জি৫ বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা শুধু ব্যক্তি শেখ মুজিবুর রহমানকে নয়, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে হত্যার ষড়যন্ত্র ছিল। তিনি বলেন, যারা স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় চায়নি, এদেশ স্বাধীনতা পাক তা চায়নি- সেই বিদেশি চক্র এবং যারা স্বাধীনতার পরও পাকিস্তানের সঙ্গে কনফেডারেশন করার চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন, তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকালে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে চিরঞ্জীব উল্লেখ করে ড. হাছান বলেন, 'ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তারা তা পারেনি। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন আর সেই ষড়যন্ত্রকারীরাই মুছে গেছে।' মন্ত্রী বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আমলে দেশের প্রচলিত বিচার পদ্ধতিতেই ন্যায় প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, কোনো জিঘাংসা থেকে নয়। বিচার সম্পূর্ণ হয়নি, কারণ পলাতক খুনি ও বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের কুশীলবদের বিচার এখনও হয়নি। এজন্য একটি কমিশন গঠন করে বিচার সম্পন্ন করা উচিত, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছেও বিচার প্রতিষ্ঠার উদাহরণ হয়ে থাকবে।' কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে সিন্ডিকেট হচ্ছে কি না- জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'শোক দিবসে অন্য বিষয়ে কথা বলতে চাই না, এ সত্ত্বেও আপনারা প্রশ্ন করেছেন বিধায় উত্তরে বলছি, লক্ষ্য করলে দেখবেন, দেশে গত ১০ বছরের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে পশু কোরবানি দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় ট্যানারির সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটেনি, যদিও অনেক চামড়াশিল্প প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বেড়েছে। সম্প্রতি চামড়াশিল্প মালিকরা চামড়া রফতানির বিরোধিতা করেছেন, সেক্ষেত্রে যদি তারা নিজেরা সব চামড়া কিনে নেয়ার ঘোষণা দিতেন, তাহলে চামড়ার দরপতন রোধ হতো।' সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা, সর্বোপরি জনগণ ও রাষ্ট্রের কথা বিবেচনা করে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার এক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক বিধান চন্দ্র কর্মকারের সভাপতিত্বে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক, অতিরিক্ত সচিব মো. আজহারুল হক, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহিন ইসলাম, চলচ্চিত্র গবেষক রফিকুজ্জামান, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, দৈনিক ইত্তেফাকের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শ্যামল সরকার প্রমুখ সভায় তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করেন। | 9 |
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও পরিদর্শক মো: লিয়াকত আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এপিবিএনের তিন সদস্যসহ সাতজনকে দেয়া হয়েছে বেকসুর খালাস। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল এ রায় ঘোষণা করেন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত এবং কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেব। এছাড়া কক্সবাজারের বাহারছড়ার মারিশবুনিয়া গ্রামের মো: নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ ও মো: নিজাম উদ্দিন। বাকি সাতজন আসামি খালাস পেয়েছেন। সিনহা হত্যার ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ বাদি হয়ে তিনটি মামলা করে। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। তিনটি মামলার দুটি মাদক রাখার অভিযোগে এবং একটি পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে। এ ঘটনায় হত্যা মামলাটি করেন সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। ওই বছরের ৫ আগস্ট আদালতে করা ওই মামলায় তিনি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ পুলিশের ৯ সদস্যকে আসামি করেন। চারটি মামলারই তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। পরে র্যাব এ ঘটনায় প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের ১১ জন পুলিশ সদস্য ও ৩ জন গ্রামবাসী। পুলিশের করা তিনটি মামলার তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো সত্যতা না পাওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে র্যাব। