text stringlengths 1 58.1k | label int64 0 12 |
|---|---|
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'বর্তমান সরকার জগদ্দল পাথরের মতো ক্ষমতায় চেপে বসে আছে। স্বাভাবিক পদ্ধতিতে এই সরকারকে সরানো সম্ভব হবে না। তাই জিম্বাবুয়ের স্বৈরাচার মুগাবের মতো পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। সবাইকে নতুন করে জেগে উঠতে হবে। এই সরকারকে সরিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।'বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।মির্জা ফখরুল বলেন, 'জগদ্দল পাথরের মতো ক্ষমতায় চেপে বাস সরকারকে সরাতে না পারলে জাতির অস্তিত্ব থাকবে না। এই দেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। রাষ্ট্র থাকবে, পতাকা থাকবে কিন্তু আমাদের কোনো অস্তিত্ব ও স্বাধীনতা থাকবে না। তাই একে সরাতে হলে ঠিকই লোহার হাতুড়ি লাগবে। জোর করে তাদের সরাতে হবে।'এজন্য ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'সরকার দেশের গণতন্ত্রের স্তম্ভ ভেঙ্গে দিয়েছে। নির্বাচিত সরকার নেই, বৈধ সংসদ নাই। সংসদে গৃহপালিত বিরোধী দল রেখেছে। যা সংসদে আনে তা পাস করে দেয়া হচ্ছে।'তিনি বলেন, 'প্রশাসন সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। কোন লেখা যাবে-না যাবে প্রতিদিন গণমাধ্যমে টেলিফোন করা হয়। কোনটা গুরুত্ব পাবে, কোনটা পাবে না- তা পর্যন্ত বলে দেয়া হয়।'সদ্য পদত্যাগকারী প্রধান বিচারপতির প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, 'প্রধান বিচারপতিকে দেশ থেকে জোর করে একমাসের ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তাকে বিদেশে যেতে বাধ্য করা হয়েছে- এটা দেশের মানুষ জানে। সরকার বিরোধী দলের ওপর নিপীড়ন, নির্যাতন ও গুম-হত্যা করে ক্ষমতায় টিকে আছে।'ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার লুটপাটের মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। একই পরিবার থেকে চারজনকে পরিচালক করা হবে এবং তারা ৯ বছর পরিচালক থাকতে পারবে- ব্যাংকের এই আইন হলে বেসরকারি ব্যাংকগুলো লুটপাট হবে।তারেক রহমান প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, লন্ডন থেকে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার পরিবর্তন করতে হবে। দেশে যদি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা হয় তাহলে তারেক রহমান দেশে ফিরে আসতে পারবেন, অন্যথায় নয়।দুঃখ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হাসানকে গ্রেফতার করা হলো, কিন্তু কোনো প্রতিবাদ মিছিল কিংবা সভা পর্যন্ত হলো না। সকলে মিলে প্রতিবাদ না করলে আরো অনেককে গ্রেফতার করা হবে।অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন শামসুজ্জামান দুদু, আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের মামুনুর রশীদ মামুন, এজমল হক পাইলট, নাজমুল হাসান প্রমুখ।
| 9 |
দেশের বৃহত্তম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হচ্ছে মিরসরাইয়ের চরাঞ্চলে। চরাঞ্চলের পূর্ব ও পশ্চিম ইছাখালী এবং চরশরত মৌজার বেড়িবাঁধ এলাকার কৃষি জমির মালিকরা দাবি করেন যে, একটি অসাধু চক্র সেখানে অর্থনৈতিক অঞ্চলের নাম ভাঙ্গিয়ে তিনফসলী কৃষিজমি অধিগ্রহণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়েছন। তিনফসলী কৃষিজমি অধিগ্রহণ বন্ধ করার দাবীতে সোমবার উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নের বামনসুন্দর দারোগারহাট বাজারের এম.কে আলীশান ক্লাবে মিরসরাই চরাঞ্চলের মালিকানা জমি রক্ষা ফোরামের উদ্যোগে কৃষক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। চরাঞ্চলের মালিকানা জমি রক্ষা ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মজিবুল হকের সভাপতিত্বে এবং ওহিদুজ্জামানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইছাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল মোস্তফা। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাটাছরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ুন, মিঠানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, চরাঞ্চলের মালিকানা জমি রক্ষা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন ডিপটি, সমন্বয়ক নিজাম উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা হোছনের জামান বলী, আলাউদ্দিন শামীম, মাওলানা খোরশেদ আলম, সাইফ উদ্দিন প্রমুখ। মিরসরাই চরাঞ্চলের মালিকানা জমি রক্ষা ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মজিবুল হক বলেন, পূর্ব ও পশ্চিম ইছাখালী মৌজার ৬ নম্বর সীট থেকে ১০ নম্বর সীট পর্যন্ত এবং চরশরত মৌজার আংশিকসহ বেড়ি বাঁধ সংলগ্ন পূর্ব ও পশ্চিম পাশের আংশিক কৃষি জমি ও মৎস্য খামার রয়েছে যার আর.এস, পি.এস, বি.এস খতিয়ানভূক্ত নামজারী চূড়ান্ত করা এবং ৫ হাজার দাগ সম্পূর্ণ মালিকানাও তিনফসলী জমি। এসব জমিগুলোতে বিভিন্ন ধরণের ফসল চাষাবাদ ও মৎস্য উৎপন্ন হয়। তিনি আরো বলেন, ইতিপূর্বে তিনফসলী মালিকানা জমি অধিগ্রহণ বন্ধের দাবীতে মিরসরাইয়ের সাংসদ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। এসময় তিনি আশ্বাস দেন যে, প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি অবহিত করবেন। মিরসরাই চরাঞ্চলের মালিকানা জমি রক্ষা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন ডিপটি, সমন্বয়কারী অহিদুজ্জামান ও নিজাম উদ্দিন জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ রয়েছে তিনফসলী জমিতে কোনপ্রকার শিল্পকারখানা স্থাপন করা হবে না। ইতিমধ্যে সরকার চরাঞ্চলের প্রায় ৩০ হাজার খাসজমিতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে একটি মহল তিনফসলী জমি অধিগ্রহণের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে, যাতে করে মানা হচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও। তারা আরো বলেন, উপকূলীয় বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে মুহুরী প্রজেক্ট থেকে ডোমখালী পর্যন্ত সন্দ্বীপ চ্যানেল সংলগ্ন প্রায় ৫০ হাজার একর অনাবাদী খাসজমি রয়েছে তা মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য যথেষ্ঠ। | 6 |
পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচির ইব্রাহিম হায়দেরি এলাকায় বসবাস ১৫ লাখের মতো মানুষ, যাদের বেশির ভাগই বাঙালি। এই বাঙালিদের বেশির ভাগইভারত ভাগের পর থেকেই বংশ পরম্পরায় সেখানে বসবাস করছে। পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়া এই বাঙালিদের দুর্বিষহ জীবন নিয়ে বৃহস্পতিবার 'বিশ্বাসঘাতকের তকমা ঘোচেনি করাচির ১৫ লাখ বাঙালির' শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা। সমকালের পাঠকদের জন্য প্রতিবেদনটি তুলে দেওয়া হলো- পাকিস্তানের করাচি শহরের কেন্দ্র থেকে ইব্রাহিম হায়দেরি এলাকায় যেতে গাড়িতে লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এক সময় জায়গাটি ছিল ছিমছাম একটি জেলে পল্লী। তবে বর্তমানে এটি হয়ে উঠেছে করাচির নোংরা ঘিঞ্জি একটি জনপদ, যেখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দা বাঙালি। রাস্তা ধরে সাগরের দিকে যেতে থাকলে, পরিবেশে, গন্ধ, দৃশ্য, শব্দ সবই বদলে যেতে থাকে।যেখানে সেখানে নোংরা পানি জমে আছে। তার ওপর ভাসছে আবর্জনা। আর রাস্তার দুপাশে বস্তির মত সার সার ঘর।বিভিন্ন সময়ে গরীব দুস্থ মানুষজন এখানে এসে জীবন যাপনের চেষ্টা করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে বাঙালিও। যে ১৫ লাখের মত বাঙালি করাচির এই শহরতলীতে থাকে, তাদের বেশিরভাগই ভারত ভাগের পর থেকেই বংশ পরম্পরায় এখানে রয়েছে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভাগের পর তাদের অনেকেই অবশ্য করাচি শহরে চলে যায়। কিন্তু লাখ লাখ এই বাঙালিকে পাকিস্তান এখনও তাদের নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দেয়নি। এই বঞ্চনার সঙ্গে যতটা না রয়েছে জাতিসত্তার সম্পর্ক, তার চেয়ে বেশি রয়েছে পাকিস্তানের জটিল ইতিহাসের। এলাকায় পাকিস্তানি বেঙ্গলি অ্যাকশন কমিটি নামে বাঙালিদের একটি সংগঠনের সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন জয়নুল আবেদিন। উচ্চাভালাষী, তৎপর এই যুবক পাকিস্তানের রাজনীতিতেও ঢুকতে চান।সালোয়ার-কামিজ এবং কোটি পরা জয়নুল আবেদিনকে সাধারণ একজন পাকিস্তানির মতই লাগে। তবে চেহারায় বাঙালির ছাপ। তিনি বলেন, 'বাঙালিদের সিংহভাগই বয়সে তরুণ। এরা সব পাকিস্তানে তৃতীয় প্রজন্মের বাঙালি।" কেমন আছেন তারা? জয়নুল আবেদিন বললেন, 'আমরা খারাপ ছিলাম না এক সময়। জাতীয় পরিচয়পত্র জোগাড় করতে কর্মকর্তাদের কিছু ঘুষ দিতে হতো। তাছাড়া ঠিকঠাকই চলেছে।' তবে করাচিতে সন্ত্রাস এবং জঙ্গি তৎপরতা বাড়তে থাকায় জীবনযাপনের সেই স্বস্তি দিন দিন চলে যাচ্ছে। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র জোগাড় করা পাকিস্তানের বাঙালিদের জন্য এখন প্রায় অসম্ভব। আমারা ইউসুফ নামে বাঙালি কলোনির এক নারী তার ঘরের ভেতরে একটি স্কুল চালান। দু'বছর আগে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, পরিচয়পত্র না থাকায় কোনো কলেজ তাকে ভর্তি করেনি। 'আমি কি পাকিস্তানি নই? আমার জন্ম এখানে। আমার বাবা-মার জন্মও এখানে। তারপরও কেন তারা আমাদের বাঙালি বলে ডাকে। কেন পরিচয়পত্র দেয় না? ভাবলে খুবই কষ্ট লাগে, কিন্তু কী করার আছে আমাদের?' আমারা মনে করেন, পাকিস্তানে বাঙালি জাতিগোষ্ঠীর কোনো ভবিষ্যৎ নেই, কারণ তারা শিক্ষার মত মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নাগরিকত্বের প্রশ্নে প্রতি বছর হাজার হাজার বাঙালি তরুণ-তরুণী কলেজ থেকে ঝরে পড়ছে। ফলে ছোটোখাটো কাজে লেগে যাচ্ছে তারা। এরা হয় রাস্তার পাশে সবজি বেচছে, না হয় চায়ের দোকানে বা মুদি দোকানে কাজ করছে। নিজের ঘরের সামনে ছোটো এক উঠোনে কার্পেট বুনছিলেন নাসিমা নামে এক নারী। তার ঘরের অবস্থা জরাজীর্ণ, নোংরা। বয়সের তুলনায় বয়স্ক, ক্লান্ত দেখাচ্ছিল তাকে।জানালেন, একটি কার্পেট শেষ করতে চার থেকে ছয় সপ্তাহ লাগে। তা বেচে আয় হয় ছয়শ' রুপি। 'আইডি কার্ড না থাকায় আমার ভাই কোনো চাকরি পায় না, আমার বাবা পেনশন পায় না। এই কার্পেট বোনা ছাড়া উপায় কী?' পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয়ে নাসিমার বাবা, ভাই এলাকার বাইরে খুব একটা বেরোয় না। ফলে কলোনির ভেতরেই যেসব ছোটোখাটো ফ্যাক্টরি আছে, সেখানে নামমাত্র পয়সায় খাটতে হয় অধিকাংশ বাঙালিকে। পাকিস্তানে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান আসাদ ইকবাল বাট বলেন, 'একজন অবাঙালি শ্রমিক যেখানে মাসে ১২-১৩ হাজার রুপি মজুরি পায়, একজন বাঙালি পায় তার অর্ধেক।' 'বাঙালি মেয়েরা ফ্যাক্টরি, বাসাবাড়িতে কাজ করে। শুধু যে পয়সা কম তা নয়, যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে তারা।' করাচির মৎস্য শিল্পের মেরুদণ্ড বাঙালিরা। বাঙালি নেতা জয়নুল আবেদিন মনে করেন, সস্তা শ্রমের সুবিধার জন্য পাকিস্তানে কেউ চায় না বাঙালিরা দেশ ছেড়ে চলে যাক, কিন্তু বৈধতার জন্য কেউ তাদের জন্য কিছু করছেও না। মানবাধিকার কমিশনের আসাদ বাট বলেন, 'সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশ সৃষ্টির পর পাকিস্তানে বাঙালিরা ঘৃণার শিকার হয়ে পড়ে। তাদেরকে ছোটো চোখে দেখা শুরু হয়, বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখা শুরু হয়। রাখঢাক না রেখেই বৈষম্য শুরু হয়।' বাঙালিরা নাগরিক নয়, সুতরাং তাদের ভোট নেই। ফলে, রাজনীতিকরা তাদের নিয়ে মাথা ঘামায় না। কিন্তু জয়নুল আবেদিন হাল ছাড়তে রাজি নন। 'যাই হোক না কেন আমরা এদেশ ছেড়ে যাবো না। আমরা এখানেই থাকবো, এখানেই মরবো।' | 3 |
বাংলাদেশি ক্রিকেট তারকা মোহাম্মদ আশরাফুল ইংল্যান্ডের মাইনর ক্রিকেট লিগে দারুণ ফর্মে আছেন। লুনিংটন পার্ক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ব্যাটে রানের সুবাস ছড়াচ্ছেন টাইগার জাতীয় দলের প্রথম বড় তারকা। গতকাল শনিবার ডার্বিশায়ার কাউন্টি ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে ক্লাবটির হয়ে ড্যাডি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন আশরাফুল। ওপেনিংয়ে নেমে ১৮২ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেছেন এই তারকা ক্রিকেটার। কোয়ার্নডন ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে আশরাফুলের এই ইনিংসের ফলে লুনিংটন ৮ উইকেটে করেছে ২৬৮ রান। জবাবে কোয়ার্নডন ১২৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। আশরাফুলের লুনিংটন জেতে ১৪৩ রানে। বল হাতেও দারুণ সফল ছিলেন আশরাফুল। ইনিংসের শুরুতে বল হাতে তুলে নিয়ে ৬ ওভার বোলিং করে ১০ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট নিয়েছেন এই তারকা। অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সে হয়েছেন ম্যাচসেরা।
বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ | 12 |
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে সরাইলে গত সাত দিনে ২২ জন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীসহ মোট ৯৫ জনকে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে।জানা যায়, দেয়ালে পোস্টার লাগানো, কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে খাবার বিতরণ ও মিছিল করার অপরাধে এসব প্রার্থীকে জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সামিন সারোয়ার গত সাত দিনে ৯টি ইউনিয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জন চেয়ারম্যান, ৫৯ জন সাধারণ সদস্য ও ১৪ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য রয়েছেন।এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন করতেই আচরণবিধি লঙ্ঘনকারী প্রার্থীদের জরিমানা করা হয়। প্রার্থীরা যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।উল্লেখ্য, আগামী ২৮ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের তৃতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। | 6 |
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার মতো প্রতিযোগিতামূলক একটি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে কৌশলী হতে হবে। উপযুক্ত কৌশল অনুসরণ করে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিলেই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা সম্ভব। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে পরামর্শ ও কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ২০১৮-২০১৯ সেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বি-ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অধিকারী ও আইবিএর শিক্ষার্থী ইয়ামিন হোসেন আরিফ। আজকে থাকছে প্রথম পর্ব। ভালোভাবে রিভিশন দাওযেহেতু পরীক্ষা এখন সন্নিকটে, তাই এই মুহূর্তে কীভাবে পড়তে হবে বা কী পড়তে হবে, এ-সংক্রান্ত বিষয়ে আমি কোনো পরামর্শ দেব না। তবে যেটুকু না বললেই নয় তা হলো, এই সময়ে এসে নতুন কিছু পড়ে মাথা খারাপ করার থেকে বরং আগের পড়াগুলো ভালোভাবে রিভিশন দেওয়াটাই বরং বুদ্ধিমানের কাজ। পরীক্ষার আগে এসে নতুন টপিক পড়তে গিয়ে দেখা যায় আমরা আগের পড়াগুলো ভালোভাবে রিভিশন দিতে পারি না। ফলে পরীক্ষার প্রশ্ন হাতে পেয়ে আফসোস করি আর বলি ইশ! এই প্রশ্নটা তো আমি পড়েছি, কিন্তু উত্তরটা ঠিক মনে পড়ছে না। আমার পরামর্শ হলো, 'যা-ই পড়ো না কেন এমনভাবে পড়ো, যেন সেই টপিক থেকে প্রশ্ন এলে অনায়াসেই উত্তর করতে পারো।'সামাজিক মাধ্যমে সময় নষ্ট নয়পরীক্ষা কাছে এলে যে বিষয়টা বেশি হয়, আমরা সামাজিক মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার যে গ্রুপগুলো রয়েছে তাতে সময় বেশি দেওয়া শুরু করি। ফলে ধীরে ধীরে পড়াশোনার গতি কমে আসে এবং বিষণ্ণতা অনুভব করি। তাই আমার একান্ত পরামর্শ থাকবে ওই সব গ্রুপে পাশের সিটে কে বসবে সেটা খুঁজে, অ্যাডমিট কার্ডের ছবি আপলোড করে সময় নষ্ট না করে বরং সময়টা পড়াশোনার পেছনে ব্যয় করো।থাকার জায়গার ব্যবস্থাভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আমাদের বাসা থেকে অনেক দূরে যেতে হয়। নতুন জায়গায় গিয়ে নানা রকমের বাজে অভিজ্ঞতার স্বীকার হতে হয়। এ রকমের বাজে অভিজ্ঞতা থেকে বাঁচতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যার যার নিজস্ব জেলা সমিতির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ রইল। জেলা সমিতিতে যোগাযোগ করলে ভর্তি পরীক্ষাসংক্রান্ত সব সহায়তা পাওয়া যায়।নো টেনশনপরীক্ষার আগে বিভিন্ন রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে পারো। যেমন হল খুঁজে না পাওয়া, সিট খুঁজে না পাওয়া, রিকশা না পাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। যত সমস্যাই হোক না কেন চিন্তিত হওয়া যাবে না। সমস্যার জন্য ৫-১০ মিনিট দেরি হতেই পারে। এতে হতাশ না হয়ে অবশ্যই ধৈর্যসহ মাথা ঠান্ডা রেখে পরীক্ষা দেবে।ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত থাকি, যার ফলে মনের মধ্যে নানা রকম প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে। আমি তেমনই কিছু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব আজ। প্রশ্ন-১: পরীক্ষায় কতগুলো প্রশ্ন উত্তর করে আসব?উত্তর: যতগুলো প্রশ্নের উত্তর সঠিক বলে তুমি নিশ্চিত, সবগুলো প্রশ্নের উত্তর করে আসবে।প্রশ্ন-২: আন্দাজে উত্তর করব কি না?উত্তর: যদি ৬০ শতাংশ প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে দিতে পারো, তাহলে আর আন্দাজে উত্তর করার দরকার নেই। কারণ ৬০ শতাংশ মার্কস পেলে ইনশা আল্লাহ ভর্তির সুযোগ পাবে। তবে যদি ৬০ শতাংশের বেশি সঠিক উত্তর করার পর তুমি আন্দাজে উত্তর করো, তাহলে নেগেটিভ মার্কিংয়ের কারণে চান্স না-ও হতে পারে।প্রশ্ন-৩: কত মার্কস পেলে চান্স হবে?উত্তর: অনেকেই জিজ্ঞেস করে, কত পেলে আমি চান্স পেতে পারি। এমনকি আমি নিজেও ভর্তি পরীক্ষার সময় এমন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছি। এই প্রশ্নের উত্তরে আমি যেটা বলব তা হলো, ৬০ শতাংশের ওপরে মার্কস পেলে মোটামুটি নিশ্চিত থাকতে পারো তুমি চান্স পেয়ে যাবে।প্রশ্ন-৪: আইবিএতে চান্স পেতে কী করতে হবে?উত্তর: আইবিএতে মোট সিট ৫০টা। এর মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ২৫ এবং বাকি ২৫ জন নেবে অন্য বিভাগ থেকে। তাই আইবিএতে চান্স পেতে হলে অবশ্যই বি-ইউনিটের মেরিট লিস্টে প্রথম ৩০-এর মধ্যে থাকতে হবে। ৩০-এর বাইরে গেলে আইবিএতে না হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া আইবিএতে চান্স পাওয়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে ৪০ শতাংশের বেশি মার্কস থাকতে হবে।প্রশ্ন-৫: সাবজেক্ট চয়েস: সাবজেক্ট চয়েস হওয়া উচিত নিজের পছন্দমতো, অর্থাৎ নিজের যে সাবজেক্ট পড়তে ভালো লাগে, সেই হিসেবে। আমি যেভাবে সাবজেক্ট চয়েস দিয়েছি, তা নিম্নরূপ:১। আইবিএ২। ফিন্যান্স৩। অ্যাকাউন্টিং৪। মার্কেটিং৫। ম্যানেজমেন্ট৬। টিএইচএম এবং৭। ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স।প্রশ্ন-৬: আমার জিপিএ খুবই কম। আমার কি চান্স হবে?উত্তর: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জিপিএ খুব বেশি একটা প্রভাব ফেলে না। ভর্তি পরীক্ষায় ভালো মার্কস থাকলে চান্স হয়ে যাবে। আমার নিজেরও এসএসসির রেজাল্ট ছিল মাত্র ৩.৯৪। আমার এক বন্ধুর এসএসসির রেজাল্ট ছিল মাত্র ৩.৯৬। সেই বন্ধুও এখন আইবিএতে পড়াশোনা করে। সুতরাং জিপিএ কম থাকায় চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।প্রশ্ন-৭: কত মার্কস পেলে প্রথম হতে পারব?উত্তর: আমাদের সময় প্রথম স্থান অর্জনকারী ১০০ নম্বরে ৭৬ পেয়েছিল। আমি তৃতীয় হয়েছিলাম ৭৩.৪৫ মার্কস পেয়ে। ৭০ নম্বরের বেশি পেলে প্রথম ১৫ জনের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা থাকে।প্রশ্ন-৮: প্রশ্ন রিপিট হয় কি না?উত্তর: হ্যাঁ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত বছরের প্রশ্ন রিপিট হয়।এই সময়কার একটি পদক্ষেপ তোমার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। অতএব, সময় অপচয় না করে নিজের ওপর বিশ্বাস আর সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রেখে শেষ সময়ে প্রস্তুতিটা ঝালিয়ে নাও।অনুলিখন: জুবায়ের আহম্মেদ | 1 |
সম্প্রতি আমির খান ও কিরণ রাওয়ের বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন কঙ্গনা রানাউত। তার আক্রমণের তীরে এবার বিদ্ধ করলেন আমিরকে। আর সেটির জন্য কঙ্গনা বেছে নিয়েছেন ইসলাম ধর্ম। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দুই ব্যক্তির মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের উদাহরণ দিয়ে তিনি বোঝাতে চাইলেন, কেবল ইসলাম ধর্মাবলম্বীর সঙ্গে বিয়ের করার ক্ষেত্রে ধর্মান্তরিত হতে হয়। কঙ্গনা লেখেন, 'পাঞ্জাবি পরিবারে এক পুত্রকে হিন্দু হিসেবে বড় করা হয়, অন্যজনকে শিখ ধর্মে। কিন্তু আমির খান স্যারের বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনায় অবাক হয়ে গেলাম। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কিরণ রাও ও আমির খানের ছেলে কেবল মুসলমান পরিচয় পেল কেন? যদি একটি পরিবারে নাস্তিক, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, রাধাস্বামী মতে বিশ্বাসী একত্রে বসবাস করতে পারেন, তবে কোনো মুসলমানকে বিয়ে করলে নিজের ধর্ম বদলাতে হয় কেন?' জানা যায়, কিরণ রাও ধর্মে বিশ্বাসী নন। নিজেকে নাস্তিক বলে পরিচয় দেন। কিন্তু বিয়ের পর নিজের নাম থেকে রাও পদবি মুছে ফেলেননি। যে কারণে হিন্দু ধর্মের একটা রেশ আছে নামে। কিরণ নিজেও নিরামিষাশী এবং বিয়ের পরে আমির খানকেও আমিষ ছেড়ে নিরামিষাশী হয়ে যাওয়ার পথ দেখিয়েছেন। এখনো দুজনে একই পথে আছেন। অন্যদিকে তাদের ছেলে আজাদের নামের পেছনে মা ও বাবা দুজনের পদবিই রাখা। এদিকে কঙ্গনা কট্টর হিন্দুপন্থি। এর আগেও ধর্ম নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন। এবারো কঙ্গনা ধর্ম নিয়ে অন্যদের পরামর্শ দিতেও থামেননি। বলেন, 'সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই সবার মানসিকতাকেও পরিবর্তন করতে হবে। সব ধর্মের মধ্যে একমাত্র ইসলাম ধর্মের মানুষকে বিয়ে করলেই ধর্মান্তরণের রীতি বন্ধ করতে হবে।' অন্যদিকে বিচ্ছেদের ঘোষণার পর আমির খান ও কিরণ রাও গত ৪ জুলাই লাইভ সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে জানান, বিচ্ছেদের পরও তাদের মধ্যে সামান্য পরিবর্তন ছাড়া নিজেদের প্রতি সম্মানবোধ ঠিক থাকবে। | 2 |
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ বলেছেন, নাশকতায় জড়িত থাকার সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২০২০ সালের একটি নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের ঘটনা ও সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটে যাওয়া তাণ্ডবসহ অন্যান্য মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রবিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা পৌনে ২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে এসব তথ্য জানান ডিসি হারুন। মামুনুলকে গ্রেপ্তারে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মাদ্রাসার ভেতরে গিয়ে প্রথমে তার সঙ্গে কথা বলি। পরে বের করে আনা হয়। এ সময় কোনো বাধার মুখে পড়তে হয়নি। তিনি আরও জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে দুপরে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
| 6 |
ভারতের রাজধানী দিল্লির গোকুলপুরীর এক বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। পুড়ে গেছে কমপক্ষে ৬০টি ঝুপড়িঘর। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার রাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দিল্লির দমকল বাহিনী জানিয়েছে, রাত ১টার দিকে তারা ফোনকল পেয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ৬০টি ঝুপড়িঘর পুড়ে গেছে। একেবারে ভস্মীভূত হয়ে গেছে অন্তত ৩০টি ঘরবাড়ি। দমকলবাহিনীর ১৩টি ইউনিট একযোগে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।এনডিটিভি আরও জানায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে পুড়ে যাওয়া সাতটি মরদেহ উদ্ধার করেছে দমকলবাহিনী।উত্তর-পূর্ব দিল্লি পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার দেবেশ কুমার মাহলা জানিয়েছেন, আগুন নেভাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। ভোর ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কীভাবে আগুন লেগেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। | 3 |
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকে চিঠি লেখার একদিন পরে দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর ওমর সরফরাজ চিমা বলেন, যদি তাকে একজন সুবেদার ও চার সেনা দেয়া হয়, তবে তিনি হামজা শাহবাজকে গ্রেফতার করবেন। বৃহস্পতিবার তিনি এমন মন্তব্য করেন। এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর ওমর সরফরাজ চিমা বলেন, সাংবিধানিক সঙ্কটের মধ্যে পড়া পাঞ্জাব প্রদেশকে ক্ষমতার জোরে জিম্মি করা হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সাংবিধানিক সঙ্কট নিয়ে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের চুপ থাকাটা উদ্বেগজনক। যদি আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটা চলমান থাকে তবে রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভির ছেলে একদিন সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। পাঞ্জাব প্রদেশের গভর্নর বলেন, আমার রাজনৈতিক সংগ্রামের সময় আমি একজন নিরপেক্ষ আম্পায়ার চেয়েছি। তিনি আরো বলেন, নিরপেক্ষ আম্পায়ার বলতে আমি উভয় পক্ষের জন্য একই আইন ও রীতি-নীতি চাই। পাঞ্জাবে হস্তক্ষেপ করার জন্য সেনাপ্রধানের প্রতি গভর্নরের আহ্বান পাঞ্জাবে সাংবিধানিক কাঠামো বাস্তবায়নে যথাযথ ভূমিকা পালন করার জন্য সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রদেশটির গভর্নর ওমর সরফরাজ চিমা। বুধবার প্রদেশটির বিদ্যমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাঞ্জাবের গভর্নর প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনী প্রধানের কাছে তার ভূমিকা পালনের আবেদন জানান।তিনি পাঞ্জাব সঙ্কট নিয়ে সেনাপ্রধানের কাছে লেখা তার চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির কাছেও পাঠিয়েছেন। এর আগের দিন ওমর সরফরাজ চিমা প্রদেশটির রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সঙ্কট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে একটি চিঠি লিখেছিলেন। ওই চিঠিতে পাঞ্জাবের গভর্নর তার সকল দক্ষতা ও সক্ষমতা ব্যবহার করে দেশের সংবিধানকে সুরক্ষিত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করেন।প্রধানমন্ত্রীকে গভর্নর বলেন, কোনো ক্ষমতাই আপনার ছেলের অসাংবিধানিক কার্যক্রম থামাতে আমাকে বিরত রাখতে পারবে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী উসমান বুজদারের পদত্যাগপত্রকে বিতর্কিত ঘোষণা করে চিমা পিটিআইয়ের দলচ্যুত আইনপ্রণেতাদের প্রতি পিএমএল-এন সমর্থন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। চিমা লিখেছেন, হামজা শাহবাজ প্রধানমন্ত্রীর ছেলে হওয়ার সুবিধা গ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, পাঞ্জাবে সকল ধরনের অসাংবিধানিক কার্যক্রমের 'নাটের গুরু' হলেন এই হামজা। গভর্নর বলেন, পাঞ্জাব পরিষদের সচিব মুখ্যমন্ত্রীর পদে 'প্রতারণামূলক নির্বাচন'-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের বিষয় সম্পর্কে তাকে অবহিত করেছেন। তিনি আরো বলেন, পাঞ্জাবের অ্যাডভোকেট জেনারেলও (মুখ্যমন্ত্রী) নির্বাচনকে 'অবৈধ' হিসেবে অভিহিত করেছেন। গভর্নর বলেন, তিনি তার জানা থাকা সকল বিষয় রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছেন এবং এ ব্যাপারে তার কাছে দিক-নির্দেশনা চেয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনি আপনার ক্ষমতা অসাংবিধানিকভাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে দেশকে রাজনৈতিক সঙ্কটের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন।' তিনি বলেন, আপনি, আপনার ছেলে ও মরিয়ম নওয়াজ ফৌজদারি অপরাধে জড়িত। দেশের দুর্ভাগ্য যে জামিনে থেকেও আপনারা প্রধানমন্ত্রী ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর পদে রয়েছেন। সূত্র : জিও নিউজ, দি নিউজ ইন্টারন্যাশনাল | 3 |
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ফার্মেসি থেকে শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না (৩৫) নামে এক গৃহবধূর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার আব্দুল মতিন মার্কেটের একটি ফার্মেসি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ শনাক্ত করেন।শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্না উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের নারিকেলতলা গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী ছুরুক মিয়ার স্ত্রী। তবে দীর্ঘদিন ধরে জগন্নাথপুর পৌর এলাকায় দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে স্বামীর নিজস্ব বাসায় বসবাস করে আসছেন ওই গৃহবধূ।শাহনাজ পারভীন জ্যোৎস্নার ভাই হেলাল মিয়া আজকের পত্রিকাকে জানান, গতকাল বুধবার বিকেলে ওষুধ কেনার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। রাতে অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাঁকে না পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হলে ওই ফার্মেসি মালিকের সি/এ মার্কেটের বাসায় খোঁজ করেন। পরে জানতে পারেন, তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোরে পালিয়ে গেছেন। আজ বেলা ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পুলিশ 'অভি মেডিকেল হল'-এর তালা ভেঙে ভেতরে বিছানার চাদর দিয়ে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে ফার্মেসির মালিক জিতেশ গোপ পলাতক রয়েছেন। জিতেশ গোপ কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সইলা গ্রামের যাদব গোপের ছেলে। গত ১০ বছর ধরে জগন্নাথপুর বাজারে ওষুধের দোকানে চাকরি করে আসছেন তিনি। এক বছর ধরে ওই মার্কেটে নিজে ওই ফার্মেসি খুলে ব্যবসা করে আসছেন তিনি।বিষয়টি নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে মরদেহের সুরতহাল তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ফার্মেসির মালিককে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।আরও পড়ুন:রাঘববোয়ালের পেটে শরীফের চাকরিটা৬০ মাসের বেতন বাকি, নিউজরুমে সাংবাদিকের আত্মহত্যাপরীক্ষামূলকভাবে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু ২২ ফেব্রুয়ারিপ্রস্তাবিত ৩২২ জনের নাম প্রকাশ করল সার্চ কমিটিসাইবার হামলার ঝুঁকিতে ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহারকারীরাগুগল-উইকিপিডিয়ায় চাকরির নামে শতাধিক তরুণীকে ব্ল্যাকমেল | 6 |
