text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, জনগণ তৈরি হয়ে রয়েছে কোন দিন তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। উপযুক্ত সময়ে তাঁরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিএনপি জনগণের সঙ্গে আছে এবং থাকবে। ভালোয় ভালোয় সরকার জনগণের দাবি মেনে নিক। নইলে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে। আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত বিএনপির এক কর্মিসভায় কথাগুলো বলেন খন্দকার মোশাররফ। চট্টগ্রাম নগর বিএনপি এই কর্মিসভার আয়োজন করে। আজ চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মিসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেমের সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় ও নগর বিএনপি ছাড়াও তৃণমূলের নেতারা আন্দোলন-সংগ্রাম নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। কর্মিসভায় মোশাররফ হোসেন বলেন, খালেদা জিয়া, দেশের গণতন্ত্র এবং আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক সুতোয় গাঁথা। খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে সরকার মিথ্যা মামলায় কারাগারে ঢুকিয়েছে। দেশে যদি আইনের শাসন থাকত, তাহলে আপিলের মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে খালেদা জিয়া মুক্তি পেতেন। মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারের একটি নির্জন কক্ষে রাখা হয়েছে, যেখানে থাকা-খাওয়ার তেমন ভালো পরিবেশ নেই। খালেদা জিয়া আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। সুচিকিৎসার করতে দেওয়া হচ্ছে না। ইউনাইটেড হাসপাতালসহ দেশের যেকোনো উন্নত হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসার সুযোগ দিতে হবে। খালেদা জিয়া এবং বিএনপিকে বাইরে রেখে দেশে কোনো নিরপেক্ষ, প্রতিনিধিত্বমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। জনগণ তা হতে দেবে না। মোশাররফ হোসেন নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিএনপি এবং আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কিন্তু বিভ্রান্তিকর সংবাদ কেউ যেন বিশ্বাস না করে। লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মোশাররফ হোসেন বলেন, তারেক রহমানকে ফিরিয়ে আনতে নাকি আলোচনা চলছে। কিন্তু শেখ হাসিনা যেভাবে চান, সেভাবে নয়। তারেক জিয়া বীরের বেশে বাংলাদেশে ফিরবেন। কর্মিসভায় আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্র এবং 'গণতন্ত্রের মাতা' যেখানে বন্দী, সেখানে নির্বাচনের প্রশ্ন কোত্থেকে আসে? খালেদা জিয়াকে মুক্তি এবং 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' (সমান মাঠ) তৈরি ছাড়া নির্বাচন হবে না। আমীর খসরু আরও বলেন, 'সাংবাদিকেরা আমাকে জিজ্ঞেস করেন বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না। কিন্তু বিএনপি জনগণের দল। নির্বাচন করতে বিএনপির প্রস্তুতি লাগে না। আমাদের নির্ভরশীলতা জনগণ। আওয়ামী লীগের অন্য জায়গায়। আওয়ামী লীগের বোঝা উচিত, বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে নির্বাচনের আয়োজন জনগণ বানচাল করে দেবে।' মীর মোহাম্মদ নাছিরউদ্দিন বলেছেন, পুলিশ অত্যন্ত বিচক্ষণ। তারা পাঁচজনের মিছিল দেখলে লাঠিপেটা করে। লাখো জনতা দেখলে তাদের আচরণ বদলে যায়। তাই সরকারের পতন ঘটাতে হলে রাজপথে নেমে আসতে হবে। মীর নাছির বলেন, বামপন্থীদের মতো লিফলেট বিতরণ করে লাভ নেই। গণ-অভ্যুত্থান ছাড়া কোনো সরকারের পতন হয় না। এই সরকারকে হঠাতে হলে গণ-অভ্যুত্থান ঘটাতে হবে। তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য: চট্টগ্রামের পাঁচলাইন থানা বিএনপির সভাপতি মামুনুল ইসলাম বলেছেন, 'ঠান্ডা রাজনীতি আমরা চাই না। কাফনের কাপড় পরে আমাদের রাস্তায় নামতে হবে। রাস্তায় নামলে সরকারের পতন ঘটবে।' চট্টগ্রাম নগর যুবদলের সভাপতি কাজী বেলালউদ্দিন বলেছেন, '"আমার নেত্রী আমার মা, জেলে রাখতে দেব না"। কিন্তু এই স্লোগান যাঁরা দিয়েছেন, তাঁরা কোথায়? আমরা কি আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি? অথচ আমাদের নেত্রী আড়াই মাস ধরে কারাগারে বন্দী।' চট্টগ্রাম নগর মহিলা দলের সভানেত্রী মনোয়ারা বেগম বলেছেন, 'একজন সিনিয়র নেতা বলেছিলেন নেতা-কর্মীদের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। একটি রাজপথ এবং অন্যটি জেল। কিন্তু আমি মনে করি তিনটি পথ খোলা আছে। তৃতীয়টি হলো মৃত্যু। মৃত্যুর বিনিময়ে নেত্রীকে কারাগার থেকে বের করে আনতে হবে।' | 9 |
গত বছরের ১০ জুলাই দুপুরে পাবুরিয়াচালা স্কুল মার্কেটে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রাসেল। এরপর থেকেই তাঁর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে শ্রীপুর থানায় জিডি করেন রাসেলের বাবা। নিখোঁজের চার দিন পর ১৫ জুলাই তাঁর মরদেহ বাড়ির এক কিলোমিটার দক্ষিণে গজারি বনের ভেতরে গজারি গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝোলানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য ১৪ মাস পরে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।গ্রেপ্তার তিনজন হলেন-মো. রানা (২২), মো. হেলাল (৪৫) এবং মো. কাউছার (২৩)। আজ শুক্রবার দুপুরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এসব তথ্য জানান।মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, গত বছরের ১৫ জুলাই রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করে শ্রীপুর থানা। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রিপোর্টে জানা যায়, রাসেলকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা।পাঁচ মাস তদন্ত করেও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। মামলাটির রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মামলাটি পিবিআই গাজীপুর জেলাকে তদন্ত করার নির্দেশ দেয়। ডিআইজি পিবিআই বনজ কুমার মজুমদারের তত্ত্বাবধানে পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমানের সহযোগিতায় মামলাটির তদন্ত করেন পুলিশ পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম। মামলা তদন্তকালে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।আসামিদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামি কাউছারের মেঝ ভাই মো. ফরিদ বিদেশে থাকে। ফরিদের স্ত্রী নাদিরার সঙ্গে মো. রাসেলের পরকীয়া ছিল। রাসেল এবং আরেক আসামি মো. রানা একই সঙ্গে চলাফেরা করত। এক পর্যায় আসামি রানার সঙ্গেও নাদিরার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের কথা রাসেল জানতে পারায় রাসেল ও রানার মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়। রানা ওই নারীর দেবর কাউছারকে কৌশলে রাসেলের সঙ্গে তাঁর (কাউছার) ভাবির পরকীয়ার সম্পর্ক আছে বলে জানায়। পরবর্তীতে রানা ও হেলালের সঙ্গে আলোচনা করে রাসেলকে হত্যার পরিকল্পনা করে কাউছার। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২০২০ সালের ১০ জুলাই দুপুরে রাসেলকে ফোন করে নাদিরা ঘটনাস্থলে আসতে বলে। ওই দিনই রাসেলকে খুন করা হয়। ঘটনার আড়াল করতে মরদেহ গজারি বনের ভেতরে গজারি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। | 6 |
বিএনপির চরম ব্যর্থতা দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি অন্যায় হচ্ছে সেটা জেনেও এখন পর্যন্ত কিছুই করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। সোমবার (১০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ আহ্বান জানান তিনি। বিএনপির সমালোচনা প্রবীণ এ রাজনৈতিক বলেন, গত দুইদিন ধরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বলতে শুনেছি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে বিরোধীদল দমন করছে বর্তমান সরকার। কিন্তু তাদের একটা নেতাকেও বলতে শুনলাম না ক্ষমতায় গেলে তারা এ আইন বাতিল করবেন। কেবল হাসিনা খারাপ, শুধু তার বিরোধিতা করে লাভ নেই। আপনারা ক্ষমতায় গেলে কী কী পরিবর্তন করবেন সেটার ঘোষণা দেন। আপনারা একাই কিছু করতে পারবেন না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামুন। বিএনপির চরম ব্যর্থতা খালেদা জিয়ার প্রতি অন্যায় হচ্ছে সেটার জন্য এখন পর্যন্ত কিছুই করতে পারছে না। টিকা কেনায় বাহুল্য ব্যয় হচ্ছে উল্লেখ করে গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি বলেন, মাত্র সাত ডলারে টিকা দেওয়ার জন্য অফার করেছিল রাশিয়া। সেই টিকা কিনেছেন ১৪ ডলারে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্লেনের ভাড়া। এরপর আবার কত দিয়ে টিকা কিনেছেন সেটা সংসদেও জানাননি। জাফরুল্লাহ আরও বলেন, আপনি যদি বঙ্গবন্ধুকে সত্যিকার অর্থেই ধারণ করেন কিংবা সম্মানিত করতে চান তাহলে উচিত হবে যত দ্রুত সম্ভব একটি জাতীয় সরকার গঠন করা। জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করে যে অনাচারগুলো হচ্ছে সেগুলো পরিবর্তন করা। জাতীয় সরকার ছাড়া এখানে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। | 6 |
সিডনি টেস্টের একাদশ ঘোষণা করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। ঘোষিত এই দলে আছে চমক। অ্যাডিলেড এবং মেলবোর্ন টেস্টে ব্যর্থ হওয়ায় বাঁ-হাতি ওপেনার মায়াঙ্ক আগারাওয়ালকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইনজুরির কারণে দলের বাইরে ছিটকে গেছেন উমেশ যাদব। তার জায়গায় দলে ঢুকেছেন তরুণ পেসার নভদিপ সাইনি। সিডনিতে অভিষেক টেস্ট খেলবেন এই পেসার। দলে অবশ্য শার্দুল ঠাকুরের ঢোকার কথা ছিল। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট তরুণ সাইনিতেই ভরসা রেখেছে। সিডনিতে টেস্টের দলে সহ-অধিনায়ক হিসেবে রোহিত শর্মার অর্ন্তভূক্তি নিশ্চিত ছিল। তিনি তরুণ শুভমন গিলের সঙ্গে ওপেন করবেন। এছাড়া চারের বিবেচনায় দলে থাকছেন হানুমা বিহারিই। ভারত সিরিজের তৃতীয় টেস্টেও তিন পেসার ও তুই স্পিনার নিয়ে নামছে। ভারতের সিডনি টেস্টের একাদশ: রোহিত শর্মা (সহ অধিনায়ক), শুভমন গিল, চেতেশ্বর পূজারা, হানুমা বিহারি, আজিঙ্কা রাহানে (অধিনায়ক), ঋষভ পান্ত, রবিন্দ্র জাদেজা, রবিশচন্দন অশ্বিন, জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ সিরাজ এবং নভদিপ সাইনি। | 12 |
লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে রোববার ভোর ৬টায় মাঠে নামবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। অপেক্ষার ক্ষণ গুনছে ফুটবল রোমান্টিকরা। প্রস্তুত মারাকানার রিও ডি জেনেরিও। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ের আগে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনা। এই দুই দলের ১১১ বারের দেখায় ৪৬টিতে জিতেছে আর্জেন্টিনা। বিপরীতে ব্রাজিলের জয় ৪০টিতে। বাকি ২৫ ম্যাচ ড্র হয়েছে।আবার কোপা আমেরিকার নকআউট পর্বে গত ২৬ বছরে ব্রাজিলের বিপক্ষে একবারও জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। তবে এই দুই দলের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছিলেন আলবিসেলেস্তেরা।কোপার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দল ব্রাজিল। ২০১৯ কোপার সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই ফাইনালে উঠেছিল ব্রাজিল। পরে তো শিরোপাই জিতে নিলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস-থিয়াগো সিলভারা। কোপায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ওই ম্যাচেই। শুধু ২০১৯ নয়, কোপার নকআউট পর্বের সবশেষ পাঁচ ম্যাচের কোনোটিতেই জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা।শুরুটা ১৯৯৫ কোপা দিয়ে। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে খেলা ২-২ গোলে ড্র হলে ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিল ব্রাজিল। ১৯৯৯ কোপায়ও কোয়ার্টার ফাইনালে থামতে হবে এই দুই দলের এক দলকে। ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলে হেরে সেবারও বিদায় আর্জেন্টিনার।২০০৪ কোপায় আর কোয়ার্টার ফাইনালে নয়, ফাইনালেই ওঠে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ১৯৯৫ কোপার মতো সেবারও নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলের ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জিতেছিল ব্রাজিল। ২০০৭ কোপায়ও একই ছবি। ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ৩-০ গোলে হেরে আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ। আর সর্বশেষ ২০১৯ কোপায়ও হারের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেননি লিওনেল মেসিরা। সেমিফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০০৭ সালের পর আবারও ফাইনালে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা।এবার কি আর্জেন্টিনা ব্রাজিলের বিপক্ষে নকআউট পর্বে হারের বৃত্ত ভাঙতে পারবে? উত্তর মিলবে ১১ জুলাই, রোববার। | 12 |
ত্রাণ কার্যক্রমে অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন,সরকার কঠোর অবস্থানে আছে বলেই সামান্য অপরাধ করলেও কেউ রেহাই পাচ্ছে না। তিনি বলেন ইতিমধ্যে সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত,প্রশাসনিক ও দলীয় ব্যবস্হাগ্রহন তারই প্রমাণ। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে তাঁর সরকারি বাসভবনে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ১ দশকে বাংলাদেশ যেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সক্ষমতা অর্জন করেছে, তার কারনেই এই সংকটকালে এত বিপুল পরিমান প্রণোদনা ও ত্রাণ সহায়তা প্রদান সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ওবায়দুল কাদের বলেন,চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখা ও বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা পরিস্থিতির কারনে সীমিত হয়ে পড়েছে,এতে সাধারণ রেগীরা অন্যান্য রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি, স্বাস্থ্যবিধী মেনে এবং সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করে প্রতিদিন সামান্য সময়ে প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি আহবান জানান। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলপন, করোনার এই সংকটে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ১ কোটি মানুষকে রেশনের আওতায় আনা হয়েছে, ৫০ লাখ মানুষকে নগদ সহায়তা প্রদান সমসাময়িক বিশ্বে নজিরবিহীন। ওবায়দুল কাদের, করোনার সংক্রমনের ঝুঁকি এড়াতে ঈদে অনলাইনে শপিং করারও আহবান জানান। | 6 |
উত্তর প্রদেশের (ইউপি) বিধানসভা নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, বাড়ছে উত্তেজনা। গত সপ্তাহে বিজেপির তিন দলত্যাগী মন্ত্রীসহ আটজন বিধায়ক যোগ দেন সমাজবাদী পার্টিতে (এসপি)। এবার দলটির সভাপতি ও ইউপির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সৎ ভাই প্রতীক যাদবের স্ত্রী অপর্ণা যাদব এসপি ছেড়ে গতকাল যোগ দিলেন বিজেপিতে।অপর্ণার বিজেপিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে অখিলেশ বলেন, 'কাউকে মনোনয়ন দিতে আমাদের অনেক হিসাব করতে হচ্ছে। তাই অপর্ণাকে কোনো আসন থেকে মনোনয়ন দিতে পারিনি। আমি বিজেপিকে স্বাগত জানাই, কারণ, আমরা মনোনয়ন দিতে ব্যর্থ হয়েছি এমন একজনকে তারা মনোনয়ন দিয়েছে।'রাজ্যটির ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অপর্ণাকে মনোনয়ন দিয়েছিল এসপি। কিন্তু কংগ্রেস ছেড়ে আসা বিজেপি প্রার্থী রিতা বহুগুনার কাছে হেরে যান তিনি।নিজে কোন আসন থেকে লড়বেন, এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন অখিলেশ যাদব। ২০১২-১৭ সালে রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও তিনি এখন পর্যন্ত কোনো বিধানসভা নির্বাচনে লড়েননি। | 6 |
কঠোর লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে শনিবার (২৪ জুলাই) খুলনা মহানগরীতে বিধিনিষেধ অমান্য করায় ৫৩টি মামলায় ৫৩ জনকে ৩৭ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসনের আটজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্তদের এই জরিমানা প্রদান করেন। সেনাবাহিনী, বিজিবি, এপিবিএন, পুলিশ ও আনসার অভিযানে সহায়তা করেন। একই সাথে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসিল্যান্ডদের নেতৃত্ব উপজেলা পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করেন। জানা যায়, খুলনাসহ সারাদেশে করোনার ঊর্ধমুখি সংক্রমণ মৃত্যু রোধে শুক্রবার (২৩ জুলাই) থেকে সরকার ঘোষিত কঠোরতম বিধি-নিষেধ শুরু হয়েছে। খুলনায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ১৯০ জন, মৃত্যু হয়েছে ৫৫৭ জনের। শনিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাবে ৩৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এর মধ্যে খুলনা মহানগর ও জেলার ৩৫৯ জনের মধ্যে ৯১ জন শনাক্ত হয়। শনাক্তের হার ২৫ দশমিক ৩৪। এছাড়া পিরোজপুরের একজন করোনা শনাক্ত হয়।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 4 |
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। তিনি বলেন, 'বিএনপি নেতারা একদিকে জনরোষের আতঙ্কে আছেন, অপর দিকে হঠকারী রাজনীতির কারণে তাঁরা তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের আস্থা হারিয়েছেন।' সেতুমন্ত্রী আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর সরকারি বাসভবনে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে না বলেই তাদের প্রতিপক্ষ মনে করে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির অন্তঃসারশূন্য ও উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারে সরকার কান দেয় না। কারণ, জনগণ এসব কথামালার চাতুর্য বিশ্বাস করে না। 'সরকার ভেন্টিলেশনে আছে' বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, 'চোখ থেকে ক্ষমতার রঙিন খোয়াবের চশমা খুলে নিজেদের পায়ের তলায় মাটি আছে কি না, তা আগে দেখুন। আপনারা তো মিডিয়ার কল্যাণেই বেঁচে আছেন।' উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছিলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে এই সরকার ভেন্টিলেশনে আছে। তিনি বলেন, 'এই ভেন্টিলেশনটা খুইলা গেলে সরকারটা নাই। ওরা আতঙ্কে আছে। ওদের হারাবার যন্ত্রণা সারাক্ষণ, ওদের প্রাপ্তির কোনো বিষয় নাই।' বিএনপি নেতাদের সম্মিলিত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই জানিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে ইথারে যে সিদ্ধান্ত ভেসে আসে, তা ঢাকায় বসে মিডিয়ার মাধ্যমে বিএনপি নেতারা পুনরাবৃত্তি করছেন মাত্র। ফরমাশ কার্যকর করছেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে খুনিদের তোষণ, দুর্নীতিবাজ আর সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পোষণ এবং অসহায় জনগণকে শোষণ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংকট সমাধানের সক্ষমতা দেখে বিএনপি ঈর্ষার আগুনে জ্বলছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাস্থ্যবিধির প্রতি চরম উপেক্ষা আত্মঘাতী বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। করোনার সংক্রমণ এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে। তাই নিজের জীবনের সুরক্ষা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের সুরক্ষায় সরকার আবারও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতে বাধ্য হবে। | 9 |
আগামী ২৬ ডিসেম্বর রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় ছয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।চতুর্থ ধাপে এ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিনে সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত যাচাই শেষে পাঁচজনের প্রার্থিতা বাতিল করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা।বাতিল হওয়াদের একজন সরদহ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মতলেবুর রহমান। তাঁর জন্মতারিখ ভুল এবং তিনি পুলিশের ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি হওয়ায় প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।এ ছাড়াও চারজন সাধারণ সদস্যের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। এঁরা হলেন বয়স কম থাকায় সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সোহাগ আলী, ব্যাংকঋণ থাকায় সরদহ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম, বয়স কম থাকায় শলুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ আলী ও ব্যাংকঋণ থাকায় ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মনিরুল ইসলাম।যাচাই-বাছাই শেষে ছয়টি ইউপিতে চূড়ান্ত চেয়ারম্যান পদে ২৮ জন ও সংরক্ষিত আসন থেকে ৭৮ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৩৬ জন চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়।উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রবিউল আলম জানান, যাঁদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে তাঁরা ৩০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আপিল করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তি ৩-৫ ডিসেম্বর, প্রত্যাহার ৬ ডিসেম্বর, প্রতীক বরাদ্দ ৭ ডিসেম্বর। তারপর এসব প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। | 6 |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান কারাগার থেকে স্বাধীন দেশে জীবিত ফেরত আসার পেছনে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ বড় ভূমিকা পালন করেছেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, আবেদ ভাইকে মনে রাখতে এবং তার আদর্শ ও কর্মে অনুপ্রাণিত হতে হবে। রোববার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র নগর হাসপাতালের ধানমন্ডি শাখার মিলনায়তনে স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হলে স্যার ফজলে হাসান আবেদ চাকরি ছেড়ে দিয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেন। তিনি আবু সাঈদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের দুঃখ ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কাহিনি সারাবিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আবেদ ভাই বিলেত থেকে লেখাপড়া শেষ করে পাকিস্তানের খুব বড় একটা কোম্পানিতে অত্যন্ত উচ্চ পদে চাকরি নেন। সেখানে তার গাড়ি-বাড়ি, টাকা-পয়সার অভাব ছিল না। অত্যন্ত আরাম-আয়েশের জীবনযাপন ছিল তার। কিন্তু ১৯৭০ সালে প্রলয়ঙ্করী ঝড়ে লাখ লাখ মানুষ মারা গেলে তিনি সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে ছুটে যান। তিনি বাংলাদেশের দরিদ্রতা দেখে চমকে ওঠেন। এই ঘটনা তার জীবনে একটা পরিবর্তন এনে দেয়। তিনি ভাবতে থাকেন, এত টাকা-পয়সা দিয়ে কী হবে, দেশ যদি ভালো না থাকে। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পরে আবেদ ভাই ভাবলেন দেশটাকে গড়তে হবে। তখন এ দেশে অনেক অভাব-অনটন ছিল। তখন তিনি ব্র্যাক গঠন করেন। তিনি বুঝেছিলেন, আমাদের প্রাণ হলো গ্রাম। তাই তাদের জন্য তিনি কাজ করেছেন এবং তাদের লেখাপড়া করানোর দিকে তিনি বেশি নজর দিয়েছেন। তখন আমাদের দেশে মাত্র কয়েক শতাংশ লোক নাম লিখতে পারতেন। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ। সভা পরিচালনা করেন গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টারের সমন্বয়কারী ডা. মহিবুল্লাহ খন্দকার। এতে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টুসহ গণস্বাস্থ্যের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। | 6 |
ঈদ উপলক্ষে প্রকাশ পেয়েছে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের নতুন গান 'পিরিত কইরা কান্দি আমি'। লেখক ও নির্মাতা সাদাত হোসাইনের গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত হয়েছে এই গানের মিউজিক ভিডিও। আসিফ আকবর বলছেন, 'সর্ম্পকগুলো অদ্ভূত, জীবন এখানে অনিশ্চিত। সেই অনিশ্চিত জীবনে, জীবনের অর্থ কখনো কখনো অধরাই থেকে যায়। এখানে গান হয়ে ওঠে গল্প, আর গল্প হয়ে ওঠে গান।' তবে তার এই মন্তব্য গান প্রসঙ্গে নয়। এই কথাগুলো বলছেন ভিডিওচিত্রে। গানটি লিখেছেন ওমর ফারুক। সুর করেছেন প্রিন্স রুবেল আর সঙ্গীতায়োজনে ছিলেন তরিক আল ইসলাম। ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ইউটিউব চ্যানেলে ইতোমধ্যে গানটি প্রকাশিত হয়েছে। গান প্রসঙ্গে আসিফ আকবর বলেন, ''পিরিত কইরা কান্দি আমি' একটি ঘোর লাগা গান। গানের কথা, সুর ও সঙ্গীত কলিজায় লাগে। সেই সাথে সাদাতের ভিডিও নতুন মাত্রা যোগ করেছে গানটিতে। আমি আশা করছি গানটি যুগ যুগ বেঁচে থাকবে।'' মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করেছেন মাঈন হাসান ও অনামিকা সরকার। গানের ভিডিওতে অভিনয় প্রসঙ্গে মাঈন বলেন, 'গল্প ভালো লাগলেই কেবল মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করি, সেক্ষত্রে সাদাত ভাইয়ের কাজে বরাবরই গল্পই প্রাধান্য পায়। ভালো গল্পে কাজ করতে তাই ভালোই লাগে।' | 2 |
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকায় তিনটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কয়েকজনকে কারাদণ্ড দেয়া হয়। বুধবার রাতে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসুর নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সহায়তা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও র্যাব-২। এসব অভিযোগে জাহাঙ্গীর হোসেনকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও হাসপাতালটির পরিচালক বাবুর হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু জানান, রাজধানীর শ্যামলী ও মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডে হাসপাতালে কম খরচে উন্নত চিকিৎসার আশ্বাসে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে আনে দালাল সিন্ডিকেট। তারা রোগী আনার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া। অভিযানে নুরজাহান অর্থপেডিক্স হাসপাতালে নোংরা পরিবেশ ও ওয়ার্ডবয়কে দিয়ে অস্ত্রোপচার করানোর অভিযোগে হাসপাতালটির পরিচালক বাবুল হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও ওয়ার্ডবয় জাহাঙ্গীরকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযান শেষে হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক হাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেন পাস করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। অথচ তিনি একাধারে হাসপাতালটির পরিচালক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। রোগীদের ভাঙা হাত-পায়ের এক্স-রে দেখে অপারেশনের সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিতেন। এমনকি ক্রিসেন্ট হাসপাতালের অনুমোদনের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে আরও চার মাস আগে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আবুল হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও হাসপাতালটিকে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযানের শুরুতেই রাজধানীর মক্কা-মদিনা হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। সেখানকার পরিচালক নূর নবীরও কোনো ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সনদ বা অনুমোদন নেই। অথচ তিনি রোগী দেখছেন এবং তাদের ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। হাত-পা ভাঙাসহ বিভিন্ন গুরুতর আহত যে রোগীরা আসছেন, তাদের অপারেশনের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছিলেন। এ অপরাধে হাসপাতালটির পরিচালক নূর নবীকে এক বছরের কারাদণ্ডসহ আনোয়ার হোসেন কালু ও তার সহযোগী আব্দুর রশিদকে ছয়মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে মক্কা-মদিনা হাসপাতালটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। পলাশ কুমার বসু বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ আসে চিকিৎসা নিতে। তারা বেশিরভাগই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। তারাই বেশি এসব দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েন। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা। প্রায় ৫০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস, অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকের চিত্রনাট্য লেখা। সেসব চিত্রনাট্য তিনি বেশ কজন নির্মাতার কাছে পাঠান। সেসব গল্প পারিবারিক, ফলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাঁকে শুনতে হতো, পরিবার নিয়ে নাটক আজকাল কেউ দেখে না। এসব প্রচার হয় না। এসব কথায় ভীষণ কষ্ট পেয়ে প্রতিবাদস্বরূপ পারিবারিক গল্পের নাটক লেখেন তিনি। প্রতিবাদ করে সফলও হয়েছেন তিনি।এই অভিনেত্রীর লেখা নাটক 'বেকার'। পারিবারিক গল্পের নাটকটি ঢাকা বেতারে প্রচারিত হবে শিগগিরই। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এবারই তিনি নিজের লেখা বেতার নাটকে প্রথম কণ্ঠ দিলেন। তিনি বলেন, 'পারিবারিক নাটকটি একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে লিখেছি। এ ধরনের পারিবারিক নাটক লিখে যেসব সিনিয়র নির্মাতার কাছে গল্প দিতাম, তাঁরা সেটা নিয়ে বিভিন্ন রকম কথা বলতেন। আমার নিজের কানে শোনা, তাঁরা বলতেন, এসব পারিবারিক গল্প নাকি কেউ খায় না। আজকাল এগুলো অচল। এগুলোর মার্কেট নাই। তাঁদের এসব কথা শুনে আমি ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম। সেই জায়গা থেকে আমি প্রতিবাদ হিসাবে "বেকার" নাটকটি লিখেছি।' কয়েক বছর ধরে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন খালেদা আক্তার কল্পনা। এই বছরের শুরুতেই প্রথম আলোকে জানিয়েছিলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিতে বছরে দুইবার তাঁকে ভারত যেতে হয়। সে সময় তিনি আর্থিকভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। পরে তিনি সুস্থ হয়ে অনেককে কাজের জন্য ফোন করেছেন, কিন্তু কাজে ডাক পাচ্ছিলেন না। ভেবেছিলেন আর্থিক সংকট উত্তরণের জন্য নাটক লিখে কিছু টাকা রোজগার করবেন। তাঁর অনেক চিত্রনাট্য ও গল্প লেখা রয়েছে। নির্মাতাদের সেসব চিত্রনাট্য পাঠিয়েছিলেন তিনি। তাতে খুব একটা সাড়া পাননি। তিনি বলেন, 'অনেককে চিত্রনাট্য পাঠিয়েছি। কিন্তু কেউ মূল্যয়ন করেননি। যাঁরা জুনিয়র, অবুঝ, লেখাপড়া কম জানা, নাটক নিয়ে অভিজ্ঞতা নেই, অজ্ঞ কোনো লোক কিছু বললে কষ্ট পেতাম না। কিন্তু সিনিয়রদের কাছ থেকে আমি এগুলো শুনেছি। এ জন্যই পারিবারিক নাটক লিখেই প্রতিবাদ করলাম।' বেতারের জন্য লেখা নাটক এবং কণ্ঠ দেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি জানান, আরও আগে বেতারের নাটকের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে তিনি ভুল করেছেন। নাটকটির গল্প পরিবারের বিভিন্ন সংকটকে কেন্দ্র করে। খালেদা আক্তার কল্পনা বলেন, 'প্রথমবার আমি বেতারের জন্য অভিনয় করলাম। এখানে কণ্ঠটাই প্রধান। করোনার সময়ে সাজগোজ নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয়নি। নতুন এই মাধ্যমে কাজ করে অনেক ভালো লেগেছে। অভিনয় করার সময় বারবার মনে হয়েছে আরও আগে বেতারে না এসে ভুল করেছি।' এই অভিনেত্রী এখন থেকে নিয়মিত বেতারে অভিনয় করতে চান। নাটকটি আগামী শুক্রবার বেলা ৩টায় ঢাকা বেতারে প্রচারিত হবে। | 2 |
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। আমাদের কাছে পরামর্শ চাইলে আমরা পরামর্শ দিয়ে থাকি। ২১ তারিখের পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন। তবে আমাদের পরামর্শ থাকবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয়। আর স্কুল-কলেজের যে সমস্ত ছেলে-মেয়েরা এখনো টিকা নেয়নি, তারা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে করোনার টিকা নিয়ে নেয়। আজ শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার শুভ্র সেন্টারে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 9 |