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে আসামি করে কক্সবাজার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় র্যাব। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ওসি প্রদীপ ও কনস্টেবল রুবেল শর্মা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এর আগে আসামিদের তিন দফায় ১২ থেকে ১৫ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। হত্যা মামলার আসামিরা হলেন, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ পরিদর্শক লিয়াকত আলী, টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফ থানার এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ি এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল ছাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসাইন আজাদ, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও কনস্টেবল সাগর দেব। আর এপিবিএনের তিনজন হলেন- এসআই মো: শাহজাহান আলী, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, কনস্টেবল রাজিব হোসেন। এছাড়া পুলিশের মামলার সাক্ষী ও পুলিশের সোর্স টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মোহাম্মদ আইয়াজ আয়াছ ও মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন। গত বছরের ২৭ জুন প্রদীপসহ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এই মামলার বিচার শুরু হয়। অভিযোগপত্রে থাকা ৮৩ সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। ১২ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। | 6 |
ভয় শব্দটা নিজের ডিকশনারিতে নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভয় পাওয়ার লোক আমি না। ভয় শব্দটা আমার ডিকশনারিতে নাই। ভয় পেলে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান হতো না। সদ্যসমাপ্ত আজারবাইজান সফর নিয়ে মঙ্গলবার গণভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিডি-প্রতিদিন/মাহবুব | 6 |
বিয়ের আসরে পুলিশ নিয়ে ঢুকে এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা, বরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে দেখা গেছে ভারতের ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার এক ম্যাজিস্ট্রেটকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল এ ভিডিও। ঘটনায় ভীষণ হতাশ হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী সনু নিগম। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি। করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার স্বার্থে ভারতের কিছু রাজ্যে রাতে জারি করা হয়েছে কারফিউ। কারফিউর কারণে অনুমতি নিয়েই বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল সেখানকার একটি পরিবার। রাতে বিয়ের আসরে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে প্রবেশ করেন সেখানকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শৈলেশ কুমার যাদব। বিয়েতে উপস্থিত অতিথিদের এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা, ধরপাকড় করে বিয়ে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেন তিনি। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় শুরু হয়। গতকাল বুধবার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে সনু নিগম ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, 'জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এ কাণ্ড দুঃখজনক। কত বড় সাহস তাঁর, মানুষের সঙ্গে কী ভাষায় কথা বলছিলেন তিনি! একটা পরিবারের বিশেষ মুহূর্তকে এভাবে ধ্বংস করে দিতে তিনি পারেন না। পরিবারটি যদি নিয়ম ভেঙেই থাকে, তবু সম্মানের সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে হবে কেন? ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেশটির নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সেখানে যাদব এ রকম আচরণ করতে পারেন না।' ঘটনার সময় বাড়ির এক সদস্য ম্যাজিস্ট্রেটকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তাঁরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। তাতে আরও ক্ষিপ্ত হন ওই ম্যাজিস্ট্রেট। ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির এক নারী সদস্য ম্যাজিস্ট্রেটকে অনুমতিপত্র দেখাতে এলে তিনি ওই কাগজ ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি বলেন, 'অনুমতি দেওয়া হয়েছে বিয়ের জন্য, রাত ১০টার পর বিয়ের অনুষ্ঠান করার জন্য নয়।' যাদব ওই বাড়ি থেকে বিয়ের পুরোহিতসহ ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেন। শুধু তা-ই নয়, বিয়ের অনুমতি দেওয়ায় পশ্চিম আগরতলা থানার ওসিকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। আগরতলার ম্যাজিস্ট্রেটের এ অভিযান নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। তার এ বাড়াবাড়ির জন্য ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন সেখানকার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চেয়েছেন শৈলেশ কুমার যাদব। তিনি জানিয়েছেন, তিনি কারও অনুভূতিতে আঘাত দিতে চাননি। ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করেছিল। এ অপরাধে আটক করা ৩০ জনকে পরে মুক্তি দেওয়া হয়। যাদব বলেন, 'সে রাতে আমি যা করেছি, তা মানুষের মঙ্গলের জন্যই করেছিলাম। কাউকে শারীরিক বা মানসিকভাবে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস | 2 |
ময়মনসিংহের হরিজন পল্লিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে অর্থসহায়তা তুলে দেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু।জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ পরিবারের মধ্যে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে ১০ হাজার টাকা এবং বাকি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ১২ পরিবারকে ৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থসহায়তা দেওয়া হয়।অর্থসহায়তা দেওয়ার পর মসিক মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, হরিজনেরা নগর পরিচ্ছন্নতার অন্যতম হাতিয়ার। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরই সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রেখেছি। পাশাপাশি খাবার ও আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। তারা যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এ জন্য কিছু আর্থিক সহযোগিতা তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।সহায়তা প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. তাজুল আলম, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর রোখসানা শিরীন, জনসংযোগ কর্মকর্তা শেখ মহাবুল হোসেন রাজীব, সহকারী সচিব মুহা. জাহাঙ্গীর আলম, খাদ্য ও স্যানিটেশন কর্মকর্তা দীপক মজুমদার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মহব্বত আলী প্রমুখ।উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট নগরীর হরিজন পল্লিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ১৫টি পরিবার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর থেকেই সিটি করপোরেশন কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে সহায়তা প্রদান করা হয়। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি, হোয়াইট হাউজ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। তিনি নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুবিধার ওপর আলোকপাত করেছেন। এ ছাড়া সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রশমিত করার চেষ্টাও করেছেন তিনি। এ দিকে নির্বাচনে সহিংসতাসহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মে উদ্বেগ থাকলেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে কাজ করার আগ্রহের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।শহীদুল হক গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিওট ঈগল, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারপ্রাপ্ত উপসহকারী জেনিফার হোয়াইটলি, সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি জেবা রিয়াজউদ্দিনের সাথে বৈঠক করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের উভয় কক্ষ- প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। পররাষ্ট্র সচিব মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ ছাড়া তিনি থিংক ট্যাংক হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশনের স্কলারদের উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনে অনিয়ম ছাড়াও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। দেশটি বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছে। তাই নানা বিষয়ে উদ্বেগ থাকলেও বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করবে। কেননা বাংলাদেশের ভ,-রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের বন্ধুত্বের বন্ধনও শক্তিশালী। | 9 |