পৃথিবীর বিপর্যয় নিয়ে ছবির কথা বললে রোনাল্ড এমরিখের নাম আসে প্রথম দিকে। তাঁর ছবিগুলোর দিকে একটু তাকানো যাক। 'ইনডিপেনডেন্স ডে', 'দ্য ডে আফটার টুমরো' ও '২০১২'-একের পর এক সায়েন্স ফিকশন আর পৃথিবীর বিপর্যয় নিয়ে ছবি তৈরিতে নিজেকে ওস্তাদের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন এই নির্মাতা। এবার নিয়ে এসেছেন 'মুনফল'।চাঁদ তার কক্ষপথ থেকে সরে এসেছে। ধেয়ে আসছে পৃথিবীর দিকে। এই বিপর্যয় থেকে উদ্ধারের পথ কী? একজন সাবেক মহাকাশচারী, একজন নাসা বিজ্ঞানী ও একজন ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক পৃথিবীকে এই বিপর্যয় থেকে বাঁচাতে মিশনে নামেন। ট্রেলার দেখে ছবির গল্প এইটুকু ধরা যায়। পৃথিবী বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে ছবি তৈরি এমরিখের কাছে নতুন নয়। এই জার্মান চলচ্চিত্রকার হলিউডে 'মাস্টার অব ডিজাস্টার' হিসেবে পরিচিত। তবে এসব ছবি বানাতে কিছুটা বিরক্তও এমরিখ। তিনি বলেন, 'বারবার আমাকে দিয়ে এ ধরনের সিনেমা বানানো তাঁরা পছন্দ করেন। আমি সব সময় নতুন কিছু বানাতে চাই। আপনি কখনোই প্রতি দুই বছরের মধ্যে একটা ডিজাস্টার সিনেমা বানাতে পারেন না।'তবে এবার এমরিখ খানিক বিরতিই নিলেন। ২০১৬ সালে 'ইনডিপেনডেন্স ডে: রিসারজেন্স'-এর পরে 'মুনফল' তৈরিতে তিনি সময় নিলেন পাঁচ বছর। হ্যালি বেরি, প্যাট্রিক উইলসন ও জন ব্রাডলিসহ অনেককে দেখা যাবে এতে। বেশ কয়েক বছর ধরেই ছবিটি নিয়ে কাজ করছেন ৬৬ বছর বয়সী এই নির্মাতা। প্রথমে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সেলের কাছে ছবির প্রাথমিক ধারণা বিক্রি করে দিয়েছিলেন এমরিখ। পরে তিনি আবার তাঁর স্বত্ব নিয়ে নেন। এবার ছবিতে প্রচুর অর্থ লগ্নির জন্য চেষ্টা করেন। প্রকল্পটি নিয়ে আসেন কান চলচ্চিত্র উৎসবে। সেখান থেকে তিনি প্রচুর তহবিলও সংগ্রহ করেন। যেন ছবিটি স্বাধীনভাবে নির্মাণ করা যায়। অবশেষে ছবিটি পর্দায় আসতে যাচ্ছে। আইএমডিবির তথ্যমতে, ছবিটি আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, হংকং, হাঙ্গেরি, ইতালিসহ বেশ কয়েকটি দেশে আজ মুক্তি পাবে। আর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, স্পেন, সুইডেন, তুরস্ক, বুলগেরিয়াসহ বেশ কিছু দেশে আগামীকাল মুক্তি পাবে। | 2 |
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে চট্টগ্রামে আজ ৩ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। নগরের প্রতিটি ওয়ার্ড ও চট্টগ্রামের ইউনিয়ন পর্যায়ে যাঁরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছে তাঁরা এ টিকা নিতে পারবেন।জেলার সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাবিব আজকের পত্রিকাকে জানান, নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডের ১৫০০ করে টিকা দেওয়া হবে। ৪১টি ওয়ার্ডের ১২৩ কেন্দ্রে মোট ৬১ হাজার ৫০০ মানুষ টিকা পাবেন। এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে একটি কেন্দ্রে ১৫০০ করে মোট ২০০ ইউনিয়নে ৩ লাখ টিকা দেওয়া হবে। পৌরসভাগুলোতে দেখা হবে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে একদিনে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টিকা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।এদিকে টিকা দেওয়া উপলক্ষে নগরের প্রতিটি ওয়ার্ড আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মূলত যাঁরা অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাঁরা তিনটি বুথের মাধ্যমে এসব টিকা পাবেন।চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুশৃঙ্খলভাবে যাতে টিকার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়, সে জন্য প্রত্যেক কাউন্সিলরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।জামালখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, যাঁরা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করেছে শুধু তাঁরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পাবেন। নিজে উপস্থিত থেকে টিকার কার্যক্রম মনিটরিং করব। কোনো স্বজনপ্রীতি হবে না।১৪ নম্বর লালখানবাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল বলেন, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ রোগী যাঁদের লাইনে দাঁড়াতে কষ্ট হয়, তাঁরা আগে টিকা পাবেন। ইতিমধ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের বলে দিয়েছি, টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনো অনিয়ম না হয়।সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২৮ লাখের মতো টিকা এসেছে। ৩১ লাখের বেশি টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এখন যাঁরা টিকা পাচ্ছেন তাঁরা বয়স্ক ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রীরা।অভিযোগ রয়েছে, রেজিস্ট্রেশন করার দুই মাসেও টিকা নেওয়ার মেসেজ না আসায় অনেকে টিকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন।এসব অভিযোগ স্বীকার করে সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বি জানান, বর্তমানে যাঁরা টিকার জন্য নিবন্ধর করছেন তাঁরা দেড়-দুই মাসের ভেতর টিকা নেওয়ার জন্য মেসেজ পাচ্ছেন। এখন মূলত বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যদেরও টিকা দেওয়া হবে। | 6 |
হাট ইজারায় অনিয়মসহ এ সংক্রান্ত নানা অনিয়মের ফলে সরকারের ১৫ কোটি ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ১৩ টাকা আর্থিক ক্ষতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের সরকারী হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। কমিটি এসময় অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তিসমূহের ক্ষেত্রে জড়িত অর্থ দুই মাসের মধ্যে আদায় করে কমিটিকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদের সরকারী হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ১৩তম বৈঠক কমিটির সভাপতি মোঃ রুস্তম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনস্থ কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির সদস্য মোঃ আব্দুস শহীদ, মোঃ আফছারুল আমীন, মোঃ শহীদুজ্জামান সরকার, সালমান ফজলুর রহমান, জহিরুল হক ভূঞা মোহন, আহসানুল ইসলাম (টিটু), ওয়াসিকা আয়েশা খান ও মোঃ জাহিদুর রহমান উক্ত বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। | 6 |
রাজধানীর খিলক্ষেত ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনায় মাইশা মমতাজ মিম নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থসাউথ ইউনিভার্সটির ইংরেজি বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্রী ছিলেন। শুক্রবার (১ এপ্রিল) সকালের কোনো এক সময় তিনি দুর্ঘটনার কবলে পড়েন বলে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুন্সী সাব্বির আহমেদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে দৈনিক প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণ। ওসি সাব্বির আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে তারা খবর পান, একটি মেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফ্লাইওভারের ৩০০ ফিট নামার পথে পড়ে আছেন। তার পাশে একটি স্কুটি পড়ে আছে। তিনি আরও বলেন, কল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইশাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে মাইশাকে সেখান থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, দুর্ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শীকে পাওয়া যায়নি। তবে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি জায়গার সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, একটি কাভার্ড ভ্যান মাইশার পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে। ওই কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা বা চাপায় তার মৃত্যু হয়েছে কি-না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। খিলক্ষেত থানার ওসি বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে কাভার্ডভ্যানটি শনাক্ত করা গেছে। নম্বর পাওয়া গেছে। এখন এই নম্বর ধরে কাভার্ডভ্যানটিকে ধরার চেষ্টা চলছে। | 6 |
কক্সবাজারের পেকুয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্লুইসগেটে জাল বসিয়ে মাছ ধরার জন্য নদী থেকে পানি ঢুকিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে এলাকার দুই হাজার একর জমিতে আমন চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।অভিযোগ উঠেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা এলাকায় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩৫ নম্বর স্লুইসগেট দিয়ে দুই সপ্তাহ ধরে মাতামুহুরী নদী থেকে পানি ঢোকানো হচ্ছে। ওই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বিএনপি নেতা আবু ছালেকসহ চার থেকে পাঁচজন প্রভাবশালী এ ঘটনায় জড়িত।স্থানীয় কৃষক মোজাফ্ফর আহমদ, মোহাম্মদ আলমগীর ও আতিক উদ্দিন জানান, পাউবোর বেড়িবাঁধে স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনের কথা থাকলেও প্রভাবশালীরা ক্ষমতা খাঁটিয়ে উল্টো পানি ঢুকিয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। এতে মেহেরনামা, নন্দীর পাড়া, বিলাছুরা, চৈরভাঙা, মোরার পাড়া, গোয়াখালী টেক পাড়া, সরকারি ঘুনা, হরিনা ফাঁড়িসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুই হাজার একর জমিতে আমন আবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। প্রভাবশালীরা পাউবোর কাছ থেকে স্লুইসগেট দেখভাল করার অনুমতি নিয়ে জলাবদ্ধতা তৈরি করে অন্যের জমিতে মাছ চাষ করছে।কৃষকেরা জানান, দুই সপ্তাহ ধরে পানিতে ডুবে থাকায় আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিনে স্লুইসগেট দিয়ে নদী থেকে পানি ঢোকানোর দৃশ্য ধারণ করে নেন। এর আগে বিষয়টি গত ১৫ জুলাই উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়।সভায় চকরিয়া ও পেকুয়ার সাংসদ জাফর আলম এ ব্যাপারে শিগগির ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। সাংসদ বলেন, কোনো অবস্থাতেই স্লুইসগেট দিয়ে নদী থেকে পানি ঢোকানো যাবে না। সেই সঙ্গে ভেতরের পানি বের হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। কেউ কৃষকের ক্ষতি করে পানি ঢোকালেতাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রতি বর্ষায় একটি প্রভাবশালী মহল যোগসাজশ করে স্লুইসগেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের নামে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত কৃষকদের প্রায় ২ হাজার একর ধানি জমিতে পানি ঢুকিয়ে মাছ চাষ করে। এ অবস্থা প্রায় ৩০ বছর ধরেচলে আসছে।এ দিকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার স্লুইসগেট দিয়ে পানি ঢুকিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, 'এখনো চাষাবাদ শুরু হয়নি। আমি এ বছরই স্লুইসটি নিয়েছি। আগে স্লুইসগেট যাঁদের নিয়ন্ত্রণে ছিল তাঁরা আমার সঙ্গে শত্রুতা করছেন।'স্লুইসগেট রক্ষণাবেক্ষণ কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আবু ছালেক বলেন, 'আমি পদাধিকার বলে কমিটিতে আছি। বিএনপি করি বলে তাঁদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকি। স্লুইসগেট থেকে এ পর্যন্ত এক পোয়া মাছও আমি খাইনি।'এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পেকুয়া শাখা কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন বলেন, 'বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কেউ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে চাষাবাদ ব্যাহত করলে কমিটি বাতিল করার সুপারিশ করা হবে।'পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোতাছেম বিল্লাহ বলেন, এ ব্যাপারে স্লুইসগেট গেট রক্ষণাবেক্ষণ কমিটিকে পানি বের করে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ এ রকম ঘটনায় জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। | 6 |
রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদকে। নির্ধারিত সময়ের কিছু আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু সেখানে আয়োজক ও আমন্ত্রিত অন্য কোনো অতিথি ছিলেন না। প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করার একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে যান। শুক্রবার (২৮ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ট্যুরিজম রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) ও নাহার কুকিং ওয়ার্ল্ডের যৌথ আয়োজনে পর্যটন ভবনের বাঙ্কুয়েট হলে এ ঘটনা ঘটে। অনুষ্ঠানটি ছিল 'ঐতিহ্যবাহী রান্না: সেরা ১০০ রেসিপি' গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব এবং বিটিআরআই কালিনারি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ নির্দিষ্ট সময়ের কিছু আগেই অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। এরপর তিনি ব্যাঙ্কুয়েট হলে মঞ্চের সামনে প্রায় ৪০ মিনিট অপেক্ষা করেন। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে আয়োজকদের দুই-একজন ছাড়া তেমন কেউই অনুষ্ঠানস্থলে ছিলেন না। একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী রেগে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। পরে অনুষ্ঠানটি বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শুরু করা হয়। প্রতিমন্ত্রী চলে যাওয়ার সময় আয়োজকদের দুই-একজন অনুরোধ করলেও তিনি গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যান। এ সময় আয়োজকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেছি। এখন পর্যন্ত সব আয়োজক বা অন্য কোনো অতিথি অনুষ্ঠানস্থলে নেই। আমারও তো রাষ্ট্রের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। আয়োজকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। প্রতিমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর অনুষ্ঠানস্থলে থাকা তার মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান শুরু না হওয়া, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করানো ও আয়োজকসহ অন্যান্য অতিথিরা সময়মতো না আসায় অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) হান্নান মিঞা, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সিইও (অতিরিক্ত সচিব) জাবেদ আহমেদ এবং বিশিষ্ট রন্ধনশিল্পী কেকা ফেরদৌসি। | 6 |
ঠাকুরগাঁওয়ে এমপিকে বহনকারী গাড়িতে জ্বালানী (ডিজেল) দেয়নি পাম্প শ্রমিকরা। আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে শহরের চৌধুরী ফিলিং ষ্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। সকালে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন ঠাকুরগাঁও সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। তাকে বহনকারী গাড়ি দুটি শহরের চৌধুরী ফিলিং ষ্টেশনে জ্বালানী নেয়ার জন্য গেলে সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা জ্বালানী সরবরাহ না করেই গাড়ি দুটি ফিরিয়ে দেয়। এ সময় গাড়িতেই বসা ছিলেন এমপি রমেশ চন্দ্র সেন। পাম্পে কর্মরত শ্রমিক অটল রায় জানান, আমাদের মালিকের নির্দেশে আমরা সব ধরণের জ্বালানী সরবরাহ বন্ধ রেখেছি। কতদিন বন্ধ থাকবে তা জানি না। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি এনামুল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা ইতোপূর্বে সরকারের কাছে আমাদের বিভিন্ন দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সরকার শুধু আশ্বাস দিয়েছে, বাস্তবায়ন করেনি। এবারের ১৫ দফা দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের অনির্দিষ্টি কালের ধর্মঘট কর্মসূচি চলবে। এদিকে আগাম কোনো প্রকার প্রচার প্রচারণা ছাড়াই পাম্প ধর্মঘট শুরু হওয়ায় ব্যপক ভোগান্তিতে পড়েছে জ্বালানী ব্যবহারকারী মানুষ। | 6 |
নরসিংদীর পলাশে আজাহার খন্দকার (৫০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে দেশি-বিদেশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ আটক করেছে র্যাব-১১। রোববার রাতে উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ডাঙ্গা গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয় বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে র্যাব। আটককৃত আজাহার খন্দাকার ডাঙ্গা ইউনিয়নের মৃত ওয়াজেদ খন্দকারের ছেলে। এছাড়া তিনি ডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। র্যাব-১১ এর উপ-পরিচালক তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, আটককৃত আজাহার খন্দকারের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড পিস্তলের গুলিসহ ১টি ভরা ম্যাগাজিন, ১টি ধারালো কিরিস, ২টি চাইনিজ কুড়াল, ১ টি হাইসা ও ৫টি রাম দা উদ্ধার করা হয়। র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, আজাহার খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে পলাশ থানার ডাংগা এলাকায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। তার অত্যাচার ও নির্যাতনের ভয়ে সাধারণ জনগণ কথা বলার এবং এর প্রতিকার চাওয়ার সাহস পেতেন না। এসকল সন্ত্রাসী কর্মকন্ডের সাথে জড়িত থাকার কারণে দীর্ঘদিন যাবত র্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল তার উপর গোয়েন্দা নজরদারী চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও বিভিন্ন অপরাধে তার বিরুদ্ধে নরসিংদীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় র্যাব। | 6 |
রাজ পরিবারে সদস্য হয়েও রাজ পরিবারের প্রচলিত রীতি ভেঙে দিয়েছিলেন মারিয়া গালিটজিনে। বিয়ে করেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত শেফ ঋষিরূপ সিংকে। তবে দু'বছর বয়সী একটি ছেলে ও প্রিয় স্বামীকে রেখে মৃত্যু্বরণ করেন তিনি। সম্প্রতি হাউসটনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। খবর এনডিটিভির অস্ট্রিয়ার প্রিন্সেস মারিয়া-আনা এবং প্রিন্স পিওটের গালিতজিনের কন্যা মারিয়া গালিটজিনে। তবে তিনি ছিলেন ব্যতিক্রমী এক ব্যক্তিত্ব। রাজ পরিবারে সদস্য হয়েও রাজ পরিবারের প্রচলিত রীতি ভেঙে দিয়েছিলেন। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ভারতীয় বংশদ্ভূত পেশায় শেফ ঋষিরূপ সিংকে বিয়ে করেছিলেন মারিয়া। এমন নজির খুবই কম আছে। তাদের দু'বছর বয়সী একটি ছেলেও আছে। নাম ম্যাক্সিম। ঋষিরূপ হাউসটন শহরের একজন্য প্রসিদ্ধ এক্সিকিউটিভ শেফ। আর মারিয়া ছিলেন ইন্টিরিয়র ডিজাইনার। কর্মসূত্রে ইউরোপ ও আমেরিকার একাধিক শহরে ঘুরে বসবাস করেছেন। তবে বিয়ের পরে স্বামী এবং ছেলেকে নিয়ে হাউসটনেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন। ম্যাক্সিম তার চোখের মণি। মাঝেমধ্যেই ছেলের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করতেন তিনি। এমনই জানানো হয়েছে স্থানীয় সংবাদপত্রে। মৃত্যুর চার দিন পরে হাউসটনের ফরেস্ট পার্ক ওয়েস্টহেইমার সিমেট্রিতে মারিয়ার দেহ সমাধিস্থ করা হয়েছে। | 3 |
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিকে দিয়েছেন রাজনৈতিক মুক্তি, আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে নিরলস কাজ করে চলেছেন। ভবিষ্যতে আমাদের আর অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হবে না।গতকাল মঙ্গলবার গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন 'সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি'র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, 'বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ক্ষমতায় থাকায় দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। প্রতিটি খাতে এভাবে অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে।'মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশের পণ্যের ডিজাইন এবং গুণমান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, 'পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা পেলে গার্মেন্টশিল্পের মতো চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা, প্লাস্টিক এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি খাত থেকেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। সে লক্ষ্যেই সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি স্থাপন করা হয়েছে।'বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'বাংলাদেশ ঘুরে গেছে। আশপাশের সব দেশের চেয়ে আমরা এগিয়ে আছি। স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানের অর্থনীতি ৭০ ভাগ বেশি ছিল, আর বাংলাদেশ এখন পাকিস্তানের চেয়ে ৪০ ভাগ এগিয়ে আছে। পাকিস্তানের চেয়ে সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। ৭-৮টি সূচকে ভারতের চেয়ে আমরা এগিয়ে আছি।'অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ, এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মনসুরুল আলম, গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন। | 6 |
একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশতম ও বাজেট অধিবেশন শুরু হয়েছে রবিবার (৫ জুন) বিকেল ৫টায়। সন্ধ্যার দিকে সংসদে সীতাকুণ্ড ট্রাজেডিতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও গৃহীত হয়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। এর আগে বিকেল ৪টায় কার্য উপদেষ্ঠা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, চিফ হুইপ, বিরোধী দলীয় নেতানহ কার্যউপদেষ্ঠা কমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ৯ জুন সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার সভাপতি মণ্ডলীর সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। তারা হলেন- এমপি শামসুল হক টুকু, এ বি তাজুল ইসলাম, মহিবুর রহমান মানিক, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক এবং শামীমা খানম। এরা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে জেষ্ঠ্যতা অনুযায়ী সংসদকার্য পরিচালনা করবেন। এদিকে শনিবার রাতে চট্টগ্রামে আগুন ও বিস্ফোরণে অর্ধশত নিহত ও চারশতাধির আহতের ঘটনা সীতাকুণ্ড ট্রাজেডি নিয়ে অধিবেশনে সন্ধ্যার দিকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, শনিবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কনটেইনার বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্মরণে মহান জাতীয় সংসদ গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছে। ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছে। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে মহান জাতীয় সংসদ। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রেসিডেন্ট শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান, সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, মহান ভাষা সৈনিক ও কালজয়ী গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী'র শ্রষ্ঠা আবদুল গাফফার চৌধুরী, মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক জুবেদ আলী, সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তী, সাবেক এমপি বি এম নজরুল ইসলাম, শাহ জিকরুল আহমেদ, অধ্যাপক ডা. খন্দকার আবদুল জলিল, আশিকা আকবর, বেগম পারভীন সুলতানা প্রমুখের মৃত্যুতে সংসদ গভীর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং গৃহিত হয়। | 6 |
আওয়ামী লীগের ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা শাখার বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দিনব্যাপী শহরের থানা রোডে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শামচুল আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন। সভায় ফরিদপুর সদর উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ তাদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রম তুলে ধরেন। তারা অবিলম্বে সব ইউনিয়ন কমিটি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা কমটির জোর তৎপরতার তাগিদ দিয়ে দলীয় অভ্যন্তরীণ বিভাজন নিরসনের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান। | 6 |
প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক সাংবাদিকব রোজিনা ইসলামকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সচিবালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রোজিনার মুক্তির দাবি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন। মঙ্গলবার (১৮ মে) সুজন বলেছে, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করা হয়েছে এবং তাঁকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো যা নিন্দনীয়। নাগরিক সংগঠন সুজন-এর পক্ষ থেকে আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি, রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এবং অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দাবি জানানয় সুজন। সুজন মনে করে, রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। এই ঘটনাকে স্বাধীন ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং মুক্ত গণমাধ্যমের প্রতি হুমকী বলেই আমরা মনে করি। একজন নারী সাংবাদিকের ওপর স্বাস্থ্য বিভাগের এহেন আচরণ যেমন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই, ঘটনার সাথে জড়িতদের যথোপযুক্ত বিচার দাবি করছি। বিস্ময়ের সাথে সুজন প্রশ্ন করেছে, 'তথ্য অধিকার আইন' প্রণয়নের পরেও 'অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট' নামের বৃাটশ আমলের কালাকানুনটি কিভাবে বহাল আছে? আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আচরণ কি স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দলিল সংবিধানে বর্ণিত নাগরিকদের 'মৌলিক অধিকার', বর্তমান সরকার প্রণীত 'তথ্য অধিকার আইন' ও 'জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল'-এর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? আমরা সরকারকে বিষয়গুলো ভেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি। | 6 |
সারাদেশে খুন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা মানববন্ধন করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলফটকে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। সমকাল সুহৃদ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহাবুবুল আলমের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বক্তব্য রাখেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, ধর্ষণ রোধে পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তন সবার আগে। মানসিকতার পরিবর্তন ছাড়া এ ব্যাধি সমাজ থেকে যাবে না। ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমাদের সবার সোচ্চার হওয়া উচিত। সমাজে ধর্ষণের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা 'ধর্ষকের শাস্তি চাই ধর্ষিতার নয়', 'ধর্ষকের উল্লাস ধর্ষিতার কান্না মেনে নেব আর না' এমন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে খুন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন-সুহৃদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক দ্বীন মোহাম্মদ, সদস্য বিল্লাল, তোফাজ্জল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। | 6 |
গণতন্ত্র ফেরি করতে করতে ক্লান্ত যুক্তরাষ্ট্রের উর্দির ভেতরটা প্রকাশ হয়ে গিয়েছিল গত বছরের ৬ জানুয়ারি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং এ নিয়ে গোটা দুনিয়ার সচকিত চোখের সামনেই এদিন ঘটে ক্যাপিটল হিল হামলার ঘটনা। সারা দুনিয়া দেখল-গণতন্ত্রের ফেরিওয়ালা রাষ্ট্রটির গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম মিনারকে আক্রান্ত হতে। সেখানকার এই এত এত নিরাপত্তা, প্রহরা এবং অত্যুজ্জ্বল সব উক্তি-কোনো কিছুই কিছু করতে পারল না। সব কেমন মিইয়ে গেল। গণতন্ত্রের তাবৎ গৌরব পথ ছেড়ে দিয়ে বিস্তার হতে দিল সহিংসতাকে। এই ঘটনা আদতে গোটা মার্কিন গণতন্ত্রের ভিতে থাকা গোপন ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলল। ভেতরের ক্ষত এবং তাতে জমাট হওয়া এত দিনের পুঁজ সব প্রকাশ্যে চলে এল।এই ঘটনা কি এক দিনে ঘটেছিল? না। সাদা কথায় বলতে গেলে অনেকেই হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এর মূল হোতা হিসেবে সামনে হাজির করতে চাইবেন। ক্যাপিটলে হামলার কারণ হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের ক্ষমতাকালকে অনেকে বেশ জোরের সঙ্গে সামনে হাজির করবেন। হ্যাঁ, মার্কিন গণতন্ত্র ও এর জোরে সারা দুনিয়ায় চালানো আধিপত্যের মুকুটের নিচে লুকানো প্যান্ডোরার এই বাক্সটি ডোনাল্ড ট্রাম্পই খুলেছিলেন। এটা সত্য, খুবই সত্য। কিন্তু এই কথা আরও যে সত্যকে সামনে আনে, তা হলো-মার্কিন সেই মুকুটের তলায় প্যান্ডোরার বাক্সটি আগে থেকেই ছিল। ট্রাম্প শুধু তার ঝাঁপটি খুলে দিয়েছেন।ক্যাপিটলে হামলার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকেরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁরা সব ভেঙেচুরে ক্যাপিটলে প্রবেশ করেছেন এবং ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। তারও আগে শার্লোৎসভিলে উগ্র শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীরা বর্ণবাদবিরোধী মিছিলে হামলা করেছিল। কিংবা জর্জ ফ্লয়েড হত্যার জেরে ছড়িয়ে পড়া 'ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার' আন্দোলনের ওপর পুলিশ ও ট্রাম্প সমর্থকদের হামলা, বা বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে চার বছরব্যাপী যে জলঘোলা, বা অভিবাসন নিয়ে বিশেষত আফ্রিকা ও মুসলিম দেশগুলোর অভিবাসীদের বিষয়ে ট্রাম্প জমানায় মার্কিন যে দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছিল, তা তো এই বিভাজনের সুদূর বিস্তৃত মূলটির সন্ধান দেয়। ট্রাম্পের কৃতিত্ব যদি কিছু থেকে থাকে, তবে তা এই ক্ষত, পুঁজ ও বিভাজনের মানচিত্রকে সবার বোধগম্য করে তোলা।ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি ও ঘোষিত অর্থেই কট্টর, বর্ণবাদী ও একনায়কোচিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন এবং এত এত সমালোচনার পর তিনি তা-ই আছেন। কট্টর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর দায়ে এবং দাঙ্গা উসকে দেওয়ার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টুইটার ও ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ হলে তাই ট্রাম্প নিজেই একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম করতে এগোন। হ্যাঁ, তিনি এখন ফেসবুক বা টুইটারের মাধ্যমে বা প্রেসিডেন্সিতে থাকার সময় প্রচলিত সংবাদমাধ্যম ব্যবহার করে যে উগ্র বক্তব্য দিতে পারতেন, তা দিতে পারছেন না। কিন্তু তাঁর মানসিক গঠনে তো কোনো পরিবর্তন আসেনি। না অস্ত্র প্রশ্নে, না অভিবাসী প্রশ্নে, না বাণিজ্য প্রশ্নে, না ইরান, মধ্যপ্রাচ্য, চীন বা অন্য কোনো প্রশ্নে। তফাৎ শুধু এই যে, তাঁর ভাষ্যটি আর আগের মতো প্রচারে আসছে না। ঠিক একইভাবে তাঁর বা তাঁর মতো ব্যক্তির মতবাদের সমর্থকদের ভাষ্যটিও আড়ালে পড়ে থাকছে।এখন ট্রাম্পের মতো করে নিজের ভাষ্যটি প্রচারের সুযোগ ও সুবিধা পাচ্ছেন জো বাইডেন ও কমলা হ্যারিস এবং তাঁদের অনুসারীরা। এর মানে এই নয় যে, অন্য ভাষ্যটি সমাজ থেকে হারিয়ে গেছে। বরং বলা যায় অন্য ভাষ্যটি চাপা পড়ে থাকছে। ট্রাম্পের আগের ও ট্রাম্পের পরের যুক্তরাষ্ট্র আলাদা। ট্রাম্পের আগের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টরা কি রিপাবলিকান, কি ডেমোক্র্যাট, গণতন্ত্র এবং এর বহুল প্রচারিত ও বিজ্ঞাপিত বিভিন্ন মূল্যবোধের জয়গান গেয়ে আসছেন। এই সংগীতের সুর ও তাল একই। তফাত শুধু উচ্চতায়। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এসে এই সুর প্রথম বদলে গেল। তাঁর আগমন মুহূর্ত থেকেই ভিন্ন সুরের স্বাদ পেল মার্কিনরা। ফলে চাপা পড়া সেই মার্কিন ভাষ্য ক্রমে বেরিয়ে আসার একটা পথ খুঁজে বের করল। এই একই সুযোগ সামনে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন বার্নি স্যান্ডার্স। তাঁর শক্তিটিকে ডেমোক্র্যাটরা চিনতে পারেনি। আর ট্রাম্পকে ঠিকই চিনেছিল রিপাবলিকানরা। আর এই তফাতের কারণেই ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত মসনদ পেলেন, যা দিয়ে তিনি নিজের ঘরানার সুরকেই প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পান। কে না জানে শিল্প ও রাজনৈতিক ভাষ্যের যাত্রা ও গতিপথ একই; দুটিই পৃষ্ঠপোষকতা চায় এবং আনুকূল্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়।