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় দিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। এরপর ভারতের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ১০ খেলোয়াড় নিয়ে দারুণভাবে ফিরে এসেছে, ড্র করেছে ১-১ গোলে। টুর্নামেন্টে অপরাজেয় থাকা বাংলাদেশের সামনে এবার প্রতিপক্ষ স্বাগতিক মালদ্বীপ। কাল ম্যাচটি জিততে পারলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে অস্কার ব্রুজোনের দল। গুরুত্বপূর্ণ এ ম্যাচে বাংলাদেশ পাচ্ছে না রাইটব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষ ও উইঙ্গার মোহাম্মদ রাকিবকে। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় মালদ্বীপ ম্যাচে খেলা হচ্ছে না রাকিবের। আর ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচে নিষিদ্ধ রাইটব্যাক বিশ্বনাথ। আসলে ভারতের বিপক্ষে সেদিন নিজের খামখেয়ালিপনার মাশুলই গুনতে হয়েছে বিশ্বনাথকে। ১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও ১০ জন নিয়ে ম্যাচটি বাংলাদেশ ড্র করায় আড়াল হয়ে গেছে সে খামখেয়ালিপনা। ম্যাচে সে মুহূর্তে পূর্ণ মনোযোগ ছিল না বিশ্বনাথের, যে কারণে খেয়াল করেননি তাঁর পেছন দিয়ে উঠতে থাকা ভারতীয় উইঙ্গার লিস্টন কোলাসোকে। বিশ্বনাথের মনোযোগের অভাবই কাজে লাগিয়েছেন দ্রুতগতির কোলাসো। ম্যাচের তখন ৫৩ মিনিট। ভারতের স্ট্রাইকার মানভীর সিং মাঝমাঠে হেড করলে বল বাংলাদেশের বক্সের দিকে যেতে থাকে। মনোযোগ ঠিক থাকলে বিশ্বনাথের সে বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়াতে কোনো ঝুঁকিই ছিল না। কিন্তু তাঁর পেছন দিয়ে কোলাসো উঠে আসছিলেন, সেটা খেয়াল করেননি বিশ্বনাথ। অনেকটা খোশমেজাজে দুলকি চালে বলের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন বাংলাদেশের রাইটব্যাক। সেটির সুবিধা নিয়ে কোলাসো অনেক পেছন থেকে দৌড়ে এসে বের হয়ে যান। উপায়ান্তর না দেখে পেছন থেকে তাঁকে টেনে ধরেন বিশ্বনাথ। রক্ষণে শেষ ডিফেন্ডার ছিলেন তিনি, গোলমুখে ছুটতে থাকা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়কে এভাবে টেনে ধরার তখন একটাই ফল হতে পারত। তা-ই হয়েছে। সরাসরি লাল কার্ড দেখেন বিশ্বনাথ! এর আগে ২০১৭ সালেও অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অহেতুক লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল বিশ্বনাথকে। নেপালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ এক খেলোয়াড়কে অহেতুক কনুই মেরেছিলেন তিনি। মজার ব্যাপার, সেদিনও লাল কার্ডটা বিশ্বনাথ দেখেছিলেন ৫৩ মিনিটেই! মাঠে বিশ্বনাথের নিবেদন ও পারফরম্যান্স নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর ক্ষণিকের অমনোযোগিতার জের টানতে হয় পুরো দলকেই। অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে নেপালের বিপক্ষে সেই ম্যাচ শেষে বিশ্বনাথকে এক হাত নিয়েছিলেন উপদেষ্টা কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড। ভারতের বিপক্ষে এবার বিশ্বনাথের ওই লাল কার্ডের পর নিয়মিত একাদশের গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড় বিশ্বনাথ ও রাকিবকে ছাড়াই কাল মালদ্বীপের বিপক্ষে পরিকল্পনা সাজাতে হবে ব্রুজোনকে। এ নিয়ে স্প্যানিশ কোচের আফসোসও আছে। জানা গেছে, রাকিবের জায়গায় লেফট উইঙ্গার হিসেবে খেলানো হতে পারে মোহাম্মদ ইব্রাহিমকে আর বিশ্বনাথের জায়গায় রাইটব্যাকে খেলবেন রহমত মিয়া। তবু প্রশ্ন ওঠে। বিকল্প হয়তো হাতে আছে। কিন্তু কেন এমন খামখেয়ালিপনা? | 12 |
করোনাভাইরাসের টিকা পুশ করে এবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। কুমিল্লার হোমনায় এক নারীকে টিকা দিয়ে সেই ছবি ফেসবুকে শেয়ার করার পর এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভাষানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে। এর আগে রাজশাহীতে এক বৃদ্ধের শরীরে করোনা টিকা পুশ করে সমালোচিত হয়েছিলেন এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, গত ৭ আগস্ট ভাষানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম এক নারীর শরীরে টিকা পুশ করেন। আর পাশে সংশ্নিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীরা দাঁড়িয়ে ছিলেন। পেছনে অনেক লোক টিকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেদিন ওই ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে গণটিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ইউএনও রুমন দে। সে সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবদুস ছালাম সিকদার, ওসি আবুল কায়েস আকন্দ, ইউপি চেয়ারম্যান কামরুলসহ পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যান কামরুল বলেন, 'আমি টিকা পুশ করিনি। জনসচেতনতা বাড়াতে অভিনয় করেছিলাম মাত্র। তা ছাড়া এ বিষয়ে আমার প্রশিক্ষণ আছে। আর এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেনি। একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে ওই ছবি ছড়ানো হয়েছে।' ডা. আবদুস ছালাম জানান, গত ৭ আগস্ট গণটিকা কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর তিনি চলে গেছেন। পরে শুনেছেন- চেয়ারম্যান কামরুল এক নারীকে টিকা দিয়েছেন, এমন একটি ছবি তার ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইউএনও রুমন দে জানান, এক নারীকে চেয়ারম্যান কামরুলের টিকা পুশ করার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, গত ৭ আগস্ট রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়নের সালেহা-ইমারত মেডিকেল সেন্টারে গণটিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে গিয়ে এক বৃদ্ধের শরীরে করোনার টিকা পুশ করেন স্থানীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। এ সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে। | 6 |
সিদ্ধিরগঞ্জে করোনার উপসর্গ নিয়ে রিমন সাউদ (২৪) নামে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে এক ঘণ্টা পর হার্ট অ্যাটাক করে বাবা হাজী ইয়ার হোসেন (৬০) মৃত্যু কোলে ঢলে পড়লেন। নাসিক সিদ্ধিরগঞ্জের ৫নং ওয়ার্ডের সিদ্ধিরগঞ্জ সরদারপাড়া এলাকায় আজ সকালে মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে। এতে শোকের ছায়া নেমে আসে এলাকায়। রিমন সাউদের করোনার উপসর্গ জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট থাকায় তার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে এখনও রিপোর্ট পায়নি বলে জানিয়েছেন। হাজী ইয়ার হোসেন সিদ্ধিরগঞ্জের সরদারপাড়া মসজিদ কমিটির সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জের সরদারপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 4 |
ব্রাজিলের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় মিনাস গারাইস রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় আহত হয়েছেন ৬৫ জন, নিখোঁজ রয়েছেন দুইজন। গৃহহীন হয়েছেন প্রায় ৩৩ হাজার ২৯০ জন। গারাইস রাজ্যের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের বন্যার কারণে এ রাজ্যের ১০১টি শহরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। ব্রাজিলের ফেডারেল সরকার রোববার মিনাস গারাইসের ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অবকাঠামো পুনঃনির্মাণে ২ কোটি ১৪ মার্কিন ডলার বরাদ্দ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। | 3 |
কন্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যানসির ইচ্ছে, বিয়েটা বেশ জাঁকালোভাবে সারবেন। তবে সেই পরিকল্পনাটা প্রথমভাগে প্রায় ভেস্তেই গেছে। বেশ ঘরোয়াভাবে গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে গীতিকবি মহসীন মেহেদীর সঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। একেবারের পারিবারিকভাবে আয়োজিত আকদ অনুষ্ঠানে ছিল না কোনও জৌলুস। তবে এরপরই গায়েহলুদের আয়োজন করেছেন তারা। বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তাদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা। এই নবদম্পতির গায়েহলুদের বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেখানে দেখা যায়, বর-কনে দুজনই সেজেছেন হলুদ সাজে। ন্যানসি পরেছেন হলুদ লেহেঙ্গা আর মেহেদীর পরনে ছিল হলুদ রঙা পাঞ্জাবি ও কটি। হাস্যোজ্জ্বল সে আয়োজনে অংশ নিয়েছেন দুই পরিবারের সদস্যরা। জানা যায়, ন্যান্সির এটি তৃতীয় বিয়। | 2 |
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ইয়াবা কারবারি নুর আলম পাকড়াকে (৪৮) গ্রেপ্তার করতে গিয়ে রতন নামে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ১০টার দিকে উপজেলার রমনা ইউনিয়নের জোরগাছ বাজারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।অভিযুক্ত নুর আলম উপজেলার থানাহাট ইউপির সবুজপাড়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে।চিলমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রাণ কৃষ্ণ দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মাদক কারবারি নুর আলমকে আটক করতে গেলে তিনি এএসআই রতনকে আঘাত করেন ও ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এতে রতন আহত হন। তবে অন্য পুলিশ সদস্যরা নুর আলমকে আটক করতে সক্ষম হন। পরে তাঁর কাছ থেকে ৩০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।প্রাণ কৃষ্ণ দেবনাথ আরও বলেন, নুর আলমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। আজ বুধবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে। আহত পুলিশ সদস্য রতনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। | 6 |
রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে ২০ ডিসেম্বর থেকে চলছে নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংলাপ। ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সিদ্ধান্তে আসতে হবে সরকারকে। সংলাপ নির্বাচন কমিশন নিয়ে হলেও আলোচনা ঘুরেফিরে সেই নির্বাচনকালীন সরকার নিয়েই।আগামী নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে ইসি গঠনে আইন হচ্ছে না-সরকারের কাছ থেকেই দফায় দফায় এমন বক্তব্য এসেছে। বিকল্প হিসেবে অধ্যাদেশ জারি করে ইসি গঠনে নতুন আইন করার ক্ষমতা থাকলেও সে পথেও হাঁটবে না সরকার। 'কম সময়' থাকার অজুহাত দেখিয়ে এবারও সার্চ কমিটি করে ইসি গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনেরা।আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল বুধবার বলেছেন, ইসি গঠনে আইন করবে সরকার। তবে আগামী কমিশন গঠনের আগে সেই আইন হচ্ছে না। তিনি বলেন, 'নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ব্যাপারে একটি অরডিন্যান্স (অধ্যাদেশ) করে দেন। আমি বলেছি, সেটা সম্ভব না। সংবিধান বলছে আইন করে দিতে। এ রকম একটা আইন সংসদকে পাশ কাটিয়ে করতে রাজি না।'আইনমন্ত্রীর সুরেই গতকাল দলের অবস্থান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ও ফারুক খান। মতিয়া চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যই আমাদের দলের বক্তব্য। ফারুক খান বলেন, 'নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আইন না হলেও তার মতো একটি কাঠামো দাঁড়িয়ে গেছে। পরেরবার হয়তো আইনি মাধ্যমেই ইসি গঠন করা হবে।তবে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ টি এম শামসুল হুদা আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'এগুলো (সংলাপ) কিছুই হবে না। খামাখা সময়ের অপচয়। ওনারা (সরকার) তাঁদের মতো করে যা করার তাই করবেন। কিচ্ছু হবে না। আপনারা (সাংবাদিক) আপনাদের মতো করে লেখেন।'প্রথম দফায় আমন্ত্রণ পাওয়া নয়টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ছাড়া সবাই রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিয়েছে। প্রত্যাখ্যানের তালিকায় বাসদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিও (সিপিবি)। দুটি দলই বলছে, ২০১২ ও ২০১৭ সালে রাষ্ট্রপতির সংলাপে অংশ নিয়ে যেসব প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।শুরু হওয়ার আগে থেকেই চলমান সংলাপকে 'লোক দেখানো' বলে আসছিল বিএনপি। দলটির নীতি নির্ধারকদের মতে এই সংলাপের ফলাফলে অতীতের ধারাবাহিকতারই পুনরাবৃত্তি ঘটবে। সেখান থেকে ভালো কিছু আশা করা অমূলক। তাই এই সংলাপে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। ইসি গঠনের সংলাপে বসার চেয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টিই দলটির কাছে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। এ নিয়ে আলোচনার জন্য সংলাপে বসতে আপত্তি নেই বিএনপির।বিএনপির সংলাপে যাওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি রাজধানীর বনানীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দলটির পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা এই সংলাপে যাচ্ছে না। গত ২৭ ডিসেম্বর দলের স্থায়ী কমিটির সভায় বলা হয়, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা ছাড়া কমিশনের গঠন নিয়ে সংলাপ শুধু সময়ের অপচয়। বিগত দুইটি কমিশন গঠনের আগে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণে ইসি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব লিখিতভাবে রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিয়েছিল তারা। কিন্তু নির্বাচনকালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় সব উদ্যোগই ব্যর্থ হয়েছে।স্থায়ী কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'দলীয় সরকার বহাল রেখে নির্বাচন কমিশন কখনই স্বাধীনভাবে নিরপেক্ষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারবে না। বিএনপি বিশ্বাস করে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকার ছাড়া সুষ্ঠু, অবাধ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কোনো নির্বাচন কমিশনই অনুষ্ঠান করতে পারবে না। রাষ্ট্রপতি নিজেই বলেছেন তাঁর কোনো ক্ষমতা নেই পরিবর্তন করার। সেই কারণে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ কোনো ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারবে না। বিএনপি অর্থহীন কোনো সংলাপে অংশগ্রহণ করবে না।'বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, অতীতেও এ রকম সংলাপ হয়েছে। পরে সার্চ কমিটি করেছে, নির্বাচন কমিশন করেছে। পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে যে, যাকে দিয়েই কমিটি করা হোক না কেন, তারা ছিলেন সরকারের আজ্ঞাবহ।'চলমান সংলাপ ভালো কিছু দেবে না' মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এই সংলাপ মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে কলুষিত করছে। সংবিধানকে অবমাননা করছে। নির্বাচন কমিশন গঠন নয়, সংলাপটা হওয়া উচিত কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) সরকার কনফার্ম করতে। তাহলে তা জাতিকে একটা ভালো কিছু দিতে পারে।'২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছিল নির্বাচনকালীন সরকার। ছোট করা হয়েছিল মন্ত্রিসভা। বিএনপিকে এই নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন বয়কট করে একই রকমভাবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বেই হয় নির্বাচনকালীন সরকার। তৎকালীন সংসদে তাদের কোনো সাংসদ না থাকায় নির্বাচনকালীন মন্ত্রিসভায় ওই দলের কেউ ছিলেন না। তারপরেও নির্বাচনে অংশ নিয়ে পাঁচটি আসনে জেতে বিএনপি।যদিও নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এবার আর কোনো আলোচনা করছে না আওয়ামী লীগ। গত দুইবারের ধারাবাহিকতায় এবারও নির্বাচনের আগে তিন মাসের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়টিই প্রস্তুতিতে আছে ক্ষমতাসীনদের। এ নিয়ে সরকারের মধ্যে নানা আলোচনা আছে। তবে সরকারের গঠন যাই হোক তা হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত ৬ অক্টোবর তিনি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তার আগের দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার চাইলে বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি। তবে সেই আলোচনা হতে হবে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের এক এজেন্ডাতেই। এরই জবাব দেন কাদের।আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারে অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দায়িত্বশীল সব রাজনৈতিক দলের উচিত এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া।গতকাল পর্যন্ত যে আটটি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নির্বাচক কমিশন গঠনে আলোচনা করেছে তাতে সব দলই ইসি গঠনে সার্চ কমিটি ও আইন প্রণয়নের বিষয়ে নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়েছে। একমাত্র খেলাফত মজলিশই নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারে অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে।বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় না দাবি করে সংবিধান সংশোধন করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য প্রস্তাব দেয় দলটি।যদিও আগের দিন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সঙ্গে আলোচনায় রাষ্ট্রপতিকে উদ্ধৃত করে দলের কার্যকরী সভাপতি আইভি আহমেদ বলেন, তিনি বলেছেন, 'আপনারা আমার ক্ষমতা সম্পর্কে জানেন। ফলে, আমি আমার ক্ষমতার মধ্যে থেকে জনগণের যে দাবি, আপনাদের যে দাবি তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।'সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, রাষ্ট্রপতির এই সংলাপ আনুষ্ঠানিকতা, লোক দেখানো। নিয়োগ তো হবে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী। আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, সংবিধানের ৪৮ এর ৩ ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ছাড়া সবকিছুই রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অতীতে যা হয়েছে ভবিষ্যতেও তাই হবে কারণ মূলত প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ীই রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নেবেন। | 6 |
নাটোরের হরিশপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী সুমাইয়া বেগমকে হত্যার অভিযোগে তার শাশুড়ি ও ননদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- শাশুড়ি সৈয়দা মালেক ও তার মেয়ে জাকিয়া ইয়াসমিন জুথি (ননদ)। তবে সুমাইয়ার স্বামী মোস্তাক হোসেন ও শ্বশুর জাকির হোসেন এখনও পলাতক রয়েছেন। নাটোরের পুলিশ সুপা (এসপি) লিটন কুমার সাহা জানান, ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল সুমাইয়া প্রেম করে হরিশপুর গ্রামের মোস্তাককে বিয়ে করে। সুমাইয়ার বাবা সিদ্দিকুর রহমান মেয়ের দিকে তাকিয়ে বেকার জামাই মোস্তাকের চাহিদা পূরণ করে আসছিলেন। প্রায় ৮ মাস আগে সিদ্দিকুর রহমান মারা যাওয়ার পরও জামাইয়ের চাপ অব্যাহত ছিল। বাড়ি ভাড়ার টাকায় সংসার চালিয়ে দুই ছেলের খরচ, জামাইয়ের চাহিদা পূরণে হিমশিম খাচ্ছিলেন সুমাইয়ার মা নুজহাত সুলতানা। এ কারণে চাকরি করে সংসারের হাল ধরতে চেয়েছিলেন সুমাইয়া। কিন্তু বেকার স্বামী মোস্তাক তা মেনে নিতে চায়নি। বার বার শারীরিক নির্যাতন চালাতো সুমাইয়ার ওপর। সোমবার সকালেও সুমাইয়ার ওপর নির্যাতন চালালে সংজ্ঞাহীন সুমাইয়াকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে সবাইকে জানায়। এ ঘটনায় প্রথমে কোনো পক্ষ মামলা করতে রাজি হয়নি। পরে নাটোর থানা পুলিশ একটি ইউডি মামলা রেকর্ড করে লাশ ময়নাতদন্ত শেষে মায়ের কাছে হস্তান্তর করে। বিকালে শহরের গাড়িখানা গোরস্থানে সুমাইয়াকে দাফন করা হয়। পরে নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তার সন্দেহ হলে তিনি নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে। এক পর্যায়ে সোমবার রাত ১টায় নিহত সুমাইয়ার মা নুজহাত সুলতানা বাদী হয়ে জামাই মোস্তাক ও ওই পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মোস্তাকের মা সৈয়দা মালেক ও বোন জাকিয়াকে গ্রেফতার করে। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।বহিষ্কার নেতারা হলেন উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান বাদশা, দিলপাশার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান ও অষ্টমনিষা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষরিত চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। | 6 |
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, শিক্ষা খাতে সরকার অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। স্কুল ও কলেজের নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। শিক্ষার মান উন্নয়নেও সরকার কাজ করছে। বছরের নতুন দিন সারা দেশের সব স্কুলে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিয়েছে সরকার।গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর খাদেমুল ইসলাম বালিকা স্কুল ও কলেজের পাঁচতলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।খায়রুজ্জামান লিটন আরও বলেন, রাজশাহী মহানগরীতেও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রশস্ত করা হচ্ছে, দৃষ্টিনন্দন সড়কবাতিতে আলোকায়ন করা হচ্ছে। শহরে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে।খাদেমুল ইসলাম বালিকা স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সাবেক মেয়র আব্দুল হাদী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর হাবিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন খাদেমুল ইসলাম বালিকা স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ রণজিৎ কুমার সাহা।এর আগে স্কুল প্রাঙ্গণে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন মেয়র লিটন। ফলক উন্মোচনের পর দোয়া করা হয়। | 6 |
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছেন আদালত। মঙ্গলবার সকালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। একইসঙ্গে বিচারক আগামী ১৭ জুলাই আসামি অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেছেন। এর আগে গত ৩ জুলাই ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ১০ পৃষ্ঠার চার্জশিটে একমাত্র আসামি মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই ফেনী পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ অধ্যক্ষকে আটক করে। পরে পুলিশ সদর দফতর থেকে মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। পিবিআই ৯৬ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তিনি আরো বলেন, যৌন হয়রানির মামলায় ২৭১ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার পর মোবাইল ফোনে ধারণকৃত অডিও-ভিডিও রেকর্ডের দুটি কপি। পরিদর্শক শাহ আলম জানান, নুসরাতকে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ সিরাজ। হত্যা মামলায় তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জবানবন্দিতে ২৭ মার্চ যৌন হয়রানির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। ফলে এ মামলায় নতুন করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। | 6 |
সারাবিশ্বে বর্তমানে ৪৬ কোটি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এর মধ্যে বাংলাদেশেই ৮৬ লাখেরও বেশি মানুষ এই রোগে ভুগছে। কেনো বিপুল সংখ্যক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এর অনেক কারণ আছে। তবে এবার নতুন একটি কারণ আবিষ্কার করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। বুধবার (২৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই দাবি করা হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মধু এস মালো ও জাতীয় অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খানের নেতৃত্বে এক দল গবেষক নতুন এই কারণ আবিস্কার করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে গবেষণাপত্র তুলে ধরেন অধ্যাপক মধু এস মালো। বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল ও সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গত ৫ বছর ধরে ৩০ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৫৭৪ জন সুস্থ লোকের ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করে গবেষক দল। গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল ও আমেরিকান ডায়াবেটিস সমিতির যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত জার্নাল 'দি বিএমজে ওপেন ডায়াবেটিস রিসার্চ এন্ড কেয়ার'-এ প্রকাশিত হয়েছে। নতুন এই কারণ সম্পর্কে ড. মধু এস মালো জানান, মানবদেহের অন্ত্রে থাকা মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষ-প্রাচীরের অংশ টক্সিন (এডোটক্সিন) হিসেবে কাজ করে। এই টক্সিন সাধারণত মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। তবে, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার, ফ্রুকটোজ বা এলকোহল টক্সিনতে রক্তে ঢুকতে সহায়তা করে। এর ফলে নিম্ন গ্রেডের সিসটেমিক প্রদাহের সৃষ্টি হয়। যার ফলে ডায়াবেটিস হতে পারে। তিনি জানান, মানবদেহের অন্ত্রে থাকা ইন্টেস্টিনাইল আলকালাইন ফসফাটেস (আইএপি) নামক এনজাইম এই টক্সিনকে ধ্বংস করে দেয়। এ এনজাইমের ঘাটতি হলে অন্ত্রে অতিরিক্ত টক্সিন জমা হয়। এই টক্সিন রক্তে ঢুকে সিসটেমিক প্রদাহ সৃষ্টি করে। এর ফলে একদিকে যেমন ডায়াবেটিস হতে পারে তেমনি ইশকেমিক হার্ট ডিজিজও হতে পারে (কেননা ইশকেমিক হার্ট ডিজিজেরও অন্যতম কারণ সিসটেমিক প্রদাহ)। প্রসঙ্গত; গত কয়েক দশক ধরে অন্যান্য গবেষকরা প্রতিষ্ঠা করেছেন যে, ডায়াবেটিসের প্রত্যক্ষ কারণ হলো টক্সিন-নিয়ন্ত্রিত নিম্ন গ্রেডের সিস্টেমিক প্রদাহ। যার ফলে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ইনসুলিনের উৎপাদন ও কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস হয়। এছাড়া মোটা হলেই ডায়বেটিস হয়-এমন ধারণা এতদিন থাকলেও নতুন এই গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। ড. মধু বলেন, বলা হয়ে থাকে মোটা হলেই ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। কিন্তু মূলত ডায়াবেটিসের সঙ্গে মোটা হবার কোনো সম্পর্ক নাই। যাদের আইএপি লেভেল বেশি, তাদের ঝুঁকি কম। আবার যাদের আইএপি কম, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি। দেহে আইএপি কম হলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। এছাড়া কোলেস্টেরলও বেড়ে যায়। অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেন, দেশে ১৫ শতাংশ ডায়াবেটিস হয়ে থাকে বংশগত কারণে। যেগুলো রোধে আমাদের কিছুই করার নেই। তবে, বাকি ৮৫ শতাংশই আইএপি সংক্রান্ত কারণে হয়ে থাকে। যাদের আইএপি কমে যায়, তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এটি একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। এই আবিষ্কার থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাও বড় কাজ করতে সক্ষম। | 4 |
ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ও তাঁর স্বামী ডিউক অব এডিনবরা প্রিন্স ফিলিপ করোনার টিকা নিয়েছেন। শনিবার তাঁদেরকে টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। বাকিংহাম প্যালেসের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ রাজপরিবারের সূত্রমতে বিবিসি জানায়, তাঁদের পারিবারিক ডাক্তারের মাধ্যমেই তাঁরা এই টিকা গ্রহণ করেছেন। গুজব ঠেকাতে এবার রানি নিজেই চেয়েছেন তাঁদের টিকা গ্রহণের বিষয়টি যেন বাইরে প্রচার পায়। ৯৪ বছর বয়সী রানি ও ৯৯ বছর বয়সী প্রিন্স ফিলিপসহ যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ মানুষকে কোভিড-১৯-এর টিকার অন্তত একটি ডোজ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যে ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের অগ্রাধিকারভিত্তিতে আগে টিকা দেওয়া হচ্ছে। | 3 |
পিরোজপুরে বিসিকের উদ্যোগে ২৩ নভেম্বর থেকে ৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়ে আজ শনিবার শেষ হচ্ছে। শহরের টাউন ক্লাব মিলনায়তনে এসএমই ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ৩০ জন নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেছেন।নিউ বিজনেস ক্রিয়েশন প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষক শারমিন আক্তার, জেলা বিসিক কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মিল্টন চন্দ্র বৈরাগী।তরুণ উদ্যোক্তাদের আগ্রহ তৈরি করতে নিউ বিজনেস ক্রিয়েশনের এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উদ্যোক্তাদের শিল্পনীতি এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বিসিক কর্তৃক প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা, বিসিকের উন্নয়ন প্রকল্প, শিল্পনীতির আওতায় সুযোগ-সুবিধা, বিসিকের দায়িত্ব, বিনিয়োগ প্রণোদনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ ছাড়া উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত গুণাবলি, লক্ষ্য নির্ধারণ, তথ্য অনুসন্ধান, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও পরিচালনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। | 6 |
সরকারবিরোধী আন্দোলন-বিক্ষোভে স্থবির হয়ে পড়েছে দ্বীপদেশ শ্রীলঙ্কা। বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আছে দেশটি। সার্বিক অব্যবস্থাপনার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার ধর্মঘটে নেমেছেন সরকারি-বেসরকারি খাতের কর্মীরা। ফলে দেশটির হাজার হাজার দোকানপাট, স্কুল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রীলঙ্কার প্রধান রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল থেকে প্রায় ৩ হাজার কারখানার শ্রমিক ধর্মঘটে যোগ দেন। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়নের নেতা রবি কুমুদেশ বলেছেন, 'আমরা প্রেসিডেন্টের নীতিগত ভুলগুলো চিহ্নিত করতে পেরেছি-যেগুলো আমাদের অর্থনীতিকে অত্যন্ত দুর্দশাপূর্ণ অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তাঁকে অবশ্যই যেতে হবে।'আমদানি করা খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের ঘাটতির কারণে এক মাসের বেশি সময় ধরে বিক্ষিপ্তভাবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ করছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। তবে শুক্রবারের ধর্মঘটে দেশের বড় বড় শহরে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, বেসরকারি বাস এবং ট্রেনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ধর্মঘটে যোগ দেওয়ায় কয়েক হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। ধর্মঘটের কারণে কলম্বোর প্রধান রেলস্টেশন বন্ধ ছিল। তবে সরকারি বাসসেবা চালু ছিল। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা ধর্মঘটে যোগ দিলেও হাসপাতালগুলোতে জরুরি পরিষেবাগুলো চলছে।কোভিড-১৯ মহামারি, ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশটির দুর্বল অর্থনীতিকে ভয়াবহভাবে আঘাত করেছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, ৫০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি বৈদেশিক ঋণে নিমজ্জিত থাকা দেশটির রিজার্ভে ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে মাত্র ৫০ মিলিয়ন ডলার।ভারত মহাসাগরের দ্বীপদেশটি বর্তমানে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। দেশটি এরই মধ্যে তার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা হারিয়ে এবং ঋণ পরিশোধ বন্ধও করে দিয়েছে। | 3 |
কেউ কিনছেন, কেউ দেখছেন। ফুটপাত থেকে সড়ক, দোকানের ভেতরে-বাইরে, পা ফেলার জায়গা নেই। তীব্র গরমে ঘেমে নেয়ে উঠলেও ভ্রুক্ষেপ নেই কারও। পছন্দের পোশাক কিনতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ক্রেতারা। এই চিত্র খুলনার মধ্যবিত্তের বাজার হিসেবে পরিচিত ডাকবাংলো নিক্সন মার্কেটে। কম দামে ভালো পোশাক কিনতে এই মার্কেটের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। তাই মধ্যবিত্তের মার্কেট বলা হলেও এখানে ভিড় করেন উচ্চ থেকে নিম্ন আয়ের সবাই।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নগরীর ডাকবাংলো মোড় এবং আশপাশের এলাকাজুড়ে প্রায় ১৭টি মার্কেট রয়েছে। দোকান রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার। এখানে তৈরি পোশাক, জুতা-স্যান্ডেল, শাড়ি থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। ব্র্যান্ডের পোশাক থেকে শুরু করে ফুটপাতের পণ্য- সবই আছে এসব মার্কেটে। দামও সাধ্যের মধ্যে। তাই সবারই পছন্দ এই এলাকা।
শুক্র ও শনিবার ডাকবাংলো এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মানুষের প্রচ ভিড়। হেঁটে মার্কেটে প্রবেশ করতেই বেগ পেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে নতুন দোকান বসানো হয়েছে, এতে হাঁটার পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। বাজারের প্রতিটি দোকানই ক্রেতায় ঠাসা। ক্রেতা সামলাতে ব্যস্ত দোকানিরা কথা বলার ফুরসত পাচ্ছেন না।