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের এমপি একেএম শামীম ওসমানের অনুরোধে সাড়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফলে নারায়ণগঞ্জে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল এবং সিদ্ধিরগঞ্জ এমডব্লিও স্কুল এন্ড কলেজে এই নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হবে। রবিবার সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমকে অবহিত করেছেন শামীম ওসমান। ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি জানান, মানবতার মা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনতিবিলম্বে সোমবার সকাল ১০টাথেকে জেকেজি হেলথ কেয়ার সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে এই নমুনা সংগ্রহের দ্বায়িত্ব দিয়েছেন। শামীম ওসমান বলেন, আমরা অনুরোধ ও দাবি জানিয়ে ছিলাম, নারায়ণগঞ্জে যাতে একটি করোনা পরীক্ষার ল্যাবরেটরি হয়। সেই অনুরোধের প্রতি সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জেকেজি হেলথ কেয়ার সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা ২টি জায়গা ঠিক করে দিয়েছি। একটি সিদ্ধিরগঞ্জের এমডব্লিউ স্কুল এন্ড কলেজ এবং নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল। ওই প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে একটাই অনুরোধ করেছেন, যারা মনে করছেন অসুস্থ্য, এক সাথে দুই জন যাবেন না, তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজটি করবেন। যাতে প্রোপার ভাবে কাজটি করতে পারেন। তারা জাতির জনকের কন্যার নির্দেশে ও অনুরোধে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই কাজটি করবেন শুধু মানবতার সেবার জন্য। তাদেরও প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ এবং আল্লাহ যেন তাদেরও কবুল করে নেন।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 4 |
ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আহত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ছাত্র মাহাদি জে আকিবের মাথার হাড় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আজ সোমবার প্রায় সাড়ে ৬ ঘণ্টা ধরে চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে তাঁর এই দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার হয়। এর আগে গত বছরের ৩০ অক্টোবর প্রথম অস্ত্রোপচারের সময় মাহাদির মাথার হাড়ের একটি অংশ খুলে তাঁর পেটের চামড়ার নিচে রাখা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস পর সেই হাড় পুনরায় পেট থেকে বের করে মাথায় প্রতিস্থাপন করা হলো। আজ অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নোমান খালেদ চৌধুরী। তাঁকে সহযোগিতা করে নিউরোসার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে ১৫ জনের একটি দল। অধ্যাপক নোমান খালেদ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, 'সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করেছি। সফলভাবে তার হাড় প্রতিস্থাপন করেছি। অস্ত্রোপচারের পর মাহাদির জ্ঞান ফিরেছে। সে কমান্ড (নির্দেশ) অনুযায়ী সবকিছু করতে পারছে। তারপরও পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।' হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রোপচারের সময় দুটি দলে চিকিৎসকেরা ভাগ হয়ে যান। এর মধ্যে একটি পক্ষের কাজ ছিল পেটের চামড়ার নিচ থেকে হাড়টি বের করে আনা। এই দলের দায়িত্বে ছিলেন নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাহফুজুল কাদের। মাথায় প্রতিস্থাপনসহ পুরো অস্ত্রোপচারের নেতৃত্বে ছিলেন নোমান খালেদ চৌধুরী। এ ছাড়া নিউরোসার্জারি বিভাগের অপর দুই সহকারী অধ্যাপক সাইফুল আলম ও মো. সানাউল্লাহ অস্ত্রোপচারকারী দলের সঙ্গে ছিলেন। অস্ত্রোপচার শেষে মাহাদি জে আকিবের জ্ঞান ফেরার পর তাঁর সঙ্গে চিকিৎসকেরা কথা বলেন। চমেক অধ্যক্ষ সাহেনা আক্তার ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান মাহাদিকে দেখতে যান। এখন কয়েক দিন তাঁকে হাসপাতালে থাকতে হবে। মাহাদি জে আকিবের বাবা স্কুলশিক্ষক গোলাম ফারুক মজুমদার হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কক্ষের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ছেলের দ্রুত আরোগ্যের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি। গত বছরের ২৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারিতে কয়েকজন আহত হন। ছাত্রলীগের এক পক্ষ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী এবং অপরটি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর সমর্থক। রাতের ঘটনার জের ধরে ৩০ অক্টোবর দুপুরে মাহাদি জে আকিবের ওপর হামলা হয়। ঘটনার পর কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। হামলায় মাহাদির মাথায় গুরুতর জখম হয়। তখন অস্ত্রোপচার করে তাঁর মাথার হাড়ের অংশটি পেটের চামড়ার নিচে রাখা হয়। এ সময় তাঁর মাথা সাদা ব্যান্ডেজে মোড়ানো ছিল। তাতে লেখা ছিল 'হাড় নেই, চাপ দেবেন না'। এই ছবি তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। প্রথম অস্ত্রোপচারের পর মাহাদি গত বছরের ১৮ নভেম্বর বাড়ি ফেরেন। বাড়ি থেকে এসে গত মাসে কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। ২ মার্চ অস্ত্রোপচারের জন্য আবার হাসপাতালে ভর্তি হন মাহাদি। | 6 |