সরকারি ভাষ্যের নির্মাণও একধরনের শিল্প বৈকি। ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে চাপা পড়া সেই মার্কিন ভাষ্যকে আশ্বস্ত করলেন, বললেন-প্রকাশ হও। ফলে এমনিতেই প্রকাশের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকা, নতুন একটি ভাষ্যের জন্য উচাটন হওয়া যুদ্ধ-ক্লান্ত মার্কিনরা এটি লুফে নিল। এখন বলা হচ্ছে, বহু ছদ্ম-বামপন্থী ট্রাম্পের দলে ভিড়েছিলেন, বলা হচ্ছে ক্যাপিটল হামলার সঙ্গেও তাঁরা যুক্ত ছিলেন, বলা হচ্ছে এর মধ্য দিয়েই তাঁরা 'বিপ্লব' করতে চেয়েছিলেন। এর বিপরীতে জোরালো যুক্তি ও ভাষ্য থাকলেও সেদিকে না গিয়ে যদি পাল্টা প্রশ্ন করা হয়-এই ভেড়াটা কি ভুল ছিল? মার্কিন জনগণ কয়েক দশক ধরে নিজের দেশের কর্তাদের দেখেছে শুধু আধিপত্য বিস্তারের জন্য দেশে দেশে যুদ্ধ করে যেতে। তারা দেখেছে তাদের করের টাকা দিয়ে কেনা অস্ত্র বহন করে তাদেরই পাঠানো হচ্ছে ভিন দেশে প্রাণ দিতে। তারা দেখেছে ধনীদের আরও ধনী হওয়া। তারা দেখেছে নিম্নমধ্যবিত্তদের গৃহহীন হয়ে যাওয়া। নিজেদের তারা একসময় প্রান্তিক হিসেবে আবিষ্কার করেছে। ফলে এই গণতন্ত্র এবং তার জন্য নিবেদিত তাবৎ মূল্যবোধকে তাদের কাছে ঠুনকো মনে হওয়াটাই কি স্বাভাবিক নয়।'দ্য অ্যাসাসিনেশন অব রিচার্ড নিক্সন' সিনেমায় প্রেসিডেন্ট নিক্সনের ঘাতকের নির্মাণের এক দারুণ বয়ান হাজির করা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে কী করে ভিয়েতনাম যুদ্ধ এবং এর প্রভাবে ওই ঘাতকের চাকরি হারানো, প্রেমিকার সঙ্গে বিচ্ছেদ, সংসারের সারহীনতায় ডুবে যাওয়া এবং প্রতি মুহূর্তে নিজের উপার্জনহীনতার জন্য নিজের অন্তঃসারশূন্যতাকেই সামনে আসতে দেখা একজন ব্যক্তি টিভিতে প্রচারিত সরকারি ভাষ্যে বারবার নিক্সনকে দেখে খেপে ওঠে। তার কাছে মনে হয় এই যে প্রেসিডেন্টের তরফ থেকে দেওয়া শান্তি ও নিরাপত্তার ভাষ্য, গণতন্ত্র ও দেশোদ্ধারের ভাষ্য, এটিই আসলে তাঁর শত্রু। সে তখন এই ভাষ্যকেই হত্যা করতে চায়। নিক্সন সেখানে একটা অবয়ব মাত্র। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতায় বসা এবং সেই সূত্রে ঘটা নানা ঘটনা আদতে এই অবয়ব। ভেতরে থাকা বিভাজনটি তো আগে থেকেই ছিল। না হলে যেকোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এত সহজে 'লাল' ও 'নীল' অঙ্গরাজ্য কী করে আলাদা করা যায়। এই বিভাজন একটা ভদ্র পরিসরে ছিল। ভদ্রলোকি কোটের নিচে লুকানো এই বিভাজন ট্রাম্প শুধু প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি আবারও আসতে চান; ২০২৪ সালে। সে সম্ভাবনাও বিস্তর। কারণ, প্যান্ডোরার সেই বাক্স খুলে দেওয়ার পর এখন মার্কিনরা সরাসরি কথা বলছে। তারা বলছে, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বা সেখানে টিকে থাকতে প্রয়োজনে আঘাত করা যেতে পারে। ১৭ শতাংশ মার্কিন বলছে, ক্যাপিটলে যা ঘটেছিল, তা ঠিক ছিল। সিবিএস/ইউগভের জরিপ বলছে, মার্কিন গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত বলে মনে করেন মাত্র ৩৩ শতাংশ লোক।গত বছরের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটলে যে হামলা হয়েছিল, তা ছিল মার্কিন গণতান্ত্রিক যে আদর্শের কথা বলা হয়, তার ওপর। এটি কোনো সুনির্দিষ্ট ভবনের ওপর নয়। হামলাটি এসেছিল কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর দিক থেকে। স্যান্ডার্সের পেছনে জমা হওয়া বামপন্থী যে তরুণ গোষ্ঠী, সেটি তখন অতি-উদারপন্থী ট্যাগ গায়ে নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের খারিজের খাতায়। ট্রাম্পকে গ্রহণের মধ্য দিয়ে রিপাবলিকান দল একটি কাজ অন্তত করতে পেরেছিল। তারা রক্ষণশীল থেকে শুরু করে কট্টর বা অতি কট্টর গোষ্ঠীগুলোকে বলতে পেরেছিল যে, কাঠামোটি দ্বিদলীয় হলেও তোমার ভাষ্যটি দেওয়ার সুযোগ থাকছে। ডেমোক্র্যাটরা এই জায়গাটিতেই সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ। গত নির্বাচনে ট্রাম্প পরাজিত হয়েছেন বলে এটা ধরার কোনো কারণ নেই যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিভাজনের রাজনীতি পরাজিত হয়েছে। বরং বাইডেনকে জিতিয়ে এনেছেই বিভাজনের রাজনীতি। ডেমোক্র্যাটরা উদারপন্থীদের একজোট করতে না পারলেও ট্রাম্প তাঁদের এক করে দিয়েছেন, যা বাইডেনকে শেষতক জয়ী করেছে। সামনে যে তিনি বা তাঁর মতো ব্যক্তি বিপরীত শিবিরকেই জয়ী করবে, তা কে বলতে পারে। সে ক্ষেত্রে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার রয়্যাল রোডস বিশ্ববিদ্যালয়ের কাসকাডে ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক থমাস হোমার-ডিক্সনের সতর্কতাটি যুক্তরাষ্ট্র আমলে নিতে পারে। পরবর্তী গণতন্ত্রহীনতা ও স্বৈরশাসকের জন্য অপেক্ষা না করে, তা নিরোধে ভিন্নমতের দিকে তারা একটু তাকাতেই পারে।ফজলুল কবির: সহকারী বার্তা সম্পাদক, আজকের পত্রিকাআরও পড়ুন:পদত্যাগের পুণ্যস্নান সেরে উঠলেন মুরাদ, এবার কী হবে'রাজি'নীতির ফেরে জনতাই নিখোঁজখেলা তো শেষ, এবার একটু শোক করুনকোচও বেলমাথা, গোলিও বেলমাথা- গোল তো খাইবইতাঁদের টাকা ফেরত দেওয়া হোকমিথজীবী রাজনীতিতে জনতার ভাগ কই | 6 |
করোনা আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শরীরে জ্বর বেড়েছে। জ্বরের মাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন, অক্সিজেন লাগছে না। তবে এই মুহূর্তে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। শনিবার (১৭ এপ্রিল) রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসায় তার সবশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর এ তথ্য জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, গত তিনদিন থেকে ম্যাডামের একটু জ্বর আছে। জ্বরের মাত্রাটা গত শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) সারাদিন এবং রাত পর্যন্ত ১০৩-এর মতো ছিলো। কিন্তু আজ সারাদিন জ্বর ছিল না। সন্ধ্যা থেকে আবারও জ্বর এসেছে, যেটা ১০৪-এর মতো। নতুন যে এন্টিবায়োটিক ওষুধটি শুরু করেছি, সেটির আজ তৃতীয় দিন। ওষুধের রেসপন্স ভালো বলে মনে হচ্ছে। আমরা তার পালস, ব্লাড পেশার এগুলো চেক করেছি। সবকিছু ভালো আছে। ডা. সিদ্দিকী বলেন, মনে রাখতে হবে যে আজ তার (খালেদা জিয়া) করোনা আক্রান্তের নবম দিন। অর্থাৎ আমরা দ্বিতীয় সপ্তাহের জটিল সময়টি পার করছি। কোনো জটিলতা বা বিপদ সংকেত পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব। কিন্তু এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক। আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি এই পুরো সপ্তাহ না যাওয়া পর্যন্ত যেকোনো সময় ম্যাডামের জটিলতা দেখা দিতে পারে। সেজন্য তাকে ক্লোজ মনিটর করে যাচ্ছি। তাহলে কি খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জানতে চাইলে সিদ্দিকী বলেন, আমরা যদি মনে করি তাকে নেওয়া দরকার, তাহলে খুব দ্রুতই শিফট করতে পারব। তবে, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অবস্থা দেখা যায়নি। সবকিছুই মিলিয়েই ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলা যায়। তিনি আরও বলেন, আপাতত খালেদা জিয়াকে বাসায় রেখে চিকিৎসা দেয়া হবে। তবে প্রয়োজন হলে তাকে হাসপাতাল নেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। গত ১১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তিনি ছাড়াও তার বাসভবন ফিরোজার আরও আটজন ব্যক্তিগত স্টাফের করোনা শনাক্ত আক্রান্ত হয়। তাদের চিকিৎসাও গুলশানের বাসভবনে চলছে। | 4 |
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি বলেছেন, ভবিষ্যতে ইসরায়েলের স্বার্থের ওপর আরও হামলা হতে পারে। ইসরায়েলের পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে সিরিয়া থেকে রকেট হামলা চালানোর কয়েক দিন পর আজ রোববার এই হুমকি দিলেন তিনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ বাঘেরি বলেন, ইসরায়েল মনে করে, কোনো পরিণতি ছাড়াই তারা সিরিয়ার ভূখণ্ডের লক্ষ্যবস্তুতে ও সাগরে হামলা চালাতে পারে। তবে এই রকম হামলা দেশটির জন্য সুখকর হবে না বলেও ইসরায়েলকে স্মরণ করিয়ে দেন ইরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা। তিনি বলেন,' নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে পুনারাবৃত্তি হলে তাদের (ইসরায়েল) স্বার্থ বিপন্ন হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের কার্যক্রমকে সরাসরি প্রতিরোধ করার বিষয়টি বাড়বে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ফিরতে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির আলোচনা শুরু হয়েছে। এ আলোচনা সফল হলে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হতে পারে। এ আলোচনা শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি মাসেই ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে বৈদ্যুতিক গোলযোগ দেখা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় কয়েকটি সেন্টিফিউজ। এ ঘটনার পেছনে ইসরায়েল জড়িত বলে অভিযোগ তেহরানের। প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলে ওই সময় জানিয়ে দেয় ইরান। এই পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে সিরিয়ার ভূমি থেকে ইসরায়েলের দিমোনা এলাকার একটি পারমাণবিক চুল্লির স্থাপনা লক্ষ্য করে রকেট ছোঁড়া হয়েছিল। রকেটটি চুল্লির পাশে গিয়ে পড়ে। তবে পাশে হামলার পেছনে কে বা কারা জড়িত, সেই বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি বাঘেরি। তবে ইহুদি রাষ্ট্রটির ওপর প্রতিক্রিয়া দেখানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বলে জানান তিনি। সাংবাদিকেরা বাঘেরির কাছে জানতে চান, যদি ইরানি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে একের পর এক হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে তেহরান কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে? এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি বাঘেরি। শুধু বলেন, 'ইহুদি রাষ্ট্রটিকে নিশ্চিন্তে থাকতে দেওয়া হবে না।' এ দিন ইরানের সেনাবাহিনীর নতুন সাতটি সামরিক 'অর্জন' তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে শত্রুপক্ষের রাডার শনাক্ত ও তার কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টিকারী কয়েক ধরনের স্থলভিত্তিক ও ড্রোনচালিত অভিযান রয়েছে। এদিকে গত শনিবার সিরিয়ার একটি জ্বালানি পরিশোধন কেন্দ্রের পাশে তেলের ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি। তবে জ্বালানি তেলবাহী এ ট্যাংকারটি ইরানের কিনা তা জানানো হয়নি। নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনার পাশে হামলার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সিরিয়ার ভূখণ্ডে তেলের ট্যাংকারে পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। | 3 |
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমানের দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষুব্ধ ও আন্দোলনরতউত্তরবঙ্গ ট্যাঙ্কলরি শ্রমিকরা। সোমবার সকালে সিরাজগঞ্জেরশাহজাদপুরের বাঘাবাড়ি নৌবন্দর ও ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের পাশে উত্তরবঙ্গ ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক কার্যালয়ের সামনে এ আন্দোলন শুরু হয়। একই দাবিতেআন্দোলনরত শ্রমিকরা দুপুর পর্যন্ত বাঘাবাড়ীর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল বন্দরের জ্বালানি তেল উত্তোলন বন্ধ রাখেন। খবর পেয়ে সাংসদ হাসিবুর রহমান স্বপন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পরে আন্দোলনকারীরা দুপুরে তেল উত্তোলন চালু করলেও ওসির অপসারণের দাবিতে অনড় ছিলেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওসির অপসারণ ও ইজারাদার সালাম ব্যাপারীরশাস্তি না হলে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ধর্মঘট এবং উত্তরবঙ্গের সবগুলো জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা। জানা যায়, বাঘাবাড়ি ঘাটে ইজারার কাজে শ্রমিক দ্বন্দ্বের জেরে নৌবন্দরের হ্যান্ডলিং ঠিকাদার উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সালাম ব্যাপারীর অনৈতিক প্রভাবে ওসির নির্দেশে সাদ্দাম হোসেন নামে এক শ্রমিককে শনিবার ধরে মারপিট করে পুলিশ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় অবস্থা বেগতিক দেখে হাসপাতালে ভর্তির বদলে থানায় নিয়ে যুবককে আটক দেখানো হয়। পরে শ্রমিকদের আন্দোলনের ভয়ে রোববার রাতে সাদ্দামকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। এ ঘটনার পর সোমবার সকালে বাঘাবাড়ি ঘাটে উত্তরবঙ্গ ট্যাঙ্কলরি শ্রমিকেরা কার্যালয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ওসির অপসারণ ও সালাম ব্যাপারীর শাস্তির দাবিতে উত্তরবঙ্গট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে কার্যকরি সভাপতি আজিজুর রহমান গ্যাদা, সহ-সভাপতি ইউনুস আলী, সাধারণ সম্পাদক মনিরহোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আজমত মোল্লা, লাইনসেক্রেটারি ফেরদৌস হোসেনসহ প্রমুখ বক্তব্য দেন। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, সালাম ব্যাপারীর লোকজনের বিরুদ্ধে একজন শ্রমিককে মারপিটের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়ে থানায় নিয়ে আসে। এখানে যদি কারো গাফিলাতি থাকে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ না করে আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করার বিষয়টিও অনৈতিক। ঘটনাটির মিমাংসায় স্থানীয় এমপি আলোচনায় বসেছেন। | 6 |
মানসিক ভারসাম্যহীন মাজেরা খাতুনকে লোহার শেকলে বেঁধে মা হাজেরা খাতুন দিনমজুরের কাজে যান। আর বাবা বের হন গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করতে। শিকল ছিঁড়ে মায়ের খোঁজে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও সন্তানকে না পেয়ে হাল ছেড়ে দেন বাবা-মা। দীর্ঘ ১৫ বছর পর মায়ের কোলে ফিরেছেন তিনি।আজ রোববার মোল্লাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাজেরা খাতুনকে (২৮) দেখতে বাড়িতে প্রতিবেশী নারী-পুরুষের ঢল নেমেছে। মা হাজেরা খাতুন সন্তানকে ফিরে পেয়ে আনন্দিত। সন্তানকে বুকে টেনে নিয়ে আদর করছেন। অসুস্থ কঙ্কাল শরীরে ঘরের বারান্দায় শুয়ে আছেন মাজেরা। কথা বলতে পারছেন না। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে সবাইকে দেখছেন।হাজেরা খাতুন (৬৪) বলেন, মেয়ে মাজেরা দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় হঠাৎ মাথাব্যথা বলে চিৎকার করতে থাকে। কিছুদিন পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পাগলামি শুরু করে। কথা আড়ষ্ট হয়ে যায়। হঠাৎ করেই সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অতিষ্ঠ হয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে মা ধানের খোলায় দিনমজুরের কাজে যান। আর তাঁর বাবা রকশেদ আলী বের হন গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করতে। মাজেরার বয়স যখন ১৩ বছর, তখন তিনি শিকল ছিঁড়ে মাকে খুঁজতে গিয়ে হারিয়ে যান।হাজেরা খাতুন আরও বলেন, অসুস্থ মাজেরা কাউকে চিনতে পারছে না। কথাও বলতে পারছে না। তাঁকে চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হান্নান বলেন, রাজশাহীর পুঠিয়ার কালিহাটি গ্রামের মেয়ে মলেজান বেগমের বিয়ে হয়েছে মাজেরাদের গ্রাম মোল্লাপাড়ায়। মলেজানের মা আয়মনা বেগম চিকিৎসার জন্য পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। হাসপাতালে অসুস্থ মাজেরা খাতুনকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখে চিনতে পেরে মেয়ে মলেজানের কাছে খবর দেন। মলেজানের কাছ থেকে খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান মা হাজেরা। শনাক্তের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় মেয়েকে বাড়ি নিয়ে আসেন।অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুঠিয়া সার্কেল) ইমরান জাকারিয়া বলেন, পুঠিয়ায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের রাস্তার পাশে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় স্থানীয় লোকজন গত ২৮ সেপ্টেম্বর উদ্ধার করেন মাজেরাকে। কথা বলতে না পারায় নাম-পরিচয়হীন মানসিক প্রতিবন্ধী মাজেরাকে পুঠিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন তাঁকে শনাক্ত করলে গত ৬ অক্টোবর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। | 6 |
অবশেষে বিয়ে করছেন অর্জুন কাপুর এবং মালাইকা অরোরা। চলতি বছরই গাঁটছড়া বাঁধছেন তারা। এই খবর আগেই জানা গেছে। তবে এবার প্রকাশ্যে এল মালাইকা অরোরা ও অর্জুন কাপুরের বিয়ের দিনক্ষণ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষে কিংবা এপ্রিলের শুরুতে বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন আরবাজ খানের সাবেক স্ত্রী। ইতোমধ্যেই নাকি অর্জুনের সঙ্গে তার বিয়ের দিন, তারিখ নিয়ে নিজের টিম-এর সঙ্গে আলোচনাও সেরে ফেলেছেন বলিউডের এই অভিনেত্রী। টিম মালাইকার প্রত্যেক সদস্য যাতে বিয়ের দিন হাজির থাকতে পারেন, সেই কারণে আগেভাগে তাদের বিয়ের দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। টিম মালাইকার প্রত্যেক সদস্য তাদের বিয়েতে হাজির হলেও, সেখানে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ সেভাবে থাকবে না। পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠদের নিয়েই অর্জুন কাপুরের সঙ্গে চুপিসাড়ে মালাইকা বিয়ে সেরে নেবেন বলে খবর। যদিও, মালাইকা অরোরা বা অর্জুন কাপুর কিন্তু এ বিষয়ে মুখে টু শব্দও করেননি। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 2 |
তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা ২১ মিনিটে দেশ ছেড়েছিলেন মুরাদ হাসান। করোনাকালে কানাডা ভ্রমণের যথাযথ কাগজপত্র না থাকায় সে দেশে ঢোকার অনুমতি না পেয়ে দেশে ফিরেছেন তিনি। আজ রোববার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে বহন করা ফ্লাইটটি অবতরণ করে।মুরাদ হাসানের এক সহযাত্রীর কাছ থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফ্লাইট থেকে নামার পর তিনি বিমানবন্দরের ভেতরে হাতে লাগেজ ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে দ্রুত হেঁটে যাচ্ছেন। তাঁর পরনে ছিল হুডি ও নীল রঙের জিনসের প্যান্ট। প্রকাশ পাওয়া ভিডিওর ব্যক্তিটি যে মুরাদ হাসানই, এটি বিমানবন্দরে দায়িত্বরত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।এর আগে দেশ ছাড়ার সময় কালো রঙের ব্লেজার, কালো টি-শার্ট ও কালো বুটের সঙ্গে নীল রঙের জিনসের প্যান্ট পরে দেশ ছেড়েছিলেন তিনি।প্রসঙ্গত, নারীদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন মুরাদ হাসান। গত মঙ্গলবার রাতে মুরাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি। মন্ত্রিত্ব হারানোর পর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাঁকে। মুরাদ তাঁর ভুলের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মাফ চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লেখেন, 'আমি যে ভুল করেছি তা আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে মাফ করে দিবেন।'উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে আওয়ামী লীগের জামালপুর জেলা শাখার সদস্য, ২০১৪ সালে জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এবং ২০১৫ সালে জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন মুরাদ।দেশে ফিরেছেন মুরাদ হাসান২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে জামালপুর-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকারে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০১৯ সালের ১৯ মে তৎকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রথম রদবদল আনা হয়। এতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।আরও পড়ুন:এই ছবি মুরাদ হাসানের নয় | 9 |
নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করছেন গাছিরা। চলছে গাছের কাণ্ড কাটা ও কাঠি বা নলি বসানোর কাজ। বর্তমানে খেজুরগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় দিন দিন এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় জমির আইলে ও রাস্তার পাশে লাগানো খেজুরগাছের মাথার অংশ থেকে ডাল কেটে পরিষ্কার করছেন গাছিরা। হাতে দা, কোমরে রশি বেঁধে গাছিরা কাজ করছেন। এরই মধ্যে কয়েকজন গাছে রস আহরণের জন্য বাঁশের তৈরি নলি বসাতে শুরু করেছেন। ক'দিন পর রস নামাবেন গাছিরা।জানা গেছে, বর্তমানে খেজুরগাছ প্রস্তুত করা হচ্ছে, এক সপ্তাহ পরে আবার হালকা চেঁছে বাঁশের তৈরি নল লাগানো হবে। পরে সেখান থেকে রস সংগ্রহ করা হয়।বর্ষাইল গ্রামের গাছি তোতা মিয়া বলেন, 'প্রথমে খেজুরগাছের মাথার অংশকে ভালো করে কেটে পরিষ্কার করা লাগে। এরপর পরিষ্কার সাদা অংশ কেটে রস সংগ্রহ করা হয়। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই আমরা কোমরে রশি বেঁধে গাছে ঝুলে রস সংগ্রহের কাজ করি।'আত্রাই উপজেলার গাছি রহমান আলী বলেন, 'ক'দিন পর শীত শুরু হবে। এ জন্যে আমরা এখন থেকেই গাছ প্রস্তুত করছি। আগেভাগে চাঁচ দিলে শীতের শুরুতেই রস নেমে যাবে। আগাম গুড় ও পাটালি বানাতে পারলে লাভ বেশি হবে।'মহাদেবপুরের গাছি তুহিন উদ্দিন বলেন, শীতের শুরুতেই তাঁরা খেজুরগাছের রস সংগ্রহ করেন। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রস নামলেই গুড় তৈরি করা শুরু হবে।সদরের বাসিন্দা জোবায়ের আহম্মেদ বলেন, আগের মতো খেজুরগাছ এখন আর দেখা যায় না। চাষিরা এখন আর জমিতে আলাদা করে খেজুর গাছের চাষ করেন না। শুধু রাস্তার পাশে কিংবা জমির আইলে কম-বেশি খেজুরগাছ দেখা যায়। গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এ ঐতিহ্য অনেকটায় হারিয়ে যেতে বসেছে।পত্নীতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, শীত এলেই গাছিরা রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নেন। গাছের ওপরিভাগের নরম অংশ চাঁচ বা দা দিয়ে কেটে রস নামানো হয়। একবার গাছে চাঁচ দিলে দু-তিনি দিন রস পাওয়া যায়। সাধারণত খেজুরগাছ পূর্ব ও পশ্চিম দিকে কাটা হয়, যাতে সূর্যের আলো সরাসরি ওই কাটা অংশে পড়তে পারে। | 6 |
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) 'ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশন' নামে ফেসবুক পেজের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।' ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশন' নামের একটি ফেসবুক পেজে ৭৩ ছাত্রীর ছবি প্রকাশ করার পর এ নিয়ে সমালোচনা ওঠে।জানা গেছে, 'ক্রাশ অ্যান্ড কনফেশন' পেজটিতে গত শুক্রবার রাতে আনুমানিক ১১টার দিকে 'ইবি কাঁপানো সকল সুন্দরী একসাথে, ইমো নম্বর পেতে লাভ রিয়েক্ট দিয়ে সঙ্গেই থাকুন'-এই ক্যাপশন জুড়ে ৭৩ জন ছাত্রীর ছবি প্রকাশ করে পেজটি। এতে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঘটনা সামনে আসে ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ তুলে লিখিত অভিযোগ দেওয়ায়।পরে পেজ থেকে পোস্টটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং কুরুচিপূর্ণ পোস্টের জন্য ক্ষমা চায় পেজের অ্যাডমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিজান বিশ্বাস।এ দিকে, এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে ওই শিক্ষার্থী সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগ তুলে অভিযুক্তের যথাযথ শাস্তির দাবির পাশাপাশি এ জাতীয় কর্মকাণ্ড বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।ইবি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জি কে সাদিক বলেন, এই পেজ থেকে এর আগেও অসংখ্যবার বিভিন্ন মেয়েকে নিয়ে নোংরামি পোস্ট করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে মানসিকতা, চিন্তা-চেতনা এত নোংরা আর নীচু হয় কী করে ভেবেও শিউরে উঠি! এই পেজ থেকে যা করা হয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শ্যামলী তানজিন অনু বলেন, ক্যাম্পাসে একের পর এক ঘটনা ঘটছে কিন্তু প্রশাসন নীরব। ক্যাম্পাসেরই একটা পেজ থেকে ৭০-এর বেশি মেয়ের ছবি দিয়ে বাজে ক্যাপশনে পোস্ট করা হলো। এটা রীতিমতো হয়রানি করা। এসব আর কত চলবে? এ ছাড়াও এরূপ ভূইঁফোড় পেজ দ্রুত বন্ধ করে এর পরিচালনাকারীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফায়েড পেজ না থাকায় এমনটা হচ্ছে বলেও অভিমত তাঁদের।পেজটির অ্যাডমিন অর্থনীতি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের মিজান বিশ্বাস বলেন, 'অনেক দিন পেজে কিছু পোস্ট করা হয় না। তাই আমি মজা করে ওই পোস্টটি করেছিলাম। কিন্তু আমার কোন অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। বিষয়টি এত দূর গড়াবে আমি বুঝে উঠতে পারিনি। আমি সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।'বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, 'কে বা কারা পেজটি চালায় তা দেখতে আইসিটি সেলকে বলা হয়েছে। পরিচয় পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিব।'এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, 'আমি আইসিটি সেলকে নির্দেশ দিয়েছি অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে। অভিযুক্তদের কোনো ভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।' | 1 |
বিশ্বজুড়েই চলছে গণতন্ত্রের খরা। প্রতিবছরই বাড়ছে এই খরার তীব্রতা। বলা হয়ে থাকে, গণতন্ত্রের নাকি জোয়ার-ভাটা চলে। গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের জন্য দুঃসংবাদ, বেশ কিছু বছর ধরেই চলছে ভাটার টান। দেশে দেশে নির্বাচনের মধ্য দিয়েই ক্ষমতায় যাচ্ছে এমন সব শাসক, ভোটের মাঠে যাদের অস্ত্র বর্ণবাদ, উগ্র জাতীয়তাবাদ আর ধর্ম। যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি বিভাজন, ঘৃণা, অসহিষ্ণুতা আর মানুষে মানুষে দেয়াল। যেখানে অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়েও দেশে দেশে রোপিত হচ্ছে স্বৈরতন্ত্রের বীজ, সেখানে একটি দেশে যদি নির্বাচনব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে থাকে একটি সরকার, তাহলে তার অবস্থাটা কী, তা সহজেই অনুমেয়। সুইডেনের গোথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভি-ডেম ইনস্টিটিউট বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। 'অটোক্র্যাটাইজেশন গোজ ভাইরাল' শিরোনামের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, উদার গণতান্ত্রিক সূচকে ১৭৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫৪; স্কোর শূন্য দশমিক ১। ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল যথাক্রমে ১৩৬, ১৩৫, ১৪৫, ১৫৪, ১৫৪। গত বছর আর চলতি বছরের অবস্থান এক থাকলেও গতবারের চেয়ে এ বছর স্কোর কমেছে শূন্য দশমিক শূন্য ১৯। অর্থাৎ বাংলাদেশের পরিস্থিতির ক্রমাবনতি হচ্ছে। প্রতিবেদনে 'নির্বাচনভিত্তিক গণতন্ত্রের সূচকে'ও বাংলাদেশের অবনমন হয়েছে। এই সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১৩৮, স্কোর শূন্য দশমিক ২৭। স্কোর কমেছে প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য ৩১। এ ছাড়া উদারতা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৬১। সমতা সূচকে ১৭৬, অংশগ্রহণমূলক সূচকে ১৪৩ এবং স্বেচ্ছামূলক সূচকে বাংলাদেশ ১৫৮তম অবস্থানে আছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাসনতান্ত্রিক দিক থেকে বাংলাদেশ আছে 'নির্বাচনভিত্তিক স্বৈরতন্ত্র' বিভাগে। এর অর্থ হলো, এ দেশে গণতন্ত্র ক্ষয়িষ্ণু। আর সে জায়গা দখল করে নিচ্ছে স্বৈরতন্ত্র। গণতন্ত্রকে মূলমন্ত্র ধরে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে যে দেশটির জন্ম হয়েছিল, সেটি এখন ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মতে হাইব্রিড রেজিম, ফ্রিডম হাউসের মতে আংশিক মুক্ত, কিন্তু সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশ আসলে একটি স্বৈরতান্ত্রিক দেশ যা ২০১৮ সালেই জার্মান গবেষণা সংস্থা বেরটেলসম্যান স্টিফস্টুং পরিষ্কার ভাষায় ব্যক্ত করেছে। এ সংস্থার ২০২০ সালে প্রকাশিত দেশভিত্তিক বেরটেলসম্যান ট্রান্সফরমেশন ইন্ডেক্স (বিটিআই) বলছে, ২০০৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন সূচকের তুলনা করলে দেখা যায়, নির্বাচন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার-সম্পর্কিত ২০টি সূচকেই বাংলাদেশের অবস্থান নিম্নমুখী। বাংলাদেশের স্বৈরতান্ত্রিকতার স্বীকৃতি এখন আসছে নানা দিক থেকে। ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ সাতটি মানবাধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট এবং ৭৪-এর বিশেষ ক্ষমতা আইনের উল্লেখ করে বলা হয়, এই করোনাকালে সরকার তার কর্তৃত্ববাদী শাসন আরও বেশি পোক্ত করেছে। ফ্রিডম হাউসের সর্বশেষ রিপোর্টে ইলেক্টোরাল ডেমোক্রেসির তালিকায় বাংলাদেশ আর নেই, যার অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার লেশমাত্র নেই। এ ধরনের সরকার থাকার অবধারিত কিছু মাশুল আছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গণমাধ্যমকে ভয় দেখানো, সরকারপন্থী গণমাধ্যম সৃষ্টি, রাষ্ট্রীয় সংস্থার দলীয়করণ, বিরোধীদের ওপর কঠোর নজরদারি, বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ, ভীতি সৃষ্টি, নির্বাচনে কারচুপি ইত্যাদি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার-সম্পর্কিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এর স্পষ্ট প্রতিফলন আছে। প্রতিবেদনটিতে নির্যাতন, কারাগারের বৈরী পরিস্থিতি, বেআইনিভাবে আটক, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, সহিংসতা, বেআইনিভাবে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেপ্তার, সেন্সরশিপ আরোপ, সাইট ব্লকিং, শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হওয়া ও সংগঠনের অধিকার হরণ, চলাচলের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ ও সহিংসতা, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার সদস্যদের প্রতি সহিংসতা ও হুমকি, সমকামীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, শ্রমিক সংগঠন ও ইউনিয়ন গঠনে কঠোরতা এবং শিশুশ্রমের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। দ্য ন্যারো করিডর: স্টেইটস, সোসাইটিজ অ্যান্ড দ্য ফেইট অব লিবার্টি বইতে একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলেছেন ড্যারন এসেমাগলু ও জেমস রবিনসন। তাঁরা বলেছেন, রাষ্ট্রকে হতে হবে বাইবেলে বর্ণিত সামুদ্রিক দানব লেভায়াথানের মতো শক্তিশালী, রাষ্ট্রের প্রান্তিক মানুষটিরও স্বার্থও সে রক্ষা করবে। কিন্তু এর একটা বিপদও আছে, শক্তির দাপটে লেভায়াথান এমন সব ক্ষেত্রে চলে যেতে চাইবে, আখেরে যেগুলো আবার নাগরিকের স্বাধীনতায় চরম বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে। এটাকে তারা বলছেন 'স্বৈরাচারী লেভায়াথান' পরিস্থিতি। তাঁদের মতে, দুর্বল রাষ্ট্র যেহেতু নাগরিকদের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর, তাই 'লেভায়াথানহীন' পরিস্থিতিও কোনোভাবেই কাম্য নয়। সব দিক বিবেচনায় তাঁরা বলেন, রাষ্ট্র নামের এই লেভায়াথান থাকবে, তবে এটা পুরোপুরি স্বাধীন হতে পারবে না। এটিকে হতে হবে শৃঙ্খলিত। লেভায়াথানকে শৃঙ্খলিত করতে পারে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং দৃঢ় সামাজিক শক্তি। একটা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর থাকলেও ঝুঁকি থাকে। পরস্পরের 'চেক অ্যান্ড ব্যালান্স' নিশ্চিত না করে সেগুলোর একত্রে মিলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। সামাজিক শক্তিকে সেই ক্ষেত্রে পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। চিন্তায়-চেতনায় সমাজকে হতে হবে শক্তিশালী, যাতে সে তার নিজস্ব একটা সত্তা নিশ্চিত করতে পারে। প্রবল শক্তিশালী রাষ্ট্রকে সে একটা চৌহদ্দি ঠিক করে দেবে, যার বেশি রাষ্ট্র যেতে পারবে না। এভাবে একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে যদি একটা শক্তিশালী সামাজিক শক্তি থাকে, তাহলে পরস্পরবিরোধী এই দুই বলের প্রভাবে একটা জায়গা তৈরি হয়, যেখানে নাগরিকেরা তাঁদের স্বাধীনতা উপভোগ করতে পারেন। এটাই সেই সংকীর্ণ করিডর। বাংলাদেশে ২০১৪ সালের পর থেকে রাষ্ট্রের সব অঙ্গ কার্যত নির্বাহী বিভাগের অধীনস্থ হয়ে পড়েছে। তৃণমূল পর্যায়েও দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক শক্তিকে ধ্বংস করা হয়েছে। হ্যাঁ, এই রাষ্ট্রে সামাজিক শক্তি বলে কিছুরই আর অস্তিত্ব নেই। এসেমাগলু ও রবিনসন রাষ্ট্রের ক্ষমতায়নের যে পরিস্থিতিকে 'স্বৈরাচারী লেভায়াথান' বলেছেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হওয়ায় এবং কার্যকর সামাজিক শক্তির অনুপস্থিতিতে আমাদের দেশ এখন সেই দিকেই এগোচ্ছে। পরিণতিতে গত কয়েক বছরে আমরা দেখছি, মানুষের একেবারে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ছে রাষ্ট্র। রাষ্ট্র বনাম নাগরিকের লড়াইয়ে যেখানে নাগরিকের কোনো অস্তিত্বই আর থাকে না, সেখানে মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা আর ইনসাফ তো বহু পরের কথা। রুমিন ফারহানা বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী | 8 |