কে আই গার্মেন্টের শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই বছর পর আল্লাহ মুখ তুলে তাকিয়েছেন। করোনার কারণে দুই বছরে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। এ বছর বেচাকেনা মোটামুটি ভালো হচ্ছে। ঈদের আগে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আশা রাখি।
বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা ইব্রাহিম হোসেন বলেন, ভাগ্নে-ভাতিজার জন্য কিনতে এসেছি। প্রচ ভিড় ও গরমে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কেনাকাটা তো করতেই হবে। এ বছর পোশাকের দাম বাড়তি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হেরাজ মার্কেটের বিপরীতে খুলনা বিপণি কেন্দ্র। এর প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকেই ওড়নার মার্কেট। এখানে পা ফেলার জায়গা নেই। প্রতিটি দোকানের সামনে নারী ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন।
খুলনা বিপণি কেন্দ্র দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মাসুম বলেন, ঈদে অনেকদিন ছুটি পাওয়ায় মানুষ আগেভাগে কিনে বাড়ি চলে যাচ্ছে। আর পরপর দুই দিন ছুটি হওয়ায় ক্রেতার চাপ বেড়েছে। তিনি বলেন, যে সংখ্যক মানুষ সেই সংখ্যক বিক্রি হচ্ছে না। কম দামের পণ্য বেশি বিক্রি হচ্ছে।
বড় বাজারের ভেতরে পাইকারি শাড়ি ও লুঙ্গির দোকান। কম দামের কাপড় বিক্রি হওয়ায় এসব দোকানেও ক্রেতার ভিড় দেখা গেছে।
কয়েকটি দোকানে দেখা গেছে, জাকাতের জন্য বস্তা ধরে কাপড় কিনছেন অনেকে।
ডাকবাংলো মোড়ের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উচ্চবিত্তের নিউমার্কেটে। সেখানে অধিকাংশ দোকান দেখা যায় ক্রেতাশূন্য।
ছোট দুই মেয়ে ওহী ও সহীকে নিয়ে নিউমার্কেটে পোশাক কিনতে এসেছেন নগরীর জিন্নাহপাড়া এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া তুষার। তিনি বলেন, লোকজন কম থাকায় নিউমার্কেটে ঘুরে স্বস্তি আছে। তবে অতিরিক্ত দামের কারণে পণ্য কেনা যায় না। তাই বাইরের শোরুম দেখে পোশাক কিনতে হবে। সেদিকে যাচ্ছি।
নিউমার্কেটের খুলনা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সেলিম তারিক বলেন, যে রকম আশা করেছিলাম, সেই তুলনায় ক্রেতা নেই। | 6 |
'আমি জনগণের সাথে যোগাযোগ রাখতে এবং নির্বাচনে জয়লাভ করার জন্য তাদের সংগঠিত করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণ আমাদের সাথে আছে, তাই এবার আমাদের হারার কোনো সুযোগ নেই।' শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে আদর্শ নাগরিক আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত এক সেমিনারে মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশের ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দিতে হবে। মওদুদ আহমদ বলেন, 'আমি ভোটারদের বলতে চাই, এখন আপনাদের সময়। আপনারা শপথ নেন যে, আপনারা আপনাদের ভোট দেবেন। এটি শুধু বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের লড়াই নয়, এটি দেশের ১০ কোটি ভোটারের লড়াই।' মওদুদ আহমদ বলেন, 'আমি সব ভোটারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার এবং বর্তমান সরকারের নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাওয়ার এটি শেষ সুযোগ।' বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, দেশজুড়ে 'ধানের শীষের' সমর্থনে ব্যাপক গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ তাদের ভোট দিতে পারলে ক্ষমতাসীন দল এটি মোকাবিলা করতে পারবে না। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মওদুদ বলেন, 'আমাদের ভোটারদের বোঝানো উচিত যে, তারা যেন সব বাধা-বিপত্তি ও হুমকি উপেক্ষা করে অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে যায়। যদি সরকার কোনো বাধা সৃষ্টি করে, তবে আমাদের অবশ্যই শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।' সে জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের হতাশ না হয়ে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান মওদুদ।তিনিবলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের 'অপকর্মের' উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। | 9 |
কেক কাটা নয় বরং আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও সামাজিক কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৫তম জন্মদিন উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করছে। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা বায়তুল আমান মসজিদ ও তাহফিজুল কুরআন মাদরাসায় মিলাদ মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-প্রশিক্ষণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিএনপি নেতা মামুন বিন আব্দুল মান্নান, মহিলা দলের শামীমা রহিম, এ্যামট্যাবের বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. খালেকুজ্জামান দীপু, ডা. ফখরুজ্জামান, জেডআরএফের আনারুল ইসলাম, সোহেল মাহমুদ, ড্যাবের ডা. গালিব হাসান, রোকনুজ্জামান রুবেল, ডা. মীর মো. হাসান, ডা. মোহাইমেনুল ইসলাম বিপ্লব, ডা. নাভিদ মোস্তাক, ডা. রফিকুল ইসলাম, ডা. লিঙ্কন, ডা. মনি, ডা. নয়ন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করেছে জেডআরএফ। গুলশানে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসন কারাবন্দি বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। জেডআরএফের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, বিএনপির সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ, ড্যাবের নেতা ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, ডা. শামীম, ডা. আকাশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান, কৃষিবিদ আনোয়ারুন্নবী মজুমদার বাবলাসহ জেডআরএফের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই তারেক রহমানকে জন্মদিন উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং তার সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 6 |
বাবরি মসজিদ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে দেশটির সরকার। এদিকে, রায়ের আগে দেশবাসীর কাছে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার এই মামলার রায় ঘোষণা করবে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ। তার আগে শুক্রবার রাতে একাধিক টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী। হিন্দিতে লেখা ওই টুইটগুলোর একটিতে তিনি লিখেছেন, 'আগামীকাল (শনিবার) অযোধ্যা মামলার রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। গত কয়েক মাস ধরে এই মামলার লাগাতার শুনানি চলছিল। গোটা দেশের নজর ছিল এই মামলার ওপর। সমাজের সবে স্তরের মানুষের কাছে আহ্বান, শান্তির পরিবেশ বজায় রাখুন। আরকেটি টুইটে মোদি বলেন, অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যা রায় দেবে, তাতে কারো জয় বা পরাজয় হবে না। দেশবাসীর কাছে আবেদন, এই মামলায় যে রায়ই আসুক, দেশের ঐতিহ্য অনুযায়ী শান্তি বজায় রাখাটাই আমাদের মূল কর্তব্য হবে।' তার মতে, দীর্ঘ দিন ধরে এই মামলার শুনানি চলাকালীন দেশের সর্ব স্তরের মানুষজন যেভাবে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 3 |
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা নিয়ে সুনামগঞ্জের ছাতকে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তাদের ছোড়া ইটপাটকেলে দোকানের জানালা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার ক্ষতি হলে ক্ষুব্ধ লোকজন ছাত্রলীগের দুই পক্ষকে ধাওয়া দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছাতক উপজেলার সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে আজ বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপকালে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ আবদুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজে ছাত্রলীগের শিমুল আহমদসহ ২০-৩০ জন কর্মী বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগের রেজাউল আলম ৩০-৪০ জন কর্মী নিয়ে সেখানে যান এবং শিমুলদের কেক কাটতে বাধা দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে কলেজের শিক্ষকেরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করতে শিমুলকে কলেজ মিলনায়তনে নিয়ে বসিয়ে রাখেন। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর শিমুল কলেজ মিলনায়তন থেকে বের হলে ক্যাম্পাসের ভেতরেই রেজাউল ও অন্যরা তাঁকে ধাওয়া দেন। শিমুল তখন দৌড়ে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যান। পরে রেজাউল পক্ষের নেতা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক মানবসম্পদবিষয়ক সম্পাদক আবদুল গফ্ফার ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের নিয়ে কলেজ থেকে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে যাওয়ার পর অপর পক্ষের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। তখন ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকটি দোকানের জানালা ও সড়কের পাশে রাখা কয়েকটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার কাচ ভেঙে যায়। একপর্যায়ে ব্যবসায়ী, অটোরিকশার চালক ও মালিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের উভয় পক্ষকে ধাওয়া দেন। ঘটনার সময় সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ছাতক উপজেলা ও আবদুল হক স্মৃতি ডিগ্রি কলেজে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই।এ ব্যাপারে আবদুল গফ্ফার বলেন, শিমুল আহমদের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথের দিঘলী গ্রামে। বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজের অনুষ্ঠানে বহিরাগত শিমুল গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রতিবাদ করেন। পরে মিছিল বের করলে শিমুল তাঁর গ্রামের লোকজন নিয়ে মিছিলে হামলা চালান। এ ব্যাপারে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে শিমুল আহমদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীর কেক কাটা নিয়েই ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে। থানায় এ নিয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। | 6 |
নিজের গরু বিক্রির চর চুরির অভিযোগে জেলে গেলেন মালিক নিজেই। ঘটনাটি ঘটৈছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুকানপুকুরী ইউনিয়নে। জানা গেছে, সেখানকার তেওয়ারীগাঁও গ্রামের বাসিন্দা গোলাম হোসেন (৫৫) বড় ছেলের বিয়ে উপলক্ষে বাড়িতে পালন করা দুটি গরু বিক্রি করেন স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী হাসেম আলীর (৪৫) কাছে। প্রতিবেশীরা জানান, গোলাম হোসেন ৪/৫ মাস আগে গড়েয়া হাট থেকে গরু দুটি কিনেন। অনেক কষ্ট করে তিনি সেগুলো পালন করেন। ছেলের বিয়ে উপলক্ষে নতুন ঘর দেওয়ার জন্য গরুগুলো বিক্রি করেছেন। কিন্তু আজকে তিনি নিজের গরু বিক্রি করতে গিয়ে চোর হয়ে গেলেন। এটা কেমন বিচার? রফিকুল নামে এক প্রতিবেশী বলেন, "উনারা আর আমরা একসাথে গরু কিনছি গড়েয়া বাজার থেকে। আমরা গরীব লোক বলে কোনও বিচার নাই? গরু পালতে গিয়ে কি আমরা চোর হয়ে গেলাম?"
গোলাম হোসেনের স্ত্রী হালিমা খাতুন বলেন, "খেয়ে না খেয়ে ঋণ করে পাঁচ মাস আগে গড়েয়া বাজার থেকে দুটি গরু কিনেছিলাম। এখনও সেই ঋণ শোধ হয়নি। প্রতি সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয়। ছেলের বিয়ে দিব বলে নতুন ঘর তৈরির জন্য আমরা গরু দুটি বিক্রি করি। বিক্রি করতে গিয়ে আজকে আমার বৃদ্ধ স্বামী চোর হয়ে জেলখানায়।"
এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, "আমি নির্বাচন চলাকালীন গোলাম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখি তিনি গরুগুলো পালন করছিলেন। আমি এর আগেও পাঁচ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ পাইনি। তিনি অত্যন্ত সৎ, সরল মানুষ। তিনি কোনও ধরনের খারাপ কাজের সাথে লিপ্ত না। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।" ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি তানভীরুল ইসলাম বলেন, "গত ২ জানুয়ারি আতাবুর রহমান নামে একজনের বাসা হতে পাঁচটি গরু চুরি হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খবর পায় বাদি গোলাপগঞ্জ বাজারে একটি গরু শনাক্ত করেছেন। পরে পুলিশ গিয়ে গরুসহ ৫ জনকে ধরে নিয়ে এসে আদালতে সোপর্দ করে। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 6 |
পঞ্চগড়ে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য নিতে হুড়োহুড়ি করছেন উপকারভোগীরা। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা হলেও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে পণ্য বিতরণে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে।গতকাল বুধবার সকাল থেকে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেডিয়ামে টিসিবির পণ্য সরবরাহ শুরু হয়। এ সময় কায়েতপাড়া গ্রামের দেবারু মোহাম্মদ, হালিমা বেগম ও সাহেরা বেওয়া জানান, সকাল ৯টা থেকে তাঁরা তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর মালামাল কিনতে পেরেছেন। কেউ কারও কথা শোনে না, জোর করে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে মালামাল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাপশী হাসকিং মিলের ডিলার কমলেশ চন্দ্র বলেন, 'প্রশাসনের সার্বিক সহায়তায় আমরা সঠিকভাবেই মালামাল সরবরাহ করার চেষ্টা করছি, কিন্তু সুবিধাভোগীদের হুড়োহুড়ির কারণে নানান সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, এতে সরবরাহকাজের ব্যাঘাত ঘটছে।'পঞ্চগড় সদর থানার সেকেন্ড অফিসার কাইয়ুম আলী বলেন, 'ডিলারদের সরবরাহ কাজে সহায়তা করার জন্যে পুলিশ কাজ করছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে চায় না। এ নিয়ে ছোটখাটো সমস্যা আমাদের সামলাতে হচ্ছে।'আসন্ন পবিত্র রমজান উপলক্ষে জেলায় ৬৯ হাজার ৭৫ পরিবার পাবে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যপণ্য। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে চার ধরনের খাদ্যপণ্য সরবরাহ করছে কার্ডধারী পরিবারের মধ্যে।২০ মার্চ থেকে টিসিবির খাদ্যপণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে দুই লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি মসুর ডাল, দুই কেজি চিনি এবং দ্বিতীয় দফায় এর সঙ্গে যুক্ত হবে দুই কেজি ছোলা। টিসিবি প্রতি লিটার তেল ১১০ টাকা, ডাল ৬৫ টাকা ও চিনি ৫৫ টাকা কেজি দরে সরবরাহ করবে। রমজান মাসে নিম্নবিত্ত মানুষের অর্থনৈতিক সাশ্রয় দিতে সরকার টিসিবির মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে সারা দেশের মতো জেলায় খাদ্যপণ্য বিক্রি শুরু করছে।টিসিবির ১৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ৫ উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। যাতে কোনো অসুবিধা ছাড়াই সুবিধাভোগীদের কাছে ভর্তুকির এসব পণ্য পৌঁছায়। কবে কোথায় টিসিবির পণ্য সরবরাহ করা হবে, তা নিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন প্রচার চালাচ্ছে।জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, তালিকাভুক্ত কার্ডধারীরা সঠিক মাপে এসব পণ্য পাবেন। ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রথম দফা পণ্য সরবরাহ করা হবে। | 6 |
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি-র পক্ষ থেকে সংসদ মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মাঝে করোনা মোকাবেলায় সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। চীফ হুইপের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এ সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসময় ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ৫০টি পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই), মাস্ক, হ্যান্ড-গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদি সুরক্ষা সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে চীফ হুইপের পক্ষ হতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মেডিকেল সেন্টারে ডাক্তারদের হাতে এই সুরক্ষা সামগ্রী তুলে দেন চীফ হুইপের একান্ত সচিব আব্দুল কাদের জিলানী। এক বার্তায় চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি বলেন, করোনা প্রতিরোধে ডাক্তার এবং নার্সরা যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পিপিইসহ অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি চীফ হুইপ অনুরোধ জনিয়ে বলেন, কোন রোগী যেন চিকিৎসা অবহেলায় মারা না যায়। আপনারা ভয় পাবেন না। প্রতিটি রোগীকে নিজের পরিবারের সদস্য মনে করে সেবা দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি। নূর-ই-আলম চৌধুরী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, করোনা প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ৩১দফা নির্দেশনা মেনে চলুন এবং ঘরে অবস্থান করুন। নিজে বাঁচুন, অপরকে বাঁচান। এসময় সংসদ মেডিকেলে সেন্টারের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীগণ চীফ হুইপের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণকালে সংসদ মেডিকেল সেন্টারের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীগণ এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
নাটোরের গুরুদাসপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছেন গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের জুমাইনগর এলাকায় ওই বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।ইউএনও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি হালশা উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ দেওয়া হচ্ছে। এরপর ঘটনাস্থলে মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিনকে পাঠিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে মেয়ের পরিবারের কাছে ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দিতে পারবে না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। বাল্যবিবাহ বন্ধে উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। | 6 |
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত পাঁচ জনের প্রত্যেকের পরিবারকে আপাতত পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ মে) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। পাশাপাশি ওই ঘটনায় পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের তদন্ত প্রতিবেদন, আহতদের চিকিৎসার সর্বশেষ তথ্য দেয়াসহ শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধানের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত ছয় সংগঠনের পৃথক দুই রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পুলিশের গুলিতে পাঁচ শ্রমিক নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে পাঁচ সংগঠন। রিটকারী সংগঠন গুলো হলো, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা), বাংলাদশে লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নিজেরা করি, সেফটি অ্যান্ড রাইটস ও অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)। আদালতে আজ পাঁচ সংগঠনের করা রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট রিজওয়ানা হাসান। আরেকটি রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বাঁশখালিতে পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে আপাতত পাঁচ লাখ টাকা করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের আবেদনে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা এবং শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে নিরাপত্তা দিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বে-আইনি হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। এছাড়া নিহতদের পরিবারকে তিন কোটি টাকা করে এবং আহতদের দুই কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা কেন দেয়া হবে না সে বিষয়েও রুল জারির আবেদন করা হয়।
| 6 |
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তাঁদের মৃত্যু হয়। হাসপাতালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী ও পাবনার দুজন করে রোগী মারা গেছেন। এর মধ্যে পাবনার একজন করোনা পজিটিভ ছিলেন। অন্য তিনজন মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে।মৃত চারজনের মধ্যে দুজন করে নারী ও পুরুষ। রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চলতি মাসে এ নিয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হলো। ২৪ ঘণ্টায় করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ১৬ জন। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ জন। মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে মোট রোগী ছিলেন ৮৫ জন।এর মধ্যে রাজশাহীর ৪০ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১৫ জন, নাটোরের ৫ জন, নওগাঁর ১৪ জন, পাবনার ৭ জন এবং সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও দিনাজপুরের ১ জন করে রোগী ভর্তি ছিলেন।জেলার সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার জেলার ৩২১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ১৩ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। সংক্রমণের হার ৪ দশমিক ০৪ শতাংশ। | 6 |
আওয়ামী যুবলীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতির দেওয়ার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তিনি বলেন, আমার রক্তে-মাংসে জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু মিশে আছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি জয় বাংলার লোক, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লোক। তিনি বলেন, যারা আমাকে অনেক আশা করে পদ দিয়েছিলেন তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় আমি কষ্ট পেয়েছি। আপনারা জেনেছেন গতকাল (৭ আগস্ট) আমাকে আওয়ামী যুবলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অনেকেই আমার কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছেন। আমি আপনাদের বলতে চাই, এখানে প্রতিক্রিয়াটা খুবই পজিটিভ। আমি বিশ্বাস করি দল যখন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, দলের ভালো হবে এ চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তে আমার কোনো দ্বিমত নেই। আমি বিশ্বাস করি দল তার ভালোর জন্যই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 'আমি আরেকটি কথা বলতে চাই। বাংলাদেশ, জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু- এটি (একে অপরের সঙ্গে) ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। যারা জয় বাংলা এবং বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বাস করে না তাদের নৈতিকভাবে কোন অধিকারই থাকে না বাংলাদেশে থাকার। কারণ, আমাদের বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। জাতির জনক। আমি শুধু এই কথাটুকু বলার চেষ্টা করেছি, এটা বুকে ধারণ করতে হয় এবং জয় বাংলা এবং বঙ্গবন্ধু এই স্লোগান সব সময়ই হবে বাংলাদেশের স্বার্থে, আওয়ামী লীগের স্বার্থে, আপামর মানুষের স্বার্থে।' সুমন বলনে, 'আরেকটি কথা বলতে চাই, আজ আমার মা আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন যুবলীগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কারণে আমার মন খারাপ হয়েছে কি না? আমি আমার মাকে উত্তর দিয়েছি এই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আমার মন খারাপ হয়নি। আমার মন খারাপ হয়েছে যারা আমাকে খুব আশা করে এই পদে নিয়ে এসেছিলেন- আপনারা জানেন, এইবারের যুবলীগের মধ্যে কোনো ধরনের লুটপাট করে বা লেনদেন করে কেউ নেতা হননি। সবাই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং যোগ্যতার কারণে নেতা হয়েছে। আমি মাকে বলেছি, তারা আশা করে আমাকে নিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে শেখ ফজলে শামস পরশ ভাই, সাধারণ সম্পাদক নিখিল ভাই এবং যার কথা না বললেই নয় অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথি আপা (শেখ ফজলে শামস পরশের স্ত্রী)। যিনি উচ্ছ্বসিতভাবে আমার প্রশংসা করেন। আমি তাদের ঋণ কখনও শোধ করতে পারব না। আমি বিশেষ করে ক্ষমাপ্রার্থী যারা আমাদের দল করেন বা একই আদর্শের সৈনিক তারা যদি কোনো কারণে কষ্ট পেয়ে থাকেন। তবে একটা বলতে চাই, আজকে আমাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। হয়তো এক-দুই বছর পরে এমনিতে এই কমিটি থাকবে না। কিন্তু আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জয় বাংলার লোক, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লোক। 'কেউ যদি বাংলাদেশের মানুষের জন্য কাজ করেন তাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লোকই বলা হবে। বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন বাংলাদেশর মানুষের জন্য। তাই আমি বলি, পদে না থাকলেও আমার রক্তে-মাংসে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধুর মশাল জ্বালিয়ে রাখব। আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাই। আমার ব্যক্তিগত কর্ম দ্বারা যেন সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের কোনো লোককে খারাপ মনে না করে। মানুষের মনে যদি আমার কাজকর্ম দ্বারা সম্মান বাড়াতে পারি, আমার বিশ্বাস আওয়ামী লীগের সুনাম হবে।' বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায়রহিমা বেগম (৩২) নামে এক নারী ৩ নবজাতকের জন্ম দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাথরঘাটায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ৩ ছেলে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তাদের নাম রাখা হয়েছে রহমত উল্লাহ, বরকত উল্লাহ ও নেয়ামত উল্লাহ। রহিমা বেগম পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মো. মিরাজ হোসেনের স্ত্রী। মিরাজ জেলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এদিকে, একই সঙ্গে ৩ ছেলে সন্তান জন্ম গ্রহণের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ৩ সন্তানের ছবি দিয়ে স্বজনরা দোয়া চেয়েছেন। শাপলা ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক মো. মিলন বলেন, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে রহিমা বেগমকে তার স্বজনরা ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। ডা. বশির আহমেদ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করান। ভূমিষ্ঠ হওয়া থেকে তিন শিশুকে অক্সিজেনে রাখা হয়েছে। চিকিৎসক বশির আহমেদ বলেন, গর্ভের বয়স সাড়ে সাত মাস। এ কারণে বাচ্চাদের মা আশঙ্কামুক্ত হলেও বাচ্চা তিনজন ঝুঁকিতে রয়েছে। নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দাম্পত্যে জোড়া লাগিয়েছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ জয়িতাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এর আয়োজন করে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের সংবিধানে নারীদের সম অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিত নারীদের পুনর্বাসন করার জন্য নারী পুনর্বাসন বোর্ড গঠন করেছিলেন। নির্যাতিত নারীদের চিকিৎসার জন্য ভারত, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে চিকিৎসক এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।' প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, 'নির্যাতিত নারীদের বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা সামাজিক-পারিবারিকভাবে পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা করেছিলেন। তাঁরা নির্যাতিত নারীদের বিয়ের ব্যবস্থা করেছেন। যেসব নারীর বিয়ে ভেঙে যেত, তাদের দাম্পত্য জীবনের জোড়া লাগিয়েছিলেন। যেমন জোড়া লাগিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার দাম্পত্যের। যার ফলে খালেদা জিয়া পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।' 'তোমরাই বাংলাদেশের বাতিঘর' প্রতিপাদ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তৃণমূলের নারীদের সম্মাননা জানাতে আজ সকাল ১০টায় সিলেট কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান সভাপতিত্ব করেন। এতে বক্তব্য দেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীমা আক্তার খানম ও সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী রওশন আক্তার এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পারভীন আকতার। অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগীয় পর্যায়ে ৫ জন এবং জেলা পর্যায়ের ১৫ জন জয়িতাকে সম্মাননা জানানো হয়। | 9 |
যুক্তরাষ্ট্রেরনিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে রাস্তা থেকে মুন্না খান ওরফে বরকত (২২) নামের এক বাংলাদেশি তরুণের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে টহল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বরকত তার বাইকযোগে ফুড ডেলিভারির সময় একটি বেপোরোয় গাড়ির চাপায় নিহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে। তার লাশ উদ্ধার করে ম্যানহাটানের বেলভিউ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। নিজের ও দেশে থাকা মা-বাবা-ভাই-বোনের সুন্দর ভবিষ্যতের প্রত্যাশায় করোনা মহামারিকালেও রেস্টুরেন্টের ফুড ডেলিভারির কাজ করছিলেন বরকত। গত ৪-৫ বছরে একইভাবে নোয়াখালীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিউইয়র্কে আসা অন্তত ৬ বাংলাদেশি যুবকের প্রাণ ঝরেছে ইলেকট্রিক বাইকে ফুড ডেলিভারির সময় দ্রুতগামী গাড়ির চাপায় অথবা নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজের সময় দেয়াল চাপায়। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 4 |
ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬ বলে ৬ ছক্কা হাঁকালেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার জাসকরণ মালহোত্রা। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েন। যা সোনালী অক্ষরে লেখা থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায়। বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৬ বলে ছয় ছক্কার রেকর্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরি হাঁকান মালহোত্রা। তার আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারন জোনস আরব আমিরাতের বিপক্ষে ৯৫ রান করেছিলেন; কিন্তু অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারেননি। ৩১ বছর বয়সী মালহোত্রার জন্ম ভারতের চণ্ডিগড়ে। জাতীয় দলে খেলার আশায় পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 12 |
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আর্থিক সহায়তা করতে চায় বিশ্বব্যাংক। মঙ্গলবার সচিবালয়ে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টভিগ শ্যাফেন ও জাতিসংঘ মহাসচিবের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষ দূত জিন টোডের এর সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। কাদের বলেন, বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তায় যৌথভাবে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ। আগামী তিন বছরের মধ্যে এখানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে চায় তারা। সড়কে যে বিশৃঙ্খলা আছে, যানজটসহ বিভিন্ন নাজুক অবস্থার দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে তারা কাজ করবে। কাদের উল্লেখ করেন, 'এ কাজের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের আবার সুসম্পর্ক হবে। তাদের সঙ্গে আমরা বৈরি সম্পর্ক রাখতে চাই না। পদ্মা সেতুর কাজ থেকে তারা সরে এসে ভুল করেছে বলে আগেই স্বীকার করেছে।' সেতুমন্ত্রী জানান, সড়ক নিরাপত্তার জন্য বিশ্বব্যাংক আগে পূর্ণাঙ্গ নকশা করবে। তারপর তারা কাজ শুরু করবে। তারা ইতিমধ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে গঠিত কমিটির সুপারিশও নিয়েছে। তিনি জানান, ঝিনাইদহ থেকে হাটিকামরুল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার চার লেন সড়ক করবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) এবং ঝিনাইদহ থেকে ভোমড়া পর্যন্ত ১৬০ কি. মি. চার লেন সড়ক করবে বিশ্বব্যাংক। সূত্র : ইউএনবি | 0 |