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে ১২০০ বছর আগের ছয়টি শিশুর মমি উদ্ধার হয়েছে। রাজধানী লিমা থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা কাজামারকুইলা থেকে মমিগুলোর সন্ধান মেলে। গত নভেম্বরে এই মমিগুলোর সন্ধান মেলে।প্রত্নতত্ত্ববিদদের ধারণা, মৃত সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে পরবর্তী জীবনে সঙ্গ দিতে ওই ছয় শিশুকে বলি দেওয়া হয়েছিল। লিমার নিকটবর্তী কাজামারকুইলা বৃহত্তম প্রত্নতাত্ত্বিক কমপ্লেক্সগুলোর মধ্যে গত বছর ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল। ওই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির বয়স ছিল আনুমানিক ২০। তিনি একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন বলে মনে করছেন প্রত্নতত্ত্ববিদেরা।মিসরে ডিজিটালি উন্মোচিত হলো ফারাও রাজা আমেনহোটেপের মমিপেরুর গবেষক পিটার ভ্যান ডালিন বলেন, 'গত নভেম্বরে যে ধরনের মমি উদ্ধার করেছিলাম, এগুলোও একইভাবে রাখা ছিল। এখান থেকে উদ্ধার হওয়া ১৩টি মমিই রশি দিয়ে বাঁধা পেয়েছি। হয়তো প্রথা মেনে এভাবে বিশেষ উপায়ে সংরক্ষণ করতেন তাঁরা। তবে সঠিক ধারণা পেতে গবেষণা চলছে।'প্রত্নতত্ত্ববিদেরা বলছেন, মাটি খুঁড়ে প্রথমে কয়েকটি ঘরের সন্ধান মেলে। পরে ঘরের ভেতরে বস্তায় মোড়ানো ৬ শিশুর মমি উদ্ধার হয়। দেহাবশেষের পাশে মিলেছে বেশ কিছু মাটি ও ধাতুর হাঁড়ি-পাতিল। প্রায় একই জায়গা থেকে গত বছর সাত ব্যক্তির দেহাবশেষ পান গবেষকেরা, যেগুলো মমি করা ছিল না।পেনশনের জন্য মায়ের মরদেহের মমি বানালেন ছেলেকাজামারকুইলায় একটি প্রাচীন শহর ছিল, যা ২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে গড়ে ওঠে বলে জানিয়েছেন ইতিহাসবিদেরা। | 3 |
আসন্ন কমনওয়েলথ গেমসের বাছাইপর্বের বাংলাদেশ দলে জায়গা হয়নি জাতীয় দলের অলরাউন্ডার জাহানারা আলমের। ১৫ সদস্যের দলে কেন জাহানারা নেই তা বিসিবি পরিষ্কার করে বলেনি। তবে শৃঙ্খলভঙ্গের একটা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ছিল। বিসিবির আরেক সূত্রে জানা গেছে, জিম্বাবুয়েতে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব চলার সময় সাবেক অধিনায়ক জাহানারার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে নাকি তিনি দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ। এ সময় নারী বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, 'আমার কাছে কিছু প্রমাণ আছে, যেটা আপনাদের সামনে দেখাতে চাই না। এটা দেখালে আপনারাই লজ্জা পাবেন। অভিযোগটা উইমেনস উইং হোক কিংবা বিসিবির সিইও (প্রধান নির্বাহী), যার কাছেই দিক। আমরা বিষয়টাকে ইতিবাচক হিসেবেই নিতে চাই। তিনি আরও বলেন, যাকে অ্যাড্রেস করে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে উনি বলেছেন বিষয়টা দায়িত্ব নিয়েই দেখবেন। আশা করি উনি বিষয়টা সুরাহা করে দেবেন। সে জায়গায় যদি আমাদের প্রয়োজন হয় বা কিছু করতে হয় তা-ও আমরা করব।' তিনি আরো বলেন, এখানে তো পক্ষে-বিপক্ষে যাওয়ার কিছু নেই। আমরা খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যেতে চাই। বোর্ড, ম্যানেজমেন্ট, সংগঠক আমাদের মাঝে তারা (ক্রিকেটার) সন্তানের মতো। তারা আমাদের ছোট বোনের মতো, ছোট ভাইয়ের মতো। চলার পথে তাদের কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে। সেটা আমরা সংশোধনের জন্য সহনশীল ও অভিভাবকসুলভ মনোভাব যেটা দেখানোর সেটাই দেখাব। যারা বাদ পড়েছে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা কিন্তু নির্ধারিত কিছু বলিনি। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দেশের প্রত্যেকটা মানুষ আমাদের ক্রিকেটের ভালো চায়। বিসিবির এক সূত্রে জানা গেছে, জাহানারা তার চিঠিতে জাতীয় দলের নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম ও টিম ম্যানেজমেন্টের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আগে গত বছর সিলেটে হওয়া জাতীয় দলের ক্যাম্পের কিছু ঘটনার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 12 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.