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ আইপিএল'র আসন্ন নবম আসরের জন্য অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যে আজ ৮ জন মারকুটে খেলোয়াড়ের নিলাম চলছে। এতে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রয় হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার শেন ওয়াটসন। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আরসিবি তাকে ৯.৫ কোটি রুপিতে দলে ভিড়িয়েছে। এর আগের আসরে ২ বছরের নিষেধাজ্ঞায় থাকা রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলেছিলেন বিশ্বের শীর্ষ এই অলরাউন্ডার। অার ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংকে ৭ কোটি রুপিতে কিনেছে সানরাইজার্স হায়দারাবাদ। ভারতীয় পেসার আশীষ নেহরাকেও ৫.৫ কোটি রুপিতে দলটি কিনে নিয়েছে। আজকের নিলামে অারো যেসব ক্রিকেটার বিক্রি হলেন তাদের মধ্যে আছেন দক্ষিণ অাফ্রিকার ডেল স্টেইন। ২ কোটি ৩০ লাখ রুপিতে টুর্নামেন্টের নতুন দল 'গুজরাট লায়ন্স' তাকে ২ কোটি ৩০ লাখ রুপিতে দলে ভিড়িয়েছে। একই টিম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটার ডোয়াইন স্মিথকে ২ কোটি ৩০ লাখ রুপিতে ক্রয় করেছে। ইংলিশ ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেনকে ৩.৫ কোটি রুপিতে কিনেছে নতুন দল 'রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টস'। একই দল ৩ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে কিনেছে ভারতীয় বোলার ইশান্ত শর্মাকে। উল্লেখ্য, ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে আইপিএল'র নবম আসর যা চলবে ২৯ মে পর্যন্ত। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়ার বিডি-প্রতিদিন/৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬/শরীফ | 12 |
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী ও সাবেক এমপি ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং অফিসার আবুল ফজল মীর। রোববার বিকেলে চৌদ্দগ্রামের ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেয়া হয়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডাঃ তাহের বলেন, আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করছি, মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায়। নির্বাচনে ভোটাররা ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে, ইনশাআল্লাহ। মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ায় তিনি গ্রামে গ্রামে ও পাড়া-মহল্লায় দোয়ার আয়োজন করার আহবান জানান। | 6 |
বাবা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শেষ ছবি 'বেলাশুরু' দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন পৌলমী। শুধু তিনিই নন, বেলাশুরু বাংলা ছবির দর্শকদেরও মুগ্ধ করেছে। তারই ফল পাওয়া গেছে বক্স অফিসে। তিনদিনেই প্রায় দেড় কোটি রুপি আয় করেছে বেলাশুরু। সব বয়সী দর্শকরাই ছবিটি দেখতে ভিড় করছেন। ১৫০টি প্রেক্ষাগৃহে হাউসফুল 'বেলাশুরু'র শো। 'বেলাশেষে'র পর এই ছবিতেও জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। দুইজনেই আর বেঁচে নেই। সৌমিত্র প্রয়াত হন ২০২০ সালে, গত বছর মারা যান স্বাতীলেখা। দুই কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে ছবিটি পরিচালনা করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায় জুটি। | 2 |
ফাইজার বায়োএনটেকের করোনাভাইরাসের টিকার উদ্ভাবক উগুর শাহিন ও ওজলেম তুরেসিকে 'বর্ষসেরা ব্যক্তিত্ব' ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যানসিয়াল টাইমস। করোনার টিকার উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে বিশ্বের কোটি মানুষের হৃদয়ে আশা জাগিয়ে তুলেছেন এই দম্পতি। করোনা মহামারীর বিরুদ্ধে তাদের টিকা ৯৫ শতাংশ সুরক্ষা দিতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি এক প্রতিবেদনে জানায়, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে কোভিডের টিকা উদ্ভাবন করে এই দম্পতি অসাধারণ ব্যবসায়িক ও বৈজ্ঞানিক সফলতা অর্জন করেছে। ২০০৮ সালে ওষধ কোম্পানি বায়োএনটেক প্রতিষ্ঠা করেন ডা. উগুর শাহিন ও তার স্ত্রী ডা. ওজলেম তুরেসি। আমেরিকান অংশীদার ফাইজারের সঙ্গে মিলে পরীক্ষামূলক টিকা উদ্ভাবন করেন তারা। তিন দফায় পরীক্ষার পর বায়োএনটেকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শাহিন আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাদের চেষ্টা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটের অবসান ঘটাতে পারবে। প্রথম টিকার উদ্ভাবক হিসেবে বিশ্বের দু'টি বিশ্বাসযোগ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেয়েছেন তারা। এর পুরো কৃতিত্ব ডা. শাহিন ও ডা. তুরেসির ওপর বর্তায়। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
ইভ্যালির গ্রাহকেরা আগামী ছয় মাস অর্থ ফেরত চেয়ে নতুন গঠিত বোর্ডকে চাপ দিতে পারবেন না। তবে তাঁরা সমস্যা সমাধানে ইভ্যালির প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন।ইভ্যালির বোর্ড গঠন করে দেওয়া হাইকোর্টের আদেশে এসব কথা বলা হয়েছে। ১৮ অক্টোবর বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ বোর্ড গঠন করে আদেশ দিয়েছিলেন। আদেশের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গতকাল বৃহস্পতিবার পাওয়া গেছে। আদেশে বোর্ড সদস্যদের সম্মানীও ঠিক করে দিয়েছেন আদালত।আদালত বলেছেন, লিখিত আদেশ পাওয়ার পরপরই সদস্যরা বোর্ড মিটিংয়ে বসবেন। তাদের (বোর্ড) দায়িত্ব হলো টাকাগুলো কোথায় আছে, কোথায় দায় আছে, তা দেখা। সবকিছু করার পর বোর্ড যদি দেখে কোম্পানিটির চলার যোগ্যতা নেই, তখন অবসায়নের জন্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে। আর যদি বলে চালানো সম্ভব, তাহলে কোম্পানিটি চলবে।ইভ্যালির দায়দেনা নিরূপণে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে (চেয়ারম্যান) বোর্ড গঠন করে দেন হাইকোর্ট। বোর্ডে রাখা হয়েছে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. রেজাউল আহসান, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফখরুদ্দিন আহমেদ ও আইনজীবী খান মোহাম্মদ শামীম আজিজকে। আর সরকারি বেতনে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে রাখা হয় অতিরিক্ত সচিব (ওএসডি) মাহবুব কবিরকে। | 6 |
গত ২ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেন জনপ্রিয় অভিনেতা অপূর্ব। বিয়ের পর লম্বা বিরতিতে গিয়েছিলেন এই অভিনেতা। এক-দুই সপ্তাহ নয়, টানা প্রায় দুই মাস! নতুন জীবন গোছাতে এবং পরিবারকে সময় দিতেই এই বিরতি। বিরতি কাটিয়ে এবার শুটিংয়ে ফিরলেন অপূর্ব।গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে অপূর্ব অংশ নিয়েছেন 'লাভ এন্ড ওয়ার' নাটকের শুটিংয়ে। শফিকুর রহমান শান্তনুর গল্পে নাটকটি পরিচালনা করছেন সৈয়দ শাকিল। অপূর্বর বিপরীতে অভিনয় করছেন তাসনিয়া ফারিণ।দুই মাসের শুটিং বিরতি প্রসঙ্গে অপূর্ব বলেন, 'নাটকের শুটিংয়ে প্রায় সারা বছরই ব্যস্ত থাকতে হয়। চাইলেও ছুটি নেওয়া সম্ভব হয় না। নিজের একটু বিশ্রাম এবং পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য এ বিরতিটা দরকার ছিল। রিফ্রেশ মাইন্ডে নতুন করে কাজ শুরু করতে পারছি। তবে অনেক দিন পর কাজে ফেরার কারণে ভিন্ন এক অনুভূতি হচ্ছে। আমার স্কুলজীবনের কথা মনে পড়ছে খুব। মনে হচ্ছে যেন প্রথম দিন পরীক্ষা দিতে বসেছি। ভালো লাগছে আবারও সেই ঘর আর প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে দেখা হয়ে।' বিয়ের পর অপূর্বর প্রথম শুটিং। পুরো ইউনিট তাঁকে বরণ করেছে ফুলেল শুভেচ্ছায়। ফুল দিয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে অপূর্বকে ক্যামেরার সামনে দাঁড় করিয়েছেন পরিচালক সৈয়দ শাকিল।গত আগস্ট মাসের শেষের দিকে সবশেষ শুটিং করেছিলেন অপূর্ব। এরপর ২ সেপ্টেম্বর পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন শাম্মা দেওয়ানকে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। | 2 |
নিজ কার্যালয়ে টানা ১৬ দিনের 'অবরুদ্ধ' অবস্থা থেকে 'মুক্ত' হয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, 'সারা দেশে শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছি। কর্মসূচি চলছে। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তা চলতে থাকবে।'রোববার দিবাগত রাত পৌনে তিনটায় খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ের দুই ফটক ও সামনের রাস্তা থেকে পুলিশ, জলকামান এবং দুটি প্রিজন ভ্যান সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর গতকাল বিকেলে দলের স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকের পর সন্ধ্যা সাতটায় সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়া অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আবারও আহ্বান জানান।দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অবরোধের মধ্যেও ঢাকাসহ জেলাভিত্তিক হরতাল ডাকা হতে পারে। এর অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকাল ছয়টা থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় ৩৬ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে বিএনপি।একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, সমাবেশের অনুমতি চাইলে সহযোগিতা করা হবে। অনুমতি দিলে কি সমাবেশ করবেন? জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, 'দেখুন, আমাদের একটি কর্মসূচি চলছে। এ মুহূর্তে আমাদের অন্য কোনো কর্মসূচি নেই।'সরকার ও সরকারি দলের কঠোর মনোভাবের মধ্যে খালেদা জিয়ার অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার এই ঘোষণা জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেছেন, 'এক পক্ষকে সংঘাত, সহিংসতা থামানোর আবেদন জানাচ্ছি। আর সরকারের দিক থেকে শুধু পুলিশ-র্যাবকে মাঠে নামিয়ে নয়, সংলাপ করে কথাবার্তার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে হবে।' তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংলাপ করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসন করতে হবে।বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক এ বিষয়ে বলেন, একদিকে অবরোধ চালানো, অন্যদিকে সংলাপ প্রত্যাখ্যান। আশঙ্কা হয়, দুই দলই অনড় অবস্থানে থাকবে এবং তাতে জনজীবন, অর্থনৈতিক জীবন-সবকিছু মিলিয়ে ভোগান্তি বাড়তেই থাকবে। তিনি বলেন, 'এই রাজনীতিবিদদের হাত থেকে পরিত্রাণের উপায় দেখছি না। হয়তো নতুন রাজনীতিবিদেরা আমাদের পরিত্রাণ দেবেন।'১৬ দিন পর 'অবরুদ্ধ' অবস্থা থেকে 'মুক্ত' হলেও খালেদা জিয়া গতকাল সারা দিন কার্যালয় থেকে বের হননি। দুপুরের দিকে ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের স্ত্রী ছাড়া আর কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। 'মুক্ত' হওয়ার পর সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে এ জন্য স্বাগত জানান খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, 'ক্ষমতাসীনেরা যদি শুভবুদ্ধি প্রণোদিত হয়ে আমার কার্যালয় থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়ে থাকে, তাহলে আমি তাকে স্বাগত জানাই।' খালেদা জিয়াকে কেন অবরুদ্ধ করা হয়েছিল, আবার ১৬ দিন পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলো-এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, খালেদা জিয়াকে অবরোধ করা হয়নি। আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, ইজতেমার সুযোগ নিয়ে নাশকতা হতে পারে। এ জন্য খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।কার্যালয়ের সামনে থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে অবরোধের মধ্যে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা জোরদার করতে বাড়তি বাহিনী দরকার। তাই সেখান থেকে তাদের সরিয়ে আনা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপনার কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এখন আপনি কী করবেন? জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, 'না, এটা আমার অফিস। আমার অফিসে আমার কাজ আছে। আমি আমার কাজ করব। যেহেতু অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে, আমার যেখানে ইচ্ছা হবে সেখানে যাব। তখন বুঝব অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।''অবরুদ্ধ' হওয়ার আগে গত ৩১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া নির্দলীয় সরকারের অধীন অবিলম্বে নতুন নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য সাত দফা প্রস্তাব দেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি আবারও একই আহ্বান জানান। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, জনগণের ভোট দেওয়ার যে অধিকার কেড়ে নিয়েছেন, তা ফিরিয়ে দিন। অবিলম্বে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদক্ষেপ নিন।একই সঙ্গে চলমান পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের চলমান সংকট নিছক কোনো আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এটি রাজনৈতিক সংকট।অবরোধ কর্মসূচিতে সহিংসতা, নাশকতা ও মানুষ পুড়িয়ে মারার জন্য খালেদা জিয়া সরকারকে দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সম্পর্কে দেশে-বিদেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ক্ষমতাসীনেরা নাশকতা ও অন্তর্ঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। পুলিশি পাহারার মধ্যে নারী, শিশু, ছাত্র-ছাত্রীদের বহনকারী যানবাহনে পেট্রলবোমা মেরে অনেক নিরপরাধ মানুষকে হতাহত ও দগ্ধ করা হয়েছে। তিনি এসব পৈশাচিক বর্বরতার নিন্দা জানান।সাংবাদিকেরা স্মরণ করিয়ে দেন, অবরোধের আগে তো এ ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি। অবরোধ কর্মসূচির পর থেকে এসব শুরু হয়েছে। তাহলে আপনারা এর দায় নেবেন না কেন? জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, 'কেন আগে হয়নি? আওয়ামী লীগ সব সময় এ কাজ করে। আমাদের অফিস পুড়িয়েছে, লোক মেরেছে। গানপাউডার দিয়ে আগুনে মানুষ পুড়িয়েছে, বোমা মেরে ও লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মানুষ মেরেছে। এখন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে করছে।' তিনি বলেন, বিএনপি ও ২০ দল নিরীহ জনগণকে হত্যা এবং পুড়িয়ে মারার নৃশংস অপতৎপরতায় বিশ্বাস করে না। খালেদা জিয়া বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক বোমাবাজদের গ্রেপ্তার না করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ঘরবাড়িতে হানা দিয়ে আটক করা হচ্ছে। যৌথ বাহিনীর অভিযানের নামে বিভিন্ন জনপদে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে। এসব হত্যা-নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।৩ জানুয়ারি রাত থেকে খালেদা জিয়া নিজের রাজনৈতিক দপ্তর গুলশান-২-এর ৮৬ নম্বর সড়কের ৬ নম্বর বাড়িতে 'অবরুদ্ধ' আছেন। ৫ জানুয়ারি 'একতরফা' সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে দুই দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে ওঠে। ২০-দলীয় জোটের সমাবেশ ঠেকাতে ৪ জানুয়ারি সরকার ও সরকারি দল সারা দেশে অঘোষিত অবরোধ আরোপ করে। এর ফলে সহিংসতায় ৫ জানুয়ারি চারজনের মৃত্যু হয়। এর আগের দিন বিকেল থেকে রাজধানীতে সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুলিশ।এরপর খালেদা জিয়া যেকোনো মূল্যে ৫ জানুয়ারি সমাবেশ করার ঘোষণা দিলে তাঁকে অবরুদ্ধ করে পুলিশ। ৫ জানুয়ারি বিকেলে 'অবরুদ্ধ' অবস্থায় খালেদা জিয়া ৬ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে লাগাতার অবরোধের ঘোষণা দেন।অবরোধমুক্ত হলেও গতকাল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য যাননি খালেদা জিয়া। প্রতিবছরই তিনি সেখানে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।অবরোধের মধ্যে হরতালবিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, ঢাকার বাইরের অবরোধ পরিস্থিতিকে উৎসাহব্যঞ্জক বলে মনে করছেন দলের নীতিনির্ধারকেরা। তবে রাজধানী ঢাকায় অবরোধ কর্মসূচির প্রভাব না পড়ায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নাখোশ। এই অবস্থায় অবরোধকে আরও কঠোর করতে রাজধানী ঢাকাসহ অঞ্চলভিত্তিক হরতাল ডাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল ডাকা হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। ঢাকা ও খুলনা বিভাগে বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতাল ডাকা হতে পারে।এ ছাড়া মহাসড়ককেন্দ্রিক জেলাগুলোকেও পর্যায়ক্রমে হরতাল আহ্বানের জন্য বলা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানায়। ফেনী, কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলা থেকেও হরতাল আহ্বান করা হতে পারে। | 9 |
আগামী অক্টোবর মাস থেকে ইংল্যান্ডের মাটিতে ৩টি টেস্ট ও ৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে ২৯ সদস্যের পাকিস্তান দলের ইংল্যান্ড যাওয়ার কথা আজ। তবে সফরের মাত্র ২ দিন আগে খবর বের হয় ২৯ সদস্যের ১০ জনই করোনায় আক্রান্ত। তবে আশার খবর হলো যে ১০ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পরেছিল তার মধ্যে ৬ জনই সুস্থ্য হয়ে গেছেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে শনিবার এই কথা জানিয়েছে। সুস্থ্য হয়ে যাওয়া খেলোয়াড়রা হলেন মোহাম্মদ হাফিজ, মোহাম্মদ হাসনাইন, সাদাব খান, ফখর জামান, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ওয়াহাব রিয়াজ। অন্যদিকে পুনরায় করোনা পরীক্ষায় আবার পজিটিভ ফলাফল এসেছে হারিস রউফ, হায়দার আলী, কাসিফ ভাট্টি ও ইমরান খানের। বিবৃতিতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়াসিম খান জানান যারা করোনা নেগেটিভ হয়েছেন তাদের কারোই কোনো পূর্বলক্ষণ ছিল না। আর তাই তারা আশা করছেন এই খেলোয়াড়রা দ্রুত ফিট হয়ে উঠবেন এবং দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন। রবিবার ২৮ জুন ২৯ জনের মধ্যে ২০ জন খেলোয়াড় ইংল্যান্ড যাবেন। সঙ্গে থাকবেন কোচিং স্টাফরা। আর যে ৬ জনের ফলাফল পুনঃপরীক্ষায় নেগেটিভ এসেছে তাদের আরো দুইবার পরীক্ষা করা হবে। আর দুইবারের পরীক্ষায় নেগেটিভ আসলে তবেই তাদের ইংল্যান্ডে পাঠানো হবে। | 12 |
নওগাঁর মান্দায় বিলের একটি ধানখেত থেকে মঞ্জুরুল ইসলাম রিপন (২০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের দোডাঙ্গী গ্রামের ডুবরির বিল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।নিহত যুবক রিপন দোডাঙ্গী হাজীপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন পাইলটের ছেলে। তিনি একজন কৃষিশ্রমিক ছিলেন।এ বিষয়ে রিপনের মা মঞ্জুয়ারা বিবি জানান, গতকাল বুধবার গ্রামের দেওয়ানপাড়া জামে মসজিদে ইসলামি জলসার আয়োজন করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে রিপন জলসা শোনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। জলসা শেষ হওয়ার পরও বাড়ি ফিরে না আসায় আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হয়। কিন্তু কোথাও রিপনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ সময় তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ ছিল।রিপনের চাচা আনিছুর রহমান আজাদ জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে জলসা শেষে জিলাপি কিনে ভাতিজা রিপন বাড়ি আসে। রাতের খাবার খেয়ে সাড়ে ৮টার দিকে জলসা শোনার জন্য আবারও বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিরুদ্দেশ ছিল। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে লোকজন একটি ধানখেতে তাঁর মরদেহ দেখতে পান।এ বিষয়ে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, মরদেহের আলামত দেখে হত্যাকাণ্ড বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হবে। | 6 |
একটা দীর্ঘ বিরতির পর পাওয়া গেছে ভ্রমণের অনুমতি। খুলেছে ভ্রমণ গন্তব্যগুলো। বাধানিষেধ শিথিল হয়েছে। যাঁদের রক্তে ভ্রমণের নেশা তাঁরা তো বটেই, যাঁরা শখের বশে ঘুরে বেড়াতেন, তাঁরাও ফেলেছেন স্বস্তির নিশ্বাস। পরিবার নিয়ে এক-দুই দিনের ছুটিতেও ছুটছেন সবাই সাগর-পাহাড়-বন কিংবা চা-বাগান দেখতে। তবে এটা ঠিক যে লকডাউন শেষে ভ্রমণের অনুমতি মিললেও করোনা চলে যায়নি। ফলে ভ্রমণে থাকতে হবে সতর্ক।স্বাভাবিক সময়ের মতো ঘুরতে গিয়ে অনেক মানুষের ভিড়ে হারিয়ে না যাওয়াই ভালো হবে এখন। মানতে হবে শারীরিক দূরত্ব। খাওয়াদাওয়ায়ও থাকতে হবে সতর্ক।সঙ্গী হবে যা কিছুপ্রয়োজনীয় ফোন নম্বরসময়টা এখন বাড়তি সতর্কতার। ঘুরতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই সঙ্গে রাখুন প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর। এর মধ্যে থাকতে পারে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনের নম্বর, চিকিৎসক ও হাসপাতালের নম্বর, যে হোটেল বা রিসোর্টে উঠেছেন তাদের নম্বর।মাস্কএখন ভ্রমণে তো বটেই, প্রতিদিনের জীবনযাপনের এক নতুন অনুষঙ্গ হয়েছে মাস্ক। ফলে মাস্ক ছাড়া ভ্রমণের কথা ভাবতেও যাবেন না। রংবেরঙের মাস্ক পাওয়া যায় এখন। পাওয়া যায় বিশেষ থিমের মাস্কও। পছন্দের একাধিক মাস্ক সঙ্গে রাখুন নিজের জন্য। চাইলে একবার ব্যবহার করা যায় এমন মাস্কও রাখতে পারেন প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য।হ্যান্ডস্যানিটাইজার ও লিকুইড সোপকরোনাকালে ভ্রমণে সাবান ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার সঙ্গে রাখতে হবে। নির্দিষ্ট সময় অন্তর হাত, ফোন ও যেসব জিনিসপত্র বারবার স্পর্শ করতে হয়, সেগুলো স্যানিটাইজ করতে হবে। তা ছাড়া খোলা জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর সময় প্রয়োজনে মুখ, হাত ও পা ধোয়ার জন্য লিকুইড সাবান রাখতে পারলে ভালো।পানির বোতলশরৎকালের আবহাওয়া একটু অন্য রকম। এই মেঘ তো এই প্রচণ্ড রোদ। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতাও বেশি থাকে। প্রচুর ঘাম হয়। ফলে পানিশূন্যতা দূর করতে পান করতে হবে প্রচুর পানি। তাই সঙ্গে রাখতে হবে পানির বোতল। তা ছাড়া ব্যাগে রাখা যেতে পারে তাজা ফলের রস, বিশেষ করে ভিটামিন সি-জাতীয় ফলের রস। স্যালাইন সঙ্গে রাখুনঘুরতে গেলে প্রয়োজনীয় ওষুধের পাশাপাশি খাবার স্যালাইন রাখতে হবে। কারণ ঘামের জন্য শরীর থেকে লবণ পানি বেরিয়ে যাবে। ফলে দুর্বলতা কাটাতে স্যালাইন খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া যেখানেই সম্ভব হবে ভিটামিন সি-জাতীয় তাজা ফলের রস খেয়ে নিতে পারেন।ছাতা ও রেইনকোটযেকোনো সময় এখন ঝরঝরিয়ে নামতে পারে বৃষ্টি। হঠাৎ ভেজার হাত থেকে বাঁচতে তাই সঙ্গে রাখতে পারেন ছাতা বা রেইনকোট। তাতে ভ্রমণে সময় নষ্ট হবে না। আর বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে মানুষের সঙ্গে ভিড় করে দাঁড়িয়েও থাকতে হবে না কোনো দোকান বা ভবনের বারান্দায়।সানব্লকঘুরতে গিয়ে যেহেতু ছোট হাতার পাতলা কাপড় পরার প্রবণতা বেশি থাকে, সেহেতু ত্বকের একটা বড় অংশ সূর্যরশ্মি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তামাটে হয়ে যাওয়া ছাড়াও ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির জন্য। তাই ভ্রমণে যাওয়ার সময় সানব্লক সঙ্গে নেওয়া ভালো।সানগ্লাসঘোরাঘুরি মানে সারা দিন একেবারে খোলা রোদে বাইরে বাইরে থাকা। তাই চোখ জোড়া রক্ষা করতে সঙ্গে রাখুন প্রিয় সানগ্লাসটি।হালকা-পাতলা কাপড় নিনআরামে ঘুরে বেড়ানোর জন্য পাতলা ও আরামদায়ক কাপড় ব্যাগে নিন। পাতলা কাপড় হলে অনেক কাপড় নেওয়া যায়, পাশাপাশি ব্যাগও বেশি ভারী হয় না। ঘোরাঘুরির পর ঘেমে গেলে প্রয়োজনে কাপড় যেন পাল্টে ফেলা যায় সে ব্যবস্থা রাখতে হবে ব্যাকপ্যাকে।ওয়েট পেপারঘেমে গেলে বারবার ওয়েট পেপার দিয়ে মুখ মুছে নিলে আরাম পাওয়া যায়।প্লাস্টিক বা পলিব্যাগ রাখুনসমুদ্রের ধারে গেলে বা হঠাৎ বৃষ্টি হলে মোবাইল ফোন, ওয়ালেট ও অন্যান্য জিনিস যাতে পানিতে ভিজে নষ্ট না হয়, এ জন্য প্লাস্টিক বা পলিব্যাগ সঙ্গে রাখতে হবে।যা করবেন নাঘুরতে গিয়ে স্থানীয় মানুষের সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে নেতিবাচক কোনো কথা বলবেন না বা কোনো কাজ করবেন না।প্লাস্টিক-জাতীয় দ্রব্য যেখানে-সেখানে ফেলবেন না। কোনো পুরাকীর্তি বা দর্শনীয় স্থানের পরিবেশের ক্ষতি হয়, তেমন কোনো কাজ করবেন না।রক্ষিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করবেন না।পরিচ্ছন্ন রেস্তোরাঁ বেছে নিন খাবারের জন্য। সঙ্গে শিশু থাকলে তার খাবার নিয়ে সতর্ক থাকুন।যেসব জায়গায় ছবি তোলা নিষেধ, সেসব জায়গার ছবি তুলবেন না। ছবি তুলতে হলে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে নিন। | 4 |
ক্রিকেটের জেন্টালম্যান হিসাবে রাহুল দ্রাবিড়ের সুখ্যাতি। অতীতে বারংবার নিজের আচরণে সকলকে মুগ্ধ করেছেন দ্রাবিড়। তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি মজার ঘটনা জানালেন দীপক চাহার। শ্রীলঙ্কা সফরে ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন এই পেসার। টেস্ট খেলতে বিরাট কোহলীদের নিয়ে রবি শাস্ত্রী ইংল্যান্ডে থাকায় সেই দলের কোচ হিসেবে গিয়েছিলেন দ্রাবিড়। সেই সময়ের একটি ঘটনার কথা জানান ভারতীয় এই পেসার। একদিনের সিরিজে দুর্দান্ত খেলেছিলেন চাহার। তিনি বলেন, 'আমরা যখন শ্রীলঙ্কায় পৌঁছলাম, দ্রাবিড় স্যার আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমার বয়স কত। আমি বলি ২৮ বছর, কিছু দিনের মধ্যেই ২৯ হবে। তখন উনি বলেন, এটা তোমার আসল বয়স নাকি ক্রিকেট খেলার জন্য বলছ।' মুচকি হেসে চাহার বলেছিলেন, 'আমার বাবা সেনাবাহিনীতে আছে। বয়স বাড়ানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।' দ্রাবিড়ের একটা কথা এখনও ভুলতে পারেননি ভারতের হয়ে পাঁচটি একদিনের ম্যাচ এবং ১৪টি টি-টোয়েন্টি খেলা চাহার। তিনি বলেন, 'দ্রাবিড় স্যার বলেছিলেন আমার মধ্যে এখনও ৪-৫ বছর টেস্ট ক্রিকেট খেলার ক্ষমতা রয়েছে। এই কথাটা আমার মনে থাকবে। ভারত এ দলের হয়ে লাল বলের খেলায় আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন উনি। উনার কোচিংয়ে খেলে বারবার সাফল্য পেয়েছি আমি।' বর্তমানে আইপিএলের চেন্নাই সুপার কিংসে খেলতে দুবাইতে রয়েছেন চাহার। ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রিজার্ভ দলে রয়েছেন এই পেসার। | 12 |
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা উপজেলায় ধলেশ্বরী নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারডুবির ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ফতুল্লা মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য। আসামিরা হচ্ছে, মাস্টার কামরুল ইসলাম, লঞ্চের চালক (ইনচার্জ) মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন ভূঁইয়া (৪০), সুকানি জসিম মোল্লা (৩০)। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হযেছে, দায়িত্বে অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার অভিযোগে এ ৩জনকে আসামি করা হয়েছে। এদিকে, এখনও পর্যন্ত একই পরিবারের ৪ সদস্যসহ নিখোঁজ ১০জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কুয়াশার কারণে উদ্ধার অভিযান সারারাত বন্ধ ছিল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় পুনরায় নিখোঁজদের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির সন্ধান এখনও না পাওয়া গেলেও এর প্রোপেলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। | 6 |
ভারতের উত্তর প্রদেশে ট্রাকের ধাক্কায় একটি বাসের কমপক্ষে ১৮ যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মৃত যাত্রীদের অধিকাংশই শ্রমিক। তাঁরা বিহারের বাসিন্দা। উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌ থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে বারাবানকি জেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। লক্ষ্ণৌ জোনের এডিজি সত্য নারায়ণ সাবাত বলেন, সেখানে উদ্ধারকাজ চলছে। তাঁদের নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বারাবানকির পুলিশ সুপার যমুনা প্রসাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ডাবলডেকার বাসটিতে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁরা হরিয়ানা থেকে বিহারের দিকে যাচ্ছিলেন। যমুনা প্রসাদ বলেন, বাসটিতে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। সে সময় বাসটি সারানোর জন্য সড়কের পাশে দাঁড়ায়। গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে যখন বাসের যাত্রীরা ঘুমাচ্ছিলেন, তখন এটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি ট্রাক। এতে অনেকেই বাস থেকে ছিটকে পড়ে আহত হন। অবশ্য এনডিটিভির প্রতিবেদনে ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ওই যাত্রীরা বাসটির সামনে সড়কে শুয়ে ছিলেন। একটি ট্রাক বাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে বাসটির নিচে চাপা পড়ে ওই ১৮ জন নিহত হন। | 3 |