বাংলাদেশেই যথেষ্ট পরিমাণে চাদর-বালিশ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। সচিবালয়ে রোববার দুপুরে সড়কে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিছানার চাদর ও বালিশের কভারের মান যাচাই করতে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) জার্মানি সফর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমাদের দেশে যথেষ্ট পরিমাণে চাদর-বালিশ সবই হচ্ছে। আমরা বিদেশেও রপ্তানি করছি।' সম্প্রতি একটি আদেশ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, ডাবল খাটের এক লাখ বিছানার চাদর ও বালিশের কভারের মান যাচাই করতে পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ সরকারের তিনজন কর্মকর্তা ৯ দিনের সফরে জার্মানি যাচ্ছেন। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. কামরুজ্জামান এক খুদে বার্তায় জানান, বিছানার চাদর ও বালিশের কভারের মান যাচাই নয়, বরং এসব জিনিসে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাইয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের জার্মানিতে যাওয়ার কথা ছিল। সরকারি আদেশে অনিচ্ছাকৃত ভুল থেকে এ বিভ্রান্তির উৎপত্তি। | 6 |
ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) লাইফ সাপোর্টেই রয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানিয়েছেন, বিরোধীদলীয় নেতা এরশাদের জীবন-শঙ্কা এখনও কাটেনি। তাকে প্রচুর রক্ত দিতে হচ্ছে। এরশাদের রোগমুক্তি কামনা করে শুক্রবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয় পার্টি। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডায় সাবেক এই রাষ্ট্রপতির জন্য প্রার্থনা করা হয়। এরশাদ দীর্ঘদিন রক্তের রোগ মাইলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোমে ভুগছেন। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম। তার অস্থিমজ্জা পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন উৎপাদন করতে পারছে না। বার্ধক্যজনিত কারণে সমস্যা আরও বেড়েছে। আস্তে আস্তে তার শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকার্যকর হয়ে পড়ছে। শুক্রবার এরশাদের জন্য বি-পজিটিভ রক্ত চায় জাপা। দলের নেতাকর্মীরা রক্ত দিতে সিএমএইচে ভিড় করেন। সন্ধ্যায় জাপার বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পর্যাপ্ত রক্ত পাওয়া গেছে। আপাতত আর প্রয়োজন নেই। এদিন জুমার পর বায়তুল মোকাররমে এরশাদের জন্য দোয়ার পর তার ভাই জিএম কাদের বলেন, এরশাদের অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে বলা যাবে না। কারণ, তাকে এখনও কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। তার ফুসফুস ও কিডনিও কৃত্রিমভাবে চলছে।হজিএম কাদের জানান, লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থাতেই ভোরে এরশাদের কিডনির ডায়ালাইসিস শুরু হয়। এদিন তাকে আট ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে। গত ১০ দিনে ২৮ ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে এরশাদকে। জিএম কাদের জানান, তারা এরশাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিঙ্গাপুরের জেনারেল হসপিটালের চিকিৎসকরা রাজি হননি। তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়ার চেষ্টা বিপজ্জনক হতে পারে। জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলাসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা এরশাদের জন্য দোয়ায় অংশ নেন। ৯০ বছর বয়সী সাবেক সামরিক শাসক এরশাদ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। গত ২২ জুন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিএমএইচে নেওয়া হয়। এরশাদ প্রায় বছরখানেক ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে তিন দফায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেন। নির্বাচনের পর শপথ নিতে তিনি হুইলচেয়ারে সংসদে যান। | 6 |
সম্প্রতি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে প্রস্তাব উঠেছে যে, বাংলাদেশ মাদরাসা বোর্ড কর্তৃক অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি সমমান দাখিল পরীক্ষার বাংলা, ইংরেজি ও গণিত খাতা ভিন্ন ধারার শিক্ষকদের দ্বারা মূল্যায়ন করতে হবে। যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অপ্রয়োজনীয় একটি প্রস্তাব। কেননা বাংলাদেশের মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে এবং জেনারেল সাবজেক্টের জন্য যেসব টিচার নিয়োগ পান তারা সবাই কোনো না কোনো স্কুল-কলেজ থেকে পাস করা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাবলিক ভার্সিটি থেকে গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট করা হয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নিতান্তই অবান্তর। সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে যে প্রস্তাবটি তোলা হয়েছে তা নিঃসন্দেহে অপ্রয়োজনীয় একটি প্রস্তাব। যদি মাদ্রাসার আধুনিক শিক্ষার বিষয়ে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়, তাহলে মাদ্রাসা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে আরও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতো। কিন্তু তা না করে শুধুমাত্র খাতা মূল্যায়নের দিকে জোর প্রচেষ্টা চালালে তা কল্যাণের পরিবর্তে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করতে পারে। একই প্রক্রিয়ায় একই কোয়ালিটির শিক্ষক'রা স্কুল ও মাদ্রাসায় নিয়োগ পাওয়ার পরও খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আলাদা প্রস্তাব রাখা অযৌক্তিক। বর্তমানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা দেশের সব ক্ষেত্রে সফলতার সাক্ষর রেখে যাচ্ছেন। এমনও দেখা গেছে যে, একটি মাদ্রাসা থেকে ঢাবি তে যত শিক্ষার্থী চান্স পাচ্ছে একটি কলেজ থেকেও তা পাচ্ছে না । এ ছাড়া বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও তাদের পদচারণা অব্যক্ত করার মতো। এটা দেশের জন্য গৌরবময় একটি ব্যাপার। সারা দেশে মাত্র ৩টি মাদ্রাসা পূর্ণ সরকারি সুবিধা পেয়ে থাকে, অথচ সরকারি স্কুল-কলেজের সংখ্যা (প্রাথমিক বাদে) ৫৬৯ টি। এমপিওভুক্ত অনেক মাদ্রাসা রয়েছে যেখানে এক শ্রেণির একাধিক শাখা থাকার পরেও পর্যাপ্ত পরিমাণে শিক্ষক নেই। ফলে প্রতিষ্ঠানের নিজ খরচে বাড়তি শিক্ষক রাখতে হচ্ছে। এত শিক্ষক সংকট, ভবন সংকট, সরকারি সুযোগ-সুবিধার সংকট থাকার পরেও দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি জেনারেল সেকশনে তাদের এমন অভাবনীয় সাফল্যের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা উচিত এবং তাদের মানোন্নয়নে কল্যাণজনক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আবু মো. ফজলে রোহান শিক্ষার্থী, দারুন্নাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা, নবগ্রাম, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা। | 8 |
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরের ঘটনা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার পর আবার আলোচনা উঠে এসেছেন সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। পটুয়াখালী-২ আসনের এই সাংসদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী আদালতে নালিশি মামলা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সহসভাপতি খান আলতাফ হোসেন ভুলু বলেছেন, 'তিনি (আ স ম ফিরোজ) যে অন্যায় করছেন, তার বিচার হওয়া উচিত।'উপজেলার বাউফল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. জাহিদুল হক (৪৬) বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আজ রোববার মামলাটি গ্রহণের বিষয়ে আদালতের আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।মামলার আরজিতে বলা হয়, ৯ ডিসেম্বর দুপুর পৌনে ১২টায় বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় অফিসে বসে আ স ম ফিরোজ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, 'জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান খুন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর ছবিতে জুতা-ঝাঁটা লাগিয়ে আনন্দমিছিল করেছি। তাতেই কিছু হয়নি, আর বাউফল আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা যারা আমার বিরোধিতা করে, তাদের ডজনখানেককে খুন করিলেও আমার কোনো ক্ষতি হবে না।'ওই দিন বাদী সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি ১৯৭৫ সালের সেই ঘটনা-সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন। এরপর ১২ ডিসেম্বর বাউফল থানায় মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আদালতে আরজি দেন।তাঁর ওই মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আ স ম ফিরোজ বলেছিলেন, 'আমি ৪০ বছর ধরে সংসদ সদস্য। নেত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে জানেন। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিব না।'জানতে চাইলে মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী খান আলতাফ হোসেন ভুলু আজকের কাগজকে বলেন, 'এগুলো নিয়ে ১৯৭৫-এর পর থেকেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তুলে ধরেছি। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারের হত্যার প্রতিবাদে আমার নেতৃত্বে মিছিল বের হয়। আসম ফিরোজ লোকজন ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই মিছিলে হামলা করে। বরিশাল আওয়ামী লীগ অফিস এবং বঙ্গবন্ধুর ছবি যে যে দোকানে ও অফিসে ছিল তারা নামিয়ে ভাঙচুর করে। বিএম কলেজের ছবি ভাঙচুর করে। আসম ফিরোজ নিজেই করছে। আর এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতারাও জানে।'এদিকে আ স ম ফিরোজের দেওয়া বক্তব্যের কোনো অডিও কিংবা ভিডিও রেকর্ড আছে কিনা জানতে চাইলে মামলার বাদী জাহিদুল হক বলেন, 'আমি মামলায় যে অভিযোগ তুলেছি, তা সত্য সাক্ষীরা যথা সময় আদালতে গিয়ে সাক্ষী দেবেন। এক ও দুই নম্বর সাক্ষী' ৭৫-এর ঘটনার বাস্তব সাক্ষী।' তিনি আরও বলেন, 'আমি মামলা করার পরে ওই দিন রাতে আমার বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে আ স ম ফিরোজের বাহিনী এবং আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে আ স ম ফিরোজ। আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক আমি আ স ম ফিরোজের বিচার চাই।'আ স ম ফিরোজ বাউফল পটুয়াখালী-২ আসনে ৬ বার দলীয় এবং একবার বিদ্রোহী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১০ম সংসদে ফিরোজ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। | 6 |
সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তির অভিযোগে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন সুবীর নন্দী নামে একজন আইনজীবী। গতকাল রবিবার দুপুরে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নং আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সোহেল রানা মামলাটি সি আর হিসাবে গণ্য করে সোমবার অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত তাফসীর | 6 |
ইতিমধ্যে খালগুলোতে লোক দেখানো সংস্কারের নামে বিপুল অর্থ অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে।খালগুলোতে প্রাণ ফেরাতে প্রায় ৭ কোটি টাকার প্রকল্পের টেন্ডার আগামীকাল মঙ্গলবার অনলাইনে যাচ্ছে। পাউবো বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এপ্রিলের শেষে মাঠপর্যায়ে নগরের ৭ খাল খনন শুরু হচ্ছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, প্রকল্পভুক্ত ৭টি খাল হচ্ছে-সাগরদী খাল, চাঁদমারী খাল, ভাটার খাল, জেল খাল, আমানতগঞ্জ খাল, পলাশপুর খাল এবং রূপাতলী খাল। খালগুলোর উৎস নগরীর পাশ দিয়ে প্রবাহিত কীর্তনখোলা নদী। পাউবো সূত্র জানায়, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামিমের উদ্যোগে এই সাতটি খালের প্রায় ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের খনন শুরু হচ্ছে।জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, নগরের মধ্যের ৭ খাল খনন প্রকল্পের টেন্ডার কাল মঙ্গলবার লাইভে যাচ্ছে (অনলাইন)। ১৪ এপ্রিল টেন্ডার ওপেন হবে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে খালগুলো খননে মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে। সাতটি খাল খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি টাকা।নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক বলেন, এক দিনে সাতটি খালের কাজের উদ্বোধন করা হবে। এরপর উচ্ছেদ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। জেলার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার সবার সঙ্গে সমন্বয় করেই খাল খননের উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনামুল হক বাহার জানান, তাঁর ওয়ার্ডের আওতাধীন সাগরদী খাল নগরীর সবচেয়ে বড় খাল। দীর্ঘদিনে খালটি দখল-দূষণে নালায় পরিণত হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষ জলাবদ্ধতায় ভুগছে। বিভিন্ন সময়ে লোক দেখানো উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।পাউবো উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, গত মৌসুমে অস্বাভাবিক জোয়ারে খাল-নালা দিয়ে কীর্তনখোলার পানি প্রবেশ করে নগরী প্লাবিত হলে প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পটি গ্রহণের তাগিদ দেন। খনন সম্পন্ন করে খালের গভীরতা সৃষ্টি হলে জোয়ারের পানি নগরীতে প্রবেশ হ্রাস পেতে পারে।বরিশাল নদী খাল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সদস্যসচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু বলেন, উদ্যোগটি বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী সুফল পাবেন, জলাবদ্ধতাও থাকবে না। | 6 |
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) চলমান ঘটনার দায়ভার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। ধানমন্ডিতে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের বীর উত্তম মেজর হায়দার মিলনায়তনে মওলানা ভাসানীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।ভাসানী অনুসারী পরিষদের আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাফরুল্লাহ বলেন, আজকে শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। এ জন্য শাবিপ্রবির ভিসি পুলিশ দিয়ে ছাত্রদের মেরেছে। তাই উনি আজকেই পদত্যাগ করে ছাত্রদের বলবেন, আমার ভুল হয়েছিল-এর জন্য তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। আর পুলিশ দিয়ে কেন তাঁদেরকে (শিক্ষার্থীদের) পেটানো হবে? ভিসির অপরাধ কী আছে, সেটা আমি দেখতে চাই না। শুধু পুলিশ দিয়ে ওদেরকে পেটানোর জন্য ছাত্রদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।শিক্ষামন্ত্রীর সিলেটে না যাওয়ার সমালোচনা করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। কারণ তিনি নিজে না গিয়ে শিক্ষার্থীদের ডেকে পাঠাচ্ছেন। মওলানা ভাসানী বেঁচে থাকলে এ ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো না।ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক হাবীবুর রহমান রিজুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য গণসংহতি আন্দোলন এর প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নুর, রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের নেতা অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম প্রমুখ। | 6 |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমপক্ষে অর্ধেক হ্রাস করার প্রতিশ্রুতি দেবেন। এ সম্পর্কে জ্ঞাত দুটি সূত্রের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য দিয়েছে। তিন ডজনের বেশি বিশ্বনেতার সঙ্গে একমত হয়ে জো বাইডেন যে ভার্চ্যুয়াল জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজন করছেন, তার আগে এ পদক্ষেপ সম্পর্কে জানা গেল। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ। বৈশ্বিক নেতাদের সঙ্গে একত্রে আন্তর্জাতিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পাশাপাশি বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানোর প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্বের আসনে নিতে বাইডেন এ পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ২০১৫ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এবার তার দ্বিগুণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০০৫ সালে স্তর অনুযায়ী ২৬ থেকে ২৮ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেন, বাইডেন-হ্যারিস প্রশাসন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে জলবায়ু সমস্যা সমাধানে বেশি কিছু করবে। আমরা যা করব, তার ওপরই আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। ওয়াশিংটন পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বেশ কিছু দেশ ইতিমধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর ক্ষেত্রে আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছে। যুক্তরাজ্য গত মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়ে বলেছে, ২০৩৫ সাল নাগাদ তারা গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ৭৮ শতাংশ কমাবে। এদিকে বাইডেনের উদ্যোগে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠেয় জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার এ কথা জানিয়েছে। ভার্চ্যুয়াল এই জলবায়ু সম্মেলনই হবে বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর উভয় নেতার প্রথম বৈঠক। বৈঠকে সি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে বৈঠকে সির যোগদানের দিন কয়েক আগে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক প্রতিনিধি জন কেরি সাংহাই সফর করেছেন। এ সময়ে উভয় দেশের প্রতিনিধি জলবায়ু বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেছে। | 3 |
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ারের সামনে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার পিস ইয়াবাসহ আব্দুল গফুর প্রকাশ শ ম গফুর নামে একজনকে আটক করেছে র্যাব-১৫। আটক গফুর উপজেলার বালুখালী কাস্টমস এলাকার নুরুচ্ছফা শফির ছেলে। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে তাকে আটক করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে র্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (ল অ্যান্ড মিডিয়া) মো. বিল্লাল হোসেন জানান, গফুর দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন অপরাধের মাধ্যমে উক্ত এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করেছে। এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে সে অধিক পরিচিত। সে একটি গ্যাং তৈরি করে দীর্ঘদিন যাবৎ অত্র এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছে। গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব-১৫ এর এই কর্মকর্তা। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের স্ত্রী বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে ওই শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার কালিম উল্লাহ (৩৭), পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের আল আমিন মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ও সিরাজপুর ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের হাবীবপুর গ্রামের হাফেজ বাড়ির হাফেজ মো. তোহার ছেলে। তবে স্ত্রীকে নির্যাতনের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আল আমিন মাদরাসার অধ্যক্ষ কালিম উল্লাহ। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, 'তিনি স্ত্রীকে একাধিকবার পিটিয়েছে। ফলে তার বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে মারধরের অপরাধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের (গ) ধারায় স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম | 6 |
চট্টগ্রাম নগরের ওষুধের পাইকারি বাজার হাজারী গলিতে অভিযান চালিয়ে ভেজাল ওষুধসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রোববার রাতে কোতোয়ালি থানার জহুর শপিং সেন্টারের মেসার্স যমুনা মেডিসিন শপ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুইজন হলেন, সাতকানিয়া থানার দক্ষিণ কাঞ্চনা গ্রামের হিমাংশু দাসের ছেলে লিটন দাস (৪৩) ও হাটহাজারী থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন চৌধুরীর ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল আলী চৌধুরী (৩৫)। ওষুধের দোকান থেকে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে তিন হাজার ৬৪১টি ওষুধ জব্দ করা হয়। র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক নূরুল আবছার বলেন, যমুনা মেডিসিন শপে ভেজাল ওষুধ বিক্রির খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় দোকানটি থেকে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন, বেশি লাভের জন্য তারা এই ভেজাল ওষুধ বিক্রি করে আসছিলেন। | 6 |
হাঙরের শুঁটকি বিদেশে রপ্তানি হয়। মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়ে দেশ থেকে হাঙর বিলুপ্ত হচ্ছে। দক্ষিণ উপকূলের জেলেরা বঙ্গোপসাগরে হাঙর শিকারে ঝুঁকে পড়ছেন। গভীর সাগরে বড়শি ও ইলিশের জাল দিয়ে বড় হাঙর এবং ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে নির্বিচার ঝাঁকে ঝাঁকে বাচ্চা হাঙর শিকার করছেন জেলেরা। এসব হাঙর দিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছে, পাঠানো হচ্ছে বিদেশে। ব্যাপকভাবে হাঙর নিধনের কারণে সামুদ্রিক প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, সামুদ্রিক মাছের ডিম থেকে লক্ষ-কোটি পোনা হলেও হাঙর ব্যতিক্রম। ১০ থেকে ১২ বছরে হাঙর পূর্ণবয়স্ক হয় এবং ২ থেকে ১৬টি বাচ্চা দেয়। এ কারণে হাঙরের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে না। কিন্তু মাছ ধরার ট্রলারের জালে আটকা পড়ে হাঙর বিলুপ্ত হচ্ছে। যা পরিবেশ প্রতিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন-২০১২ অনুযায়ী, হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ হত্যা ও কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হাঙর ও শাপলাপাতা মাছের অর্ধেকের বেশি প্রজাতি অতিরিক্ত আহরণ ও নিধনের ফলে বর্তমানে হুমকির সম্মুখীন। ফলে বন্যপ্রাণী আইনে এ ধরনের বিপন্ন প্রজাতিগুলোকে সুরক্ষা দিতে হালনাগাদ তালিকায় হাঙর ও শাপলাপাতা মাছ অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপকূলীয় জেলা বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার লালদিয়া, লাঠিমারা, রূপনগর; তালতলীর ফকিরহাট, সখিনা, লালুয়ারচর, নিশানবাড়িয়া খেয়াঘাটের এপার-ওপার; পটুয়াখালীর মহীপুর খালের গোড়াঘাটলা বালিরচর; বাগেরহাটের সুন্দরবনের দুবলার চর, কচিখালীসহ বিভিন্ন চরে ২০টির বেশি শুঁটকিপল্লিতে হাঙরের শুঁটকি তৈরি করা হচ্ছে। জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীত মৌসুমের শুরুতে বিশেষ করে নভেম্বরের শেষ দিকে বঙ্গোপসাগরে জেলেরা শীতকালে মাছ ধরার জন্য বড়শি ও বড় ফাঁসের (১২ ইঞ্চি ব্যাস) জাল নিয়ে শীতকালীন মাছ ভোল, মেদ, মোচন ধরতে সাগরে নামেন। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে হাঙরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জেলেরা হাঙর ধরার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। জেলেরা বলছেন, মাছের চেয়ে হাঙরের ভালো দাম পাওয়ায় জেলেরা অধিক উৎসাহ নিয়ে হাঙর শিকার করছেন। জেলে ও শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, বিদেশে হাঙরের শুঁটকি, তেল, চামড়া, দাঁত, কান, পাখা, হাড়সহ অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চড়া মূল্যে বিক্রি হয়। নাম প্রকাশ না করার শতে পাথরঘাটা ও মহীপুরের অন্তত চারজন ব্যবসায়ী জানান, এ বছর বড় হাঙরের চেয়ে ছোট হাঙর বেশি ধরা পড়ছে। হাঙরের শুঁটকি চট্টগ্রাম হয়ে অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান, হংকংসহ বিশ্বের প্রায় ১০টি দেশ ও নগরে রপ্তানি হয়। তিনি আরও জানান, 'এ' গ্রেডের হাঙর (যে হাঙরের পাখনা ২১ ইঞ্চি লম্বা) প্রতিটি ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং 'বি' গ্রেডের হাঙর (পাখনার দৈর্ঘ্য ২১ ইঞ্চির নিচে) একেকটি ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকায় তাঁরা কেনেন। সম্প্রতি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার লালদিয়া ও রূপনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক কটি মাচায় হাঙরের শুঁটকি করা হচ্ছে। সেখানে বড় হাঙরের পাশাপাশি অগুনতি হাঙরের বাচ্চাও শুঁটকি করা হচ্ছে। পাথরঘাটার লঞ্চঘাট-সংলগ্ন বিষখালী নদীর তীরে শুঁটকিপল্লিতে ঢুকতেই দেখা গেল, ছোট ছোট চাপালি মাছের শুঁটকি রোদে শুকানো হচ্ছে। তবে ওই চটের অদূরে নদীর পাশে দেখা গেল হাঙরের শুঁটকি শুকানো হচ্ছে। পাথরঘাটার রূপনগর এলাকায় মদিনা ফিশারিজ নামে শুঁটকি উৎপাদনের একটি প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক বাচ্চা হাঙর শুঁটকি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাচায় শুকানো হচ্ছে বড় হাঙর। এই প্রতিষ্ঠানের মালিক সিকদার মো. মাহবুব বলেন, 'আমরা শুঁটকি তৈরি করে বিক্রির জন্য চট্টগ্রামে পাঠাই। বাচ্চা হাঙরের শুঁটকি প্রতি কেজি ৬০০ টাকায় এবং বড় হাঙরের শুঁটকি ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়।' পাথরঘাটা লঞ্চঘাট-সংলগ্ন বিষখালী নদীর তীরে গত ১ জানুয়ারি শুঁটকিপল্লি থেকে ১২ মণ হাঙর জব্দ করে পাথরঘাটা কোস্টগার্ড ও ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়। পরে তিন হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাথরঘাটায় শুঁটকি পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করলে তাঁরা জানান, বছর তিনেক আগে পাথরঘাটা উপজেলা থেকে ৭ থেকে ৮ মেট্রিক টন হাঙরের শুঁটকি চালান হতো। এখন সেটা বেড়ে ১৬ থেকে ২০ মেট্রিক টনে ঠেকেছে। এ ছাড়া সুন্দরবন, বরগুনা, পটুয়াখালীর মহীপুরে কয়েক গুণ বেশি শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। বর্ষার আগে-পরে চার মাস ছাড়া বাকি আট মাসই হাঙরের শুঁটকি তৈরি হয় এ অঞ্চলে। কোস্টগার্ডের দক্ষিণ অঞ্চলের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শাফিউল ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, 'প্রায় দুই মাস আগে নিষিদ্ধ হাঙরের বিরুদ্ধে আমরা একটি অভিযান চালিয়েছিলাম। তবে হাঙরের সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে আরও অভিযান করা হবে।' মৎস্য ও প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রের বাস্তুসংস্থানে হাঙর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। হাঙর মূলত বড় আকারের শিকারি মাছ ও সিল খায়। যেসব মাছ খাদ্যের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট আকৃতির মাছ ও পোকার ওপর নির্ভরশীল। ওই ছোট মাছগুলোর খাদ্য বিভিন্ন উদ্ভিতকণা বা শেওলা। হাঙর না থাকলে বড় আকৃতির শিকারি মাছ ও সিলের সংখ্যা বেড়ে যাবে। এগুলো ছোট মাছ ও পোকা খাওয়া শুরু করবে, ফলে ছোট মাছ ও পোকার সংখ্যা কমে যাবে। সামুদ্রিক উদ্ভিদকণা বা শেওলার ওপর নির্ভরশীল মাছ ও পোকার সংখ্যা কমে গেলে শেওলার পরিমাণ বহু গুণ বেড়ে যাবে। এসব শেওলা সমুদ্রের তলদেশে সূর্যালোক প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করবে। ফলে ব্যাপক ভারসাম্যহীনতা দেখা দেবে সামুদ্রিক প্রতিবেশে। হাঙ্গরের গুরুত্ব সম্পর্কে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের প্রভাষক ও ওয়ার্ল্ড ফিশের সাবেক গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় হাঙর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নির্বিচার হাঙর নিধন করা হচ্ছে। সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রাখতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করে হাঙর রক্ষায় উদ্যোগ প্রয়োজন। | 6 |
দশ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুরের গোপালনগর এলাকায় পা রেখে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে ২৩ জন কৃষককে জমি ফিরিয়ে দেন। এদিন নিজেই জমিতে নেমে সরিষা বীজ ছড়ান মুখ্যমন্ত্রী। কৃষকদের হাতে তুলে দেন সরষের বীজ।
১০ বছর আগে সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ ঘিরে আন্দোলন গড়ে তোলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিঙ্গুরে প্রকল্প তৈরির পর থেকে ভিতরে ঢোকেননি মমতা। এদিন প্রথম সেই জমিতে পা রাখলেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে সিঙ্গুরে পৌঁছান মমতা। যে গোপালনগরের ঘোষপাড়া থেকে জমি অধিগ্রহণ শুরু করেছিল ততকালীন বাম সরকার এদিন সেই গোপালনগরের ঘোষপাড়ায় দাঁড়িয়েই সিঙ্গুরের জমিদাতাদের জমির দখল ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেন মমতা।
গোপলনগর মৌজায় তৈরি মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক সব কৃষকদের জমি ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
এদিন ভূমি সংস্কার আইনানুযায়ী বর্গাদার-ক্ষেতমজুররাও তাদের অংশ পাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৯৯৭ একরের মধ্যে ৬৫ একরে কাজ চলছে। এই ৬৫ একরের মধ্যে ৩৬ একরে রয়েছে কংক্রিটের নির্মাণ। সেই বাদে বাকি সব জমি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মোট ৯৩২ একর জমি চাষযোগ্য করে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, 'মাটিকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল সিঙ্গুরের সেই স্বপ্নই বাস্তবায়িত হল আজ। সিঙ্গুর আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে যে লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে কখনও পালিয়ে যেতে নেই।'
বলেন, 'তার সরকার নির্দিষ্ট নীতি মেনেই চলবে। গায়ের জোরে কারও জমি কেড়ে নেওয়া হবে না। তবে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প গড়তেও পিছুপা হবে না তার সরকার। সবদিক বজায় রেখেই সরকার উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। টিম ওয়ার্ক না হলে কিছু হয়না।'
মমতা এদিন ঘোষণা দেন, সিঙ্গুরে মনুমেন্ট তৈরি হবে। এবারে সিঙ্গরে চাষীদের স্বার্থে সবুজ বাঁচাও, সবুজের মাঝে চাষীদের মুখে হাসি পাঠাও অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।
সিঙ্গুরে অধিগৃহীত জমির প্রায় ৮০ শতাংশই চাষযোগ্য করে তোলা হয়েছে। তবে কংক্রিটের জঙ্গলে ঢাকা ৩৬ একর জমিই এখন রাজ্যের কাছে মূল চ্যালেঞ্জ। ওই জমিতে মাটির নিচে কংক্রিট ভাঙার জন্য নকশা পরীক্ষার কাজ চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো ১০ নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই জমি ফেরতের কাজ শেষের ব্যাপারে আশাবাদী রাজ্য।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বাম জমানায় সিঙ্গুরের জমি ন্যানো মোটর গাড়ির কারখানা গড়ার জন্য টাটাদের হাতে তুলে দেয় ততকালীন বাম পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সরকার। চাষীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে ওই জমি টাটাদের হাতে বাম সরকার তুলে দিয়েছে বলে আন্দোলনে নামে তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর টানা আন্দোলন। সিঙ্গুর ইস্যুতে তোলপাড় হয় গোটা রাজ্য। অনেকের মতে, এর ফলেই নির্বাচনে হেরে যায় বামরা। এরপর পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসীন হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
| 3 |