করোনাভাইরাসের ইতোমধ্যে বিশ্বের ৬ কোটি ৮৫ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। আর এই ভাইরাসের সংক্রমণে ১৫ লাখ ৬২ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে চূড়ান্তভাবে ফাইজারের টিকা মানব দেহে প্রয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এই টিকা হালাল না হারাম? এই নিয়ে লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিতর্ক চলছে। জানা গেছে, পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি ও মুসলিম অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস, হ্যাকনী, নিউহ্যাম, বার্কিং, ডেগেনহামে কোভিড-১৯ নিয়ে আলাদা ভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম করছে বাংলা হাউজিং এসোসিয়েশন ও চ্যারিটি সংস্থা ইষ্ট হ্যান্ডস। ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক চ্যারিটি সংস্থা ইষ্ট হ্যান্ডসের চেয়ারম্যান নবাব উদ্দিন বলেন, পূর্ব লন্ডনের শ্যাডওয়েলে ইষ্ট হ্যান্ডসের ফুড ব্যাংকে প্রতিদিনই আমাদের ভলান্টিয়াররা মানুষের নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন। মানুষ জানতে চান কি কি উপকরণ দেয়া হয়েছে ভ্যাকসিনে? এর মধ্যে হারাম কিছু আছে কিনা? অনেকে জানতে চান এই ভ্যাকসিন ট্রায়ালে কোনো বাংলাদেশি অংশ নিয়েছিলেন কিনা? এরকম প্রশ্ন গত কয়েকদিন ধরে লন্ডনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের অফিসেও এসেছে। মাইনুল্লাহ বলে ৭০ বছরের বয়স্ক একজন জানান, তিনি ভ্যাকসিন নিতে চান না। কারণ তিনি শুনেছেন, এই ভ্যাকসিন নিলে শরীরে নানা প্রতিক্রিয়া হবে। ভ্যাকসিন হালাল নাকি হারাম এমন প্রশ্নও এসেছে বেশ কয়েকটি। যারা প্রশ্ন করেছেন তাদের বয়স ৪০ থেকে ৭০ বছর। ভ্যাকসিন নিয়ে বিভ্রান্তির কারণে ব্রিটিশ ইসলামিক মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিমা) তাদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা নিশ্চিত ব্রিটেনে যে ফাইজার ভ্যাকসিনের অনুমতি দিয়েছে সেটিতে কোনো ধরনের পশুর চর্বি বা অংশ নেই। তারা আরও উল্লেখ করেন, ভ্যাকসিনটি স্বতন্ত্র মেডিসিন রেগুলেটরি বডি দ্বারা পরীক্ষিত তাই এটা নিশ্চিত যে সাধারণ অন্যান্য ভ্যাকসিনে যেমন সামান্য জর আসে তেমন ছাড়া কোন বড় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। এ প্রসঙ্গে ইসলামিক স্কলার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুর রহমান মাদানী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই টিকায় খারাপ কিছু আছে বলে জানা নেই। যদিও কিছু থেকে থাকে তারপরও বিকল্প না থাকায় জীবন বাঁচানোর তাগিদে এটা জায়েজ। যেমন ফ্লু জাবে জেলাটিন আছে বলে আমরা জানি সেটা এনিমেল ফ্যাট থেকে কিনা সেটা এখনও শিওর না কিন্তু আমাদের বয়স্ক অনেকের জীবন বাঁচাতে এটা ব্যবহারে ক্ষতি নেই। রেফারেন্স হিসাবে বলা যায়, একবার সাহাবীদের জন্ডিস হওয়ার পর আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) উটের দুধের সাথে খুব অল্প পরিমাণ উঠের পেশাব মিশ্রিত করে খেতে বলেন। এখানে উটের দুধ হালাল, আর পেশাব হারাম। একবার যেহেতু আমাদের নবী এটা করার অনুমতি দিয়েছেন তাই এটা নেয়া যায়।
একই ধরনের পরামর্শ দেন ইসলামিক শরীয়া আইন বিশেষজ্ঞ ও পূর্ব লন্ডনের ম্যানরপার্ক শাহজালাল জামে মসজিদের প্রধান ইমাম মুফতী আব্দুর রহমান মনোহরপুরী। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত যেহেতু করোনা ভ্যাকসিনে কোনো খারাপ কিছুর খবর আমরা পাইনি, তাই জীবন বাঁচাতে এটা গ্রহণ করা যাবে। ভবিষ্যতে কোনো খারাপ কিছু জানলে তখন আমরা পরীক্ষা-নীরিক্ষার মাধ্যমে মতামত জানাবো। তিনি আরও বলেন- ফাইজারের ভ্যাকসিন নিলে আমাদের ইসলামিক মূল্যবোধ বা চেতনা লোপ পাবে- এ ধরনের ভিডিও বার্তা ছড়ানো হচ্ছে, যার কোনো ভিত্তি নেই। তাই এসব থেকে সবার সচেতন থাকতে হবে। বিডি প্রতিদিন/আবু জাফর | 4 |
তুরস্কের নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল আদনান ওজবাল বনানীর নৌসদর দপ্তরে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন। সোমবার (২৯ নভেম্বর) এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয় বলে আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এতে আরো বলা হয়, তুরস্কের নৌপ্রধান নৌসদরে এসে পৌঁছালে সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশান্স) রিয়ার এডমিরাল এম আশরাফুল হক তাকে স্বাগত জানান। এসময় নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। তিনি গার্ড পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন। এর আগে সকালে তুরস্কের নৌবাহিনী প্রধান শিখা অনির্বাণে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন এবং একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদাৎ বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বিকেলে তিনি ধানমন্ডি ৩২ এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘর পরিদর্শন করবেন। নৌসদরে সৌজন্য সাক্ষাতকালে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম শাহীন ইকবাল তুরস্কের নৌবাহিনী প্রধান এর সঙ্গে পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ সফরের জন্য এডমিরাল আদনান ওজবাল'কে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে এ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন। দুই দেশের নৌপ্রধান পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে পারস্পরিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বৃদ্ধিসহ দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত তুরস্কের ডিফেন্স এ্যাটাশে, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডিফেন্স এ্যাটাশে, নৌ সদরের পিএসওগণ এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সফরকালে তুরস্কের নৌপ্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা, সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন। এছাড়া তিনি চট্টগ্রামে বানৌজা ওমর ফারুক, বানৌজা নির্ভীক, বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, বানৌজা শহীদ মোয়াজ্জম, স্কুল অব মেরিটাইম ওয়ারফেয়ার এন্ড ট্যাকটিক্সসহ বিভিন্ন দর্শনীয়/ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ পরিদর্শন করবেন। উল্লেখ্য, সফর শেষে তুরস্কের নৌবাহিনী প্রধান আগামী ০১ ডিসেম্বর ঢাকা ত্যাগ করবেন। | 6 |
ঢাকা: গত বছর বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে সাড়ে ৮ হাজারের বেশি শিশুকে সশস্ত্র সৈনিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সংঘাতে প্রাণ হারিয়েছে আরও ২ হাজার ৭০০ শিশু। গতকাল সোমবার জাতিসংঘের প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।এদিনে নিরাপত্তা কাউন্সিলে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শিশু ও সশস্ত্র সংঘাত সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরেন। শিশু হত্যা, অপহরণ বা সংঘাতে নিয়োগ, শিশুদের সহায়তা আটকে দেওয়া এবং স্কুল ও হাসপাতালকে হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়গুলো এ প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।প্রতিবেদনে তথ্য প্রমাণ দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছর ২১টি সংঘাতে ১৯ হাজার ৩৭৯ টির বেশি শিশুর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি সীমালঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে সোমালিয়া, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, আফগানিস্তান, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে।এ ছাড়া প্রতিবেদনে নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, গত বছর ৮ হাজার ৫২১ শিশুকে সৈন্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন সংঘাতে ২ হাজার ৬৭৪ শিশু নিহত এবং ৫ হাজার ৭৪৮ শিশু আহত হয়েছে।প্রতিবেদনে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বিব্রত করে চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি কালো তালিকাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকা দীর্ঘদিন ধরেই কূটনীতিকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্কের বিষয় হয়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, সৌদি আরব এবং ইসরায়েল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই তালিকা থেকে নিজেদের নাম বাদ দিতে নানাভাবে চাপ দিয়ে আসছে।ইসরায়েল কখনোই এই তালিকায় ছিল না। ইয়েমেনে শিশুদের হত্যা এবং আহত করার জন্য বেশ কয়েক বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটকে তালিকায় রাখা হলেও ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো তালিকা থেকে দেশটির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।বিতর্ক নিরসনের প্রয়াসে গুতেরেস ২০১৭ সালে কালো তালিকাকে দুই ভাগে ভাগ করেছিলেন। একটিতে শিশুদের সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণকারী দলগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা হয়। অন্যটিতে রাখা হয় এমন দেশগুলোর নাম যারা এসব বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয় না।সোমবার প্রকাশিত তালিকায় তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। শিশুদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য তালিকায় অন্তভুক্ত একমাত্র পক্ষ হলো মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। শিশুদের হত্যা, আহত এবং যৌন সহিংসতার জন্য তাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে শিশুসেনা নিয়োগ, হত্যা, জখম এবং শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা এবং স্কুল এবং হাসপাতালে আক্রমণের অভিযোগ করা হয়েছে। | 3 |
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, 'নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা হবে, এটা এখনো ঠিক হয়নি। সংসদ নির্বাচনডিসেম্বরে হবে, এটা আমরা বলিনি। যাঁরা বলেছেন, সেটা তাঁদের কথা। উনারা উনাদের হিসেবমতো বলেছেন।' আজ শনিবার বিকেলে সুনামগঞ্জে উন্নয়ন মেলায় ইভিএমপ্রদর্শন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি। কে এম নুরুল হুদা বলেন, 'যারা ইভিএম নিয়ে বিরোধিতা করছে, তাদের ইভিএমের ব্যবহার দেখতে বলছি। তাহলে তারা আর বিরোধিতা করবে না।' আরেক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচনে ইভিএমের ব্যবহার করতে হলে আরপিও সংশোধন করতে হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, এ জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে ৬৪ জেলায় ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। সীমিত আকারে ব্যবহার হবে। ইভিএমের ব্যবহার সম্পর্কে মানুষকে জানানোর জন্য ৬৪ জেলায় উন্নয়ন মেলায় সেটি প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা আজ বেলা তিনটায় সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসন আয়োজিত উন্নয়ন মেলায় আসেন। মেলায় ইভিএম কার্যক্রম নিয়ে অংশ নেওয়া স্টল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।এ সময় সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খান, সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান, সুনামগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুরাদ উদ্দিন হাওলাদারসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিইসির সঙ্গে ছিলেন।এর আগে দুপুর ১২টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা উন্নয়ন মেলার অংশ হিসেবে জেলা স্টেডিয়ামে আয়োজিত কুস্তি প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। | 9 |
সঙ্গীতশিল্পী তাহসান খান ও সুস্মিতা আনিসের 'স্মৃতির ফানুস' গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। এটাই তার এ বছরে প্রথম কোনো মিউজিক ভিডিওতে কাজ করা। আর এ ভিডিওটির দৃশ্যধারণ করা হচ্ছে কক্সবাজারের বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে। এরই মধ্যে কক্সবাজারে শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। গানের কথা লিখেছেন তাহসান খান ও মেহেদী হাসান লিমন। সুর করেছেন তাহসান খান এবং সঙ্গীতায়োজন করেছেন মেনন খান। মিউজিক ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন নাহিয়ান আহমেদ। কক্সবাজার থেকে মুঠোফোনে তানজিন তিশা বলেন, স্মৃতির ফানুস গানটি খুব সুন্দর। এই গানের মিউজিক ভিডিওতে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার খুবই ভালো। আমি সবসময়ই আমার প্রতিটি মিউজিক ভিডিওতে কিছু একটা এক্সক্লুসিভ রাখার চেষ্টা করি। সহজে বলতে গেলে, আমার মিউজিক ভিডিওগুলো গতানুগতিক নয়; কিছুটা হলেও ব্যতিক্রম হয়। স্মৃতির ফানুস গানটিরও মিউজিক ভিডিও যথারীতি ব্যতিক্রমই হচ্ছে। আশা করছি আমার অন্য মিউজিক ভিডিওর মতোই এই গানটি আমার ভক্ত দর্শকের ভালো লাগবে। তিনি আরো জানান, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে সুস্মিতা আনিসের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশ পাবে। | 2 |
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন নবাগত এসিল্যান্ড হিসাবে যোগ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার যোগদানের পর বিকেলে তিনি পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরমান হোসেনের কার্যালয়ে আসেন।এ সময় ইউএনও তাঁকে ফুলের শুভেচ্ছায় স্বাগত জানায়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান। নবাগত এসিল্যান্ডকে নিজ কর্মস্থল উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের সব কর্মচারীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন ইউএনও।৩৬ তম বিসিএস ক্যাডার উত্তীর্ণ করে পাঁচবিবির নবাগত ভূমি কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন প্রথমে ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে বগুড়ায় যোগদান করেন। পদোন্নতি পেয়ে তিনি পাঁচবিবি ভূমি কার্যালয়ের পূর্বের এসিল্যান্ড এমএম আশিক রেজার শূন্যস্থান পূরণ করলেন। | 6 |
চার মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নেই বাগেরহাটের মোংলায়। প্রচণ্ড গরমে পুড়ছে উপকূলীয় এই উপজেলা। প্রতিদিন গড়ে ৩৭ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ এখানকার জনজীবন। গরমে সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। প্রচণ্ড রোদে ঘর থেকে বের হতে পারছে না শ্রমিক, দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মোংলা পৌর এলাকায় দেখা যায়, প্রচণ্ড গরমে মোংলার রাস্তাঘাটে লোকজন অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক কম। বন্দর ও পৌর শহরের দোকানপাট ও রাস্তাঘাট অনেকটা ফাঁকা। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না।শহরের মাদ্রাসা রোড ও রিজেকশন গলির দিনমজুরদেরও কাজে দেখা যাচ্ছে না। শ্রমিক কায়কোবাদ, আল-আমীন ও শাহ আলম বলেন, তাঁরা দিন আনেন দিন খান। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে কাজ করতে গিয়ে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। রোজা থেকে কাজ করা যাচ্ছে না। আবার কাজ না করলে সংসার চলবে কী করে তা বুঝতে পারছেন না।এদিকে দাবদাহের প্রভাব মানুষের পাশাপাশি পড়েছে প্রাণীকুলের ওপরও। চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এখানকার বেশির ভাগ মানুষের আয়ের উৎস বাগদা চিংড়ি চাষ। চাঁদপাই গ্রামের ঘের মালিক সত্তার ইজারদার ও মিঠাখালী গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, কয়েক দিনের গরমে চিংড়ি ঘেরের পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। যেখানে মাছ থাকার জন্য তিন ফুট পানি প্রয়োজন, সেখানে আছে মাত্র এক থেকে দেড় ফুট। কিছু কিছু ঘেরের মাছ মারাও যাচ্ছে। তাঁরা প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে আছেন।উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত গরমে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে চিংড়ি মাছ মরে ভেসে উঠে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে পুকুর ও মাছের ঘেরে গাছের ডাল পুঁতে রাখতে হবে। যাতে অক্সিজেন তৈরি হয়।উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ গরমে পানি স্বল্পতাসহ হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে। তাই তীব্র তাপ প্রবাহে শিশু, বৃদ্ধ ও রোজাদারদের খুব জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। | 6 |
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে একাত্তর টেলিভিশন ও দৈনিক ইত্তেফাকের নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি তন্ময় ভৌমিক সভাপতি ও একাত্তর টেলিভিশনের রাণীনগর সংবাদদাতা ও দৈনিক ভোরের কাগজের রাণীনগর প্রতিনিধি সুকুমল কুমার প্রামানিক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাণীনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের কার্যালয়ে ক্লাবের সভাপতি তন্ময় ভৌমিকের সভাপতিত্বে বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ২০২২-২৩ সালের জন্য রাণীনগর উপজেলা প্রেস ক্লাবের ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্যরা হলেন- সহ-সভাপতি আব্দুল মালেক, আব্দুল খালেক, গোলাম মোস্তফা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহম্মেদ, মনোরঞ্জন চন্দ্র, কোষাধক্ষ্য বুলেট হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান রাজু, প্রচার সম্পাদক সাইদুল ইসলাম। এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য আওরঙ্গজেব হোসেন রাব্বী, আব্দুল মতিন চৌধুরী, আখেরুজ্জামান উজ্জল, সানোয়ার জাহান আল-মামুন, ফরহাদ হোসেন। | 6 |
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। কিন্তু তখনো পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের চার দিন পরেই দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টা ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে সেটা কখন তা জানানো হয়নি।কারাগারে ২৯০ দিন বন্দী থাকার পর ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি ভোর-রাতে মুক্তি পান বঙ্গবন্ধু। সে দিনই তিনি পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনের (পিআইএ) বিশেষ ফ্লাইট ৬৩৫-এ লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন ড. কামাল হোসেন। তাঁদের বলা হয়, যাত্রা সম্পর্কে এখনই কিছু জানানো হবে না। লন্ডন থেকে ঘণ্টা খানেকের দূরত্বে থাকার সময় উড়োজাহাজে ঘোষণা দেওয়া হবে। যখন তাঁরা লন্ডনের কাছাকাছি পৌঁছাবেন, তখন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে একটি বার্তা পাঠানো হবে, যাতে থাকবে বঙ্গবন্ধু সকাল ৭টার দিকে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন।ওই দিনই নিরাপদে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছান বঙ্গবন্ধু। বিমানবন্দরে ব্রিটিশ ও কমনওয়েলথের কর্মকর্তারা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উড্রো উইলসনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘরোয়া বৈঠক করেন। সেই দিন লন্ডনের হোটেল ক্যারিজ এ জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। | 6 |
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারের ব্যবসায়ী হাজী মো. হুমায়ূন কবির মেম্বারকে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়েছে। রোববার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার বাজার এলাকায় এ মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের আকাবপুর গ্রামের ইয়াবা ব্যবসায়ী মামুন নিমসার বাজারের ব্যবসায়ী হাজী হুমায়ূন কবির মেম্বারকে ফাঁসানোর জন্য গত ১৫ অক্টোবর এক লাখ টাকার বিনিময়ে চট্টগ্রামে এক তরুণীকে ভাড়া করেন। ভাড়া করা তরুণীকে একটি হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ করেন মামুন ও তার সহযোগীরা। পরে ওই তরুণী চট্টগ্রাম কোতয়ালী থানায় হুমায়ূন কবির মেম্বার ও ছাত্রলীগ নেতা শাহ আলমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করে মামলা দায়ের করতে যান। চট্টগ্রাম কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীনের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। ফুটেজে হোটেল কক্ষে তরুণী ও দুই ব্যক্তিকে দেখা গেলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বয়সের সঙ্গে মেলে না। সারাদিনের ফুটেজ চেক করলেও সেখানে বয়স্ক কারও আসা-যাওয়া দেখা যায়নি। এরপর মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানানোর জন্য তরুণীটিকে থানায় আসতে বলেন ওসি। এসময় তার সঙ্গে আসে এক ছেলে। তরুণীটির সঙ্গে কথা বলার ফাঁকে ছেলেটির সঙ্গে গল্পের ছলে কথা বললে আগের ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে ব্যাপক অমিল ধরা পড়ে। এতেই সন্দেহ জাগে পুলিশের। এরপর তাদের পৃথক করে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সবকিছু স্বীকার করে ছেলেটি। এ নিয়ে চট্টগ্রাম কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মহসীন তার ফেসবুক একাউন্টে লিখলে হুমায়ূন কবির মেম্বার বিষয়টি জানতে পারেন। ওসি তার ফেসবুকে লিখেন, 'কুমিল্লার বুড়িচংয়ের নিমসার বাজার নিয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য কবির হোসেন ও তার ভাতিজা শাহ আলমের সঙ্গে বিরোধ আছে স্থানীয় বাসিন্দা মামুনের। কবির ও শাহ আলমকে 'শিক্ষা' দিতেই চট্টগ্রামের তরুণীকে ভাড়া করেন মামুন। চুক্তি হয় এক লাখ টাকার। ধর্ষণের মামলা যেন বিশ্বাসযোগ্য হয় তাই ঠিক করেন আবাসিক হোটেল। ঝুঁকি এড়াতে ভিন্ন দু'জনের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় 'ধর্ষিত' হয়। তবে তাদের চক্রান্ত শেষ পর্যন্ত খুলে যায়। প্রকাশ হয়েছে পুরো ঘটনা। গ্রেফতার হয়েছে তিনজন। মামুন পলাতক থাকলেও গ্রেফতার হবে যেকোনো সময়ই।' পুলিশের দক্ষতায় এবারের মতো রক্ষা পেলেও ভবিষ্যতে কবির হোসেনকে নিয়ে আরও ষড়যন্ত্র করতে পারে ইয়াবা ব্যবসায়ী মামুন- এমনটাই আশঙ্কা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের। তাই দ্রুত ইয়াবা ব্যবসায়ী মামুনের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে নিমসার কলেজ মাঠে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন-হাজী হুমায়ুন কবির মেম্বার, আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুর ইসলাম, মো. হেলাল, মো. জাকির হোসেন মুন্সি, রুহুল আমীন ভূইয়া, ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন, মো. স্বপন, রাজ্জাক মিয়া, রিপন মিয়া, আয়েত আলী, এয়াছিন, নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ৭১ হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মো. বিল্লাল হোসেন, নিমসার কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন, নিমসার কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ইসরাফিল নিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল রিয়াদ কাউসার প্রমুখ। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত মামুনের বাড়ি থেকে সম্প্রতি পুলিশ দু'টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫৯ রাউন্ড গুলিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। এছাড়া ২০১৮ সালের রমজান মাসে ৬৫ হাজার ইয়াবাসহ চট্টগ্রামে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলো মামুনের দুই সহোদর। এসময় তিনি গ্রেফতার এড়িয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। | 6 |
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে একটি ট্রাক সড়ক ছেড়ে চায়ের দোকানে ঢুকে পড়েছে। এতে দোকানে বসে থাকা ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কালীগঞ্জ শহরের হক চিড়া মিলের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধুগঞ্জ বাজারের কাজল বুক হাউজের মুশফিকুর রহমান টুটুল (৪৮), উপজেলার দয়াপুর গ্রামের ফারুক হোসেন (৪৪), দোকান মালিক দামোদারপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৪২) ও তালেশ্বর গ্রামের সাবজাল হোসেন (৫২)। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। পরে অবস্থার অবনতি হলে আহতদের মধ্যে মুশফিকুর রহমান টুটুল ও সাবজাল হোসেনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে। কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শেখ মামুনুর রশিদ জানান, একটি খালি ট্রাক মহাসড়ক ধরে মেইন বাসস্ট্যান্ডেরদিকে আসছিল। পথে ইঞ্জিনচালিত নসিমনকে পেছনে ধাক্কা দিয়ে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি চায়ের দোকনে ঢুকে পড়ে। এতে দোকানে বসে থাকা দোকান মালিকসহ ৪ জন গুরুতর আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চালকের বদলে হেলপার ট্রাকটি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। গতি বেশি থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহাফুজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। | 6 |
মা হওয়ার আধঘণ্টা পর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরবের উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষার্থী রেশমা বেগম। নবজাতক জন্মদানের পর প্রসব বেদনা আর সন্তান জন্মদানের কষ্ট তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। সেই অদম্য নারী ভৈরব পৌর শহরের চণ্ডীবের এলাকার মো. শান্ত মিয়ার স্ত্রী। সে সরকারি জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী।জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটায় ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে প্রসব ব্যথা নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত জরুরি প্রসূতি টিম ওই শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক পদ্ধতিতে (নরমাল ডেলিভারি) বাচ্চা প্রসব করান। তখন মা ও তার নবজাতক দুজনই সুস্থ ছিলেন।এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. খুরশীদ আলম বলেন, 'প্রসব বেদনা নিয়ে আজ সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হন রেশমা বেগম নামের এক সন্তানসম্ভবা নারী। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় জন্মদান করেন এক সুস্থ সবল নবজাতক। কিন্তু আজ ছিল তার এইচএসসি পরীক্ষার সমাজকল্যাণ বিষয়ের শেষ পরীক্ষা। তাই নবজাতক জন্মদানের পর প্রসব বেদনা আর সন্তান জন্মদানের কষ্ট তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। স্বল্প সময়েই নিজেকে প্রস্তুত করে ছুটে গেছেন তার নির্ধারিত পরীক্ষা কেন্দ্রে।জানতে চাইলে পরীক্ষার্থী রেশমার স্বামী মো. শান্ত বলেন, 'আমার স্ত্রী গর্ভবতী অবস্থায় এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। আজ ছিল তার শেষ পরীক্ষা। কিন্তু সকালে তার প্রসব ব্যথা শুরু হয়। পরে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরীক্ষার আধঘণ্টা আগে সন্তান জন্মদান করে আমার স্ত্রী তার শেষ পরীক্ষায় অংশ নিতে নির্ধারিত কেন্দ্রে ছুটে যান। পরীক্ষা শেষে হাসপাতালে ফিরে এসে তার নবজাতক শিশুকে বুকে জুড়িয়ে ধরেন।' | 6 |
আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধায় সন্ধ্যা নদী পারাপারে কোনো সেতু না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকার মাধ্যমে নদী পার হতে হয় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের।উপজেলার পয়সারহাট, বাগধা ও আমবৌলা গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সন্ধ্যা নদীর কারণে যোগাযোগের জন্য বাগধা ও আমবৌলা গ্রামের লোকজনকে খেয়ার মাধ্যমেই পার হয় নদীর এপার থেকে ওপারে।জানা যায়, নদীর পশ্চিম পারে একাধিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ হাটবাজার রয়েছে। তাই নদীর পূর্বপারের শিক্ষার্থীসহ লোকজনের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হলো খেয়ার মাধ্যমে নদী পার হওয়া। খেয়ার মাধ্যমে নদী পার হতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। অন্যদিকে পয়সারহাটে অবস্থিত সেতু ঘুরে যাতায়াতে সময় লাগে ৪০ থেকে ৫০ মিনিট। তাই ঝুঁকি নিয়ে খেয়ার মাধ্যমেই নদী পার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ পরিস্থিতিতে এখানে একটি সেতু নির্মাণের জোর দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর এপার থেকে অন্তত ২৫ জন যাত্রী ওপারে যাওয়ার জন্য খেয়ায় উঠেছেন। এর মধ্যে শিশুসহ ১০ জন ছাত্রীও রয়েছে। এভাবেই প্রতিনিয়ত নদী পার হয়ে আসছেন এ গ্রামের লোকজন।বাগধা স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মিলি খানম বলে, 'এখানে খেয়ার মাধ্যমে নদী পার হতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের অনেক সমস্যা হয়। খেয়ার নৌকায় উঠতে গিয়ে অনেক সময় পড়ে গিয়ে আহত হই এবং সময়মতো খেয়া না পেলে নির্ধারিত সময়ে ক্লাসে উপস্থিত হতে পারি না।'কলেজছাত্রী মিলির কথার সঙ্গে একমত পোষণ করে একাধিক এলাকাবাসী বলেন, সেতুর অভাবে এ অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। নদীর এপারে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা এবং অন্য পারে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউপি কার্যালয় অবস্থিত। তাই দুই পারের বাসিন্দাদেরই সমস্যা হয়।স্থানীয় বাসিন্দা সান্টু সরদার বলেন, 'ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউপি কার্যালয় ওপারে হওয়ায় আমাদের প্রতিদিনই সেখানে যেতে হয়। পয়সারহাটে অবস্থিত সেতু ঘুরে যাতায়াতে অনেক সময় লাগে। এ জন্য আমরা খেয়ার মাধ্যমেই নদী পার হয়ে থাকি। নদীতে ভাটার সময় খেয়ার নৌকা কিনারায় না আসাসহ ঝড়বৃষ্টির সময় নৌকায় উঠতে ও নামতে অনেক সমস্যা হয়।'এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার জানান, ওখানে (বাগধা খেয়াঘাটে) একটি সেতু নির্মাণের জন্য বরিশাল এলজিইডি কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে বরিশাল এলজিইডি কার্যালয় থেকে ওখানকার মাটি পরীক্ষাসহ সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। | 6 |
ফেনীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামিদের আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে সোমবারসাংবাদিকদের জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান। এর আগে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ মামলার পেপারবুক (যাবতীয় নথি) ছাপানো হয়েছে। পরে শুনানির জন্য মামলাটি প্রধান বিচারপতি বরাবর উপস্থাপন করা হয়। এরপর প্রধান বিচারপতি মামলাটি শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করেন।
গত বছরের ২৯ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলায় আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য (ডেথরেফারেন্স) হাইকোর্টে আসে। এছাড়া আসামিরা জেল আপিল ও কয়েকজন আপিল করেছেন। গত বছরের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুলের বিচারক মামুনুর রশিদ এ মামলার রায় দেন। রায়ে নুসরাতের শিক্ষক, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাসহ মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে জরিমানা করেন আদালত। ওই বছরের ২৭ মার্চ মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন নুসরাতের মা শিরিন আখতার। ওইদিনই অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল নুসরাত মাদরাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে হাসপাতালে চিকিসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়। বিডি প্রতিদিন/আল আমীন | 6 |
যথাযথ তথ্য-উপাত্ত নেই। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার তথ্যের সঙ্গে বাজেটের তথ্যের মিল কম। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাজেটের কোনো সাযুজ্য নেই। কোভিড-১৯ মাথায় রেখে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা সংশোধন করার পরও সেটির সঙ্গে বাজেটের তথ্যের মিল কম। কারণ, বাজেটের অনেক কিছুই করা হয়েছে অনুমানের ভিত্তিতে। গতকাল শনিবার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত বাজেটবিষয়ক এক সংলাপে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সম্মানিত অতিথি ছিলেন। সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। সংস্থাটির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেট ও অর্থনীতির ওপর সার্বিক পর্যালোচনা তুলে ধরেন এর নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। সিপিডি নিজস্ব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেছে, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি কীভাবে অর্জিত হবে, সেই সম্পর্কে কোনো দিকনির্দেশনা নেই বাজেটে। আবার ২০১৯-২০ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হিসাবও এখনো পাওয়া যায়নি। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়েনি এবং ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো প্রণোদনা ঋণ পায়নি। সংস্থাটি জানায়, রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে যা অর্জিত হয়েছে, তা গতবারের তুলনায় একটু বেশি। তবে বাকি দুই মাসের লক্ষ্যমাত্রা অবিশ্বাস্য, ১২২ শতাংশ। সরকারি ব্যয়ও কম এবার। আর স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বাস্তবায়ন ২৫ শতাংশ, যা একেবারেই আকাঙ্ক্ষিত নয়। যে বছরে ব্যয় বেশি হওয়া দরকার, সে বছরেই কিনা বাজেট সম্প্রসারণমূলক না হয়ে এর পরিবর্তে সংকোচনমূলক হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটকে বিরাট বলে মনে করে না সিপিডি। বলছে, জিডিপির আকার যেহেতু বাড়ছে, সেহেতু ব্যয়ের পরিমাণও বাড়বে। আয় কোথা থেকে আসবে, সেই পথনকশা নেই। বৈদেশিক উৎস থেকে বেশি ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক আছে। আবার বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর যে ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে, তাতে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বাড়বে। এ ছাড়া সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার ও দক্ষ মানবশক্তি না থাকলে সবকিছু কাগজে-কলমেই থেকে যাবে। সিপিডির মতে, গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতের বরাদ্দ বাজেটে কমেছে। আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিও (এডিপি) প্রকল্পের ভারে জর্জরিত। এ ছাড়া ক্ষুদ্রদের প্রণোদনা প্যাকেজ দিতে এনজিওগুলোকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। সিপিডির চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান বলেন, ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের তারল্য পড়ে থাকা এবং এর যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় প্রশ্ন তোলেন। তিনি আমদানি বিকল্প শিল্পায়ন ও রপ্তানি বহুমুখীনতার প্রতিও জোর দিতে বলেন। রেহমান সোবহান বলেন, অর্থমন্ত্রী বেসরকারি সংস্থার দারিদ্র্যের হিসাব না মানতে পারেন। তবে তাঁর উচিত হবে, বিকল্প তথ্য-উপাত্ত তৈরি করে তা উপস্থাপন করা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বিবিএসকে আরও কার্যকর করা হবে বলে জানান। তিনি বলেন, 'আমি প্রতিনিয়ত শুনছি। কর্মকর্তাদের বলি, তাঁরা যেন আরও ভালো করেন। শুধু আদেশের অপেক্ষায় না থাকেন। নিজেরা যেন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজ করেন।' ভ্যাট সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার কথাও স্বীকার করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বলেন, 'যদি ভ্যাটটা আমরা কাজে লাগাতে পারতাম! অদ্ভুত দেশ! একশ্রেণির ব্যবসায়ী বিরোধিতা করেন। অথচ ভ্যাট দেন ক্রেতারা।' সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, 'আমরা সংসদে আছি মানুষের চাহিদার কথা ব্যাখ্যা করা ও তুলে ধরার জন্য। কিন্তু আমরা যদি সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকি, তাহলে সেই বিষয়গুলো কেন আসবে? আমরা সংসদে আছি শুধু হ্যাঁ বা না বলার জন্য।' সংলাপে নির্ধারিত আলোচকদের মধ্যে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাজেটে 'মেড ইন বাংলাদেশ' বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে, এটা খুবই আশাব্যঞ্জক। আর এনবিআর থেকে নীতি ও বাস্তবায়ন আলাদা করতে ২০০৯-১০ অর্থবছরে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কোনো অগ্রাধিকার খাত নেই। পিছিয়ে পড়া বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য যেমন কিছু নেই, তেমনি ব্যাংক খাত সংস্কারের জন্যও কিছু বলা নেই। এই ব্যাংক খাত দিয়ে এগোনো যাবে না। মেট্রো চেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, 'প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ীদের খালি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা লুটেরা। কদিন ধরে লাগাতার এসব বলা হচ্ছে। কথাগুলো শুনতে আমি আগ্রহী নই। আপাতদৃষ্টে মনে হচ্ছে, অনেক কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। অথচ সরকার এক হাত দিয়ে ব্যবসায়ীদের দেয়, অন্য হাত দিয়ে তাদের থেকে নেয়।' ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের (নাসিব) সভাপতি মির্জা নুরুল গণি বলেন, বড়দের জন্য প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ মুহূর্তেই বিতরণ হয়ে যায়, হয় না শুধু এসএমইর। এ ব্যাপারে সমীক্ষা হওয়া দরকার। বিএনপির সাংসদ রুমিন ফারহানা বলেন, বিশেষ অবস্থার বাজেটটি বিশেষ ধরনের হবে বলে আশা ছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, স্বাস্থ্য খাত সার্বিক অবহেলার শিকার। নতুন দরিদ্র নিয়ে বেসরকারি সংস্থার ফল অর্থমন্ত্রী না মানলে সরকারি সংস্থা গবেষণা করুক। বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। হার্ডওয়্যারের জন্য বড় বরাদ্দ থাকলেও সফটওয়্যারের জন্য থাকে না। | 0 |
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল পাচ্ছে ১৩ হাজার ৪০০ পরিবার। আজ বুধবার সকাল থেকে বোরহানউদ্দিন পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ চাল বিতরণ শুরু হবে বলে জানা গেছে।বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ হাজার ৪০০টি পরিবারের মধ্যে পৌরসভায় ৪ হাজার ৬২১টি পরিবার, গঙ্গাপুর ইউনিয়নে ১১২, সাচড়া ইউনিয়নে ৮২৭, কাচিয়া ইউনিয়নে ১ হাজার ৪৩৩, পক্ষিয়া ইউনিয়নে এক হাজার, বড় মানিকা ইউনিয়নে ১ হাজার ৫৭০, কুতবা ইউনিয়নে ৯৪৬, হাসানগর ইউনিয়নে ৬৩০ এবং টগবী ইউনিয়নে ১ হাজার ৩৪৮টি পরিবারের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হবে।গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নে এক হাজার পরিবারের মধ্যে এ চাল বিতরণ করা হয়। বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সরদার।পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, 'অসহায় ও দুস্থ পরিবারের কথা বিবেচনা করে প্রতিবছরই পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়। এবার ভিজিএফের চাল খাদ্য সহায়তা হিসেবে উপহার দিয়েছে সরকার। পৌর সভা এলাকায় যাচাই-বাছাই করে শুধু অসহায় পরিবারকে এ সহায়তা দেওয়া হবে।'উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, 'পবিত্র ঈদুল ফিতরের উপলক্ষে অসহায় পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হবে।' | 6 |
সিস্টার আন্দ্রে জন্মেছিলেন ১৯০৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে বৃহস্পতিবার তার বয়স ১১৭তে দাঁড়াবে। এর একদিন আগে তিনি পেলেন করোনা জয়ের সু-সংবাদ। তার আসল নাম লুসিল র্যান্ডন। সিস্টার আন্দ্রে এখন আর চোখে দেখেন না। চলাফেরায়ও হুইলচেয়ারের সাহায্যে করেন। তবু আগামীকাল নিজের জন্মদিনের উৎসব পালনের জন্য মুখিয়ে আছেন। লুসিল ১৯৪৪ সালে সন্ন্যাসব্রত গ্রহণের মধ্য দিয়ে নিজের নাম সিস্টার আন্দ্রে হিসেবে গ্রহণ করেন। গত মাসের ১৬ তারিখ তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। তবে তার ভেতরে সংক্রমণের কোনো লক্ষণ ছিল না। স্থানীয় গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, 'আমি বুঝতেও পারিনি, এটি আমার ভেতরে ছিল।' দক্ষিণ ফ্রান্সের টোলনে অবসরযাপনের বাড়িতে তিনি অন্য বাসিন্দাদের কাছ থেকে নিজেকে পৃথক করে রেখেছিলেন। তবে এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ। সূত্র: বিবিসি বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 4 |
নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৪৫ বছর। পরণে নীল গেঞ্জি ও কালো রঙের প্যান্ট রয়েছে। টঙ্গী জংশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. আরব আলী স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, ধীরাশ্রমের আক্কাস মার্কেট এলাকায় রেললাইন পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। | 6 |
২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, গনতন্ত্র ভোটাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সকলকে ধৈর্য সহকারে ঐক্যবদ্ধ থেকে গনতান্ত্রিক পন্থায় সরকারের পতনের আন্দোলন জোরদার করতে হবে। শনিবার (৩১ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে করোনা, লকডাউন ও জনদুর্ভোগ শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। জোট শরিকদের উদ্দেশ্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, যারা ইতোপুর্বে জোট ছেড়েছেন তারা কেউ ভাল নেই। এই সরকার দিনের ভোট রাতে চুরি করে ক্ষমতায় টিকে আছে। হামলা মামলা নির্যাতন নিপীড়নের মাধ্যমে তারা মানুষকে দমিয়ে রেখে দেশে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হয়রানী মুলক মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশী রায় দিয়ে আটকে রেখেছে। তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়ে পরিক্ষিত ও বিস্বস্ত। সরকারের অনেক প্রলোভনে তারা জোটকে ভাঙ্গতে পারেনি। তাই জনবিচ্ছিন্ন আওয়ামী দুঃশাসন থেকে জনগনকে মুক্ত করতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম জোরদার করতে হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা একসঙ্গে কর্মসুচী গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে পারবো। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব লায়ন ফারুক রহমানের সঞ্চালনায় আন্দোলন অংশ নেন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টি (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফত মজলিসের মাওলানা মো. ইসহাক, কল্যান পার্টির মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতিক, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুর রকীব, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, এনডিপির কারী আবু তাহের, জাতীয় দলের এড. সৈয়দ এহসানুল হুদা, এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, মুসলিম লীগের এড. জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম, পিপলস লীগের এড. সৈয়দ মাহবুব হোসেন, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি এড. জহুরা খাতুন জুঁই, লেবার পার্টির মাহবুবুর রহমান খালেদ, এস এম ইউসুফ আলী, জহিরুল হক জহির, আবদুর রহমান খোকন, মোহেবুল্লাহ আল মেহেদী প্রমুখ। সভা শেষে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থ্যতা ও করোনায় নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং চিকিৎসাধীনদের সুস্থ্যতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। | 6 |
অনেক বছর ধরেই সামার রাহবিনি ভাবছিলেন, সৌদি আরবের রক্ষণশীল সমাজে উন্মুক্ত রাস্তায় তাঁর সাইকেল চালানোটা অসম্ভবই হবে। কেননা সেখানে প্রকাশ্যে নারীদের খেলাধুলা করাটা ভালো চোখে দেখা হয় না। সাইকেল চালানোও সে রকমই কিছু। তবে এ ভ্রু কুঁচকানোকে উপেক্ষা করে সামার রাহবিনি সম্প্রতি লোহিত সাগরতীরবর্তী শহর জেদ্দায় পুরুষের পাশাপাশি নারীদের জন্য চালু করেছেন 'কারেজ' নামে সাইক্লিং ক্লাব। এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বার্তা সংস্থা এএফপিকে সামার বলেন, 'আমি এ ক্লাবের নাম দিয়েছি কারেজ। কারণ রাস্তায় মেয়েদের সাইকেল চালানো, মানুষ ও ভিড়ের মধ্যে এটি চালানো শেখার জন্য দরকার সাহসের।' রাহবিনি বলেন, এই সাইক্লিং ক্লাব চালু করা নিয়ে এখন পর্যন্ত তাঁকে তেমন প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়নি। জেদ্দায় নারীদের সাইক্লিং এখন অনেকটাই সাধারণ কাজে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি রাহবিনি ও তাঁর বান্ধবীরা দল বেঁধে রাস্তায় সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তিনি জানান, তাঁর ক্লাবে এখন নারী সদস্যের সংখ্যা কয়েক শ ছাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেওয়া বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। | 3 |
ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের দাবিতে ঈদের দিনও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন পদবঞ্চিতরা। বুধবার ঈদের দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ পড়ে আবারও সেখানে বসেছেন আন্দোলনরতরা। গত ২৬ মে থেকে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে টানা অবস্থান নিয়েছেন পদবঞ্চিতরা। কমিটি পুনর্গঠন না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা। বুধবার সকালে ঈদের নামাজ শেষে তাদের সহমর্মিতা জানিয়ে সেমাই খাওয়ান ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। এর আগে সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তারা ঈদের নামাজ আদায় করেন। সম্মেলনের এক বছর পর গত ১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলে তা পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন পদ না পাওয়া ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ারা। তাদের অভিযোগ, বিবাহিত, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন মামলার আসামিসহ নানা অভিযোগবিদ্ধ অনেককে পদ দেয়া হয়েছে। বঞ্চিত করা হয়েছে অনেক ত্যাগী নেতাকে। কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে মারামারিও বাঁধে কমিটিতে পদ পাওয়া নেতাদের। এরপর কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে আশ্বাসে পিছু হটে বিক্ষুব্ধরা। বিক্ষুব্ধদের আন্দোলনের মুখে গত ২৯ মে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিতর্কিত কয়েকজনকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করেন। কিন্তু এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা হলে ফের অবস্থানে ফেরে বিক্ষুব্ধরা। তাদের দাবি, আগে বিতর্কিত সবাইকে সরাতে হবে, তারপরই যেন কর্মসূচি নেয়া হয়। ২৬ মে রাত থেকেই রোদ-বৃষ্টির মধ্যেও তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবি মানা না হলে ঈদ পেরিয়েও অবস্থান ধরে রাখার ঘোষণা রয়েছে তাদের। বিগত কমিটির মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক উপ-সম্পাদক আল মামুন বলেন, 'আমাদের মাঝে ঈদের আনন্দ স্পর্শ করতে পারেনি। কারণ যতক্ষণ না পর্যন্ত ছাত্রলীগের এই বিতর্কিত কমিটি পুনর্গঠন করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এখানেই অবস্থান করব।' প্রধানমন্ত্রী ৮ জুন দেশে আসার পর তাদের আন্দোলন আরও 'কঠোর' হবে বলে তিনি জানান। অবস্থান কমসূচিতে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক এস এম মামুন, সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক নকিবুল ইসলাম সুমন, সাবেক উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক মুরাদ হায়দার টিপু, সাবেক স্কুল ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ, কবি জসিমউদদীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান প্রমুখ। | 1 |
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর নির্বাচনী স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের স্লোগান হলো 'সবুজ শ্যামল জনপদ নগর গড়ি নিরাপদ'। বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা পৌর মিলনায়তন প্রাঙ্গনে ১৪ দলের সভায় ওই স্লোগান উন্মোচন করা হয়। আইভী বলেন, '২০১১ সালে আমি যখন মেয়র প্রার্থী হই তখন এই ১৪ দলের নেতারা আমাকে প্রথমে সমর্থন দেন ও আমার পক্ষে কাজ করেন। তখন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান ও স্লোগান দিয়েছিলাম 'নয় শঙ্কা নয় ভয় শহর হবে শান্তিময়'। এবার আমি নারায়ণগঞ্জের নগরকে সবুজায়ান নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। মাঠ দখলমুক্ত করে বাবুরাইল খাল সহ অনেক কিছুই করছি। আশা করছি নারায়ণগঞ্জবাসী আমাকে আবারো উন্নয়নের সুযোগ দিবেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তিনি ১৪ দলের সমন্বয়ক। | 6 |
জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা হাকাইন্ডে হিচিলেমা। নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট এডগার লুঙ্গু। সোমবার দেশটির নির্বাচন কমিশন ফলাফল ঘোষণা করে। নির্বাচনে ১৫৬টি আসনের বিপরীতে ২ কোটি ৮ লাখ ১০ হাজার ৭৫৭ ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন এই ধনকুবের। রাজনীতিতে আসার আগে একটি অ্যাকাউন্টিং ফার্মের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন হিচিলেমা। বৃহস্পতিবারের ভোটে জাম্বিয়ার বৃহত্তম বিরোধী দল ইউনাইটেড পার্টি ফর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ইউপিএনডি) ব্যানারে হিচিলিমা ১০টি বিরোধী দলেরও সমর্থন পান। সূত্র : আল-জাজিরা বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ | 3 |
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বাংলাদেশ স্কাউটসের তৃতীয় জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা স্কাউট ক্যাম্পে সোমবার সহস্রাধিক রোভার স্কাউট ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এ সময় তারা ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা বিষয়ে প্রদর্শনী অবলোকন করেন। দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রদর্শনী ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণে ঘূর্ণিঝড় পূর্ববর্তী সতর্কতা, সচেতনতামূলক প্রচারণা, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার কাজ, পুনর্বাসনের নানারকম প্রশিক্ষণ দেন দক্ষ প্রশিক্ষকরা। তাছাড়াও রোভার স্কাউটরা দিনব্যাপী প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ, ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস, জ্ঞান জিজ্ঞাসা, মিঠামইনের সৌন্দর্যবর্ধন ও ফান গেমসহ নানা ইভেন্টে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতেও যোগদান করেন। পাঁচদিনের এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে রোভার স্কাউট, স্কাউটার ও স্বেচ্ছাসেবকসহ মোট ১৫০০ জন অংশগ্রহণ করছেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভারত ও নেপাল থেকে ২৭ জন স্কাউট ও স্কাউটার রয়েছেন। এই ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারী রোভার ছেলেমেয়েরা কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলি, ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সংযুক্ত করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে। আকর্ষণীয়, বৈচিত্র্যময় ও রোমাঞ্চকর কর্মসূচিতে পরিপূর্ণ এই ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীরা সাইক্লোন, হাওরের প্লাবন, অগ্নি নির্বাপন, ভূমিকম্প এবং বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশল হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। আগামী ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় মহাতাঁবু জলসার মধ্যদিয়ে ক্যাম্প শেষ হবে। মহাতাঁবু জলসা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। বিডি প্রতিদিন/এমআই | 6 |
কান চলচ্চিত্র উৎসবের রেড কার্পেটে একাধিকবার হাজির হয়ে লাস্যময়ী লুকে ধরা দিয়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। তবে চলতি বছর তার নামের পাশে নয়া সংযোজন। বিচারকের আসনে থাকবেন দীপিকা, জুড়ি সদস্য হিসেবে কোঙ্কনা সুন্দরী। ৭৫ তম চলচ্চিত্র উৎসবে মোট নয় জন জুরি বা বিচারক রয়েছেন। যার মধ্যে একজন দীপিকা। ১৭ মে থেকে শুরু কান চলচ্চিত্র উৎসব। গতকালই ফ্রান্সের রিভেরা শহরে উড়ে গিয়েছেন দীপিকা। ওই দেশে পৌঁছেই রেবেকা হল, ভিনসেন্ট লিন্ডন, জেসমিন ট্রিনকা, আসগর ফারহাদি, লাদি লি, জেফ নিকোলস এবং জোয়াকিম ট্রিয়ার সহ অন্যান্য জুরি সদস্যদের সঙ্গে ডিনার করতে যান অভিনেত্রী। খবর হিন্দুস্তান টাইমস। সোমবার, ১৬ মে, হোটেল মার্টিনেজে ৭৫ তম কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল জুরি ডিনারে অংশ নিয়েছিলেন দীপিকা। অন্যান্য সময়ের মতোই রেড কার্পেটে চলার মতো লুকে ধরা দেন বলি সুন্দরী। এ দিন লুই ভিতোঁর পোশাকে ধরা দিয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউসের হাউস অ্যাম্বাসেডর হয়েছেন তিনি। এ দিন দীপিকাকে কালো-সাদা এবং রঙিন আউটফিটে দেখা গিয়েছে। এর আগে, দীপিকা ফ্রান্সের কানে জন্য আসার একটি ভ্লগ শেয়ার করেছিলেন। ৭৫ তম চলচ্চিত্র উৎসবে মোট নয় জন জুরি বা বিচারকের তালিকায় রয়েছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী-পরিচালক রেবেকা হল, সুইডিশ অভিনেত্রী নুমি রাপাস, ইতালীয় অভিনেত্রী-পরিচালক জেসমিন ত্রিনকা, ইরানি পরিচালক আসগর ফারহাদি, ফরাসি পরিচালক লাদি লি, মার্কিন পরিচালক জেফ নিকোলস, নরওয়ের পরিচালক জোয়াচিম ট্রিয়ার। এ বছর উৎসবের সেরা পুরস্কার 'পাম দ'-র নির্বাচন কমিটির জুরিদের অন্যতম দীপিকা। দীপিকার আগে বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, নন্দিতা দাস ও শর্মিলা ঠাকুর কান চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি বোর্ডের সদস্য হয়েছিলেন। | 2 |
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ টানতে আজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন। বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের প্রতিনিধি ছাড়াও ভারতের নামকরা শিল্পপতিরা এতে অংশ নিচ্ছেন।মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি জানান, বিনিয়োগকারীদের শিল্পের উপযুক্ত পরিবেশ দিয়ে সহায়তা করবে রাজ্য সরকার। জমি নিয়েও কোনো সমস্যা হবে না। সম্মেলনের উদ্বোধন করে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর রাজ্যে শিল্পের পরিবেশ তৈরির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেন।কলকাতায় মমতা ব্যানার্জি-টিপু মুনশি বৈঠকবিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে যোগ গিয়ে গতকাল মঙ্গলবারই ভারতে আসেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে একান্তে বৈঠকও করেন। বাংলাদেশ ছাড়াও আমেরিকা, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ভুটান, অস্ট্রেলিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, জাপান, কেনিয়ার প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছেন দুদিনের এই বাণিজ্য সম্মেলনে। সম্মেলনকে ঘিরে উৎসবের মেজাজে সেজে উঠেছে গোটা কলকাতা।উল্লেখ্য, কোভিডের কারণে গত দু-বছর স্থগিত ছিল কলকাতার এই বাণিজ্য সম্মেলন। সম্মেলনে লজিস্টিক হাব তৈরি বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে বিজেপির সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষের অভিযোগ, সরকারি অর্থ অপচয়ের উৎসব হচ্ছে কলকাতায়। আসলে কোনো বিনিয়োগ আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আসেননি।ভারতীয় শিল্পপতিদের মধ্যে রয়েছেন-আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানি, উইপ্রো কর্ণধার আজিম প্রেমজি, রিলায়েন্স গোষ্ঠীর মুকেশ অম্বানী প্রমুখ। | 3 |
পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাওয়াজা আসিফকে গ্রেফতার করেছে দেশটির দুর্নীতি দমন শাখার পুলিশ। নওয়াজ শরিফের আমলে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন আসিফ খাওয়াজা। ১৯৯১ সালে প্রথমবার তিনি মন্ত্রিত্ব পান। বর্তমানে তিনি দেশের অন্যতম বিরোধী মুখ ছিলেন। নওয়াজ শরিফের অবর্তমানে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা তিনি। বিরোধীদের বক্তব্য, রাজনৈতিক কারণেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসিফকে গ্রেফতার করা নিয়ে টুইট করেছেন খোদ নওয়াজ শরিফ। তার অভিযোগ, ইমরান খানের সরকার বিরোধীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক আচরণ করছে। আসিফের নিঃশর্ত মুক্তি চেয়েছেন নওয়াজ শরিফ। যদিও তার বিরুদ্ধেও শাস্তির খাঁড়া ঝুলছে। এনএবি'র প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আসিফকে এর আগেও তলব করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি যাননি। সম্পত্তির হিসাবও দিতে পারেননি। এনএবি'র বক্তব্য, ১৯৯১ সালে আসিফের মোট সম্পত্তি ছিল পাঁচ দশমিক এক মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে ২২১ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি। এত টাকা কোথা থেকে এল তার কাছে? আসিফ এর আগে দাবি করেছিলেন, আরব আমিরাতের একটি সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। সেখান থেকে এই পরিমাণ সম্পত্তি হয়েছে তার। কিন্তু এনএবি'র বক্তব্য, যে সময় আসিফ আরব আমিরাতে কাজ করতেন বলে দাবি করছেন, সে সময় তিনি দেশেই ছিলেন। ওই কোম্পানির কাগজ তিনি জাল করেছেন বলে অভিযোগ। বিরোধীরা অবশ্য এই পুরো বিষয়টিকেই চক্রান্ত বলে মনে করছেন। আসিফকে গ্রেফতার করায় ইমরানের উপর বিরোধীদের চাপ আরো বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন | 3 |
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ভার্চ্যুয়াল জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানিয়েছে বেইজিং। ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও বিশ্বের শীর্ষ দূষণকারী দুই দেশ বিকল্প কোনো সমাধান খুঁজছে। বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাঁর আর সির মধ্যে প্রথম এই সাক্ষাৎ হবে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে ভার্চ্যুয়াল এই জলবায়ু সম্মেলনে ৪০ জন বিশ্বনেতাকে আমন্ত্রণ করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও। এই সম্মেলনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফিরে আসছে। সাবেক মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্প এ প্রক্রিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে এনেছিলেন। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্মেলনে একটি 'গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য' দেবেন সি। কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক প্রতিনিধি জন কেরি সাংহাই সফর করেন। এটি ছিল বাইডেন প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার প্রথম চীন সফর। বেইজিংয়ে কেরি ও চীনা প্রতিনিধি সিয়ে ঝেহুয়া বলেন, নানা উত্তেজনা সত্ত্বেও জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলায় তাঁরা পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। হংকংয়ে চীনা নীতি এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল জিনজিয়াংয়ে উইঘুর জাতিগোষ্ঠীর ওপর আচরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশ সহযোগিতার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে। যদিও নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের একসঙ্গে হওয়া ছাড়া বৈশ্বিক জলবায়ু সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পৃথিবীর মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের প্রায় অর্ধেকের জন্যই দায়ী বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দুই দেশ। | 3 |
পুঁজিবাজার নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই- এমন মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, 'দেশের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন করা হবে। বারবার এ বাজারকে নিয়ে নাজুক অবস্থায় পড়তে চাই না। মানুষের গালাগাল শুনতে চাই না। যারা এ বাজার নিয়ে খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুঁজিবাজার উন্নয়নে প্রণোদনাসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে আগামী বাজেটে।' বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে বেসরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাক্-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় হাত দেওয়া হবে না। তবে অনিয়ম বন্ধে সংস্কার করা হবে। ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো হবে- এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমাদের দেশে সুদহার ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ। পৃথিবীর কোনো দেশে এত বেশি সুদ দিয়ে ব্যবসা করা যায় না।' বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, টাকা পাচার বন্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুঁজিবাজারকে 'সিংহ ও ছাগলের বাজার' বলে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজারে দুটি পার্টি আছে। একটি সিংহ, অপরটি ছাগলের বাচ্চা। এ দুটিকে এক করা সম্ভব নয়। হয় পুঁজিবাজার নিজ থেকে ভালো হবে, না হলে যারা খারাপ অবস্থা তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ মুহূর্তে পুঁজিবাজারে ৫০ কোটি নয়, পাঁচ লাখ কোটি টাকা দিলেও শেষ হয়ে যাবে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি। মুস্তফা কামাল বলেন, সামনে বাজেট। পুঁজিবাজার বিষয়ে বাজেটে কিছু না কিছু প্রণোদনা থাকবে। বাজেটের আগে বাজার ভালো হওয়ার কথা; কিন্তু তা না হয়ে খারাপ হচ্ছে। এসবের পেছনে যারা, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বুঝে-শুনে এই বাজারে আসা উচিত। দীর্ঘ সময়ে বিনিয়োগ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বাজার নিয়ে তিনি অন্যায় কিছু বলেননি। তিনি যা বলেননি বা বলতে চেয়েছেন, গণমাধ্যমে সেভাবে প্রকাশ হয়নি বলে অভিযোগ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুঁজিবাজার দেশের অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পুঁজিবাজারের উন্নতি ছাড়া দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। পুঁজিবাজার সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় আছে এবং এর উন্নয়নে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। | 0 |
দাকোপের কৈলাশগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্লাবন রায় সভাপতি ও মহাদেব মন্ডল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। গত রোববার বিকেলে কৈলাশগঞ্জ মাতৃমন্দির মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন দাকোপ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ আবুল হোসেন।জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দাকোপ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড়। ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ত্রিদিব রায়ের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অতিথি হিসাবে বক্তৃতা করেন সাবেক সাংসদ ও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ননী গোপাল মন্ডল। রতন মন্ডল ও স্বপন বৈদ্যের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সরদার জাকির হোসেন।বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সরোজিত কুমার রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান পঞ্চানন মন্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ যুবরাজ, জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জলিল তালুকদার, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মিহির মন্ডল, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা দেবব্রত বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান সুদেব রায়, মানস মুকুল রায়, মাসুম আলী ফকির, জেলা যুবলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান সোহাগ, অলিউর রহমান সানি, আফজাল খান প্রমুখ। | 6 |