সুদানে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সদ্য ক্ষমতা দখল করা সেনাশাসক বিভিন্ন দেশে ও সংস্থায় থাকা নিজেদের ছয় রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্ত করেছে। একই সঙ্গে অভ্যুত্থানবিরোধীদের বিক্ষোভ দমাতে আরও কঠোর হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সুদানে গত সোমবার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের নেতৃত্বে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এই অভ্যুত্থানের সমালোচনা করায় এই ছয় রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্তের নির্দেশ দেয় সেনাশাসক। গতকাল বুধবার সুদানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে রাষ্ট্রদূতদের বরখাস্তের ওই ঘোষণা দেন দেশটির সেনাশাসক। বরখাস্ত হওয়া এসব রাষ্ট্রদূতেরা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), চীন, কাতার, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় নিযুক্ত ছিলেন। তিন দশক ধরে ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সুদানের সেনাবাহিনী। এরপর ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশটি শাসন করছিল সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক সরকার। গত সেপ্টেম্বরে ওমর আল-বশিরের অনুসারীদের একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির অন্তর্বর্তী বেসামরিক সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় সেনারা। সোমবার সেনা অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদকসহ দেশটির একাধিক মন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বন্ধ করে দেওয়া হয় খার্তুমের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থাও জারি করে সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থানের পর খার্তুমে বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দূতাবাস বলেছে, তারা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদক ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে সুদানের 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক নেতা' হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। তাদের এমন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নিলেন সেনাশাসকেরা। | 3 |
সিরীয় সরকারের হাতে আটক বন্দিরা বিপুল সংখ্যায় মারা যাচ্ছে বলে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, এটি বন্দিদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার একটি রাষ্ট্রীয় নীতি ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শামিল।
জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলছে, বিদ্রোহীদের সমর্থন দেয়া এবং অনানুগত্যের অভিযোগে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিককে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বিদ্রোহী গোষ্ঠিগুলোর বিরুদ্ধেও বিনা বিচারে সিরিয় সেনাদের হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলছে, সরকারের অনুগত এবং সরকারবিরোধী উভয় পক্ষই সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছে।
অনেক বন্দি নির্যাতিত হয়েছেন, অনেককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং অন্যরা খাদ্য, পানি কিংবা চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন।
শত-শত প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে এবং ২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ায় বিক্ষোভের সময়কাল থেকে শুরু করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলছেন, যেকোন সময়ে সিরিয়া সরকারের হাতে হাজার-হাজার বেসামরিক নাগরিক বন্দি থাকছে অনানুগত্য কিংবা বিদ্রোহীদের সমর্থনের কারণে।
প্রতিবেদনে বন্দিদের অবস্থাকে 'জরুরি এবং বড় আকারে মানবাধিকার রক্ষার সঙ্কট' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ বলছে, যুদ্ধের পুরো সময়টাতে হাজার হাজার বন্দি দুই পক্ষের হাতেই নিহত হয়েছে।
ধারণা করা হয়, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এখনও পর্যন্ত আড়াই লাখ মানুষ জীবন হারিয়েছেন। দেশটি থেকে প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ পালিয়ে গেছেন।
বলা হচ্ছে, দেশটির অভ্যন্তরেও ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সাহায্য প্রয়োজন। সূত্র: বিবিসি বাংলা
| 3 |
গত ২৮ মে থেকে দোহার পাঁচ তারকা হোটেলে বায়োবাবলের মধ্যে আছেন জামাল ভূঁইয়ারা। চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। হোটেল থেকে বের হওয়ার সুযোগ নেই। হোটেলে ঢোকার সুযোগ নেই বাইরের কারও। করোনা সতর্কতায় মাঠ-হোটেলে সীমাবদ্ধ বাংলাদেশ দলের ফুটবলারদের জীবন। নানা বিধিনিষেধের জালে আটকে তাঁরা হাঁপিয়ে উঠেছেন। গোলকিপার শহিদুল আলমের আর ভালো লাগছে না এই পরিবেশ। তাঁর মনে হচ্ছে, দোহায় পাঁচ তারকা হোটেলে নয়, আছেন পাঁচ তারকা জেলে! আজ সেটাই বললেন বাফুফেকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায়, 'দোহা এসেই দেখছি, হোটেল আর মাঠ ছাড়া বেরোতে দিচ্ছে না। পাঁচ দিন ধরে হোটেলে সুইমিংও বন্ধ। মনটা একটু সতেজ করতে কোথাও যেতে পারছি না। মনে হয়, পাঁচ তারকা হোটেলে জেলে আছি।' দশ বছরের জাতীয় দলের ক্যারিয়ারে কখনো এমন দেখেননি জানিয়ে চট্টগ্রামের ছেলে শহিদুল তাকিয়ে আছেন শেষ ম্যাচটার দিকে। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ শেষ ম্যাচ খেলবে ১৫ জুন ওমানের সঙ্গে। হোটেলে বন্দী জীবন নিয়ে হতাশার মধ্যে আবাহনীর গোলকিপার শহিদুল বলেন, 'আমরা এখন শেষ ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের সব মনোযোগই এখন ওমান ম্যাচের দিকে।' তিনতলা হোটেলের দোতলায় রয়েছে বাংলাদেশ দল। একই হোটেলে ভারত ও আফগানিস্তানও আছে। হোটেলে কাতারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লোকজন সার্বক্ষণিক ঘোরাফেরা করছেন। করোনাবিধি ভাঙা বা মাস্ক ছাড়া বের হচ্ছেন কি না কেউ, সবই নজরে রাখা হচ্ছে। ফুটবলারদের দেখা হচ্ছে খাবার ঘরে। সেখানে পাঁচ ফুট দূরে দূরে বসতে হচ্ছে। ফুটবলাররা জানান, দুই ঘণ্টা মাঠের অনুশীলন বাদ দিয়ে বাকি ২২ ঘণ্টাই কাটছে হোটেলে। এই 'বন্দী জীবন' খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করছে। তাঁদের নাকি অসুস্থ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। করোনার কারণে কাতার সরকারের আদেশে দোহায় বাংলাদেশ দলের হোটেলে সুইমিংপুল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। সুইমিংপুল থেকে করোনা ছড়াতে পারে, এমন বিশ্বাস কর্তৃপক্ষের। তা ছাড়া কর্তৃপক্ষ মনে করে, করোনা ছড়ালে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। ফলে কয়েক দিন ধরে হোটেলে সবার জন্যই সুইমিং পুলের দরজায় তালা। আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েননি ফুটবলাররা। এর আগে গত ডিসেম্বরে ফুটবলাররা যখন কাতারের সঙ্গে ম্যাচ খেলতে দোহায় ছিলেন, এতটা কড়াকড়ি ছিল না তখন। ওই সময় চাইলে হোটেলের মূল ফটকের বাইরে করিডরে একটু হাঁটাহাঁটি করা যেত। কিন্তু এবার সেটাও বন্ধ। এবার করোনার বিধিনিষেধ ও নিরাপত্তা আগের যাবতীয় আয়োজন ছাপিয়ে গেছে বলে দোহা থেকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা। তবে সব এক পাশে রেখে ১৫ জুন ওমান ম্যাচের জন্য নিতে হচ্ছে প্রস্তুতি। কিন্তু চোট ও করোনার কারণে দলের নিয়মিত বেশ কয়েকজন ফুটবলার ছিটকে গেছেন। ফলে নতুনদের ওপর দায়িত্ব বেড়েছে। মিডফিল্ডার আবদুল্লাহ বলছেন, 'চোট ও করোনায় আমাদের কয়েকজন মিডফিল্ডার নেই। তাই আমরা যারা আছি, তাদের ওপর বড় দায়িত্ব। এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জও। এই চ্যালেঞ্জে জিততে পজিটিভ খেলতে চাই। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করছি। সেই ম্যাচের ভুল-ত্রুটি নিয়ে কোচ কাজ করছেন। ওমান অনেক ভালো দল। তবে আশা করি লড়াই হবে।' সহকারী কোচ স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস মনে করছেন, কাতারে অনেক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। শেষটা আরও কঠিন করে দিচ্ছে ওমান। চোট ও করোনায় ৮-৯ জন খেলোয়াড়ই দলে নেই জানিয়ে ওয়াটকিসের কথা, 'ওমান অনেক শক্তিশালী দল। তবে আমরা তৈরি হচ্ছি। প্রস্তুতি ভালোই এগোচ্ছে।' | 12 |
ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বুধবার বাংলাদেশে আসবেন। বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সফরে আসছেন তিনি। সে কারণে এ দিন রাজধানীতে বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। তাই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার্থীদের এ দিন যথেষ্ট সময় হাতে রেখে কেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে পুলিশের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদের সামনে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেছিল ডিএমপি। সেখানেই ডিএমপি কমিশনার এ অনুরোধ জানান। মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, কেউ পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়লে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে পারেন। পুলিশ পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় পুলিশ। অন্য বছরগুলোতে এই তৎপরতা থাকে 'ইউনিফর্ম লেড' (পুলিশি পোশাকে)। এবার গোয়েন্দা তৎপরতায় জোর দিয়েছে পুলিশ। এর পেছনে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য আছে কি না কিংবা জঙ্গি হামলার আশঙ্কা আছে কি না, তা জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ইস্যু মাথায় রেখেই নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, জঙ্গি হামলার আগাম কোনো খবর নেই। জঙ্গিদের কার্যক্রম আকস্মিক। তাই আগাম তথ্য পাওয়া যায় না। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোয় নিয়মিত অভিযান চলছে বলেও জানান তিনি। | 6 |
আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর বরাদ্দে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ১নং নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু ও তার পিএস নুরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে নাটোরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম ফারুক ইউপি চেয়ারম্যান লাবুর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান লাবুর আইনজীবী আজিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতাধীন ঘর করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে ঘুষ নেন চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু ও তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নুরুল ইসলাম। আশ্রয় পাওয়ার আশায় ইউনিয়নের চন্দ্রপুর মাঝপাড়া (লক্ষ্মীপুর) এলাকার দিনমজুর মো. জালাল উদ্দিন শেখ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দেন। তিনি এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ওই ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে চেয়ারম্যানের পিএসের হাতে তুলে দেন। এদিকে, এক সপ্তাহ আগে দারিদ্র্য বিমোচন ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য ঢাকা সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে জেলার 'শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান পদক' পান ইউপি চেয়ারম্যান লাবু। সোমবার আগাম জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় লাবু চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 6 |
রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সমাধানের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানে কি পরিবর্তন ঘটেছে? এই প্রশ্নটি উত্থাপনের তাগিদ তৈরি হয়েছে সম্প্রতি বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের বক্তব্যের কারণে। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটে সম্প্রতি যে একাধিক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে, সেটা লক্ষ করলেই বোঝা যায়। সেই পটভূমিকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলছেন, তা আমাদের মনোযোগ দাবি করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পটভূমি আগে উল্লেখ করা দরকার। রোহিঙ্গা সংকটে নতুন যেসব মাত্রা যোগ হয়েছে, তার একটি হচ্ছে ভারত থেকে কার্যত বিতাড়িত হয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে প্রবেশ। ভারতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এই ভীতি তৈরি করতে পেরেছে যে তাদের জোর করেই মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের কারণ ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, মুসলিম বিদ্বেষ ও বিদেশিভীতি। কিন্তু বাংলাদেশের ওপর একধরনের চাপ সৃষ্টিও যে তার পেছনে কাজ করছে না, তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না; উদ্দেশ্য সেটা যদি না-ও থাকে পরিণতি যে তা হচ্ছে, সেটা দুর্লক্ষ্য নয়। দ্বিতীয় নতুন মাত্রাটি হলো, মিয়ানমার থেকে শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গারাই পালিয়ে আসছে না, সম্প্রতি 'চীন' ও 'রাখাইন' রাজ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে রাখাইন, খুমি ও খ্যও সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী নারী, পুরুষ ও শিশুরাও পালিয়ে আসছে। বাংলাদেশ সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে তাদের অনেকে সীমান্তের শূন্যরেখা বরাবর বান্দরবান সীমান্তে অবস্থান করছে, কেউ কেউ ইতিমধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তৃতীয় মাত্রাটি হচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনের (ইউএনএইচসিআর) আহ্বান। কমিশন এই নতুন শরণার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত খুলে দেওয়ার জন্য ঢাকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গত শুক্রবার। এসবের বাইরে ঘটছে আরও ঘটনা, যা গণমাধ্যমে খুব সামান্যই উল্লেখ হচ্ছে। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যে মানব পাচারের শিকার হচ্ছে, তা এখন স্পষ্ট। গত শুক্রবার পাচারের হাত থেকে সাতটি শিশুসহ ৩০ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। রয়টার্সের ৫ ফেব্রুয়ারির এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এ ধরনের পাচারের হাত থেকে উদ্ধার হয়েছেন একজন যশোরে, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে। ঢাকা ট্রিবিউন-এ ১৪ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত একাধিক ঘটনার কথা উল্লেখ আছে, যেখানে পাচারকারীরা হয় এদের মাঝপথে ফেলে রেখে গেছে, নতুবা বিজিবি অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে। যারা উদ্ধার হচ্ছে তাদের কাহিনি বলে দিচ্ছে যে আরও অনেকেই উদ্ধার হচ্ছে না। সংকটের শুরু থেকেই এ ধরনের আশঙ্কা করা হচ্ছিল। আইএমওর পক্ষ থেকে জুলাই মাসে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মানব পাচার ও সেক্স ট্রাফিকিংয়ের ঘটনা এখন বাড়ছে, কেননা সমস্যা সমাধানের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। দেড় বছরের বেশি সময় ধরে প্রায় ১০ লাখ শরণার্থী শুধু যে মানবেতর পরিস্থিতির মধ্যে আছে তা নয়, এখন মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির আরও অবনতির কারণে তাদের ফেরার সম্ভাবনা তিরোহিত হয়েছে। এই পটভূমিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রথম বিদেশ সফরে গিয়ে নয়াদিল্লিতে প্রস্তাব দিয়েছেন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে 'সেফ জোন' বা সুরক্ষাবলয় তৈরি করে সেখানে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক এবং তার দায়িত্ব নিক 'মিয়ানমারের বন্ধুরাষ্ট্রগুলো'-ভারত, চীন ও আশিয়ান সদস্যভুক্ত দেশ (প্রথম আলো, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯)। যদিও একে 'নতুন প্রস্তাব' বলা হচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে প্রস্তাবটি নতুন নয়, তবে তা বাংলাদেশের অবস্থানের ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করার অবকাশ আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শরণার্থী সংকটের গোড়াতে ২০১৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে যে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছিলেন, তার ৩ নম্বর প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, 'জাতিধর্ম-নির্বিশেষে সব সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা এবং এ লক্ষ্যে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে সুরক্ষাবলয় গড়ে তোলা।' প্রধানমন্ত্রী ওই সময়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শরণার্থী সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে যে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সেখানে এবং ওআইসি কন্টাক্ট গ্রুপে দেওয়া ছয় দফা প্রস্তাবেও এই প্রসঙ্গ ছিল। সুরক্ষাবলয়ের এ প্রস্তাব উত্থাপনের সময়ে এটা অবশ্যই বোঝা যাচ্ছিল যে চীন ও রাশিয়ার সমর্থন না করার কারণে এই ধরনের প্রস্তাব জাতিসংঘে পাস হবে না। যদিও 'সুরক্ষাবলয়' বা সেফ জোনের অভিজ্ঞতা সব সময়ই ইতিবাচক নয়, তবু এর কোনো বিকল্প না থাকায় একে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই বিবেচনা করা হয়েছিল। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় অন্যদের সহযোগিতায় এ ধরনের সেফ জোনের বিষয় বিবেচনা করা উচিত বলেই আমার মনে হয়েছিল, যা আমি ২৫ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে উল্লেখ করেছিলাম। আমি লিখেছিলাম, 'জাতিসংঘের তত্ত্বাবধান ছাড়া "নিরাপদ এলাকা" প্রতিষ্ঠা দুরূহ, এই বক্তব্যকে একেবারে নাকচ না করে দিয়ে বলা যেতে পারে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন বা শক্তি প্রয়োগকে অত্যাবশ্যক মনে করারও কারণ নেই। যদিও বাংলাদেশের প্রস্তাবে "জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে" এই সুরক্ষাবলয়ের কথা বলা হয়েছে, অতীতে এ ধরনের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতিতে আন্তর্জাতিক রেডক্রসের উদ্যোগে সেফ জোন প্রতিষ্ঠারও উদাহরণ আছে।' আমি প্রাসঙ্গিকভাবে বলেছিলাম 'মিয়ানমারের সমর্থক চীন, ভারত ও রাশিয়াকে বাদ দিয়ে সংকট সমাধান প্রচেষ্টার সাফল্যের আশা বাস্তবসম্মত বলে মনে হয় না।' (লক্ষ্য অর্জন নির্ভর করবে কূটনৈতিক সাফল্যের ওপর, প্রথম আলো, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭)। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলেও বাংলাদেশ এ নিয়ে আর কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে শোনা যায়নি। উপরন্তু আন্তর্জাতিকভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে যখন সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ লক্ষ করা যাচ্ছিল, সেই সময়ে বাংলাদেশ ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে মিয়ানমারের সঙ্গে একধরনের সমঝোতায় উপনীত হয়। বোঝাই যাচ্ছিল যে রোহিঙ্গা সংকটের আন্তর্জাতিকীকরণের পথ বন্ধ করাই মিয়ানমারের কৌশল। একই ভাবে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিসি) রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়ার অনুকূলে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, সেই সময়ে মিয়ানমার আবারও প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়ে আট হাজার শরণার্থীর একটি তালিকা অনুমোদন করে। ফলে মিয়ানমার একে দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে রাখার যে চেষ্টা করেছে, বাংলাদেশ তাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং এর বিকল্প থেকে সরে এসেছে। যখন একদিকে আন্তর্জাতিক সমাজ, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হয়েছে, অন্যদিকে মিয়ানমারের বন্ধুদেশগুলো এ দেশটির বদলে বাংলাদেশের ওপর চাপ দিয়েছে, তখন বাংলাদেশও খুব কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে-তার প্রমাণ নেই। বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপের অভাবের কারণে লাখ লাখ শরণার্থী বাংলাদেশেই থেকে গেছে এবং সমাধানের কোনো সম্ভাবনাও দেখা যায়নি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়াকে ক্ষমতাসীন দল যে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে, তা-ই নয়, দেশের ভেতরের অগণতান্ত্রিক আচরণের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রশ্নেরও মুখোমুখি হতে হয়নি। অন্যদিকে মিয়ানমার এ নিয়ে বাংলাদেশের আন্তরিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছে। এখন আরও শরণার্থী বাংলাদেশ অভিমুখী হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যখন 'মিয়ানমারের বন্ধুদের' কাছে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সুরক্ষাবলয়ের প্রস্তাব দেন, তখন তা এত দিনের অবস্থান থেকে আপাতদৃষ্টে ভিন্ন, কিন্তু অতীতে প্রধানমন্ত্রী আগে এই প্রস্তাব দেওয়ার পরেও সেই বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে প্রশ্ন জাগে, এটি কেবল কথার কথা কি না। বাংলাদেশ যদি দ্বিপক্ষীয় সমাধানের বাইরে গিয়ে আঞ্চলিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার এই প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গেই দিয়ে থাকে, তবে তার অনুকূলে অবিলম্বে জোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে এটাও সুস্পষ্ট করতে হবে যে এই নতুন প্রস্তাবে পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা কী হবে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দায়িত্ব কী হবে, ডিসেম্বর মাসে যে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে, তাকে কীভাবে এই ধরনের উদ্যোগে যুক্ত করা হবে। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা কার্যত দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার জন্য মিয়ানমারের বন্ধুদের উৎসাহ নেই, যতটুকু অগ্রগতি হয়েছে সেটি পশ্চিমা দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আগ্রহের কারণে। এ ধরনের চাপ ছাড়া মিয়ানমার কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেবে না, সেটা অতীতে দেশটির আচরণেই স্পষ্ট। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও কার্যক্রম সুস্পষ্ট রূপ দিতে হবে। অন্যথায় এটিকে একটি চমকের চেয়ে বেশি কিছু বলে মনে হবে না। আলী রীয়াজ:যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর | 8 |
আজকের দিনটি আওয়ামী লীগ কীভাবে উদ্যাপন করছে, তার কোনো ইঙ্গিত গত মঙ্গলবার পর্যন্ত খবরের কাগজে চোখে পড়েনি। তবে গত বছর তারা গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে দিনটি উদ্যাপন করেছে। সেটাই তাদের করার কথা। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে যত কথাই থাকুক, কিংবা বিতর্ক-সমালোচনা হোক না কেন, তা উপেক্ষা করায় আওয়ামী লীগের খুব একটা সমস্যা হয়নি। আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ, বিএনপির ছয়জন ও তাদের নির্বাচনী জোটের অপর দুই সঙ্গী গণফোরামের দুজন সাংসদ শপথ নিয়ে যেভাবে গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছেন, তা তো নিশ্চয়ই উদ্যাপন করার বিষয়! বিএনপির এসব সাংসদের সংসদে যোগদান অনেকটা মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির মতো, যেখানে তাঁরা নিজেরাই বলেছেন মানুষ ভোট দিতে পারেননি, তাঁরা নির্বাচিত ঘোষিত হয়েছেন অদৃশ্য আশীর্বাদে। মহাজোটের শরিকদের কথা আলাদা। কেননা, তারা কোনো না কোনোভাবে ক্ষমতার নানা সুযোগ-সুবিধার কমবেশি ভাগীদার। কিন্তু বিএনপির সাংসদদের প্রাপ্য সুবিধাগুলো সে তুলনায় নগণ্য হলেও তাঁরা তা হারাতে প্রস্তুত ছিলেন না। দলটির নেতা-কর্মীরা যে বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি, নানা ঘটনায় তা বোঝা যায়। দলীয় কর্মসূচিগুলোতে তাঁদের জন্য কোনো আসন বরাদ্দ থাকতে দেখা যায় না। তাঁদের দলীয় প্রধান খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়া হলে এখন আবার তাঁরা পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন। তাঁদের পদত্যাগে গণতন্ত্রের কতটা ক্ষতি হবে, তা তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন। বাম জোট আজকের দিনটিকে 'কালো দিবস' হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছে, যারা আগের দুই বছরেও একই ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের বক্তব্য ছিল, '২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ক্ষমতাসীন দল পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে দিনের ভোট রাতে করার মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে পুনঃক্ষমতাসীন হয়েছে।' একই অভিযোগ করে বিএনপি গত বছর দিনটি 'গণতন্ত্র হত্যা দিবস' হিসেবে পালন করলেও এবার সে রকম কোনো কর্মসূচির কথা শোনা যায়নি। খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেওয়ার দাবিতে তারা অবশ্য অন্য কিছু কর্মসূচি পালন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে জানা গেল, পিপলস অ্যাকশন কমিটি নামের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন তাদের ভাষায় 'ভোটের তৃতীয় শাহাদাতবার্ষিকী' উপলক্ষে বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে নিশ্চয়ই আরও অনেকের অনেক কিছু করার আছে। বিশেষ করে বর্তমান হুদা কমিশন এবং পুলিশ ও প্রশাসনের। স্মরণ করা যেতে পারে, হুদা কমিশন তাদের দপ্তরে পিঠা উৎসব করেছিল। ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের যে কষ্ট করে যেতে হয়নি, কিন্তু ক্ষমতাসীন দলকে তাদের প্রত্যাশার চেয়েও বড় বিজয় তুলে দিতে পারার আনন্দেই ওই উৎসব হয়েছিল বলে তখন অভিযোগ উঠেছিল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা কমিশন ভবনের জলাধারে মাছ ধরতে বসেছিলেন বলেও তখন খবর বেরিয়েছিল। 'মৎস্য ধরিব খাইবো সুখে' কমিশন এরপর যত নির্বাচন আয়োজন করেছে, সেগুলো কেমন ছিল, তার বিবরণ সমালোচকদের মুখ থেকে না শুনে বরং অন্যতম নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের সর্বসাম্প্রতিক মন্তব্য থেকে জেনে নেওয়া ভালো। কমিশনে একঘরে হয়ে থাকা মাহবুব তালুকদার বলেছেন, 'নির্বাচন এখন আইসিইউতে এবং তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় গণতন্ত্র এখন লাইফ সাপোর্টে।' পুলিশেরও কথিত নির্বাচনী সাফল্যের বিরল উদ্যাপনের খবর পত্রিকান্তরে প্রকাশিত হয়েছিল, যাতে দেখা যায়, থানায় থানায় বিশেষ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে পারে, এখন পুরোনো এসব কথা স্মরণ করার প্রয়োজন কী? কারণ হচ্ছে, এখন নতুন একটি কমিশন গঠনের প্রস্তুতি চলছে। পরপর দুটি কমিশন-কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশন এবং কে এম নূরুল হুদা কমিশন-নির্বাচনী ব্যবস্থার যে ভয়াবহ ক্ষতিসাধন করেছে, তা বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিবেশে কাটিয়ে ওঠা আদৌ সম্ভব বলে মনে হয় না। বহুলনিন্দিত এম এ আজিজ কমিশন ভুয়া ভোটারের তালিকা করলেও রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে নির্বাচন করতে না পারায় তার ক্ষতিটা ঠেকানো গেছে। কিন্তু রকিব কমিশন ও হুদা কমিশন ভোটারদের ভোটের অধিকার জলাঞ্জলি দিয়ে কমিশনের প্রতি জন-আস্থা ধ্বংস করেছে। শুধু সংসদীয় নির্বাচন নয়, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকেও তাঁরা 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতির ভিত্তিতে প্রার্থীদের অর্থ ও পেশিশক্তির ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রেকর্ডটি হচ্ছে রকিব কমিশনের, যার অধীনে ২০১৬ সালে ১৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রাণহানির রেকর্ডটি সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের আমলে ১৯৮৮ সালে, যখন মৃত্যু হয়েছিল ৮০ জনের। নির্বাচনী সহিংসতার নিরিখে বর্তমান কমিশনও খুব একটা পিছিয়ে নেই। এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা ৭০। গণতান্ত্রিক পরিবেশে, অর্থাৎ কার্যকর বিরোধী দল থাকলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সমঝে চলতে হয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একধরনের ভারসাম্য থাকে। কিন্তু নির্বাচনী সহিংসতায় সামরিক শাসনামলের সঙ্গে যে মিল পাওয়া যাচ্ছে, তা গণতন্ত্রের ক্ষয়সাধনেরই সাক্ষ্য দেয়। গত সপ্তাহে বিতর্কিত রকিব কমিশনের এক সদস্য একটি পত্রিকায় লিখেছেন, ভোটের সময় সহিংসতা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে তাঁদের কোনো দায় নেই। তিনি দাবি করেছেন, সহিংসতার মতো ঘটনা ফৌজদারি অপরাধ এবং ফৌজদারি অপরাধ দমন, নিয়ন্ত্রণ ও তদন্ত-এগুলো সব পুলিশের কাজ। এগুলো বন্ধের কাজ কমিশনের নয়। ফৌজদারি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ যে পুলিশের কাজ, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তিনি যে কথাটা বলেননি, তা হচ্ছে পুলিশের যে সদস্য বা কর্তাব্যক্তি বা ব্যক্তিরা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করছেন, তাঁদের সরিয়ে দিয়ে সে জায়গায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যদের নিয়োগ করা এবং অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের রয়েছে। নির্বাচনের প্রয়োজনে প্রজাতন্ত্রের যেকোনো প্রতিষ্ঠানের যেকোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কাজে লাগানো এবং তাঁরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁরা পর্যাপ্তভাবে ক্ষমতায়িত। কিন্তু তারপরও তাঁরা দলীয় পক্ষপাতের কারণে চোখ বন্ধ রেখেছিলেন। আর সেই দায় অস্বীকারের কৌশল হচ্ছে কথিত আইনগত সীমাবদ্ধতার দাবি। এখন নতুন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি যে সংলাপের আয়োজন করেছেন, সেই সংলাপ নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে, এর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। সূচনাতেই সরকারের সাবেক অংশীদার জাতীয় পার্টি দলের মহাসচিবের স্ত্রীকে সাবেক আমলার কোটায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে এসেছে। তথ্যটি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সেটি হয়তো আর হবে না। তবে ক্ষমতাসীন দলের আরেক সহযোগী, ন্যাপের নেতারা সংলাপ থেকে বেরিয়ে বলেছেন যে কথিত অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটি নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি। অন্য কয়টি সহযোগী দলের নেতারা কমিশন গঠনের জন্য আইন তৈরির দাবি জানিয়ে এসেছেন। ক্ষমতার ভাগীদার হওয়ায় গত ১৩ বছরে তাঁদের অবশ্য আইন করার কথা মনেই পড়েনি। মনে থাকলে অনেক আগেই তাঁরা অন্তত একটা বেসরকারি বিল উত্থাপন করতে পারতেন। ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেনন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন এক দিনে সম্ভব হয়েছিল উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন যে নির্বাচন কমিশন গঠনের আইনও এক দিনেই করা সম্ভব। তিনি ভুল কিছু বলেননি। কমিটিতে পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতা হিসাব না করলে সংসদে অনেক আইনই একইভাবে পাস হয়েছে। কিন্তু বৃহত্তর পরিসরে রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সরকারের মনোনীত বিরোধী দলের সম্মতি বা আপত্তিতে ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছার তেমন হেরফের হবে না। সুতরাং, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক গোষ্ঠীগুলোর উচিত হবে আগামী নির্বাচন কীভাবে গ্রহণযোগ্য উপায়ে আয়োজন করা সম্ভব, তা নিয়ে বৃহত্তর সংলাপ ও সমঝোতার ব্যবস্থা করতে রাষ্ট্রপতি ও সরকারকে রাজি করানো। না হলে আমরা বর্তমান কমিশনের চেয়ে উন্নত কিছু পাব-এমন ভ্রান্তিবিলাসে মগ্ন না হওয়াই ভালো। কামাল আহমেদ সাংবাদিক | 8 |