'এক টাকায় শিঙাড়া-পেঁয়াজু' শুনেই অনেকে বিস্মিত হন। এ কথা শুনে কৌতূহলের বশে হলেও আসেন অনেকে। ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া বাজারে গেলেই মিলবে এমন দৃশ্য। এক টাকার শিঙাড়া-পেঁয়াজু বিক্রি করেন প্রদীপ (৬০)। তাঁর বাড়ি একই ইউনিয়নের বড়জোড়া গ্রামে।সরেজমিনে দেখা যায়, কঠোর লকডাউনে এলাকা ফাঁকা থাকলেও জীবিকার তাগিদে শিঙাড়া-পেঁয়াজু নিয়ে বসে আছেন প্রদীপ। ছোট একটি কাঠের চৌকির ওপর বসে ক্রেতার অপেক্ষা করছিলেন তিনি। লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও জীবিকার তাগিদে দোকান বসাতে হয়েছে তাঁকে। তবে আশানুরূপ বিক্রি না হওয়ায় দুশ্চিন্তার ভাঁজ তাঁর চোখে-মুখে।প্রদীপ জানান, স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর সংসার। নিজের সহায়-সম্পদ বলতে ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছুই নেই। দীর্ঘ পনেরো-ষোলো বছর ধরে হারুয়া বাজারে এক টাকার শিঙাড়া-পেঁয়াজু বিক্রি করে কোনোমতে সংসার চলে তাঁর। লকডাউনে তাও বিক্রি না হওয়ায় কষ্টে দিন চলছে তাঁর।এ সময় এক টাকায় বিক্রির কারণ জানতে চাইলে প্রদীপ বলেন, 'আমার এই ব্যবসা প্রায় পনেরো-ষোলো বছরের। এই দীর্ঘ সময় এক টাকায় শিঙাড়া-পেঁয়াজু বেচতে বেচতে এক টাকার শিঙাড়াওয়ালা হিসেবে আমার একটা পরিচিতি হয়ে গেছে। এক টাকার কথা শুনে কৌতূহলের বশে দূর থেকেও অনেকে ছুটে আসে। শেষ বয়সে এগুলোর দাম বাড়ালে পরিচিতি এবং সুনাম দুটোই নষ্ট হবে। তাই দাম বাড়াইনি।'ক্রেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'বর্তমানে ৫ টাকার নিচে ফকির-মিসকিনও ভিক্ষা নেয় না। সেখানে উনি এক টাকার দামের শিঙাড়া পেঁয়াজু বিক্রি করছেন। দাম কম থাকলেও ওনার খাবার অনেক সুস্বাদু। তবে লকডাউন থাকায় বিক্রি কমেছে।'স্থানীয় বাসিন্দা কাজী রতন বলেন, 'বিশ-পঁচিশ বছর আগেও দেখেছি প্রদীপ নিজের তৈরি মুড়ি ভাজা গ্রামে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতেন। এক যুগের বেশি সময় ধরে সে এক টাকার শিঙাড়া-পেঁয়াজু বিক্রি করছে। দাম কম থাকলেও এগুলোর মান খুবই ভালো।'আব্দুর রহমান নামের এক বৃদ্ধ জানান, 'এক টাকায় শিঙাড়া বেচে প্রদীপ এখন এক টাকার শিঙাড়াওয়ালা হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। বাজারের জিনিসপত্রের দাম বাড়লেও এত অল্প টাকায় শিঙাড়া বিক্রি করে ঈশ্বরগঞ্জের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে প্রদীপ।' | 6 |
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির আবেদন ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হবে। গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এ বিষয়ে প্রকৌশলী বলেন, জিএসটি গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষা-২০২০-এ ফলাফলপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের যবিপ্রবির ://. . . ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন করতে হবে। ওই একই লিংকে অনলাইনে আবেদন পদ্ধতি এবং অনুষদ ও বিভাগ কর্তৃক আরোপিত পৃথক শর্তসমূহ পাওয়া যাবে। শিক্ষার্থীরা ১০ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে ২৮ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদনের সুযোগ পাবেন।ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ জিএসটি গুচ্ছভুক্ত নয় বিধায় এই বিভাগের ক্ষেত্রে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পৃথক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন ও ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষায় ২০১৯ ও ২০২০ সালে যেকোনো বিভাগ থেকে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় পাসকৃত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।প্রকৌশলী আরও বলেন, এ বছর সাতটি অনুষদের অধীনে ২৬টি বিভাগে মোট ৯৬০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই আসনগুলো ছাড়াও মোট আসনের মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ও যবিপ্রবিতে কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য পোষ্য কোটা সংরক্ষিত থাকবে। আর নতুন বছরের ২৫ জানুয়ারিতে একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টশন ও ক্লাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।এ ছাড়া ভর্তিসংক্রান্ত সব তথ্য ... ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। | 1 |
গ্রামাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম লক্ষ্য হলো গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে যারা সরাসরি খেতে-খামারে, বিলেঝিলে কাজ করেন, তাঁদের কল্যাণের জন্য কিছু করা।আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে তিন দিনব্যাপী অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের শেষ দিনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, 'কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর জন্য আমরা গর্ববোধ করি। আমি যখনই গ্রামে যাই, তখন রাস্তায় কমিউনিটি ক্লিনিকে নামি, ভেতরে ঢুকি, তাঁদের কার্যক্রম দেখি। আমার কাছে খুবই জীবন্ত মনে হয়। এগুলোর মাধ্যমে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা আমরা পৌঁছে দিতে পেরেছি। অসুস্থ হলেই মানুষকে এখন আর শহরে দৌড়াতে হয় না। পাশের কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়েই জরুরি সেবাসহ নানা রকমের ওষুধ সেখানে তাঁরা পান। আমি আমার গ্রামের চেয়ারম্যান, মেম্বার, মাতুব্বরদের সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, তাঁরা সব সময় কমিউনিটি ক্লিনিককে উচ্চ মার্ক দেন।'এম এ মান্নান বলেন, 'আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে আরও বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। যদিও সেখানে জায়গা কম, ছোট দুইটা রুম, তবু প্রতিটিতে আরও একাধিক শয্যা, প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা ও রোগ শনাক্তের জন্য কিছু যন্ত্রপাতি বিশেষ করে এক্স-রে, ইসিজি-জাতীয় কিছু যোগ করা যায় কি না, এগুলো আমাদের চিন্তা করা দরকার।'কমিউনিটি ক্লিনিকের মানোন্নয়নে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করবেন বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। | 6 |
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, 'শাহজালালের ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন করছেন, আমরা তাতে সংহতি ও একাত্মতা পোষণ করছি। ফরিদ উদ্দিনের পদত্যাগের সঙ্গে অন্য যে ভিসিরা পদত্যাগের ইচ্ছা পোষণ করেছেন, তাঁরাও পদত্যাগ করুক, তাঁদের ইচ্ছার বাস্তবায়ন হোক।' বুধবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাদদেশে শাহজালালের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন আনু মুহাম্মদ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা শিক্ষকদের সঙ্গে অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন। আনু মুহাম্মদ বলেন, যে সমস্যা সমাধানের দাবিতে শাহজালালের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেছিলেন, তেমন সমস্যা দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। এ সমস্যা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও আছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাইনিংয়ের খাবার খেয়ে ছাত্রছাত্রীরা যে পুষ্টি পান, তার মান 'চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে'। এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা কতটা শিক্ষার পক্ষে ও কতটা শিক্ষার বিপক্ষে কাজ করেছেন, তা খতিয়ে দেখতে আহ্বান জানান। নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, একটা সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ঢুকলে উপাচার্যরা কঠোর হাতে তা নিষেধ করতেন। এখন উপাচার্যরা নিজেদের রক্ষা করতে পুলিশ ও সরকারের পেটোয়া বাহিনী ছাত্রলীগকে ব্যবহার করেন। এত কিছুর পরও শাবির শিক্ষার্থীরা আন্দোলন জারি রাখতে পেরেছেন, এটাই সফলতা। দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, ফরিদ উদ্দিন আহমেদের গদি টিকিয়ে রাখার জন্য শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্নভাবে চেষ্টা করছেন, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান, গবেষণা কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের করা যায়, সে ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রীকে কখনো কিছু বলতে শোনা যায়নি। প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বৈরতন্ত্র, দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি চলছে। সে ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী কোনো পদক্ষেপ নেননি। কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক জীবন খন্দকার, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি প্রমুখ। | 6 |
নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল শপথ নেওয়ার পর 'আগামী নির্বাচনে আইনের মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা'র অঙ্গীকার করে বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে 'সমঝোতা সৃষ্টির' অনুরোধ করবেন। সুন্দরভাবে নির্বাচনটা করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চুক্তির কথাও তিনি বলেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের সময় সম্ভবত তিনি ভুলে গিয়েছিলেন যে তাঁর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় অর্ধেকই অংশ নেয়নি। তারা ওই বাছাই প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন দলের পছন্দকে বৈধতা দেওয়ার প্রক্রিয়া বলে অভিহিত করেছিল। আগের দুটি কমিশনের সঙ্গে নতুন কমিশনের ফারাক বিচার করলে যে বিষয় অবশ্যই বলতে হবে, তা হলো আউয়াল কমিশন গঠিত হয়েছে আইন অনুসারে, কিন্তু অনুসন্ধান প্রক্রিয়া ছিল বর্জনপীড়িত; বিপরীতে আগের দুটি কমিশন হয়েছিল আইন ছাড়াই, কিন্তু অনুসন্ধান প্রক্রিয়া ছিল অংশগ্রহণমূলক। বাছাই প্রক্রিয়ায় বিরোধীদের অনাস্থা ও অংশগ্রহণে অস্বীকৃতির কারণে কয়েকজন তাঁদের নাম প্রস্তাবিত তালিকায় না রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল। কেননা, তাঁরা পক্ষপাতের অভিযোগে বিতর্কিত হওয়ার ঝুঁকি নিতে চাননি। নতুন কমিশনে যাঁরা দায়িত্ব নিয়েছেন, স্পষ্টতই তাঁদের কাছে সে রকম কিছু মনে হয়নি। অন্য কমিশনাররাও যদি সিইসির মতো নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার অপরিহার্যতা সমর্থন করেন, তাহলে মানতেই হবে, তাঁরা সবাই ঘোড়ার আগে জুড়ে দেওয়া গাড়িতে সওয়ার হয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে নির্বাচন কমিশন কী ধরনের সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে পারে, তার যে ইঙ্গিত হাবিবুল আউয়াল দিয়েছেন, বিরোধীদের উদ্বেগও সেই বিষয়ে। নির্বাচনকালীন সরকারের প্রশ্নটিকেই তাঁরা প্রধান বলে গণ্য করছেন। বিরোধী দলের এই অবস্থান সম্ভবত সবচেয়ে ভালোভাবে উঠে এসেছে নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার কথায়। তাঁর কথায় অন্য কাউকে প্রধানমন্ত্রী করে যদি শেখ হাসিনাও সিইসি হন, তাহলে তিনিও তখনকার সরকারের ইচ্ছার বাইরে কোনো নির্বাচন করতে পারবেন না। আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে সব সময় প্রতিপক্ষ হিসেবে যাঁরা উঠে আসেন, সেই বিএনপির নেতারা নতুন কমিশনকে শুধু প্রত্যাখ্যানই করেই ক্ষান্ত হননি; তাঁরা বলেছেন, তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার এবং সেই সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে। বিএনপি ও তার মিত্র ছাড়াও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মতো বামপন্থী এবং ইসলামী আন্দোলনের মতো ডানপন্থী আরও কয়েকটি দল নতুন কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের প্রশ্নটিকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। নতুন কমিশনের সমালোচনায় সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে যে বিষয়, তা হচ্ছে কমিশনে আমলাদের প্রাধান্য। আমলাদের প্রশ্নটি গুরুত্ব পাওয়ার কারণ তাঁদের কর্মজীবন কাটে প্রধানত স্বাধীনভাবে কাজ করার চেয়ে রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালনে। যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁরা সবাই বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের অধীন কাজ করেছেন, পদোন্নতি পেয়েছেন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন। রকিব কমিশন ও হুদা কমিশন গঠনের সময়েও এই আনুগত্যের বিষয়টিই যে প্রধান বিবেচ্য ছিল, তা নিয়ে খুব একটা বিতর্কের অবকাশ নেই। অনুসন্ধান কমিটির সঙ্গে আলোচনায় রাজনৈতিক দল ও নাগরিক প্রতিনিধিরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন যে বিষয়ের ওপর, তা ছিল কোনো সরকারের সুবিধাভোগী বা বিরাগভাজন হওয়া কাউকে যেন কমিশনের জন্য সুপারিশ করা না হয়। নতুন সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়ালের নিয়োগে ওই দাবির একেবারেই উল্টোটা ঘটেছে। প্রতিরক্ষাসচিব হিসেবে তিনি তাঁর রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ প্রতিরক্ষামন্ত্রী তথা প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে না পারলে নিশ্চয়ই পরপর দুবার তাঁর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সম্ভব ছিল না? আইন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব গ্রহণ দেশের সর্বোচ্চ আদালতে অবৈধ ঘোষিত হওয়া এবং দুজন বিচারকের বিধিবহির্ভূত অবসরের বিষয়ে দায় স্বীকার করে সংসদীয় কমিটির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর প্রশাসনে তাঁর উন্নতি অব্যাহত থাকার আর কোনো ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে কি? প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। পদোন্নতির ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য প্রধান বিবেচ্য হওয়ার অভিযোগ অনেক দিনের এবং আনুগত্যের পুরস্কার হিসেবে সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবের আধিক্যের কথাও সবারই জানা। জ্যেষ্ঠ সচিব পদে পদোন্নতি, অবসরের পর বিভিন্ন কমিশন বা আধা সরকারি সংস্থায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে বিশেষ সুবিধা ছাড়া আর কী বলা যায়? এই পটভূমিতে আমলাদের বাইরে নিয়োগপ্রাপ্ত একমাত্র কমিশনার হলেন সাবেক জেলা আদালতের বিচারক রাশিদা সুলতানা। তবে আমাদের নিম্ন আদালতের স্বাধীনতাও প্রশ্নাতীত নয়। রাজনৈতিক সরকার ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ বা অসহযোগিতা স্বাধীনভাবে দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করার মতো দুরূহ কিছু তাঁদের কাছে প্রত্যাশা করা কঠিন। অনুসন্ধান কমিটি কমিশন গঠনের জন্য জমা পড়া তিন শতাধিক নামের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করলেও কে কার নাম প্রস্তাব করেছে, তা প্রকাশের দাবি অগ্রাহ্য করেছে। ফলে একধরনের ধূম্রজাল থেকেই গেছে। এখন নানা সূত্রে জানা যাচ্ছে, কমিশনে যাঁরা নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের নাম এসেছে ক্ষমতাসীন জোটের শরিকদের প্রস্তাবে। সমকাল জানিয়েছে, নতুন সিইসির নাম প্রস্তাব করেছেন ক্ষমতাসীন জোটের দুই শরিক তরীকত ফেডারেশন ও বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল। এর বাইরে এনপিপি নামের একটি দল, যারা বিএনপির সঙ্গ ছেড়ে সরকারকে সমর্থন দিয়েছে, তারাও তাঁর নাম প্রস্তাব করেছিল। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুদা কমিশন গঠনের সময় আওয়ামী লীগ তাদের ছোট শরিক তরীকত ফেডারেশনকে দিয়ে নিজেদের পছন্দের নাম প্রস্তাব করিয়েছিল। এবারও জোটসঙ্গীদের প্রক্সি হিসেবে ব্যবহার করার কথা একাধিক পত্রিকায় বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ এবং তার মিত্ররা কেন কোন নাম প্রস্তাব করেছে, এর বিবরণ প্রকাশে বাধা দিয়েছে, প্রক্সি ব্যবহারের তরিকা অনুসরণে তার সম্ভাব্য ব্যাখ্যা মেলে। আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা করে বলেছে, এই কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হবে। ঠিক তার উল্টো বলেছে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি। এমনকি, ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী শরিক সংসদীয় বিরোধী দল জাতীয় পার্টিও নতুন কমিশনকে আওয়ামী লীগের পছন্দের বলে অভিহিত করেছে। ফলে নতুন সিইসি যে রাজনৈতিক সমঝোতা আশা করছেন, তা অর্জিত না হলে তিনি কী করবেন, সে কথাও আমাদের জানা প্রয়োজন। মানবাধিকার প্রশ্নে র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সামাল দিতে আমরা যখন পেরেশান, তখন নির্বাচন নিয়ে নতুন কোনো বিপত্তি সৃষ্টির ঝুঁকি এড়ানো প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন মানবাধিকারের মতো গণতন্ত্রের প্রশ্নেও এখন নিষেধাজ্ঞার হাতিয়ার প্রয়োগ করতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান না পাওয়ায় সোমালিয়ার সরকার পার্লামেন্ট নির্বাচন করতে না পারায় ২৫ ফেব্রুয়ারি দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর আগে নিকারাগুয়ার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাধা সৃষ্টির জন্য অর্থনৈতিক ও ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়টিকে উপেক্ষা করা বা তা ঝুলিয়ে রেখে সময়ক্ষেপণ কোনোভাবেই সমীচীন নয়। কামাল আহমেদ সাংবাদিক | 8 |
ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়েশুক্রবারসূচনা ঘটেছে শারদীয় দুর্গোৎসবের। এদিন দুর্গতিনাশিনী দেবীর অধিষ্ঠান, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্বজনীন উৎসবেরমূল আনুষ্ঠানিকতা। প্রথম দিন শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। সন্ধ্যা ৭টায় বনানীর পূজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের প্রথম দিনে শুক্রবার ষষ্ঠী তিথিতে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর অধিষ্ঠান হয়। সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে ছিল ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা। এ সময় বেলতলা কিংবা বেলগাছের নিচে দেওয়া হয় ষষ্ঠীপূজা। সন্ধ্যায় দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস ছাড়াও সব মণ্ডপে পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ আরতির আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় বিশেষ আলোকসজ্জাসহ অনেক মণ্ডপে বিশেষ প্রার্থনা ও সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উৎসবের দ্বিতীয় দিনে শনিবার মহাসপ্তমী। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদানের পর সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ, স্থাপন, সপ্তম্যাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এভাবে উৎসব চলবে আগামী মঙ্গলবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে দেশজুড়ে এখন আনন্দ ও উৎসাহ-উদ্দীপনার আবহ। শুক্রবার ঢাকা মহানগরীর ২৩৭টিসহ সারাদেশের ৩১ হাজার ৩৯৮টি পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয় দুর্গাপূজা। হিন্দুদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষও যোগ দেওয়ায় এ উৎসব সর্বজনীন রূপ নিয়েছে। সারাদেশের মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাকের বাদ্য, শঙ্খ আর উলুধ্বনির শব্দ দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমনের জানান দিচ্ছে। পূজার মন্ত্রোচ্চারণ, আরতি আর মাইকের আওয়াজে এখন মাতোয়ারা সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলো। পূজা ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে সারাদেশে। প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ, আনসার-ভিডিপির পাশাপাশি কোথাও কোথাও নিযুক্ত আছে র্যাব-বিজিবি সদস্য। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের সতর্ক পাহারাও আছে। অনেক মণ্ডপে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরে কড়া তল্লাশির মধ্য দিয়ে মণ্ডপে প্রবেশ করতে হচ্ছে দর্শনার্থীদের। এতসব কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছেদ পড়েনি পূজার আনন্দমুখরতায়। শুক্রবার পূজা শুরু হলেও রাজধানী ঢাকার মণ্ডপগুলোতে ভক্ত-দর্শনার্থীর ভিড় তেমন একটা দেখা যায়নি। আয়োজকরা জানান, শনিবার মহাসপ্তমীতে দর্শনার্থীর ভিড় কিছুটা বাড়তে পারে। রোববার মহাষ্টমী থেকেই মূলত মন্দিরে ও মণ্ডপে ভক্ত ও দর্শনার্থীর ঢল নামবে। কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব বলে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনের মণ্ডপের সামনে বিশাল প্যান্ডেল ছাড়াও মন্দিরকে সাজানো হয়েছে নতুন রং, সাজ ও আলোকসজ্জায়। এখানে পুলিশের বিশেষ কন্ট্রোল রুমের পাশাপাশি পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করেছে। বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। সকাল ও সন্ধ্যায় ষষ্ঠীপূজার নানা আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি সন্ধ্যায় ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এখানে। পূজা শেষে অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ আরতি ছিল উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ। পূজার পাশাপাশি মেলাঙ্গন চত্বরে আয়োজিত হচ্ছে মেলা। একই অবস্থা গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ পূজামণ্ডপেও। আকর্ষণীয় প্রতিমার পাশাপাশি মণ্ডপসহ সংলগ্ন এলাকাকে বর্ণাঢ্য সাজ ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল পূজামণ্ডপেও দুর্গাপূজা শুরু হয় সাড়ম্বড়ে। রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রমের মণ্ডপে সন্ধ্যায় গত বছরের প্রতিমা মন্দিরের পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়। মণ্ডপসহ পুরো প্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে বাহারি সাজে। হিন্দু অধ্যুষিত পুরান ঢাকার অলিগলিতেও উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ-সংলগ্ন বনানী পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে গুলশান-বনানী পূজা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১২ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, ড. বীরেন শিকদার এমপি, একেএম রহমতউল্লাহ এমপি, জয়া সেনগুপ্ত এমপি, আকবর হোসেন পাঠান ফারুক এমপি, ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার বিশ্বদীপ দে প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রাজারবাগের বরোদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির ও শ্মশান কমিটির পূজামণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির, শাঁখারীবাজারের প্রতিদ্বন্দ্বী পূজামণ্ডপ, পান্নিটোলা, জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দির, অভয় দাস লেনের ভোলানন্দগিরি আশ্রম, রাধিকা বসাক লেন, নবেন্দ্র বসাক লেন, ঢাকেশ্বরীবাড়ী, টিকাটুলীর প্রণব মঠ, ঠাঁটারীবাজার পঞ্চানন শিবমন্দির, সূত্রাপুরের ঋষিপাড়া গৌতম মন্দির, বনগ্রাম তরুণ সংসদ, উত্তর মৈশুণ্ডী, ফরাশগঞ্জ জমিদারবাড়ি এবং বিহারীলাল জিও মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দির ও মণ্ডপে উৎসবের আমেজে দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। | 6 |
জুয়াড়ির দেওয়া প্রস্তাব গোপন করার অপরাধে আইসিসির এক বছরের নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এ কারণে ক্রিকেট থেকে দূরে রয়েছেন তিনি। দেশের সেরা এই ক্রিকেটার অবশ্য সময়টা বৃথা অপচয় না করে পরিবারকে সময় দিচ্ছেন। বছরের বেশিরভাগ সময় খেলা থাকার কারণে পরিবারের সঙ্গে থাকার সুযোগ হয়ে ওঠে না। তাই অবসরের এই সময়টুকু পুরোটাই পরিবারের সঙ্গে কাটাচ্ছেন সাকিব। বিসিবির পক্ষ থেকে সাকিব পরিবারকে বিমানবন্দরে বিদায় জানান লজিস্টিক সাপোর্টের জন্য সকলের প্রিয়ভাজন ওয়াসিম খান। তিনি সাকিবের সঙ্গে একটি ছবিও পোস্ট করেছেন সোশ্যাল সাইট ফেসবুকে। এর আগেও ওমরাহ করা, ভারত যাওয়াসহ নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছেন সাকিব। জাতীয় দলের পাশাপাশি বিশ্বের সকল ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে বেড়ানো সাকিব এবার গেলেন আরব আমিরাতে। তবে সেখানে কয়দিনের জন্য ছুটি কাটাবেন তা জানা যায়নি। এদিকে সাকিব বিহীন বিপিএল দেখতে অনেকটাই অচেনা লাগছে দর্শকদের। বিডি প্রতিদিন/কালাম | 12 |
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) স্নিগ্ধ সবুজ অরণ্যের সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। পবিত্র রমজান মাসে ইফতার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনার স্তূপে এখন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থান। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন থাকলেও সেগুলো ব্যবহার না করে বহিরাগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলছেন। এতে পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ বন্ধের পর রমজান মাসে বিশ্ববিদ্যালয় খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এতে খোলা থাকে আবাসিক হলগুলো। ফলে রমজান মাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের সমন্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ইফতার মাহফিলের এক অনন্য দৃশ্যের দেখা মেলে। বিকেল হতেই ক্যাম্পাসের ক্রিকেট মাঠ, জিমনেশিয়াম ও পেয়ারাবাগানে খোলা আকাশের নিচে সবাই বসে পড়েন। তবে ইফতারের পর প্লাস্টিকের প্লেট, গ্লাস, নোংরা পানি, বেঁচে যাওয়া অতিরিক্ত খাবার ও বিভিন্ন ফলের অংশ যত্রতত্রভাবে ফেলে প্রায় সবাই চলে যান। এতে জমছে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। আর আবর্জনার স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রানা আহমেদ অভি বলেন, 'পবিত্র মাসে সবার মিলনমেলা এক অনন্য যোগসূত্র সৃষ্টি করেছে এই বাহারি ইফতারের আয়োজন। ইফতার আয়োজন শেষে ময়লা প্লেট, গ্লাস ও অনন্য খাবার ফেলার নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। ইতিপূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউটের উদ্যোগে একবার পরিচ্ছন্ন অভিযান হয়েছিল। কিন্তু প্রতিদিন ইফতারের আয়োজন থাকায় এবং প্রশাসনের সঠিক পরিচ্ছন্ন অভিযান না থাকায় ক্রিকেট মাঠের বিভিন্ন অংশে ময়লা-আবর্জনা জমে ভাগাড় হয়ে উঠেছে।'পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েস ইবি শাখার সভাপতি মখলেসুর রহমান সুইট বলেন, 'আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে ক্রিকেট মাঠ। অল্প কিছু ডাস্টবিন ও বর্জ্য ফেলার জায়গা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য ধরে রাখা যাবে।'এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টিপু সুলতান বলেন, 'আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ইফতার করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন তো পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের এই নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা আছে। খুব শিগগির একটা অভিযান চালানো হবে। ক্যাম্পাসে যত ময়লা-আবর্জনা রয়েছে, সবকিছু পরিষ্কার করে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্রিকেট মাঠের পুরোনো বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনব। এ ছাড়া সামনে আমাদের আরও ডাস্টবিন ও ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা বাড়ানো পরিকল্পনা আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা পেলে ঈদের পরে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বহিরাগত সবাইকে সচেতন হতে হবে।' | 6 |
নদীভাঙনে প্রতিবছর বিলীন হয় বসতবাড়ি, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ফসলি জমি। নিঃস্ব হয় হাজার হাজার মানুষ। দুঃখ তাঁদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দেখা দেয়। নদীভাঙন রোধে সরকার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।চলছে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ। দ্রুতই এর উদ্বোধন করা হবে। এই নদী রক্ষা বাঁধে পদ্মাপারের মানুষের মনে এনে দিচ্ছে স্বস্তি। তবে এই বাঁধ শুধু ভাঙন ঠেকানো কাজে সীমাবদ্ধ থাকছে না, দৃষ্টিনন্দন নদী রক্ষা বাঁধে বিকেল থেকে দর্শনার্থীদের ভিড় শুরু হয়। বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিতে দেখা যায় স্থানীয়দের। আশপাশের জেলা থেকেও অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসছেন ঘুরতে। পড়ন্ত বিকেলে পদ্মাপারের উন্মুক্ত পরিবেশ আর নয়নাভিরাম দৃশ্য আকৃষ্ট করছে দর্শনার্থীদের। চাঁদনি রাতেও ভিড় থাকে এখানে। দর্শনার্থীদের আনাগোনা দেখে স্থানীয় প্রশাসনকে নতুন করে ভাবাচ্ছে। পর্যটকদের কথা ভেবে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা তাঁদের।তবে পৌরসভার মেয়র বলছেন, নদী রক্ষা বাঁধকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের কথা ভেবে গড়ে তোলা হবে পার্ক।জানা গেছে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাঁশতলা, মুলফৎগঞ্জ, কেদারপুর, চণ্ডীপুর, সুরেশ্বর ভাঙনকবলিত এলাকা। প্রতিবছরই নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে হাজারো মানুষের বেঁচে থাকার শেষ সম্বলটুকু।শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, শুধু ২০১৮ সালে এসব এলাকায় সাড়ে ৫ হাজার পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়। নদীগর্ভে বিলীন হয় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট, হাটবাজার, ফসলি জমি, মসজিদ-মন্দির, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান।ভাঙন-আতঙ্কে হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র আশ্রয় নেয়। বর্ষায় পদ্মাপাড়ের মানুষের মধ্যে ভাঙন-আতঙ্ক দেখা দেয়। ক্ষমতাসীন সরকার নড়িয়া ও সখীপুরের উন্নয়নের লক্ষ্যে ৫০ বছরের নদীভাঙন রোধসহ উন্নয়নের মেগা প্রকল্প গ্রহণ করে। ইতিমধ্যে নড়িয়া-জাজিরার পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীতীরবর্তী ১০টি স্থানে সিসি ব্লক নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজের শুরু থেকে বদলে যেতে শুরু করেছে দৃশ্যপট। বেড়িবাঁধের পাশ দিয়ে গড়ে উঠছে অট্টালিকা, বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বাঁধের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে নির্মাণ করা হয়েছে রিভার ড্রাইভ। সোডিয়াম লাইটে দূর হয়েছে আঁধার। দর্শনার্থীদের জন্য তৈরি হয়েছে রেস্টুরেন্ট। পদ্মার কোল ঘেঁষে প্রায় ৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের জায়গায় বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে সড়কপথ। নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্ট থেকে জাজিরার বিলাসপুর এলাকা পর্যন্ত সড়কপথ নির্মাণ করা হয়েছে। নদী রক্ষা বাঁধকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।নড়িয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় বেড়াতে আসা ফিরোজ মিয়া বলেন, 'ইতালি থেকে দেশে এসেছি কয়েক দিন আগে। শরীয়তপুরে বেড়ানোর মতো ভালো কোনো পর্যটনকেন্দ্র নেই। এ বাঁধের কথা শুনে এখানে এসেছি। এখানের দারুণ পরিবেশ ও প্রকৃতি বেশ উপভোগ্য।'ঘুরতে আসা নড়িয়া কলেজের শিক্ষার্থী তাবাসসুম বলেন, 'আশপাশে খাবারের রেস্তোরাঁ থাকলে ভালো হতো। এ ছাড়া বাঁধজুড়ে বেশ কয়েকটি বসার বেঞ্চ বানানো দরকার। এখানের বিকেল ও সন্ধ্যার দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। তাই পরিকল্পনা করে যদি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা যেত, তা হলে খুবই ভালো হতো।'জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব বলেন, 'সুরেশ্বর পয়েন্ট থেকে নড়িয়া লঞ্চঘাট পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ প্রায় শেষ। অল্প কিছু দিনের মধ্যে এর উদ্বোধন করা হবে। পাশাপাশি ওয়াকওয়ের (হাঁটার পথ) কাজ চলছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন করতে পারব। সোডিয়াম লাইট বসানোর কাজ চলছে। বেড়িবাঁধের সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।'পদ্মার ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও নড়িয়া পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, তার সবকিছুই এই বেড়িবাঁধে থাকবে। বেড়িবাঁধের পাশে ঝাউগাছ লাগানো হবে। পাবলিক টয়লেট। নড়িয়া পৌরসভা থেকে বেড়িবাঁধের পাশে একটা খালি জমি বের করে পর্যটকদের জন্য পার্ক নির্মাণ করা হবে।' | 6 |
চট্টগ্রাম বন্দর উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শহরে নতুন একটি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপন হচ্ছে। এটি স্থাপনে এরই মধ্যে সাইফ লজিস্টিক অ্যালায়েন্স লিমিটেড ও রেলওয়ের কোম্পানি সিসিবিএলের মধ্যে চুক্তিও সই হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় সিসিবিএল পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন এবং সাইফ লজিস্টিক অ্যালায়েন্স লিমিটেডের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানবীর রুহুল চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। | 6 |
এ বছরের ডিএসসি দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন 'হাফ দ্য নাইট ইজ গন' উপন্যাসের লেখক অমিতাভ বাগচি। পুরস্কার হিসেবে তিনি পেয়েছেন পদক ও ২৫ হাজার মার্কিন ডলার। সোমবার পোখরায় আইএমই নেপাল সাহিত্য উৎসবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গাইওয়ালি এবং ডিএসসি পুরস্কার এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সুরিনা নারুলা এ সম্মাননা তুলে দেন অমিতাভ বাগচির হাতে। উল্লেখ্য, ২০১১ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। প্রতি বছর ডিএসসি দক্ষিণ এশীয় সাহিত্য পুরস্কার তালিকাভুক্ত দেশগুলোর একটিতে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিডি-প্রতিদিন/শফিক | 3 |
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় মো. নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির বসতভিটা দখল করতে তাঁর পরিবারকে 'একঘরে' করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। নুরুজ্জামানের বাড়ি উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের পশুপতিপুর গ্রামে। এ গ্রামেরই মাতব্বর শফিকুল ইসলাম ওরফে হোসেন তাঁকে একঘরে করে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মো. নুরুজ্জামান।গ্রামের বাসিন্দারা জানান, শফিকুলের ভয়ে গ্রামের লোকেরা গত বছরের এপ্রিল থেকে নুরুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে মিশতে পারেন না। নুরুজ্জামানের ছেলে হাফেজ মো. গোলাম সারওয়ার পশুপতিপুর জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন। শফিকুল ফতোয়া দিয়েছেন যে, হাফেজ সারওয়ারের পেছনে নামাজ হবে না। সারওয়ারকেও এখন মসজিদে ইমামতি করতে দেওয়া হয় না।এ বিষয়ে মো. নুরুজ্জামান বলেন, শফিকুল ইসলাম আমাকে গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করে পুরো বসতভিটা দখলে নিতে চান। কৌশলে তিনি প্রতিবেশী কয়েকজনকে বুঝিয়েছেন যে, তাঁদের জমি আমার বাড়ির ভেতরে রয়েছে। এ ছাড়া শফিকুল আমার বসতভিটা জোরপূর্বক দখল করে চলাচলের জন্য একটি রাস্তা ও মসজিদ নির্মাণ করেছেন। গ্রামের লোকদের শফিকুল বুঝিয়েছেন যে, আমি মসজিদ ভেঙে দিতে চাই। তাই আমার সঙ্গে মেশা যাবে না। এভাবে কৌশলে আমার পরিবারকে 'একঘরে' করে রেখেছেন।নুরুজ্জামান আরও বলেন, আমার আরেক ছেলে মো. বদিউজ্জামান গত ৩ ডিসেম্বর বাড়ির পাশে নিজের আলাদা বাড়ির কাজ করতে গেলে বাধা দেন শফিকুল ইসলাম। পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিয়ে বাড়ির কাজে হাত দিলে হাত-পা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন। বাধ্য হয়ে বদিউজ্জামান ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ছাড়া হত্যার হুমকির ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। তদন্তে পুলিশ এর সত্যতা পেয়েছে।নুরুজ্জামানের ছেলে হাফেজ মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, 'আমার পেছনে নামাজ হবে না এমন ফতোয়া দিয়ে শফিকুল গত রমজান মাসে আমাকে মসজিদ থেকে বের করে দেন। তারপর থেকে তিনি গ্রামের কোনো মানুষকে আমাদের পরিবারের সঙ্গে মিশতে দেন না। শফিকুল কলেজের শিক্ষক ছিলেন বলে সবাই তাঁর কথা শোনেন। আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। আমাদের হয়তো ভিটেমাটি ছেড়ে চলেই যেতে হবে।'পরিবারটিকে একঘরে করে রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, এটা তো সামাজিক ব্যাপার। আমার একক ক্ষমতা আছে নাকি?কেন একঘরে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মসজিদ নিয়ে একটা বিবাদ আছে। নুরুজ্জামান তাঁর ছেলেদের নিয়ে মসজিদ চালানোর চেষ্টা করেছিল। সর্বসাধারণ বসে তাঁদের বাতিল করে মসজিদ চালাচ্ছেন। তাঁদের হীন উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি বলে এসব কথা বলে বেড়াচ্ছে। বসতভিটা দখল কিংবা চাঁদা দাবির অভিযোগ সত্য নয়।মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন বিষয়গুলো জানেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মসজিদ নিয়ে গ্রামের মানুষদের সঙ্গে নুরুজ্জামানের দ্বন্দ্ব আছে। মানুষ চলাচলের জন্য নুরুজ্জামানের একটু জায়গাও চায়। আমিও একটু জায়গা দেওয়ার জন্য বলেছি। কিন্তু তাঁরা দেয়নি। নুরুজ্জামানের ছেলে গ্রামবাসীর ওপরে মামলা করেছেন। এ কারণে সবাই ক্ষিপ্ত। তাই এ রকম জটিলতা শুরু হয়েছে। তাঁরা ইউনিয়ন পরিষদে একটা অভিযোগও দিয়েছেন। তারিখ পড়লে বিষয়টা দেখা হবে। | 6 |
সামনে বিরাটকায় দেয়াল। সুপ্রশস্ত রাস্তা সফলভাবে লম্বচ্ছেদ করে দেওয়া সেই দেয়াল আবার নিরেট নয়। মেট্রোরেলের কাজের জন্যই এই আড়ালের ব্যবস্থা; বেশ ফাঁকফোকর আছে। এই ফাঁকফোকর দিয়ে হঠাৎ হঠাৎ উঁকি দেয় 'মানি না', 'চাই', 'করতে হবে' শব্দগুলো। জায়গাটি রাজধানীর ঢাকার অতিপরিচিত স্থান জাতীয় প্রেসক্লাব, যা ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন এবং অতি অবশ্যই দাবিনামার এক অবিকল্প কোলাজে পরিণত হয়েছে।জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেই এখন যতটা যা সভা-সমিতির জ্যান্ত দশা দেখা যায়। সেই জ্যান্ত দশা দেখলে আর যা-ই হোক সভা বা সমাবেশ কোনোটাই করার ইচ্ছা জাগবে না; বরং বুকের ভেতরটা একটু হু হু করে উঠতে পারে। সামনে দিয়ে হুসহাস করে চলে যাচ্ছে বাস, গাড়ি। মাথার ওপর দুর্ভাবনার ছাতা হয়ে আছে মেট্রোরেলের কাঠামো। নির্মাণাধীন কাঠামোর নিচে বা পাশে দাঁড়িয়ে আর যা-ই হোক মন খুলে দাবি পেশ বা বিক্ষোভ প্রদর্শনও সহজ নয়।এই গত শুক্রবারেই (২০ মে) যেমন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়েছিলেন আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি, নাগরিক যুব ঐক্য, লেবার পার্টির নেতা-কর্মীরা। সড়কে দাঁড়িয়ে করা বিক্ষোভ সভা বা সমাবেশগুলোর দাবিনামায় ছিল দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, আউটসোর্সিং কর্মচারীদের বিষয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি, বাজার ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়। প্রেসক্লাবের ভেতরটাও তখন কিন্তু শান্ত ছিল না। সেখানে ছিল বেসরকারি শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি প্রেসক্লাবের হাড়-পাঁজর শত শত দাবির উচ্চারণ শোনে। কখনো কখনো কঠোর আন্দোলনের ডাকে কেঁপেও ওঠে হয়তো।জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক, তোপখানা রোড নামেই যাকে সবাই চেনে, তা কিন্তু বেশ প্রশস্ত (ছিল)। নাগরিক চাহিদায় এবং যানজট মুক্তির অভিপ্রায়ে সেই প্রশস্ত সড়ক এখন ব্যবচ্ছেদটি মেনে নিয়েছে। তার বুক ফুঁড়ে চলে যাবে দ্রুতগামী মেট্রোরেল; কোনো হুইসেল বাজবে কী? সে যাক, আর তো কয়েকটা দিন। এখন মাথার ওপর লোহালক্কড়, পেছনে প্রেসক্লাবের দারুণ ঐতিহাসিক ব্যাকড্রপ, সামনে বুক ব্যাদান করে দাঁড়ানো সড়ক বিভাজক এবং লোহার কাঠামো দিয়ে বানানো দেয়াল। এই দেয়াল আবার একটানা নয়। মাঝে আইনের মতোই ফাঁক আছে। সেই ফাঁক দিয়ে এপার থেকে ওপারের সব দাবিনামা পড়া যায় চাইলে। প্রেসক্লাবের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়ও অবশ্য পড়া যায়। তবে একটু দ্রুতগতিতে সরে যেতে হয়। কারণ, এখন দুই পাশের সড়কেই, এমনকি যানবাহনেরও যানজট ছাড়া দুদণ্ড দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।ফলে চলে যেতে হবে। হয় পেছনে হাইকোর্ট রেখে সোজা পুরানা পল্টনের দিকে, নয়তো পুরানা পল্টন থেকে হাইকোর্টের দিকে। উভয় ক্ষেত্রেই মহান সচিবালয় সাক্ষী হয়ে পাশে থাকবে! যে পাশ থেকেই যাওয়া হোক না কেন, চোখে পড়ুক বা না পড়ুক, কানে এসে লাগবেই কারও না কারও কণ্ঠ। কেউ না কেউ, তখন দারুণ আবেগে পড়ে যাচ্ছেন তাঁর বা তাঁর সংগঠনের দাবিনামা। এই দাবিতে মন ঠিকমতো বাঁধার আগেই কানে এসে লাগবে হয়তো সরকারের প্রশস্তিগাথা। আবার তা হজম হওয়ার আগেই হয়তো শুনতে থাকবেন কঠোর আন্দোলনের ডাক। বলার অপেক্ষা রাখে না এই যাবতীয় দাবি ও প্রশস্তিগাথা হেঁটে পার হতে সময় লাগবে ৫ থেকে ৮ মিনিট। আর অন্য বাহনে তো কথাই নেই।জাতীয় প্রেসক্লাব রাজধানী ঢাকার ছোট-বড় সংগঠনগুলোর বড় সহায়। এর ভেতর যতটা না, তার চেয়েও বেশি এর সংলগ্ন মূল রাস্তা। পল্টন ময়দান, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা, বায়তুল মোকাররম, মুক্তাঙ্গন ইত্যাদি-বিগত ঢাকায় ক্ষোভ ও সন্তোষ দুই-ই প্রদর্শনের একমাত্র কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই প্রেসক্লাব। এটা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। এ নিয়ে অবশ্য কারও কোনো আক্ষেপও নেই। দাবি উত্থাপন তো করা যাচ্ছে। জায়গাটা একটু সংকীর্ণ হয়ে গেল; এই যা। এ নিয়ে অহেতুক আক্ষেপ বা ক্ষোভ দেখানোর বদলে অন্য কত কী নিয়ে দেখানো যায়। তাই প্রতিদিনই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভিড় করে কিছু মানুষ। নানা উদ্দেশ্য তাদের। মোটাদাগে তাদের ব্যানার বা পোস্টার বা ফেস্টুনে লেখা থাকে 'মানি না', 'চাই', 'করতে হবে'-এর মতো শব্দগুলো। প্রেক্ষাপট বদল হয়, এই শব্দগুলোর সহশব্দও বদলে যায়। এখন যেমন এই সহশব্দের তালিকায় আছে 'ভোজ্যতেলের দাম', 'চাকরি স্থায়ীকরণ', 'বাক্স্বাধীনতা' ইত্যাদি। কিছুদিন আগে হয়তো ছিল গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন-ভাতার দাবি, ছিল জ্বালানি তেল বা পরিবহন ব্যয় কমানোর দাবি।আগে এই সভা-সমাবেশগুলোর সামনে কিছু মানুষ জড়ো হতো। রিকশাচালকেরা নতুন যাত্রী পাওয়ার আগে কিছুক্ষণ রিকশা থামিয়ে শুনতেন। পথচারীরা কিংবা যানজটে ঘামতে ঘামতে বাসের ভেতর থেকে উঁকি দিয়ে প্রবল ঔৎসুক্যে কান পেতে থাকত মানুষ। এমনকি রাষ্ট্রের হয়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরাও কি শুনতেন না? কী শুনতেন? দাবিনামায় তাঁদের জন্য কিছু আছে কি না, হয়তো তাই শোনার চেষ্টা করতেন তাঁরা। এখন সেই সুযোগও নেই। মেট্রোর কল্যাণে সড়কটি এতটাই সংকীর্ণ হয়েছে যে সেখানে কেউ আর দাঁড়িয়ে চলমান সভাগুলোর বক্তাদের বক্তব্য আলাদা করে শুনতে পান না। পরিসর ছোট হওয়ায় একই সময়ে সভা-সমাবেশ করা সংগঠনগুলোও বেশ গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়াচ্ছে এখন। একটা বেশ নৈকট্য হয়েছে বলা যায়, তবে তা মতে নয়, শরীরগতভাবে। ফলে কারও দাবি বা উচ্চারিত শব্দই আর আলাদা থাকছে না। একজনের কণ্ঠ গিলে খাচ্ছে আরেকজনের দাবি। যেমনটা চলছে সর্বত্র। আজকের এই জাতীয় প্রেসক্লাব যেন গোটা রাষ্ট্রেরই সারসংক্ষেপ হয়ে দৃশ্যমান, যেখানে নানা মতের মানুষের ভাষ্য এক মামুলি কোলাজে পরিণত হয়েছে, যেখানে পূর্ণ চিত্রের দেখা আর কেউ পাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ আর ধরতেই পারছে না, কে যে কেন কোথায় কী নিয়ে দাঁড়াচ্ছে। কার ব্যথা আসলে কী, মাত্রাই-বা কত? এই এক কোলাজের ভেতরে এসে তাবৎ ক্ষোভ পথ হারিয়ে ভুলে বসে আছে যেন। | 6 |
স্বপ্নবাজ মানুষেরা সীমাহীন স্বপ্নের ফেরি করে বেড়ান। তাঁরা নিজেদের আয়ু নিয়ে ভাবেন না। সীমিত সময়ের মধ্যেই আলো ছড়াতে চান চারপাশে। মৃত্যু অবধারিত জেনেও মানুষ, সমাজ আর দেশের প্রয়োজনে একের পর এক কল্যাণমুখী কাজ আর উদ্যোগে জড়িয়ে ফেলেন নিজেকে। ব্যক্তি আর পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে নিজেকে নিয়ে যান অন্য উচ্চতায়। আমাদের চারপাশের এমন ক্ষণজন্মা দুর্লভ মানুষদের একজন মো. নাছির উদ্দীন। ডেনিম পণ্য তথা জিনস রপ্তানির অন্যতম প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক গ্রুপ তথা প্যাসিফিক জিনসের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। সম্প্রতি তিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন। তিনি চলে গেছেন ঠিকই, তবে তাঁর দীর্ঘ জীবনের শ্রম-ঘাম, উদ্যম আর উদ্ভাবনী কর্মের স্মৃতিচিহ্ন থেকে গেছে অমলিন।১৯৫০ সালে চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া এ শিল্পোদ্যোক্তা জীবনের পথপরিক্রমায় যা করে গেছেন, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। ১৯৭০ সালে পড়াশোনা শেষ করে পারিবারিক আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় জড়িয়ে বৈচিত্র্যময় ব্যবসা ও উদ্যোগে সমৃদ্ধ করেছেন নিজেকে। স্টিল, লোহা, সিরামিক শিল্প এবং জাহাজভাঙা শিল্পসহ কত কিছু যে তিনি করেছেন! একপর্যায়ে তিনি ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনার অংশ হিসেবে ১৯৮৪ সালে এনজেডএন গার্মেন্টস, এনজেডএন ফ্যাশন ওয়্যার এবং ডায়মন্ড ফ্যাশন ওয়্যার (প্রা.) লি. নামে তিনটি পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তৈরি পোশাকশিল্পে পদার্পণ করেন।ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নাছির উদ্দীন ১৯৯৩ সালে চট্টগ্রাম ইপিজেডে প্যাসিফিক জিনস নামে অত্যাধুনিক তৈরি পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ওই ইপিজেডেই নিজের যোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণে একে একে ছয়টি শিল্পকারখানা স্থাপন করেন। তাঁর প্রতিটি শিল্পকারখানা উন্নত প্রযুক্তি, নান্দনিক শিল্পমান, পরিবেশবান্ধব কর্মপরিবেশের অনন্য নজির স্থাপন করে ক্রমেই এগিয়ে চলেছে। এসব কারখানার উৎপাদিত পণ্য চলে যাচ্ছে বিশ্বের ২৫টি দেশে। তাঁর প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৩৫ হাজারের মতো মানুষ কাজ করে জীবন নির্বাহ করছেন। সরকারও বিপুল রাজস্ব পাচ্ছে। বর্তমানে প্যাসিফিক জিনস গ্রুপ পোশাক রপ্তানি খাতে অনন্য অবদান রাখছে।কাজের স্বীকৃতি হিসেবে নাছির উদ্দীন ১২ বার জাতীয় রপ্তানি ট্রফি অর্জনসহ সরকারের বিজনেস পারসন অব দ্য ইয়ার এবং বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সিআইপি মর্যাদা পেয়েছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ইপিজেড ইনভেস্টরস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানসহ বহু সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। যুক্ত ছিলেন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও। এ কল্যাণকামী শিল্পোদ্যোক্তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। | 6 |
১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতির কবলে পড়েছে তুরস্ক। জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। এ পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান দেশটির পরিসংখ্যান এজেন্সির প্রধানকে বরখাস্ত করলেন। সেইসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে নৈতিক মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। পরিসংখ্যান এজেন্সি জানায়, মুদ্রাস্ফীতির হার হয়েছে ৩৬ দশমিক এক শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বিরোধী নেতারা মনে করেন, মুদ্রাস্ফীতির এই হারও কমিয়ে দেখানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, জীবনধারণের খরচ দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে। আগামী মাসে মুদ্রাস্ফীতির হার ঘোষণা করা হবে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেটা ৪৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সূত্র : ডয়চে ভেলে, রয়টার্স বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ
| 3 |
সারা দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ করে উন্মুক্ত স্থানে সকল ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। অথচ এ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে করা হয়েছে বিশাল সমাবেশ। প্রায় চার ঘণ্টা ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হলেও অধিকাংশেরই ছিল না মাস্ক, মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব। সরেজমিন দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তৈয়বপুর মাঠ এলাকায় সমাবেশ স্থলে দলে দলে মিছিল নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে। অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, "নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সময়ে হাজার লোক নিয়ে জনসমাগম করার প্রয়োজন ছিল না। এই সমাবেশের কারণে আমাদের এলাকায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ বেড়ে গেল। ঘরোয়াভাবে অল্প লোকজন নিয়েও তারা অনুষ্ঠানটি শেষ করতে পারতো। অথচ সেটা না করে চার পাঁচ হাজার লোকজন নিয়ে সমাবেশ করে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কাই করা হয়নি।" আশুলিয়া থানা সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর সদস্য ব্যারিস্টার ইমাম হাসান ভুঁইয়া বলেন, "সরকার আমাদের জন্য যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সেই বিধিনিষেধগুলো তখনই কার্যকর হবে, যখন সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষ সেই বিধিনিষেধগুলো মেনে চলবেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেই বিষয়গুলো তদারকি করবেন। যেভাবে সংক্রমণ বেড়ে চলছে এরকম পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন এই মুহূর্তে করা হয়। সেটি সেই এলাকার জন্য মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।" সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, "প্রজ্ঞাপনে সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ করে বলা হয়েছে, একশ জনের অধিক লোক নিয়ে কোনো সমাবেশ করা যাবে না। মন্ত্রী মহোদয় ও স্থানীয় থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানিয়েছি।" এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ফারুক হাসান তুহিন বলেন, "অনুষ্ঠানটি পূর্ব ঘোষিত ছিল। সে কারণেই এ বিধিনিষেধে আমরা অনুষ্ঠানটি বন্ধ রাখতে পারিনি । তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুইশত লোক নিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ করার হয়েছে।" সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা বলেন, "আজকে সাভারে কোভিড আক্রান্তের হার ৫০%। কোনো ধরনের পাবলিক সমাবেশ করতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছোট পরিসরে করার নির্দেশনা রয়েছে। যদি আমরা সচেতন না হই তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন মেনে এই ধরনের অনুষ্ঠান না করাই উচিত।" | 6 |
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির নামে মাইনাস তত্ত্বের 'অশুভ' চক্রান্ত চলছে। প্যারোল নিয়ে সরকারি মিশন সফল করতে ক্ষমতাসীনরা চতুর রাজনীতি করছে। খালেদা জিয়ার জীবন হুমকির মুখে ফেলে সুদূরপ্রসারী স্বার্থসিদ্ধির ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক পথে জামিনে মুক্তি চান। তার জামিনে আর বাধা দেবেন না। আদালতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন। তাহলেই খালেদা জিয়া আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে বেরিয়ে আসবেন। আইনকে তার নিজের গতিতে চলতে দিন। রিজভী বলেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে খুবই বিপর্যস্ত। তিনি হাত নাড়াতে পারছেন না, আর্থ্রাইটিসের ব্যথার কারণে পা নাড়াতে পারছেন না। তাকে সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। এখনও তার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসেনি। সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দেশে চরম নৈরাজ্য এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে। পুলিশ প্রশাসন সরকারকে পরোয়া করছে না। প্রতিদিন খুন, ধর্ষণ ও পাশবিক নিপীড়নসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা ঘটছে। শিশু, কিশোরী কিংবা বয়স্ক নারী কেউ নিরাপদ নন। সংবাদ সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবে রহমান শামীম, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল খালেক প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। | 9 |
রাঙামাটির কোতোয়ালি এলাকায় ২৮ মাস আগে এক আম ব্যবসায়ীকে খুনের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার আসামির নাম লাট্টুস চাকমা ওরফে এনজয় চাকমা (২২)। ওই ব্যবসায়ীর কাছে বেশি টাকা আছে ধারণা করে সেই টাকা হাতিয়ে নিতে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল তাঁকে। আজ শুক্রবার রাঙামাটি আদালতে আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানান পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান। পুলিশ জানায়, লাট্টুস চাকমার ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির পরিচয় লাট্টুস নিজেও জানেন না। শুধু এটুকু জানেন, তিনি আম ব্যবসায়ী। হত্যাকাণ্ডের দিন তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়। পুলিশও পরিচয় এখনো শনাক্ত করতে পারেনি। ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কোতোয়ালি থানার কল্যাণপুর পেট্রলপাম্পের পাশে একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর পুরো শরীর থেঁতলানো ছিল। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। প্রথমে লংগদু থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে লংগদু রনচ্ছড়া এলাকার দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আসামি লাট্টুস চাকমাকে আটক করা হয়। লংগদু থানা-পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাইনিং জোনের আওতাধীন রাঙ্গাপানিছড়া সেনা ক্যাম্পেরসহযোগিতায় বিশেষ অভিযানে তাঁকে ধরা হয়। পরে আসামি লাট্টুস চাকমা এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাতুড়ি একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে জব্দ করা হয়। নাজমুল হাসান আরও বলেন, আদালতে হাজির করা হলে খুনের বর্ণনা দিয়ে আসামি জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে লাট্টুস বলেন, নিহত ব্যক্তি আম ব্যবসায়ী ছিলেন। ঘটনার দিন ওই ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে একসঙ্গে ভাত খান দুজন। খাবারের বিল দেওয়ার সময় লাট্টুস মনে করেছিলেন তাঁর কাছে বেশি টাকা আছে। সেই ধারণা থেকে আসামি তাঁকে (আম ব্যবসায়ী) রাঙামাটির কোতোয়ালি থানার কল্যাণপুর এলাকার আসবাবের দোকানে থাকার জন্য প্রস্তাব দেন। পরে রাতে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে লাট্টুস খুন করেন ওই ব্যবসায়ীকে। হত্যার পর তাঁর কাছে পান চার হাজার টাকা। পরে লাট্টুস দুজন সহযোগীকে নিয়ে লাশটি একটি ডোবায় ফেলে দেন, যাতে কেউ সন্দেহ না করেন। এরপর লাট্টুস রাঙামাটি শহর ছেড়ে লংগদু চলে যান। | 6 |
রাজধানীর ফরাশগঞ্জ-শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে মর্নিং বার্ড নামে একটি লঞ্চ ডুবে গেছে। লঞ্চটি থেকে কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ইতোমধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এদিকে উদ্ধার কাজে অংশ নিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ রওনা দিয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টায় এ ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কুমিল্লা ডক এরিয়ার পাশে লঞ্চটি ডুবেছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় কমপক্ষে ৫০ যাত্রী নিয়ে মর্নিং বার্ড নামে ওই লঞ্চটি ডুবে যায়। | 6 |
আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজকে কিছুদিন আগেই দলে নিয়েছিল ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। ১৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দলে নিয়ে রিভারপ্লেটকে ধারে দিয়েছেন তাকে। সেখানেই নিজের প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন যথাযথভাবে। গতকাল কোপা লিবার্তাদোরেসের ম্যাচে আলিয়াঞ্জ লিমার বিপক্ষে করেছেন ডাবল হ্যাটট্রিক। ছয় গোলের সুবাদে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন আলভারেজ। ১৯৮৫ সালে ক্লাব ব্লুমিংয়ের হয়ে ছয় গোল করে প্রথমবারের মতো এই কীর্তি গড়েছিলেন হুয়ান কার্লোস সানচেজ। এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে কোপা লিবার্তাদোরেসের ম্যাচে ছয় গোল করেছেন তিনি। ইতালির বিপক্ষে কনমেবলের ম্যাচের আগে তার এমন সাফল্য আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেক হয়ে গেছে আগেই। আসন্ন পহেলা জুন ইতালির বিপক্ষে ম্যাচেও দেখা যেতে পারে তাকে। বিশ্বকাপের আগে আলভারেজের এমন ফর্ম কোচ স্ক্যালোনিকে বাড়তি স্বস্তি দেয়াই স্বাভাবিক। লাউতারো মার্টিনেজের সঙ্গে তার সন্ধির মিলন হলে অন্তত গোল করা নিয়ে ভাবতে হবে না আর্জেন্টিনাকে। লিমার বিপক্ষে বৃহস্পতিবার ম্যাচের ১৫তম মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পান আলভারেজ। এরপর ১৮ আর ৪৩ মিনিটে গোল করে প্রথমার্ধেই পূরণ করে বসেন হ্যাটট্রিক। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে, নিচু ক্রসে নির্ভুলভাবে পা ছুঁইয়ে, বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে পূরণ করেন প্রথম হ্যাটট্রিক। দ্বিতীয়ার্ধেও তার পা চলেছে সমানতালে। ৫৪, ৫৭ আর ৮৩ মিনিটে করেছেন গোল। তাতেই ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে কোপা লিবার্তাদোরেস ম্যাচে করেছেন ছয় গোল। দ্বিতীয়ার্ধে গোলরক্ষককে প্রেস করে গোল আদায়, গোলরক্ষককে বোকা বানানো, আর নিখুঁত চিপে করা গোলগুলো সাহায্যে স্কোরারের পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য ও দক্ষতার প্রমাণও দিয়েছেন। আর্জেন্টাইন এমন রত্নকে গত শীতকালীন দলবদলে ম্যানচেস্টার সিটির পাশাপাশি বার্সেলোনাও কিনতে আগ্রহী ছিল। তবে শেষপর্যন্ত কাতালান ক্লাবটি তার নাগাল পায়নি। ম্যানসিটি তাকে কিনলেও রিভারপ্লেটকে ধারে দিয়েছে। সিটিতে সম্প্রতি আর্লিং হালান্ডকে কেনার ফলে গুঞ্জন উঠেছিল তাকেও এক মৌসুম ধারে পাঠিয়ে দিবে। তবে আলভারেজকে ধারে দিলেও হালান্ডকে দিবে না ম্যানসিটি। এ সম্পর্কে সিটির প্রধান নির্বাহী ফেররান সোরিয়ানো বলেন, তাকে দলে নেয়ার জন্য আমাদের হাতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ছিল। তবে সে কোথাও যাচ্ছে না আপাতত। আগামী মাসেই ফুটবলের এক রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতে পাবে ফুটবল সমর্থকরা। আগামী ১ জুন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাধারী ইতালি ও কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হবে। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের শীর্ষ ফুটবল প্রতিযোগিতার দুই সেরা দলকে নিয়ে আয়োজিত এই ম্যাচের নাম দেয়া হয়েছে 'ফাইনালিসিমা'। ফাইনালিসিমার জন্য ইতোমধ্যে দল ঘোষণা করেছে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্ক্যালোনি। ইউরো চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াইয়ের দলে সব তারকাদের নিয়েই দল ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা। দলে আক্রমণভাগে লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, ডি মারিয়াদের সঙ্গে আছেন পাওলো দিবালা, হুলিয়ান আলভারেজ, নিকোলাস গঞ্জালেজ, অ্যাঞ্জেল কোরেয়া ও হোয়াকিন কোরেয়াকে। চোটের জন্য শঙ্কায় থাকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকেও দলে রেখেছেন স্ক্যালোনি। তার সঙ্গে বাকি তিন গোলকিপার হলেন ফ্রাঙ্কো আরমানি, হুয়ান মুসো ও জেরোনিমো রুইয়ি। ইতালির বিপক্ষে ম্যাচটির জন্য স্পেনের শহর বিলবাওয়েতে অনুশীলন করবে আর্জেন্টিনা। তবে দুই চ্যাম্পিয়ন্সের লড়াই হবে লন্ডনের ওয়েম্বলিতে। | 12 |
মাগুরার মহম্মদপুরে চার মাসের দুধের বাছুর মেরে পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আজ বুধবার সকালে মহম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের হাটবাড়িয়া গ্রামে। গত শনিবার দুপুর থেকে বাছুরটি নিখোঁজ হয়। খোঁজাখুঁজি চার দিন পর পরিত্যক্ত পুকুরে কচুরিপানার নিচে মৃত অবস্থায় বাছুরটি দেখতে পায় ভুক্তভোগী পরিবার।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গরুর মালিক উপজেলার হাটবাড়িয়া গ্রামের নাইমুল হোসেন একজন বর্গাচাষি। বাড়ির ভিটে ছাড়া আর কোনো জমিজমা নেই। একটি ব্যাটারিচালিত অটোচালক তিনি। এর পাশাপাশি তিনি গরু পালন করতেন।এ বিষয়ে নাইমুল হোসেন বলেন, 'গত শনিবার দুপুরে বাছুরটি বাড়ির পাশে মুরাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির পাটখেতে চলে যায়। সেখানে কিছু পাটের পাতা খায়। দুপুরের পর থেকে বাছুরটিকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। এলাকায় মাইকিং পর্যন্ত করেছি। আজ বুধবার সকালে হাটবাড়িয়া ইটভাটার পাশে পরিত্যক্ত পুকুর পাড়ে গেলে দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। পুকুরে নেমে দেখি কচুরিপানার নিচে বাছুরটি মৃত অবস্থায় ঢাকা রয়েছে।'মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইমরামুল হোসেন বলেন, 'এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মামলার বাদী সন্দেহ করছেন পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।' | 6 |
প্রথমবারের মতো সোমবার ভারতে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আগমন উপলক্ষ্যে পুরো ভারতে পারিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালানো হচ্ছে। যা ভোগাচ্ছে কিছু স্থানিয় জনতা এবং বানরদেরও। রাস্তায় বিশাল বিলবোর্ডে ট্রাম্প-মোদির ছবিতে 'নমস্তা ট্রাম্প' লিখে শুভেচ্ছা জানানো প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। ৩৬ ঘণ্টার এ সফরে বিশ্বের বৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১ লাখ মানুষের র্যালিতে অংশ নিবেন ট্রাম্প। ফাস্টলেডি মেনিলাকে নিয়ে তাজমহলে সূর্যাস্ত উপভোগ করবেন তিনি। ৬ থেকে ১০ লাখ মানুষ রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে থেকে স্বাগত জানাবে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। একটি বস্তিকে আড়াল করার জন্য আহমেদাবাদ থেকে সরদার পাটেল স্টেডিয়াম পর্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে দীর্ঘ দেয়াল বানানো হয়েছে। তবে মোদির এ প্রচেষ্টাকে বাস্তবতাকে অস্বিকার করার প্রয়াস বলছেন বস্তিতে বসবাস করা সরদার সারানিয়া। রাস্তা থেকে কুকুর ও গরু সরাতে একটি দল কাজ করছে আহমেদাবাদে। রাজ্যের বিমানবন্দরে ট্রাম্পেরে বিমান অবতরণ করতে যেন কোন সমস্যা না হয়ে সে জন্য পাখি ও বানরের দলকে সরিয়ে রাখতে বলা হয়েছে স্থানিয় বন বিভাগকে। গত ১০ দিনে খাদ্যের সন্ধানে আসা ৪৫ টি বানরকে বন্দি করা হয়েছে। অন্যদিকে তাজমহলকে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। পানি দূষণ কমাতে যমুনা নদীতে পানি দেয়া হয়েছে। নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি আর নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কোন কিছুতেই কমতি রাখছে না মোদি সরকার। | 3 |
Subsets and Splits
No community queries yet
The top public SQL queries from the community will appear here once available.