বিএনপির রাজনীতি মিথ্যাচারের ওপর প্রতিষ্ঠিত মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের সঙ্গে রাজনীতি কিংবা নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা নিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিএনপির অভিযোগ নিন্দনীয়। মূলত বিএনপি নেত্রীকে নিয়ে এ ধরনের কিছু বানানো হয়নি বলেই তাদের গাত্রদাহ। রোববার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশের ওপর আক্রমণ করে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর দলীয় কার্যালয়ে বসে সংবাদ সম্মেলন করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিএনপির হাঙ্গামা মামলার আসামি রিজভী কীভাবে দলীয় কার্যালয়ে বসে অন্য দলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও বিষোদ্গার করেন? তিনি নয়াপল্টনে পুলিশের ওপর হামলা মামলায় রিজভীসহ সব আসামির বিরুদ্ধে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র 'হাসিনা : আ ডটার'স টেল'-এর প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী বন্ধের দাবি জানিয়ে রিজভী শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এটিকে 'নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন' বলে অভিযোগ করেন। এর জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিধায় তাকে ঘিরে রাজনীতির কিছু ঘটনাপ্রবাহে ও বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তার ওপর চলা নির্যাতন-নিপীড়ন- এই বিষয়গুলো চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে। এটার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। একটি শিল্পকর্ম নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য নিন্দনীয়। 'সরকার একটি অদ্ভুত প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়েছে'- রুহুল কবির রিজভীর এমন মন্তব্যের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, সরকার নয়, রিজভী আহমেদই একজন অদ্ভূত প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়েছেন। কারণ তার মুখে কোনো সময় হাসি দেখিনি। সকাল-বিকেল মিথ্যা কথা বলেন তিনি। আর গত দশ বছরে বিভিন্ন ইস্যুতে লবিস্ট নিয়োগ করেছেন। লবিস্ট দিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টও মনগড়া। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র বানাতে হলে একটি হরর মুভি বানাতে হবে। কারণ ভৌতিক ছবিতে নায়িকা মানুষ পুড়িয়ে সেই পোড়া মানুষের গন্ধ না পেলে ঘুমাতে পারে না, তার স্বস্তি হয় না। খালেদা জিয়াকে নিয়ে কোনো ছবি বানাতে হলে এগুলো উঠে আসবেই। ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল ও বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল সুপ্রিম কোর্টে ভোট চেয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, তারা আচরণবিধির কথা বলেন। অথচ দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে রীতিমতো সমাবেশ করে আদালত ও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ড. কামাল ও মির্জা ফখরুলরা ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। এটা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অসীম কুমার উকিল, সামসুন্নাহার চাঁপা, আমিনুল ইসলাম আমিন, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। | 9 |
নাটোরের সিংড়ায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর আব্দুল হামিদের (৫৫) বিরুদ্ধে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই পুত্রবধূ সিংড়া থানায় তার শ্বশুরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। আব্দুল হামিদ ওই উপজেলার মৃত চাঁন আলীর পুত্র। তিনি পেশায় কৃষক। পুত্রবধূ বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আ. রাজ্জাক ফকির ও মাওলানা রবিউল নামের দুজন মাতবর আমাকে বিচার করে দিবে বলে তালবাহানা করছে এবং আমাকে থানায় অভিযোগ করতে নিষেধ করেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড আ'লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গ্রাম্য মাতবর আ. রাজ্জাক ফকির বলেন, এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়, এই বিচার গ্রামে করা সম্ভব নয়, আমরা তাদেরকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি, অভিযোগ করতে নিষেধ করা হয়নি। আমরাও চাই এর সঠিক বিচার হোক। সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর-এ-আলম সিদ্দিকী জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিডি প্রতিদিন/হিমেল | 6 |
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে গরুর ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত এক যুবকেরচিকিৎসাধীন অবস্থায়মৃত্যু হয়েছে। বুধবার রাতেময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেচিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. হোসাইন (৩৫) নামের ওই যুবকের মৃত্যু হয়।এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়ে আরও দু'জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানায়, উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসনপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে হোসাইন পেশায় দর্জির কাজ করেন। গত বুধবার সকালে চরহোসেনপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের গরু কাশেম মিয়ার বোরো ধানে ক্ষেতে ঢুকে পাকা ধান খেয়ে ফেলে। এতে কাসেম মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে সিরাজুল ইসলামের পরিবারকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে কাশেমের ছেলে রুহুল মিয়া প্রতিপক্ষ সিরাজুলের ছেলে শহীদুল ইসলাম মুন্নাকে ছুরিকাঘাত করে। ওই অবস্থায় দেখে হোসাইন ও তার বাবা সিরাজুল এগিয়ে গেলে তাদেরও ছুরিকাঘাত করে জখম করা হয়। পরে সিরাজুল ও তার দুই ছেলে হোসাইন ও মুন্নাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে হোসাইনমারা যান। হোসাইনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে কাশম ও তার পরিবারের লোকজন। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করতে পারেনি পুলিশ। | 6 |
তামিম ইকবালের অপরাজিত ১৪১ রানের সৌজন্যে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১৭ রানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল শিরোপা ঘরে তুলেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। শুক্রবার মিরপর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম ইকবালের বিস্ফোরক ইনিংসে ভর করে ২০০ রানের পাহাড়সম টার্গেট দেয় কুমিল্লা। বড় রান তাড়া করার চাপ নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন ঢাকা ডায়নামাইটসের দুই ওপেনার উপল থারাঙ্গা ও সুনীল নারাইন। কিন্তু ইনিংসের মাত্র দ্বিতীয় বলেই সাইফউদ্দিনের ডিরেক্ট থ্রোতে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই ফিরে যান নারাইন। শুরুর ব্যর্থতার পর ক্রিজে আসা রনি তালুকদার ও আরেক ওপেনার উপুল থারাঙ্গা বিপর্যয় সামলে নেন। তাদের ১০২ রানে জুটিতে জ্বয়ের সুবাসও পেতে থাকে ঢাকা। কিন্তু মাত্র ২১ রান ব্যবধানে থারাঙ্গা, সাকিব আল হাসান ও রনি তালুকদার ফিরে গেলে জয় থেকে অনেকটা দূরে চলে যায় ডায়নামাইটস। পরবর্তীতে পোলার্ড, নুরুল হাসানসহ অন্যরা ক্রিজে এসে দু/একটি চার ছয়ের মার মারলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১৮২ রানে থামে ঢাকার ইনিংস। এর আগে মিরপুর শেরে-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার সন্ধা ৭টা শুরু হওয়া ম্যাচটির প্রথম ইনিংস ছিল অনেকটা 'তামিম-শো'। বিপিলের শুরুতে কুমিল্লার হয়ে টানা কয়েকটি ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া তামিম তার ঝলক দেখালেন ফাইনালে। সেঞ্চুরির পাশাপাশি খেললেন এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। মাত্র ৩১ বলে অর্ধশতক পাওয়া তামিম শতক পূর্ণ করেন ৫০ বলে। অর্থাৎ পরের অর্ধশতক আসে মাত্র ২০ বলে। এখানেই থেমে থাকেননি জাতীয় দলের এ ব্যাটিং স্তম্ভ। ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যোগ করেছেন আরও ৪১ রান। আর এ রান এসেছে মাত্র ১১ বলে। তামিম যেনে আজ হয়ে উঠেছিলেন ব্যাটিং দানব। ২৩১ স্ট্রাইক রেটে ১১টি ছয় এবং ১০টি চারের মার মেরছেন এ ওপেনার। রুবেল হোসেন, সাকিব আল হাসান বা আন্দ্রে রাসেল, কাউকেই ছেড়ে কথা বলেননি তিনি। ধীর গতিতে ব্যাটিং শুরু করে শেষের দিকে প্রায় প্রতিটি বলকে সীমানা ছাড়া করেছেন তিনি। বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের মেগা ফাইনালে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা। তবে শুরুটা ভালো করতে পারেনি ইমরুল বাহিনী। সূচনালগ্নেই টুর্নামেন্টজুড়ে বল হাতে আগুন ঝরানো রুবেলের এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ফেরেন ইনফর্ম এভিন লুইস। পরবর্তীতে এনামুল হককে নিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠেন তামিম ইকবাল। ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়া গড়ে তোলেন। তবে হঠাৎই পথচ্যুত হন এনামুল। সাকিবের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরার আগে ৩০ বলে ২ চারে ২৪ রান করেন তিনি। এর রেশ না কাটতেই ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটে কাটা পড়েন ফর্মে থাকা শামসুর রহমান। শেষ পর্যন্ত তামিমের দানবীয় ইনিংসে শুরুর দুঃখ ভুলে ঢাকাকে ২০০ রানের বড় সংগ্রহ দেয়ায় দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ম্যাচ শেষে বাস্তবায়ন ঘটে সে স্বপ্নের। | 12 |
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি খুন হয় সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি। তাদের একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘের বয়স তখন মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর। সেই মেঘ আজ পা দিয়েছে কিশোর বয়সে। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেটেও সমান মনোযোগ তার, কারণ এটিই যে তার ধ্যান-জ্ঞান। মেঘের স্বপ্ন- একদিন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের লাল-সবুজ জার্সি গায়ে চাপাবে সে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর নানি নুরুন্নাহার মির্জার কাছেই বড় হচ্ছিল মেঘ। সেই নানির অনুপ্রেরণায়ই ক্রিকেটে আগমন হয় মেঘের। মেঘ বলে, "আমার নানি ছিলেন ক্রিকেটের খুবই ভক্ত। ইন্ডিয়ার আইপিএলের নিলামের সময় নানি স্বপ্ন দেখতেন আমিও একদিন অত টাকার নিলামে খেলব। মূলত নানির উৎসাহেই আমি ক্রিকেটকে ভালোবেসেছি।" তবে সদ্য কৈশোরে পা রাখা নাতির ঘুরে দাঁড়ানো ভবিষ্যৎ বা ক্রিকেটে পা রাখার দৃশ্য নিজ চোখে দেখে যেতে পারেননি মেঘকে অবলম্বন করে বাঁচা নুরুন্নাহার মির্জা। দেখে যেতে পারলেন না মেয়ে-জামাতার প্রকৃত খুনী কে সেটিও। গত ৫ জানুয়ারি যে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন মেঘের নানি। বর্তমানে ঢাকার গুলশানের একটি স্কুলে স্ট্যান্ডার্ড নাইনে পড়ছে মেঘ। মেঘের স্কুলে আনা-নেওয়ার দায়িত্ব পালন করে আসছেন সাংবাদিক ফারজানা রূপা। মেঘের জীবনের লক্ষ্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলা। সে উদ্দেশ্যেই প্রথমদিকে ইন্দিরা ক্রিকেট একাডেমীতে এবং বর্তমানে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব একাডেমিতে দেশি-বিদেশি নামকরা কোচের অধীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সে। কয়েকদিন আগেই সিরাজগঞ্জে বিসিবির ইয়ুথ টাইগার্স অনুর্ধ্ব-১৬ জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে পঞ্চগড় জেলা দলের হয়েও খেলে এসেছে সে। এ বিষয়ে মেঘ বলে, "এখন আমার মূল লক্ষ্য জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলা। যেভাবে চলছে, আমি আশা করি অনুর্ধ্ব-১৯ দলে খেলতে পারব। অনুর্ধ্ব-১৪ দলে প্রায় চান্স পেয়েই গিয়েছিলাম। চার ধাপে সেখানে পরীক্ষা দিতে হয়। চতুর্থ ধাপের শেষ মুহুর্তে আমি বাদ পড়েছি। আসলে অনেক বেশি নার্ভাস থাকার কারণে ভালো করতে পারিনি। প্রথম ম্যাচটা খারাপ করলেও পরের দুটি ম্যাচ ভালো করেছি।" ক্রিকেটে মেঘের ভূমিকা অলরাউন্ডার হিসেবে। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি পেস বোলিং করলেও বোলিংটাই একটু বেশি পছন্দ তার। তবে তার কাছে দুটোর গুরুত্বই সমান। মেঘ বলে, "আমি যদি টানা এক বছর অনুশীলন করতে পারি তাহলে অনূর্ধ্ব-১৯ জাতীয় দলে তো খেলতে পারবোই। তারপর জাতীয় দলেও খেলতে পরাবো ইনশাআল্লাহ।" ক্রিকেটারদের মধ্যে মেঘের প্রিয় তারকা সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজা ও মুস্তাফিজুর রহমান। তবে নিজেও অলরাউন্ডার বলেই হয়ত সাকিবের মতোই বিশ্বসেরা হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখে সে। মেঘের ভাষ্যমতে, "আমি সাকিবের মতো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার হতে চাই। আমি চাই সাকিব যেভাবে ক্রিকেট খেলে সুনাম অর্জন করেছেন এবং দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছেন সে রকম খেলতে। আমি সব সময় সাকিবের খেলা অনুসরণ করি।" বিসিবির ইয়ুথ টাইগার অনূর্ধ্ব-১৬ জোনাল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট তিনটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল মেঘের। প্রথমটি বৃষ্টির কারণে পরিত্যাক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচটি বুধবার সে খেলেছে। আর শেষ ম্যাচটি ছিল শুক্রবার। এদিন মেঘের বাবা-মায়ের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী। তাই ম্যাচটি না খেলেই ঢাকায় ফিরে এসেছে মেঘ। নানি নুরুন্নাহার মির্জা ছাড়াও মেঘকে ভালোবাসার চাদরে আগলে রাখতেন আরেকজন, তার খালা নাবিলা ইফাত ধ্রুব। তিনিও গত বছরের জুনে পরপারে পাড়ি জমান। এখন মামা-মামীর স্নেহে বড় হচ্ছে মেঘ। মেঘের মামা নওশের রোমান জানান, খালা মারা যাওয়ার পর মেঘ কয়েকবার আজিমপুর কবরস্থানে ছুটে গেছে। একই জায়গায় ওর মা-বাবা, নানি ও খালা ঘুমিয়ে আছে। তিনি বলেন, "কোথাও আমরা মেঘকে একা যেতে দেই না। সর্বশেষ বুধবার সিরাজগঞ্জে ইয়ুথ টাইগার্স টুর্নামেন্ট-১৬-এ ম্যাচ খেলেছে, আমি ওর সঙ্গেই ছিলাম। ও যখন বাসার পাশেই ইন্দিরা ক্রিকেট একাডেমিতেও প্র্যাকটিস করতে যায়, তখনও আমরা কেউ না কেউ ওর সঙ্গে থাকি। ওর ইচ্ছাটাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করি। যাতে বাবা-মায়ের অভাবটা ওর মধ্যে কাজ না করে।" ক্রিকেটের বাইরে মেঘের সময় কিভাবে কাটে জানতে চাইলে নওশের রোমান বলেন, "পড়াশোনাতে মনোযোগের কোন ঘাটতি নেই। এর বাইরে যে সময়টা ও পায় তার পুরোটাই ক্রিকেট নিয়ে থাকে। ফিটনেস নিয়ে থাকে। করোনার মধ্যে যখন কেউ ঘর থেকে বের হতে পারে না, তখনও বাড়িতেই নিয়মিত ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করেছে সে। আসলে স্কুল, ক্রিকেট প্র্যাকটিস করে আর সময় থাকে না। এভাবেই বড় হচ্ছে মেঘ।" বাবা-মায়ের কথা কী ওর মনে পড়ে? জবাবে নওশের রোমান বলেন, "প্রথমদিকে কিছু জানতে চাইলেও এখন আর ওভাবে কিছু জানতে চায় না। তবে কিছু কিছু শব্দ ওকে ভাবাচ্ছে। যেমন ধরেন "ধামাচাপা"। সেদিন আমার কাছে ও জানতে চাইল মামা ধামাচাপাটা কী? এ ধরনের কিছু শব্দ ওর মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে সবসময় আমরা ওকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করি। হাসি-খুশি রাখার চেষ্টা করি। পাশাপাশি আবদারগুলোকে খুবই গুরুত্ব দেই।" | 12 |
রাজধানীর কলেজগেট থেকে শ্যামলী হয়ে শেরেবাংলা নগর- এটুকু এলাকা ঘিরে ১০টি সরকারি বড় হাসপাতাল। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চিকিৎসার জন্য সেখানে আসে। কিন্তু এই এলাকা ঘিরেই গড়ে উঠেছে ছোট ছোট ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে বড় ধরনের ফাঁদ। অন্তত ৪০টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রতিদিন রোগী ভাগিয়ে নিচ্ছে। রোগী ও স্বজনের পকেট খালি হলেও মিলছে না সঠিক চিকিৎসা। হাসপাতালের যে ধরনের ব্যবস্থাপনা ও সরঞ্জাম থাকার কথা, তার অধিকাংশই তাদের নেই। কিছু প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত যথাযথ চিকিৎসকও। মাঝেমধ্যে অপচিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে মারা যাচ্ছে রোগী।
'হাসপাতালপাড়া' হিসেবে পরিচিত শ্যামলী ও আশপাশ এলাকা ঘুরে চিকিৎসাসেবাপ্রত্যাশী অসংখ্য মানুষের মর্মন্তুদ ঘটনা জানা গেল। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেল, সরকারি হাসপাতালগুলোকে পুঁজি করেই কলেজগেট, বাবর রোড, খিলজী রোড, হুমায়ুন রোড ও শ্যামলী এলাকায় চিকিৎসার নামে ফাঁদ তৈরি করে রেখেছে প্রভাবশালী কয়েকটি চক্র। একেকটি হাসপাতাল সরকারদলীয় স্থানীয় একেকজন রাজনৈতিক নেতার 'দোকান'।
১১ ফেব্রুয়ারি, বিকেল সোয়া ৩টা। কলেজগেটসংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের সামনে ফুটপাতে তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে হা-হুতাশ করছিলেন- কীভাবে এত টাকা জোগাড় করবেন! বেসরকারি হাসপাতালে রোগী এনেই ভুল করেছেন! কী হয়েছে- জানতে চাইলে মো. জালাল নামের একজন জানালেন, তাদের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের কলাগাছিয়ায়। তার শ্যালকের স্ত্রী ফাতেমা (২১) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িতে বিষপান করেন। সেখান থেকে রোগীকে আনা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)। এরপর ওয়াশ করানো হয়। যারা ওয়াশ করেছেন, তারা ঢামেকে রোগী রাখা যাবে না জানিয়ে 'ঢাকা হেলথ কেয়ার হসপিটালে' পাঠিয়ে দেন। রোগীকে এখানে আনার পর চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় ভর্তি করেনি কর্তৃপক্ষ।
জালাল বলেন, 'আমরা এত টাকা পাব কোথায়? রোগীর স্বামী রিকশা চালান।' পরে যে অ্যাম্বুলেন্সে করে ফাতেমাকে হেলথ কেয়ারে আনা হয়েছিল, সেই অ্যাম্বুলেন্সেই তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা। মিটফোর্ডে নেওয়ার পর চিকিৎসক জানান, ফাতেমা মারা গেছেন। জালালের ভাষ্য, হেলথ কেয়ার হাসপাতাল যদি ফিরিয়ে না দিয়ে চিকিৎসা দিত, তাহলে ফাতেমা মারা যেতেন না।
ফাতেমাকে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ঢাকা হেলথ কেয়ার হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, 'আমি ব্যবসা করি সেবা দেওয়ার জন্য। তাই এখানে যত রোগী আসে, তাদের ভালো চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। শুধু খরচটা দিলেও চিকিৎসা দিয়ে থাকি। ফাতেমার স্বজনরা রোগী ভর্তির জন্য মোটেও টাকা দিতে পারছিল না। এ কারণে তারা রোগী নিয়ে চলে যায়।' আনিছুর রহমান দাবি করেন, 'দালালের মাধ্যমে রোগী আমরা ধরে আনি না।'
শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, এমন অনেক ঘটনা ঘটছে অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালেও। গত ৬ জানুয়ারি যমজ শিশুসন্তানের চার দিনের চিকিৎসা খরচ এক লাখ ২৬ হাজার টাকা দিতে না পারায় শ্যামলীর 'আমার বাংলাদেশ হসপিটাল' থেকে বের করে দেন হাসপাতালটির মালিক গোলাম সারোয়ার। আয়শা আক্তার দুই সন্তানকে নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে যাওয়ার পথে এক শিশুর মৃত্যু হয়।
কলেজগেট এলাকায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বিপরীতে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার। এই একটি ভবনেই রয়েছে ছয়টি বেসরকারি হাসপাতাল- ঢাকা হেলথ কেয়ার হসপিটাল, প্রাইম হাসপাতাল, রয়্যাল মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রেমিডি কেয়ার হাসপাতাল, লাইফ কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল এবং যমুনা হাসপাতাল। এ ছাড়া রয়েছে একটি ব্লাড ব্যাংক। দালালের মাধ্যমে রোগী ভাগানো এবং উপযুক্ত জনবল না থাকার কারণে মাস ছয়েক আগে এসব হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। কিছুদিন পর আবার চালু হয়।
শ্যামলী থেকে কলেজগেট পর্যন্ত সড়কের পাশে এবং মহল্লার ভেতরে এ রকম আরও কয়েকটি ভবনে একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল দেখা গেছে। এসব হাসপাতালের বেশির ভাগই নিম্নমানের। প্রয়োজনমতো চিকিৎসক ও নার্স নেই। দায়িত্বরত চিকিৎসক একেবারেই নবীন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই এলাকার বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতালের মালিক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের প্রাইম হাসপাতালের মালিক আবদুর রাজ্জাক মোহাম্মদপুর হুমায়ুন রোড ইউনিট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা উত্তরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল ইসলাম একই ভবনের যমুনা জেনারেল হাসপাতালের মালিক। ঢাকা হেলথ কেয়ার হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিছুর রহমান স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। বাবর রোড ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুর নবী দুই ভাই। নুর নবী তিনটি ও আবুল হোসেন একটি হাসপাতালের মালিক।
২০২০ সালের অক্টোবরে বাবর রোডে নুর নবীর মক্কা-মদিনা জেনারেল হাসপাতাল এবং মিরপুর রোডে আবুল হোসেনের ক্রিসেন্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত দুই ভাইকে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। নুর নবীর চিকিৎসা দেওয়ার সনদ না থাকলেও তিনি হাসপাতালে বসে রোগী দেখতেন এবং ব্যবস্থাপত্র দিতেন। রোগীদের ভাঙা হাত-পায়ের এক্স-রে দেখে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত দিতেন আবুল হোসেন। এসব অভিযোগে তাদের এই সাজা দেওয়া হয়। পরে জামিনে কারাগার থেকে বের হন তারা। মক্কা-মদিনা হাসপাতাল ওই সময় সিলগালা করে দেওয়া হলেও পরে হাইকোর্টে রিট করে সেটি খোলা হয়।
৮ ফেব্রুয়ারি, দুপুর ১টা। লিমা নামের এক নারী ডান পায়ে ক্ষত নিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা নিতে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে একটি এক্স-রে করানোর পরামর্শ দেন। চিকিৎসাপত্র নিয়ে সেখান থেকে বের হতেই এক যুবক তার পথ আগলিয়ে দাঁড়ান; নারীর কাছ থেকে চিকিৎসাপত্রটি নিয়ে নেন। বলেন, 'এক্স-রে করতে হবে। আমার সঙ্গে চলেন, ভালো হাসপাতাল থেকে এক্স-রে করিয়ে দিই।'
তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক লিমার সঙ্গে তার বৃদ্ধ মা ছিলেন। ওই যুবকের সঙ্গে তারা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বিপরীত দিকের প্রাইম অর্থপেডিক ও জেনারেল হসপিটাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। তাদের অনুসরণ করে হাসপাতালটির দোতলায় গিয়ে দেখা যায়, ওই যুবক নিজেই তাদের হাসপাতালের কাউন্টারে নেন। এক্স-রে করতে পাঁচশ টাকা নেওয়া হয় লিমার কাছ থেকে। এর পর ওই যুবক সেখান থেকে চলে যান।
৭ ফেব্রুয়ারি, দুপুর ১টা ৪০ মিনিট। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। একজন মধ্যবয়স্ক রোগীকে নিয়ে আসেন এক যুবক ও এক নারী। তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে আসামাত্র এক ব্যক্তি তাদের দিকে এগিয়ে যান। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে আরেক ব্যক্তিকে ডেকে রোগীর নির্ধারিত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে বলেন। চিকিৎসকের কক্ষের সামনে নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। যুবক রোগীকে নিয়ে চিকিৎসকের কক্ষে ঢোকেন এবং ওই ব্যক্তি বাইরে অপেক্ষায় থাকেন।
রোগীর স্বজন পরিচয় দিয়ে অপেক্ষমাণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তার নাম নাজিবুল ইসলাম লালু। হাসপাতালের কর্মচারী কিনা জানতে চাইলে বলেন, তিনি হাসপাতালে ঘোরাফেরা করেন। রোগীর সেবায় নিয়োজিত আছেন। লালু আসলে একজন দালাল। রোগী 'ধরার' জন্যই হৃদরোগ হাসপাতালে ঘোরাফেরা করেন।
কিছুক্ষণ পর রোগীকে নিয়ে বের হন ওই যুবক। লালু তার হাত থেকে চিকিৎসাপত্র নিয়ে জানালেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছেন চিকিৎসক। এগুলো প্রাইম হাসপাতালে কম খরচে করিয়ে দেবেন তিনি। এও বলেন, পরীক্ষা করিয়ে ওখানেই রোগীর অপারেশন করা যাবে স্বল্প খরচে।
যদিও প্রাইম হাসপাতালের মালিক আবদুর রাজ্জাক দাবি করেন, তারা দালালের মাধ্যমে রোগী আনেন না। ঘটনার কথা জানালে বলেন, 'এখন মিটিংয়ে আছি। একসময় আসেন, সামনাসামনি কথা বলি।'
রোগীর সঙ্গে আসা যুবক শাওন জানান, তাদের বাড়ি কুমিল্লায়। তার শ্বশুর আবদুর রাজ্জাক ভাসকুলার রোগী। এর আগে রোগী নিয়ে তিনি দুপুর সাড়ে ১২টায় এসেছিলেন হৃদরোগ হাসপাতালে। কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার পরই একজন দালালের খপ্পরে পড়েছিলেন। ভালো চিকিৎসার কথা বলে দালাল রোগীসহ তাদের নিয়ে যান মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে অবস্থিত ঢাকা হেলথ কেয়ার হসপিটালে। সেখানে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে এক ব্যক্তি রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর একটি তালিকা তৈরি করে দেন। সেই পরীক্ষা করতে খরচ হতো সাত হাজার টাকা। পরীক্ষা না করিয়ে শাওন রোগী নিয়ে ফের হৃদরোগে ফিরে আসেন ১টা ৪০ মিনিটে। আক্ষেপ করে শাওন বলেন, 'হাসপাতালে দালালে ভরপুর। হয়রানির শেষ নেই।'
গত ৬ জানুয়ারি শ্যামলীর 'আমার বাংলাদেশ হসপিটাল' থেকে যে দুই শিশু ও তাদের মা আয়শা আক্তারকে টাকার জন্য বের করে দেওয়া হয়েছিল, সেই দুই শিশু সেখানে যাওয়ার আগে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। সেখানকার একজন দালাল আয়শাকে 'আমার বাংলাদেশ হসপিটালে' পাঠিয়ে দেন, স্বল্প টাকায় দুই শিশুর ভালো চিকিৎসার কথা বলে। এনআইসিইউতে ভর্তি করিয়ে চার দিনে এক লাখ ২৬ হাজার টাকার বিল করেন হাসপাতালটির মালিক গোলাম সারোয়ার।
শতাধিক দালাল রয়েছে শুধু ওই এলাকার সরকারি হাসপাতালগুলোতে। পঙ্গু হাসপাতালে দালালের চারটি গ্রুপ রয়েছে। একটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাবুল হোসেন ওরফে কালা বাবু, তিনি পঙ্গু হাসপাতাল ইউনিট আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। আরেকটি গ্রুপের নেতৃত্বে থাকা মজনু ইউনিট আওয়ামী লীগের সহসভাপতি। ঢাকা শিশু হাসপাতালের দালালের হোতা রাসেল। দালালদের মধ্যে আরও রয়েছেন- জহির, সাগর, মানিক মিয়া, কাউসার, শরীফ, মানিক, সুমন, আবদুস ছালাম, আলতাফ. ইয়াসমিন, শাহ আলম, তমাল বড়াই, কমল, আবদুর রাজ্জাক, জাকির ও সাইফুল ইসলাম।
১২ ফেব্রুয়ারি, দুপুর সোয়া ১২টায় শ্যামলীর ক্রিসেন্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, একজন চিকিৎসক দায়িত্বে আছেন। ডা. ওমর ফারুক নামের ওই চিকিৎসক জানান, ২০ শয্যার এই হাসপাতালে একজন রোগী ভর্তি আছেন। হাসপাতালটিতে সার্বক্ষণিক একজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন।
দুপুর ২টার দিকে লাইফ কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, একজন নার্স অভ্যর্থনা ডেস্কে বসে আছেন। দায়িত্বরত কোনো চিকিৎসক নেই। হাসপাতালটির মালিক বিভা বিশ্বাস সমকালকে বলেন, ১০ শয্যার হাসপাতালটিতে কোনো রোগী ভর্তি নেই। এ কারণে চিকিৎসক বাইরে খেতে গেছেন। ওই এলাকার আরও ২০টি বেসরকারি হাসপাতাল ঘুরে প্রায় একই চিত্র দেখা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া সমকালকে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি এখনও সমাধান করা যায়নি। এ নিয়ে কার্যক্রম চলছে।
দালালের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। দালালের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথভাবে অভিযান অব্যাহত আছে।
| 6 |
দেশে করোনা সংক্রমণ বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর তিতুমীর সরকারি কলেজে বিডিএস প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর আমাদের দেশ এক নয়। করোনা সংক্রমণ হলে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করবে আমরাও সেই ধরনের পরামর্শ দেব। পরীক্ষাকেন্দ্র নিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু পরীক্ষার্থীরা সবাই অ্যাডাল্ট তাই আমরা অভিভাবকদের আসতে নিষেধ করেছিলাম, তারপরও তারা এসেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এখনও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে অনুমতি আসেনি। ডব্লিউএইচও অনুমতি দিলে শিশুদের টিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিশুদের করোনা আক্রান্তের হার কম। তিনি বলেন, এ মাসে দুই কোটি টিকা পাওয়া যাবে। গণটিকা কার্যক্রম চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি সপ্তাহে ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা আসবে আগামী তিন মাসে। কোভ্যাক্স থেকে ১০ কোটি টিকা কেনা হবে। যেখানে যেখানে সম্ভব সেখানে ফাইজার টিকা দেওয়া হবে। | 6 |
একদিকে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ, তার ওপর কোটি কোটি পঙ্গপালের হানায় শেষ মাঠের ফসল। ফলে মারাত্মক খাদ্য সংকটে পড়েছে ইথিওপিয়া। জাতিসংঘ বলছে, পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতে ইতোমধ্যে দুই লাখ হেক্টর জমির ফসল উজাড় করে ফেলেছে পঙ্গপালের ঝাঁক, সেখানে এখনই অন্তত ১০ লাখ মানুষের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। আগামী কয়েক দিনে পূর্ব আফ্রিকায় পঙ্গপাল পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। শত শত কোটি পঙ্গপাল চষে বেড়াচ্ছে এ অঞ্চলে। এদের কিছু কিছু ঝাঁকের আকার রীতিমতো রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর চেয়েও বড়। পঙ্গপাল ইতোমধ্যে ইথিওপিয়া, সোমালিয়া, কেনিয়া, জিবুতি, ইরিত্রিয়া, তানজানিয়া, সুদান, দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডায় তাণ্ডব চালিয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বর্ষণমুখর বর্ষাকালে এ অঞ্চলে হঠাৎই পঙ্গপালের বংশবৃদ্ধি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য-এফএও জানায়, পঙ্গপালের হানায় ইথিওপিয়ায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলের গম-ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে কমে গেছে গোচারণ ভূমি। আফ্রিকার দ্বিতীয় ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ইথিওপিয়ায় ১১ কোটি মানুষের বসবাস। ইতোমধ্যে সেখানে ৭৪ জনের শরীরে নভেল করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে। তবে এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর মতোই পরীক্ষা করার সুযোগের স্বল্পতা ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে সেখানেও দ্রুতই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। | 3 |
রশিদ খান, মোহাম্মদ নবীর দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশকে ২০০ রানের আগেই আটকে দেয় আফগানিস্তান। এবার রহমত উল্লাহ গুরবাজ ও রহমত শাহের ব্যাটে জয়ের সুবাতাস পাচ্ছে তারা। এই জুটির পঞ্চম পেরোনোর ইনিংসে চড়ে জয়ের পথে আফগানরা।আজ সোমবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ওভারের ১৯ বল বাকি থাকতেই ১৯৩ রানে ইনিংস গুটিয়ে যায় তামিম ইকবালরা। লিটন দাস খেলেন ৮৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটি দারুণ সূচনা করেন গুরবাজ ও রিয়াজ আহমেদ। সিরিজ হারলেও ওয়ানডে সুপার লিগের দশ পয়েন্ট যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার প্রমাণ মেলে তাদের ব্যাটে। তাদের ৭৯ রানে জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন সাকিব। ৪৯ বলে ৩৫ করে সাজঘরে ফেরেন রিয়াজ।তিনে এসে গুরবাজকে যোগ্য সঙ্গ দেন রহমত। লম্বা সময় ধরে ব্যাট করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে এসেছেন তিনি। তাদের ৭৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয়ের খুব নিকটে আফগানরা। | 12 |
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ৯টি ধারা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সংবাদপত্রের সম্পাদকের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। সোমবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এই মানববন্ধন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকেরা অংশ নেন। মানববন্ধনে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম তাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরে বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, আলোচনা বন্ধ হয়নি। এটা ইতিবাচক। কিন্তু আলোচনার নামে যেন প্রহসন না হয়। মাহফুজ আনাম যে ৭ দফা তুলে ধরেন সেগুলো হচ্ছে- ১. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারাগুলো অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে; ২. এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনেই আনতে হবে; ৩. পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদের শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে, তবে কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেওয়া উচিত সেই বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে; ৪. কোনো সংবাদমাধ্যমের কোনো কম্পিউটার ব্যবস্থা আটকে দেওয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে; ৫. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতা দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেফতার করা যাবে না; ৬. সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর দ্বারা সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়েরের গ্রহণযোগ্যতা আছে কি-না তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পরে; ৭. এই সরকারের পাস করা তথ্য অধিকার আইনে দ্ব্যর্থহীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া উচিত। এই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যকভাবে করতে হবে। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেনপ্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান, সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনিরুজ্জামান,ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শহীদুজ্জামান খান ও করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক লালু। এর আগে গত শনিবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারা (৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে সম্পাদক পরিষদ। তাদের ভাষ্য, উল্লিখিত ৯টি ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এজন্য ২১ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে ধারাগুলো সংশোধন করে আইনটি পরিবর্তনের দাবি পরিষদের। | 6 |
২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংক হিসাবে ১০ লাখ টাকার বেশি স্থিতি থাকার ওপর আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। ফলে ব্যাংকে যাদের ১০ লাখ টাকার ওপরে রয়েছে তাদের টাকা রাখার খরচ বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) 'অর্থনৈতিক উত্তরণ ও ভবিষ্যৎ পথপরিক্রমা' শিরোনামে জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের এই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক বর্তমানে যা আছে তাই রাখা হয়েছে। আর ১০ লাখ টাকার বেশি থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত স্থিতি থাকা ব্যাংক হিসাবের আবগারি শুল্ক দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া এক কোটি টাকার বেশি থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক ১২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর পাঁচ কোটি টাকার বেশি স্থিতির ক্ষেত্রে আবগরি শুল্ক ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
| 0 |
রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার সময় এক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেনের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার মধ্যরাতে দারুস সালাম থানায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীকে আসামি করে এ মামলা হয়। এতে বাদি হয়েছেন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক। তিনি ওই এলাকার সাবেক এমপি এসএ খালেকের ছেলে। অবশ্য ওই ঘটনায় এর আগে দারুস সালাম থানা পুলিশ বাদি হয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। মামলার আসামিরা হলেন- দারুস সালাম থানা সেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মো. ইসলাম, থানা ছাত্রলীগের নাবিল খান, থানা সেচ্ছাসেবক লীগের মো. বাদল, ১২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক মো. সোহেল, দারুস সালাম থানা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ রাজন, সেচ্ছাসেবক লীগের জুয়েল, শেখ ফারুক, শাহআলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জাকির ও সাধারণ সম্পাদক সৈকত, শাহআলী থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. রনি, শাহআলী থানা ছাত্রলীগের শাওন এবং একই থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মফিজুল ইসলাম শুভ। বাদি এজাহারে আসামি হিসেবে ওই ১২ জনের নাম উল্লেখ করে বলেন, অজ্ঞাতনামা আরও অনেক আসামি ঘটনার দিন রামদা, ছুরি, চাকু, রড হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। মামলার এজাহারে বাদি বলেছেন, ১৪ ডিসেম্বর সকাল ১০টার দিকে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন, ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী, আ. স. ম রব, ড. রেজা কিবরিয়া, ঢাকা-১৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী আবদুস সালাম ও তিনিসহ মিরপুরের বিভিন্ন এলাকার বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বের হচ্ছিলেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের ১নং গেটের সামনে আকস্মিকভাবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশ ও প্রত্যক্ষ মদদে ওই হামলা হয়। এতে জাতীয় নেতৃবৃন্দ, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণ গুরুতর আহত হন। এজাহারে আহত ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বলা হয় তারা এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের মিরপুর বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, শনিবার রাতে মামলার বাদি ও ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আবুবকর সিদ্দিক একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেটি যাচাই করে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৩/৩২৫ ধারায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। দারুস সালাম থানার ওসি মো. সেলিমুজ্জামান জানান, রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই মামলায় কোনো আসামি আটক বা গ্রেফতার করা যায়নি। তবে এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্তও চলছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগ করা হচ্ছে, তাদের প্রচারণা ও গণসংযোগে হামলা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর এই প্রথম সরকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ঢাকার কোনো থানায় মামলা করলো বিএনপির প্রার্থী। | 6 |
কারও ঘুম কম, কারও বেশি। কেউ শুলেই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন, কারও আবার ঘুম এতটাই পাতলা সামান্য শব্দেই ভেঙে যায়। কিন্তু যখন যেমন ঘুমই হোক না কেন তাতে স্বপ্ন বাধ্যতামূলক। কোনও স্বপ্ন মনে থেকে যায়, কোনওটা বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়। কিন্তু প্রত্যেক স্বপ্নের কিছু না কিছু অর্থ রয়েছে, এমনই দাবি করে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে কিছু স্বপ্ন যেমন খারাপ সময়ের ইঙ্গিত, কিছু স্বপ্ন এমনও হয় যাতে সুসময়ের বার্তা পাওয়া যায়। খবর সংবাদ প্রতিদিনের। ১. ফলের রাজা আম স্বপ্নে দেখা খুবই শুভ। বলা হয়, এতে অর্থলাভ হয়। আবার সোনা কিংবা হীরের গয়না পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। ২. ধরুন এমন স্বপ্ন দেখেছেন যাতে আপনি ক্রমাগত গাছের উপরের দিকে উঠছেন। তার মানে আপনার জীবনে সাফল্য আসতে চলেছে। তা সাংসারিক ক্ষেত্রেও হতে পারে, আবার পেশাগত ক্ষেত্রেও হতে পারে। ৩. স্বপ্নে মৌমাছি কিংবা মৌচাক দেখা ভাল। তার মানে আপনার জীবন মধুর হতে চলেছে। তা আর্থিক দিক থেকেও হতে পারে, আবার ভালাবাসার মানুষের আগমনও হতে পারে। ৪. স্বপ্নে টিয়া পাখি দেখে থাকলে আপনি ধনী হতে চলেছেন। শুক জাতীয় পাখি খুবই শুভ বলে মনে করা হয়। ৫. স্বপ্নে পাহাড়ের শিখরে উঠছেন মানে আপনি সমস্ত বাধা বিপত্তি পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে চলেছেন। ৬. পূজোর কাজে দুধ ব্যবহার করা হয়। তা পবিত্র হিসেবেই মানা হয়। দুধ পান করার স্বপ্ন দেখলে আপনার সংসারের সম্পত্তি বৃদ্ধি হবে। ৭. ফল ভরতি গাছ দেখলেও আপনার সংসারের শ্রী বৃদ্ধি পেতে চলেছে। ৮. স্বপ্নে মরা পাখি দেখাও নাকি শুভ। তাতে অর্থ ও সাফল্য দুই-ই পাওয়া যায় বলেই মনে করা হয়। "যত মত তত পথ।" কোন পথে আপনি চলবেন সে সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আপনার। বাস্তবের পাশাপাশি স্বপ্নের অস্তিত্ব রয়েছে। তার পিছনে ছুটেই অনেক অসাধ্য সাধন করা যায়। এমনটাই বিশ্বাস অনেকের। আর বিশ্বাসেই তো মিলায় বস্তু। | 4 |
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আবুল কাশেম (মাঝি) (৬০) নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযুক্ত শফিক মিজিকে (৬৫) গ্রেপ্তার করে। বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের ইমান আলী বাজারে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আবুল কাশেম মাঝি উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের চরপানা উল্যা গ্রামের মৃত ওয়াহেদ আলীর ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত শফিক মিজি একই এলাকার মৃত ফজলের রহমানের ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে যাওয়ার পথে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে আবুল কাশেম মাঝিকে ছুরিকাঘাতে গুরুত্বর আহত করে একই এলাকার শফিক মিজি। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় কাশেম মাঝিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। চরজব্বর থানার ওসি মো.জিয়াউল হক অভিযুক্ত শফিক মিজিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানাতে গেল দুই মাসে রহস্যজনকভাবে সাড়ে তিনশ'র বেশি হাতির মৃত্যু হয়েছে। শত শত হাতির মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারছিলেন না। আর এমন রহস্যজনক ঘটনা আগে কখনই ঘটেনি। তাই বিষয়টা নিয়ে প্রাণিবিজ্ঞানীদের পাশাপাশি সরকারও পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। তবে গণহারে হাতি মৃত্যুর রহস্যের জট খোলার মতো এবার কিছু তথ্য পাওয়া গেল। মৃত হাতির নমুনা সংগ্রহ করে তা পাঠানো হয়েছিল জিম্বাবুয়েতে। সেখানকার ল্যাবে পরীক্ষা করে প্রমাণিত হয়েছে হাতির মৃত্যুর কারণ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্বে প্রথম করোনায় হাতির মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া গেল। তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় আসেনি। আরো বেশ কিছু নমুনার ফলাফল পাওয়া গেলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা যাবে। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে বিপুল সংখ্যক হাতির মৃত্যুর কারণ উৎঘাটনের চেষ্টা করছে বতসোয়ানার বন কর্তৃপক্ষও। তবে তারা মৃত্যুর কারণ হিসেবে অ্যানথ্রাক্স বা পোচিংয়েলের সম্ভাবনা নাকচ করছে। কর্মকর্তারা বনের ৮ হাজার বর্গ মাইলের মধ্যে ২৮১টি হাতির নমুনা সংগ্রহ করেছে। এ অঞ্চলটিতে প্রায় ১৮ হাজার হাতির বসবাস। বতসোয়ানার বন বিভাগ বলছে, প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপের ফলাফল হাতে আসার পরই শত শত হাতির মৃত্যু করোনাভাইরাসের কারণেই হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে গেল কয়েক মাসের গণহারে হাতির মৃত্যুতে দেশটির প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার হাতির ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়েছে বতসোয়ানা সরকার। আফ্রিকা মহাদেশের এক তৃতীয়াংশ হাতির আবাসস্থল বতসোয়ানাতে ১৯৯০ সালে পর থেকেই হাতির সংখ্যা বাড়ছিল। তবে গেল কয়েক বছর ধরে প্রতিনিয়ত পোচিংয়েলের কারণে মৃত্যুতে দেশটিতে দিন দিন হাতির সংখ্যা কমছে। | 3 |
অল্প বৃষ্টিতেই সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ ধসে গেছে। নির্মাণকাজ শেষের আট দিনের মাথায় উপজেলার মইয়ার হাওরের কলইকাটায় এ দুটি ফসল রক্ষা বাঁধ ধসে গেছে। এতে ফসল নষ্টের শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।কৃষক ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলায় এবার ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দে ২৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ১৫ কিলোমিটার ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৬ নম্বর প্রকল্পে বরাদ্দ প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং ১৭ নম্বর প্রকল্পের বরাদ্দ ২০ লাখ টাকা। ২০ মার্চ এ বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হয়। গত শনি ও রোববার রাতে বৃষ্টি হলে গতকাল সোমবার মইয়ার হাওরে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ ১৬ ও ১৭ নম্বর বাঁধের প্রায় ২০ ফুট জায়গার মাটি ধসে যায়।ঘটনাস্থলে ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আবু মিয়া জানান, এ দুটি প্রকল্পের কাজ নিম্নমানের হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধগুলো ধসে গেছে। গত কয়েক দিনে চারবার বাঁধগুলো ধসে পড়ে।'হাওর বাঁচাও আন্দোলন' জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাওরের অধিকাংশ ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধে বালুমাটি ব্যবহার করা হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব বাঁধ ধসে ফসলহানির শঙ্কা রয়েছে। এর দায়ভার পাউবোকে নিতে হবে।এদিকে ১৬ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি বিপ্লব চন্দ্র দাস বলেন, 'আমার প্রকল্পের বেড়িবাঁধ সামান্য অংশ ধসে গেছে। আমি সংস্কারকাজ চালিয়ে যাচ্ছি।'১৭ নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, 'বেড়িবাঁধটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায়। প্রতিবছর মাছ শিকারিরা বাঁধ ভেঙে দেওয়ায় এখানে একটি গর্ত রয়েছে। মাটি টিকছে না, ফলে ধসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।'পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী হাসান গাজী বলেন, 'এ দুটি প্রকল্প বারবার ধসে যাওয়ায় আমরা বিকল্প বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছি।'জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজেদুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, উপজেলার সব কটি বাঁধের কাজ শেষ। ধসে যাওয়া বাঁধ দ্রুত নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। | 6 |
কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' ১৪ মামলার এক আসামি নিহত হয়েছেন। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বুড়িচং উপজেলার কংশনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জেলা ডিবি পুলিশের ওসিসহ তিন সদস্য আহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে তিনজনকে। পুুলিশ জানিয়েছে, নিহত আবদুল হালিম ডাকাত দলের একজন সদস্য। তিনি উপজেলার বাজেবাহেরচর গ্রামের মফিজুল ইসলাম মাবুর ছেলে। পুলিশ আরও জানায়, কংশনগর এলাকার একটি ইটভাটার সামনে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে ১৪-১৫ জনের সশস্ত্র ডাকাত দলের ডাকাতির প্রস্তুতির খবরে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল-মামুন ও তানভীর সালেহীন ইমন,
ডিবির ওসি নাসির উদ্দিন মৃধাসহ জেলা ডিবির পৃথক তিনটি টিম ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়। তারা জানায়, এ সময় ডাকাতরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে ডিবির ওসি নাসির উদ্দিন মৃধা, কনস্টেবল আবদুল্লাহ ও সাইফুল ইসলাম জখম হন। এ সময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ জানান, উভয়পক্ষের গোলাগুলি চলাকালে ডাকাতদের গুলিতে আবদুল হালিম নামে এক ডাকাত গুলিবিদ্ধ হন। পরে আহত হালিম, জাকির হোসেন ও লিমন সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি জানান, এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, এক রাউন্ড গুলি, দুইটি ধারালো ছুরি, একটি রামদা উদ্ধার করা হয়। আহত ডাকাতকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসআই শাহ কামাল জানান, নিহত ডাকাত আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৪টি ও গ্রেফতার ডাকাত জাকিরের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটনায় ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেছেন। | 6 |
করোনা মহামারিতে সহায়তা তহবিল গঠনে 'স্বপ্নের ডাক' নামে অনলাইন কনসার্টের আয়োজন করেছে 'এশিয়াটিক ইএক্সপি' ও অস্ট্রেলিয়ার 'লিসেন ফর' এবং সহযোগিতা করছে ইউএনডিপি। এই কনসার্ট আজ বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় প্রথম পর্ব প্রচারের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে। এরপর একে একে দেখা যাবে সব পর্ব। আয়োজনটি বাংলাদেশ ও এর বাইরে বসবাসরত বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে চারটি টাইম জোন ও চারটি পর্বে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর আমেরিকা ও বাংলাদেশ নিয়ে ভাগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা জোনে ২০ জুন তাদের নিজস্ব সময় রাত ৮টায় এবং অস্ট্রেলিয়ায় ২১ জুন তাদের নিজস্ব সময় সন্ধ্যা ৭টায় এই কনসার্ট সরাসরি দেখা যাবে স্বপ্নের ডাক ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে। এ আয়োজন থেকে পাওয়া অর্থসহায়তা ইউএনডিপির মাধ্যমে চলে যাবে অসহায় মানুষের কাছে। কনসার্টটিতে দেশি ও বিদেশি শিল্পীরা অংশগ্রহণ করবেন। শাফিন আহমেদ, কুমার বিশ্বজিৎ, বাপ্পা মজুমদার, পার্থ বড়ুয়া, সামিনা চৌধুরী, মাকসুদ ও ঢাকা, তাহসান খান, মিলা, আঁখি আলমগীর, দিনাত জাহান মুন্নি প্রমুখ দেশ থেকে এবং শ্রীকান্ত আচার্য, নচিকেতা, লোপামুদ্রা মিত্র, অর্ক মুখার্জি, চন্দন, অনিলা চৌধুরী প্রমুখ দেশের বাইরে থেকে অংশগ্রহণ করবেন। এ ছাড়া আবৃত্তি করবেন আসাদুজ্জামান নূর, হাসান আরিফ, প্রজ্ঞা লাবণী ও শারমিন লাকি। আলাপচারিতায় যোগ দেবেন সারা যাকের, জুয়েল আইচ, নুসরাত ফারিয়া, মিথিলা, বিদ্যা সিনহা মিম, অপূর্ব, ফজলুর রহমান বাবু, আফসানা মিমি প্রমুখ। বিস্তারিত জানতে ও সহায়তা করতে ঢুকতে পারেন এখানে-.-.. | 2 |
দেশে মৌলবাদীদের অর্থনৈতিক বিকাশ ও তা বিভিন্ন স্থানে বিনিয়োগের পথকে চিরতরে রুখে দেওয়ার দাবি তুলেছেন রাজশাহীর বিভিন্ন স্তরের রাজনীতিক, সাংবাদিকসহ সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বুধবার সকালে নগরীর আলুপট্টির বঙ্গবন্ধু চত্বরে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি তোলেন তারা। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের আকাঙ্খা নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল; সেটিকে বিনির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি এও মনে রাখতে হবে-এদেশে মৌলবাদীদের অর্থনীতি অত্যন্ত সক্রিয়। তাদের সেই অর্থ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ হচ্ছে। সেখান থেকে যে মুনাফা আসছে সেগুলো বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রীতির দেশ গড়তে এগুলোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্কুল পর্যায় থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, বক্তৃতা বা স্লোগান দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করা যাবে না। এটি বাস্তবায়ন করতে হবে স্কুল পর্যায় থেকে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার জন্য কর্মসূচি দিতে হবে। পাঠ্য বই, সিলেবাসে তা সংযোজন করতে হবে। সিঙ্গাপুরের মতো দেশে প্রচণ্ড দাঙ্গা, হানাহানি ছিল। তারা সেটি সমাধান করতে পেরেছে। তবে ভারত, বাংলাদেশ পাকিস্তান তা কেন পারেনি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমাদের কার্যত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বর্তমানে সারাদেশে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে গেছে। উচিত হবে এসব ফিরিয়ে আনা। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধন থেকে বাহাত্তরের সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠারও দাবি উঠে। বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা প্রতিষ্ঠায় ৭২-এর সংবিধানের অপরিহার্যতা অনিস্বীকার্য। এ চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে ৭২-এর সংবিধানের চার মূলনীতি-গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙ্গালি জাতীয়বাদ ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেতই সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। বক্তারা হিন্দুদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডের ধিক্কার ও নিন্দা জানিয়ে সামগ্রিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সাংবাদিক আহমেদ সফিউদ্দীন। বক্তব্য রাখেন-রাজশাহী থিয়েটারের সভাপতি নিতাই কুমার সরকার, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরিফুজ্জামান জুয়েল, সেক্টর কমান্ডার ফোরামের রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, রাজশাহী মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক দেবাশিষ প্রামানিক দেবু, ওয়ালিউর রহমান বাবু, খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, উন্নয়নকর্মী সুব্রত পাল, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি কাজী শাহেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিবলী নোমান, রাজশাহী টিলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান জনি, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ের কোষাধ্যক্ষ সরকার দুলাল, সিনিয়র সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, সমাজকর্মী দীপেন্দ্রনাথ দাস, সুজনের মহানগর সভাপতি পিয়ার বক্স, সাবেক ছাত্রনেতা তামিম সিরাজি প্রমুখ। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি মামুন-অর রশীদ। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 6 |
নওগাঁর সাপাহারে আম চাষিরা এ বছর আম চাষে যেমন বিপ্লব ঘটিয়েছেন, ঠিক তেমনই করলা চাষ করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হচ্ছেন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন করলা চাষিরা। করলা বিক্রি করে অনেকেই এখন সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছেন। বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই এই উপজেলার চাষিরা করলা চাষে উৎসাহিত হয়ে তাদের হাইব্রিড আম বাগানে গাছের ফাঁকে ফাঁকে সাথি ফসল হিসেবে করলা চাষ করে। পরে স্থানীয় বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করে সংসারের খরচ মিটিয়ে কিছু টাকা লাভ করতেন। পরবর্তী সময়ে করলা চাষের খবর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান হতে কাঁচা তরিতরকারির ব্যবসায়ীরা ছুটে চলে আসেন সাপাহারে। প্রতি মণ করলা ৯০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হয়তো বাজার কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলেও অনেক চাষি মনে করছেন। আমের পরে সবজি চাষেও এবার রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ চিনবে সাপাহারকে এমনটাই মনে করছেন উপজেলার অভিজ্ঞ কৃষকরা। করলার অস্থায়ী এই বাজারে এসে ঢাকার কাওরান বাজারের আনোয়ার হোসেন নামের এক সবজি ব্যবসায়ী জানান, সাপাহারের করলার গুণগতমান ভাল ও এখান থেকে করলা কিনে লাভ ভাল হওয়ায় তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে এখানকার করলা রাজধানী ঢাকার কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। স্থানীয় করলা চাষি নজরুল ইসলাম, ছয়ফুল ইসলাম ও আব্দুল মমিনসহ বেশ কিছু কৃষক জানান, অস্থায়ীভাবে উপজেলা সদরের বাইরে এই স্থানে করলার বাজার গড়ে না উঠলে এখানকার চাষিরা এই হারে করলা চাষাবাদ করতেন না। বর্তমানে তারাসহ অনেকেই এখন করলা চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। এই বাজারের ক্রেতা বিক্রেতারা জানান, প্রতিদিন এই বাজার থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টন করলা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হয়ে থাকে। উপজেলা কৃষি অফিসার মজিবুর রহমান জানান, কয়েক বছর ধরে করলা চাষ এ উপজেলার চাষিদের মাঝে এক নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। কৃষি অফিসের পরামর্শে উপজেলার অনেকেই এখন দেশি, হাইব্রিড, সোনামুখীসহ বিভিন্ন জাতের করলা চাষাবাদ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। এ বছর উপজেলায় ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা জমিতে করলা চাষাবাদ হয়েছে। করলা ক্ষণস্থায়ী ফসল হলেও এবারে ব্যাপক ফলন হয়েছে, দামও রয়েছে কৃষকের মনের মতো। আবহাওয়া আর কিছু দিন চাষিদের অনুকূলে থাকলে করলা চাষের মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে। উপজেলার আম চাষিরা এ বছর আম চাষে যেমন এক বিপ্লব ঘটিয়েছেন, ঠিক তেমনটাই করলা চাষেও বিপ্লব ঘটাবে। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
ভারতে সম্প্রতি করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় চীন জানিয়েছে, প্রতিবেশি দেশটির মহামারীর এই পরিস্থিতিতে যেকোনো প্রয়োজনীয় সাহায্য দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। অপরদিকে করোনা সংক্রমিত রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন আমদানির জন্য চীনের কথা বিবেচনায় রাখছে না ভারত। বৃহস্পতিবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় করোনাভাইরাস সংক্রমণকে সকল মানুষের সাধারণ শত্রু হিসেবে বর্ণনা করে এক বিবৃতিতে জানায়, করোনা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সংহতি ও পারস্পরিক সহায়তার প্রয়োজন স্পষ্ট করেছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ভারতে করোনার সাম্প্রতিক শোচনীয় পরিস্থিতিতে চীন দেশটির মহামারী প্রতিরোধী চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব সাময়িক লক্ষ্য করেছে। অপরদিকে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত সপ্তাহে করোনা সংক্রমিত রোগীদের চিকিৎসায় অক্সিজেন আমদানির কথা ঘোষণা করেছেন। তবে এই অক্সিজেন আমদানির জন্য চীনের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে না বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, অক্সিজেন আমদানির জন্য তারা সম্ভাব্য উৎস হিসেবে উপসাগরীয় দেশ ও সিঙ্গাপুরের কথা চিন্তা করছেন। গত বছর চীন থেকে ভারত বাণিজ্যিক চুক্তির আওতায় বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানি করেছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধী টিকা দুই দেশই দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করে আসছিল। তবে ভারতে করোনা পরিস্থিতির অবনতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি অন্য দেশে আর টিকা রফতানি করছে না। যদিও ভারতে টিকা রফতানিতে সরকারিভাবে এখনো কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি। ভারতীয় টিকা সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়াই ইতোমধ্যে শ্রীলঙ্কা ও নেপাল চীনের কাছ থেকে টিকা আমদানি শুরু করেছে। অপরদিকে বাংলাদেশও চীন থেকে টিকা আমদানির জন্য আলোচনা করছে। জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুসারে, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৬২ লাখ ৬৩ হাজার ছয় শ' ৯৫ জন। অপরদিকে ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার নয় শ' ২৮ জনের। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া | 3 |
তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেনি টাইগাররা। ফলে সব উইকেট হারিয়ে ১৯২ রান তুলতে সক্ষম হয় তামিম বাহিনী। এখন বল হাতে সাকিব-তাসকিনরা কেমন লড়াই করবে তা দেখতে মুখিয়ে আছেন ভক্তরা। এদিন তামিম আউট হলে দারুণ জুটি গড়েছিলেন সাকিব আল হাসান ও লিটন দাস। এই জুটিতে ভর করে চালকের আসনে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ক্রিজে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি সাকিব। আজমতুল্লাহর বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেন । তিনি ৩৬ বলে ৩০ রান করেন। ইনিংসের শুরুতে জীবন পেয়েছিলেন, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এরপর টানা দুই উইকেট শিকার করে আফগানিস্তান শিবিরে স্বস্তি ফরান রশিদ খান। তিন মুশফিকুর রহিমকে ফেরানোর পর আউট করেন ইয়াসির আলীকে। অভিষেক ম্যাচে শূন্য রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি কিন্তু তৃতীয় ম্যাচে সুযোগ পেয়ে তা কাজে লাগাতে পারেননি ইয়াসির । অফ সাইডে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন তুলে দেন স্লিপে। আর দারুণ দক্ষতায় ক্যাচটি লুফে নেন গুলবাদিন নাঈম। ৪ বলে ১ রান করেন ইয়াসির। এরপর রশিদ খানের বলে মুশফিক ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। তিনি ১৫ বলে ৭ রান করেন। এর আগে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৮৬ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছেন মুশফিক। দলীয় ১৫৩ রানে আউট হন লিটন। তিনি ৭ চারের সাহায্যে ১১৩ বলে ৮৬ রান করেন। এরপর দলীয় ১৬০রানে আউট হন আফিফ হোসেন। এদিন ব্যাট হাতে দাপট দেখাতে পারেনি। আফিফ ৬ বলে ৫রান করেন। সতীর্থদের ব্যর্থতার মিছিলে ঢাল হয়ে দাড়ান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। | 12 |
দেশের বিভিন্ন এলাকায় কারখানা বানিয়ে ভেজাল ওষুধ বানানো হচ্ছে। ইউনানি, হোমিও ও আয়ুর্বেদিক কারখানায়ও বানানো হচ্ছে ভেজাল ওষুধ। অনেক দোকানি জেনে-বুঝেই বেশি লাভের আশায় রোগীর হাতে তুলে দিচ্ছে এই ওষুধ। ফলে রোগ নির্ণয় হলেও ওষুধ খেয়ে রোগী সুস্থ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে রোগী মারা যাচ্ছে। করোনাকালে অ্যান্টিবায়োটিক ও শ্বাসকষ্টের ওষুধ বেশি নকল হচ্ছে। পুলিশের তদন্তে স্বাস্থ্য খাতের ভয়াবহ এই চিত্র উঠে এসেছে।ভেজাল ওষুধ তৈরির অর্ধশত কারখানা চিহ্নিত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সাইফুর রহমান আজাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধ তৈরির লাইসেন্সে কারখানা বানিয়ে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের নামে ভেজাল ওষুধ তৈরি করছে অসাধু চক্র। সাভার ও পিরোজপুরের দুটি আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি কারখানা থেকে সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করেছে ডিবি।ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে নিবন্ধিত ওষুধ কারখানার সংখ্যা ৮৭৯টি। এর মধ্যে উৎপাদনে আছে ৭৫৬টি। বাকিদের নিবন্ধন স্থগিত আছে। নিবন্ধিত কারখানাগুলোর মধ্যে ২০৯টি অ্যালোপ্যাথি, ২৬২টি ইউনানি, ১৮৫টি আয়ুর্বেদিক, ৬৪টি হোমিও ও ৩৬টি হারবাল ওষুধের রয়েছে। অ্যালোপ্যাথির অধিকাংশ কারখানা নিয়মনীতি মেনে ওষুধ তৈরি করলেও অন্যদের বেশির ভাগের মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতি ও জনবল নেই। তাদের বড় অংশই ভেজাল ওষুধ তৈরি করে।গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, চারটি ধাপে ভেজাল ওষুধ ক্রেতার কাছে পৌঁছায়। চক্রপ্রধানরা ভেজাল ওষুধ তৈরির জন্য কারখানা ভাড়া করেন। ওষুধের লেবেলও তাঁরা সরবরাহ করেন। ওষুধ বানানোর পর তাঁরা মিটফোর্ডে পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পাইকারেরা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সারা দেশে ভেজাল ওষুধ ছড়িয়ে দেন। মোড়ক দেখে বোঝার উপায় নেই, আসল নাকি নকল ওষুধ।কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসক জয় চৌধুরী বলেন, ভেজাল ওষুধে আটা ও ময়দার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে স্টেরয়েড ও রং ব্যবহৃত হয়। কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধ খেলে মানুষের কিডনি, লিভার, হৃদ্যন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রোগ নির্ণয়ের পরও ভেজাল ওষুধের কারণে রোগ সারছে না।জেনিথ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. বেলাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, ভেজাল ওষুধের অভিযোগে গত পাঁচ বছরে ৮০টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। কয়েকজন গ্রেপ্তার হলেও আবার ছাড়া পেয়ে ভেজাল ওষুধ তৈরিতে জড়িয়ে পড়েন। ভেজাল ওষুধ চেনার উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, সাধারণত ভেজাল ওষুধ অতিরিক্ত নরম ও শক্ত হয়।ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, 'বর্তমানে ক্যানসার ও করোনার ওষুধ বেশি ভেজাল হচ্ছে। আমরা কিছু কারখানার সন্ধান পেয়েছি। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাঈম গোলদার বলেন, ইনভয়েস নম্বর দেখে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনলে ভেজাল থেকে বাঁচা যাবে। ইনভয়েস নম্বর হলো ওষুধের সনদ। যে কোম্পানি থেকে ওষুধ কেনা হয়, সে কোম্পানির ইনভয়েস ফার্মেসিকে সংরক্ষণ করতে হয়।মিটফোর্ডের পাইকারি ওষুধ মার্কেটের কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির এক পরিচালক বলেন, ভেজাল ওষুধ প্রতিরোধে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে তাঁরা টাস্কফোর্স গঠনসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। আয়ুর্বেদিক লাইসেন্সের আড়ালে কারখানা বানিয়ে ভেজাল ওষুধ তৈরি হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও ডাইস বানিয়ে ভেজাল ওষুধ তৈরি হচ্ছে।ভেজাল ওষুধসহ গ্রেপ্তার: ভেজাল ওষুধ উৎপাদন, মজুত ও বিক্রির অভিযোগে গত শনিবার তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। তাঁরা হলেন মিটফোর্ডের মেডিসিন ওয়ার্ল্ড ফার্মেসির ফয়সাল আহমেদ (৩২), লোকনাথ ড্রাগ হাউসের সুমন চন্দ্র মল্লিক (২৭) ও রাফসান ফার্মেসির লিটন গাজী (৩২)। তাঁদের কাছ থেকে দেশি-বিদেশি নামীদামি ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর সাতজন ও গত ১২ আগস্ট রাজধানী, সাভার ও পিরোজপুরের নেছারাবাদ বিসিক শিল্প এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। | 6 |
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গত তিন বছরে ভিয়েতনামের বাজার হিস্যা বেড়েছে ২.৮৭ শতাংশ। বাংলাদেশের বেড়েছে ২.২৪ শতাংশ। বাণিজ্যযুদ্ধ ও করোনার কারণে প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজার হারাচ্ছে চীনের পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। সেই ব্যবসা পাচ্ছে ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ। যদিও বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থান দখলের পাশাপাশি এখানেও বাংলাদেশকে পেছনে ফেলেছে ভিয়েতনামের ব্যবসায়ীরা। তিন বছর আগে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশ থেকে ৮ হাজার ২৮৮ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছিল। তার মধ্যে চীনের রপ্তানি ছিল ৩৩ শতাংশ বা ২ হাজার ৭৩৭ কোটি ডলারের। তারপর টানা দুই বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের পোশাক রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে যায়। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে চীনের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর ২০২০ সালে মহামারি করোনায় সবকিছু টালমাটাল হয়ে যায়। করোনার মধ্যে গত বছর চীন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১ হাজার ৯৬১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে। সেই হিসাবে, গত তিন বছরে চীন এই বাজারে ৭৭৬ কোটি ডলারের পোশাকের ব্যবসা হারিয়েছে। চীনের হারানো এই ব্যবসা অন্য প্রতিযোগীরা ভাগাভাগি করে দখল করেছে। কারণ, চীনের রপ্তানি কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা আমদানি সেভাবে কমায়নি। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ৮ হাজার ১৫৯ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা ২০১৮ সালের চেয়ে মাত্র ১২৯ কোটি ডলার কম। ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্সের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলের (অটেক্সা) হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এমন তথ্য মিলেছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা ২০২০ সালের চেয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানি ২৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ বাড়িয়েছে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে চীনের হারানো ব্যবসা বেশি পেয়েছে ভিয়েতনাম। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাজারে ভিয়েতনামের তৈরি পোশাক রপ্তানি ছিল ১ হাজার ২২২ কোটি ডলার। পরের বছর সেটি বাড়ে ১৩৪ কোটি ডলার। তবে করোনার আবার কমে যায়। সর্বশেষ গত বছর তারা রপ্তানি করে ১ হাজার ৪৩৭ কোটি ডলারের পোশাক। সব মিলিয়ে গত তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২১৫ কোটি ডলারের। তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনামের বাজার হিস্যা ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে। তার বিপরীতে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা বেড়েছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল ৫৪০ কোটি ডলারের। ২০১৯ সালে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। এ কারণে কমে যায় চীনের রপ্তানি। চীনের হারানো ক্রয়াদেশের একটি অংশ ওই বছর থেকে বাংলাদেশে আসতে থাকে। ওই বছর ৫৯৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ। তারপর ২০২০ সালের শুরুটা হয়েছিল দুর্দান্ত। পরে করোনার কারণে রপ্তানিতে ধস নামে। গত বছর আবার যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। বছর শেষে রপ্তানি হয় ৭১৫ কোটি ডলারের পোশাক। তার মানে তিন বছরের ব্যবধানে বাজারটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়েছে ১৭৫ কোটি ডলারের। জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রথম আলোকে বলেন, ভিয়েতনামের উদ্যোক্তাদের বড় অংশই চীন। ব্যবসাকে টেকসই করতে তারা ভিয়েতনামে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছেন। বাণিজ্যযুদ্ধ ও করোনার কারণে যখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা চীন থেকে ব্যবসা সরাতে শুরু করলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই ক্রয়াদেশের বড় অংশই পেতে থাকল ভিয়েতনাম। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে বাড়তি যে ক্রয়াদেশ আসছে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের অংশই বেশি। ওভেনের চেয়ে নিট পোশাকের রপ্তানি বেশি বাড়ছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি আরও বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের হারানো তৈরি পোশাকের ব্যবসা বাংলাদেশের আরেক প্রতিযোগী ভারতও পেয়েছে। দেশটি ২০১৮ সালে ৩৮১ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছিল। গত বছর সেটি বেড়ে হয়েছে ৪২০ কোটি ডলার। তিন বছরের ব্যবধানে তাদের রপ্তানি বেড়েছে ৩৯ কোটি ডলার। অবশ্য মোট রপ্তানিতে ভারতের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও কম্বোডিয়া ব্যবসা বেশি পেয়েছে। ২০১৮ সালে তাদের রপ্তানি ছিল ২৪১ কোটি ডলার। গত বছর সেটি বেড়ে হয়েছে ৩৩৯ কোটি ডলার। তার মানে ৩ বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে কম্বোডিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ৯৮ কোটি ডলার। জানতে চাইলে চট্টগ্রামের ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ভিয়েতনামের মতো কম্বোডিয়ার পোশাক কারখানাগুলো মূলত চীনারা করেছে। ফলে চীনের হারানো অনেক ক্রয়াদেশ কম্বোডিয়ায় গেছে। তারপরও বাংলাদেশ আরও বেশি ব্যবসা পেতে পারত। মূল সমস্যা হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পৌঁছাতে ৪০-৪৫ দিন সময় লাগে। ভিয়েতনাম-কম্বোডিয়া থেকে তার অর্ধেক সময়ও লাগে না। আবার শুল্ককরের ব্যাপারও আছে। তিনি বলেন, লিড টাইম (পণ্য উৎপাদন থেকে জাহাজীকরণ পর্যন্ত সময়) কমানো গেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কয়েকশ কোটি ডলারের রপ্তানি বাড়ানো কোনো বিষয় না। সেই সঙ্গে শুল্ক ও করে ছাড় পেতে সরকারি পর্যায়ে দর-কষাকষি শুরু করার কথা বলেন তিনি। | 0 |
আগের পর্বেই বলা হয়েছে, গাসসান সত্তরের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ফিলিস্তিনি-জর্ডানি কবি মুহাম্মাদ আজ-জাহিরের (১৯৫২-২০২০) সঙ্গে যৌথকাব্য রচনার মাধ্যমে তাঁর কবিতাজীবন শুরু করেন। 'দেশের হালচাল' নামের কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৭ সালে 'জর্ডানিয়ান রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন' প্রকাশ করে। সেই সংকলনে আমরা তাঁদের যৌথ কর্মপ্রয়াস, কাছাকাছি সুর-ছন্দ, একই ধরনের কাব্যছাপ এবং ফিলিস্তিনি সাহিত্যের থিমের সঙ্গে পরিচিত হই-যেমনটি আধুনিক ফিলিস্তিনি কবিতার উৎকর্ষের সময়টিতে বিপুলসংখ্যক কবিদের দেখতে পাই।এসব থিম, ছন্দ, ছাপ ও কবিতার শরীর নির্মাণের পদ্ধতি ভালোভাবেই উপস্থিত রয়েছে তাঁর পরবর্তী কাব্য সংকলন 'প্রত্যুষ'-এ। বইটি সত্তরের দশকের শেষদিকে জর্ডান থেকে প্রকাশিত হয়। ফলে এটিও একই সময়ের একই চিত্র ফুটিয়ে তোলে। শরণার্থীশিবির, পরদেশি জীবন, দেশান্তর, মৃত্যু, গেরিলা যুদ্ধ ও প্রতিরোধ, যা ১৯৬৭ সালের পরাজয়ের পর প্রায় দুই দশক ধরে চলা ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যুদ্ধের তীব্রতার সময় ফিলিস্তিনি সাহিত্যের মূল প্রতিপাদ্য ছিল। গাসসান সে কথাই বলেছেন এভাবে-'গেরিলারা আমাকে ক্যাম্পের চায়ের গল্প বলেএবং স্বপ্ন বিস্ফোরণের...আমি নিজেকে আবিষ্কার করিনিক্যাম্পই আমাকে কবি বানিয়ে ছাড়ে...ফিলিস্তিনিদের পরিচয়-তিলক তো এই ক্যাম্পইকত কিছু ঘটে চলে, তাই আমি শুরু করি।'ফিলিস্তিনি কবিতার আধুনিকতম বিজ্ঞাপন গাসসান জাকতানগাসসানের কবিতায় মাহমুদ দারবিশের ভাষাশৈলীর স্পষ্ট ছাপ আমরা দেখতে পাই। কবিতার ভিত, বাক্যশৈলী, ছন্দ ও অলংকার-সব দিক থেকেই। ফিলিস্তিনি মানসের উর্বরতা, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, আত্মোৎসর্গের প্রেরণা এবং বীরত্বের সংজ্ঞায় টইটম্বুর সেই পদ্যগুলো। দারবিশের মতো গীত-নাটকীয়তার সঙ্গে দুঃখগাথার অপূর্ব মিথস্ক্রিয়ায় নির্মিত হতে থাকে গাসসানের কবিতার ভুবন। গাসসান বলেন-'এবং সে সাগরে আসে-আরিহায় কলা চাষ করবে বলেএ মাটি তো ফলায় কেবলকবিতা ও রক্তের ফসলএ মাটি প্রত্যুষে জন্ম দেয় ফুটফুটে এক বাচ্চাএবং সন্ধ্যায় সে ঘরে ফেরে শহীদ হয়ে।' এ কবিতা দারবিশের দুই কাব্যগ্রন্থ 'ভালোবাসি তোমাকে অথবা ভালোবাসি না' এবং 'প্রয়াস নম্বর ৭ '-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। নির্দিষ্ট করে বললে 'ক্যাফেটেরিয়ায় কফি খায় সিরহান' কবিতার কথা মনে করিয়ে দেয়, যা দারবিশের কবিতা এবং গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের ফিলিস্তিনি কবিতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ছিল। গাসসানের 'পুরোনো কারণ' কাব্যেও এই ছাপ অনেকটা পাওয়া যায়। এই পর্যায়ে এসে তিনি দারবিশের বাক্যেরই প্রতিধ্বনি করেন-'মা গোশহরগুলো আমাকে তাড়াতে পারেনিবরং আমি আমার শিরায়-শিরায় শহরগুলোকে ছড়িয়ে দিই।'চির নির্বাসিত ফিলিস্তিনিদের ভবঘুরে জীবনের কাতর অভিব্যক্তি প্রকাশ করেই গাসসান এ কথা বলেন।দুই.দারবিশের প্রভাব এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সাহিত্যের স্পষ্ট ছাপ থাকা সত্ত্বেও গাসসানের কবিতায় আমরা 'পুরোনো কারণ' কাব্য থেকে শুরু করে পরবর্তী কবিতাগুলোতে আরবি ও বিশ্বসাহিত্যের নানা স্বাদের কবিতাশৈলীর নতুন ছাপ প্রত্যক্ষ করি। গদ্য কবিতার প্রভাব, এর ভাষাকাঠামো, আকস্মিক সূচনা, বিষয়বস্তুর অভিনবত্ব, সাধারণ চালচিত্র, বর্ণনামূলক উপস্থাপনা, দৈনন্দিন জীবনের হালচাল, অন্তরঙ্গতা, ব্যক্তিগত সুখ-দুঃখ, অদ্ভুত ও আনকোরা বিষয়ের প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার যে প্রবণতা আধুনিক কবিতায় দেখা যায়, তা গাসসানের কবিতায়ও অবাধে প্রবেশ করে। গাসসানের কবিতার রং যেভাবেই বদলাক না কেন, কিংবা গদ্যের কথাই বলুন, তিনি এ ধাঁচের গভীরে ঢুকে পড়েন। তিনি বলেন-'এটি গির্জার ঘণ্টা নয় যে বাজবে...এটি সেই তামাপুরুষের শিরা থেকে বেরিয়েযা মিলিত হয়খনিজ পদার্থদের মিছিলে।'অথবা বলেন-'আমাদের নিগ্রো প্রতিবেশী টাঙিয়েছেভারী পর্দাফলে আমরা আর দেখতে পাই নাকাপড়ের থান থেকেকীভাবে বেরোয় আবলুস কাঠ।'এসব প্রভাব গাসসান জাকতানের কবিতাকে আরও পরিণত-মার্জিত করে তোলে; কবিতার বিষয়বস্তুকে করে আরও সুনির্দিষ্ট-মূর্ত এবং অনুভবের কাছাকাছি।তিন.এখান থেকেই, 'বস্তুর বীরত্বগাথা' কাব্যের মাধ্যমে গাসসানের স্পষ্ট বাঁক প্রতিভাত হয়। ১৯৮২ সালে পিএলওর বৈরুত ছেড়ে যাওয়ার পর, কবি নিজের ও ফিলিস্তিনিদের ক্ষতি ও বিপর্যয় বিষয়ে কবিতা রচনায় আরও পরিপক্ব হয়ে ওঠেন। 'বস্তুর বীরত্বগাথা' কাব্যের যে শিরোনাম কবি দিয়েছেন, তা হয়তো তাঁর পাঠকের সেই কবিতাশৈলীতে প্রবেশের একটি প্রান্ত, যা প্রকৃতির উপাদান, যুদ্ধের স্মৃতি, রণাঙ্গনের বীরপুরুষ, পরাজয় ও ক্ষতির জন্য বিলাপ করে। কবি বলেন-'আঙুল তুলে দেখায় সে আমাদেরএই যে, এখান থেকেপরক্ষণেই সে বাড়ি ও বিস্ফোরণের ধ্বংসস্তূপে অদৃশ্য হয়আঙুল রাখে দেয়ালের শূন্যেআমাদের দেখায়এই যে, এখান থেকেএখান থেকে।'অন্য স্থানে গাসসান বলেন-'সবকিছু আগের মতোই আছেযখন থেকে আমরা যুদ্ধে গিয়েছিসেই শৈশব থেকেসবকিছু আগের মতোই আছেপাল্টায়নি মোটেও,শুধু আমরাইআমরাই ঝাঁপিয়ে পড়েছি যুদ্ধেইশকুলের ঘণ্টাধ্বনি শুনে...এর পর কোনো দিন ফিরে আসিনি'এটি তাঁর কবিতাকে প্রকৃতির উপাদান ও বিশ্ববাস্তবতার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত করে একটি দৃঢ়, স্বচ্ছ ও গভীর কাব্যিক রূপ দেয়।চার.গাসসানের পরবর্তী কাব্যগ্রন্থের বিষয়বস্তুতে প্রথম পর্যায়ের থেকে কিছুটা বিষণ্নতা দেখা যায়। আগে তিনি অন্যদের জীবন ও অভিজ্ঞতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, ব্যক্তির বীরত্বগাথা চিত্রিত করেছিলেন এবং ব্যক্তিজীবনের বাইরের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। পরবর্তী পর্যায়ে এসে কবি নিজের অভিজ্ঞতার উৎকর্ষ সাধনে সচেষ্ট হন। নিজের গভীরে ডুব দিয়ে আত্মানুসন্ধানের চেষ্টা করেছেন। একান্ত ব্যক্তিগত অতীতে ফিরতে চেয়েছেন। বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সেসব স্মৃতিকে পাঠকের সামনে পরিবেশন করেছেন। এই পর্যায় থেকে জাকতানের কাব্যিক অভিযাত্রা ব্যক্তিগত স্মৃতিকে ঘিরে নতুন মাত্রা পায়। জন্ম, শৈশব ও কৈশোরের দিনগুলোর কথা তিনি স্মরণ করেছেন।ফিলিস্তিনি কবি গাসসান জাকতানের কবিতাশৈলীজন্মের পর থেকে যেসব স্থানে পাড়ি দিয়েছেন এবং যেসব স্থান থেকে বিতাড়িত হয়েছেন, তাঁর সেই জন্মস্থান-বেইত জালা, ১৯৪৮ সালে নাকাবার (ইহুদিদের দ্বারা বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেই সময় থেকে ফিলিস্তিনিরা নাকাবা দিবস পালন করে) পর তাঁর পরিবার যেখানে আশ্রয় নিয়েছিল-প্রথমে ফিলিস্তিনের জেরিকো শহরের পাশের শরণার্থীশিবির, এর পর জর্ডানের আল-কারামাহ শরণার্থীশিবির, এর পর দামেস্ক, বৈরুত ও তিউনিসিয়ার দিনগুলোর কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন কবিতায়। প্রথম নাকাবার পর থেকে, লাগাতার ছুটে চলা একজন ফিলিস্তিনি মুসাফিরের সংগ্রামের বিভিন্ন দিক ফুটে ওঠে তাঁর কবিতায়। একসময় তা আজকের ধূসর অজানার পথে অবিরাম ছুটতে থাকা বর্তমানের বিন্দুও স্পর্শ করে নেয়। তিনি বলেন-'যেন আমিই এটি প্রস্তুত করেছিএবং আগেও, কোনো এক সময় এই স্থান আমি স্পর্শ করেছিএবং স্পর্শ করেছি এই প্রতিধ্বনিযেন সতত দেখছি আমি, ফেলে আসা দিনগুলো' এভাবেই কবি 'আমার কারণে নয়' কাব্যগ্রন্থের একটি কবিতায় ফেলে আসা অতীতের স্মৃতিচারণ করেছেন। এই বিলাপধ্বনিতে পরিবর্তন আসে 'ভাইদের ডাকে পথচারীরা' কাব্যগ্রন্থে, যা ২০১৫ সালে প্রকাশিত হয়। তাঁর শোনা সেই প্রতিধ্বনি বাঁক নেয় মৃত্যু উপত্যকা ভ্রমণে, মৃতদেহগুলোর আর্তনাদ পুনরুদ্ধার করতে।'ভাইদের ডাকে পথচারীরা' কাব্যে মৃতদের মধ্যস্থতায় স্মৃতির জগতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন গাসসান। তিনি লিখেছেন-'নরোম খেজুরের শরীর থেকেবীজ বের করার মতো করেতারা হৃদয়ের ভাঁজ খুলেস্মৃতি বের করে।'আঁধারের চাদরে ঢাকা কোনা থেকেময়লা সরাতে তারা শুরু করে স্মৃতিযাপন।'গাসসান এখানে ক্লান্ত হন। নিঃশেষ হয়ে আসা স্বপ্ন ও ইচ্ছেগুলো আঁকতে শুরু করেন এবার। মৃতদের স্থান-কালকে চিত্রিত করেন। স্মৃতির বিবর্ণ জগৎকে স্মরণ করেন। শুরুর সঙ্গে শেষকে মিলিয়ে নেন। এখানে নির্বাসন ও দেশান্তরের প্রতিধ্বনি শোনা যায় অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীনভাবে। এ কাব্যগ্রন্থের 'কল্পনার বিবর্তন' কিংবা 'ঈষৎ পরিবর্তন'-এর মতো কবিতাগুলো সাধারণভাবে মৃতদের অতীত জীবনের স্মৃতিচারণ জাতীয় কবিতার অন্তর্ভুক্ত। আমরা কবির সঙ্গেই আছি-এমন আবহ এনে তিনি প্রাত্যহিক জীবনের কোলাহলে ডুব দিয়ে এবং মৌলিক ও সর্বজনীন সমস্যাগুলোর পেছনে সময় কাটিয়ে, অতীতের অবহেলা ও বৈষম্যগুলো জানতে পথে পথে ঘোরেন। অতীতের ধূসর স্মৃতি এবং অস্পষ্ট ঘটনায় ফিরে যান তিনি। সেসবকে সাগরসেঁচা মুক্তোর মতো করে তুলে আনেন, এবং ইচ্ছেমতো সাজান কবিতার পরতে পরতে। তাতে তাঁর কবিতার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য প্রতিভাত হয়; প্রকাশিত হয় তাঁর কাব্যপ্রতিভার হাড়-মাংস।পাঁচ.২০১৯ সালে প্রকাশিত গাসসানের কবিতার বই 'কথা বলো হে পথিক কথা বলো'-তেও তিনি অতীতের স্মৃতিযাপন অব্যাহত রাখেন। ব্যক্তিগত জীবন, ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর হালচাল এবং আরবদের উত্থান-পতনের আলাপ করেছেন অত্যন্ত নির্মোহভাবে। এ কাব্যগ্রন্থে যে পথিককে সম্বোধন করেছেন তিনি, তা গাসসানের ভিন্ন একটি রূপ। সেই পথিক নিজের পরিচয় হারিয়ে ভবঘুরের মতো ঘুরতে থাকে মরুর বালুকাবেলায়। কবি নিজেকে কাছে ডাকেন এবং জেগে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন-'এখানে একটু থামোহে পথিকমোটেও জানতে চাইব না কী নাম তোমারকিংবা কোথায় তোমার গন্তব্য।শুধু একবার এ মোমের আলোয় বসোতোমার জন্যই জ্বালিয়েছি তাতোমার হারানো অতীত স্মরণ করিয়ে দিতে।কথা বলো, কথা বলোকথা বলো হে পথিক, কথা বলোফিরে পেতে চাই আমিধুলোওড়া মরুঝড়ে ছিনতাই হওয়াআমার দরাজ কণ্ঠস্বর।'এ গ্রন্থে জেগে ওঠার প্রেরণার পাশাপাশি তাঁর কণ্ঠে হতাশার ছাপও আমরা দেখতে পাই। শেষে এসে পথিক তথা নিজেকে গাসসান এমন এক প্রশ্ন করে বসেন, যার উত্তর সম্ভবত এই পৃথিবীর কারও জানা নেই; কিংবা সবার জানা। তিনি বলেন-'কীভাবে তোমাকে পথ দেখাব, হে পথিক?তোমার গন্তব্য যে অনেক দূরেএবং তোমার পথ বেশ বন্ধুর!' | 2 |
শিকল থেকে মুক্তি পেলেন নান্দাইলের মো. মিজান (২২)। গত সোমবার দিশারি বিডি সংগঠনের একটি দল তাঁকে শিকলবন্দী দশা থেকে মুক্ত করে। মিজান উপজেলার মুসল্লি ইউনিয়নের কাইয়াগাতি গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে।স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মো. মিজান অত্যন্ত সহজ-সরল ছেলে ছিল। পারিবারিক আর্থিক অভাব অনটনে দিন পার করতে হতো। এ জন্য সংসারের হাল ধরেন মিজান। একপর্যায়ে বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এতে পরিবারের নেমে আসে অশান্তির ছায়া।মাদকে আসক্ত হয়ে নেশার টাকার জন্য মিজান মা-বাবাকে নির্যাতন শুরু করেন। নির্যাতন অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে পরিবারের লোকজন মিজানের হাতে-পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে তালা মেরে দেয়। তাঁকে রাখা হয় একটি জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ঘরে। এভাবেই কেটে যায় পাঁচ বছর, শিকল খোলার ব্যবস্থা হয়নি।কিছুদিন আগে মুক্তমনা লেখক আতাউর রহমান বাচ্চু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক আইডিতে শিকলে বন্দী মিজানকে নিয়ে একটি পোস্ট করেন। এতে প্রশাসন, সুশীল সমাজের নাগরিক, সাংবাদিক ও স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তাঁর পোস্টটি ভাইরাল হয়। বিষয়টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দিশারি বিডির নজরে আসে। পরে দিশারি বিডির একটি দল মিজানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, ছেলেটিকে এভাবে শিকলে বন্দী করে রেখেছে, তা আমি সহ্য করতে পারেনি। বাধ্য হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করি।এ বিষয়ে মো. মিজান বলেন, 'আমি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাই। মাদক আর গ্রহণ করব না। আমাকে চিকিৎসা করান।'মিজানের বাবা নুরু মিয়া বলেন, 'আমি ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। ছেলেটা মাদকাসক্ত হয়ে আমাকে অত্যাচার করত। বাধ্য হয়ে শিকলবন্দী করে রাখি। টাকা-পয়সার অভাবে ছেলেকে চিকিৎসা করাতে পারব না দেখে পাঁচ বছর পার হলেও শিকল খুলে দিইনি।'জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত যুব উদ্যোক্তা দিশারি বিডির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, 'আমরা বিষয়টি শুনে মিজানকে শিকলবন্দী থেকে মুক্ত করি। আমাদের সংগঠন থেকে মিজানের চিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতা করব। পাশাপাশি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।' | 6 |
করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজা উদযাপন হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় আজ মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে পূজার আয়োজন ছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত পরিসরে তা করা হয়েছে। মন্দিরগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আরাধনা হয়েছে। সরস্বতী পূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি থাকায় এবার আয়োজন ছিল কম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের মাঠে পূজা উপলক্ষে বিশাল উৎসবের আয়োজন হয়নি। সেখানে সীমিত আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকায় অবস্থানকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এবার শুধু উপসনালয়ে বিদ্যার দেবীর আরাধানার ব্যবস্থা করা হয়। দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। মানিকমিয়া এভিনিউস্থ রাজধানী স্কুল মাঠে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে পূজার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় সেখানে পূজার অনুষ্ঠানে অংশ নেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে পূজা উৎসবে সকলের অংশগ্রহণ দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ও ঐতিহ্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এই ঐতিহ্য আরো সুদৃঢ় করতে হবে। এরআগে সকালে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয়ের পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। দুপুরে সেখানে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ওই অতিথিদের স্বাগত জানান সংসদ সদস্য বীরেন শিকদার, মনোরঞ্জন শীল গোপাল, রনজিত কুমার রায় ও পংকজ দেবনাথসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, শাখারী বাজার, তাঁতি বাজার, বনানী ও রমনা কালী মন্দিরসহ মণ্ডপে মণ্ডপে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে নানা আয়োজন ছিল। বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 6 |
দুই বাংলার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নচিকেতা সম্প্রতি বাংলাদেশের জন্য গাইলেন একটি নতুন গান। এনামুল কবির সুজনের লেখা গানটি সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন জয় শাহরিয়ার। 'শান্তি আসুক ফিরে' শিরোনামের গানটিতে নচিকেতা কণ্ঠ দিয়েছেন কলকাতার ফিউশন প্রো স্টুডিওতে। জয় শাহরিয়ার বলেন, 'গানের কথার বিষয়ে নচিদা বরাবরই সচেতন। আমিও তাই। এবারের গানটি যুদ্ধবিরোধী গান, শান্তির গান। সমসাময়িক গানটি এই সময়ের কথা ধরে রাখবে যুগ যুগান্তরে।'নতুন গান নিয়ে নচিকেতা বলেন, 'জয়ের সংগীত পরিচালনা আমার ভালো লাগে। ওর গান ভালো লাগে। আগেও বেশ কয়েকবার ওর সঙ্গে কাজ করেছি। বরাবরের মতো এবারের কাজটাও ভালো হয়েছে। আশা করি শ্রোতারা নিরাশ হবেন না। বাংলাদেশের সবার জন্য রইল আমার ভালোবাসা।' গীতিকবি এনামুল কবির সুজন বলেন, 'নচিকেতা আমাদের স্বপ্নের শিল্পী। সম্প্রতি কবীর সুমনের জন্য গান লিখেছি। এবার লিখলাম নচিকেতার জন্য। আমার গীতিকবি জীবনে এ এক অনন্য প্রাপ্তি। সাম্প্রতিক সময়ে যে যুদ্ধ আর অশান্তি পৃথিবীজুড়ে তার প্রতিবাদেই এই গান। শিল্পী হিসেবে নিজের দায়বদ্ধতা থেকেই গানটি করা।'রূপকথা প্রডাকশনসের প্রযোজনায় গানটি শিগগিরই মুক্তি পাবে দেশীয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম দোতরায়। এছাড়া রূপকথা মিউজিক ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্লাটফর্মে প্রকাশ পাবে অফিশিয়াল ভিডিও। | 2 |
ষাটের দশকের অন্যতম সেরা অ্যাথলেট হামিদা বেগম আর নেই। আজ (শনিবার) সকালে রাজধানী ঢাকায় তার বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। গত তিন বছরের বেশি সময় মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত অসুস্থ ছিলেন হামিদা বেগম। প্রায় চার বছর শয্যাশায়ী থাকার পর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন এই ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক। ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড় ও সংগঠক হিসেবে অবদান রাখার জন্য তিনি ক্রীড়াক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পদক জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পেয়েছেন। পল্টন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে শনিবার বাদ আসর হামিদা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশ আরচ্যারি ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য, বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সদস্য ছিলেন। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদিকা হয়েছিলেন। সাধারণ সম্পাদিকা হওয়ার এক বছরের মধ্যেই ব্রেণ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তিনি শয্যাশায়ী। কথাবার্তা, চালচলন করতে পারতেন না স্বাভাবিকভাবে। তার অসুস্থতার জন্য মহিলা ক্রীড়া সংস্থায় যুগ্ম সম্পাদিকা ফিরোজা করিম নেলীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদিকার দায়িত্ব দেওয়া হয়।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 12 |
লকডাউনে ছেলেকে গান শোনান লালন গানের শিল্পী বিউটি। শুধু কি তাই, এই করোনাকালে পরিবারের প্রতি সব সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক দৃষ্টি দিয়ে রেখেছেন এই শিল্পী। বিউটির সন্তানের নাম নাজিব আহমেদ রায়াত। জুন মাসে স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল চার বছরের রায়াতের। এখন সেটা অনিশ্চিত। তবে মায়ের সঙ্গে নিয়ম করে পড়তে বসছে সে। বাবার সঙ্গে খেলছে, ব্যায়াম করতে শিখছে। লকডাউনে সন্তানের জন্য ভীষণ তৎপর শিল্পী বিউটি। বিউটি জানালেন, বাড়িতে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করতেন তাঁরা। কিন্তু এখন একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, 'সন্তানকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও তাঁর খাবার তৈরিতে বাড়তি পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করছি। কারণ, বাড়িতে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধটা তো মাকেই করতে হবে। একজন আক্রান্ত হলে পুরো পরিবার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।' অনেক দিন বাড়িতে আটকে থাকার কারণে বর ও সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতা করছেন বিউটি। তিনি জানালেন, ঘরের ভেতরে ব্যায়াম, খেলা, হাঁটাচলা করার চেষ্টা করেন সবাই। তিনি বলেন, 'মন ভালো রাখার একটা ভালো উপায় হচ্ছে সংগীত। রোজার মাস বলে গানটা কম করা হচ্ছে। তবে মন খারাপ লাগলেই গান করি। সংগীত আমার পরিবারে একটা থেরাপির মতো কাজ করে।' মা দিবসে বিউটির প্রত্যাশা, পৃথিবীর সব সন্তানের হৃদয় যেন সব সময় মাতৃভক্তিতে পূর্ণ থাকে আর কোনো মাকেই যেন কখনো বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে না হয়। | 2 |
ফরিদপুরে রহস্যজনক কারণে আগুনে পুড়ে গেছে সাউথ লাইন পরিবহনের ১২টি বাস। বাসগুলো আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাই বরকত-রুবেলের মালিকানাধীন ছিল।আজ শনিবার সকালে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে আগুনে বাসগুলো পুড়ে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি আগুনের কারণ সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি।এসপি আলিমুজ্জামান বলেন, 'শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে শহরের গোয়ালচামটে নতুন বাস টার্মিনালের পাশে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘণ্টাখানেক চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভায়। সেখানে ২২টি বাস রাখা ছিল। এর মধ্যে ১২টি বাসেই আগুন লাগে। দীর্ঘদিন বাস ফেলে রাখার কারণে দ্রুতই বাসগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।'প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ দাউ দাউ করে বাসগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখে লোকজন ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। সারিবদ্ধভাবে খোলা জায়গায় রেখে দেওয়া গাড়িগুলোতে রহস্যজনকভাবে একই সময়ে আগুন লাগে। এ বিষয়ে সাজ্জাত হোসেন বরকতের স্ত্রী সুরাইয়া পারভীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'আমার স্বামীর মানি লন্ডারিং মামলায় আমাদের বাসসহ মোট ৫৫টি গাড়ি আদালতের নির্দেশে সিআইডি জব্দ করে। এর মধ্যে ১২টি বাস ফরিদপুরের গোয়ালচামট বিদ্যুৎ অফিসের সামনে একটি শেডের নিচে রাখা ছিল। ১৫-২০ দিন আগে ভূমিদস্যু মিজানুর রহমান চৌধুরী আমাদের জব্দকৃত গাড়ি রাখার ২০ লাখ টাকার শেডটি দিনে দুপুরে বিক্রি করে দেয়। পরে সেখান থেকে গাড়িগুলো দূরে অনিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখে। এর পরই আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এতে আমাদের কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।'ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি।ফরিদপুরে সিআইডি ইন্সপেক্টর নাসির হোসেন জানান, 'ঘটনাটি অবশ্যই সিআইডি কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। তবে যেহেতু মামলার তদন্ত আমরা ফরিদপুর সিআইডি করছি না, সে কারণে আমরা এ বিষয়ে কথা বলতে পারছি না।'২০২০ সালের ৭ জুন পুলিশের অভিযানে বরকত-রুবেলের গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে দুদক সাউথ লাইন পরিবহনের বাসগুলো জব্দ করে। এরপর থেকে বাসগুলো এখানেই রাখা ছিল। | 6 |
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হামিদুল শরীফকে (৪৫) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সন্ধ্যায় ইউপি সদস্য হামিদুল গোপীনাথপুর বাজার থেকে ভ্যানগাড়িতে করে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। বিডি প্রতিদিন/আরাফাত | 6 |
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে শুক্রবার ঘরমুখী মানুষের উপচেপড়া চাপ দেখা গেছে। বিধিনিষেধ শিথিলের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় যানবাহনে চড়ে যাত্রীরা শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটের শিমুলিয়া ঘাটে এসে উপস্থিত হচ্ছেন। ঘাটে আসা যাত্রীরা ফেরি ও লঞ্চ যোগে পদ্মা পারাপার হচ্ছেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে বাড়ি ফেরা মানুষের চাপ। এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে যায় শিমুলিয়াঘাটি। ঘাট সামলাতে প্রশাসন হিমশিম খেতে দেখা গেছে। এদিকে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। ব্যক্তিগত গাড়ির চাপে ফেরিতে যানবাহন পারাপারে বেগ পেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের। এতে ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় অবস্থান করতে দেখা গেছে সহাস্রাধিক ব্যক্তিগতগাড়ি ও পণ্যবাহী ট্রাককে। বাড়তি গাড়ির চাপে ব্যক্তিগত ও গণপরিবহনে আসা যাত্রীদেরও নদীর পারাপারে অপেক্ষা করতে হচ্ছে দীর্ঘক্ষণ। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের বাড়ি ফেরা হাজার হাজার মানুষের। বিআইডাব্লিউটিএ শিমুলিয়া নদী বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে মানুষের বাড়তি চাপ রয়েছে। নৌরুটে বর্তমানে ৮২টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। এবিষয়ে বিআইডাব্লিউটিএ শিমুলিয়াঘাটের সহকারী উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, নৌরুটে বর্তমানে ১৭টি ফেরি সচল রয়েছে। ঘাট এলাকায় পারাপারের জন্য যাত্রী ও পণ্যবাহী মিলিয়ে প্রায় ৮ বা ৯শ' যানবাহন রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল যানবাহন পারাপার করা হবে। লঞ্চ চালু হওয়ায় ফেরিতে যাত্রী চাপ কমেছে। তবে গণপরিবহন ও প্রচুর ব্যক্তিগত গাড়ি ঘাটে আসায় পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারে বেগ পেতে হচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 6 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.